বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানো: ২–৭ বছরের স্বাবলম্বী হওয়ার ধাপ
ছোট করে উত্তর
২–৭ বছরের বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানোর উপায় হলো, পুরোপুরি পারার আগেই রোজকার কাজগুলো চেষ্টা করতে দেওয়া, যেমন জামা পরা, খাওয়া, হাত ধোয়া, টয়লেট আর গোছানো। প্রতিটা কাজ ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন, বাড়তি সময় রাখুন, যতটুকু দরকার ততটুকুই সাহায্য করুন, আর চেষ্টার প্রশংসা করুন। ছুরি-বঁটি, চুলা, সিঁড়ি আর পানির কাছে বড় কেউ পাশে থাকবেন।
লেখাটি শুনুন
১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ২–৭ বছরের বাচ্চার বাবা-মা, বিশেষ করে যে বাসায় বড়রা, দাদা-দাদি বা গৃহকর্মী বাচ্চার বেশির ভাগ কাজ করে দেন
- মূল কথা
- অনেক বাচ্চা মোটামুটি ২ বছর থেকেই “আমি নিজে করব” বলে, পারার অনেক আগেই; শেখানোর সেরা সময় সেটাই।
- একবারে একটা কাজ, ছোট ছোট ধাপে শেখান; আগে শেষ ধাপটা বাচ্চাকে করতে দিন, তারপর প্রতি সপ্তাহে একটু একটু বেশি।
- বাচ্চার সব কাজ করে দেওয়া ভালোবাসা থেকেই, কিন্তু এতে বাচ্চা চর্চার সুযোগ হারায়; দাদা-দাদি আর গৃহকর্মীর সঙ্গে একটাই পরিকল্পনা ঠিক করুন।
- নিজের কাজ নিজে করা মানে কখনো একা রেখে দেওয়া নয়: ছুরি-বঁটি, চুলা, সিঁড়ি, বারান্দা আর পানির কাছে বড় কেউ পাশে থাকবেন।
স্কুল ভ্যান ধরার তাড়াহুড়োয় ৬ বছরের বাচ্চার জামার বোতাম লাগিয়ে দিতে দিতে হয়তো ভেবেছেন, বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানো কীভাবে সম্ভব, যখন নিজে করে দেওয়াই এত দ্রুত। আপনি একা নন: অনেক বাসায় ভালোবাসা আর ব্যস্ত সকালের কারণে বড়রাই প্রায় সব করে দেন।
আমরা যতটা ভাবি, বাচ্চারা সাধারণত তার চেয়ে বেশি করতে প্রস্তুত, আর প্রায়ই নিজেই করতে চায়। যে ২ বছরের বাচ্চা জেদ ধরে “আমি করব”, আর যে ৫ বছরের বাচ্চা এখনো পানি ঢালতে পারে না, দুজনেই স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। সবচেয়ে কাজে দেয় রোজকার ছোট চর্চা, আপনি পাশে থেকে।
নিচে পাবেন: কেন নিজের কাজ নিজে করা জরুরি, বয়স অনুযায়ী দক্ষতার তালিকা, যেকোনো কাজ ধাপে ধাপে শেখানোর উপায়, “আমি নিজে করব” পর্যায়, নিরাপত্তার সীমা, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন।
নিজের কাজ নিজে করা কেন জরুরি, আর বাচ্চারা কেন এত আগে থেকেই চায়
মোটামুটি ২ বছর থেকেই অনেক বাচ্চা নিজে নিজে করতে চায়: মোজা খুলতে, নিজে খেতে, লিফটের বোতাম চাপতে। একা করার এই তাগিদ সুস্থ বিকাশেরই অংশ, আর প্রতিটা ছোট সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
- আত্মবিশ্বাস: “আমি পারি” ছোট্ট বাচ্চার জন্য দারুণ একটা অনুভূতি।
- স্কুল: যে বাচ্চা নিজে টয়লেট, টিফিন বক্স আর ব্যাগ সামলাতে পারে, সে প্রায়ই প্লে গ্রুপ বা স্কুলে সহজে মানিয়ে নেয়।
- লড়াই কম: ছোট ছোট বিষয়ে যার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আছে, সে প্রায়ই বড় বিষয়ে কম জেদ করে।
- দায়িত্ববোধ: আজকের মোজার ড্রয়ার কালকের হোমওয়ার্ক আর ঘরের কাজ; এর পরের ধাপ পাবেন বয়স অনুযায়ী ঘরের কাজ আর দায়িত্ব লেখায়।
বয়স অনুযায়ী নিজের কাজ: ২ থেকে ৭ বছরে বেশির ভাগ বাচ্চা যা পারে
