মূল কনটেন্টে যান

২ বছরের বাচ্চার জেদ ও আচরণ সামলানোর উপায়: সব কিছুতে ‘না’ বলার বয়সে কী করবেন

ছোট করে উত্তর

সব কিছুতে ‘না’ বলা, নিজে সব করতে চাওয়া আর ছোট কারণে জেদ — মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সে এগুলো স্বাভাবিক। এই বয়সে বাচ্চা নিজে করতে চায়, কিন্তু মনের কথা বলার মতো শব্দ আর নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। ২ বছরের বাচ্চার জেদ ও আচরণ সামলানোর উপায় হলো: ছোট বিষয়ে বেছে নিতে দিন, রুটিন একই রাখুন, আর ‘না’ শুনে শান্ত থাকুন। সাধারণত ৩–৪ বছরে কমে আসে। আগে পারত এমন কিছু ভুলে গেলে বা খুব কম শব্দ বললে পরামর্শ নিন।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা: বাসায়, বাইরে বা বড় যৌথ পরিবারে
মূল কথা
  • সব কিছুতে ‘না’, সব নিজে করতে চাওয়া, ছোট কারণে বড় প্রতিক্রিয়া — ২ বছর বয়সে এগুলো স্বাভাবিক। নিজে করার ইচ্ছা যত দ্রুত বাড়ে, মুখের কথা তত দ্রুত বাড়ে না।
  • ছোট ছোট বিষয়ে বেছে নেওয়ার সুযোগ, প্রতিদিন একই রকম রুটিন আর ‘হ্যাঁ’ বলার আরও সুযোগ থাকলে সাধারণত বাড়তি নিয়মের চেয়ে ঝগড়া কম হয়।
  • যৌথ পরিবারে কোন নিয়ম বেছে নিচ্ছেন তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো, বাসার সব বড়রা যেন একই দুই-তিনটা নিয়ম মেনে চলেন।
  • সাধারণত ৩–৪ বছরের মধ্যে কমে আসে। বাচ্চা খুব কম শব্দ বললে, আগে পারত এমন কিছু ভুলে গেলে, শান্ত করা খুব কঠিন হলে, বা নিজেকে আঘাত করলে পরামর্শ নিন।

২ বছরের বাচ্চার জেদ অনেক সময় যেন রাতারাতি শুরু হয়: যে বাচ্চা খুশিমনে আপনার হাত ধরে হাঁটত, সে এখন জুতা পরতে ‘না’, গোসলে ‘না’, এমনকি এক মিনিট আগে নিজে চাওয়া বিস্কুটেও ‘না’। আপনার দুই বছরের বাচ্চা সব কিছুতে না বলে? জেনে রাখুন, আপনি কোনো ভুল করছেন না, আর বাচ্চাও দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে না। ছোটবেলার সবচেয়ে স্বাভাবিক পর্যায়গুলোর একটি এটা।

২ বছরের কাছাকাছি সময়ে বাচ্চা বুঝতে শুরু করে, তার নিজের ইচ্ছা আছে; কিন্তু সেই ইচ্ছা বোঝানোর মতো শব্দ বা অপেক্ষা করার ধৈর্য তখনো তৈরি হয়নি। নিচে পাবেন ২ বছরের বাচ্চার জেদ ও আচরণ সামলানোর উপায়: কী স্বাভাবিক, কেন সব কিছুতে ‘না’, দিনটা কীভাবে সহজ করবেন, কী বলবেন, যৌথ পরিবারে কী করবেন, কবে কমে, আর কখন পরামর্শ নেবেন।

২ বছরের বাচ্চার জেদ: এই বয়সে কোনটা স্বাভাবিক?

