শিশুর জেদ কমানোর উপায়: ছোট বাচ্চা জেদ আর কান্নাকাটি করলে কী করবেন
ছোট করে উত্তর
১ থেকে ৪ বছর বয়সে বাচ্চার জেদ আর কান্নাকাটি খুব স্বাভাবিক, কারণ এই বয়সে অনুভূতি আসে মুখের কথার চেয়ে দ্রুত। জেদের মুহূর্তে শিশুর জেদ কমানোর উপায় হলো: বাচ্চাকে নিরাপদ রাখুন, নিজে শান্ত থেকে পাশে থাকুন, অনুভূতিটার নাম বলুন, আর যে জিনিসের জন্য জেদ, সেটা দিয়ে দেবেন না। বেশির ভাগ জেদ কয়েক মিনিটেই থেমে যায়। ৫ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন জেদ হলে, বা কেউ আঘাত পেলে পরামর্শ নিন।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ১–৫ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা: বাসায়, দোকানে বা আত্মীয়ের বাসায়
- মূল কথা
- জেদ একটা স্বাভাবিক পর্যায়। ছোট বাচ্চার মস্তিষ্ক এখনো বড় অনুভূতি সামলাতে শিখছে, আর ক্লান্তি বা খিদে থাকলে জেদ অনেক বেশি হয়।
- জেদের মুহূর্তে আপনার কথার চেয়ে আপনার শান্ত থাকাটা বেশি কাজে দেয়: পাশে থাকুন, কম কথা বলুন, সবাইকে নিরাপদ রাখুন, আর যে জিনিসের জন্য জেদ, সেটা দিয়ে দেবেন না।
- জেদ সাধারণত কমে আগে থেকে সামলালে: নিয়মিত ঘুম আর খাওয়া, কিছু বদলানোর আগে একটু জানিয়ে রাখা, আর সারাদিনে ছোট ছোট বিষয়ে বেছে নেওয়ার সুযোগ।
- ৫ বছরের পরও ঘন ঘন জেদ হলে, প্রায়ই ২৫ মিনিটের বেশি চললে, বা বাচ্চা নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
ছোট বাচ্চার জেদ একটা সাধারণ সন্ধ্যাকে মুহূর্তে এলোমেলো করে দিতে পারে: এই ভালো, পরের মুহূর্তে বাচ্চা মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে চিৎকার করছে, কারণ বিস্কুটটা দুই টুকরো হয়ে গেছে। আপনার বাসায় এমন হলে জেনে রাখুন, আপনি কোনো ভুল করছেন না। ১ থেকে ৪ বছর বয়সে জেদ আর কান্নাকাটি খুবই সাধারণ, আর শিশুর জেদ কমানোর উপায়ও আছে।
জেদ মানেই বাচ্চা বিগড়ে গেছে, বা আপনি ঠিকমতো মানুষ করতে পারছেন না — এমন নয়। এটা ছোট একটা বাচ্চার সব কিছু একসাথে সামলাতে না পারা, সাধারণত ক্লান্তি, খিদে, একটা ‘না’ বা হঠাৎ কোনো বদলের কারণে। বাচ্চা কান্নাকাটি করে গড়াগড়ি দিলে কী করবেন, কী বলবেন, পরের জেদ কীভাবে আগেই ঠেকাবেন, ২ থেকে ৫ বছরে জেদ কীভাবে বদলায়, আর কখন সাহায্য নেবেন — সব নিচে আছে।
ছোট বাচ্চারা কেন এত জেদ করে?
