বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়: যখন সে বলে “আমি পারব না”
ছোট করে উত্তর
বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় হলো তাকে নিজে কাজ করতে দেওয়া, একটু হিমশিম খেতে দেওয়া আর নিজের চেষ্টায় পেরে ওঠার সুযোগ দেওয়া; শুধু প্রশংসায় এটা ততটা বাড়ে না। চেষ্টাটা খেয়াল করুন, বাসায় আসল দায়িত্ব দিন, চেষ্টা করতে আর মাঝে মাঝে ব্যর্থ হতে দিন, আর তুলনা ও কড়া তকমা বাদ দিন। বাচ্চা “আমি বোকা” বললে আগে অনুভূতির উত্তর দিন। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে নিজেকে ছোট করে কথা বলা বা মন খারাপ চললে সাহায্য নিন।
লেখাটি শুনুন
১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৪–১৬ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের বাচ্চা সহজে হাল ছেড়ে দেয়, নতুন কিছু এড়িয়ে চলে বা বলে “আমি কোনো কাজের না”
- মূল কথা
- আত্মবিশ্বাস সাধারণত বাড়ে নিজে পেরে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে: নিজে কাজ করা, আটকে যাওয়া, তারপর পেরে ওঠা; শুধু “তুমি দারুণ” শুনে ততটা নয়।
- চেষ্টার কথা বলা, বাসার আসল দায়িত্ব আর নিরাপদে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ প্রায়ই পুরস্কার বা চাপের চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
- তুলনা, তকমা আর কড়া কথা, হোক তা হালকাভাবে বলা বা আত্মীয়দের মুখে, নীরবে আত্মবিশ্বাস ক্ষয় করতে পারে।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন নিজেকে ছোট করে কথা বললে, বা নিজের ক্ষতি করার কথা একবারও বললে, বাড়তি সাহায্য নিন।
বাচ্চা চেষ্টার আগেই বলে “আমি পারব না”, একটা অঙ্ক ভুল হলেই চোখে পানি চলে আসে, বা বলে “সবাই আমার চেয়ে ভালো”? তাহলে হয়তো ভাবছেন, বেশি চাপ না দিয়ে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় কী। এটা বাবা-মায়েদের খুব চেনা দুশ্চিন্তা, আর বাসাতেই এ নিয়ে অনেক কিছু করা যায়।
আত্মবিশ্বাস মানে জোরে কথা বলা বা সবার সাথে মিশে যাওয়া নয়: চুপচাপ বাচ্চাও নিজের ওপর পুরো ভরসা রাখতে পারে। বাচ্চা যদি মূলত নতুন মানুষের সামনে জড়সড় হয়ে যায়, তাহলে পড়ুন লাজুক বাচ্চাকে সাহায্য করার উপায়। নিচে পাবেন: লক্ষণ, কারণ, বাচ্চা নিজেকে ছোট করে কথা বললে কী বলবেন, রোজকার অভ্যাস, বয়স অনুযায়ী কাজ, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।
সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমে গেলে যে লক্ষণ দেখা যায়
শিশুর আত্মবিশ্বাস কম হলে, বা সে হীনম্মন্যতায় ভুগলে, সাধারণত বোঝা যায় সে কী এড়িয়ে চলে আর নিজের সম্পর্কে কীভাবে কথা বলে, তা দেখে। সাধারণ লক্ষণ:
- চেষ্টার আগেই “আমি পারব না” বা “আমি বোকা” বলা, বা প্রথম ভুলেই হাল ছেড়ে দেওয়া।
- নতুন খেলা, ক্লাস বা কাজ এড়িয়ে চলা, যেখানে শুরুতেই ভালো না-ও পারতে পারে।
- ছোট ভুলে খুব ভেঙে পড়া: ছিঁড়ে যাওয়া পাতা, কেটে দেওয়া একটা উত্তর, বা একটু কম নম্বর।
- সারাক্ষণ নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা: “সবাই আমার চেয়ে ভালো,” “আয়ানই তো বুদ্ধিমান।”
- বারবার আশ্বাস চাওয়া, বা কোনো প্রশংসাই সত্যি বলে বিশ্বাস না করা।
- সব সিদ্ধান্ত অন্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া, বা আলাদা না দেখাতে বন্ধুদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা।
একটা খারাপ দিন মানেই আত্মবিশ্বাসের অভাব নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধরনটা খেয়াল করুন, আর দেখুন কোথায় বেশি দেখা দিচ্ছে: পড়াশোনা, খেলা, বন্ধু, নাকি সবকিছুতে।
বাচ্চা নিজেকে ছোট মনে করে কেন?
আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে অনেক ছোট ছোট অভিজ্ঞতা থেকে: “চেষ্টা করলাম, আর পারলাম।” এমন অভিজ্ঞতা কম হলে, বা ঠিকগুলোর চেয়ে ভুলগুলো নিয়েই অনেক বেশি শুনলে আত্মবিশ্বাস সাধারণত কমে যায়। প্রায়ই কয়েকটা কারণ একসাথে থাকে:
- নিজে করার সুযোগ কম: বোতাম লাগানো থেকে স্কুলব্যাগ গোছানো, সব বড়রা করে দিলে বাচ্চা জানতেই পারে না যে সে নিজেও পারে।
- ভুলকে ব্যর্থতা ধরা: ভুলে বকা, হাসাহাসি বা দীর্ঘশ্বাস শেখায় যে ভুল করা ভয়ের ব্যাপার।
- ভাইবোন, কাজিন বা ক্লাসের বন্ধুদের সাথে তুলনা, বিশেষ করে নম্বর আর চেহারা নিয়ে।
- কড়া তকমা: রাগের মাথায় বলা “অলস”, “অকর্মা” বা “মাথা মোটা” একসময় বাচ্চার নিজের চোখে নিজের পরিচয় হয়ে যেতে পারে।
- কঠিন একটা সময়: পড়া বা অঙ্কে পিছিয়ে পড়া, বুলিং, বাসা বদল, বা পরিবারে কোনো পরিবর্তন।
- স্বভাব: কোনো কোনো বাচ্চা স্বভাবতই একটু বেশি সাবধানী বা নিজের প্রতি কঠোর; নিজের ওপর ভরসা পেতে তাদের বেশি অনুশীলন লাগে।
এর কোনোটার মানেই এই নয় যে আপনি বাবা-মা হিসেবে ব্যর্থ। এগুলোর বেশিরভাগই বদলানো যায়, এই সপ্তাহ থেকেই।
বাচ্চা যখন বলে “আমি বোকা” বা “আমি পারি না”
বাচ্চা যখন বলে “আমি বোকা” বা “আমি কোনো কাজের না”, আমাদের প্রথম ইচ্ছা হয় তর্ক করা: “মোটেই না, তুমি তো খুব ভালো!” এটা খুব কমই কাজে দেয়, কারণ এতে অনুভূতিটা উড়িয়ে দেওয়া হয়। আগে অনুভূতির উত্তর দিন, তারপর ভাবনার:
- থামুন, কাছে যান: ফোন রেখে বাচ্চার পাশে বসুন।
- অনুভূতির নাম বলুন: “অঙ্কটা নিয়ে তোমার খুব বিরক্ত লাগছে।”
- মুহূর্তটাকে বাচ্চার পরিচয় থেকে আলাদা করুন: “এই মুহূর্তে কাজটা কঠিন। তার মানে এই না যে তুমি বোকা।”
- “এখনো” শব্দটা যোগ করুন: “এখনো পারছো না, শিখে যাবে।”
- পরের ধাপটা ছোট করুন: “চলো, শুধু প্রথম লাইনটা একসাথে করি।”
- প্রমাণ দেখান: এমন কিছু, যা একসময় অসম্ভব লাগত আর এখন সহজ, যেমন সাইকেল চালানো বা যুক্তাক্ষর পড়া।
- পরে, শান্ত সময়ে, আলতো করে জিজ্ঞেস করুন এই ভাবনাটা কোথা থেকে এল: কোনো বন্ধু, শিক্ষক, ভাইবোন, নাকি কোনো পরীক্ষা?
যা বলতে পারেন
- খুব কঠিন একটা মুহূর্ত মনে হচ্ছে। বলো তো, কী হয়েছে?