দুই বছরের আশপাশের এই সময়টা (ইংরেজিতে যাকে ‘টেরিবল টু’ বলে) মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত, যখন বাচ্চা জোর দিয়ে নিজের মতো চলতে চায়। এটা কোনো রোগ নয়, ঠিক করার মতো সমস্যাও নয়। ২ থেকে ৩ বছরের বাচ্চার আচরণে সাধারণত দেখা যায়:

  • প্রায় সব কিছুতে ‘না’, এমনকি যে জিনিস সে আসলে চায় সেটাতেও।
  • সব নিজে করতে চাওয়া: জুতা পরা, পানি ঢালা, লিফটের বোতাম চাপা।
  • ছোট কারণে বড় প্রতিক্রিয়া, যেমন ভুল রঙের কাপ বা ভেঙে যাওয়া বিস্কুট।
  • ‘আমার!’: কেড়ে নেওয়া, ভাগ করতে না চাওয়া, কথায় না কুলালে কখনো মারা।
  • বারবার সীমা পরীক্ষা করা, আর এক মিনিটের মধ্যে প্রচণ্ড রাগ থেকে গলা জড়িয়ে আদর।
১৮ মাস থেকে ৪ বছর পর্যন্ত যা সাধারণ (মোটামুটি ধারণা; প্রত্যেক বাচ্চা আলাদা)
বয়সসাধারণত যা দেখা যায়যা বেশি কাজে দেয়
মোটামুটি ১৮ মাস–২ বছরপ্রথম ‘না!’, নিজে করতে চাওয়া, কী চায় বোঝাতে না পারার হতাশাদুটো সহজ পছন্দ, রোজ একই রকম দিন, আর ও কী চায় সেটা আপনি মুখে বলে দেওয়া
২–৩ বছরঅনেক সময় সবচেয়ে বেশি: ছোট কারণে বড় প্রতিক্রিয়া, নিয়ম যাচাই, ‘আমার!’বাসার সব বড়দের একই কয়েকটা নিয়ম, বদলের আগে জানিয়ে দেওয়া, ছোট ছোট সত্যিকারের কাজ
৩–৪ বছরসাধারণত কমে আসে; কথা বাড়ে, কখনো তর্ক আর দর-কষাকষিও বাড়েশান্ত, পরিষ্কার সীমা, আর অপেক্ষা করতে বা নিজেকে সামলাতে পারলে প্রশংসা

২ বছর বয়সে বাচ্চার জেদ কেন বাড়ে?

দুই বছরের বাচ্চা যখন সব কিছুতে ‘না’ বলে, সেটা আসলে আপনার বিরুদ্ধে নয়। এই বয়সে একসঙ্গে অনেক কিছু তৈরি হচ্ছে, আর সবগুলো একই গতিতে নয়:

  • নিজেকে নতুন করে চেনা। বাচ্চা সবে বুঝেছে, আপনি যা চান তার থেকে আলাদা কিছু সে চাইতে পারে। আর সেটা বলার সবচেয়ে ছোট উপায় হলো ‘না’।
  • ইচ্ছা আগে, শব্দ পরে। কী চায় সে ঠিকই জানে, কিন্তু প্রায়ই মুখে বলতে পারে না; সেই ফাঁকটা ভরে যায় হতাশা আর রাগে।
  • নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা এখনো তৈরি হচ্ছে। অপেক্ষা করা আর শান্ত হওয়ার কাজ মস্তিষ্কের যে অংশ করে, সেটা পরিণত হয় ধীরে, অনেক বছর ধরে।
  • নিয়ম যাচাই করা। বারবার সীমা পরীক্ষা করেই বাচ্চা বোঝে, নিয়মটা আজও একই আছে কি না, আর সব বড় মানুষের কাছে একই কি না।

ক্লান্তি, খিদে আর বদল — যেমন ঘরে নতুন ভাইবোন, নতুন গৃহকর্মী বা বাসা বদল — এসবে জেদ আরও জোরালো হয়।

২ বছরের বাচ্চার জেদ ও আচরণ সামলানোর উপায়: প্রতিদিনের জন্য

বেশির ভাগ কাজ আসলে সাধারণ মুহূর্তগুলোতেই, ঝগড়া শুরু হওয়ার অনেক আগে:

  1. এমন দুটো পছন্দ দিন, যার দুটোতেই আপনার আপত্তি নেই: ‘লাল জামা, না নীল জামা?’ পরিকল্পনা একই থাকে, কিন্তু বাচ্চাও সিদ্ধান্তে ভাগ পায়।
  2. যেখানে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই, সেখানে প্রশ্ন করবেন না। ‘গোসল করবে?’ জিজ্ঞেস করলে উত্তর প্রায়ই ‘না’। তার বদলে বলুন: ‘এখন গোসলের সময়। হাঁসটা নেবে, না নৌকাটা?’
  3. ‘না’-কে বদলে দিন ‘হ্যাঁ, তবে…’ দিয়ে: ‘হ্যাঁ, দুপুরে খাওয়ার পরে বিস্কুট পাবে।’
  4. দিনের রুটিন একই রকম রাখুন: খাওয়া, দুপুরের ঘুম, গোসল আর রাতের ঘুম মোটামুটি একই ক্রমে, আর প্রতিটা বদলের আগে জানিয়ে দিন: ‘আর দুইবার, তারপর খাওয়া।’
  5. ‘আমি করব’-এর জন্য সময় রাখুন: দশ মিনিট আগে তৈরি হওয়া শুরু করুন, কারণ তাড়া দিলে ঝগড়া বাধে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি।
  6. কী করবে না, শুধু তা নয়; কী করবে সেটা বলুন: ‘ঘরের ভেতরে আস্তে হাঁটি।’ দৃঢ় ‘না’-টা রাখুন নিরাপত্তা আর অল্প কয়েকটা জরুরি বিষয়ের জন্য।

যা বলতে পারেন

  • তুমি নিজে করতে চাও? ঠিক আছে, আমি অপেক্ষা করছি।
  • লাল কাপ, না নীল কাপ? তুমিই বলো।
  • হ্যাঁ, বিস্কুট পাবে, দুপুরে খাওয়ার পরে।
  • তোমার রাগ হচ্ছে। হতেই পারে। তবু এখন গোসলের সময়।
  • মারতে দেব না। চাইলে মেঝেতে জোরে জোরে পা ঠুকতে পারো।

‘না’ থেকে যখন কান্নাকাটি শুরু হয়

কোনো কোনো দিন ‘না’ গড়ায় মেঝেতে শুয়ে চিৎকারে। বাচ্চাকে নিরাপদ রাখুন, পাশে থাকুন, কম কথা বলুন, আর যে জিনিসের জন্য জেদ সেটা দিয়ে দেবেন না; ধাপগুলো পাবেন জেদের মুহূর্তে কী করবেন লেখায়।

যে ভুলগুলো এই বয়সটা আরও কঠিন করে

  • অনেকক্ষণ কান্নার পর দিয়ে দেওয়া। এতে বাচ্চা শেখে, আরও বেশিক্ষণ কাঁদলেই পাওয়া যায়।
  • চিৎকার, মারধর বা ভয় দেখানো। মুহূর্তের জন্য কাজ হচ্ছে মনে হলেও সময়ের সঙ্গে মারধর সাধারণত আচরণ আরও খারাপ করে; দেখুন মারধর না করে শাসন।

বাচ্চা এখন নিজে সব করতে চায়: নিরাপদে ‘হ্যাঁ’ বলবেন কীভাবে

‘আমি করব!’ — এটাই এই বয়সের সুস্থ, স্বাভাবিক দিক। বাচ্চা যত বেশি সত্যিকারের কাজ নিজে করার সুযোগ পায়, ঝগড়া সাধারণত তত কম হয়। একটু সাহায্য পেলে অনেক ২ বছরের বাচ্চা পারে:

  • ফিতা ছাড়া স্যান্ডেল পরা, টি-শার্ট টেনে নামানো।
  • চামচ টেবিলে নিয়ে যাওয়া, প্লাস্টিকের প্লেট সিংকে রেখে আসা।
  • ছোট জগ থেকে পানি ঢালা, পাশে একটা কাপড় রেখে, যাতে পড়লে মোছা যায়।
  • খেলনা ঝুড়িতে তুলে রাখা, জুতার র‍্যাকে রাখা।
  • দুটো জামা, দুটো ফল বা দুটো বইয়ের মধ্যে একটা বেছে নেওয়া।

নিজে করার এই ইচ্ছার কারণেই অনেক বাচ্চা এই সময়ে টয়লেট নিয়েও আগ্রহ দেখায়; দেখুন টয়লেট ট্রেনিং কখন শুরু করবেন।

বাংলাদেশি পরিবারে ২ বছরের বাচ্চা: অনেক বড় মানুষ, অনেক রকম নিয়ম

অনেক বাংলাদেশি পরিবারে ২ বছরের বাচ্চার চারপাশে আদরের মানুষের অভাব নেই: দাদা-দাদি বা নানা-নানি, চাচা-ফুপু বা খালা-মামা, চাচাতো-খালাতো ভাইবোন, হয়তো একজন গৃহকর্মীও। এটা অনেক বড় পাওয়া। আবার এর মানে, একই বিকেলে একই প্রশ্নের পাঁচ রকম উত্তরও শুনতে পারে ছোট্ট বাচ্চাটি।

সবাই মিলে দুই-তিনটা নিয়মে একমত হোন

ছোট বাচ্চারা নিয়ম শেখে বারবার যাচাই করে, নিয়মটা একই থাকে কি না। তাই একজন ‘না’ বললে, আরেকজন ‘হ্যাঁ’ বললে আর তৃতীয়জন হেসে ফেললে যাচাই আরও বাড়ে। সবাইকে একইভাবে বাচ্চা মানুষ করতে হবে, এমন নয়; দরকার দুই-তিনটা নিয়ম, যা বাসার সব বড়রা মানবেন: যেমন মারা চলবে না, কান্না থামাতে মোবাইল দেওয়া হবে না, আর রাতে ঘুমের সময় মোটামুটি একই। এসব ঠিক করুন আলাদা করে, বাচ্চার সামনে নয়।

বাচ্চা মারলে দাদা-দাদি বা নানা-নানি যখন হেসে ফেলেন

২ বছরের বাচ্চা দাদির গালে চড় দিলে অনেক দাদা-দাদি হেসে ফেলেন, কারণ এত ছোট একজনের কাছ থেকে ব্যাপারটা আদুরে লাগে। কিন্তু ছোট বাচ্চার কাছে হাসি অনেক বড় পুরস্কার, তাই মারাটা সাধারণত আবার ফিরে আসে। আলাদা করে নরমভাবে বলতে পারেন: ‘আম্মা, ও মারার পর আমরা হেসে ফেললে ও ভাবে এটা একটা খেলা। ওর হাতটা ধরে, গালে আলতো করে হাত বুলানো শিখিয়ে দিতে পারি?’ আরও উপায় পাবেন বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন লেখায়।

গৃহকর্মী, আর ঝামেলা থামাতে মোবাইল

গৃহকর্মী বাচ্চাকে দেখলে তাঁকেও একই নিয়ম আর একই কথাগুলো জানিয়ে দিন, আর ধন্যবাদ দিন: বাচ্চা কাঁদতে থাকলে নিয়ম ধরে রাখা যে কারও জন্যই কঠিন। আর যে মোবাইল কয়েক সেকেন্ডে ঝামেলা থামায়, কিছুদিনের মধ্যে সেটাই কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা বলে, ১৮ মাসের কম বয়সে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়; ১৮–২৪ মাসে শুধু ভালো মানের কিছু, বড় কারও সঙ্গে বসে; আর ২–৫ বছরে দিনে বড়জোর ১ ঘণ্টা।

২ বছরের বাচ্চার এই জেদ কবে কমে?

বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে এই জেদ কোনো এক জন্মদিনে হঠাৎ শেষ হয় না, ধীরে ধীরে কমে। অনেক পরিবার দেখে, ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ঝগড়া কমে আসে, কারণ তখন বাচ্চার কথা বাড়ে, একটু অপেক্ষা করতে শেখে, আর প্রতিদিনের রুটিনটা চিনে ফেলে। কিছু বাচ্চার কাছে কিছুদিনের জন্য ৩ বছর আরও কঠিন হয়, তর্ক আর দর-কষাকষি বাড়ে; সেটাও খুব সাধারণ।

যা এই সময়টা পার করতে সাহায্য করে: যথেষ্ট ঘুম (১–২ বছরে ২৪ ঘণ্টায় মোটামুটি ১১–১৪ ঘণ্টা, আর ৩–৫ বছরে ১০–১৩ ঘণ্টা, দুপুরের ঘুমসহ), একসঙ্গে প্রচুর কথা বলা আর বই পড়া, আর সবার কাছ থেকে একই কয়েকটা নিয়ম।

২ বছরের বাচ্চার ‘না’ আসলে নিজের মতো একজন মানুষ হয়ে ওঠার চর্চা। এর জবাব দিন বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে, জেতা-হারার লড়াই দিয়ে নয়।

— ParentMind-এর একটি নীতি

২ বছরের বাচ্চার জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা

একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। প্রতিটা ‘না’-এর ঝগড়া লিখে রাখুন: কখন, আপনি কী বলেছিলেন, আর ঠিক আগে কী হয়েছিল।
  2. দিন ২: সবচেয়ে কঠিন দুটো মুহূর্ত খুঁজে বের করুন, যেমন জামা পরানো, বাসা থেকে বের হওয়া, গোসল বা ঘুমানোর সময়।
  3. দিন ৩: ওই দুটো মুহূর্তে একটা করে পছন্দ যোগ করুন: দুটো জামা, দুটো কাপ, গোসলে কোন খেলনাটা যাবে।
  4. দিন ৪: একটা ‘হ্যাঁ’-এর কোণ বানান: ভাঙার মতো জিনিস নাগালের বাইরে, আর বাচ্চার নিজের জিনিস রাখার একটা নিচু ঝুড়ি।
  5. দিন ৫: দিনে একটা সত্যিকারের কাজ দিন: চামচ টেবিলে নেওয়া, টেবিল মোছা, জুতা র‍্যাকে তুলে রাখা।
  6. দিন ৬: যাঁরা বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন, সবার সঙ্গে দুই-তিনটা নিয়ম আর একই কথাগুলো নিয়ে একমত হোন।
  7. দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার ঝগড়া হলো, কতক্ষণ চলল, কোন মুহূর্তগুলো সহজ হলো। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের পরিবর্তনটা বেছে নিন।

কখন পরামর্শ নেবেন

এর বেশির ভাগই একটা পর্যায়, সময়ের সঙ্গে কেটে যায়। তবে নিচের কোনোটা হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন:

এমন হলে পরামর্শ নিন

  • বাচ্চা খুব কম শব্দ বলে: মোটামুটি ১৬ মাসেও কোনো শব্দ নেই, বা ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে বলে না। দেখুন বাচ্চা দেরিতে কথা বলে কী করবেন।
  • যে কোনো বয়সে, আগে পারত এমন শব্দ বা দক্ষতা বাচ্চা হারিয়ে ফেলে। এমন হলে দেরি না করে দেখিয়ে নিন।
  • বেশির ভাগ দিন বাচ্চাকে শান্ত করা খুব কঠিন হয়, অথবা দিনে কয়েকবার জেদ হয় আর প্রায়ই ২৫ মিনিটের বেশি চলে।
  • বাচ্চা প্রায়ই নিজেকে আঘাত করে, যেমন জোরে মাথা ঠোকে বা নিজেকে কামড়ায়, অথবা প্রায়ই অন্যকে আঘাত করে।
  • মানুষের প্রতি বাচ্চার আগ্রহ কম, কিছু দেখাতে খুব কমই আঙুল তুলে দেখায়, বা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না।
  • আপনার মনে হচ্ছে আর পারছেন না, বা বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন। বাচ্চাকে অন্য একজন বড় মানুষের কাছে দিন, একটু সরে যান, আর নিজের জন্য সাহায্য নিন। কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ParentMind-এ প্রতিদিনের ‘না’-এর মুহূর্তগুলো টুকে রাখতে পারেন, আর দেখতে পারেন কোন সময়গুলো বারবার ফিরে আসছে, যাতে বোঝেন পরের ছোট পরিবর্তনটা কী হবে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