ছোট বাচ্চার রাগ আর জেদের ঝড় (ট্যানট্রাম) হয়, কারণ তার অনুভূতিগুলো বড়, কিন্তু সেগুলো সামলানোর ক্ষমতা এখনো ছোট। অপেক্ষা করা, শান্ত হওয়া আর মনের কথা মুখে বলার কাজ মস্তিষ্কের যে অংশ করে, সেটা সবার শেষে পরিণত হয়।
- ক্লান্তি: দুপুরে না ঘুমানো, রাতে দেরিতে ঘুমানো, ডে-কেয়ারে লম্বা একটা দিন।
- খিদে: দেরিতে রাতের খাবার, বা শেষ নাশতার পর অনেকক্ষণ কিছু না খাওয়া।
- মুখে বলতে না পারা: কী চায় জানে, কিন্তু বলতে পারে না।
- নিজে করতে চাওয়া: নিজে পানি ঢালবে, নিজে লিফটের বোতাম চাপবে।
- হঠাৎ বদল: পার্ক থেকে চলে আসা, কার্টুন বন্ধ করে দেওয়া।
- একসাথে অনেক কিছু: হইচই, ভিড়, বাসায় মেহমান, ভিড়ের দোকান।
বাচ্চা জেদ বা কান্নাকাটি করলে কী করবেন: ধাপে ধাপে
লক্ষ্য দ্রুত জেদ থামানো নয়; লক্ষ্য হলো নিরাপদে পার করা, আর বাচ্চাকে এটা না শেখানো যে চিৎকার করলেই সব পাওয়া যায়।
- আগে নিরাপত্তা দেখুন। বাচ্চাকে সিঁড়ি, রাস্তা বা শক্ত কোনা থেকে সরিয়ে নিন, আর ভাঙতে পারে এমন জিনিস ওর কাছ থেকে সরিয়ে রাখুন।
- নিজের শরীরটা শান্ত করুন: একবার ধীরে শ্বাস নিন, কাঁধ আলগা করুন, গলা নামান। পাশের বড় মানুষটি শান্ত থাকলে বাচ্চাও সহজে শান্ত হয়।
- ওর সমান উচ্চতায় বসে পাশে থাকুন। এখনই ছুঁতে না দিলে জোর করবেন না।
- অল্প কথায় অনুভূতিটার নাম বলুন, তারপর চুপ করুন। জেদের মাঝখানে যুক্তি বা উপদেশ মাথায় ঢোকে না।
- সীমাটা নরমভাবে ধরে রাখুন। ‘না’ বলার কারণে জেদ হলে উত্তর ‘না’-ই থাকবে; দিয়ে দিলে বাচ্চা শেখে, আরও জোরে জেদ করলেই পাওয়া যায়।
- মারা বা কামড়ানো নরম কিন্তু দৃঢ়ভাবে থামান: হাত দুটো ধরে ফেলুন বা ওকে একটু সরিয়ে নিন, আর বলুন, ‘মারতে দেব না।’
- জেদ থামলে আবার কাছে টেনে নিন: জড়িয়ে ধরুন, একটু পানি দিন, নতুন করে শুরু করুন। কী হয়েছিল, সে কথা পরে ছোট করে বলুন।
যা বলতে পারেন
- তুমি ওটা খুব চাইছিলে। খুব রাগ হচ্ছে, তাই না?
- আমি এখানেই আছি। তোমার পাশে বসে আছি।
- রাগ হতেই পারে। কিন্তু মারতে দেব না।
- উত্তর এখনো ‘না’। কিন্তু আমি তোমার সঙ্গেই আছি।
- একটু শান্ত হলে চলো মুখ ধুয়ে একটু পানি খাই।
- অনেক বড় রাগ হয়েছিল, আর তুমি নিজেই সামলে নিয়েছ। এসো, কাছে এসো।
জেদ করলে কি পাত্তা না দেওয়াই ভালো?
