ফোন ও ইউটিউবে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করার নিয়ম: বয়স অনুযায়ী কী সেট করবেন
ছোট করে উত্তর
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল হলো ফোন, ট্যাব, অ্যাপ আর ওয়াই-ফাইয়ের এমন কিছু সেটিং, যা দিয়ে ঠিক করা যায় বাচ্চা কী দেখবে, কী নামাবে, কী কিনবে আর কতক্ষণ চালাবে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করার নিয়ম সহজ: ফোনের ফ্যামিলি কন্ট্রোল, ইউটিউব কিডস বা রেস্ট্রিকটেড মোড, অ্যাপ স্টোরের বয়সসীমা আর কেনাকাটায় অনুমতি চালু করুন। কোনো সেটিংই সব আটকাতে পারে না, তাই প্রতিটা সেটিং বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলুন, কথা চালিয়ে যান, আর বয়স বাড়লে নিয়ম একটু একটু করে ঢিলা করুন।
লেখাটি শুনুন
১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৩–১৫ বছরের যে বাচ্চারা বাসায় ফোন, ট্যাব, স্মার্ট টিভি বা কম্পিউটার চালায়, তাদের বাবা-মা
- মূল কথা
- ফোন, ট্যাব আর ইউটিউবের ভেতরেই যে কন্ট্রোলগুলো থাকে, সেগুলো বিনা খরচে বেশির ভাগ পরিবারের প্রয়োজন মেটায়: সময়সীমা, বয়স অনুযায়ী ফিল্টার, কেনাকাটায় অনুমতি আর রাতে ফোন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা।
- বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে সেট করুন: ৬ বছরের কম বয়সে কড়া আর সহজ, মোটামুটি ১০ বছর থেকে বাচ্চার মতামত বেশি, আর বেশির ভাগ কিশোরের বেলায় তালা নয়, আলোচনা করে ঠিক করা নিয়ম।
- কোনো কন্ট্রোলই সব আটকাতে পারে না; সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো এমন বাচ্চা, যে অনলাইনে খারাপ কিছু দেখলে আপনাকে এসে বলবে।
- মেনু প্রায়ই বদলায়, তাই পুরোনো স্ক্রিনশটের ওপর ভরসা না করে সেটিংসের সার্চে ইংরেজিতে লিখুন “parental” (অভিভাবক), “family” (পরিবার) বা “screen time” (স্ক্রিন টাইম)।
বাচ্চা হঠাৎ ভয়ের কোনো ভিডিও দেখে ফেলেছে, সেভ করা কার্ড দিয়ে গেমে টাকা খরচ করেছে, বা রাত ১২টাতেও কার্টুন দেখছে — এমন কিছুর পরেই অনেক বাবা-মা খুঁজতে শুরু করেন প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করার নিয়ম। আপনিও যদি এখানে থাকেন, আপনি একা নন। প্রযুক্তিতে পাকা হওয়ারও দরকার নেই: মূল সেটিংগুলো চালু করতে একটা সন্ধ্যাই যথেষ্ট।
তবে সেটিংস কাজের অর্ধেক মাত্র। কন্ট্রোল সবচেয়ে ভালো কাজ করে, যখন বাচ্চা জানে কী চালু আছে আর কেন, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মও একটু একটু করে ঢিলা হয়। নিচে পাবেন: কোন কন্ট্রোল কী করে, অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন আর ইউটিউবে কীভাবে চালু করবেন, কোন বয়সে কী মানায়, কিশোরদের প্রাইভেসি, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল কী, আর এটা দিয়ে কী কী করা যায়?
