মূল কনটেন্টে যান

রাত জেগে পড়া না ভোরে উঠে পড়া: কোনটা সন্তানের জন্য ভালো

ছোট করে উত্তর

রাত জেগে পড়া না ভোরে উঠে পড়া, তার চেয়ে বেশি জরুরি ঘুম: ৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা, আর কিশোর বয়সে ৮–১০ ঘণ্টা। ঘুম যথেষ্ট আর নিয়মিত থাকলে দুটো সময়ই চলতে পারে। অনেক ছাত্রছাত্রী দেখে, ছোট ছোট মনোযোগী সময়ে পড়া, ঘুমের আগে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া আর সকালে মনে করে দেখা সবচেয়ে কাজে দেয়। সারারাত জেগে পড়া নয়; ক্লান্ত মাথায় প্রায়ই কম মনে থাকে।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১০–১৮ বছরের যে ছাত্রছাত্রী রাত জেগে পড়ে, বা যাকে ভোরে উঠে পড়তে বলা হচ্ছে, তার বাবা-মা
মূল কথা
  • কোন সময়ে পড়ছে, তার চেয়ে ঘুম বেশি জরুরি: ৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা, আর কিশোর বয়সে ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার।
  • ঘুম পুরো থাকলে দুটো সময়ই চলে: ভোরে উঠতে হলে আগে ঘুমাতে হবে, আর রাতে পড়লে বাতি নেভানোর সময় নির্দিষ্ট রাখতে হবে।
  • অনেক ছাত্রছাত্রী দেখে, লম্বা রাত জাগার চেয়ে ছোট ছোট মনোযোগী সময়, ঘুমের আগে একবার চোখ বুলানো আর সকালে মনে করে দেখা বেশি কাজে দেয়।
  • সারারাত জাগা আর বিছানায় ফোন সাধারণত উল্টো ফল দেয়; পরীক্ষার আগের রাতে হালকা রিভিশন আর স্বাভাবিক সময়ে ঘুম।

রাত জেগে পড়া না ভোরে উঠে পড়া — পরীক্ষার সময় অনেক বাসায় এটা পুরোনো তর্ক: কিশোর সন্তান বলে মাঝরাতের পরেই সবচেয়ে ভালো মন বসে, আর বাবা-মা বা দাদা-দাদি বলেন ভোরে ওঠার কথা। দুই পক্ষেরই যুক্তি আছে। আর দুটোই একইভাবে ভুল দিকে যেতে পারে: যখন পড়ার সময়টা কাটা পড়ে ঘুম থেকে।

সব ছাত্রছাত্রীর জন্য একটাই সেরা সময় বলে কিছু নেই। সবচেয়ে জরুরি যথেষ্ট ঘুম, নিয়মিত রুটিন, আর ক্লান্ত লম্বা পড়ার বদলে ছোট, মনোযোগী পড়া। এই লেখায় পাবেন: সন্তানের কতটা ঘুম দরকার, এত কিশোর কেন রাত জাগে, কী করলে পড়া মনে থাকে, পরীক্ষার সপ্তাহ, কোচিংয়ের সন্ধ্যা আর ভোরে ওঠা, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।

রাত জেগে পড়া না ভোরে উঠে পড়া: কোনটা ভালো?

রাতে পড়া আর ভোরে পড়া, দুটোই কিছু ছাত্রছাত্রী আর কিছু পরিবারের সময়সূচির সঙ্গে মানায়, আর দুটোরই একটা সাধারণ ফাঁদ আছে:

রাতে দেরি করে পড়া, নাকি ভোরে উঠে পড়া
যা মিলিয়ে দেখবেনরাতে দেরি করেভোরে উঠে
সাধারণত মানায়অনেক কিশোর, যাদের শরীরের ঘড়ি দেরিতে চলে; যে বাসা দেরিতে চুপচাপ হয়যে বাচ্চা তাড়াতাড়ি ঘুমায় আর সহজে ওঠে; যে পরিবার এমনিতেই ভোরে ওঠে
সাধারণ ফাঁদস্কুলের আগে ঘুম কম হয়; ফোন ঢুকে পড়ে; সকালে ঘুম ঘুম ভাবরাতে দেরিতে ঘুমিয়েও ভোরে ওঠা, ফলে ঘুম দুই দিক থেকেই কমে
যা করলে কাজ হয়বাতি নেভানোর নির্দিষ্ট সময়, যাতে যথেষ্ট ঘণ্টা ঘুম থাকে; ফোন ঘরের বাইরে; শেষ এক ঘণ্টা স্ক্রিন নয়সেই হিসাবে আগে ঘুমানো; উঠে আগে একটু আলো, পানি আর কয়েক মিনিট সময়
অনেকে যে কাজে লাগায়অঙ্ক বা প্রশ্নের অনুশীলন, উত্তর লেখা, নিয়মিত রিভিশনশেখা জিনিস শান্তভাবে ঝালিয়ে নেওয়া, ছোট তালিকা আর সূত্র, স্কুলের আগে পড়া

সন্তান যদি ভালো করে, যথেষ্ট ঘুমায় আর সকালে ঝামেলা ছাড়াই ওঠে, তাহলে এখনকার সময়টা সম্ভবত ঠিকই আছে, সেটা যেটাই হোক। আর প্রতিদিন সকাল যদি লড়াই হয়ে ওঠে আর নম্বরও কমতে থাকে, তাহলে সময়সূচিটা ভেবে দেখার মতো; শুরু করুন ঘুম দিয়ে।

পরীক্ষার সময় কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত?

পরীক্ষার সময়েও ঘুম লাগে অন্য সময়ের মতোই: ৬–১২ বছরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ৯–১২ ঘণ্টা, আর ১৩–১৮ বছরে ৮–১০ ঘণ্টা। অ্যালার্মের সময় থেকে পিছিয়ে হিসাব করলে বোঝা যায়, কখন ঘুমাতে যেতে হবে:

কতটা ঘুম দরকার, আর ন্যূনতম ঘুমের জন্য সবচেয়ে দেরিতে কখন বাতি নেভাবেন
বয়স২৪ ঘণ্টায় ঘুমভোর ৬টায় অ্যালার্ম: বাতি নেভাবেনভোর ৫টায় অ্যালার্ম: বাতি নেভাবেন
১০–১২ বছর৯–১২ ঘণ্টামোটামুটি রাত ৯টায়মোটামুটি রাত ৮টায়
১৩–১৮ বছর৮–১০ ঘণ্টামোটামুটি রাত ১০টায়মোটামুটি রাত ৯টায়

এগুলো ন্যূনতম ঘুমের জন্য সবচেয়ে দেরির সময়, আর ঘুম আসতেও কিছুটা সময় লাগে, তাই বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী একটু আগে ঘুমালে ভালো থাকে। কিশোর বয়সের ঘুম নিয়ে আরও জানতে দেখুন ১০–১৫ বছর বয়সে কতটা ঘুম দরকার।

পড়া মনে রাখতে ঘুম কেন জরুরি

মনে রাখার পেছনে ঘুমের বড় ভূমিকা আছে: দিনে যা শেখা হয়, তার অনেকটাই ঘুমের মধ্যে গুছিয়ে জমা হয়। তাই বেশি পড়ার জন্য ঘুম কমালে প্রায়ই উল্টো ফল হয়। ক্লান্ত ছাত্র একই পাতা বারবার পড়ে, তবু মনে থাকে কম।

কিশোররা কেন রাত জেগে পড়তে চায়?

অনেক কিশোর সত্যিই রাতে বেশি সজাগ বোধ করে। বয়ঃসন্ধির সময় শরীরের ঘড়ি প্রায়ই পিছিয়ে যায়, ফলে রাতে ঘুম আসে দেরিতে আর ভোরে ওঠা কঠিন লাগে। এটা শরীরের নিয়ম, অলসতা নয়। সমস্যা হলো, স্কুল তো সকালেই শুরু হয়; তাই দেরিতে চলা শরীরের ঘড়ির সঙ্গে রাত জেগে পড়ার অভ্যাস যোগ হলে কিশোর প্রতি রাতেই কম ঘুমাতে পারে। রাতজাগা কিশোরের জন্য প্রায়ই যা কাজে দেয়:

  • ঘুম থেকে উঠেই একটু দিনের আলো: পর্দা সরানো, বারান্দায় দাঁড়ানো, বা নিরাপদ হলে হেঁটে স্কুলে যাওয়া।
  • ঘুমের আগের শেষ এক ঘণ্টায় আলো কম আর স্ক্রিন বন্ধ; উজ্জ্বল স্ক্রিন মস্তিষ্ককে বোঝায় এখনো দিন।
  • ঘুমের সময় একবারে নয়, ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে আনা, কয়েক দিন পরপর মোটামুটি ১৫ মিনিট করে।
  • ছুটির দিনসহ ঘুম থেকে ওঠার সময় মোটামুটি একই রাখা; ছুটির দিনে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমালে সপ্তাহের প্রথম স্কুলের দিনটা আরও কঠিন হয়।
  • রাতজাগা স্বভাবের ভালো সময়টা কাজে লাগানো: সবচেয়ে কঠিন পড়া বিকেলে বা সন্ধ্যার শুরুতে, আর হালকা রিভিশন পরে।

যে সময়েই পড়ুক, কী করলে বেশি মনে থাকে?

সন্তান যে সময়েই পড়ুক, অনেক ছাত্রছাত্রী দেখে, টেবিলে বাড়তি ঘণ্টা বসার চেয়ে এই অভ্যাসগুলো বেশি কাজে দেয়:

  1. স্কুলের দিন আর ছুটির দিন, দুই দিনেই ঘুমানো আর ওঠার সময় মোটামুটি একই রাখা।
  2. বিরতি দিয়ে ছোট ছোট মনোযোগী সময়ে পড়া: ১১–১৩ বছরে মোটামুটি ২৫–৩০ মিনিট, আর ১৪ থেকে মোটামুটি ৩০–৪৫ মিনিট, ফোন অন্য ঘরে রেখে।
  3. বারবার না পড়ে নিজেকে পরীক্ষা করা: বই বন্ধ করে যা মনে আছে লিখে বা বলে দেখা, তারপর মিলিয়ে নেওয়া।
  4. এক রাতে পুরো বিষয় শেষ করার চেষ্টা না করে কয়েক দিনে ভাগ করে রিভিশন দেওয়া।
  5. ঘুমের আগে ১০–১৫ মিনিট মূল বিষয়গুলোয় চোখ বুলানো, স্ক্রিনে নয়, কাগজে, তারপর ঘুমাতে যাওয়া।
  6. সকালে কয়েক মিনিট একই বিষয়গুলো মনে করে দেখা, আগে বই না দেখে।
  7. চা-কফি সকালের জন্য রাখা। এনার্জি ড্রিংক বাচ্চা আর কিশোরদের জন্য উপযুক্ত নয়, আর দিনের শেষে ক্যাফেইন ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে।

কিশোর সন্তানকে যা বলতে পারেন

  • রাতে পড়ায় আমার আপত্তি নেই। আপত্তি কম ঘুমে।
  • আট ঘণ্টা ঘুমাতে হলে তোমাকে কয়টায় ঘুমিয়ে পড়তে হবে?
  • চলো, এক সপ্তাহ তোমার নিয়মে চেষ্টা করি, দেখি সকালগুলো কেমন যায়।
  • আজ রাতের জন্য যথেষ্ট পড়েছ। ঘুমও রিভিশনের অংশ।
  • ফোন ঘুমাবে বসার ঘরে। নোটগুলো চাইলে বিছানার পাশে থাকুক।
  • ঘুম আসছে না? সমস্যা নেই। চুপচাপ শুয়ে থাকো, বিশ্রামেও কাজ হয়।

পরীক্ষার সপ্তাহে আর পরীক্ষার আগের রাতে কী করবেন?

