মূল কনটেন্টে যান

শিশুর মোবাইল আসক্তি: কীভাবে বুঝবেন, কীভাবে কমাবেন

ছোট করে উত্তর

২–১২ বছর বয়সী শিশুর মোবাইল আসক্তি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগ নয়, বরং শক্ত একটা অভ্যাস: একঘেয়েমি, মন খারাপ বা অপেক্ষার সময় মোবাইলই হয়ে গেছে একমাত্র উত্তর। ধীরে ধীরে কমান: নির্দিষ্ট স্ক্রিন টাইম, শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে দেওয়া, আর হাতের কাছে আসল কোনো কাজ। কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘুম, খাওয়া, পড়াশোনা বা বন্ধুত্বের ক্ষতি হলে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
২–১২ বছর বয়সী যে বাচ্চারা মোবাইল ছাড়তে চায় না, তাদের বাবা-মা
মূল কথা
  • বাচ্চারা বেশি মোবাইল দেখলে সেটা বেশিরভাগ সময় এমন অভ্যাস, যা বদলানো যায়; সমস্যা হয় তখন, যখন এটা ঘুম, খাওয়া, খেলা, পড়াশোনা বা বন্ধুদের জায়গা দখল করে।
  • ফোন নেওয়ার সময় আগে জানিয়ে দিন, শান্ত থাকুন, অনুভূতিটার নাম বলুন, আর কান্না থামাতে ফোন ফেরত দেবেন না।
  • শুধু কেড়ে নেবেন না, বদলে কিছু দিন: স্ক্রিন-মুক্ত প্রতিটি ফাঁকা সময়ে করার মতো আসল কিছু চাই।
  • দাদা-দাদি, গৃহকর্মী আর বাবা-মা, সবাইকে একই পরিকল্পনা মানতে হবে; নইলে অভ্যাস প্রায়ই ফিরে আসে।

শিশুর মোবাইল আসক্তি নিয়ে অনেক বাবা-মা খোঁজ করেন গভীর রাতে, ফোন নিয়ে সারা দিন কান্নাকাটির পর। হয়তো আপনার বাচ্চা মোবাইল ছাড়া থাকে না: ফোন না পাওয়া পর্যন্ত কাঁদে, ভিডিও ছাড়া খেতে বা ঘুমাতে চায় না, বা ফোন নিয়ে নিলে যেন অন্য মানুষ হয়ে যায়। আপনি খারাপ বাবা-মা নন, আর আপনার বাচ্চাও নষ্ট হয়ে যায়নি।

অনেক বাসায় ফোনটা প্রথম এসেছিল সাহায্য হিসেবে: ডাক্তারের চেম্বারে অপেক্ষার সময় ছোট বাচ্চাকে শান্ত রাখতে, বা রান্নার সময় ব্যস্ত রাখতে। খুব ভালো কাজ করে বলেই এর ব্যবহার বাড়ে, আর অভ্যাস তৈরি হয়। অভ্যাস বদলানো যায়, ধাপে ধাপে। নিচে পাবেন: অভ্যাস আর আসল সমস্যার পার্থক্য, কঠিন মুহূর্তে কী করবেন, মোবাইলের বদলে কী দেবেন, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।

এটা কি সত্যিই আসক্তি? বেশি ব্যবহার আর সমস্যার ব্যবহার

বাচ্চাদের বেলায় “আসক্তি” শব্দটা অনেক ঢিলেঢালাভাবে ব্যবহার হয়। যে বাচ্চারা বেশি মোবাইল দেখে, তাদের বেশিরভাগের অভ্যাসটা শক্ত, কিন্তু বদলানো যায়। সমস্যার ব্যবহার আলাদা: তখন মোবাইল বাচ্চার দরকারি জিনিসগুলোর জায়গা দখল করে, আর বাচ্চা নিজে চাইলেও সরে আসতে পারে না।

বেশি ব্যবহার, নাকি সমস্যা?
বেশি ব্যবহার: বদলানোর মতো অভ্যাসসমস্যার ব্যবহার: সাহায্য নেওয়া দরকার
প্রায়ই ফোন চায়, বন্ধ করলে আপত্তি করে, তারপর কয়েক মিনিটে শান্ত হয়প্রায় প্রতিদিন ফোন বন্ধ করলে ভীষণ অস্থির হয়, অনেকক্ষণ চলে, বা মারধর-ভাঙচুরে গড়ায়
সুযোগ পেলে সারা দিন দেখত, তবু খেলা, খাবার আর মানুষের সাথে সময় ভালোবাসেখেলা, খাবার, বন্ধু বা পরিবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে
ঘুম, পড়াশোনা আর খাওয়া মোটামুটি স্বাভাবিক চলছেসপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুম, পড়াশোনা বা খাওয়ার ক্ষতি হচ্ছে
কয়েক দিন আপত্তির পর নতুন নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে যায়নিজে চাইলেও নিয়ম মানতে পারে না, আর অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে

বেশিরভাগই প্রথম কলামে? নিচের পরিকল্পনাটা আপনার জন্যই। দ্বিতীয় কলামের কয়েকটা মিলে গেলে? তবুও পরিকল্পনাটা শুরু করুন, আর এই লেখার শেষের লক্ষণগুলো পড়ে নিন।

বাচ্চারা কেন মোবাইল আর ইউটিউবে এত আটকে যায়?

  • ফোন সাথে সাথে কাজ করে। কাঁদতে থাকা ছোট বাচ্চা মুহূর্তে চুপ হয়ে যায়, তাই বড়রা বারবার ফোনটাই দেন, আর বাচ্চা শিখে যেতে পারে: কাঁদলেই ফোন মেলে।
  • শর্ট ভিডিও আর অটোপ্লের কোনো শেষ নেই। প্রতিটা ভিডিও ছোট, পরেরটা নিজে থেকেই শুরু হয়ে যায়, তাই থামার কোনো স্বাভাবিক জায়গা আসে না।
  • বড় বাচ্চাদের গেমগুলো বানানোই হয় তাদের বারবার টেনে আনতে: লেভেল, পুরস্কার, প্রতিদিনের উপহার।
  • ছোটরা এখনো থামতে শিখছে। নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, তাই বিশেষ করে ৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য থামানোর কাজটা বড়দেরই করতে হয়।
  • একঘেয়েমি, ক্লান্তি আর মন খারাপ। বিশেষ করে ছোট ফ্ল্যাটে, যেখানে দৌড়ানোর জায়গা কম, ফোনই হয়ে ওঠে সবচেয়ে সহজ সান্ত্বনা।
  • বাচ্চারা আমাদের দেখেই শেখে। বড়রা সারাক্ষণ ফোনে থাকলে, হাতে ফোন থাকাটাই তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়।

ফোন নিয়ে নিলে বাচ্চা কান্নাকাটি করলে কী করবেন

ফোন নিয়ে নিলে যে কান্নাকাটি শুরু হয়, সেটাই প্রায়ই সবচেয়ে কঠিন অংশ, আর মজার কিছু হারালে এমন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। পরের কয়েক মিনিট আপনি কীভাবে সামলান, তার ছাপ কালকের দিনেও পড়তে পারে। অন্য সময়েও বড় ধরনের জেদ-কান্না হলে ছোট বাচ্চার জেদ ও কান্নাকাটি লেখাটা দেখুন।

  1. শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে দিন, বাচ্চা যেভাবে বোঝে: “আর দুইটা ভিডিও” বা “এই পর্বটা শেষ হলে”।
  2. শান্তভাবে নিজেই শেষ করুন। ফোনটা নিয়ে নিন বা বন্ধ করুন; চলতে থাকা অবস্থায় দর-কষাকষি করবেন না।
  3. অল্প কথায় অনুভূতিটার নাম বলুন: “তোমার রাগ লাগছে। আরও দেখতে চাইছিলে।”
  4. কাছে থাকুন, গলা নিচু রাখুন; অনুভূতিটা ঠিক করে দিতে হবে না।
  5. নিয়মে অটল থাকুন। কান্না থামাতে ফোন ফেরত দেবেন না, আবার তার ওপর হুমকি বা শাস্তিও যোগ করবেন না।
  6. বাচ্চা মারতে গেলে বা কিছু ছুড়লে, আলতো করে তাকে বা জিনিসটা সরিয়ে দিন।
  7. ঝড় থামলে একটু পানি দিন, জড়িয়ে ধরুন, নাশতা দিন, বা কোনো কাজে হাত লাগাতে দিন।

যা বলতে পারেন

  • তোমার রাগ লাগছে। আরও দেখতে চাইছিলে। আমি বুঝতে পারছি।
  • ফোনটা এখন বিশ্রাম নেবে। কাল স্কুল থেকে ফিরে আবার পাবে।
  • কাঁদতে চাইলে কাঁদো, আমি পাশেই আছি। কিন্তু আজকের মতো ফোন শেষ।
  • মারতে দেব না। শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তোমার হাত ধরে রাখছি।

