মূল কনটেন্টে যান

পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায়: সন্তানকে সাহায্য করবেন যেভাবে

ছোট করে উত্তর

পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায় হলো ঘুম, খাওয়া আর বিরতি নিয়মিত রাখা, নম্বরের বদলে চেষ্টার প্রশংসা করা, আর পরীক্ষার আগে একসাথে ধীরে শ্বাস নেওয়ার চর্চা করা। ৭–১৭ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে পরীক্ষার চাপ খুব সাধারণ; প্রায়ই দেখা যায় ঘুম না আসা, পেট ব্যথা বা পরীক্ষার হলে সব ভুলে যাওয়া। প্যানিক অ্যাটাক, কয়েক দিন ধরে না ঘুমানো বা না খাওয়া, অথবা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা শুনলে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৭–১৭ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তানের সামনে ক্লাস টেস্ট, অর্ধবার্ষিক বা বার্ষিক পরীক্ষা, কিংবা এসএসসি-এইচএসসি
মূল কথা
  • পরীক্ষার আগে একটু ভয় লাগা স্বাভাবিক; সমস্যা হয় যখন চাপের কারণে বাচ্চা ঘুমাতে, খেতে বা ঠিকমতো ভাবতে পারে না।
  • বাচ্চারা প্রায়ই বড়দের দুশ্চিন্তাটাই সবচেয়ে বেশি টের পায়: চেষ্টার প্রশংসা করুন, তুলনা বন্ধ করুন, আর বলুন আপনার ভালোবাসা রেজাল্টের ওপর নির্ভর করে না।
  • আগের রাতে: হালকা রিভিশন, ব্যাগ গোছানো আর সময়মতো ঘুম। সকালে: নাশতা আর ছোট্ট, উষ্ণ একটা বিদায়।
  • নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা শুনলে শান্ত থাকুন, পাশে থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

প্রথম পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগেই শুরু হতে পারে চাপ: ঘুম আসে না, সবার সাথে খিটখিটে মেজাজ, রোজ সকালে পেট ব্যথা, বা “আমি তো ফেলই করব”। আমাদের বাসায় ক্লাস টেস্ট, অর্ধবার্ষিক আর বার্ষিক পরীক্ষা, আর পরে এসএসসি-এইচএসসি পুরো পরিবারের জীবনটাই ঘিরে রাখে, তাই অনেক বাবা-মা খোঁজেন পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায়।

একটু ভয় লাগা স্বাভাবিক, এমনকি তাতে মনোযোগও বাড়তে পারে। লক্ষ্যটা এমন বাচ্চা নয়, যার একটুও ভয় নেই; বরং এমন বাচ্চা, যে পরীক্ষার দিনে ঘুমাতে, খেতে আর ঠিকমতো ভাবতে পারে। এর অনেকটাই নির্ভর করে বাসার পরিবেশের ওপর, আর সেটা আপনার হাতে।

নিচে পাবেন: লক্ষণ, কারণ, কী বলবেন, বাসায় চাপ কমানো, পরীক্ষার আগের রাত আর সকাল, পরীক্ষার হল, পরীক্ষার পর কী বলবেন, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন। পরীক্ষার সপ্তাহের সন্ধ্যার রুটিনের জন্য পড়ুন পরীক্ষার মৌসুমে শান্ত সন্ধ্যা।

পরীক্ষার সময় শিশুর মানসিক চাপের লক্ষণ কী?

পরীক্ষার চাপ বা পরীক্ষাভীতি দেখা দেয় শরীরে, আচরণে আর বাচ্চার কথায়। পরীক্ষার মৌসুমে বেশিরভাগ বাচ্চার মধ্যেই এর কিছু না কিছু দেখা যায়; আসল কথা হলো, কতটা তীব্র আর কতদিন ধরে।