প্রত্যেক বাচ্চা নিজের গতিতে শেখে, তাই এটা মোটামুটি ধারণা হিসেবে দেখুন, পরীক্ষা হিসেবে নয়। প্রতিটা সারিতে আছে, চর্চা পেলে ওই বয়সের আশপাশে অনেক বাচ্চা যা পারে:
| বয়স | জামা পরা | খাওয়া | টয়লেট আর ধোয়া-মোছা | গোছানো আর হাত লাগানো |
|---|---|---|---|---|
| ২ বছর | মোজা, জুতা আর ঢিলা জামা খুলতে পারে; হাতায় হাত ঢোকায় | আঙুলে আর চামচে নিজে খায়, মাখামাখি করে; সাহায্য নিয়ে খোলা কাপে পানি খায় | ভেজা বা নোংরা ডায়াপারের কথা জানাতে পারে; অনেকটা সাহায্য নিয়ে হাত ধোয় | আপনার সঙ্গে মিলে খেলনা ঝুড়িতে রাখে; ঝাড়ু দেওয়া, মোছা নকল করে |
| ৩ বছর | ঢিলা জামা আর স্যান্ডেল নিজে পরে; টি-শার্ট উল্টো হয়ে যেতে পারে | চামচে বা হাতে নিজে খায়, কম ফেলে-ছড়িয়ে | অনেকে টয়লেট ব্যবহার শিখছে; সাহায্য নিয়ে হাত ধোয় | মনে করিয়ে দিলে খেলনা গুছিয়ে রাখে; প্লাস্টিকের প্লেট রান্নাঘরে নিয়ে যায় |
| ৪ বছর | অল্প সাহায্যে জামা পরে; বোতাম আর ফিতা এখনো কঠিন | নিজে খায়; ছোট জগ থেকে পানি ঢালে | দিনে টয়লেট ব্যবহার করে, মাঝে মাঝে ভুল হয়; হাত ধোয়; আপনার সাহায্যে দাঁত ব্রাশ করে | মনে করিয়ে দিলে এক জায়গা গুছিয়ে রাখে; খাবার টেবিল সাজাতে হাত লাগায় |
| ৫ বছর | বোতামে একটু সাহায্য লাগে, বাকিটা নিজে পরে | চামচে বা হাতে নিজে খায়; নিজের ডাল-ভাত নিজে মাখায় | টয়লেট ব্যবহার করে; নিজে ধুয়ে পরিষ্কার হওয়া শিখছে; হাত ধোয় | ময়লা জামা ঝুড়িতে রাখে; রোজকার ছোট কাজ |
| ৬–৭ বছর | মনে করিয়ে দিলে নিজে জামা পরে, হাত-মুখ ধোয়, দাঁত ব্রাশ করে; অনেকে ৭-এর আশপাশে জুতার ফিতা বাঁধে | নিজের খাবার নিজে নেয়; খাওয়ার পর গোছাতে হাত লাগায় | একা টয়লেট সামলায়; বড় কেউ কাছে থাকলে নিজে গোসল করে | ৬ বছরে সাহায্য নিয়ে, ৭ বছরে অল্প মনে করিয়ে দিলেই স্কুলব্যাগ গোছায়; ছোট ঘরের কাজ |
প্রতিটি বয়সে বিকাশের পুরো ছবি পাবেন বয়স অনুযায়ী শিশুর বিকাশ লেখায়, আর টয়লেট শেখানোর ধাপ পাবেন বাচ্চার টয়লেট ট্রেনিং লেখায়।
বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানো: ধাপে ধাপে
স্যান্ডেল পরা থেকে হাত ধোয়া পর্যন্ত, প্রায় যেকোনো কাজে একই পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন:
- ওপরের তালিকা থেকে এমন একটা কাজ বেছে নিন, যেটার জন্য বাচ্চা প্রায় প্রস্তুত।
- কাজটাকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন। টি-শার্ট পরা যেমন: লেবেল খোঁজা, সামনের দিক নিচে রেখে বিছানো, মাথা ঢোকানো, এক হাত, অন্য হাত, টেনে নামানো।
- পাশাপাশি বসে ধীরে ধীরে দেখান, কথা কম বলুন।
- একসাথে করুন, তারপর শেষ ধাপটা বাচ্চাকে একা করতে দিন। সেটা সহজ হয়ে গেলে শেষ দুটো ধাপ, এভাবে এগোন। কাজ শেষ করতে পারলে জেতার মতো লাগে।
- সহজ করে দিন: ব্যাগের জন্য নিচু হুক, বেসিনের সামনে শক্ত টুল, ছোট একটা জগ, ইলাস্টিকের কোমরের প্যান্ট, ফিতাওয়ালা স্যান্ডেল, খেলনার জন্য নিচু তাক।
- বাড়তি সময় রাখুন: স্কুলের সকালে নিজে করে না দিয়ে বরং ১০ মিনিট আগে শুরু করুন।
- নিখুঁত হওয়া নয়, চেষ্টার প্রশংসা করুন, আর ওর সামনে ওর কাজ আবার নিজে করে দেবেন না। গর্ব নিয়ে পরা একটু বাঁকা জামাও একটা সাফল্য।
শেখার সময় যা বলতে পারেন
- তুমি আগে চেষ্টা করো। লাগলে আমি তো আছিই।
- আজ কোনটা পরবে, নীল জামা না লালটা?