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল হলো এমন সব সেটিং, যা দিয়ে বাবা-মা ঠিক করতে পারেন বাচ্চা ডিভাইস কতক্ষণ, কখন, কোন অ্যাপে চালাবে, কী দেখবে আর কী কিনতে পারবে। বেশির ভাগই বিনা খরচে ভেতরেই থাকে, কয়েকটা জায়গায়:
| কন্ট্রোল | কী করে | কী পারে না |
|---|---|---|
| ফোন বা ট্যাবের ফ্যামিলি কন্ট্রোল (অ্যান্ড্রয়েডে গুগলের ফ্যামিলি লিংক, আইফোন ও আইপ্যাডে স্ক্রিন টাইম) | দিনের সময়সীমা, রাতের ডাউনটাইম (ফোন বন্ধ থাকার সময়), অ্যাপে অনুমতি, বয়স অনুযায়ী ফিল্টার, কেনাকাটায় অনুমতি | বন্ধুর ফোনে বা অন্য কোনো ডিভাইসে সুরক্ষা দিতে পারে না |
| ইউটিউব কিডস | ছোটদের জন্য আলাদা অ্যাপ: বয়স অনুযায়ী প্রোফাইল, টাইমার, আর শুধু অনুমোদিত ভিডিও চালানোর ব্যবস্থা | সব অনুপযুক্ত ভিডিও আটকাতে পারে না |
| ইউটিউবের রেস্ট্রিকটেড মোড | মূল ইউটিউব অ্যাপ বা সাইটে অনেক অনুপযুক্ত ভিডিও লুকিয়ে রাখে | সব ডিভাইস ঢাকে না: প্রতিটা অ্যাপ বা ব্রাউজারে আলাদা চালু করতে হয়, আর কিছু ভিডিও ফসকে যায় |
| অ্যাপ স্টোরের বয়সসীমা আর কেনাকাটায় অনুমতি | আপনার ঠিক করা বয়সের চেয়ে বড়দের অ্যাপ আটকায়; কিছু কেনার আগে আপনার অনুমতি চায় | অ্যাপের ভেতরের চ্যাট, বা সেখানে কার সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে, তা যাচাই করতে পারে না |
| ব্রাউজারে সেফ সার্চ | সার্চের ফলাফল থেকে আপত্তিকর ছবি আর পাতা ছেঁকে ফেলে | সরাসরি কোনো ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখে ঢুকলে আটকাতে পারে না |
| ওয়াই-ফাই রাউটারের সেটিং | বাসার প্রতিটা ডিভাইসের ইন্টারনেট সাময়িক বন্ধ রাখে বা সময় বেঁধে দেয়; কিছু ওয়েবসাইট আটকায় | মোবাইল ডেটা বা অন্য কারও ওয়াই-ফাইয়ে কাজ করে না |
| অ্যাপ পিনিং (অ্যান্ড্রয়েড) বা গাইডেড অ্যাক্সেস (আইফোন) | শেয়ার করা ফোনকে একটা অ্যাপেই আটকে রাখে, আপনার মেসেজ আর টাকার অ্যাপ থেকে দূরে | পাশে বড় কারও থাকার বিকল্প নয় |
বাচ্চার ফোন বা ট্যাবে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করার নিয়ম
অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ট্যাবে
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চলে গুগলের ফ্যামিলি কন্ট্রোল, সাধারণত গুগল ফ্যামিলি লিংক অ্যাপ দিয়ে: অ্যাপটা নিজের ফোনে নামিয়ে বাচ্চার গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করুন, তারপর ঠিক করুন দিনের সময়সীমা, রাতে কখন ফোন লক হবে, নতুন অ্যাপে অনুমতি, আর প্লে স্টোরে বয়স অনুযায়ী ফিল্টার। অনেক ফোনের সেটিংসে ‘ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং ও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ ধরনের অংশটাও একই জায়গায় নিয়ে যায়।
আইফোন বা আইপ্যাডে