পরীক্ষার মৌসুমে কোনটা সাধারণ, আর কোনটায় বাড়তি সাহায্য দরকার
কোথায় দেখা যায়পরীক্ষার সময় সাধারণবাড়তি সাহায্য দরকার
শরীরবুক ধুকপুক, পরীক্ষার সকালে পেট ব্যথা বা মাথাব্যথাবমি, কাঁপুনি বা বুক ধড়ফড় যা থামে না; কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ দিন ব্যথা
ঘুম আর খাওয়াআগের রাতে ঘুম আসতে দেরি; একটু কম খাওয়াকয়েক দিন ধরে প্রায় না ঘুমানো বা না খাওয়া
মন-মেজাজখিটখিটে মেজাজ, অল্পতে কান্না, ভাইবোনের সাথে ঝগড়াদুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় মন খারাপ বা হতাশ
পড়াশোনাশেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো, একই পাতা বারবার পড়াএকেবারেই শুরু করতে পারে না, বা রোজ গভীর রাত পর্যন্ত পড়ে
কথাবার্তা“যদি ফেল করি?” “আমি অঙ্কে একদম পারি না।”“কোনো লাভ নেই,” বা বেঁচে থাকতে না চাওয়া কিংবা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা (দেখুন: কখন সাহায্য নেবেন)
পরীক্ষার হলেএক মুহূর্তের জন্য মাথা ফাঁকা, তারপর আবার মনে পড়েপ্যানিক অ্যাটাক, বা পুরো খাতা ফাঁকা রেখে আসা

পরীক্ষা নিয়ে বাচ্চারা এত চাপে পড়ে কেন?

পরীক্ষা নিয়ে বাচ্চার দুশ্চিন্তা সাধারণত আসে দুটো জিনিস থেকে: সত্যিকারের চাপ, আর সেই চাপটাকে সে কীভাবে দেখছে। সাধারণ কারণগুলো:

  • অনেক কিছু নির্ভর করে বলে: নম্বর দিয়ে সেকশন, রোল নম্বর, বা পরে কলেজে ভর্তি ঠিক হতে পারে।
  • তুলনা: পারিবারিক আড্ডায় জিপিএ-৫ আর এ প্লাসের আলাপ, কাজিনদের রেজাল্ট, সহপাঠীদের নম্বর।
  • প্রস্তুতি নেই মনে হওয়া: আগের ক্লাসের ফাঁক, বা দেরিতে শুরু করা রিভিশন; সারা বছরের নিয়মিত পড়ার রুটিন এখানে প্রায়ই কাজে দেয়।
  • ক্লান্তি: স্কুল, কোচিং, মডেল টেস্ট আর রাত জাগা — সব একসাথে।
  • বড়দের দুশ্চিন্তা: গলার স্বর, চুপ হয়ে যাওয়া বা বারবার নম্বরের প্রশ্ন থেকে বাচ্চারা বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা টের পায়।
  • স্বভাব: যারা স্বভাবতই বেশি চিন্তা করে বা সবকিছু নিখুঁত চায়, তারা প্রায়ই পরীক্ষার চাপ বেশি টের পায়; দুশ্চিন্তা সব ব্যাপারে দেখা দিলে পড়ুন শিশুর দুশ্চিন্তা।

পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায়: পরীক্ষার আগে যা করবেন ও বলবেন

  1. খেয়াল করুন আর মুখে বলুন: “কালকের পরীক্ষা নিয়ে তোমাকে চিন্তিত লাগছে।” সঙ্গে সঙ্গে আশ্বাস দিতে যাবেন না।
  2. আগে শুনুন। জিজ্ঞেস করুন কোনটা সবচেয়ে খারাপ লাগছে: বিষয়টা, সময়, রেজাল্ট, নাকি লোকে কী বলবে।
  3. চাপটা ছোট করুন: যা বাকি আছে তার ছোট একটা পরিকল্পনা করুন, একবারে একটা অধ্যায়, মাঝে বিরতি।
  4. শরীরটা নাড়ান: একটু হাঁটা, হাত-পা টানা বা ছোট একটা খেলায় প্রায়ই চাপ কমে।
  5. একসাথে ধীরে শ্বাস নেওয়ার চর্চা করুন: চার গুনে শ্বাস নিন, ছয় গুনে ছাড়ুন।
  6. সন্ধ্যাটা স্বাভাবিক রাখুন: একসাথে রাতের খাবার, কোনো উপদেশ নয়, ঘুমের এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে।