- বোতামগুলো নিজে লাগিয়েছ! অনেক চেষ্টা করেছ।
- কঠিন লাগছে, তাই না? এখনো শেখা হয়নি। চলো একসাথে করি।
- এই অংশটা তুমি করো, ওই অংশটা আমি করি।
- একটু ছড়ালে সমস্যা নেই। পরে দুজনে মিলে পরিষ্কার করব।
“আমি নিজে করব” পর্যায়: ছোট বাচ্চা যখন সব নিজে করতে চায়
মোটামুটি ২ থেকে ৩ বছর বয়সে অনেক বাচ্চা সব কিছু নিজে করার জেদ ধরে, স্ট্রলারের বেল্ট লাগানো থেকে লিফটের সব বোতাম চাপা পর্যন্ত, আর আপনি হাত দিলেই কান্নাকাটি। ইচ্ছাটা দক্ষতার চেয়ে এগিয়ে থাকে, তাই দুজনেরই অস্থির লাগে।
- নিরাপদ কাজে যতবার পারেন হ্যাঁ বলুন, সময় বেশি লাগলেও: নিজের টিফিন বক্স বয়ে নেওয়া, হাতায় নিজে হাত ঢোকানো, লিফটের বোতাম চাপা।
- যে কাজগুলো ওর কাছে সবচেয়ে জরুরি, সেগুলোতে “নিজে করার” সময় রাখুন, আর তাড়াহুড়োর কাজগুলো একসাথে করুন।
- ভাগ করে নিন: “জুতা তুমি পরো, বোতাম আমি লাগাই।”
- যখন আপনাকেই করতে হবে, কারণটা বলুন আর অনুভূতির নাম দিন: “তুমি নিজে করতে চেয়েছিলে। আজ দেরি হয়ে গেছে, তাই আমি সাহায্য করছি। কাল তুমি আগে চেষ্টা করবে।”
- না বলুন শুধু নিরাপত্তার জন্য, যেমন চুলা, ছুরি বা বারান্দার দরজা; বদলে নিরাপদ একটা কাজ দিন।
একা খেলা: আপনি কাছে থাকবেন, বাচ্চা কয়েক মিনিট নিজে খেলবে
কিছুক্ষণ একা খেলাও একটা দক্ষতা। শুরু করুন কয়েক মিনিট দিয়ে, যখন আপনি একই ঘরে রান্না করছেন বা কাপড় ভাঁজ করছেন, আর বাচ্চার হাতে সহজ জিনিস, যেমন ব্লক, হাঁড়ি-চামচ বা রং পেন্সিল; বাচ্চা বড় হলে ধীরে ধীরে সময়টা বাড়ান। ছোট বাচ্চার একা খেলা সবসময় হবে আপনার চোখের সামনে আর কানের নাগালে।
নিরাপত্তার সীমা: ছুরি-বঁটি, চুলা, সিঁড়ি আর পানি
নিজের কাজ নিজে করা মানে নিজে করা, একা রেখে দেওয়া কখনো নয়। বাচ্চা যত পারদর্শীই মনে হোক, কিছু সীমা বদলায় না:
- ছুরি আর বঁটি: ছোট বাচ্চা ভোঁতা টেবিল-ছুরি দিয়ে নরম খাবার, যেমন কলা বা সেদ্ধ ডিম কাটতে বা মাখাতে পারে, আপনি ঠিক পাশে থাকলে। ধারালো ছুরি আর বঁটি থাকবে নাগালের বাইরে।
- চুলা আর গরম খাবার: ছোট বাচ্চাকে গ্যাসের চুলা, গরম হাঁড়ি, প্রেশার কুকার আর গরম চা থেকে দূরে রাখুন, আর কড়াই-হাঁড়ির হাতল ভেতরের দিকে ঘুরিয়ে রাখুন। বাচ্চারা “রান্না” করতে পারে টেবিলে বসে সবজি ধুয়ে বা ঠান্ডা গোলা মিশিয়ে।
- সিঁড়ি, বারান্দা আর জানালা: ছোট বাচ্চা রেলিং ধরে সিঁড়ি ভাঙবে, বড় কেউ কাছে থাকবেন, আর দুই হাতে কিছু নিয়ে সিঁড়িতে উঠবে না। ছোট বাচ্চার বারান্দায় খেলা নয়, আর বেয়ে ওঠা যায় এমন কিছু জানালা বা গ্রিলের কাছে রাখবেন না।
- পানি: ছোট বাচ্চাকে বাথরুমে বা পানির কাছে এক মিনিটের জন্যও একা রাখবেন না। বালতি আর গামলা ব্যবহারের পর খালি করুন, বাথরুমের দরজা বন্ধ রাখুন; ছোট বাচ্চা বালতির পানিতেও ডুবে যেতে পারে। ৬ বা ৭ বছরের বাচ্চা নিজে গোসল করলেও বড় কেউ কাছে থাকবেন, আর পানি বেশি গরম কি না দেখে নেবেন।
