মূল কনটেন্টে যান

শিশুর স্ক্রিন টাইম: বয়স অনুযায়ী কতক্ষণ হওয়া উচিত

ছোট করে উত্তর

বেশিরভাগ শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বয়স অনুযায়ী শিশুর স্ক্রিন টাইম এমন: ১৮ মাসের কম বয়সে পরিবারের সাথে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়; ১৮–২৪ মাসে শুধু ভালো মানের কনটেন্ট, বড় কারও সাথে বসে; ২–৫ বছরে দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা; আর ৬ বছর থেকে ঘুম ও খেলাধুলা ঠিক রেখে নির্দিষ্ট সীমা, ঘুমের আগের ১ ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন নয়, রাতে মোবাইল-ট্যাব শোবার ঘরের বাইরে।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা
মূল কথা
  • ১৮ মাসের কম বয়সে শুধু পরিবারের সাথে ভিডিও কল; ৫ বছর পর্যন্ত ভালো মানের কনটেন্ট বেছে নিন, আর একসাথে বসে দেখুন।
  • ৬ বছর থেকে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই: সীমা এমন হবে, যাতে ঘুম, অন্তত ৬০ মিনিট ছোটাছুটির খেলা, হোমওয়ার্ক আর পরিবারের সময় ঠিক থাকে।
  • ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ করুন, আর মোবাইল-ট্যাব শোবার ঘরের বাইরে চার্জ দিন।
  • স্ক্রিন টাইম কমান ছোট ছোট ধাপে, আগে জানিয়ে দিয়ে আর পরে করার মতো আসল কিছু হাতে রেখে। হঠাৎ পুরো নিষেধ করলে সাধারণত ঝগড়া বাড়ে।

শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ে খোঁজ শুরু হয় সাধারণত এমন একটা দিনের পর, যেদিন মনে হয়েছে পুরো বাসাটাই মোবাইল বা টিভির হাতে। আপনি যতটা চান, বাচ্চা যদি তার চেয়ে বেশি স্ক্রিন দেখে, আপনি একা নন: স্ক্রিন আসে খুব বাস্তব কারণে, যেমন খাওয়াটা শেষ করানো, বা ছোট ফ্ল্যাটে লম্বা একটা সন্ধ্যা পার করা।

নির্দেশনাটা আসলে অনলাইনে যতটা জটিল মনে হয়, ততটা না। সবচেয়ে ছোটদের জন্য পরিষ্কার সীমা আছে; বড়দের বেলায় প্রশ্নটা হয় “স্ক্রিনের কারণে কী বাদ পড়ছে?” নিচে পাবেন বয়স অনুযায়ী টেবিল, কোনটা স্ক্রিন টাইম, ভালো কনটেন্ট কীভাবে বাছবেন, আর ৭ দিনের একটা শান্ত পরিকল্পনা।

বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম কতক্ষণ হওয়া উচিত? বয়স অনুযায়ী হিসাব

বাচ্চার জন্য কতটুকু মোবাইল বা টিভি ঠিক, তা প্রথমত নির্ভর করে বয়সের ওপর। সবচেয়ে ছোটদের ব্যাপারে বেশিরভাগ শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা প্রায় একমত, আর ৫ বছরের পর নির্দেশনা ইচ্ছা করেই কিছুটা নমনীয়। এই সীমাগুলো বিনোদনের স্ক্রিনের জন্য: অনুষ্ঠান, কার্টুন, ইউটিউব, গেম আর শর্ট ভিডিও।

বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম: বেশিরভাগ শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা যা বলে
বয়সনির্দেশনা
১৮ মাসের কমপরিবারের সাথে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়
১৮–২৪ মাসশুধু ভালো মানের কনটেন্ট, বড় কারও সাথে বসে দেখা
২–৫ বছরদিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ভালো মানের কনটেন্ট, সম্ভব হলে একসাথে বসে
৬ বছর ও তার বেশিনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। এমন নিয়মিত সীমা, যাতে ঘুম, অন্তত ৬০ মিনিট ছোটাছুটির খেলা, হোমওয়ার্ক আর পরিবারের সময় ঠিক থাকে। ঘুমের আগের এক ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন নয়, রাতে ডিভাইস শোবার ঘরের বাইরে