- তুমি বোকা না। কাজটা কঠিন, আর কঠিন কাজ শিখতে অনুশীলন লাগে।
- এখনো পারছো না, এই যা। মনে আছে, যুক্তাক্ষর একসময় কত কঠিন লাগত?
- যাকে আমি এত ভালোবাসি, তার সম্পর্কে এটা খুব কষ্টের কথা।
- চলো, ছোট্ট একটা অংশ একসাথে করি। তারপর পরেরটা তুমি বেছে নাও।
নিজেকে ছোট করে বলা কথার নিচে প্রায়ই থাকে কোনো বড় অনুভূতি, যেমন লজ্জা, হতাশা বা দুশ্চিন্তা। আগে কীভাবে অনুভূতির নাম দেবেন আর শান্ত করবেন, তা আছে শিশুর আবেগ সামলাতে সাহায্য করার উপায় লেখায়।
বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়: রোজকার জীবনে
শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কী করবেন, তার সবচেয়ে কাজের উত্তর হলো নিজে পারার অভিজ্ঞতা: আসল কাজ করা, আটকে যাওয়া, আর তারপর পেরে ওঠা। রোজকার এই অভ্যাসগুলো প্রায়ই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়:
- শুধু ফল নয়, চেষ্টা আর কৌশল খেয়াল করুন: “তুমি প্রতিটা উত্তর আবার মিলিয়ে দেখেছ।” কোন প্রশংসা কাজে দেয়, তা নিয়ে আরও আছে সন্তানের প্রশংসা করার উপায় লেখায়।
- বাসায় আসল দায়িত্ব দিন: টেবিল সাজানো, গাছে পানি দেওয়া, কাপড় ভাঁজ করা, আপনি কাছে থাকতে মোড়ের দোকান থেকে পাউরুটি কেনা। কারও কাজে লাগলে প্রায়ই আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
- নিজে চেষ্টা করতে দিন, মাঝে মাঝে ব্যর্থ হতেও দিন: সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে একটু অপেক্ষা করুন, ছোটখাটো জিনিস ভুল হতে দিন, যেমন এলোমেলো বিছানা বা বাঁকা আঁকা। ছোট কোনো ব্যর্থতা নিজে সামলে উঠলে বাচ্চা যতটা শেখে, কেউ উদ্ধার করে দিলে ততটা শেখে না।
- বাচ্চার পছন্দের একটা দক্ষতা গড়ে তুলুন, যেমন ফুটবল, আঁকা, আবৃত্তি, কোডিং বা রান্না। একটা কাজে নিজেকে দক্ষ মনে হলে সেই ভরসা প্রায়ই বাকি সবকিছুতে ছড়িয়ে পড়ে।
- পছন্দের সুযোগ দিন: কী পরবে, কোন নাশতা, কোন হোমওয়ার্ক আগে। পছন্দ করতে দিলে বাচ্চা বোঝে তার বিচারবুদ্ধির দাম আছে।
- নিজের ভুলও দেখান: “আজ ভুল রাস্তায় চলে গিয়েছিলাম, তাই একজনকে জিজ্ঞেস করে নিয়েছি।”
- রোজ একটু একান্ত সময় দিন, বাচ্চা যা করতে চায় তা-ই করে। উপদেশ ছাড়া মনোযোগ বোঝায়, “তুমি যেমন আছো, তেমনই দামি।”
বয়স অনুযায়ী আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজ
বয়সের সাথে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়ও বদলায়। প্রতিটা বয়সে কীসে প্রায়ই আত্মবিশ্বাস কমে আর কীসে বাড়ে:
| বয়স | যাতে প্রায়ই আত্মবিশ্বাস কমে | যাতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে |
|---|---|---|
| ৪–৬ বছর | অন্যরা যা পারে তা না পারা; হাসাহাসি; তাড়াহুড়া | নিজের কাজ নিজে (বোতাম লাগানো, পানি ঢালা), ছোট দায়িত্ব, দুটোর মধ্যে বেছে নেওয়া |
| ৭–১০ বছর | নম্বর, ক্লাসে রোল নম্বর আর তুলনা; পড়া বা অঙ্কে পিছিয়ে পড়া; খেলায় হারা | একটা দক্ষতায় ভালো হওয়া, চোখে দেখা যায় এমন অগ্রগতি (কোন নামতাগুলো শেখা হলো তার চার্ট), ছোটদের সাহায্য করা |
