মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না? কী করবেন, কী বলবেন

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না — এর পেছনে সাধারণত থাকে ক্লান্তি, কঠিন লাগা পড়া, বা পাশে রাখা মোবাইল; অলসতা নয়। ছোট করে শুরু করুন: আগে নাশতা আর একটু বিরতি, তারপর রোজ একই সময়ে, একই জায়গায় অল্প সময়ের পড়া, আপনি কাছেই থাকবেন, আর চেষ্টার প্রশংসা করবেন। নিয়মিত অনুশীলনের পরও এক বছর ধরে পড়া, লেখা বা অঙ্কে অনেক পিছিয়ে থাকলে স্কুলের সাথে কথা বলুন।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১২ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৫–১৫ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের বাচ্চা পড়তে বা হোমওয়ার্ক করতে বসতে চায় না
মূল কথা
  • যে বাচ্চা পড়া এড়িয়ে যায়, সে সাধারণত ক্লান্ত, কোথাও আটকে আছে বা মন অন্য দিকে; অলস ভাবার আগে এগুলো দেখে নিন।
  • রোজ একই সময়ে, একই জায়গায় অল্প সময়ের মনোযোগী পড়া শুরু করা এক সন্ধ্যার লম্বা পড়ার চেয়ে সহজ।
  • নিজের কোনো চুপচাপ কাজ নিয়ে কাছে বসুন, আর নম্বরের চেয়ে চেষ্টার প্রশংসা করুন।
  • সত্যিকারের চেষ্টার পরও এক বছর ধরে পড়া, লেখা বা অঙ্কে সহপাঠীদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলে স্কুলের সাথে কথা বলুন।

বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না — দৃশ্যটা হয়তো আপনার চেনা: বই খুলতেই হঠাৎ পানির পিপাসা, ঘুম ঘুম ভাব, বা পেনসিল কাটার জরুরি কাজ। প্রতিটি সন্ধ্যা যুদ্ধের মতো লাগতে পারে, আর অনেক বাবা-মায়ের কাছে এটা সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তাগুলোর একটা।

স্বস্তির কথা হলো, পড়তে না চাওয়া খুবই সাধারণ, আর এর মানে প্রায় কখনোই এই নয় যে বাচ্চা অলস বা তার বুদ্ধি কম। বেশিরভাগ সময় সে ক্লান্ত, কোথাও আটকে আছে, বা মন অন্য দিকে। নিচে পাবেন: কেন এমন হয়, আজ সন্ধ্যায় কী করবেন ও কী বলবেন, বয়স অনুযায়ী রুটিন, পুরস্কার আর ঘুষের পার্থক্য, শিক্ষকের সাথে কথা, আর ৭ দিনের পরিকল্পনা।

বাচ্চা পড়ালেখা করতে চায় না কেন?

যে বাচ্চা পড়া এড়িয়ে যায়, সে সাধারণত তার দিন, পড়া বা দুশ্চিন্তা নিয়ে কিছু একটা বোঝাতে চাইছে। যা দেখছেন সেখান থেকে শুরু করুন, তারপর তার পেছনে তাকান।

যা দেখছেন, আর তার পেছনে যা থাকতে পারে
যা দেখছেনপেছনে যা থাকতে পারে
হাই তোলা, টেবিলে মাথা রাখাক্লান্তি: স্কুল-কোচিংয়ের লম্বা দিন, খেলা কম, দেরিতে ঘুম
“বুঝি না,” তারপর কান্নাপড়া খুব কঠিন, বা আগের ক্লাসের কোনো ফাঁক রয়ে গেছে
৫ মিনিট পরই উঠে পড়াবয়সের তুলনায় পড়ার সময় বেশি লম্বা, বা খিদে
তাড়াহুড়া, অসাবধানী ভুলফোন, টিভি বা খেলা অপেক্ষা করছে
শুধু একটা বিষয় এড়িয়ে চলাওই বিষয়টা কঠিন বা লজ্জার মনে হয়
পরীক্ষার আগে পেট ব্যথানম্বর বা বকা খাওয়ার দুশ্চিন্তা