আইফোন বা আইপ্যাডে কন্ট্রোলগুলো থাকে সেটিংসের ‘স্ক্রিন টাইম’ অংশে: রাতের জন্য ডাউনটাইম, অ্যাপের সময়সীমা, আর সিনেমা, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের বয়সসীমা, সব আটকানো থাকে এমন পাসকোডে, যেটা শুধু আপনি জানেন। বাচ্চাকে ‘ফ্যামিলি শেয়ারিং’-এ যুক্ত করলে নিজের ফোন থেকেই সব সামলাতে পারবেন, আর ‘আস্ক টু বাই’ চালু করলে কিছু কিনতে আপনার অনুমতি লাগবে।
বাচ্চা যে ফোনই চালাক, ধাপগুলো মোটামুটি একই:
- ডিভাইস আপডেট করে নিন, তারপর বাচ্চার জন্য আলাদা সুপারভাইজড অ্যাকাউন্ট (বাবা-মায়ের তদারকিতে থাকা অ্যাকাউন্ট) বা চাইল্ড প্রোফাইল খুলুন; আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে চালাতে দেবেন না।
- কন্ট্রোলের জন্য এমন একটা পাসকোড বা পিন দিন, যা শুধু আপনি জানেন, আর বাচ্চার সামনে সেটা টাইপ করবেন না।
- অ্যাপ স্টোরে বয়সসীমা ঠিক করুন, আর প্রতিটা ডাউনলোড ও কেনাকাটায় আপনার অনুমতি লাগবে, এমন সেটিং চালু করুন।
- দিনের সময়সীমা ঠিক করুন, আর এমন ডাউনটাইম দিন, যা পুরো রাত আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা ঢেকে রাখে।
- ছোট বাচ্চার জন্য ইউটিউব কিডস চালু করুন; বড় বাচ্চার জন্য রেস্ট্রিকটেড মোড চালু আর অটোপ্লে বন্ধ করুন।
- ব্রাউজারে সেফ সার্চ চালু করুন, আর দেখে নিন কোন কোন অ্যাপ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন আর লোকেশন ব্যবহার করতে পারে।
- একসাথে বসে হাতে দিন: কী কী চালু আছে বাচ্চাকে দেখান, আর পাশাপাশি বসে একবার চালিয়ে দেখুন।
শিশুর জন্য ইউটিউব সুরক্ষিত করবেন যেভাবে: ইউটিউব কিডস আর রেস্ট্রিকটেড মোড
বাংলাদেশের অনেক বাচ্চার স্ক্রিন টাইমের বেশির ভাগটাই কাটে ইউটিউবে, ফোনে বা পরিবারের টিভিতে। খারাপ ভিডিও বন্ধ করার উপায় হিসেবে এখানে নিয়ন্ত্রণের তিনটা ধাপ আছে, আর কোনটা ঠিক, তা নির্ভর করে বয়সের ওপর:
- ছোটদের জন্য ইউটিউব কিডস। অ্যাপটা নামিয়ে অভিভাবক হিসেবে সাইন ইন করুন, আর বাচ্চার বয়সের গ্রুপ অনুযায়ী প্রোফাইল খুলুন। সবচেয়ে ছোটদের জন্য এমন সেটিং বেছে নিন, যেখানে শুধু আপনার অনুমোদিত ভিডিও আর চ্যানেল চলবে; সার্চ বন্ধ রাখুন, আর টাইমার দিন, যাতে সময় শেষে অ্যাপ নিজেই থেমে যায়।
- ইউটিউব কিডসের বয়স পেরিয়ে গেলে সুপারভাইজড ইউটিউব অ্যাকাউন্ট। ফ্যামিলি কন্ট্রোলের মাধ্যমে মূল ইউটিউব অ্যাপের জন্য বাচ্চার বয়সের সঙ্গে মানানসই একটা কনটেন্ট-স্তর বেছে দিতে পারেন।
- কিশোর আর শেয়ার করা ডিভাইসের জন্য রেস্ট্রিকটেড মোড। ইউটিউব অ্যাপের সাধারণ সেটিংসে এটা খুঁজুন, আর বাচ্চা যে যে অ্যাপ, ব্রাউজার আর টিভিতে ইউটিউব দেখে, প্রতিটাতে আলাদা করে চালু করুন। এটা অনেক অনুপযুক্ত ভিডিও লুকায়, সব নয়।