প্রতিদিনের ঝগড়া ছাড়া মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়

বাচ্চার মোবাইল আসক্তি দূর করার উপায় খুঁজলে প্রথম কথা: ধাপে ধাপে কমালে সবচেয়ে ভালো কাজ হয়, যখন নিয়ম প্রতিদিন একই থাকে আর বাসার সবাই তা মানে। হঠাৎ পুরো নিষেধ প্রায়ই আরও বড় কান্নাকাটি আর লুকিয়ে দেখার দিকে নিয়ে যায়।

  • স্ক্রিনের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন, যেমন দুপুরের ঘুমের পরে বা হোমওয়ার্কের পরে; “আমি যখন ব্যস্ত” বা “তুমি যখন কাঁদো” তখন নয়।
  • কিছু সময় সবসময় স্ক্রিন-মুক্ত রাখুন: খাওয়ার সময়, গাড়ি বা রিকশায় যাওয়ার সময়, আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা। খাওয়ার সময়টাই সবচেয়ে কঠিন হলে পড়ুন মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস কীভাবে ছাড়াবেন।
  • স্ক্রিন টাইমের বাইরে মোবাইল-ট্যাব চোখের আড়ালে রাখুন। বিছানায় পড়ে থাকা ফোন দেখলেই চাইতে ইচ্ছা করে।
  • ছোটদের জন্য শর্ট ভিডিওর বদলে একটা অনুষ্ঠান বেছে নিন, আর অটোপ্লে বন্ধ রাখুন।
  • মোবাইলকে প্রধান পুরস্কার বা শাস্তি বানাবেন না। যে স্ক্রিন প্রতিদিন পুরস্কারে মেলে আর শাস্তিতে হারায়, তার চেয়ে নির্দিষ্ট স্ক্রিন টাইমে ঝগড়া কম হয়।
  • খাওয়া আর খেলার সময় নিজের ফোনও সরিয়ে রাখুন, আর বড় বাচ্চাদের সাথে মিলে নিয়মগুলো লিখে ফেলুন, যেমনটা আছে পারিবারিক স্ক্রিন-চুক্তি লেখায়।

মোবাইলের বদলে বাচ্চা কী করবে? বয়স অনুযায়ী কিছু ধারণা

মোবাইলের বদলে করার মতো আসল কাজ
বয়সস্ক্রিন ছাড়া যা করা যায়
২–৪ বছরঅল্প পানির গামলায় খেলা, আপনি একদম পাশে থেকে (বালতিতে কখনো নয়), হাঁড়ি-চামচ, ব্লক, আটার খামির, স্টিকার, ছবির বই, ছড়া, সবজি ধুতে সাহায্য করা।
৫–৮ বছরছবি আঁকা, লুডু আর ক্যারম, পুরোনো বাক্স দিয়ে কিছু বানানো, চারপাশে উঁচু, নিরাপদ দেয়াল থাকলে ছাদে দৌড় বা সাইকেল, কাপড় ভাঁজ করা, টেবিল সাজানো, ঘুমের আগে গল্প।
৯–১২ বছরছাদে ফুটবল বা ব্যাডমিন্টন, সহজ একটা রান্না, একটা বইয়ের সিরিজ, হাতের কাজ, দাবা, বাজারের লিস্ট লেখা, নিজের কমিক আঁকা।

বাচ্চাকে প্রতি মিনিটে বিনোদন দিতে হবে না; একটু একঘেয়েমি থেকেই অনেক সময় খেলা শুরু হয়। “নিজে কিছু একটা খুঁজে নাও, আমি রান্নাঘরে আছি” বলাই যথেষ্ট। কোন বয়সে কতটুকু চলবে, তা দেখে নিন বয়স অনুযায়ী শিশুর স্ক্রিন টাইম লেখায়।

দাদা-দাদি, গৃহকর্মী আর ছোট ফ্ল্যাট: বাংলাদেশের বাসায় মোবাইল

বাংলাদেশের অনেক বাসায় মোবাইল দেওয়া-না-দেওয়া একা বাবা বা মায়ের সিদ্ধান্ত নয়। দাদা-দাদি, খালা-ফুপু, গৃহকর্মী, বড় কাজিন, সবাই বাচ্চাকে দেখেন, আর একটু শান্তির জন্য যে কেউ ফোনটা হাতে দিয়ে দিতে পারেন।

