বাচ্চা দেরিতে কথা বলে কী করবেন: কোন বয়সে কতটা কথা, ঘরে কীভাবে সাহায্য করবেন
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা দেরিতে কথা বলে কী করবেন, তা বুঝতে আগে জানুন কী স্বাভাবিক: অনেক বাচ্চা প্রথম শব্দ বলে মোটামুটি ১২ মাসে, আর ২ বছরের মধ্যে অনেকে প্রায় ৫০টি শব্দ বলে ও দুটো শব্দ জুড়ে বলে। প্রতিদিন কথা বলুন, বই পড়ুন, খেলুন। মোটামুটি ১৬ মাসেও কোনো শব্দ না বললে, ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে না বললে, বা বলা শব্দ হারিয়ে ফেললে কানে শোনার পরীক্ষাসহ দেখিয়ে নিন।
লেখাটি শুনুন
১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- মোটামুটি ১ থেকে ৪ বছরের যে বাচ্চা প্রত্যাশার চেয়ে কম কথা বলে, যে ভাষাতেই হোক, তার বাবা-মা
- মূল কথা
- বাচ্চাভেদে অনেক পার্থক্য থাকে, তবে অনেকে প্রথম শব্দ বলে মোটামুটি ১২ মাসে, আর ২ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০টি শব্দ বলে ও দুটো শব্দ জুড়ে বলে।
- প্রতিদিন মুখোমুখি কথা বলা, বই পড়া আর খেলা, পেছনে টিভি না চালিয়ে — ঘরে এগুলোই সাধারণত সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।
- ঘরে দুই ভাষা, যেমন বাংলা আর ইংরেজি, থাকলে কথা দেরিতে আসে না। সব ভাষার শব্দ মিলিয়ে গুনুন।
- সতর্কতার লক্ষণ থাকলে ‘দেখি আরেকটু’ বলে অপেক্ষা করবেন না: কানে শোনার পরীক্ষাসহ দেখিয়ে নিন। শব্দ বা দক্ষতা হারিয়ে গেলে দেরি না করে দেখান।
‘বাচ্চা দেরিতে কথা বলে কী করবেন?’ — চেকআপে বাবা-মায়েরা সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন নিয়ে আসেন, এটি তার একটি। আপনার ২ বছরের বাচ্চা আঙুল দিয়ে দেখায়, হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়, আপনার কথা পরিষ্কার বোঝে, কিন্তু নিজে বলে হাতে গোনা কয়েকটা শব্দ; অথচ একই বয়সী চাচাতো বোন সারাক্ষণ বকবক করে। দেরিতে কথা বলা অনেক বাচ্চাই পরে সমবয়সীদের সমান হয়ে যায়; কারও কারও সাহায্য লাগে, আর সেই সাহায্য সাধারণত যত আগে শুরু হয় তত ভালো।
এই লেখা রোগ নির্ণয় করে না; বরং জানায় কী স্বাভাবিক, আজ থেকেই ঘরে কী করবেন, আর কখন অপেক্ষা করবেন না। নিচে পাবেন: বয়স অনুযায়ী কথার ধাপ, দেরিতে কথা বলা আর কথার সমস্যার পার্থক্য, কারণ, প্রতিদিনের অভ্যাস, দুই ভাষার পরিবার, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কোন লক্ষণ দেখলে দেখাবেন।
বাচ্চা কোন বয়সে কয়টি শব্দ বলে: বয়স অনুযায়ী কথা বলার ধাপ
প্রত্যেক বাচ্চা আলাদা; নিচের সময়গুলো মোটামুটি ধারণা, যা অনেক বাচ্চা ছুঁয়ে যায়, কোনো পরীক্ষা নয়। সব ভাষার শব্দ মিলিয়ে গুনুন; পুরোপুরি ঠিক না হলেও প্রতিবার একই অর্থে বললে সেটাও শব্দ (যেমন বলের জন্য ‘ব’)।
