জন্ম পরিকল্পনা ও জরুরি কার্ড
হাসপাতাল, রাতের যানবাহন, রক্তদাতা আর বিপদ চিহ্ন — পরিবারের জন্য এক কার্ডে।
শেষ মাসিকের প্রথম দিন, আল্ট্রাসনোর দেওয়া তারিখ, অথবা গর্ভধারণ বা আইভিএফ ট্রান্সফারের তারিখ দিন। দেখুন ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ, আপনি কত সপ্তাহের গর্ভবতী, কখন চেকআপ করাবেন, আর বাংলা তারিখটাও।
ডেলিভারির তারিখ, আপনার সপ্তাহ আর চেকআপের সময় দেখতে একটি তারিখ দিন।
এটা একটা অনুমান। আল্ট্রাসনোতে তারিখ বদলাতে পারে: আপনার ডাক্তার যে তারিখ দেন সেটাই মেনে চলুন।
তালিকাটা এমন জায়গায় রাখুন যেন পরিবারের সবাই দেখতে পান। এর কোনোটি দেখা দিলে এখনই ব্যবস্থা নিন: পরের চেকআপের অপেক্ষা করবেন না।
গর্ভাবস্থা মোটামুটি ৪০ সপ্তাহ, বা ২৮০ দিনের, আর এই হিসাব শুরু হয় শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে, বাচ্চা পেটে আসার দিন থেকে নয়। তাই টেস্ট পজিটিভ আসার সময়েই আপনাকে মোটামুটি ৪ সপ্তাহের গর্ভবতী ধরা হয়। ২৮০ দিনের হিসাবটা ২৮ দিনের মাসিক চক্র ধরে। আপনার চক্র সাধারণত লম্বা হলে ডিম্বাণু বের হয় একটু দেরিতে, তাই ডেলিভারির তারিখও ততদিন পিছিয়ে যায়; চক্র ছোট হলে এগিয়ে আসে। ৩২ দিনের চক্রে ৪ দিন যোগ হয়, ২৫ দিনের চক্রে ৩ দিন কমে।
গর্ভধারণের তারিখ জানা থাকলে ডেলিভারির তারিখ হয় তার ২৬৬ দিন পর। আইভিএফে তারিখটা নিশ্চিত জানা থাকে: ৫ দিনের ভ্রূণ ট্রান্সফারের ২৬১ দিন পর, আর ৩ দিনের ভ্রূণ ট্রান্সফারের ২৬৩ দিন পর। সব ক্ষেত্রেই সপ্তাহ গোনা হয় স্বাভাবিক নিয়মে, গর্ভধারণের ২ সপ্তাহ আগে থেকে, তাই আপনার সপ্তাহের হিসাব ডাক্তারের হিসাবের সাথে মিলবে।
অনেকেরই শেষ মাসিকের তারিখ ঠিক মনে থাকে না, চক্রও মাসে মাসে বদলায়, আর ডিম্বাণু সবসময় একই দিনে বের হয় না। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের আল্ট্রাসনো বাচ্চাকে মেপে যে তারিখ দেয়, সেটা প্রায়ই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। ডাক্তার আল্ট্রাসনো দেখে কোনো তারিখ দিলে সেটাই মেনে চলুন: ওপরে "আল্ট্রাসনো বা ডাক্তারের দেওয়া ডেলিভারির তারিখ" বেছে নিন, সপ্তাহ আর চেকআপের সময় সেই অনুযায়ী দেখাবে।
ডেলিভারির তারিখ একটা অনুমান, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নয়। খুব কম বাচ্চাই ঠিক ঐ দিনে জন্ম নেয়। ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহ হলো পূর্ণ মেয়াদ, আর ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম মানে আগেভাগে জন্ম। তাই ক্যালকুলেটর দেখায় কোন দুই তারিখের মধ্যে বেশিরভাগ বাচ্চা জন্ম নেয়। ৪২ সপ্তাহ পার হলে সেদিনই হাসপাতাল বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
বাংলাদেশের সময়সূচি হলো গর্ভাবস্থায় অন্তত ৪টি চেকআপ: মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে। অনেক ডাক্তার ৮টি চেকআপের পরামর্শ দেন: মোটামুটি ১২, ২০, ২৬, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮ আর ৪০ সপ্তাহে। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার। ক্যালকুলেটর সপ্তাহগুলোকে তারিখে বদলে দেয়, আর ক্যালেন্ডার ফাইলটি সেগুলো আপনার ফোনে তুলে রাখে, আগের দিন মনে করিয়ে দেয়।
অনেক পরিবার, বিশেষ করে দাদি-নানিরা, বাংলা মাসে হিসাব করেন। তাই ক্যালকুলেটর ডেলিভারির তারিখ বাংলাদেশের সংশোধিত বাংলা ক্যালেন্ডারেও দেখায়, যেখানে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ — যাতে পরিবারের সবাইকে তাঁদের চেনা তারিখে জানাতে পারেন।
শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে গুনুন: তারপর থেকে যত পূর্ণ সপ্তাহ গেছে, আপনি তত সপ্তাহের গর্ভবতী। ওপরে তারিখটা দিলে ক্যালকুলেটর সপ্তাহ আর দিনে দেখাবে — যেমন ১৪ সপ্তাহ ৩ দিন — সাথে কোন তিন মাসে আছেন সেটাও।
এটা একটা অনুমান। খুব কম বাচ্চাই ঠিক ঐ দিনে জন্ম নেয়: বেশিরভাগ জন্ম নেয় ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে। প্রথম দিকের আল্ট্রাসনোর তারিখ সাধারণত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, তাই ডাক্তার যে তারিখ দেন সেটাই মেনে চলুন।
ডাক্তার আল্ট্রাসনো দেখে ডেলিভারির তারিখ দিয়ে থাকলে সেটাই ধরুন। "আল্ট্রাসনো বা ডাক্তারের দেওয়া ডেলিভারির তারিখ" বেছে তারিখটা দিন; সপ্তাহ আর চেকআপের সময় সেই অনুযায়ী দেখাবে।
আপনার মাসিক সাধারণত কত দিন পরপর হয় জানা থাকলে সেটা দিন, ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে। চক্র খুব বেশি ওঠানামা করলে বা তারিখ নিশ্চিত না হলে ফলটাকে মোটামুটি ধারণা হিসেবে নিন, আর প্রথম চেকআপে জিজ্ঞেস করুন আল্ট্রাসনো করে তারিখ ঠিক করা যায় কি না।
গর্ভবতী হয়েছেন জানার পরপরই ডাক্তার দেখানো ভালো। বাংলাদেশের সময়সূচিতে অন্তত ৪টি চেকআপের প্রথমটি মোটামুটি ১৬ সপ্তাহের মধ্যে; অনেক ডাক্তার মোটামুটি ১২ সপ্তাহে একবার দেখাতে বলেন। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার।
ক্যালকুলেটর শুধু দেখায় রমজান আপনার গর্ভাবস্থায় পড়ছে কি না, আর কোন সপ্তাহগুলোতে। রোজা রাখবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত রমজান শুরুর আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন; অনেক পরিবার নিজেদের আলেমের সাথেও কথা বলেন।
এই ক্যালকুলেটর সাধারণ তথ্য দেয়, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
হাসপাতাল, রাতের যানবাহন, রক্তদাতা আর বিপদ চিহ্ন — পরিবারের জন্য এক কার্ডে।
বাংলাদেশে আর সারা বিশ্বে প্রিয় মেয়ে ও ছেলের নাম, অর্থ আর বাংলা বানানসহ।