মূল কনটেন্টে যান

বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুম: কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুম দরকার?

ছোট করে উত্তর

দিনের ঘুমসহ ২৪ ঘণ্টায় ৪–১২ মাসের শিশুর ১২–১৬ ঘণ্টা ঘুম দরকার, ১–২ বছরে ১১–১৪ ঘণ্টা, ৩–৫ বছরে ১০–১৩, ৬–১২ বছরে ৯–১২ আর ১৩–১৮ বছরে ৮–১০ ঘণ্টা। নবজাতক ছোট ছোট ভাগে প্রায় ১৪–১৭ ঘণ্টা ঘুমায়। বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুমের সময় ঠিক করতে ঘুম থেকে ওঠার সময় থেকে পিছিয়ে গুনুন। সকালে যে বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলতে কষ্ট হয়, প্রায়ই তার ঘুম কম হচ্ছে।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, বিশেষ করে যাদের বাচ্চাকে খুব সকালে স্কুলে যেতে হয়
মূল কথা
  • প্রতিটি বয়সের জন্য দিনের ঘুমসহ ২৪ ঘণ্টায় ঘুমের একটা পরিসর আছে; তাই একটা সংখ্যা নয়, পরিসরের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
  • স্কুলের দিনে ঘুম থেকে ওঠার সময় থেকে পিছিয়ে গুনে ঘুমানোর সময় বের করুন, আর ছোটদের জন্য আরেকটু আগে রাখুন।
  • সকালে উঠতে খুব কষ্ট, বিকেলে খিটখিটে মেজাজ আর ছুটির দিনে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম প্রায়ই বোঝায় যে বাচ্চার আরও ঘুম দরকার।
  • জোরে নাক ডাকা আর মাঝে মাঝে শ্বাস থেমে যাওয়া, বা ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়া — এমন হলে ডাক্তার দেখান।

“বাচ্চার কত ঘণ্টা ঘুম দরকার?” — বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুম নিয়ে বাবা-মায়েরা সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো করেন, এটা তার একটা। প্রশ্নটা প্রায়ই মাথায় আসে এমন এক সকালের পর, যেদিন বাচ্চা কিছুতেই বিছানা ছাড়তে চায়নি। উত্তরটা বয়সের সাথে বদলায়: ছোট্ট শিশু দিনের অর্ধেক বা তারও বেশি সময় ঘুমায়, আর কিশোর-কিশোরীর দরকার রাতে টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।

ভালো খবর হলো, শিশুদের ঘুমের নির্দেশনা নিয়ে তেমন দ্বিমত নেই: প্রতিটি বয়সের জন্য একটা পরিসর আছে, আর বেশিরভাগ বাচ্চা তার ভেতরে থাকলেই ভালো থাকে। নিচে পাবেন বয়স অনুযায়ী ঘুমের ঘণ্টা, স্কুলের দিনে ওঠার সময় থেকে ঘুমানোর সময় ঠিক করার উপায়, দুপুরের ঘুম, সতর্কতার লক্ষণ, ঘুমের আগের রুটিন আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।

কোন বয়সে বাচ্চার কত ঘণ্টা ঘুম দরকার?

শিশুস্বাস্থ্যের নির্দেশনায় প্রতিটি বয়সের ঘুমের প্রয়োজন একটা পরিসর হিসেবে দেওয়া থাকে, দিনের ঘুমসহ ২৪ ঘণ্টা ধরে। আপনার বাচ্চা পরিসরের কোথায় থাকবে, তা নির্ভর করে তার স্বভাব, দিনে কতটা ছোটাছুটি করে আর শরীর-স্বাস্থ্যের ওপর।

বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুম: দিনের ঘুমসহ ২৪ ঘণ্টায় কত ঘণ্টা
বয়স২৪ ঘণ্টায় ঘুম
৪–১২ মাস১২–১৬ ঘণ্টা
১–২ বছর১১–১৪ ঘণ্টা
৩–৫ বছর১০–১৩ ঘণ্টা
৬–১২ বছর৯–১২ ঘণ্টা
১৩–১৮ বছর৮–১০ ঘণ্টা