৫ বছরের পর কোনো সংখ্যা নেই কেন? একেক বাচ্চার দিন এত আলাদা যে একটা সংখ্যা সবার জন্য খাটে না। ঘুম, ছোটাছুটির খেলা, পড়াশোনা আর পরিবারের সময় আগে, স্ক্রিন তার ফাঁকে। শুরু করুন কোন বয়সে কতটা ঘুম দরকার তা দিয়ে: ৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা, আর কিশোর বয়সে ৮–১০ ঘণ্টা।

কোনটা স্ক্রিন টাইম? হোমওয়ার্ক, ভিডিও কল আর পেছনে চলা টিভি

  • স্কুলের কাজ আর অনলাইন ক্লাস সাধারণত দিনের সীমার বাইরে ধরা হয়। তবে ঘুমের আগের এক ঘণ্টায় এগুলোও নয়, আর মাঝে মাঝে বিরতি দরকার।
  • পরিবারের সাথে ভিডিও কল যেকোনো বয়সেই ঠিক আছে, কারণ কল মানে কথোপকথন, অনুষ্ঠান দেখা নয়।
  • পেছনে চলতে থাকা টিভিও স্ক্রিন টাইম, বিশেষ করে ২ বছরের কম বয়সীদের জন্য। সারা সন্ধ্যা টিভি চললে খেলা আর কথাবার্তা থেকে মনোযোগ সরে যায়।
  • বাবা-মায়ের ফোনে শর্ট ভিডিও আর গেমও স্ক্রিন টাইম, ৫ মিনিট করে হলেও। সারা দিনে সেগুলো যোগ হয়ে অনেক হয়ে যায়।

শিক্ষামূলক কার্টুন কি ভালো? কতক্ষণ দেখছে, তার মতোই জরুরি কী দেখছে

হ্যাঁ, বাচ্চা কতক্ষণ দেখছে তার মতোই জরুরি কী দেখছে। একসাথে বসে দেখা ধীর একটা অনুষ্ঠানের এক ঘণ্টা আর একা একা একটার পর একটা শর্ট ভিডিওর এক ঘণ্টা একেবারে আলাদা জিনিস।

  • ভালো মানের কনটেন্ট বাচ্চার বয়সের উপযোগী, ধীর গতির, গল্প বলে বা কিছু শেখায়, আর তাতে খেলনা বা চিপসের বিজ্ঞাপন থাকে না।
  • যে কনটেন্টের কোনো স্বাভাবিক শেষ নেই, যেমন অটোপ্লে, একটার পর একটা শর্ট ভিডিও বা পুরস্কারের লোভ দেখানো গেম, সেগুলো বানানোই হয় বাচ্চাকে আটকে রাখতে, তাই থামা কঠিন।
  • একসাথে দেখলে অনুষ্ঠানটা কথোপকথন হয়ে ওঠে: “বিড়ালটা কী করছে?” “তুমি হলে কী করতে?”

স্ক্রিন টাইম শেষ হলে বাচ্চা কান্নাকাটি করলে কী করবেন

স্ক্রিন টাইমের সবচেয়ে কঠিন মিনিট হলো শেষ মিনিটটা। এই সময় আপত্তি করা স্বাভাবিক, বিশেষ করে ৬ বছরের কম বয়সে, যখন বাচ্চারা নিজে থেকে সহজে থামতে পারে না। প্রতিদিন একই ভাবে শেষ করলে কাজটা অনেক সহজ হয়।

  1. শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে দিন: ছোটদের বলুন “আর দুই মিনিট”, বড়দের “এই পর্বটা শেষ হলে”।
  2. রান্নাঘর থেকে ডাক না দিয়ে বাচ্চার পাশে গিয়ে বসুন।
  3. কী হচ্ছে, তা অল্প কথায় শান্তভাবে বলুন, তারপর বন্ধ করুন। চাইলে বাচ্চাকেই বোতামটা টিপতে দিন।
  4. তর্ক বা আবার বোঝানো ছাড়াই অনুভূতিটার নাম বলুন: “তুমি আরও দেখতে চাইছিলে। থামতে কষ্ট হয়।”
  5. সাথে সাথে পরের কাজে চলে যান: একটু নাশতা, গোসল, একটা খেলা, বা রান্নায় আপনাকে সাহায্য করা।
  6. কান্না থামাতে স্ক্রিন ফেরত দেবেন না, নইলে কান্নাই হয়ে যেতে পারে স্ক্রিন পাওয়ার উপায়।

যা বলতে পারেন

  • আর দুই মিনিট, তারপর টিভি ঘুমাতে যাবে।
  • তুমি আরও দেখতে চাইছিলে, জানি। থামতে কষ্ট হয়।
  • আজকের মতো স্ক্রিন টাইম শেষ। কাল স্কুল থেকে ফিরে আবার দেখবে।
  • চলো, আমার সাথে রুটি বানাবে। বেলার কাজটা তোমার।