যে স্তরই বেছে নিন, অটোপ্লে বন্ধ রাখুন, যাতে একটা ভিডিও শেষ হলেই আরেকটা শুরু না হয়, আর ভিডিওর পাশের মেনু থেকে অপছন্দের চ্যানেল ব্লক করুন, বা সেটা যেন আর সামনে না আসে সেই ব্যবস্থা নিন। কী আটকাবেন শুধু তা নয়, কী দেখবে তা বাছাইয়েও সাহায্য চাইলে পড়ুন বাচ্চার জন্য ইউটিউব আর কার্টুন।
বয়স অনুযায়ী কোন সেটিং: ৩–৫, ৬–৯, ১০–১২ আর ১৩–১৫ বছর
বয়সভেদে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল একেবারে আলাদা: ছোটদের দরকার আপনার বেছে দেওয়া ছোট, নিরাপদ একটা জায়গা; কিশোরদের দরকার নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুশীলন, যখন আপনি এখনো কাছেই আছেন। নিচের হিসাবগুলো মোটামুটি ধারণা; বয়সের চেয়ে পরিপক্বতাই বেশি জরুরি।
| বয়স | যে কন্ট্রোলগুলো সাধারণত মানায় | যা নিয়ে কথা বলবেন |
|---|---|---|
| ৩–৫ বছর | বসার ঘরে সবার একটা ডিভাইস, শুধু অনুমোদিত ভিডিওসহ ইউটিউব কিডস, অ্যাপ পিনিং, অ্যাপ স্টোর নয় | “আমরা একসাথে দেখব।” “ভয়ের কিছু দেখলে আমার কাছে চলে আসবে।” |
| ৬–৯ বছর | চাইল্ড প্রোফাইল, দিনের সময়সীমা আর রাতের ডাউনটাইম, প্রতিটা অ্যাপে অনুমতি, বয়স অনুযায়ী ইউটিউব কিডস | কিছু অ্যাপ কেন বড় হলে পাবে; অচেনা কেউ মেসেজ দিলে কী করবে |
| ১০–১২ বছর | সুপারভাইজড অ্যাকাউন্ট, সুপারভাইজড ইউটিউব বা রেস্ট্রিকটেড মোড, কেনাকাটায় অনুমতি, সেফ সার্চ, রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরে চার্জে | গ্রুপ চ্যাট, ছবি শেয়ার, গেমে টাকা খরচ; সময়সীমা একসাথে ঠিক করা |
| ১৩–১৫ বছর | তালা কম, আলোচনা বেশি: রাতের ডাউনটাইম আর কেনাকাটায় অনুমতি সাধারণত থাকে, ফিল্টার ঢিলা হয়, প্রাইভেসি সেটিং একসাথে দেখে নেওয়া | প্রাইভেসি, অনলাইনের বন্ধু, ছবি পাঠানোর চাপ; আপনি কী দেখবেন, কখন আর কেন |
বয়স যা-ই হোক, দিনের সময়সীমা ঠিক করুন বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম দেখে: ১৮ মাসের কম বয়সে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়, ১৮–২৪ মাসে শুধু বড় কারও সঙ্গে বসে ভালো মানের কিছু, ২–৫ বছরে দিনে বড়জোর ১ ঘণ্টা ভালো মানের কিছু, আর ৬ বছর থেকে এমন নিয়মিত সীমা, যাতে ঘুম, ছোটাছুটির খেলা, হোমওয়ার্ক আর পরিবারের সময় ঠিক থাকে।
কিশোর আর প্রাইভেসি: তালা থেকে আলোচনায়
বড় হতে কিশোরদের কিছুটা প্রাইভেসি দরকার, আর লুকিয়ে ফোন ঘাঁটলে সাধারণত যতটুকু জানা যায়, তার চেয়ে বেশি বিশ্বাস হারায়। কোন কন্ট্রোল চালু থাকছে আর কেন, তা খোলাখুলি বলুন, আর আগেই ঠিক করে নিন কখন আপনি আরও খুঁটিয়ে দেখবেন, যেমন ওর নিরাপত্তা নিয়ে সত্যিকারের দুশ্চিন্তা হলে। অনেক পরিবার কৈশোরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েকটা নিয়ম রাখে, যেমন রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরে চার্জ দেওয়া আর কিছু কেনার আগে জিজ্ঞেস করা। অনেক অ্যাপ নিজেদের নিয়মে একটা ন্যূনতম বয়সও রাখে, প্রায়ই ১৩, আর তখন বাবা-মা কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তা বদলে যেতে পারে; তাই সেই জন্মদিনের আগেই জেনে নিন।