  • দাদা-দাদি প্রায়ই ফোন দেন ভালোবাসা থেকে, কান্না সহ্য করতে পারেন না বলে। আলাদা করে, সম্মান রেখে তাঁদের সাথে কথা বলুন, আর সহজ একটা দায়িত্ব দিন: গল্প বলা, পুরোনো ছড়া শোনানো, দোকান পর্যন্ত হেঁটে আসা। বড়দের মধ্যে একমত হওয়ার উপায় আছে দুজন বাবা-মা, একটাই পরিকল্পনা লেখায়।
  • গৃহকর্মী কাজ করতে করতে বাচ্চাকে শান্ত রাখতে ফোন দিতে পারেন। কখন ফোন চলবে তার ছোট একটা তালিকা দিন, আর বাকি সময়ের জন্য এক বাক্স খেলনা; রান্না করতে করতে ছোট বাচ্চা সামলানো যে কারও জন্যই কঠিন।
  • ছোট ফ্ল্যাট আর বাইরে খেলার জায়গা কম হলে স্ক্রিনের টান বাড়ে। তবু দিনের মধ্যে নড়াচড়া রাখুন: বিকেলে ছাদ, একসাথে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা, গানের সাথে নাচ, শুক্রবারে পার্ক।
  • আত্মীয়ের বাসায় বেড়ানো আর দাওয়াত, ফোন চাওয়ার চেনা মুহূর্ত। ছোট একটা ব্যাগে রং-পেনসিল, একটা খাতা আর ছোট খেলনা নিয়ে যান, আর কখন ফোন বের হবে তা আগেই ঠিক করে নিন।
  • বাবা-মা দুজনই চাকরি করলে স্ক্রিন-যুদ্ধটা হয় ক্লান্ত সন্ধ্যায়। নিয়মগুলো ঠিক করুন ছুটির দিনের শান্ত সময়ে, রাত ৯টায় নয়।

মোবাইল আসক্তি কমাতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: কিছু বদলাবেন না। বাচ্চা কখন ফোন নেয়, কতক্ষণ, আর ঠিক আগে কী ঘটেছিল, লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে এমন একটা পরিবর্তন বেছে নিন, যেমন খাওয়ার সময় বা ঘুমের আগের এক ঘণ্টায় ফোন নয়।
  3. দিন ৩: বাচ্চাকে যাঁরা দেখেন, সবাইকে জানান, আর বদলে করার কাজগুলো তৈরি রাখুন।
  4. দিন ৪: শুরু করুন। শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে দিন, নরমভাবে নিয়মে অটল থাকুন, আর আপত্তির জন্য তৈরি থাকুন।
  5. দিন ৫: চালিয়ে যান, আর আপত্তি কতক্ষণ চলল, লিখে রাখুন।
  6. দিন ৬: বাইরে বা ছাদে একটু ছোটাছুটির সময় যোগ করুন, অল্প হলেও।
  7. দিন ৭: ফিরে দেখুন। আপত্তি কি কম সময় চলছে? ঘুম বা মেজাজে কোনো বদল? যা কাজে লেগেছে তা রাখুন, আর পরের পরিবর্তনটা বেছে নিন।

শিশুর মোবাইল আসক্তিতে কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য দরকার?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইলের অভ্যাস বাসাতেই কমানো যায়। নিচের কোনোটি দেখলে, বিশেষ করে নিয়মিত সীমা রাখার পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চললে, বাচ্চার ডাক্তার, শিশু-মনোবিদ বা স্কুলের কাউন্সেলরের সাথে কথা বলুন:

কখন সাহায্য নেবেন

  • বেশিরভাগ রাতে ফোন বা গেমের কারণে বাচ্চা দেরিতে ঘুমায়, বা বেশিরভাগ সকালে এত ক্লান্ত থাকে যে স্কুলে যেতে কষ্ট হয়।
  • বন্ধু, খেলা, খাবার বা পরিবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, অথবা বেশিরভাগ দিন মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা খুব খিটখিটে মেজাজে থাকে।
  • প্রায় প্রতিদিন ফোন বন্ধ করলে এমন রাগ হয় যে মানুষকে বা নিজেকে আঘাত করে, জিনিস ভাঙে, অথবা রাগ অনেকক্ষণ ধরে চলে।
  • ফোন চালিয়ে যেতে মিথ্যা বলে, না বলে টাকা নেয় বা রাতে লুকিয়ে ডিভাইস নেয়, অথবা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে বা স্কুলে যেতে চায় না।
  • ছোট বাচ্চা খুব কম শব্দ বলে, নাম ধরে ডাকলে খুব কমই সাড়া দেয়, বা কিছু দেখাতে আপনার দিকে খুব কমই তাকায়। স্ক্রিন টাইম যা-ই হোক, বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না ডাক্তারকে দিয়ে দেখিয়ে নিন।
  • বাচ্চা নিজেকে আঘাত করেছে বা করবে বলছে: শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • অনলাইনে পরিচয় হওয়া কেউ বাচ্চাকে হুমকি দিচ্ছে বা দেখা করার ব্যবস্থা করছে: বাচ্চাকে কাছে রাখুন, মেসেজগুলো মুছবেন না, কিছুই পাঠাবেন না, আর অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন। সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান, আর বাচ্চা দেখা করতে চলে গেলে, তাকে খুঁজে না পেলে বা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী ঘটছে, যেমন ফোনের সময়, মেজাজ, ঘুম, তা লিখে রাখতে আর এক সপ্তাহ পরে ধরনটা দেখতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

শিশুর মোবাইল আসক্তির লক্ষণ কী কী?