| বয়স | অনেক বাচ্চা যা করে | দেখিয়ে নিন, যদি |
|---|---|---|
| মোটামুটি ৬–৯ মাস | আধো আধো বুলি (‘বা-বা’, ‘দা-দা’), কণ্ঠ শুনে ফিরে তাকানো, আওয়াজের আদান-প্রদানে মজা পাওয়া | মোটামুটি ১২ মাসেও আধো আধো বুলি নেই |
| মোটামুটি ১২ মাস | প্রথম শব্দ, যেমন ‘মা’ বা ‘বাবা’; হাত নেড়ে টা-টা, আঙুল দিয়ে দেখানো, ‘না’ বোঝা | মোটামুটি ১২ মাসেও আঙুল দিয়ে দেখায় না বা হাত নাড়ে না |
| মোটামুটি ১৮ মাস | কয়েকটি শব্দ, ধীরে ধীরে নতুন শব্দ যোগ হয়; ‘বলটা দাও’-এর মতো সহজ কথা বুঝে করা | মোটামুটি ১৬ মাসেও কোনো শব্দ নেই, বা ১৮ মাসেও সহজ কথা বোঝে না |
| মোটামুটি ২ বছর | অনেকে প্রায় ৫০টি শব্দ বলে আর দুটো শব্দ জুড়ে বলে: ‘আরো পানি’, ‘বাবা গেছে’ | মোটামুটি ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে বলে না |
| মোটামুটি ৩ বছর | ছোট ছোট বাক্য; পরিবারের লোকজন তার বেশির ভাগ কথা বোঝে | পরিবারের লোকজনও তার কথা খুব কম বোঝে |
| মোটামুটি ৪ বছর | লম্বা বাক্য আর ছোট গল্প; পরিবারের বাইরের বেশির ভাগ মানুষও কথা বোঝে | পরিবারের বাইরের মানুষ তার কথা খুব কম বোঝে |
যে কোনো বয়সে, আগে বলত এমন শব্দ বা পারত এমন দক্ষতা হারিয়ে গেলে দেরি না করে দেখিয়ে নিন।
দেরিতে কথা বলা, নাকি কথার সমস্যা: পার্থক্য কী?
‘দেরিতে কথা বলা’ বলতে সাধারণত বোঝায় এমন বাচ্চা, যে কথা ভালো বোঝে, ইশারা করে, স্বাভাবিকভাবে খেলে আর মানুষের সঙ্গে মেশে, কিন্তু সমবয়সীদের চেয়ে কম শব্দ বলে। কথা বা ভাষার সমস্যা আরও বড় বিষয়: এতে বোঝা, আওয়াজ উচ্চারণ, বা ভাষা দিয়ে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগেও অসুবিধা থাকতে পারে। কোনটা, তা শুধু ঠিকমতো দেখিয়েই বোঝা যায়।
| যা খেয়াল করবেন | সাধারণত ভালো লক্ষণ | তাড়াতাড়ি দেখিয়ে নিন |
|---|---|---|
| বোঝা | প্রতিদিনের শব্দ আর সহজ কথা বোঝে | সহজ শব্দ বা কথাও বোঝে বলে মনে হয় না |
| ইশারা | আঙুল দিয়ে দেখায়, হাত নাড়ে, মাথা নাড়ে, জিনিস এনে দেখায় | কিছু দেখাতে খুব কমই আঙুল তোলে |
| যোগাযোগ | আপনার দিকে তাকায়, হাসি ভাগ করে, আদান-প্রদানের খেলায় মজা পায় | মানুষের প্রতি আগ্রহ কম, বা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না |
| নতুন শব্দ | ধীরে ধীরে নতুন শব্দ বা আওয়াজ যোগ হচ্ছে | কয়েক মাস ধরে নতুন শব্দ নেই, বা শব্দ হারিয়ে যাচ্ছে |
বাচ্চা শুধু ইশারা করে, কিন্তু কথা বোঝে? বুঝতে পারা আশার লক্ষণ, তবে অপেক্ষা করার কারণ নয়। আবার কিছু বাচ্চা বাসায় দিব্যি কথা বলে, কিন্তু মেহমান এলে চুপ হয়ে যায়; এটা দেরিতে কথা বলা নয়, লাজুকতাও হতে পারে — দেখুন লাজুক বাচ্চাকে সাহায্য করার উপায়।
শিশুর দেরিতে কথা বলা: কারণ কী হতে পারে?