জন্ম থেকে মোটামুটি ৩ মাস পর্যন্ত নবজাতক দিন-রাত মিলিয়ে ছোট ছোট ভাগে প্রায় ১৪–১৭ ঘণ্টা ঘুমায়। প্রথম কয়েক মাসে ধীরে ধীরে রাতের ঘুম লম্বা হতে থাকে।

পরিসরটাকে দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখুন, পরীক্ষার নম্বর হিসেবে নয়। ৭ বছরের যে বাচ্চা সাড়ে ৯ ঘণ্টা ঘুমিয়ে হাসিমুখে ওঠে, সে সম্ভবত ঠিক আছে; আর যে ১০ ঘণ্টা ঘুমিয়েও রোজ সকালে ক্লান্ত থাকে, তার হয়তো আরও ঘুম দরকার। স্কুলের বয়স নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন: ১০–১৫ বছর বয়সীদের কতটা ঘুম দরকার।

বাচ্চা কখন ঘুমাবে? ঘুম থেকে ওঠার সময় থেকে পিছিয়ে হিসাব করুন

কখন ঘুমাতে হবে, তা উল্টো দিক থেকে হিসাব করাই সবচেয়ে সহজ। সকালটা স্কুলই ঠিক করে দেয়, তাই বাচ্চাকে যে সময়ে উঠতে হয় সেখান থেকে তার দরকারি ঘুমের ঘণ্টা পিছিয়ে গুনুন। তাতে পাবেন কখন তার ঘুমিয়ে পড়া দরকার — শুধু বিছানায় যাওয়া নয়।

পরিসরের কম সংখ্যাটা ধরে সবচেয়ে দেরিতে কখন ঘুমিয়ে পড়া দরকার
বয়সঘুম দরকারসকাল ৬টায় উঠলেসকাল ৭টায় উঠলে
৬–১২ বছর৯–১২ ঘণ্টারাত ৯টার মধ্যে ঘুমরাত ১০টার মধ্যে ঘুম
১৩–১৮ বছর৮–১০ ঘণ্টারাত ১০টার মধ্যে ঘুমরাত ১১টার মধ্যে ঘুম

এগুলো সবচেয়ে দেরির সময়, সবচেয়ে ভালো সময় নয়। বেশিরভাগ বাচ্চার ঘুম আসতে একটু সময় লাগে, আর ৬–৭ বছরের মতো ছোটদের সাধারণত সবচেয়ে কম হিসাবের চেয়ে বেশি ঘুম লাগে; তাই বাতি আরও আগে নেভান।

৬ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য বয়স আর ওঠার সময় দিলে স্কুলের দিনের পরিকল্পনা পাতাটি হিসাবটা করে দেয়। ৬ বছরের কম বয়সীদের দুপুরের ঘুমও মোট হিসাবে ধরা হয়: যে ৪ বছরের বাচ্চা দুপুরে এক ঘণ্টা ঘুমায়, রাতে তারও মোটামুটি ৯–১২ ঘণ্টা দরকার।

শিশুর দুপুরের ঘুম: কোন বয়সে কতবার, কবে ছাড়ে?

দিনের ঘুম বয়সের সাথে মোটামুটি একটা ধারা মেনে কমে, যদিও প্রতিটি বাচ্চা নিজের গতিতে ছাড়ে।

  • জন্ম থেকে ৩ মাস: দিন-রাত জুড়ে ছোট ছোট ভাগে ঘুম।
  • ৪–১২ মাস: শুরুতে দিনে কয়েকবার ঘুম; প্রথম বছরের শেষ ৬ মাসে প্রায়ই দুইবারে দাঁড়ায়।
  • ১–২ বছর: বেশিরভাগ বাচ্চা দুইবারের ঘুম ছেড়ে একবারে আসে, প্রায়ই ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে; তখন সাধারণত দুপুরে খাওয়ার পর একবার ঘুম।
  • ৩–৫ বছর: অনেকে এখনও দুপুরে খাওয়ার পর ঘুমায়; বেশিরভাগ ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ছেড়ে দেয়, তখন চুপচাপ বিশ্রাম সেই জায়গা নিতে পারে।
  • ৬ বছর ও তার বেশি: বেশিরভাগ আর দুপুরে ঘুমায় না। স্কুল বা কোচিংয়ের পর লম্বা ঘুম রাতের ঘুম পিছিয়ে দিতে পারে; ঘুমাতে হলে ছোট করে, বিকেলের শুরুতেই।