যা বলতে পারেন

  • ভয় লাগাটা স্বাভাবিক। এর মানে বিষয়টা তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
  • কোন জায়গাটা সবচেয়ে কঠিন লাগছে? চলো শুধু ওটাই দেখি।
  • তুমি প্রস্তুতি নিয়েছ। রেজাল্ট যা-ই হোক, আমরা তোমার পাশে আছি।
  • নম্বর যা-ই আসুক, তোমার জন্য আমাদের ভালোবাসা একটুও বদলাবে না।
  • চলো একসাথে শ্বাস নিই: চার গুনে নাও, ছয় গুনে ছাড়ো।

“তোমার কাজিন জিপিএ-৫ পেয়েছে”, রেজাল্ট নিয়ে হুমকি, বা “ভয় পেয়ো না” — এসব এড়িয়ে চলুন। তুলনা আর হুমকি সাধারণত ভয় বাড়ায়, আর দুশ্চিন্তায় থাকা বাচ্চাকে “চিন্তা কোরো না” বললে খুব কমই কাজ হয়।

অভিভাবকের প্রত্যাশার চাপ: আশা না ছেড়েও চাপ কমাবেন যেভাবে

বেশিরভাগ বাবা-মা চাপ দেন ভালোবাসা থেকেই। কিন্তু বাচ্চারা প্রায়ই পরীক্ষার চেয়ে বাসার চাপটাই বেশি টের পায়, আর অতিরিক্ত চাপে সাধারণত ফল ভালো হয় না, বরং খারাপ হয়।

  • শুধু নম্বর নয়, চেষ্টা আর পদ্ধতির প্রশংসা করুন (“তুমি রিভিশনের পরিকল্পনা করে পড়েছ”)।
  • “এ প্লাস ছাড়া চলবে না” না বলে একসাথে মিলে একটা বাস্তব লক্ষ্য ঠিক করুন।
  • তুলনাকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না, ভাইবোনের সাথেও না।
  • নম্বর নিয়ে কথা দিনে একবার, শান্তভাবে, পড়াশোনার খোঁজ নেওয়ার মধ্যেই রাখুন।
  • নিজের দুশ্চিন্তারও যত্ন নিন; বাসায় আপনার শান্ত গলাই সন্তানকে দেওয়ার মতো সবচেয়ে কাজের জিনিসগুলোর একটা।
  • স্বাভাবিক জীবনের কিছুটা রাখুন: একটু হাঁটা, প্রিয় খাবার, অল্প খেলা বা টিভি।

পরীক্ষার আগের রাতে সন্তানকে শান্ত রাখা, আর পরীক্ষার সকাল

আগের রাতে

  • শুধু হালকা রিভিশন: নোট, সূত্র বা সারাংশ, তারপর থামা। নতুন কোনো অধ্যায় নয়।
  • একসাথে ব্যাগ গোছান: কলম, পেনসিল, রাবার, স্কেল, জ্যামিতি বক্স, দরকার হলে প্রবেশপত্র, পানির বোতল আর ঘড়ি।
  • স্বাভাবিক রাতের খাবার, আর ঘুমের আগে স্ক্রিন ছাড়া শান্ত এক ঘণ্টা।
  • রোজকার সময়েই ঘুম, দেরিতে নয়: ৬–১২ বছরের বাচ্চার ৯–১২ ঘণ্টা আর ১৩–১৮ বছরের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার। সারা রাত জেগে পড়লে সাধারণত পরীক্ষায় মনে করা আরও কঠিন হয়।
  • ঘুম না এলে: দুশ্চিন্তাগুলো কাগজে লিখে ফেলুক, ধীরে শ্বাস নিক, চুপচাপ শুয়ে থাকুক; বিশ্রামেও কাজ হয়।