মূল লক্ষণগুলো হলো স্ক্রিন কী সরিয়ে দিচ্ছে তা নিয়ে, কত মিনিট তা নয়: ঘুম, খাওয়া, পড়াশোনা বা বন্ধুত্বের ক্ষতি; বন্ধ করলে ভীষণ বা মারমুখী অস্থিরতা; খেলা আর মানুষের প্রতি আগ্রহ হারানো; আর নিজে চাইলেও নিয়ম মানতে না পারা। এর কয়েকটা একসাথে কয়েক সপ্তাহ ধরে চললে সাহায্য নিন।

বাচ্চার ইউটিউব আসক্তি হয়ে গেছে, কী করব?

শুধু কতক্ষণ নয়, কীভাবে ইউটিউব দেখছে সেটা বদলান। ছোটদের জন্য একসাথে একটা অনুষ্ঠান বেছে নিন, অটোপ্লে বন্ধ করুন, আর চোখের কাছে মোবাইল না দিয়ে বসার ঘরের টিভিতে দেখান। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় রাখুন, শেষের আগে জানিয়ে দিন। শর্ট ভিডিও থেকে থামা সবচেয়ে কঠিন, তাই ছোটদের না দেওয়াই ভালো।

ফোন কি একেবারে বন্ধ করে দেব?

১৮ মাসের কম বয়সী হলে হ্যাঁ, পরিবারের সাথে ভিডিও কল ছাড়া। বড়দের বেলায় হঠাৎ পুরো নিষেধ প্রায়ই আরও বড় ঝগড়া আর লুকিয়ে ব্যবহারের দিকে নিয়ে যায়; নির্দিষ্ট সময়, স্ক্রিন ছাড়া খাওয়া ও ঘুম, আর আসল বিকল্প সাধারণত বেশি কাজে দেয়। ব্যবহার সত্যিই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালে লম্বা বিরতির পরিকল্পনা করুন বিশেষজ্ঞের সাথে।

বেশি মোবাইল দেখলে কি বাচ্চার কথা বলতে দেরি হয়?

এর ভূমিকা থাকতে পারে। প্রথম কয়েক বছরে বেশি স্ক্রিন মানে প্রায়ই কথা বলা আর উত্তর দেওয়ার সুযোগ কমে যাওয়া, অথচ বাচ্চারা কথা বলা শেখে এভাবেই। তবে শুধু মোবাইল দিয়ে দেরিতে কথা বলার পুরো ব্যাখ্যা হয় না। ছোট বাচ্চা খুব কম শব্দ বললে, নাম ধরে ডাকলে খুব কমই সাড়া দিলে, বা আঙুল তুলে কিছু না দেখালে বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না ডাক্তারকে দিয়ে দেখিয়ে নিন, আর এর মধ্যে স্ক্রিন কমান।

মোবাইলের অভ্যাস ছাড়াতে কত দিন লাগে?

অনেক পরিবার দেখেছে, প্রথম ৩ থেকে ৫ দিন সবচেয়ে কঠিন। নিয়ম প্রতিদিন একই থাকলে পরের এক-দুই সপ্তাহে আপত্তি সাধারণত কমে আসে। একবারে একটা জিনিস বদলালে আর লিখে রাখলে, যেসব দিনে মনে হয় কিছুই এগোচ্ছে না, সেদিনও অগ্রগতিটা চোখে পড়ে।

বাচ্চা শুধু মোবাইল গেম খেলতে চায়, কীভাবে সামলাব?

গেম বানানোই হয় যাতে ছাড়া কঠিন হয়, তাই খেলা শুরুর আগেই শেষটা ঠিক করুন, কয় রাউন্ড বা কতক্ষণ, আর শেষের আগে জানিয়ে দিন। গেম খেলা হোক বসার ঘরের মতো সবার সামনের জায়গায়; শোবার ঘরে বা ঘুমের আগের এক ঘণ্টায় কখনো নয়। বাচ্চা কোন গেম খেলে, কার সাথে খেলে, জিজ্ঞেস করুন আর আগ্রহ দেখান।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।