তুলনা বোঝাটা আরও ভারী করে। যে বাচ্চা বারবার কাজিনের নম্বর বা সহপাঠীর জিপিএ-র কথা শোনে, সে ভাবতে পারে চেষ্টা করে পিছিয়ে পড়ার চেয়ে চেষ্টা না করাই নিরাপদ।

পড়তে বসতে না চাইলে আজ সন্ধ্যায় কী করবেন

  1. আগে খিদে আর ক্লান্তির দিকটা দেখুন: একটু নাশতা, পানি, বাথরুম, আর স্কুল বা কোচিংয়ের পর ছোট একটা বিরতি।
  2. শুরুটা খুব ছোট করুন: দুটো অঙ্ক, এক পাতা বা ৫ মিনিট। শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন।
  3. টেবিল গুছিয়ে দিন, আর ফোন অন্য ঘরে রাখুন — আপনারটাও।
  4. সন্ধ্যার কাজগুলো ছোট একটা তালিকায় লিখে ফেলুন, আর কোনটা আগে করবে তা বাচ্চাকেই বেছে নিতে দিন।
  5. ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে না থেকে নিজের কোনো চুপচাপ কাজ নিয়ে কাছে বসুন।

যা বলতে পারেন

  • তোমাকে ক্লান্ত লাগছে। আগে একটু নাশতা খাও, তারপর শুধু দুটো অঙ্ক দিয়ে শুরু করব।
  • কোন জায়গাটা বুঝতে পারছ না, আমাকে দেখাও তো। চলো একসাথে দেখি।
  • আমি পাহারা দিতে বসিনি। দরকার হলে ডেকো, আমি পাশেই আছি।
  • সবটা এখনই শেষ করতে হবে না। শুধু প্রথম অংশটা করো।
  • কঠিন লাগছিল, তবু তুমি থামোনি। শেখা আসলে এমনই হয়।

হোমওয়ার্কে সাহায্য করা আলাদা একটা দক্ষতা: সাহায্য মানে বাচ্চাকে আটকে থাকা জায়গা থেকে বের করা, কাজটা করে দেওয়া নয়। আটকে গেলে কী বলবেন আর হোমওয়ার্কের সময়টা কীভাবে শান্ত রাখবেন, পড়ুন বাচ্চা হোমওয়ার্ক করতে চায় না: ঝগড়া ছাড়া সাহায্য।

পড়াশোনায় মন বসানোর উপায়: একটা নিয়মিত রুটিন

একটা নিয়মিত রুটিন “কখন, কোথায়” নিয়ে রোজকার তর্কটা সরিয়ে দিতে পারে। বেশিরভাগ দিন সময়, জায়গা আর প্রথম ধাপটা একই থাকলে বাচ্চা সহজে শুরু করে।

  • বেশিরভাগ দিন একই সময়ে, নাশতা আর একটু খেলার পর — স্কুল থেকে ঢুকেই নয়।
  • একই জায়গা: ভালো আলোয় গোছানো একটা টেবিল, টিভি থেকে দূরে।
  • একটানা লম্বা সময় নয়, ছোট ছোট মনোযোগী সময়, মাঝে ছোট বিরতি।
  • পড়া শেষের একটা নির্দিষ্ট সময়, যাতে বাচ্চার দরকারি ঘুমে টান না পড়ে।
  • প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট ছোটাছুটির খেলা; যে বাচ্চা দৌড়ঝাঁপ করেছে, সে সাধারণত সহজে বসতে পারে।

বাচ্চা কতক্ষণ পড়বে? বয়স অনুযায়ী একটা ধারণা

বয়সের সাথে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে, তাই ৬ বছরের বাচ্চার জন্য ভালো পড়ার সময় ১৪ বছরের চেয়ে অনেক ছোট। নিচের সময়গুলো মোটামুটি, অনেক পরিবারের কাজে লাগে; আপনার বাচ্চার মনোযোগ ফুরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে থামুন।