বাচ্চাকে সেটিংগুলো কীভাবে বোঝাবেন, আর কথা বলা কেন বেশি জরুরি
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বাচ্চা সহজে মেনে নেয়, যখন সেটা শাস্তি নয়, সুরক্ষা মনে হয়। তা ছাড়া বাচ্চারা এর ফাঁক খুঁজে নেয়: বন্ধুর ফোন, কোচিংয়ের ওয়াই-ফাই, নতুন কোনো ব্রাউজার। তাই সবচেয়ে জরুরি নিয়মটা কোনো সেটিং নয়: অনলাইনে কিছু দেখে ভয়, কষ্ট বা অস্বস্তি হলে বাচ্চা সেটা বন্ধ করে আপনার কাছে আসবে, আর বলার জন্য সে কোনো ঝামেলায় পড়বে না।
যা বলতে পারেন
- এই সেটিংগুলো তোমাকে অবিশ্বাস করি বলে না। এগুলো সিটবেল্টের মতো।
- ভয়ের বা বাজে কিছু দেখলে বন্ধ করে আমাকে বলবে। বললে তুমি কোনো বকা খাবে না।
- সন্ধ্যা ৭টায় ট্যাব বন্ধ হয়ে যাবে। এটা ট্যাবের নিয়ম, আমারও।
- তুমি সামলাতে পারছ দেখলে আমরা একসাথে নিয়ম একটু একটু করে ঢিলা করব।
- চলো, প্রাইভেসি সেটিংগুলো একসাথে দেখি; তোমার পোস্ট কে দেখবে, সেটা তুমিই ঠিক করবে।
- কোনো নিয়ম অন্যায্য মনে হলে বলো কেন। পরের বার সবাই মিলে বসে বদলাতে পারি।
মূল নিয়মগুলো একসাথে লিখে রাখুন, আর কয়েক মাস পরপর আবার দেখে নিন; সহজে কীভাবে করবেন, তা আছে পারিবারিক স্ক্রিন-চুক্তি লেখায়। অচেনা মানুষ থেকে বাজে মেসেজ পর্যন্ত অনলাইন নিরাপত্তার পুরো আলোচনার জন্য দেখুন শিশুর অনলাইন নিরাপত্তা।
বাংলাদেশের বাসায় প্যারেন্টাল কন্ট্রোল: একটা ফোন, টিভি আর মোবাইল ডেটা
বাংলাদেশের অনেক বাসায় কঠিন জায়গাটা মেনু নয়, রোজকার জীবন:
- পরিবারে একটাই ফোন। ছোট বাচ্চা আপনার ফোনে ভিডিও দেখার আগে ভিডিও অ্যাপটা পিন করে দিন বা গাইডেড অ্যাক্সেস চালু করুন, যাতে ও আপনার মেসেজ, ছবি বা মোবাইল ওয়ালেটের অ্যাপে চলে যেতে না পারে।
- স্মার্ট টিভিতে ইউটিউব। টিভিও হিসাবের মধ্যে। টিভির ইউটিউব অ্যাপেও রেস্ট্রিকটেড মোড বা কিডস প্রোফাইল চালু করুন, আর টিভিতে অ্যাপ নামাতে পিন দেওয়ার সুযোগ থাকলে সেটাও দিন।
- দাদা-দাদি, নানা-নানি আর গৃহকর্মী। বাচ্চাকে শান্ত করতে তাঁরা ফোন দিলে তাঁদের কিডস অ্যাপ আর টাইমারটা দেখিয়ে দিন, আর নিয়মগুলো অভিযোগের সুরে নয়, নরমভাবে জানান।
- মোবাইল ডেটা। রাউটারের কন্ট্রোল কাজ করে শুধু বাসার ওয়াই-ফাইয়ে; ফোনের নিজের কন্ট্রোল মোবাইল ডেটাতেও কাজ করে, তাই আগে সেটাই চালু করুন।
- ক্লাস আর কোচিংয়ের গ্রুপ। মেসেজিং অ্যাপে এমন সেটিং দিন, যাতে শুধু কন্টাক্টে থাকা মানুষই বাচ্চাকে গ্রুপে যোগ করতে পারে, আর কোন গ্রুপে কারা আছে, তা নিয়ে কথা বলুন।
- উপহারের ফোন বা কারও পুরোনো ফোন। বাচ্চার হাতে দেওয়ার আগে রিসেট করে নিন, আর শুরু থেকেই বাচ্চার ফোন হিসেবে সেট করুন।
বাচ্চার আদৌ নিজের ফোন দরকার কি না, তা নিয়ে এখনো ভাবলে আগে পড়ুন কত বছর বয়সে বাচ্চাকে ফোন দেওয়া উচিত।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করার নিয়ম: ৭ দিনের পরিকল্পনা