ছোট্ট শিশুর বেলায় কত ঘণ্টা ঘুমাল, তার মতোই জরুরি কোথায় আর কীভাবে ঘুমাল। শিশু সবচেয়ে নিরাপদে ঘুমায় চিত হয়ে, নিজের আলাদা শক্ত ও সমান জায়গায়, যেমন আপনার খাটের পাশে একটা ছোট খাটে। সেখানে নরম বা ঢিলেঢালা কিছুই রাখবেন না: বালিশ, কোলবালিশ, লেপ-কাঁথা বা নরম খেলনা — কিছুই না।

বাংলাদেশে অনেক পরিবারেই শিশু বাবা-মায়ের সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমায়। আপনার শিশু যদি আপনার বিছানায় ঘুমায়, এগুলো মেনে চললে ঝুঁকি কমে:

  • শিশুকে চিত করে শক্ত তোশকের ওপর শোয়ান; বালিশ, লেপ-কাঁথা, কোলবালিশ আর এমন যেকোনো ফাঁক থেকে দূরে, যেখানে পিছলে পড়ে যেতে বা আটকে যেতে পারে।
  • শিশুকে একজন বাবা বা মায়ের পাশে রাখুন; দুজন বড় মানুষের মাঝখানে বা বড় ভাইবোনের পাশে নয়।
  • সোফা বা চেয়ারে শিশুকে নিয়ে কখনো ঘুমিয়ে পড়বেন না।
  • আপনি বা আপনার সঙ্গী ধূমপান করলে, অ্যালকোহল বা ঝিমুনি আনে এমন কোনো ওষুধ খেয়ে থাকলে, এত ক্লান্ত থাকলে যে খুব গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে পারেন, অথবা শিশু সময়ের আগে বা খুব ছোট হয়ে জন্মালে তাকে নিয়ে এক বিছানায় ঘুমাবেন না।

বাচ্চার ঘুম কম হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

যে বাচ্চার ঘুম কম হচ্ছে, তাকে সবসময় ঘুমকাতুরে দেখায় না। ছোটদের অনেক সময় উল্টোটাই দেখা যায়: সন্ধ্যায় অস্থির, হইচই বেশি, আর শান্ত করা কঠিন।

  • স্কুলের দিন সকালে তুলতে কষ্ট, বা উঠে প্রথম এক ঘণ্টা মুখ ভার।
  • অল্প পথেই গাড়ি, রিকশা বা স্কুল ভ্যানে ঢুলে পড়া, বা সন্ধ্যা হতেই টিভির সামনে ঘুমিয়ে পড়া।
  • বিশেষ করে বিকেলের দিকে খিটখিটে, অল্পতেই কান্না বা রাগ।
  • মন দিতে কষ্ট, বা হোমওয়ার্কে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগা।
  • স্কুলের দিনের তুলনায় ছুটির দিনে অনেক বেশি ঘুমানো।
  • শিক্ষক বলেন, ক্লাসে বাচ্চাকে ক্লান্ত বা অন্যমনস্ক দেখায়।

একদিন একটা লক্ষণ দেখা গেলে তেমন কিছু বোঝায় না; এক-দুই সপ্তাহ ধরে বারবার যা হচ্ছে, সেটাই আসল কথা বলে।

সন্ধ্যাটা কেমন হলে বাচ্চা সহজে ঘুমায়?

ছোট আর রোজ একরকম একটা রুটিন অনেক বাচ্চাকে সহজে ঘুমাতে সাহায্য করে: একই ধাপ একই ক্রমে হলে শরীর বুঝে যায় ঘুমের সময় আসছে। আধা ঘণ্টাই যথেষ্ট; বয়স অনুযায়ী ধাপে ধাপে রুটিন আর ছবির চার্ট পাবেন শিশুর ঘুমের রুটিন তৈরির নিয়ম লেখায়।