বয়স অনুযায়ী পড়ার সময় আর আপনার ভূমিকা (মোটামুটি হিসাব)
বয়সএকবারে মনোযোগী পড়াযা সবচেয়ে কাজে দেয়আপনার ভূমিকা
৫–৭ বছরমোটামুটি ১০–১৫ মিনিটএকসাথে পড়া, রোজ অল্প অনুশীলন, খেলার ছলে শেখাপাশে বসে শুরু করতে সাহায্য করুন
৮–১০ বছরমোটামুটি ২০ মিনিটলেখা তালিকা, টাইমার, একবারে একটা বিষয়কাছে থাকুন, শেষে একবার দেখুন
১১–১৩ বছরমোটামুটি ২৫–৩০ মিনিটসপ্তাহের পরিকল্পনা, নিজেকে নিজে পরীক্ষাতার পরিকল্পনা জানতে চান
১৪–১৫ বছরমোটামুটি ৩০–৪৫ মিনিটনিজের পরিকল্পনা, ফোন নাগালের বাইরে, আগের বছরের প্রশ্নপাহারাদার নয়, পাশে থাকা কোচ

সন্তানকে পড়াশোনায় আগ্রহী করার উপায়: পুরস্কার, ঘুষ নয়

ঘুষ দেওয়া হয় ঝগড়া থামাতে, ঠিক সেই মুহূর্তে: “এখনই বসো, তাহলে ফোন পাবে।” পুরস্কার আগে থেকে ঠিক করা থাকে, ছোট হয়, আর আসে চেষ্টার পরে। ঘুষ সাধারণত শেখায় যে জেদ করলে লাভ হয়; ছোট পুরস্কার নতুন রুটিন চালু করতে সাহায্য করতে পারে।

  • চেষ্টা আর পদ্ধতির প্রশংসা করুন: “তুমি উত্তরগুলো মিলিয়ে দেখেছ,” — “তুমি কত বুদ্ধিমান” নয়।
  • পুরস্কার ছোট রাখুন, একসাথে উপভোগের মতো: ছুটির দিনে কোথায় যাবে তা বেছে নেওয়া, একসাথে একটা খেলা, প্রিয় কোনো নাশতা।
  • ফোনকে প্রধান পুরস্কার বানাবেন না; নইলে পড়াটা ফোন পাওয়ার দাম বলে মনে হতে থাকে।
  • শুধু নম্বর নয়, কী শিখছে তাতেও আগ্রহ দেখান: আপনাকে একটা জিনিস শেখাতে বলুন।
  • পছন্দের জিনিসের সাথে পড়া মেলান: অঙ্কের জন্য ক্রিকেটের রান, ভগ্নাংশের জন্য রান্নার মাপ, পড়ার জন্য গল্পের বই।

চিৎকার, ভয় দেখানো বা মারধর হয়তো এক সন্ধ্যার জন্য বাচ্চাকে টেবিলে বসাতে পারে, কিন্তু তাতে পড়াটা ভয়ের জিনিস হয়ে ওঠে, আর এড়িয়ে চলার প্রবণতা সাধারণত বাড়ে।

আমাদের বাসায় পড়াশোনা: কোচিং, টিউশন আর তুলনা

আমাদের দেশে বহু বাচ্চার পড়ার দিন খুব লম্বা: স্কুল, তারপর কোচিং বা বাসায় টিউটর, তারপর রাত পর্যন্ত হোমওয়ার্ক। রাত ৯টায় আরও এক ঘণ্টা পড়তে না চাওয়া বাচ্চার হয়তো শুধু শক্তিটাই ফুরিয়ে গেছে।

  • পুরো সপ্তাহের চাপটা দেখুন। প্রতিটি সন্ধ্যা ভরা থাকলে আরেকটা টিউশন যোগ করার চেয়ে একটা বাদ দেওয়া বা সরানো বেশি শেখার সুযোগ দিতে পারে।
  • দেরিতে কোচিং থাকলে তার পরের হোমওয়ার্কের জন্য একটা শেষ সময় ঠিক করুন; কাজ বারবার সেটা ছাড়িয়ে গেলে টিউটরের সাথে কথা বলুন।
  • তুলনাকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না। আত্মীয়রা রেজাল্টের কথা জিজ্ঞেস করলে ছোট করে উত্তর দিন, আর পরে বাচ্চাকে বলুন আপনি তার পাশে আছেন।
  • স্কুলের কোনো কাজে ফোন লাগলে শুধু সেই কাজটুকু সেরে ফোন সরিয়ে রাখুন।
  • আপনিই যদি বাচ্চার রোজকার শিক্ষক হন আর প্রতিদিন পড়ানো ঝগড়ায় শেষ হয়, তাহলে পরিবারের আরেকজন অভিভাবকের সাথে পালা বদলে দেখুন, আর নিজের সন্ধ্যাটা রাখুন উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
  • পরীক্ষার সময় ঘণ্টা বাড়ানোর চেয়ে সন্ধ্যাগুলো স্থির রাখুন; পরীক্ষার মৌসুমে শান্ত সন্ধ্যা লেখায় একটা সহজ পরিকল্পনা আছে, আর কম নম্বরের পরের আলাপে সাহায্য করবে পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হলে।