দিনে একটা জিনিস চালু করুন, কী হয় লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ১: বাচ্চা যত ডিভাইস চালায়, সব লিখে ফেলুন, টিভি আর আত্মীয়দের ফোনও।
- দিন ২: মূল ডিভাইসে ফ্যামিলি কন্ট্রোল চালু করুন, এমন পাসকোড দিয়ে, যা শুধু আপনি জানেন।
- দিন ৩: ইউটিউব কিডস বা রেস্ট্রিকটেড মোড চালু করুন, আর প্রতিটা স্ক্রিনে অটোপ্লে বন্ধ করুন।
- দিন ৪: কেনাকাটায় অনুমতি আর অ্যাপ স্টোরের বয়সসীমা চালু করুন, আর শেয়ার করা ফোনে টাকার অ্যাপ থেকে লগ আউট করুন।
- দিন ৫: রাতের ডাউনটাইম ঠিক করুন, আর শোবার ঘরের বাইরে চার্জ দেওয়ার একটা জায়গা করুন, বড়দের ফোনের জন্যও।
- দিন ৬: বাচ্চার সঙ্গে বসুন, কী কী চালু আছে দেখান, আর ঠিক করুন “বন্ধ করো, আমাকে বলো” নিয়মটা।
- দিন ৭: ফিরে দেখুন: কী ফাঁক গলে এসেছে, কোথায় ঝগড়া হয়েছে, আর কোন সেটিং ঢিলা বা কড়া করা যায়।
যখন শুধু প্যারেন্টাল কন্ট্রোলে কাজ হয় না: কখন সাহায্য নেবেন
স্ক্রিনের বেশির ভাগ সমস্যা বাসায় সেটিং, নিয়ম আর কথা বলেই সামলানো যায়। তবে নিচের কোনোটা দেখলে সাহায্য নিন:
কখন সাহায্য নেবেন
- অনলাইনে কিছু দেখার পর এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাচ্চা ভয় পাচ্ছে, ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, বা বারবার সেটার কথাই ফিরে আসছে: ওর ডাক্তার বা স্কুলের কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।
- কয়েক সপ্তাহ ধরে বারবার বাচ্চা সব কন্ট্রোলের ফাঁক বের করছে, গোপন অ্যাকাউন্ট বা আরেকটা ফোন চালাচ্ছে, বা অ্যাপের জন্য না বলে টাকা নিচ্ছে: ওর ডাক্তার, শিশু-মনোবিদ বা স্কুলের কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।
- অনলাইনে থাকার পর বুলিং, হুমকি, বা বাচ্চার মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- অনলাইনে কেউ বাচ্চার কাছে ছবি বা টাকা চাইছে, বা দেখা করতে বলছে: টাকা বা কিছুই পাঠাবেন না, বাচ্চার ব্যক্তিগত ছবি কখনো কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না, মেসেজগুলো রেখে দিন, আর অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন। স্থানীয় থানায় জানান, আর বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- বাচ্চা নিজেকে আঘাত করার কথা বলছে, বা করেছে: শান্ত থাকুন, কাছে থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
ParentMind-এ প্রতিদিন কী ঘটছে, যেমন স্ক্রিন টাইম, ঘুম আর মেজাজ, তা লিখে রাখতে পারেন, আর এক-দুই সপ্তাহে কোনো ধরন চোখে পড়ছে কি না দেখতে পারেন। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চার ফোনের জন্য কোন প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সবচেয়ে ভালো?