  1. ঘুমের বেশ কিছুক্ষণ আগে রাতের খাবার শেষ, যাতে পেট খুব ভরা বা খালি না থাকে।
  2. ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ, আর ফোন চার্জ হবে শোয়ার ঘরের বাইরে।
  3. বাতি কম, বাসা একটু চুপচাপ। ফ্যান চললে সমস্যা নেই।
  4. হাত-মুখ ধোয়া, দাঁত ব্রাশ, বাথরুম, রাতের জামা।
  5. একসাথে কয়েক মিনিট শান্ত সময়: একটা গল্প, দিনটা কেমন গেল তা নিয়ে কথা, বা আপনার পরিবারে প্রচলিত থাকলে ছোট একটা দোয়া।
  6. রোজ একই সময়ে বাতি নেভানো, রোজ একই কয়েকটা কথা।

রাতে ঘুমাতে না চাইলে: সেই মুহূর্তে কী করবেন

বাচ্চা রাতে ঘুমাতে না চাইলে লক্ষ্য হলো ঘুমের সময়টাকে নিরাপদ আর একটু একঘেয়ে রাখা: কম কথা, আর প্রতিবার একই রকম শান্ত সাড়া।

  1. আগে ছোটখাটো জিনিসগুলো দেখে নিন: বাথরুম পেয়েছে কি না, পানি লাগবে কি না, বেশি গরম বা ঠান্ডা লাগছে কি না, মশা আছে কি না, চোখে আলো পড়ছে কি না।
  2. গলা নিচু রাখুন, আলোও কম রাখুন।
  3. সন্ধ্যাটা আবার শুরু করবেন না: বাতি নেভানোর পর আর স্ক্রিন, খেলা বা লম্বা গল্প নয়।
  4. উঠে চলে এলে শান্তভাবে আবার বিছানায় নিয়ে যান, প্রতিবার একই ছোট কথা বলে, যতবার লাগে।
  5. ভয় পেলে কয়েক মিনিট পাশে থাকুন, ছোট একটা ডিম লাইট জ্বালিয়ে রাখুন, আর বলুন একটু পরে এসে দেখে যাবেন। তারপর সত্যিই আসুন।
  6. পরদিন দেখুন আগে কী হয়েছিল: দেরিতে দুপুরের ঘুম, দেরিতে রাতের খাবার, স্ক্রিন, নাকি কোনো দুশ্চিন্তা।

ঘুমের সময় যা বলতে পারেন

  • এখন ঘুমের সময়। ওই কথাটা কাল সকালে বলো, আমি শুনব।
  • আমি ৫ মিনিট তোমার পাশে বসছি, তারপর পাশের ঘরেই থাকব।
  • ফোনটাও এখন ঘরের বাইরে ঘুমাবে। সকালে আবার পাবে।
  • ভয় নেই, আমি তো আছি। একটু পরেই এসে দেখে যাব।

ঘুমের সময়ের বায়না আর বারবার বিছানা থেকে উঠে আসা নিয়ে পড়ুন বাচ্চা ঘুমাতে যেতে চায় না। দুশ্চিন্তার কারণে বাচ্চা জেগে থাকলে রাতের ভয় সামলানোর উপায় পাবেন শিশুর দুশ্চিন্তা লেখায়।

আমাদের বাসায় ঘুম: দেরিতে রাতের খাবার, কোচিং আর এক ঘরে অনেকে

অনেক বাসায় রাতের রুটিন দেরিতে চলে, আর তার কারণগুলোও বোঝা যায়: বাবা বা মা জ্যাম ঠেলে বাসায় ফেরেন, রাতের খাবার রাত ১০টায়, আত্মীয়-স্বজন আসেন। ওদিকে অনেক স্কুল শুরু হয় খুব সকালে, তাই যে বাচ্চাকে ৬টায় উঠতে হয়, তার রাতটা ছোট হয়ে যায়।