আবার পড়ায় ফেরাতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

একবারে একটা জিনিস বদলান, আর প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: পড়া কখন শুরু হলো, কতক্ষণ চলল, আর কীভাবে শেষ হলো।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। বাচ্চা কখন বসল, কতক্ষণ পর প্রথম আপত্তি এল, আর ঠিক আগে কী হয়েছিল — লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: একসাথে সময় আর জায়গা ঠিক করুন। টেবিল গুছিয়ে ফেলুন, আর ঘরের বাইরে ফোন রাখার একটা জায়গা ঠিক করুন।
  3. দিন ৩: বয়সের মাপে অল্প সময় পড়া, তারপর বিরতি। নিজের কাজ নিয়ে কাছে বসুন।
  4. দিন ৪: সন্ধ্যার কাজের একটা লেখা তালিকা যোগ করুন, আর ক্রমটা বাচ্চাকে বেছে নিতে দিন।
  5. দিন ৫: চেষ্টার প্রশংসা করুন — একবার, মুখে, নির্দিষ্ট করে।
  6. দিন ৬: ছুটির দিনটা হালকা রাখুন, শেখা হোক অন্যভাবে: লাইব্রেরিতে যাওয়া, লুডু বা অন্য কোনো বোর্ড গেম, রান্নার সময় মাপজোক।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। কত তাড়াতাড়ি শুরু করল? কতবার বসল? কতবার তর্ক হলো? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর আরেকটা জিনিস বদলান।

পড়তে না চাওয়া নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন?

পড়া নিয়ে বেশিরভাগ টানাপোড়েন রুটিন, বিশ্রাম আর ধৈর্যে কমে আসে। তবে কিছু লক্ষণ বোঝায় যে অন্য কিছু বাধা দিচ্ছে, যেমন শেখার কোনো সমস্যা, চোখ বা কানের সমস্যা, বা দুশ্চিন্তা।

শিক্ষকের সাথে কথা বলা

শিক্ষক আপনার বাচ্চাকে অন্য পরিবেশে দেখেন। ক্লাসে তিনি কী লক্ষ করেন জিজ্ঞেস করুন, বাসায় আপনি কী দেখেন তা জানান, দুজনে একটা করে ছোট পদক্ষেপ ঠিক করুন, আর কয়েক সপ্তাহ পর আবার খোঁজ নিন।

এসব দেখলে স্কুল বা ডাক্তারের সাথে কথা বলুন

  • নিয়মিত অনুশীলনের পরও এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে পড়া, লেখা বা অঙ্কে সহপাঠীদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।
  • বাচ্চা মন দিয়ে চেষ্টা করে, কিন্তু যা শেখে তা পরদিনই ভুলে যায়।
  • হোমওয়ার্কে নিয়মিত শিক্ষকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে, বা বেশিরভাগ দিন কান্নায় শেষ হয়।
  • বোর্ড দেখতে চোখ কুঁচকায়, বই খুব কাছে ধরে পড়ে, বা প্রায়ই কথা ভুল শোনে।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ দিন স্কুল নিয়ে দুশ্চিন্তা: স্কুল বা পরীক্ষার আগে পেট ব্যথা, বা স্কুলে যেতে না চাওয়া; পড়ুন শিশুর দুশ্চিন্তা।
  • বেঁচে থাকতে চায় না বা নিজের ক্ষতি করবে — এমন কথা বললে: শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

একটা কঠিন সন্ধ্যা দেখে নয়, এক সপ্তাহ ধরে দেখলে পড়ার ধরন বোঝা সহজ। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বকাঝকা না করে বাচ্চাকে কীভাবে পড়তে বসাব?