- ওষুধ, পরিষ্কারের তরল, বাটন ব্যাটারি আর চুম্বক: উঁচুতে বা তালা দিয়ে রাখুন। বাটন ব্যাটারি বা চুম্বক গিলে ফেললে সাথে সাথে হাসপাতালে নিন।
- ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, আর ছোট্ট শিশুর সঙ্গেও একা নয়। ছোট ভাইবোনের যত্নে হাত লাগানো সুন্দর, কিন্তু দেখে রাখার দায়িত্ব বড়দের।
আমাদের বাসায়: যখন সবসময় কেউ না কেউ সব করে দিয়েছে
আমাদের অনেক বাসায় বাবা-মা, দাদা-দাদি বা গৃহকর্মী স্কুলে যাওয়ার বয়স পর্যন্তও বাচ্চাকে খাইয়ে দেন, জামা পরিয়ে দেন, গোসল করিয়ে দেন, কোলে নেন। এটা আসে ভালোবাসা থেকে, ব্যস্ত সকাল থেকে, আর বাচ্চা ঠিকমতো খাবে না বা সব নোংরা করবে, এই চিন্তা থেকে। কাউকে কষ্ট না দিয়ে শিশুকে স্বাবলম্বী করার উপায় খুঁজলে, ছোট কিছু বদলে সেই আদরটুকু রেখেও বাচ্চাকে চর্চার সুযোগ দেওয়া যায়:
- পরিবারের কাছে যা সবচেয়ে জরুরি, সেখান থেকে শুরু করুন, যেমন নিজের হাতে খাওয়া বা স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া। একবারে সব বদলানোর দরকার নেই।
- দাদা-দাদি, নানা-নানি: সম্মান রেখে অনুরোধ করুন, আর ওঁদেরও একটা ভূমিকা দিন। “আম্মা, আপনি ওর জন্য কত করেন। ও আগে একটু নিজে চেষ্টা করুক, আপনি পাশে থেকে উৎসাহ দেবেন?” অনেক দাদা-দাদি উৎসাহ দেওয়ার কাজটা খুব উপভোগ করেন।
- গৃহকর্মী: পরিকল্পনাটা আর তার কারণ বুঝিয়ে বলুন, ধাপগুলো দেখিয়ে দিন, আর ধন্যবাদ দিন। নোংরা হলে বা খাওয়া দেরি হলে দোষ হবে, এমন ভয় ওঁর থাকতে পারে; তাই পরিষ্কার করে বলুন, বাচ্চাকে চেষ্টা করতে দেওয়াই এখন কাজের অংশ।
- স্কুলের সকাল: আগের রাতেই জামা বের করে রাখুন, ব্যাগ রাখুন নিচু হুকে, আর ১০ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠুন, যাতে চেষ্টা করার সময় থাকে।
- খাওয়ার সময়: হাতে ভাত খাওয়া সত্যিকারের একটা দক্ষতা, তাই বাচ্চাকে নিজের ডাল-ভাত নিজে মাখাতে দিন। লম্বা সময় ধরে খাওয়া আর খাইয়ে দেওয়া নিয়ে আরও পাবেন বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে লেখায়।
- টয়লেট আর ধোয়া-মোছা: মগ বা হ্যান্ড শাওয়ারের পানি দিয়ে পরিষ্কার হওয়া, তারপর সাবানে হাত ধোয়া টয়লেট শেখারই অংশ; ছোট ছোট ধাপে দেখান, আপনি কাছে থেকে।
- ছেলে আর মেয়ে: দুজনকেই একই কাজ শেখান, পানি ঢালা থেকে কাপড় ভাঁজ করা পর্যন্ত।
একটা নতুন কাজ শেখানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
সপ্তাহের জন্য একটা কাজ বেছে নিন, আর রোজ লিখে রাখুন বাচ্চা কোনটা নিজে করল, কোথায় সাহায্য লাগল, আর ওর কেমন লাগল।