পরীক্ষার সপ্তাহেই রাত জাগার লোভ সবচেয়ে বেশি, আর ক্ষতিও সবচেয়ে বেশি। পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত জেগে পড়লে সাধারণত মনে করা কঠিন হয়, হলে চিন্তা ধীর হয়ে যায়, আর মন খারাপ ও খিটখিটে লাগে। এর বদলে সাধারণত যা কাজে দেয়:

  • পরীক্ষার আগের সপ্তাহে পরীক্ষার দিনের সময়ে ওঠার অভ্যাস করা, যাতে শরীর তৈরি থাকে।
  • আগের রাতে: মূল বিষয়গুলোর হালকা রিভিশন, ব্যাগ গুছিয়ে রাখা, আর দেরিতে নয়, স্বাভাবিক সময়ে ঘুম।
  • সকালে: নাশতা, কয়েক মিনিট মনে করে দেখা, আর জ্যামের কথা ভেবে হাতে সময় রেখে বের হওয়া।
  • দুই পরীক্ষার মাঝে দুপুরের দিকে অল্প একটু ঘুম কিছু কিশোরের কাজে দেয়; বিকেলের লম্বা ঘুম প্রায়ই রাতের ঘুম পিছিয়ে দেয়।
  • দুশ্চিন্তায় ঘুম না এলেও বিশ্রামে কাজ হয়: চুপচাপ শুয়ে থাকা, ধীরে শ্বাস নেওয়া, আর দুশ্চিন্তাগুলো কাগজে লিখে ফেলা।

পরীক্ষার ভয় নিয়ে দেখুন শিশুর পরীক্ষার দুশ্চিন্তা, আর সন্ধ্যার রুটিন নিয়ে পরীক্ষার মৌসুমে শান্ত সন্ধ্যা। এসএসসি আর এইচএসসির বছরে চাপ চলে মাসের পর মাস, তখন সারা বছর ধরেই ঘুম আগলে রাখতে হয়; দেখুন এসএসসি-এইচএসসির বছরের চাপ।

বাংলাদেশের বাসায় পড়ার সময়: কোচিং, ভোরে ওঠা আর ফোন

কোচিংয়ের সন্ধ্যা আর জ্যাম

ঢাকা আর অন্য শহরে অনেক ছাত্রছাত্রী জ্যাম ঠেলে কোচিং থেকে বাসায় ফেরে রাত ৮টা-৯টায়, দেরিতে খায়, তারপর হোমওয়ার্ক শুরু করে। প্রায়ই এই সময়সূচিই, ছাত্র নিজে নয়, পড়াকে মাঝরাত পার করে দেয়। চেষ্টা করে দেখতে পারেন:

  • স্কুলের পরে বা কোচিংয়ের আগে পেট ভরে নাশতা, যাতে রাতের খাবার দেরি হলেও খিদে না থাকে।
  • সময় থাকলে সবচেয়ে কঠিন বা জরুরি কাজটা কোচিংয়ের আগেই, আর দেরির সময়টা হালকা রিভিশনের জন্য।
  • স্কুলের রাতে পড়া শেষ করার একটা সর্বশেষ সময়, আর কাজ বারবার সেই সময় পার হলে টিউটর বা কোচিং সেন্টারের সঙ্গে কথা বলা।
  • শুক্র আর শনিবার পিছিয়ে পড়া কাজ সেরে নেওয়ার জন্য, তবে ঘুম থেকে ওঠার সময় স্বাভাবিক রেখে।

ফজর, ভোরে ওঠা আর পরিবারের অভ্যাস

অনেক মুসলিম পরিবারে দিন শুরু হয় ফজর দিয়ে, আর কিছু বাচ্চা তারপর কিছুক্ষণ পড়তে ভালোবাসে, যখন বাসা চুপচাপ আর ঠান্ডা; অন্য অনেক পরিবার এমনিতেই অভ্যাসবশে ভোরে ওঠে। নামাজের ব্যাপারটা আপনার পরিবারের নিজের, আপনাদের নিজেদের আলেমদের পরামর্শে; এই লেখা শুধু ঘুম নিয়ে। ঘুমের সময়ও আগে এগিয়ে আনলে ভোরে ওঠা অনেক বাচ্চার সঙ্গে ভালো মানায়; না আনলে ভোরে ওঠা শুধু ঘুমই কমায়। রাতে ঘুম কম হলে কিছু পরিবার সেই সকালে বাচ্চাকে সোজা পড়তে না বসিয়ে স্কুলের আগে আবার একটু বিশ্রাম নিতে দেয়।