জেদের ধরন বুঝে। বাচ্চা নিরাপদ থাকলে আর কিছু পাওয়ার জন্য জেদ করলে খুব কম মনোযোগ দেওয়াই প্রায়ই কাজে দেয়: কাছে আর শান্ত থাকুন, তর্ক বা দর-কষাকষি করবেন না। কিন্তু বাচ্চা ভয় পেলে, খুব ক্লান্ত বা অসুস্থ থাকলে, বা নিজেকে একেবারেই সামলাতে না পারলে ওর দরকার আদর, দূরত্ব নয়।
জেদ শুরুর আগেই ঠেকানো: জেদি বাচ্চা সামলানোর উপায়
জেদ সামলানোর বেশির ভাগ কাজ আসলে জেদ শুরুর আগেই। অনেক পরিবার দেখেছে, জেদের মুহূর্তে কী বলছেন তার চেয়ে কয়েকটা নিয়মিত অভ্যাস বেশি কাজে দেয়।
- ঘুম ঠিক রাখুন। ১–২ বছরের বাচ্চার ২৪ ঘণ্টায় মোটামুটি ১১–১৪ ঘণ্টা, আর ৩–৫ বছরের বাচ্চার ১০–১৩ ঘণ্টা ঘুম দরকার, দুপুরের ঘুমসহ। বিস্তারিত দেখুন কোন বয়সে কতটা ঘুম দরকার।
- বের হওয়ার আগে খাইয়ে নিন। দোকানে বা সন্ধ্যায় কারও বাসায় যাওয়ার আগে একটু নাশতা দিলে খিদের জেদ এড়ানো যায়।
- বদলের আগে জানিয়ে দিন: ‘আর দুইবার স্লাইড, তারপর বাসায়।’
- দুটো ছোট পছন্দ দিন: ‘লাল কাপ নেবে, না নীল কাপ?’ পরিকল্পনা না বদলেও এতে বাচ্চা মনে করে, সিদ্ধান্তে তারও ভাগ আছে।
- ‘না’টা রেখে দিন নিরাপত্তা আর অল্প কয়েকটা জরুরি বিষয়ের জন্য, তাহলে সেটা ধরে রাখাও সহজ হবে।
- শান্ত মুহূর্তগুলো খেয়াল করুন: ‘তুমি কী সুন্দর করে নিজের পালার জন্য অপেক্ষা করলে।’
বয়স অনুযায়ী জেদ: ১ থেকে ৫ বছরে কী বদলায়?
জেদ সাধারণত প্রথম জন্মদিনের আশপাশে শুরু হয়, মোটামুটি ২ থেকে ৩ বছর বয়সে অনেক সময় সবচেয়ে তীব্র থাকে, আর ৪ থেকে ৫ বছরে কথা বলা আর নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। ২ বছর বয়সের পর্যায়টা, মানে সব কিছুতে ‘না’ আর সব নিজে করতে চাওয়া, নিয়ে পড়ুন ২ বছরের বাচ্চার জেদ ও আচরণ সামলানোর উপায়।
৩ বছরের বাচ্চার জেদ
৩ বছরে কথা আগের চেয়ে বাড়ে, কিন্তু বড় অনুভূতি বোঝানোর মতো এখনো যথেষ্ট নয়, আর ‘আমার পালা’ বা ‘এটা ঠিক না’ নিয়ে তর্ক বাড়ে। ওর হয়ে অনুভূতির নাম বলুন, আর নিজে সামলাতে পারলে প্রশংসা করুন; এভাবেই দরকারি শব্দগুলো ধীরে ধীরে ওর আয়ত্তে আসে।
৪ বছরের বাচ্চার জেদ
৪ বছর বয়সে অনেক বাচ্চা ‘আমার রাগ হচ্ছে’ বলতে পারে আর একটু অপেক্ষা করতে পারে, তাই জেদ কম হয়, যদিও কখনো কখনো বেশিক্ষণ চলে বা দর-কষাকষিতে গড়ায়। স্কুলে লম্বা একটা দিন বা রাতে দেরিতে ঘুম প্রায়ই এর কারণ।
৫ বছরের বাচ্চার জেদ
৫ বছরেও মাঝে মাঝে জেদ স্বাভাবিক, বিশেষ করে স্কুলের লম্বা দিনের পরে। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন হলে, প্রায়ই ২৫ মিনিটের বেশি চললে, বা কাউকে আঘাত করলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। বড় বাচ্চার জেদ নিয়ে দেখুন জেদি সন্তান সামলানোর উপায়।
যে ভুলগুলো জেদ আরও বাড়িয়ে দেয়