- দিন ১: খেয়াল করুন। আজ বাচ্চা নিজে কী কী করল আর অন্যরা ওর জন্য কী কী করে দিল, লিখে রাখুন।
- দিন ২: একটা কাজ বেছে নিন, ধাপে ভাগ করুন, আর জায়গাটা তৈরি করুন: টুল, হুক, ছোট জগ।
- দিন ৩: ধীরে ধীরে দেখান, একসাথে করুন, আর শেষ ধাপটা বাচ্চাকে করতে দিন।
- দিন ৪: যারা বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন, সবাইকে পরিকল্পনাটা জানান, আর সাহায্যের আগে একটু অপেক্ষা করতে বলুন।
- দিন ৫: শেষ দুটো ধাপ বাচ্চাকে করতে দিন, আর দরকার হলে সকালে ১০ মিনিট বাড়তি রাখুন।
- দিন ৬: চেষ্টার প্রশংসা করুন, আর নতুন শেখা কাজটা দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে দেখাতে দিন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। চালিয়ে যান, আর পরের সপ্তাহে পরের ধাপ যোগ করুন।
নিজের কাজ শেখা নিয়ে কখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন
নিজের কাজ শেখার গতি একেক বাচ্চার একেক রকম, আর তালিকার চেয়ে কয়েক মাস পিছিয়ে থাকা খুব সাধারণ। বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, বা আরও আগে ব্যবস্থা নিন, যদি:
কখন সাহায্য নেবেন
- বাচ্চা আগে যা পারত, তা হারিয়ে ফেলে, যেমন নিজে খাওয়া, টয়লেট ব্যবহার, কথা বা খেলা। দ্রুত পরীক্ষা করান।
- সমবয়সীদের তুলনায় রোজকার শারীরিক কাজ অনেক বেশি কঠিন লাগে, যেমন চামচ ধরা, জামা টেনে পরা বা সিঁড়ি ভাঙা, বা বাচ্চা খুব ঘন ঘন পড়ে যায়।
- ৪ বছর বেশ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বেশির ভাগ দিন দিনের বেলায় কাপড় ভেজায়, বা টয়লেট করতে ব্যথা পায়।
- বাচ্চা হঠাৎ জামা খুলতে, গোসল করতে বা টয়লেটে যেতে না চাইলে, বা নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা জায়গাকে ভয় পেতে শুরু করলে: নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, ওই মানুষটির কাছ থেকে দূরে রাখুন আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। বাচ্চা যদি বলে কেউ তাকে কষ্ট দিয়েছে, স্থানীয় থানায় জানান।
- বাটন ব্যাটারি বা চুম্বক গিলে ফেললে সাথে সাথে হাসপাতালে নিন। পড়ে গিয়ে বা মাথায় আঘাত পাওয়ার পর বাচ্চা ঝিমিয়ে পড়লে, বমি করলে বা স্বাভাবিক আচরণ না করলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিটা নতুন কাজে বাচ্চা খুব ভেঙে পড়ে, বা নিজেকে “অকেজো” বলে: বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর পড়ুন বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়।
ছোট ছোট কাজ রোজকার চর্চায় সবচেয়ে দ্রুত শেখা হয়, আর এক সপ্তাহের নোট সেই অগ্রগতি দেখায়, যা সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
কত বছর বয়সে বাচ্চা নিজে জামা পরতে পারে?