ফোন, ভাগাভাগির ঘর আর লোডশেডিং

রাতের পড়া রাত জাগায় পরিণত হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ফোন: একটা মেসেজ থেকে এক ঘণ্টা। ঠিক করুন, ফোন চার্জ হবে শোবার ঘরের বাইরে, বড়দেরটাও। ভাইবোন এক ঘরে ঘুমালে অন্য ঘরে টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে পড়লে একজনের পড়ায় আরেকজনের ঘুম ভাঙে না। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রিচার্জেবল লাইটে পড়া চলতে পারে, আর গরমের দিনে কেউ কেউ রিভিশনটা ঠান্ডা ভোরে সরিয়ে নেয়।

সন্তানের পড়ার সবচেয়ে ভালো সময় খুঁজতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

আপনার বাসায় রাত জেগে পড়া না ভোরে উঠে পড়া, এই তর্ক মেটানোর সবচেয়ে ন্যায্য উপায় একটা পরীক্ষা: একটা পরিবর্তনে একমত হোন, প্রতিদিন কী হয় লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: কখন ঘুমাতে যায়, কখন ওঠে, কখন পড়ে আর সকালটা কেমন গেল, লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: ঘুমের টেবিল দেখে অ্যালার্মের হিসাবে সবচেয়ে দেরিতে কখন বাতি নেভাতে হবে, তা বের করুন।
  3. দিন ৩: সন্তানের সঙ্গে একটা পরীক্ষামূলক নিয়ম ঠিক করুন: ওর পছন্দের পড়ার সময়, কিন্তু ঘুমের নিয়মের ভেতরে।
  4. দিন ৪: রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরে, আর শেষ এক ঘণ্টা স্ক্রিন বন্ধ।
  5. দিন ৫: ঘুমের আগে ১০ মিনিট চোখ বুলানো আর সকালে কয়েক মিনিট মনে করে দেখা যোগ করুন।
  6. দিন ৬: ছুটির দিনেও ঘুম থেকে ওঠার সময় স্কুলের দিনের কাছাকাছি রাখুন।
  7. দিন ৭: সকাল, মেজাজ আর কতটা মনে থাকল, মিলিয়ে দেখুন। যে সময়ে কাজ হয়েছে সেটা রাখুন, নয়তো পরের সপ্তাহে অন্যটা চেষ্টা করুন।

ঘুম বা পড়ার চাপ নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন

ঘুম আর পড়ার বেশির ভাগ টানাপোড়েন নিয়মিত পরিকল্পনায় কমে আসে। নিচের কোনোটা দেখলে সন্তানের ডাক্তারের সঙ্গে, বা স্কুলে কাউন্সেলর থাকলে তাঁর সঙ্গে কথা বলুন:

কখন সাহায্য নেবেন

  • নিয়মিত সময়ে ঘুমানোর পরও দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে সন্তান ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়ে, বা বেশির ভাগ সকালে ওকে ওঠানো খুব কঠিন।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ রাতে অনেকক্ষণ জেগে শুয়ে থাকে, বা দুশ্চিন্তায় ঘুম ভেঙে যায়।
  • বেশির ভাগ রাতে জোরে নাক ডাকা, হাঁসফাঁস করা, বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে থেমে যাওয়া।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে দিনের বেশির ভাগ সময় মন খারাপ, হতাশ বা দুশ্চিন্তায় থাকে, বা রোজ রাত জেগে পড়েও মনে করে সে পারছে না।
  • জেগে থাকতে বা ঘুমাতে এনার্জি ড্রিংক, ওষুধ বা অন্য কিছু ব্যবহার করে।
  • সন্তান নিজেকে আঘাত করার কথা বলছে, বা করেছে: শান্ত থাকুন, কাছে থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।

ParentMind-এ প্রতিদিনের ঘুম, পড়া আর মেজাজ লিখে রাখতে পারেন, আর এক-দুই সপ্তাহে কোনো ধরন চোখে পড়ছে কি না দেখতে পারেন; তাতে রাত না ভোর, এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা সহজ হয়। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

রাতে পড়া ভালো, নাকি সকালে?

