মূল কনটেন্টে যান

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর: ডেলিভারির তারিখ বের করুন

শেষ মাসিকের প্রথম দিন, আল্ট্রাসনোর দেওয়া তারিখ, অথবা গর্ভধারণ বা আইভিএফ ট্রান্সফারের তারিখ দিন। দেখুন ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ, আপনি কত সপ্তাহের গর্ভবতী, কখন চেকআপ করাবেন, আর বাংলা তারিখটাও।

আপনার তারিখ

কোন তারিখটা জানেন?

এক মাসিকের প্রথম দিন থেকে পরের মাসিকের প্রথম দিন পর্যন্ত। নিশ্চিত না হলে ২৮ রেখে দিন।

হিসাবটা আপনার ফোনেই হয়। কিছুই সেভ বা কোথাও পাঠানো হয় না।

আপনার গর্ভাবস্থার হিসাব

ডেলিভারির তারিখ, আপনার সপ্তাহ আর চেকআপের সময় দেখতে একটি তারিখ দিন।

এটা একটা অনুমান। আল্ট্রাসনোতে তারিখ বদলাতে পারে: আপনার ডাক্তার যে তারিখ দেন সেটাই মেনে চলুন।

গর্ভাবস্থার জরুরি লক্ষণ →

গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন

তালিকাটা এমন জায়গায় রাখুন যেন পরিবারের সবাই দেখতে পান। এর কোনোটি দেখা দিলে এখনই ব্যবস্থা নিন: পরের চেকআপের অপেক্ষা করবেন না।

৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

৯৯৯-এ কল করুন
  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব
  • খিঁচুনি
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথাঅজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধপরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা
  • এক পায়ে ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে যাওয়াসাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন

আজই ডাক্তার দেখান

  • এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে
  • শেষের দিকে হাত-পায়ের তালুতে চুলকানি
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা

সেদিনই সাহায্য নিন

  • নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তাএখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন; না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান
  • বাড়িতে কেউ মারধর বা হুমকি দিচ্ছেএখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন

ডেলিভারির তারিখ কীভাবে হিসাব হয়

শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে

গর্ভাবস্থা মোটামুটি ৪০ সপ্তাহ, বা ২৮০ দিনের, আর এই হিসাব শুরু হয় শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে, বাচ্চা পেটে আসার দিন থেকে নয়। তাই টেস্ট পজিটিভ আসার সময়েই আপনাকে মোটামুটি ৪ সপ্তাহের গর্ভবতী ধরা হয়। ২৮০ দিনের হিসাবটা ২৮ দিনের মাসিক চক্র ধরে। আপনার চক্র সাধারণত লম্বা হলে ডিম্বাণু বের হয় একটু দেরিতে, তাই ডেলিভারির তারিখও ততদিন পিছিয়ে যায়; চক্র ছোট হলে এগিয়ে আসে। ৩২ দিনের চক্রে ৪ দিন যোগ হয়, ২৫ দিনের চক্রে ৩ দিন কমে।

গর্ভধারণ বা আইভিএফ ট্রান্সফার থেকে

গর্ভধারণের তারিখ জানা থাকলে ডেলিভারির তারিখ হয় তার ২৬৬ দিন পর। আইভিএফে তারিখটা নিশ্চিত জানা থাকে: ৫ দিনের ভ্রূণ ট্রান্সফারের ২৬১ দিন পর, আর ৩ দিনের ভ্রূণ ট্রান্সফারের ২৬৩ দিন পর। সব ক্ষেত্রেই সপ্তাহ গোনা হয় স্বাভাবিক নিয়মে, গর্ভধারণের ২ সপ্তাহ আগে থেকে, তাই আপনার সপ্তাহের হিসাব ডাক্তারের হিসাবের সাথে মিলবে।

আল্ট্রাসনোর তারিখ কেন আলাদা হতে পারে

অনেকেরই শেষ মাসিকের তারিখ ঠিক মনে থাকে না, চক্রও মাসে মাসে বদলায়, আর ডিম্বাণু সবসময় একই দিনে বের হয় না। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের আল্ট্রাসনো বাচ্চাকে মেপে যে তারিখ দেয়, সেটা প্রায়ই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। ডাক্তার আল্ট্রাসনো দেখে কোনো তারিখ দিলে সেটাই মেনে চলুন: ওপরে "আল্ট্রাসনো বা ডাক্তারের দেওয়া ডেলিভারির তারিখ" বেছে নিন, সপ্তাহ আর চেকআপের সময় সেই অনুযায়ী দেখাবে।