বেশির ভাগ পরিবারের জন্য ফোনের ভেতরে থাকা বিনা খরচের কন্ট্রোলই যথেষ্ট: অ্যান্ড্রয়েডে গুগলের ফ্যামিলি কন্ট্রোল আর আইফোনে স্ক্রিন টাইম। এতে দিনের সময়সীমা, রাতের ডাউনটাইম, অ্যাপে অনুমতি, বয়স অনুযায়ী ফিল্টার আর কেনাকাটায় অনুমতি সবই আছে। সঙ্গে ইউটিউব কিডস বা রেস্ট্রিকটেড মোড আর সেফ সার্চ চালু করুন। টাকা দিয়ে কেনা অ্যাপে আরও সুবিধা থাকে, কিন্তু কোনোটাই বাচ্চার সঙ্গে কথা বলার বিকল্প নয়।
ইউটিউব কিডস কীভাবে চালু করব?
ইউটিউব কিডস অ্যাপটা নামিয়ে অভিভাবক হিসেবে নিজের অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করুন, তারপর বাচ্চার বয়সের গ্রুপ বেছে ওর জন্য একটা প্রোফাইল খুলুন। ছোট বাচ্চার জন্য এমন অপশন বেছে নিন, যেখানে শুধু আপনার অনুমোদিত ভিডিও আর চ্যানেল চলবে, আর সার্চ বন্ধ রাখুন। এরপর টাইমার দিন, অটোপ্লে বন্ধ করুন, আর সেটিংগুলো একটা পাসকোড দিয়ে আটকে দিন।
বাচ্চা কি নিজেই ইউটিউবের রেস্ট্রিকটেড মোড বন্ধ করে দিতে পারে?
প্রায়ই পারে। সাধারণ অ্যাকাউন্টে অ্যাপ যে-ই চালাক, সেটিংসে গিয়ে রেস্ট্রিকটেড মোড বন্ধ করে দিতে পারে, আর প্রতিটা অ্যাপ, ব্রাউজার আর টিভিতে এটা আলাদা করে চালু করতে হয়। ফ্যামিলি কন্ট্রোলের মাধ্যমে সুপারভাইজড অ্যাকাউন্ট খুললে কনটেন্টের স্তর আপনার হাতেই থাকে। যেভাবেই হোক, মাঝে মাঝে দেখে নিন, আর বাচ্চা কী দেখছে তা নিয়ে কথা চালিয়ে যান।
বাচ্চারা কি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ফাঁকি দিতে পারে?
হ্যাঁ, অনেকেই পারে, বিশেষ করে বড় বাচ্চারা: বন্ধুর ফোন, অন্য কারও ওয়াই-ফাই, নতুন ব্রাউজার, বা ফোনের ঘড়ির সময় বদলে দিয়ে। তার মানে কন্ট্রোল অকাজের নয়; বিশেষ করে ছোটদের বেলায় হঠাৎ খারাপ কিছু সামনে চলে আসা এতে কমে। কিন্তু এ কারণেই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো এমন বাচ্চা, যে ফোন কেড়ে নেওয়ার ভয় ছাড়াই সমস্যার কথা আপনাকে বলবে।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল কি ওয়াই-ফাইয়ের মতো মোবাইল ডেটাতেও কাজ করে?
নির্ভর করে কন্ট্রোলটা কোথায় চালু করা হয়েছে, তার ওপর। ফোনের ভেতরের কন্ট্রোল, যেমন গুগলের ফ্যামিলি কন্ট্রোল, স্ক্রিন টাইম আর ইউটিউব কিডস, ওয়াই-ফাই আর মোবাইল ডেটা দুটোতেই কাজ করে। বাসার রাউটারের কন্ট্রোল শুধু আপনার ওয়াই-ফাইয়ে কাজ করে, তাই বাচ্চা মোবাইল ডেটা বা অন্য নেটওয়ার্কে গেলে আর কাজ করে না। আগে ফোনে চালু করুন, তারপর রাউটারে।
কোন বয়সে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল তুলে দেওয়া উচিত?
নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। বাচ্চা নিয়ম মানছে আর সমস্যা হলে আপনার কাছে আসছে দেখে বেশির ভাগ পরিবার কৈশোরের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত ধাপে ধাপে কন্ট্রোল ঢিলা করে। রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরে চার্জ দেওয়ার মতো কয়েকটা নিয়ম অনেক সময় দুজনের সম্মতিতে আরও কিছুদিন থাকে। লক্ষ্য হলো, বাসা ছাড়ার আগেই কিশোর নিজে নিজে সামলাতে শিখুক।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।