সবার জন্য কোনোটাই সেরা নয়। অনেক কিশোর সন্ধ্যায় বেশি সজাগ থাকে, আবার কিছু বাচ্চা ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সবচেয়ে ভালো মন দিতে পারে। বেশি জরুরি হলো পড়া যেন ঘুম কেটে না নেয়: ৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা, আর কিশোর বয়সে ৮–১০ ঘণ্টা। এক সপ্তাহ একটা সময় চেষ্টা করুন, সকাল আর মনে রাখা কেমন হচ্ছে লিখে রাখুন, তারপর বদলে নিন।

পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত জেগে পড়া কি ঠিক?

সাধারণত না। এক রাত না ঘুমালে মনে করা কঠিন হয়, পরীক্ষার হলে চিন্তা ধীর হয়, আর ছোটখাটো ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে। মূল বিষয়গুলোর হালকা রিভিশন আর স্বাভাবিক সময়ে ঘুম প্রায়ই নম্বরের জন্য বেশি কাজে দেয়। তাল রাখতে সন্তানকে যদি প্রায়ই সারারাত জাগতে হয়, তাহলে আগের সপ্তাহগুলোর পড়ার পরিকল্পনা নতুন করে ভাবা দরকার।

পরীক্ষার সময় ছাত্রছাত্রীর কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত?

অন্য সময়ের মতোই: ৬–১২ বছরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ৯–১২ ঘণ্টা, আর ১৩–১৮ বছরে ৮–১০ ঘণ্টা। পরীক্ষার সময়েই ঘুম সবচেয়ে বেশি জরুরি, কারণ ঘুম শেখা জিনিস জমা রাখতে আর হলে মাথা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অ্যালার্মের সময় থেকে পিছিয়ে বাতি নেভানোর সময় ঠিক করুন, আর পরীক্ষার রাতেও সেটা মেনে চলুন।

রাত জেগে পড়লে কি মনে থাকে?

ঘুম কমিয়ে হলে না। অনেক ছাত্রছাত্রী দেখে, ঘুমের আগে মূল বিষয়গুলোয় অল্প চোখ বুলিয়ে নিলে কাজে দেয়, কারণ তারপর ঘুম সেটা জমা রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু রাত জাগলে ঠিক সেই ঘুমটাই কমে, যা জমা রাখার কাজ করে; তাই লম্বা রাত জাগায় প্রায়ই কম মনে থাকে। অল্প ঝালিয়ে নিন, ঘুমান, আর সকালে একই বিষয় মনে করে দেখুন।

বাচ্চাদের পড়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?

বেশির ভাগ স্কুলপড়ুয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় স্কুল থেকে ফিরে নাশতা আর একটু বিরতির পর, ঘুমের অনেক আগে। ছোট বাচ্চারা সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যায়, তাই ওদের পড়া আগে আর ছোট রাখুন। বড় বাচ্চা আর কিশোররা নিজেদের সময় বেছে নিতে পারে, যদি তাতে ঘুম ঠিক থাকে। রুটিন গড়ে তুলতে দেখুন বাচ্চা পড়তে বসতে না চাইলে কী করবেন।

কিশোর সন্তানকে ভোরে উঠে পড়ার অভ্যাস কীভাবে করাব?

আগে ঘুমের সময় এগিয়ে আনুন, কারণ আগে না ঘুমিয়ে ভোরে উঠলে শুধু ঘুমই কমে। কয়েক দিন পরপর মোটামুটি ১৫ মিনিট করে ঘুমের সময় এগিয়ে আনুন, শেষ এক ঘণ্টা স্ক্রিন সরিয়ে রাখুন, আর উঠেই একটু দিনের আলো নিন। ছুটির দিনসহ ওঠার সময় একই রাখুন। অনেক কিশোরের অভ্যস্ত হতে দুই-এক সপ্তাহ লাগে, আর কেউ কেউ রাতজাগাই থেকে যায়; ঘুম পুরো হলে সেটাও ঠিক আছে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।