বেশির ভাগ বাচ্চা মোটামুটি ৩ বছরে ঢিলা জামা টেনে পরতে পারে, ৪–৫ বছরে অল্প সাহায্যে পরে, তখনো বোতাম আর ফিতা কঠিন, আর ৬–৭ বছরে মনে করিয়ে দিলেই নিজে পরে। ইলাস্টিকের কোমর, বড় বোতাম আর ফিতাওয়ালা স্যান্ডেল কাজটা সহজ করে। আগের রাতে জামা বের করে রাখুন, আর শেষ ধাপটা বাচ্চাকে নিজে শেষ করতে দিন।
কড়া না হয়েও কীভাবে সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলব?
আত্মনির্ভরতা আসে চেষ্টা থেকে, চাপ থেকে নয়। একবারে একটা কাজ বেছে নিন, দেখিয়ে দিন, বাচ্চাকে চেষ্টা করতে দিন, আর যতটুকু দরকার ততটুকুই সাহায্য করুন। ছোট ছোট পছন্দের সুযোগ দিন, ছড়ানো আর দেরি মেনে নিন, আর চেষ্টার প্রশংসা করুন। নিরাপত্তার জায়গায় সীমা শক্ত রাখুন, বাকি সবটাই হোক চর্চা।
৫ বছরের বাচ্চাকে খাইয়ে দেওয়া কি খারাপ?
মাঝে মাঝে হলে, না; অনেক বাসায় এটা আদরের একটা অভ্যাস। কিন্তু যে ৫ বছরের বাচ্চাকে সবসময় খাইয়ে দেওয়া হয়, সে রোজকার চর্চা হারায়, আর যে বাচ্চা নিজে খায়, সে প্রায়ই বেশি আগ্রহ নিয়ে খায়। আগে নিজে খেতে দিন, হাতে বা চামচে, তারপর চাইলে শেষে কয়েক লোকমা খাইয়ে দিন।
বাচ্চা সবসময় বলে “আমি পারব না”, কী করব?
কথাটাকে ধরুন “এখনো পারি না” হিসেবে। কাজটাকে আরও ছোট ধাপে ভাগ করুন, কিছুটা একসাথে করুন আর শেষটা বাচ্চাকে করতে দিন, যাতে জেতার অনুভূতিটা পায়। নিখুঁত হওয়া নয়, চেষ্টার প্রশংসা করুন, আর ভাইবোন বা কাজিনের সঙ্গে তুলনা করবেন না। প্রায় সব কিছুতেই “পারব না” বললে পড়ুন বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়।
৩ বছরের বাচ্চা কী কী কাজ করতে পারে?
ছোট, সত্যিকারের কাজ: খেলনা ঝুড়িতে রাখা, প্লাস্টিকের প্লেট রান্নাঘরে নিয়ে যাওয়া, ময়লা জামা কাপড়ের ঝুড়িতে রাখা, কাপড় দিয়ে পড়ে যাওয়া পানি মোছা, আর কাপড় মেলার সময় ক্লিপ এগিয়ে দেওয়া। কাজ ছোট রাখুন, একসাথে করুন, আর ধন্যবাদ বলুন। বড় বাচ্চাদের জন্য আরও আইডিয়া পাবেন বয়স অনুযায়ী ঘরের কাজ লেখায়।
৬ বছরের বাচ্চা কি একা গোসল করতে পারে?
অনেক ৬–৭ বছরের বাচ্চা নিজে সাবান মেখে ধুয়ে ফেলতে পারে, তবে বড় কেউ কাছে না থাকলে নয়। ছোট বাচ্চা খুব দ্রুত ডুবে যেতে পারে, বালতির পানিতেও, আর গরম পানিতে পুড়ে যেতে পারে। আপনি কাছে থেকে বাচ্চাকে নিজে গোসল করতে দিন, ব্যবহারের পর বালতি খালি রাখুন, পানির তাপ দেখে নিন, আর বাথরুমের দরজায় ছিটকিনি দিতে দেবেন না।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।