যে নিয়ম টেকে: পরিবারের স্ক্রিন টাইম পরিকল্পনা

স্ক্রিন টাইমের নিয়ম সবচেয়ে ভালো টেকে যখন তা লিখে রাখা হয়, প্রতিদিন একই থাকে, আর বড়রাও মেনে চলেন। ফ্রিজে লাগানো ছোট্ট একটা পারিবারিক স্ক্রিন-চুক্তি অনেক তর্ক বাঁচিয়ে দেয়।

  • শুধু “কম দেখো” না বলে নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন: যেমন হোমওয়ার্কের পরে আর রাতের খাবারের আগে।
  • খাওয়ার সময়, ঘুমের আগের এক ঘণ্টা আর স্কুল থেকে ফেরার পরের প্রথম ঘণ্টা স্ক্রিন-মুক্ত রাখুন।
  • রাতে ডিভাইসের জায়গা হোক বসার ঘরে, বালিশের পাশে কখনো না। বড় বাচ্চাদের সাথে কীভাবে শুরু করবেন, তা আছে ঘুমের সময় ফোন লেখায়।
  • স্ক্রিন থাকুক বসার ঘরের মতো সবার সামনের জায়গায়, যেখানে কী চলছে তা আপনি দেখতে ও শুনতে পান।
  • ছুটির দিন, লম্বা ছুটি আর ভ্রমণের নিয়ম আগেই ঠিক করে রাখুন, যাতে প্রতিবার তর্ক করতে না হয়।

ছোট বাচ্চা, স্কুলপড়ুয়া আর কিশোর: বয়সের সাথে কী বদলায়?

শিশু ও ছোট বাচ্চা (০–২ বছর)

শিশু আর ছোট বাচ্চারা ভাষা শেখে মুখ, কণ্ঠস্বর আর খেলার মধ্য দিয়ে; স্ক্রিন সেই আদান-প্রদান দিতে পারে না। পেছনে টিভি বন্ধ রাখুন, পরিবারের সাথে ভিডিও কল নিশ্চিন্তে করুন, আর চাইলে ১৮ মাস থেকে ছোট, ধীর গতির একটা অনুষ্ঠান একসাথে দেখুন।

প্রাক-স্কুল বয়স (২–৫ বছর)

এই বয়সে স্ক্রিন টাইম সবচেয়ে ভালো চলে দিনে একটা নির্দিষ্ট সময়ে: সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা, সম্ভব হলে একসাথে বসে, খাওয়ার সময় বা ঘুমের ঠিক আগে কখনো না। ৩–৪ বছরের বাচ্চার দিনে অন্তত ১৮০ মিনিট নড়াচড়া আর খেলাধুলা দরকার। ভিডিও ছাড়া বাচ্চা খেতেই না চাইলে পড়ুন মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস কীভাবে ছাড়াবেন।

স্কুলপড়ুয়া (৬–১২ বছর)

৬ বছর থেকে সীমা মানে দিনটা কেমন সাজানো: হোমওয়ার্ক, অন্তত ৬০ মিনিট ছোটাছুটির খেলা, স্ক্রিন ছাড়া রাতের খাবার, আর ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ। ১০ বছরের বাচ্চার স্ক্রিন টাইম কোনো একটা সংখ্যা নয়; বাচ্চা যদি ভালো ঘুমায়, খেলে, পড়াশোনায় তাল রাখে আর মানুষের সাথে মিশতে ভালোবাসে, তাহলে ভারসাম্য সম্ভবত ঠিকই আছে।

কিশোর-কিশোরী (১৩–১৮ বছর)

কিশোর বয়সে নিয়ম বানাতে তাদের মতামত বেশি দরকার, আর বড়দেরও নিজের ফোন নিয়ে সৎ থাকা দরকার। যেগুলো নিয়ে ছাড় নেই, যেমন ঘুম, স্কুল, খাওয়া, সেগুলো একসাথে ঠিক করুন, আর তার ভেতরে তাদের একটু স্বাধীনতা দিন। বড় চিন্তা রাতের ব্যবহার: কিশোরদের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার, আর বিছানায় ফোন থাকলে প্রায়ই ঘুম কম হয়।