  • দেরিতে রাতের খাবার: বাচ্চাকে আগে খাইয়ে দিন, তারপর একটু ফল বা দুধ নিয়ে কিছুক্ষণ সবার সাথে বসতে দিন।
  • কোচিং আর টিউশন: কোচিং রাত ৭টা-৮টায় শেষ হয়ে তারপর হোমওয়ার্ক শুরু হলে রাতটাই হারিয়ে যায়। সম্ভব হলে হোমওয়ার্ক আগেই সেরে নিন, বা কোচিংয়ের সময়টা আগে আনা যায় কি না জিজ্ঞেস করুন।
  • এক ঘরে অনেকে: সবচেয়ে ছোটটিকে আগে ঘুম পাড়ান, টিভি অন্য ঘরে রাখুন বা আওয়াজ খুব কমিয়ে দিন, আর ফ্যানের একটানা শব্দ ছোটখাটো আওয়াজ ঢেকে দিক।
  • ছুটির দিন আর বিয়ে-দাওয়াত: মাঝেমধ্যে বৃহস্পতি বা শুক্রবার রাতে দেরি হলে সমস্যা নেই; শুধু পরদিন ওঠার সময়টা স্কুলের দিনের চেয়ে মোটামুটি এক ঘণ্টার মধ্যে রাখুন।
  • রমজান: সেহরির জন্য ভোররাতে ওঠা আর রাতে দেরিতে ঘুমানো সবার ঘুমের সময় বদলে দেয়। যে বাচ্চারা রোজা রাখছে না, তারা অনেক সময় সেহরির সময়টা ঘুমিয়েই কাটাতে পারে; দিনে একটু বিশ্রামের সুযোগ রাখুন, আর ঈদের পর ধীরে ধীরে স্কুলের সময়ে ফিরুন।
  • গরমের রাত আর লোডশেডিং: ঠান্ডা ঘর, মশারি আর ঢিলেঢালা সুতির জামা সাহায্য করে। ঘুমাতে দেরি হলেও রুটিনের ধাপগুলো ঠিক রাখুন।

আগে ঘুমানোর জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা

একবারে একটা জিনিস বদলান আর প্রতিদিন এক লাইন লিখে রাখুন। হঠাৎ এক ঘণ্টা এগিয়ে আনার চেয়ে ১৫ মিনিট করে এগোনো সাধারণত সহজ।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। বাচ্চা কখন ঘুমাল আর উঠল, দিনে ঘুমাল কি না, সকালটা কেমন গেল — লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: ছক দেখে কখন ঘুমিয়ে পড়বে তার একটা লক্ষ্য ঠিক করুন। আজ রাতে ঘুমানোর সময় ১৫ মিনিট এগিয়ে আনুন।
  3. দিন ৩: নতুন ঘুমের সময়ের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ, আর ফোন শোয়ার ঘরের বাইরে।
  4. দিন ৪: রুটিনের ক্রম ঠিক করুন। লিখে রাখুন, ছোট বাচ্চার জন্য ছবি এঁকে দিন।
  5. দিন ৫: সকালে উঠতে এখনও কষ্ট হলে ঘুমানোর সময় আরও ১৫ মিনিট এগিয়ে আনুন।
  6. দিন ৬: ছুটির দিনে একটু বেশি ঘুমাতে দিন, তবে ওঠার সময় স্কুলের দিনের চেয়ে মোটামুটি এক ঘণ্টার মধ্যে রাখুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন: ঘুম থেকে ওঠা, স্কুল থেকে ফিরে মেজাজ, শিক্ষকের মন্তব্য। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের ছোট পরিবর্তনটা বেছে নিন।

বাচ্চার ঘুম নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন

বাচ্চাদের ঘুমের অনেক সমস্যাই নিয়মিত রুটিনে কমে আসে। টনসিল বড় হওয়া বা নাক বন্ধ থাকার মতো শারীরিক কারণ আছে কি না, ডাক্তার দেখে দিতে পারেন।

এসব দেখলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন

  • বেশিরভাগ রাতে জোরে নাক ডাকে, বিশেষ করে মাঝে মাঝে শ্বাস থেমে যায়, হাঁসফাঁস করে বা দম আটকানোর মতো শব্দ হয়।
  • ঘুম থেকে তোলা খুব কঠিন, বিছানায় যথেষ্ট সময় কাটানোর পরও দিনে খুব ঘুম ঘুম ভাব, বা ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়ে (কিংবা শিক্ষক একাধিকবার এ কথা বলেছেন)।
  • নিয়মিত রুটিনের পরও রাতে বারবার জেগে ওঠা, রাতের ভয় বা ঘুম আসতে কষ্ট এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলছে।
  • ঘুমের পরিবর্তনের সাথে মন খারাপ, সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা, বা খাওয়া-দাওয়া ও আচরণে বড় পরিবর্তন।
  • ছোট্ট শিশু অস্বাভাবিক ঝিমিয়ে থাকে, শরীর নেতিয়ে পড়ে, বা খাওয়ানোর জন্য জাগানো কঠিন হয় — সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, ঠোঁট-মুখ নীল হয়ে গেলে বা কিছুতেই জাগানো না গেলে এখনই ৯৯৯-এ ফোন করুন।

একটা কঠিন সকাল দেখে নয়, এক সপ্তাহ ধরে দেখলে ঘুম বোঝা সহজ। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

৫ বছরের বাচ্চা কত ঘণ্টা ঘুমাবে?

