মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা অঙ্কে ভয় পায়? অঙ্কের ভয় কাটানোর সহজ উপায়

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা অঙ্কে ভয় পায় সাধারণত দুশ্চিন্তা থেকে, অঙ্ক না পারার কারণে নয়: ভয়টা প্রায়ই জন্মায় গোড়ার ফাঁক, সময় বেঁধে দেওয়া পরীক্ষা বা তুলনা থেকে। শান্ত থাকুন, সে যা পারে সেখান থেকে শুরু করুন, রোজকার জীবনের অঙ্কে প্রতিদিন একটু করে চর্চা করান, আর শিক্ষকের সাথে মিলে কাজ করুন। কয়েক মাস নিয়মিত সাহায্যের পরও খুব কষ্ট হলে স্কুল আর ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৬–১৫ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের বাচ্চা অঙ্ক দেখলেই কাঁদে, বলে 'আমি অঙ্ক পারি না', বা পরীক্ষায় গিয়ে সব ভুলে যায়
মূল কথা
  • অঙ্কের ভয় খুব সাধারণ; এটা সাধারণত শুরু হয় গোড়ার কোনো ফাঁক, সময় বাঁধা পরীক্ষা বা কড়া তুলনা থেকে, মেধার অভাব থেকে নয়।
  • ভয় পাওয়া অবস্থায় বাচ্চা ভাবতে পারে না; তাই আগে শান্ত হওয়া, তারপর এক ধাপ পিছিয়ে এমন কিছু দিয়ে শুরু, যা সে পারে।
  • 'আমিও অঙ্কে কাঁচা ছিলাম' বলবেন না: শুনলে মনে হতে পারে অঙ্কের মাথা বংশগত, আর এটা বদলায় না।
  • কয়েক মাস নিয়মিত সাহায্যের পরও অন্য বিষয়ের চেয়ে অঙ্ক অনেক বেশি কঠিন থাকলে স্কুল আর ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, চোখ আর কানের পরীক্ষাসহ।

অঙ্কের বই দেখলেই কান্না, 'আমি পারব না', বা পরীক্ষায় গিয়ে মাথা একদম ফাঁকা? বাচ্চা অঙ্কে ভয় পায়, এই দুশ্চিন্তা আমাদের দেশের ঘরে ঘরে খুব চেনা, প্রথম শ্রেণির গোনা থেকে নবম শ্রেণির বীজগণিত পর্যন্ত।

ভালো খবর হলো, অঙ্কের ভয় সাধারণত দুশ্চিন্তার ব্যাপার, মেধার নয়। দুশ্চিন্তায় থাকা মাথা ঠিকমতো মনে রাখতে বা ভাবতে পারে না; ফলে বাচ্চা আরও খারাপ করে, আর ভয় আরও বাড়ে। শান্ত পরিবেশ, ছোট ছোট ধাপ আর ঠিক ধরনের চর্চায় এই চক্রটা প্রায়ই ভাঙা যায়।

নিচে পাবেন: ভয় কেন শুরু হয়, হোমওয়ার্কে কান্না এলে কী করবেন, কী বলবেন আর কী বলবেন না, রোজকার অঙ্কের উপায়, শিক্ষকের সাথে কাজ, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।

বাচ্চা অঙ্কে ভয় পায় কেন?

অঙ্কের ভয় সাধারণত ধীরে ধীরে, কয়েকটা চেনা কারণে তৈরি হয়। অঙ্ক অনেকটা সিঁড়ির মতো: প্রতিটা ধাপ দাঁড়িয়ে থাকে নিচের ধাপের ওপর, তাই একটা ধাপ ফসকে গেলে পরের সবকিছু অসম্ভব মনে হতে পারে।

  • গোড়ায় ফাঁক: স্থানীয় মান, নামতা বা ভগ্নাংশ কখনো ঠিকমতো বোঝা হয়নি; তাই নতুন অধ্যায়গুলো অচেনা ভাষার মতো লাগে।
  • সময় আর চাপ: সময় বেঁধে দেওয়া পরীক্ষা, বোর্ডে ডেকে নেওয়া বা তাড়াতাড়ি শেষ করার তাড়ায় বাচ্চা জমে যেতে পারে, উত্তর জানা থাকলেও।
  • তুলনা আর নম্বর: কাজিনের পুরো নম্বর বা ক্লাসে কততম হলো, এসব শুনতে শুনতে প্রতিটা অঙ্কই বাচ্চার কাছে নিজের যোগ্যতার পরীক্ষা হয়ে ওঠে।
  • কড়া কথা: 'অঙ্কে কাঁচা' বলা, বা ভুলের জন্য বকা খাওয়া বাচ্চাকে শেখায়, যা বোঝে না তা লুকিয়ে রাখতে।
  • বড়দের নিজের ভয়: পাশে বসা বড় মানুষটি অঙ্কের হোমওয়ার্ক দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললে বা অস্থির হলে বাচ্চা তা টের পায়।
  • না বুঝে মুখস্থ: নিয়ম মুখস্থ করে ততক্ষণই চলে, যতক্ষণ প্রশ্নের ধরন না বদলায়; তারপরই ভয় চেপে বসে।

যে লক্ষণে বুঝবেন অঙ্কের ভয় পড়ায় বাধা দিচ্ছে

  • অঙ্কের হোমওয়ার্ক বা অঙ্ক পরীক্ষার আগে কান্না, রাগ বা পেট ব্যথা।
  • প্রায়ই বলা: 'আমি বোকা', 'আমি কখনো পারব না', বা 'অঙ্ক একদম ভালো লাগে না'।
  • বাসায় পারে, কিন্তু পরীক্ষায় গিয়ে মাথা ফাঁকা হয়ে যায়।
  • এড়িয়ে চলা: অঙ্কের বই হারিয়ে যায়, বাথরুমে বেশি সময় লাগে, অঙ্ক সবসময় সবার শেষে।