- অনেকক্ষণ জেদের পর দিয়ে দেওয়া। এতে বাচ্চা শেখে, পরের বার আরও লম্বা জেদ করতে হবে।
- কান্না থামাতে মোবাইল হাতে দিয়ে দেওয়া। এক মিনিটের জন্য কাজ হয়, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে মোবাইলটাই জেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- চিৎকার, ভয় দেখানো বা মারা। এতে বাচ্চার মনে ভয় যোগ হয়, আর সময়ের সঙ্গে জেদ সাধারণত বাড়ে। শান্তভাবে শাসনের উপায় পাবেন মারধর না করে শাসন লেখায়।
- যে ভয় দেখানো কথা আপনি সত্যি করবেন না, যেমন ‘তোমাকে এখানে রেখে চলে যাব’। এতে বাচ্চা হয় শেখে আপনার কথার কোনো মানে নেই, নয়তো সত্যিই খুব ভয় পেয়ে যায়।
- একেকজন বড় মানুষের একেক নিয়ম। যিনি সবসময় দিয়ে দেন, সাধারণত তাঁর সামনেই জেদ বেশি হয়।
বাংলাদেশি পরিবারে জেদ: দোকান, আত্মীয়স্বজন আর মোবাইল
সবচেয়ে কঠিন জেদগুলো অনেক সময় হয় অন্যদের সামনে, এমন পরিস্থিতিতে যা প্রায় সব বাংলাদেশি পরিবারের চেনা।
দোকানের কাউন্টারে
বিল দেওয়ার কাউন্টারে চিপস আর চকলেট প্রায়ই রাখা থাকে ঠিক বাচ্চার চোখের সামনে। দোকানে ঢোকার আগেই ঠিক করুন কী কিনবেন, আর বলে দিন: ‘আজ আমরা দুধ আর ডিম কিনব। আজ চকলেট না।’ জেদ শুরু হলে তাড়াতাড়ি কেনাকাটা শেষ করুন, বা শান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে একটু দাঁড়ান।
আত্মীয়ের বাসায় বা দাওয়াতে
আত্মীয়রা তাকিয়ে থাকলে মনে হয়, হয় দিয়ে দিই, নয়তো কড়া করে বকে দেখাই যে আমি সামলাতে পারি। তার বদলে বাচ্চাকে একটু নিরিবিলি ঘরে নিয়ে যান, শান্ত হতে সাহায্য করুন, তারপর ফিরে আসুন। সন্ধ্যার দাওয়াত মানে প্রায়ই দেরিতে রাতের খাবার, তাই বের হওয়ার আগে বাচ্চাকে খাইয়ে নিন, আর একেবারে ক্লান্ত হওয়ার আগেই বাসায় ফিরুন।
দাদা-দাদি বা নানা-নানি যখন দিয়ে দেন
নাতি-নাতনির কান্না অনেক দাদা-দাদি বা নানা-নানির সহ্য হয় না, তাই তাঁরা মিষ্টি বা মোবাইল দিয়ে দেন। তাঁদের ভালোবাসা সত্যি, আর এতে ছোট বাচ্চার মনে যে দ্বিধা তৈরি হয় সেটাও সত্যি। আলাদা করে নরমভাবে কথা বলুন, আর একটা-দুটো নিয়মে সবাই একমত হোন: ‘ও মোবাইলের জন্য কাঁদলে আমরা সবাই কি একই কথা বলতে পারি?’ বাসায় গৃহকর্মী থাকলে তাঁকেও একই কথা বলতে অনুরোধ করুন।
কান্না থামাতে হাতে মোবাইল
মোবাইলে কার্টুন ছেড়ে দিলে কয়েক সেকেন্ডেই কান্না থেমে যায়, কিন্তু অনেক বাচ্চা তাড়াতাড়ি শিখে ফেলে, কাঁদলেই মোবাইল আসে। ২–৫ বছরের বাচ্চার জন্য শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা বলে, দিনে বড়জোর ১ ঘণ্টা ভালো মানের কিছু দেখা, সম্ভব হলে বড় কারও সঙ্গে বসে। খাওয়ানোর সময় মোবাইল লাগলে দেখুন মোবাইল ছাড়া খাওয়ানোর উপায় আর বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম।