পরীক্ষার সকালে

  • এমন সময়ে উঠুন যাতে তাড়াহুড়া করতে না হয়।
  • অল্প হলেও নাশতা: ডিম-রুটি, দই-চিড়া, বা কলা আর দুধ।
  • এমন সময়ে বের হোন যাতে আতঙ্ক ছাড়া পৌঁছানো যায়, আর গেটে ভিড় করে উত্তর মেলানোর জটলা এড়িয়ে চলুন।
  • শান্ত বিদায়: একটা জড়িয়ে ধরা আর “নিজের সেরাটা দাও। আমি পরে এখানেই থাকব।” শেষ মুহূর্তের কোনো নির্দেশ নয়।

পরীক্ষার হলে গিয়ে সব ভুলে যায়? হলে আর পরীক্ষার পরে যা কাজে দেয়

পরীক্ষার হলে গিয়ে মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ: চাপে কিছুক্ষণের জন্য মনে করা আটকে যেতে পারে, আর প্রায়ই তা আবার ফিরে আসে। বাসায় আগে থেকে চর্চা করলে পরীক্ষার দিনে এই ধাপগুলো কাজে লাগানো সহজ হয়।

  1. ধীরে শ্বাস: নাক দিয়ে চার গুনে শ্বাস নেওয়া, মুখ দিয়ে ছয় গুনে ছাড়া — তিন থেকে পাঁচবার।
  2. কয়েক সেকেন্ড মেঝেতে দুই পা আর হাতে কলমটা অনুভব করা।
  3. আগে পুরো প্রশ্নপত্রটা পড়া, তারপর জানা কোনো প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা।
  4. মাথা ফাঁকা হয়ে গেলে প্রশ্নটা চিহ্ন দিয়ে রেখে সামনে এগোনো, পরে ফিরে আসা।
  5. প্রতিটি প্রশ্নে কিছু না কিছু লেখা: একটা শিরোনাম, একটা সূত্র বা প্রথম ধাপ।
  6. প্রতি মিনিটে নয়, প্রতিটি অংশ শেষে একবার ঘড়ি দেখা।

প্রতিটি পরীক্ষার পর, আর রেজাল্টের দিনে কী বলবেন

প্রতিটি পরীক্ষার পরের কথাবার্তাই ঠিক করে দেয় পরের পরীক্ষার মেজাজ। কত পাবে নয়, জিজ্ঞেস করুন কেমন লাগল।

  • “কত নম্বর পাবে?” না বলে জিজ্ঞেস করুন, “কোন অংশটা ভালো হয়েছে?”
  • প্রতিটি উত্তর ধরে ধরে কাটাছেঁড়া করবেন না; পরের পরীক্ষাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • পরের বিষয়ের আগে খাবার, বিশ্রাম আর একটু নিজের সময় দিন।
  • কোনো পরীক্ষা খারাপ হলে শান্ত থাকুন: “এটা কঠিন ছিল। চলো পরেরটার জন্য তৈরি হই।”
  • শেষ পরীক্ষার পরের জন্য অপেক্ষা করার মতো কিছু ঠিক করে রাখুন: কোথাও বেড়ানো, কারও বাসায় যাওয়া, বা প্রিয় কোনো খাবার।

কম নম্বর পাওয়ার পরের সন্ধ্যার জন্য পড়ুন পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে।

আমাদের বাসায় পরীক্ষার চাপ: পরীক্ষার ক্যালেন্ডার, জিপিএ-৫ আর আত্মীয়স্বজন

আমাদের দেশে পরীক্ষার দুশ্চিন্তা চলে স্কুলের ক্যালেন্ডার আর পরিবারের প্রত্যাশা ধরে, তাই দুটোর জন্যই আগে থেকে ভাবা ভালো।