"পূর্ণ মেয়াদ" মানে কী

ডেলিভারির তারিখ একটা অনুমান, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নয়। খুব কম বাচ্চাই ঠিক ঐ দিনে জন্ম নেয়। ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহ হলো পূর্ণ মেয়াদ, আর ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম মানে আগেভাগে জন্ম। তাই ক্যালকুলেটর দেখায় কোন দুই তারিখের মধ্যে বেশিরভাগ বাচ্চা জন্ম নেয়। ৪২ সপ্তাহ পার হলে সেদিনই হাসপাতাল বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে গর্ভকালীন চেকআপ

বাংলাদেশের সময়সূচি হলো গর্ভাবস্থায় অন্তত ৪টি চেকআপ: মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে। অনেক ডাক্তার ৮টি চেকআপের পরামর্শ দেন: মোটামুটি ১২, ২০, ২৬, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮ আর ৪০ সপ্তাহে। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার। ক্যালকুলেটর সপ্তাহগুলোকে তারিখে বদলে দেয়, আর ক্যালেন্ডার ফাইলটি সেগুলো আপনার ফোনে তুলে রাখে, আগের দিন মনে করিয়ে দেয়।

বাংলা ক্যালেন্ডারের তারিখ

অনেক পরিবার, বিশেষ করে দাদি-নানিরা, বাংলা মাসে হিসাব করেন। তাই ক্যালকুলেটর ডেলিভারির তারিখ বাংলাদেশের সংশোধিত বাংলা ক্যালেন্ডারেও দেখায়, যেখানে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ — যাতে পরিবারের সবাইকে তাঁদের চেনা তারিখে জানাতে পারেন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

আমি কত সপ্তাহের গর্ভবতী?

শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে গুনুন: তারপর থেকে যত পূর্ণ সপ্তাহ গেছে, আপনি তত সপ্তাহের গর্ভবতী। ওপরে তারিখটা দিলে ক্যালকুলেটর সপ্তাহ আর দিনে দেখাবে — যেমন ১৪ সপ্তাহ ৩ দিন — সাথে কোন তিন মাসে আছেন সেটাও।

ডেলিভারির তারিখ কতটা ঠিক হয়?

এটা একটা অনুমান। খুব কম বাচ্চাই ঠিক ঐ দিনে জন্ম নেয়: বেশিরভাগ জন্ম নেয় ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে। প্রথম দিকের আল্ট্রাসনোর তারিখ সাধারণত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, তাই ডাক্তার যে তারিখ দেন সেটাই মেনে চলুন।

মাসিকের তারিখ ধরব, নাকি আল্ট্রাসনোর তারিখ?

ডাক্তার আল্ট্রাসনো দেখে ডেলিভারির তারিখ দিয়ে থাকলে সেটাই ধরুন। "আল্ট্রাসনো বা ডাক্তারের দেওয়া ডেলিভারির তারিখ" বেছে তারিখটা দিন; সপ্তাহ আর চেকআপের সময় সেই অনুযায়ী দেখাবে।

মাসিক অনিয়মিত হলে কী করব?

আপনার মাসিক সাধারণত কত দিন পরপর হয় জানা থাকলে সেটা দিন, ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে। চক্র খুব বেশি ওঠানামা করলে বা তারিখ নিশ্চিত না হলে ফলটাকে মোটামুটি ধারণা হিসেবে নিন, আর প্রথম চেকআপে জিজ্ঞেস করুন আল্ট্রাসনো করে তারিখ ঠিক করা যায় কি না।

প্রথম চেকআপ কখন করাব?

গর্ভবতী হয়েছেন জানার পরপরই ডাক্তার দেখানো ভালো। বাংলাদেশের সময়সূচিতে অন্তত ৪টি চেকআপের প্রথমটি মোটামুটি ১৬ সপ্তাহের মধ্যে; অনেক ডাক্তার মোটামুটি ১২ সপ্তাহে একবার দেখাতে বলেন। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার।

গর্ভাবস্থায় রমজান পড়ছে। রোজা রাখতে পারব?

ক্যালকুলেটর শুধু দেখায় রমজান আপনার গর্ভাবস্থায় পড়ছে কি না, আর কোন সপ্তাহগুলোতে। রোজা রাখবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত রমজান শুরুর আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন; অনেক পরিবার নিজেদের আলেমের সাথেও কথা বলেন।

এই ক্যালকুলেটর সাধারণ তথ্য দেয়, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।