বাংলাদেশের বাসায় স্ক্রিন টাইম: ছোট ফ্ল্যাট, দাদা-দাদি আর কোচিং

বাংলাদেশের অনেক বাসায় স্ক্রিন নিয়ে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলো আসে রোজকার জীবন থেকে, নিয়মের অভাব থেকে নয়:

  • ছোট ফ্ল্যাট, বাইরে খেলার জায়গা কম। বিকেলে ছাদ, একসাথে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা, বসার ঘরে নাচ, শুক্রবারে পার্ক বা মাঠ কাজে লাগান।
  • দাদা-দাদি বা গৃহকর্মী কান্না থামাতে ফোন দিয়ে দেন। নরমভাবে পরিকল্পনাটা জানান, আর সহজ একটা বিকল্প দিন: একটা গল্প, একটা ছড়া, এক বাক্স খেলনা।
  • পরিবারে একটাই ফোন। বাচ্চা কোথায় আর কখন ব্যবহার করবে, তা ঠিক করে নিন, আর বয়সের সাথে মানায় না এমন গেম ও অ্যাপ সরিয়ে দিন।
  • স্কুল আর কোচিংয়ের কাজ ফোনে। “পড়ার ফোন-সময়” আর “বিনোদনের ফোন-সময়” আলাদা রাখুন, আর রাতে দুটোই শোবার ঘরের বাইরে।
  • লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা। বিদ্যুৎ আর ওয়াই-ফাই চলে গেলে টর্চের আলোয় গল্প, লুডু, ক্যারম, বা দাদা-দাদির জানা পুরোনো গান হোক।

বাচ্চার স্ক্রিন টাইম কমানোর উপায়: ৭ দিনের সহজ পরিকল্পনা

একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হয় লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: শুধু খেয়াল করুন কখন স্ক্রিন চলে, কতক্ষণ, আর ঠিক আগে কী হচ্ছিল।
  2. দিন ২: একটা পরিবর্তন বেছে নিন, যেমন খাওয়ার সময় স্ক্রিন নয়, বা ঘুমের এক ঘণ্টা আগে বন্ধ।
  3. দিন ৩: শান্ত একটা সময়ে এক-দুই কথায় বাচ্চাকে পরিবর্তনটার কথা বলুন।
  4. দিন ৪: শুরু করুন। আগে জানিয়ে দিন, সময়মতো শেষ করুন, আর পরের কাজটা তৈরি রাখুন।
  5. দিন ৫: একই নিয়ম রাখুন, আর শেষটা কেমন হলো লিখে রাখুন।
  6. দিন ৬: ফাঁকা সময়ে একটা আসল কাজ যোগ করুন: হাঁটা, পাজল, গল্প, বা একসাথে রান্না।
  7. দিন ৭: সপ্তাহটা মিলিয়ে দেখুন। থামানো কি সহজ হয়েছে? ঘুম বা মেজাজে বদল এসেছে? যা কাজে লেগেছে তা রাখুন, তারপর পরের পরিবর্তনটা বেছে নিন।

কখন বুঝবেন স্ক্রিনের ব্যবহার সমস্যা, সাহায্য দরকার?

স্ক্রিন নিয়ে বেশিরভাগ টানাপোড়েন অভ্যাসের ব্যাপার, বাসাতেই সামলানো যায়; বেশি ব্যবহার আর সমস্যার ব্যবহারের পার্থক্য বোঝানো আছে শিশুর মোবাইল আসক্তি লেখায়। বাচ্চার ডাক্তার বা শিশু-মনোবিদের সাথে কথা বলুন, যদি:

কখন সাহায্য নেবেন

  • রাতের পরিষ্কার নিয়ম কয়েক সপ্তাহ মানার পরও বেশিরভাগ রাতে স্ক্রিনের কারণে ঘুম কম হচ্ছে, বা বাচ্চা স্কুলে খুব ক্লান্ত থাকছে।
  • বাচ্চা নিজে চাইলেও থামতে পারছে না, আর নিয়মিত সীমা রাখার পরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।
  • প্রায় প্রতিদিন স্ক্রিন বন্ধ করলে বাচ্চা মারমুখী হয়ে ওঠে বা অনেকক্ষণ রেগে থাকে, অথবা মন খারাপ করে থাকে, দুশ্চিন্তায় থাকে, বা অনলাইনে কী করে তা লুকায়।
  • ছোট বাচ্চা খুব কম শব্দ বলে, নাম ধরে ডাকলে খুব কমই সাড়া দেয়, বা কিছু দেখাতে আপনার দিকে খুব কমই তাকায়। স্ক্রিন টাইম যা-ই হোক, বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না ডাক্তারকে দিয়ে দেখিয়ে নিন।
  • বাচ্চা নিজেকে আঘাত করেছে বা করবে বলছে: শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • অনলাইনে পরিচয় হওয়া কেউ বাচ্চাকে হুমকি দিচ্ছে বা দেখা করার ব্যবস্থা করছে: বাচ্চাকে কাছে রাখুন, মেসেজগুলো মুছবেন না, কিছুই পাঠাবেন না, আর অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন। সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান, আর বাচ্চা দেখা করতে চলে গেলে, তাকে খুঁজে না পেলে বা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী ঘটছে, স্ক্রিন টাইম থেকে ঘুম আর মেজাজ পর্যন্ত, তা লিখে রাখতে আর এক সপ্তাহে কোনো ধরন চোখে পড়ছে কি না দেখতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