৫ বছরের বাচ্চার দিনের ঘুমসহ ২৪ ঘণ্টায় ১০–১৩ ঘণ্টা ঘুম দরকার। এই বয়সে বেশিরভাগ বাচ্চা দুপুরে আর ঘুমায় না, তাই প্রায় পুরো ঘুমটাই রাতে। সকাল ৬টায় স্কুলের জন্য উঠতে হলে রাত ৮টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া দরকার। এখনও দুপুরে ঘুমালে সেটাও হিসাবে ধরুন।

রাত ১০টায় ঘুমানো কি বাচ্চার জন্য দেরি?

হ্যাঁ, পরদিন স্কুল থাকলে ১৩ বছরের কম বয়সী বেশিরভাগ বাচ্চার জন্য রাত ১০টা দেরি। ৬–১২ বছরের বাচ্চার ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার; সকাল সাড়ে ৬টায় উঠতে হলে সবচেয়ে দেরি রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে, আর আরও ছোটদের তারও আগে। কিশোরদের দরকার ৮–১০ ঘণ্টা, তাই সকাল ৬টা বা তার পরে উঠলে রাত ১০টা চলতে পারে।

বাচ্চা কোন বয়সে দুপুরে ঘুমানো ছেড়ে দেয়?

বেশিরভাগ বাচ্চা ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দুপুরে ঘুমানো ছেড়ে দেয়; কেউ আগে ছাড়ে, কেউ ৬ বছর পর্যন্ত ঘুমায়। দুপুরে শুয়ে অনেকক্ষণ জেগে থাকা, বা দুপুরে ভালো ঘুমিয়ে রাতে অনেক দেরিতে ঘুমানো — এগুলো ছাড়ার সময় হওয়ার লক্ষণ। দুপুরের ঘুমের বদলে আবছা আলোর ঘরে চুপচাপ বিশ্রাম দিলে বদলটা প্রায়ই সহজ হয়।

ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে কি ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয়?

কিছুটা হয়, কিন্তু অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমালে শরীরের ঘড়ি পিছিয়ে যায়; তাতে সপ্তাহের প্রথম স্কুলের সকালটা কঠিন হয়। একটু বেশি ঘুম ঠিক আছে; বেশিরভাগ পরিবারের জন্য সহজ হলো ওঠার সময়টা স্কুলের দিনের চেয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে রাখা। বিস্তারিত: ছুটির দিনের লম্বা ঘুম আর সপ্তাহের প্রথম সকাল।

১০ বছরের বাচ্চা কত ঘণ্টা ঘুমাবে?

১০ বছরের বাচ্চার রাতে ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার। সকাল ৬টায় স্কুলের জন্য উঠতে হলে সবচেয়ে দেরি রাত ৯টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া দরকার, আর তারপরও সকালে ক্লান্ত থাকলে আরও আগে। এই বয়সে কোচিং, হোমওয়ার্ক আর ফোন প্রায়ই ঘুম পিছিয়ে দেয়, তাই ঘুমের আগের এক ঘণ্টাটা আগলে রাখুন।

কিশোর-কিশোরীর কত ঘণ্টা ঘুম দরকার?

১৩–১৮ বছর বয়সীদের রাতে ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার। বয়ঃসন্ধিতে শরীরের ঘড়ি পিছিয়ে যায়, তাই অনেকে রাতে একদম সজাগ থাকে আর সকালে ঝিমায়। ঘুমের সময় নিয়ে তর্কের চেয়ে ঘুমের আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিনমুক্ত রাখা আর ছুটির দিনেও নিয়মিত সময়ে ওঠা সাধারণত বেশি কাজে দেয়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।