প্রায়ই একক কোনো কারণ থাকে না, আর বাবা-মায়ের কোনো ভুলে হয়েছে, এমনও খুব কম। যেগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে:
- কানে শোনা। হালকা শ্রবণ সমস্যা, বা বারবার সর্দির পর কানের পর্দার পেছনে পানি জমলেও কয়েক সপ্তাহ কথা ঝাপসা শোনাতে পারে; এ কারণেই কথা বলার যে কোনো পরীক্ষায় কানে শোনার পরীক্ষাও থাকে।
- পারিবারিক ধারা। দেরিতে কথা বলা কখনো কখনো পরিবারে দেখা যায়, আর গড়ে ছেলেরা প্রায়ই একটু দেরিতে কথা বলে।
- সময়ের আগে জন্ম বা জন্মের সময়ের জটিলতা, যাতে ধাপগুলো একটু পিছিয়ে যেতে পারে।
- কথা বলার সুযোগ কম, যেমন লম্বা সময় স্ক্রিন, বা এমন ব্যস্ত বাসা যেখানে বড়রা বাচ্চার ওপর দিয়ে কথা বলে যান।
- মুখ আর জিভের পেশির নিয়ন্ত্রণ, বা বিকাশের বড় কোনো পার্থক্য। কথা বলা কখনো বড় একটা ছবির একটা অংশ হয়, আর এটাও দেখিয়ে নেওয়ার আরেকটা কারণ।
যা কারণ নয়: ঘরে দুই ভাষা, বা বাচ্চার ‘অলসতা’।
বাচ্চা দেরিতে কথা বলে কী করবেন: ঘরে কথা শেখানোর উপায়
বাচ্চাকে কথা বলতে শেখানোর উপায় হিসেবে বিশেষ খেলনা বা ক্লাস লাগে না। প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলো বাচ্চাকে শব্দ শোনার আর বলার চেষ্টা করার অনেক বেশি সুযোগ দেয়:
- সারাদিন কথা বলুন। যা করছেন, ছোট আর সহজ শব্দে বলুন: ‘আম কাটছি। হলুদ আম।’
- মুখোমুখি হোন, ওর সমান উচ্চতায়, যাতে আপনার মুখ নড়া দেখতে পারে।
- ওর আগ্রহ বুঝে চলুন। আপনি যা ভেবেছিলেন তা নয়, ও যা দেখছে বা নিয়ে খেলছে, সেটা নিয়ে কথা বলুন।
- একটা শব্দ যোগ করুন। বাচ্চা ‘বল’ বললে আপনি বলুন ‘বড় বল’ বা ‘বল গড়ায়’।
- অপেক্ষা করুন। কিছু বলার পর কয়েক সেকেন্ড থামুন, আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকুন, যাতে বাচ্চা চেষ্টা করার সুযোগ পায়।
- বেছে নিতে দিন: দুটোই হাতে তুলে জিজ্ঞেস করুন, ‘দুধ, না পানি?’
- প্রতিদিন বই পড়ুন আর ছড়া-গান করুন: ছবির বই, ছড়া, হাত-পা নেড়ে গাওয়া গান, বারবার।
- পেছনে চলা টিভি আর মোবাইল বন্ধ রাখুন। শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা বলে, ১৮ মাসের কম বয়সে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়; ১৮–২৪ মাসে শুধু ভালো মানের কিছু, বড় কারও সঙ্গে বসে; আর ২–৫ বছরে দিনে বড়জোর ১ ঘণ্টা; দেখুন বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম।
যা বলতে পারেন
- বল! তুমি বলটা পেয়েছ। বড় লাল বল।
- দুধ খাবে, না পানি?
- তুমি পাখিটা দেখাচ্ছ। পাখি! পাখি উড়ে যাচ্ছে।
- রেডি... এক, দুই... তিন!
- ওহ হো, পড়ে গেল! পড়ে গেল!