  • পরীক্ষার ক্যালেন্ডার: সারা বছর ক্লাস টেস্ট, সাময়িক বা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, তারপর বার্ষিক পরীক্ষা, প্রায়ই নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে; বড়দের জন্য যোগ হয় মডেল টেস্ট, টেস্ট পরীক্ষা, তারপর এসএসসি বা এইচএসসি। প্রতিটির পর একটু বিশ্রামের পরিকল্পনা রাখুন, আর নিজের স্কুলের তারিখ জেনে নিন।
  • জিপিএ-৫ আর এ প্লাস: ভালো লক্ষ্য, কিন্তু যখন এটাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য ফল, তখন এর নিচের যে-কোনো নম্বরই ব্যর্থতার মতো লাগতে পারে। উন্নতিটাও উদযাপন করুন।
  • কোচিং আর মডেল টেস্ট: বাড়তি অনুশীলন কাজে আসতে পারে, কিন্তু স্কুলের পরীক্ষার ওপর জমা হলে বিশ্রামের সময়ই থাকে না। বাচ্চা খুব ক্লান্ত হলে কিছুদিনের জন্য কোচিং বা মডেল টেস্টের কোনো একটা বন্ধ রাখুন।
  • আত্মীয়স্বজন আর অভিভাবকদের গ্রুপ: সন্তানের নম্বর সবাইকে জানাতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। “ও মন দিয়ে পড়ছে” — এটুকুই যথেষ্ট।
  • বিশ্বাস আর ভরসা: নামাজ-দোয়া আপনার পরিবারের জীবনের অংশ হলে বের হওয়ার আগে একসাথে ছোট একটা দোয়া বিশ্রাম আর প্রস্তুতির পাশাপাশি মনকে শান্ত করতে পারে।

পরীক্ষাভীতি কাটানোর উপায়: ৭ দিনের পরিকল্পনা

প্রথম পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে শুরু করুন, আর প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: ঘুম, খাওয়া, মন-মেজাজ, আর পরীক্ষা নিয়ে বাচ্চা কী বলল।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। লক্ষণগুলো খেয়াল করে লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: একসাথে বসে বাস্তব একটা রিভিশন পরিকল্পনা করুন, একবারে একটা অধ্যায়, মাঝে বিরতি।
  3. দিন ৩: সকাল আর রাতে একসাথে ধীরে শ্বাস নেওয়ার চর্চা শুরু করুন।
  4. দিন ৪: ঘুমের সময় আর ফোন সরিয়ে রাখার সময় ঠিক করুন, আর পুরো পরীক্ষাজুড়ে তা মেনে চলুন।
  5. দিন ৫: চাপ নিয়ে একবার শান্তভাবে কথা বলুন: বলুন আপনার ভালোবাসা নম্বরের ওপর নির্ভর করে না, আর জানতে চান কোন জিনিসটা তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।
  6. দিন ৬: টেবিলে বসে মোটামুটি সময় ধরে আগের বছরের একটা প্রশ্নপত্র লিখে দেখুক, তারপর শান্তভাবে একসাথে দেখুন।
  7. দিন ৭: পরীক্ষার আগের রাত: হালকা রিভিশন, গোছানো ব্যাগ, স্বাভাবিক খাবার আর সময়মতো ঘুম। পরে দিন ১-এর নোটের সাথে মিলিয়ে দেখুন, আর যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন।

পরীক্ষার চাপ নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন?

পরীক্ষা শেষ হলে সাধারণত চাপ কমে আসে। তবে চাপ খুব তীব্র হলে, অনেকদিন থাকলে, বা জীবনের অন্য সব কিছুতে ছড়িয়ে পড়লে সাহায্য নিন; ডাক্তার বা শিশু-মনোবিজ্ঞানী সাহায্য করতে পারেন, আর এমন সাহায্যে অনেক বাচ্চাই ভালো থাকে।

এসব দেখলে ডাক্তার বা স্কুলের সাথে কথা বলুন

  • প্যানিক অ্যাটাক: বুক ধড়ফড়, দ্রুত শ্বাস, কাঁপুনি বা মাথা ঘোরা, বিশেষ করে বারবার হলে।
  • কয়েক দিন ধরে প্রায় না ঘুমানো বা না খাওয়া, বা এমন ক্লান্তি যা কাটে না।
  • স্কুলে যেতে বা পরীক্ষা দিতে না চাওয়া, বা কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ দিন পেট ব্যথা আর মাথাব্যথা; পড়ুন বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় মন খারাপ বা হতাশা, বা পরীক্ষার অনেক পরেও চাপ না কমা।
  • বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা: শান্ত থাকুন, সন্তানের কাছাকাছি থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • বুলিংয়ের লক্ষণ, বা স্কুল কিংবা কোচিংয়ে নম্বরের জন্য মার খাওয়া বা অপমানিত হওয়া: সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