| ১১–১৩ বছর | চেহারা, বন্ধুত্ব, বাদ পড়া, অনলাইনে তুলনা; পরীক্ষার চাপ শুরু | আসল দায়িত্ব (বাজারে সবজি কেনা, পরিবারের বেড়ানোর পরিকল্পনা), সমাধান না দিয়ে শোনা |
| ১৪–১৬ বছর | বোর্ড পরীক্ষা, বিভাগ বাছাই, শরীর নিয়ে মন খারাপ, সোশ্যাল মিডিয়া | সিদ্ধান্ত নিতে ভরসা পাওয়া, পরিবারের আলোচনায় তার কথার দাম, নিরাপদে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ, তার মতামতের প্রতি সম্মান |
আত্মবিশ্বাস যদি মূলত পরীক্ষা আর রেজাল্টের সময় কমে যায়, পড়ুন পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায়।
তুলনা আর কড়া কথা: আমাদের বাসায় আত্মবিশ্বাস
আমাদের অনেক বাবা-মা কড়া হন ভালোবাসা থেকেই, সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য। তবু রোজকার কিছু অভ্যাস কারও অজান্তেই আত্মবিশ্বাস একটু একটু করে ক্ষয় করতে পারে:
- তুলনা: “দেখো, তোমার কাজিন আবার জিপিএ ৫ পেয়েছে,” বা “তোমার বোন তো কখনো এমন ছিল না।” বাচ্চাকে শুধু তার নিজের আগের অবস্থার সাথে মেলান: “গত মাসে এটা করতে তোমার এক ঘণ্টা লাগত।” আরও পড়ুন সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা লেখায়।
- কড়া কথা: “অকর্মা”, “গাধা” বা “তোকে দিয়ে কিছু হবে না”, এসব অনেক সময় রাগ বা হতাশা থেকে বলা হয়, কিন্তু বাচ্চারা সাধারণত বছরের পর বছর মনে রাখে। বলে ফেলে থাকলে শান্তভাবে মিটিয়ে নিন: “আমি একটা কষ্টের কথা বলেছিলাম। কথাটা সত্যি না।”
- আত্মীয় আর মেহমান: বাচ্চার সামনেই নম্বর, ওজন বা গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য গভীরে লাগে। ছোট, হাসিমুখ একটা উত্তর বাচ্চাকে আগলে রাখে: “ও খুব চেষ্টা করছে, আমরা ওকে নিয়ে গর্বিত।”
- নম্বরই একমাত্র মাপকাঠি: রোল নম্বর, জিপিএ আর কোচিংয়ের পরীক্ষা একসময় পুরো গল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভালো ব্যবহার, চেষ্টা, রসবোধ আর দক্ষতার কথাও মুখে বলুন।
- সব কাজ করে দেওয়া: দাদা-দাদি, নানা-নানি বা গৃহকর্মী অনেক সময় ভালোবাসা থেকেই সব কাজ করে দেন। কয়েকটা কাজ ঠিক করুন যা বাচ্চা এখন নিজে করবে, আর সবাইকে অনুরোধ করুন তাকে করতে দিতে।
- ছেলে আর মেয়ে: মেয়েদের অনেক সময় মুখ খুলতে বা বাইরের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়, আর ছেলেদের দুশ্চিন্তার কথা বলতে। দুজনেরই দরকার নিজে পারার অনুশীলন, আর সাহায্য চাইতে শেখাও।
আত্মীয় তুলনা করলে যা বলতে পারেন
- প্রত্যেক বাচ্চা নিজের গতিতে বড় হয়। ও যে এত চেষ্টা করে, তাতেই আমরা গর্বিত।
- জানেন, রান্নাঘরে ও কিন্তু দারুণ সাহায্য করে।
- পরে বাচ্চাকে আলাদা করে: “খালা যা বললেন, ওটা তোমার পুরো পরিচয় না। তুমি কত চেষ্টা করো, আমি দেখি।”
আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ৭ দিনের পরিকল্পনা
বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় কাজ করছে কি না, তা বোঝা যায় ছোট ছোট পরিবর্তনে। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: বাচ্চা কী চেষ্টা করল, কী এড়িয়ে গেল, আর নিজের সম্পর্কে কী বলল।
- দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। নিজেকে ছোট করে বলা কথাগুলো (“আমি পারি না”, “আমি বোকা”) গুনে রাখুন, আর কখন বলে তা লিখুন।
- দিন ২: একটা কাজ বেছে নিন যা বাচ্চা এখন থেকে রোজ নিজে করবে, আর বাসার সবাইকে জানান।
- দিন ৩: একটা তুলনা বা তকমার বদলে চেষ্টার কথা বলুন: “তুমি হাল ছাড়োনি।”
- দিন ৪: বাচ্চা আটকে গেলে সাহায্যের আগে ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন, তারপর শুধু প্রথম ধাপে সাহায্য করুন।
- দিন ৫: নিজের একটা ভুলের কথা বলুন, আর তারপর কী করেছিলেন।
- দিন ৬: বাচ্চা যেটায় ভালো বা যেটা ভালোবাসে, তাতে ১৫ মিনিট কাটান, কিছু না শিখিয়ে।
- দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। নিজেকে ছোট করে বলা কি কমেছে? নতুন কিছু চেষ্টা করেছে? দায়িত্বটা চালিয়ে যান, পরের সপ্তাহে একটু কঠিন আরেকটা যোগ করুন।
কখন বুঝবেন ব্যাপারটা শুধু আত্মবিশ্বাসের অভাব নয়?
সময়, অনুশীলন আর আন্তরিক সহায়তায় বেশিরভাগ বাচ্চার আত্মবিশ্বাস আবার বাড়ে। তবে নিচের কোনোটি দেখলে বাচ্চার ডাক্তার, স্কুল বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলুন:
এসব দেখলে সাহায্য নিন
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন বাচ্চা বলে “আমি কোনো কাজের না”, “আমি বোকা” বা “নিজেকে ঘৃণা করি”, এমনকি আপনি তার চেষ্টা খেয়াল করার পরও।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন মন খারাপ: দুঃখী, খিটখিটে বা কান্নাভেজা, বা আগের পছন্দের কাজেও আর আনন্দ নেই।
- নিজেকে যথেষ্ট ভালো মনে করে না বলে কয়েক সপ্তাহ ধরে স্কুল, বন্ধু বা পছন্দের কাজ এড়িয়ে চলা।
- নিয়মিত চেষ্টার পরও পড়া, লেখা বা অঙ্কে ক্লাসের অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি পিছিয়ে থাকা: স্কুল বা ডাক্তারের কাছে একবার যাচাই করিয়ে নেওয়ার কথা বলুন।
- বাচ্চা নিজেকে আঘাত করে বা তার কথা বলে, বা বলে বেঁচে না থাকলেই ভালো হতো: শান্ত থাকুন, তার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
- হঠাৎ আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়া, সাথে কোনো মানুষ বা জায়গার প্রতি ভয়, বা বুলিংয়ের লক্ষণ: আলতো করে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
আত্মবিশ্বাসী সন্তান গড়ার উপায় আসলে ছোট ছোট ধাপ, যা কঠিন দিনে সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
শিশুর আত্মবিশ্বাস কম হওয়ার কারণ কী?
সাধারণত একটা নয়, কয়েকটা কারণ মিলে: নিজে করার সুযোগ কম, ভুলকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা, বারবার তুলনা বা কড়া তকমা, বুলিং বা পড়ায় সমস্যার মতো কঠিন কোনো সময়, আর স্বভাবতই সাবধানী মন। এর বেশিরভাগই বদলানো যায়। “চেষ্টা করলাম, আর পারলাম” এমন ছোট ছোট রোজকার অভিজ্ঞতা সময়ের সাথে আত্মবিশ্বাস আবার গড়ে তোলে।
বাচ্চা “আমি বোকা” বললে কী বলব?