- তুমি ‘বাবা’ বললে! হ্যাঁ, বাবা এসেছে।
বাংলাদেশি পরিবারে কথা শেখা: দুই ভাষা, মুরুব্বি আর স্ক্রিন
বাংলা, ইংরেজি আর আঞ্চলিক ভাষা
অনেক বাচ্চা মা-বাবার কাছে শোনে বাংলা, কার্টুনে বা স্কুলের প্রস্তুতিতে ইংরেজি, আর দাদা-দাদির কাছে সিলেটি বা চাটগাঁইয়ার মতো আঞ্চলিক ভাষা। দুই বা তার বেশি ভাষা থাকলে কথা দেরিতে আসে না। দুই ভাষার বাচ্চা শব্দ মিশিয়ে বলতে পারে, বা প্রতিটা ভাষায় শব্দ একটু কম থাকতে পারে, কিন্তু হিসাব হবে সব ভাষা মিলিয়ে। যে ভাষায় আপনি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ, সেই ভাষায় বেশি বেশি, প্রাণ খুলে কথা বলুন।
‘সময় হলে ঠিকই কথা বলবে’
আত্মীয়রা প্রায়ই অভয় দেন: ওর বাবাও ৪ বছরে কথা বলেছে, ছেলেরা দেরিতেই কথা বলে। কখনো কখনো কথাটা ঠিক, কিন্তু কোন বাচ্চা নিজে নিজেই সমান হয়ে যাবে, তা আগে থেকে কেউ জানে না। দেখিয়ে নেওয়ায় কোনো ক্ষতি নেই, আর যার সাহায্য দরকার, সে আগে শুরু করতে পারে। বলতে পারেন: ‘একবার দেখিয়ে নিই, তাহলে সবাই নিশ্চিন্ত থাকব।’
খাওয়ার সময় মোবাইল, আর লম্বা চুপচাপ সময়
প্রতিবার খাওয়ার সময় কার্টুন চললে দিনের সবচেয়ে ভালো গল্পের সময়গুলোর একটা হারিয়ে যায়; দেখুন মোবাইল ছাড়া খাওয়ানোর উপায়। গৃহকর্মী বা কোনো আত্মীয় লম্বা সময় বাচ্চাকে দেখলে তাঁকে দুই-তিনটা সহজ অভ্যাস শিখিয়ে দিন: জিনিসের নাম বলা, ছড়া গাওয়া, উত্তরের জন্য একটু অপেক্ষা করা।
কথা বাড়াতে ৭ দিনের পরিকল্পনা
একবারে একটা অভ্যাস যোগ করুন, কী হচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন। নিচের কোনো সতর্কতার লক্ষণ থাকলে এখনই দেখানোর ব্যবস্থা করুন; এই পরিকল্পনা অপেক্ষার সময়টার জন্য, দেখানোর বদলে নয়।
- দিন ১: বাচ্চা যত শব্দ আর ইশারা ব্যবহার করে, সব ভাষা মিলিয়ে লিখে রাখুন। চেকআপেও এই তালিকা কাজে লাগবে।
- দিন ২: পেছনে চলা টিভি বন্ধ রাখুন, আর খেয়াল করুন কথা বলার শান্ত সময় কতটা বাড়ল।
- দিন ৩: দিনে ১০ মিনিট মুখোমুখি খেলা যোগ করুন, যেখানে বাচ্চা ঠিক করবে কী খেলবে, আর ওর শব্দের সঙ্গে একটা শব্দ যোগ করুন।
- দিন ৪: একসঙ্গে একটা ছবির বই পড়ুন, নাম বলে বলে আর আঙুল দিয়ে দেখিয়ে।
- দিন ৫: খাওয়া আর খেলার সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন, আর চেষ্টার জন্য কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
- দিন ৬: দাদা-দাদি বা নানা-নানি আর যাঁরা বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন, সবাইকে এই অভ্যাসগুলো জানিয়ে দিন।
- দিন ৭: শব্দের তালিকা নতুন করে লিখুন আর প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। যে অভ্যাসগুলো আপনার দিনের সঙ্গে মিলেছে, সেগুলো রাখুন।
২ বছরের বাচ্চা কথা বলে না: কখন দেরি না করে দেখাবেন
নিচের কোনোটা মিলে গেলে ‘দেখি আরেকটু’ বলে অপেক্ষা করবেন না। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখান, কানে শোনার পরীক্ষাসহ (হিয়ারিং টেস্ট):
এমন হলে দেখিয়ে নিন
- মোটামুটি ১২ মাসেও আধো আধো বুলি নেই, বা আঙুল দিয়ে দেখানো বা হাত নাড়া নেই।
- মোটামুটি ১৬ মাসেও একটা শব্দও বলে না।
- মোটামুটি ২ বছরেও ‘আরো দুধ’-এর মতো দুটো শব্দ জুড়ে বলে না।
- যে কোনো বয়সে নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না, বা মনে হয় আপনার কথা শুনতে পায় না।
- মোটামুটি ১৮ মাসেও সহজ শব্দ বা কথা বোঝে বলে মনে হয় না, বা ৩ বছরেও পরিবারের লোকজন তার কথা খুব কম বোঝে।
- যে কোনো বয়সে, আগে বলত এমন শব্দ বা পারত এমন দক্ষতা হারিয়ে ফেলে। এমন হলে দেরি না করে দেখান।
দেখাতে গেলে কী হয়?