শুরুটা ছোট আর রুটিনটা নিয়মিত রাখুন। আগে নাশতা আর একটু বিরতি, তারপর রোজ একই সময়ে, একই জায়গায় অল্প সময় পড়তে বলুন, আর আপনি নিজের কাজ নিয়ে কাছে বসুন। গলা নিচু রাখুন, চেষ্টার প্রশংসা করুন। তর্ক করার কিছু না থাকলে বেশিরভাগ বাচ্চা সহজে শুরু করে।

বাচ্চার পড়াশোনায় আগ্রহ নেই কেন?

সাধারণত পড়াটা খুব কঠিন, একঘেয়ে বা লম্বা মনে হয় বলে, অথবা বাচ্চা ক্লান্ত, দুশ্চিন্তায় আছে, বা ফোনের টান বেশি বলে। বাচ্চা যখন অনুভব করে সে পারবে — নিজের মাপের পড়া, অল্প সময়, চেষ্টার প্রশংসা — তখন আগ্রহ প্রায়ই ফিরে আসে। ঘুম বা মন-মেজাজের পরিবর্তনের সাথে হঠাৎ আগ্রহ কমে গেলে দুশ্চিন্তা বা স্কুলে কোনো সমস্যা আছে কি না দেখুন।

বাচ্চা বাসায় দিনে কতক্ষণ পড়বে?

একটা নির্দিষ্ট সঠিক সংখ্যা নেই; এটা নির্ভর করে বয়স আর স্কুল কতটা হোমওয়ার্ক দেয় তার ওপর। অনেক পরিবার দেখে, একটানা লম্বা সময়ের চেয়ে কয়েকবার অল্প সময় পড়া ভালো চলে: ৫–৭ বছরের বাচ্চার জন্য একবারে মোটামুটি ১০–১৫ মিনিট, বড় হলে আরও বেশি। খেয়াল রাখুন, পড়া যেন যথেষ্ট ঘুমের সময় রেখে শেষ হয়।

পড়ার পুরস্কার হিসেবে কি মোবাইল দেওয়া ঠিক?

ফোনকে প্রধান পুরস্কার না বানানোই ভালো। ফোনের সময় পুরস্কার হলে পড়াটা ফোন পাওয়ার দাম মনে হতে পারে, আর তর্ক চলে যায় কত মিনিট “পাওনা” হলো তা নিয়ে। ছোট, একসাথে উপভোগের পুরস্কার — যেমন ছুটির দিনে কোথায় যাবে তা বেছে নেওয়া বা একসাথে খেলা — সাধারণত কম ঝগড়া আনে।

পড়তে বসলে বাচ্চার মন অন্যদিকে চলে যায় — কী করব?

যথেষ্ট ঘুম, প্রতিদিন ছোটাছুটির খেলা, ফোন ছাড়া গোছানো টেবিল, আর বয়সের সাথে মানানসই অল্প সময়ের পড়া — এগুলোতে সাধারণত মনোযোগ বাড়ে। বয়স অনুযায়ী কতক্ষণ মন দিতে পারে, মনোযোগের খেলা আর কখন পরীক্ষা করাবেন, পড়ুন শিশুর পড়ায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায়।

বাচ্চার কাছে পড়াকে কীভাবে মজার করব?

পড়াকে সক্রিয় আর বাচ্চার নিজের জগতের সঙ্গে জুড়ে দিন: অঙ্কের জন্য ক্রিকেটের রান গোনা, ভগ্নাংশের জন্য রান্নার সময় মাপজোক, নিজের পছন্দের গল্পের বই পড়া। ছোট ছোট কুইজ খেলা, কোন কাজ আগে করবে তা বেছে নেওয়ার সুযোগ, আর আপনাকে একটা জিনিস শেখাতে বলা — এসবে বাচ্চার মনে হয় পড়াটা তার নিজের হাতে। কাজটা যখন সম্ভব মনে হয়, তখন সাধারণত আগ্রহ বাড়ে, তাই পড়া রাখুন তার মাপমতো।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।