১০ বছরের বাচ্চার স্ক্রিন টাইম কতক্ষণ হওয়া উচিত?

কোনো একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। ৬ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য বেশিরভাগ শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা এমন নিয়মিত সীমা রাখতে বলে, যাতে ঘুম (এই বয়সে ৯–১২ ঘণ্টা), অন্তত ৬০ মিনিট ছোটাছুটির খেলা, হোমওয়ার্ক আর পরিবারের সময় ঠিক থাকে, আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন না থাকে। এগুলো আগে রাখলে বাকি সময়টুকু সাধারণত ঠিকঠাকই থাকে।

হোমওয়ার্ক বা অনলাইন ক্লাস কি স্ক্রিন টাইমের মধ্যে পড়ে?

দিনের সীমার মধ্যে সাধারণত পড়ে না, কারণ সেটা বিনোদন নিয়ে। তবে অনলাইন ক্লাসসহ পড়ার স্ক্রিনও ঘুমের আগের এক ঘণ্টায় চলা উচিত নয়, আর মাঝে মাঝে উঠে নড়াচড়া ও চোখের বিশ্রাম দরকার। পড়ার অ্যাপ আর বিনোদনের অ্যাপ আলাদা রাখতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন, যাতে “হোমওয়ার্ক করছি” বলে এক ঘণ্টা ভিডিও দেখা না হয়ে যায়।

২ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের কার্টুন দেখা কি ঠিক?

১৮ মাসের কম বয়সে বেশিরভাগ নির্দেশনা বলে পরিবারের সাথে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়। ১৮ থেকে ২৪ মাসে চাইলে বড় কারও সাথে বসে ছোট, ভালো মানের একটা অনুষ্ঠান দেখা যায়। পেছনে কার্টুন চললে শিশুর শেখায় কোনো লাভ হয় না; কথা বলা, গান গাওয়া আর একসাথে ছবির বই দেখা অনেক বেশি কাজে দেয়।

দাদা-দাদি বা নানা-নানির সাথে ভিডিও কল কি স্ক্রিন টাইম?

সাধারণ অর্থে না। ভিডিও কলকে সব বয়সেই আলাদাভাবে দেখা হয়, এমনকি ছোট শিশুর বেলাতেও, কারণ কল আসলে সত্যিকারের কথোপকথন: চেনা মুখ, নিজের নাম, উত্তর। ছোটদের জন্য কল ছোট রাখুন, কোলে নিয়ে বসুন, আর হাত নাড়তে, খেলনা দেখাতে বা ছড়া বলতে সাহায্য করুন।

ঘুমের কতক্ষণ আগে মোবাইল-টিভি বন্ধ করা উচিত?

৬ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে, আর এই অভ্যাস ছোটদের জন্যও উপকারী। ঘুমের আগে মোবাইল বা টিভি দেখলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকতে পারে, ফলে ঘুম প্রায়ই দেরিতে আসে। এই ঘণ্টাটা কাজে লাগান গোসল, গল্প বা শান্ত কথায়, আর ডিভাইস চার্জ দিন শোবার ঘরের বাইরে।

স্ক্রিন বন্ধ করলেই বাচ্চা কাঁদে, তাহলে স্ক্রিন টাইম কমাব কীভাবে?

ধাপে ধাপে কমান, শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে দিন, আর পরে করার মতো আসল কিছু তৈরি রাখুন। কান্নার সময় পাশে থাকুন, শান্ত থাকুন, কিন্তু কান্না থামাতে স্ক্রিন ফেরত দেবেন না। অনেক পরিবার দেখেছে, নিয়ম প্রতিদিন একই থাকলে এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আপত্তি কমে আসে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।