ডাক্তার সাধারণত বাচ্চার শব্দ, বোঝা আর খেলা নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, কানে শোনার পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন, আর দরকার হলে স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে পাঠান। সঙ্গে নিন শব্দের তালিকা আর বাসায় বাচ্চার একটা ছোট ভিডিও। অনেক ছোট বাচ্চার থেরাপি হয় খেলার মধ্য দিয়ে, আর তাতে বাবা-মা শেখেন প্রতিদিন কী করবেন।
ParentMind-এ প্রতিদিনের নতুন শব্দ আর ইশারার ছোট্ট নোট রাখতে পারেন, যাতে অগ্রগতি চোখে পড়ে আর চেকআপে একটা পরিষ্কার হিসাব নিয়ে যেতে পারেন; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
২ বছরের বাচ্চা কয়টি শব্দ বলে?
অনেক ২ বছরের বাচ্চা প্রায় ৫০টি শব্দ বলে, আর ‘আরো পানি’-র মতো দুটো শব্দ জুড়ে বলতে শুরু করে। বাচ্চাভেদে পার্থক্য অনেক, আর সব ভাষার শব্দই গোনা হয়। বাচ্চার শব্দ এর চেয়ে অনেক কম হলে, বা ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে না বললে, অপেক্ষা না করে কানে শোনার পরীক্ষাসহ দেখিয়ে নিন।
২ বছরের বাচ্চা মাত্র কয়েকটা শব্দ বলে — এটা কি স্বাভাবিক?
এমন হয়, আর এদের কেউ কেউ পরে সমবয়সীদের সমান হয়েও যায়; তবে বেশির ভাগ ২ বছরের বাচ্চা এর চেয়ে বেশি বলে, তাই পরে নয়, এখনই দেখিয়ে নেওয়া ভালো। দেখানোর সময় কানে শোনার পরীক্ষা হয়, আর বোঝা, ইশারা আর খেলাও দেখা হয়। এর মধ্যে প্রতিদিন মুখোমুখি কথা বলুন, বই পড়ুন, খেলুন, আর পেছনে টিভি চালিয়ে রাখবেন না।
শিশু কথা বুঝে কিন্তু বলে না — চিন্তার কিছু আছে কি?
ভালো বুঝতে পারা আশার লক্ষণ, তবে অপেক্ষা করার কারণ নয়। মোটামুটি ১৬ মাসেও কোনো শব্দ না বললে, বা ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে না বললে দেখিয়ে নিন। যে বাচ্চা যতটা বোঝে তার চেয়ে কম বলতে পারে, সে প্রায়ই হতাশ হয়, আর তাতে জেদ বাড়তে পারে; দেখুন জেদের মুহূর্তে কী করবেন।
ঘরে দুই ভাষা থাকলে কি বাচ্চা দেরিতে কথা বলে?
না। বাংলা আর ইংরেজি, বা আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে বড় হলে কথা দেরিতে আসে না। দুই ভাষার বাচ্চা ভাষা মিশিয়ে বলতে পারে, বা প্রতিটা ভাষায় শব্দ একটু কম থাকতে পারে, কিন্তু আসল হিসাব সব ভাষা মিলিয়ে। দুই ভাষার বাচ্চার মধ্যেও সতর্কতার লক্ষণ দেখা দিলে অন্য যে কোনো বাচ্চার মতোই দেখিয়ে নিন।
ছেলেরা কি মেয়েদের চেয়ে দেরিতে কথা বলে?
গড়ে ছেলেরা প্রায়ই একটু দেরিতে শুরু করে, কিন্তু সব বাচ্চার মধ্যেই পার্থক্য অনেক, আর ছেলে-মেয়ে দুজনের জন্য সতর্কতার লক্ষণ একই। ছেলে মোটামুটি ১৬ মাসেও কোনো শব্দ না বললে, ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে না বললে, বা বলা শব্দ হারিয়ে ফেললে ‘ছেলেরা দেরিতেই কথা বলে’ ভেবে অপেক্ষা করবেন না।
টিভি বন্ধ রাখলে কি বাচ্চার কথা বলায় সাহায্য হয়?
প্রায়ই সাহায্য করে, বিশেষ করে যে টিভি কেউ না দেখলেও পেছনে চলতে থাকে। ছোট বাচ্চা শব্দ শেখে মানুষের সঙ্গে আদান-প্রদানের কথায়, আর স্ক্রিন তার সঙ্গে পালা করে কথা বলতে পারে না। শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা বলে, ১৮ মাসের কম বয়সে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়, আর ২–৫ বছরে দিনে বড়জোর ১ ঘণ্টা ভালো মানের কিছু।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।