পরীক্ষার মৌসুম প্রতি বছরই ফিরে আসে, আর লিখে রাখলে ধরনগুলো চোখে পড়া সহজ হয়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

পরীক্ষার আগে বাচ্চার ভয় পাওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ। বেশিরভাগ বাচ্চা পরীক্ষার আগে কিছুটা ভয় পায়, আর অল্প ভয়ে মনোযোগ বাড়তেও পারে। সমস্যা হয় যখন এতে ঘুম, খাওয়া বা ঠিকমতো ভাবা বন্ধ হয়ে যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে, বা সাথে প্যানিক অ্যাটাক কিংবা হতাশার কথা থাকে। নিয়মিত রুটিন আর শান্ত বড়রা পাশে থাকলে অনেক বাচ্চাই সময়টা পার করে ফেলে।

পরীক্ষার আগে সন্তানকে কী বলব?

ছোট আর উষ্ণ রাখুন: “তুমি প্রস্তুতি নিয়েছ। প্রতিটা প্রশ্নে নিজের সেরাটা দাও। আমি পরে এখানেই থাকব।” শেষ মুহূর্তের নির্দেশ, তুলনা আর নম্বরের কথা এড়িয়ে চলুন। বাচ্চারা সাধারণত আপনি কী বলেছেন তার চেয়ে কীভাবে বলেছেন সেটাই বেশি মনে রাখে, তাই শান্ত গলা আর একটা জড়িয়ে ধরাই প্রায়ই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

পরীক্ষার হলে গিয়ে সব ভুলে যায় কেন?

চাপে কিছুক্ষণের জন্য মনে করা আটকে যেতে পারে, তাই বাসায় যে উত্তরগুলো জানত, হলে গিয়ে সেগুলো হঠাৎ মাথা থেকে উধাও হয়ে যায়। প্রায়ই কয়েক মিনিটের মধ্যে আবার মনে পড়ে। ধীরে শ্বাস নেওয়া, আগে পুরো প্রশ্নপত্র পড়া আর সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা মনে পড়তে সাহায্য করতে পারে; আগের রাতের যথেষ্ট ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার আগে ঘুম আসে না, কী করব?

ঘুমের ঘণ্টাখানেক আগে পড়া থামান, সেই সময়টায় স্ক্রিন বন্ধ রাখুন, আর ঘুমের সময় দেরি না করে রোজকার মতোই রাখুন। শুয়ে শুয়ে জেগে থাকলে দুশ্চিন্তাগুলো কাগজে লিখতে আর ধীরে শ্বাস নিতে বলুন। চুপচাপ বিশ্রামেও কাজ হয়, তাই ঘুম নিয়ে আতঙ্কিত হতে মানা করুন; এক রাত কম ঘুমে পরীক্ষা খুব কমই নষ্ট হয়।

আমি কি সন্তানকে বেশি চাপ দিচ্ছি?

হতে পারে, যদি সন্তান নম্বর লুকায়, পরীক্ষার আগে কাঁদে বা আতঙ্কে ভোগে, রোজ গভীর রাত পর্যন্ত পড়ে, নিজেকে নিয়ে বলে ‘আমি তোমাদের মুখ ছোট করেছি’, বা বাসায় রেজাল্টই হয়ে ওঠে প্রধান আলাপ। চেষ্টার প্রশংসা করুন, একসাথে একটা বাস্তব লক্ষ্য ঠিক করুন, আর তুলনাকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না।

পরীক্ষার আগের রাতে কি সারা রাত জেগে পড়া ভালো?

না। বেশিরভাগ বাচ্চা রাত জাগার চেয়ে স্বাভাবিক ঘুমের পর বেশি মনে করতে পারে। ৬–১২ বছরের বাচ্চার ৯–১২ ঘণ্টা আর ১৩–১৮ বছরের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার। সারা রাত জাগার চেয়ে সন্ধ্যায় অল্প একটু হালকা রিভিশন আর সময়মতো ঘুম সাধারণত বেশি কাজে দেয়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।