জেদ কমানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। প্রতিটা জেদের সময়, ঠিক আগে কী হয়েছিল, কতক্ষণ চলল আর আপনি কী করলেন, লিখে রাখুন।
- দিন ২: বারবার কী হচ্ছে খুঁজুন। রাতের খাবারের আগে? ডে-কেয়ার থেকে ফেরার পরে? মোবাইল-টিভি বন্ধ করলে, নাকি ‘না’ শুনলে?
- দিন ৩: সবচেয়ে বড় কারণটার জন্য একটা পরিবর্তন বেছে নিন: একটু আগে নাশতা, ৩০ মিনিট আগে ঘুম, বা মোবাইল-টিভি বন্ধের ২ মিনিট আগে জানিয়ে দেওয়া।
- দিন ৪: যাঁরা বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন, সবাই মিলে জেদের সময় একই কথা বলার ব্যাপারে একমত হোন।
- দিন ৫: দিনে ১০ মিনিট এমন খেলা যোগ করুন, যেখানে বাচ্চা ঠিক করবে কী খেলবেন।
- দিন ৬: শান্ত কোনো সময়ে গল্প বা খেলার মধ্যে অনুভূতির নামগুলো চর্চা করুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার জেদ হলো, কতক্ষণ চলল, আর কত তাড়াতাড়ি শান্ত হলো। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের পরিবর্তনটা বেছে নিন।
জেদের সময় বাচ্চা ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছে না; সে এখনো নিজেকে সামলাতে পারছে না।
জেদের জন্য কখন সাহায্য নেবেন
বেশির ভাগ জেদ একটা পর্যায়, সময়ের সঙ্গে কেটে যায়। তবে নিচের কোনোটা হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন:
এমন হলে সাহায্য নিন
- ৫ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন জেদ হয়, অথবা কয়েক সপ্তাহ শান্ত থেকে একই নিয়ম মেনে চলার পরও জেদ আরও ঘন ঘন বা তীব্র হচ্ছে।
- জেদ প্রায়ই ২৫ মিনিটের বেশি চলে, অথবা বেশির ভাগ দিনেই দিনে কয়েকবার হয়।
- জেদের সময় বাচ্চা নিজেকে আঘাত করে, যেমন মাথা ঠোকে বা নিজেকে কামড়ায়, অথবা প্রায়ই অন্যকে আঘাত করে।
- শ্বাস আটকে রাখতে রাখতে বাচ্চা ফ্যাকাশে বা নীল হয়ে যায়, বা অজ্ঞান হয়ে যায়। প্রথমবার এমন হলেই ডাক্তারকে জানান, আর মোটামুটি এক মিনিটের মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- জেদের সঙ্গে আরও কিছু চিন্তার বিষয় থাকে: একই বয়সী অন্য বাচ্চাদের চেয়ে কথা বলায় অনেক পিছিয়ে থাকা, আগে পারত এমন কিছু ভুলে যাওয়া, বা মানুষের প্রতি আগ্রহ কম।
- আপনার মনে হচ্ছে বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন, বা আর পারছেন না। বাচ্চা নিরাপদে আছে কি না নিশ্চিত করুন, সম্ভব হলে অন্য একজন বড় মানুষের কাছে দিন, কয়েক মিনিটের জন্য সরে যান, আর নিজের জন্য সাহায্য নিন। কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হচ্ছে তা নোট করতে আর বারবার যা হচ্ছে তা খেয়াল করতে সাহায্য করে — যেমন দিনের কোন সময়ে, বা দেরিতে ঘুমানোর পরের দিন — যাতে পরের ছোট পরিবর্তনটা বেছে নিতে পারেন; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চার জেদ সাধারণত কতক্ষণ থাকে?