২ বছরের বাচ্চার জেদ কোন বয়সে শুরু হয়?

সাধারণত মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে, কয়েক মাস আগে-পরে। শুরুটা প্রায়ই হয় ‘না’, ‘আমি করব’ আর কী চায় বোঝাতে না পারার হতাশা দিয়ে। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ বছরে সবচেয়ে বেশি থাকে, আর বেশির ভাগের ৩–৪ বছরের মধ্যে কমে আসে।

দুই বছরের বাচ্চা সব কিছুতে ‘না’ বলে — এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। ‘না’ বলে ছোট বাচ্চা প্রথম বোঝায়, সে আলাদা একজন মানুষ, তার নিজের ইচ্ছা আছে। তাই যা চায়, তাতেও অনেক সময় ‘না’ বলে ফেলে। হ্যাঁ-না প্রশ্ন কম করা আর দুটো সহজ পছন্দ দেওয়া সাধারণত কাজে দেয়, আর কথা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা কমে আসে।

৩ বছরে কি জেদ ২ বছরের চেয়েও বাড়ে?

কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে হ্যাঁ, কিছুদিনের জন্য। ৩ বছরে কথা বাড়ে, মতামতও জোরালো হয়, তাই ছোট্ট ‘না’ গড়াতে পারে লম্বা তর্ক আর দর-কষাকষিতে। আবার অনেক বাচ্চার কাছে ৩ বছরটা বেশ শান্ত। যেটাই হোক, একই পদ্ধতি কাজে দেয়: একই রকম রুটিন, অল্প কয়েকটা পরিষ্কার নিয়ম, সত্যিকারের পছন্দের সুযোগ, আর অপেক্ষা করতে বা নিজেকে সামলাতে পারলে প্রশংসা।

২ বছরের বাচ্চা অন্যদের চেয়ে আমার সঙ্গেই কেন বেশি জেদ করে?

সাধারণত কারণ, আপনার কাছেই সে সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করে। অনেক ছোট বাচ্চা ডে-কেয়ারে বা মেহমানদের সামনে নিজেকে সামলে রাখে, তারপর বাসায় এসে সারাদিনের হতাশা উগরে দেয় মা-বাবার কাছে। এটা বিশ্বাসের লক্ষণ, আপনার ব্যর্থতার নয়। বাসায় ফেরার পর একটু নাশতা, একটু আদর আর আধা ঘণ্টা শান্ত সময় দিলে ওই সময়টা প্রায়ই সহজ হয়।

নিজে ক্লান্ত থাকলে এই সময়টা পার করবেন কীভাবে?

নিজের ওপর চাপ একটু কমিয়ে আর কাজ ভাগ করে নিয়ে। জরুরি এক-দুটো বিষয় বেছে নিন, ছোটখাটো ব্যাপার ছেড়ে দিন। যতটা পারেন নিজের ঘুম ঠিক রাখুন, দিনের সবচেয়ে কঠিন সময়টায় জীবনসঙ্গী বা পরিবারের আরেকজনের সঙ্গে পালা করে দায়িত্ব নিন, আর রাগ চড়ে যাচ্ছে টের পেলে এক মিনিটের জন্য সরে যান।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ছোট্ট শিশু (১–৩ বছর): আরও গাইড

ছোট্ট শিশু: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।