কথার আগে অনুভূতির উত্তর দিন: “এটা নিয়ে তোমার খুব বিরক্ত লাগছে।” তারপর মুহূর্তটাকে বাচ্চার পরিচয় থেকে আলাদা করুন: “এই মুহূর্তে কাজটা কঠিন; তার মানে এই না যে তুমি বোকা।” “এখনো” শব্দটা যোগ করুন, পরের ধাপটা ছোট করুন, আর এমন কিছু মনে করিয়ে দিন যা একসময় কঠিন লাগত। “তুমি তো দারুণ” বলে তর্ক করলে খুব কমই কাজ হয়। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন এমন বললে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
বাসায় কীভাবে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়াব?
শিশুর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উপায় শুরু হয় বাসা থেকেই: বাচ্চাকে আসল দায়িত্ব দিন, যেমন টেবিল সাজানো বা আপনি কাছে থাকতে পাউরুটি কেনা, আর সময় বেশি লাগলেও তাকে নিজের কাজ নিজে করতে দিন। পছন্দের সুযোগ দিন, নম্বরের চেয়ে চেষ্টা খেয়াল করুন, ছোটখাটো জিনিস ভুল হতে দিন। রোজ একটু একান্ত সময় দিন। নিজে পারা আর কারও কাজে লাগা সাধারণত শুধু প্রশংসার চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস গড়ে।
বাচ্চাকে কি ব্যর্থ হতে দেওয়া ঠিক?
হ্যাঁ, ছোট আর নিরাপদ ক্ষেত্রে। বাঁকা আঁকা, হেরে যাওয়া খেলা বা ভুলে ফেলে আসা বই বাচ্চাকে শেখায় যে ভুল সামলে ওঠা যায়, ঠিকও করা যায়। পরে কাছে থাকুন, অনুভূতির নাম বলুন, আর পরের চেষ্টার পরিকল্পনায় সাহায্য করুন। সাথে সাথে এগিয়ে যান শুধু তখন, যখন কিছু অনিরাপদ, বা ব্যর্থতা তাকে সবার সামনে অপমানিত করবে।
বাচ্চা নতুন কিছু করতে ভয় পায় কেন?
প্রায়ই কারণ ব্যর্থ হওয়াটা তার কাছে ঝুঁকির মনে হয়: হাসাহাসি, বকা বা তুলনার ভয়। কোনো কোনো বাচ্চা স্বভাবতই সাবধানী। নতুন কাজটাকে ছোট আর নিরাপদ করুন: প্রথমে তার পাশে থেকে একসাথে চেষ্টা করুন, যোগ দেওয়ার আগে দেখে নিতে দিন, আর ফল নয়, চেষ্টার প্রশংসা করুন। কয়েক সপ্তাহে অনেক বাচ্চা একটু একটু করে নিজে থেকেই চেষ্টা করতে শুরু করে।
লাজুক বাচ্চা কি আত্মবিশ্বাসী হতে পারে?
হ্যাঁ। লাজুকতা হলো নতুন মানুষের সামনে অস্বস্তি; আত্মবিশ্বাস হলো বাচ্চা নিজের সামর্থ্যকে কীভাবে দেখে। চুপচাপ বাচ্চাও মিশে যাওয়ার পর নিজের ওপর পুরো ভরসা রাখতে পারে, আবার খুব কথা বলা বাচ্চাও ভেতরে ভাবতে পারে “আমি যথেষ্ট ভালো না”। লাজুকতাই মূল সমস্যা হলে চাপ দেওয়ার চেয়ে মিশে যাওয়ার সময় আর নতুন মানুষের সাথে ধীরে ধীরে অনুশীলন সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমে গেলে কখন চিন্তা করব?
দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন বাচ্চা নিজেকে ছোট করে কথা বললে, বেশিরভাগ দিন মন খারাপ বা খিটখিটে থাকলে, বা নিজেকে যথেষ্ট ভালো মনে না করে কয়েক সপ্তাহ ধরে স্কুল আর বন্ধুদের এড়িয়ে চললে ডাক্তার বা স্কুলের সাথে কথা বলুন। বাচ্চা নিজেকে আঘাত করলে বা তার কথা বললে শান্ত থাকুন, কাছে থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