বেশির ভাগ জেদ কয়েক মিনিট চলে, যদিও তখন মনে হয় অনেকক্ষণ। আপনি শান্ত থেকে পাশে থাকলে, কম কথা বললে, আর তর্ক না করে, চাওয়া জিনিসটা না দিয়ে অপেক্ষা করলে জেদ সাধারণত তাড়াতাড়ি থামে। জেদ যদি প্রায়ই ২৫ মিনিটের বেশি চলে, বা দিনে কয়েকবার হয়, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
৩ বছরের বাচ্চার জেদ প্রতিদিন হলে কি সেটা স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। ৩ বছরে কথা আগের চেয়ে বাড়ে, কিন্তু বড় অনুভূতি বোঝানোর মতো যথেষ্ট নয়, আর এই বয়সে বাচ্চা সব কিছু নিজে করতে চায়। তাই প্রতিদিন জেদ হওয়া খুব সাধারণ, বিশেষ করে ক্লান্ত থাকলে বা খিদে পেলে। তবে দিনে কয়েকবার হলে, ২৫ মিনিটের বেশি চললে, বা বাচ্চা নিজেকে আঘাত করলে পরামর্শ নিন।
সাধারণ জেদ আর পুরোপুরি ভেঙে পড়ার (মেল্টডাউন) মধ্যে পার্থক্য কী?
জেদের সাধারণত একটা লক্ষ্য থাকে, যেমন একটা খেলনা বা পার্কে আরেকটু থাকা; সেটা যে পাওয়া যাবে না তা পরিষ্কার হলে প্রায়ই কমে আসে। আর ভেঙে পড়া হলো হইচই, ভিড়, ক্লান্তি বা একসাথে অনেক কিছুর চাপে বাচ্চার একেবারে সামলাতে না পারা অবস্থা; এখানে কিছু পাওয়ার ব্যাপার থাকে না। তখন দরকার নিরিবিলি জায়গা, কম কথা আর আদর। ঘন ঘন এমন হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে জানান।
জেদ থামাতে বাচ্চার হাতে মোবাইল দেওয়া কি ঠিক?
এটাকে অভ্যাস না বানানোই ভালো। মোবাইল দিলে কান্না প্রায়ই দ্রুত থামে, কিন্তু বাচ্চা তাড়াতাড়ি শিখে ফেলে যে জেদ করলেই মোবাইল আসে। তার বদলে পাশে থাকুন, অনুভূতির নাম বলুন, আর জেদ কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা বলে, ১৮ মাসের কম বয়সে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়, আর ২–৫ বছরে দিনে বড়জোর ১ ঘণ্টা ভালো মানের কিছু।
জেদের সময় বাচ্চা মারলে বা কামড়ালে কী করব?
সঙ্গে সঙ্গে, শান্তভাবে থামান: ওর হাত দুটো ধরুন বা ওকে একটু দূরে সরিয়ে নিন, আর বলুন, ‘মারতে দেব না।’ কেমন লাগে বোঝাতে পাল্টা মারবেন বা কামড়াবেন না; এতে বাচ্চা উল্টোটাই শেখে। শান্ত হলে যাকে ব্যথা দিয়েছে, তার সঙ্গে মিটমাট করতে সাহায্য করুন। ৪ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন মারলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।