অঙ্ক দেখলেই কান্না: হোমওয়ার্কের সময় কী করবেন

বাচ্চা কোনো অঙ্ক নিয়ে কাঁদতে থাকলে আরও বোঝানো খুব কমই কাজে দেয়, কারণ ভয় পাওয়া মাথা তখন কিছু নিতে পারে না। এই ধাপগুলোতে আগে শান্ত হওয়া, তারপর শেখা।

  1. কাজটা থামান। পরের অঙ্কের আগে একসাথে একটু পানি খাওয়া আর কয়েকবার ধীরে শ্বাস নেওয়া।
  2. ব্যর্থতা নয়, অনুভূতির নাম দিন: 'এই অঙ্কটা এখন কঠিন লাগছে, তাই না?'
  3. এক ধাপ পিছিয়ে যান এমন কিছুতে, যা বাচ্চা পারে, আর আগে ওরকম দুই-তিনটা করতে দিন।
  4. চোখে দেখার মতো করে দিন: কয়েন, শুকনো মটর, নুড়ি পাথর বা ঝটপট একটা ছবি প্রায়ই সেই জিনিস বুঝিয়ে দেয়, যা শুধু সংখ্যায় বোঝা যায় না।
  5. কীভাবে ভাবছে, দেখাতে বলুন: 'কীভাবে শুরু করলে?' একটা ভুলই ঠিক দেখিয়ে দেয়, কোন জায়গায় চর্চা দরকার।
  6. সময় ছোট রাখুন, ছোটদের জন্য মোটামুটি ১০–১৫ মিনিট, আর শেষ করুন একটা সাফল্য দিয়ে।
  7. কোনো প্রশ্নে তবুও আটকে থাকলে সেটা রেখে দিন, আর বাচ্চার হয়ে করে না দিয়ে শিক্ষকের জন্য ছোট একটা নোট লিখে দিন।

যা বলতে পারেন

  • অঙ্ক কঠিন লাগতেই পারে। কঠিন মানে কিন্তু তুমি পারবে না, তা নয়।
  • প্রথমটা চলো একসাথে করি। পরেরটা তুমি করবে।
  • কীভাবে এটা পেলে, দেখাও তো। তুমি কীভাবে ভাবছ, আমি দেখতে চাই।
  • এই ভুলটা কাজের। এটাই বলে দিচ্ছে, কোনটা চর্চা করতে হবে।
  • গত মাসে এটা তোমার কাছে কঠিন ছিল। আর এখন দেখো!
  • ভালো যাচ্ছে, চলো আজ এখানেই থামি।

শুধু অঙ্ক নয়, সব বিষয়ের হোমওয়ার্কেই যদি যুদ্ধ চলে, দেখুন বাচ্চা হোমওয়ার্ক করতে চায় না: ঝগড়া ছাড়া সাহায্য।

যা বলবেন না: 'আমিও অঙ্কে কাঁচা ছিলাম' আর এমন আরও কিছু কথা

বাচ্চাকে সান্ত্বনা দিতে অনেক স্নেহশীল বাবা-মা বলেন, 'চিন্তা কোরো না, আমিও অঙ্কে কাঁচা ছিলাম।' কথাটা ভালোবাসা থেকেই বলা, কিন্তু বাচ্চা এতে বুঝতে পারে যে অঙ্কের মাথা বংশগত আর এটা বদলায় না; তখন হাল ছেড়ে দেওয়াটাই যুক্তিসংগত মনে হয়।

এটা না বলে, এটা বলে দেখুন
এটা না বলেবলে দেখুন
'আমিও অঙ্কে কাঁচা ছিলাম।''আমারও অঙ্ক শিখতে অনেক চর্চা করতে হয়েছিল। চলো একসাথে চর্চা করি।'
'এটা তো একদম সহজ।''এটা একটু প্যাঁচানো। চলো ছোট ছোট ধাপে ভাগ করি।'
'তোমার কাজিন তো পুরো নম্বর পেয়েছে।''গত মাসে পারতে না, এখন পারো, এমন কী আছে?'
'তুমি অঙ্কে কাঁচা।''এই অংশটা তুমি এখনো শিখছ।'
'তাড়াতাড়ি করো, মাত্র একটা অঙ্ক।''সময় নাও। প্রথম ধাপটা দেখাও।'
'কারও কারও অঙ্কের মাথাই থাকে না।''নিয়মিত চর্চায় বেশিরভাগ মানুষই অঙ্কে ভালো হয়ে ওঠে।'

শাস্তি হিসেবে বাড়তি অঙ্ক দেবেন না, আর অঙ্ক শেষ করার পুরস্কার হিসেবে ফোনও দেবেন না; দুটোই শেখায় যে অঙ্ক এমন জিনিস, যা থেকে পালাতে হয়। বাচ্চা যদি অঙ্ক ছাড়াও অনেক কিছুতে বলে 'আমি পারব না', আরও উপায় পাবেন বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় লেখায়।

বাচ্চাকে অঙ্ক শেখানোর সহজ উপায়: বাসায় আর বাজারে রোজকার অঙ্ক

অঙ্ক যখন পরীক্ষার মতো না দেখিয়ে জীবনের অংশের মতো দেখায়, তখন যে বাচ্চা অঙ্কে ভয় পায়, সে-ও প্রায়ই সহজ হয়ে আসে। রোজকার অঙ্কে নম্বর নেই, ঘড়ি নেই, লাল কালি নেই; আর বাচ্চা দেখে, সংখ্যা নিয়ে সে আসলে ভালোই পারে।

বয়স অনুযায়ী রোজকার অঙ্কের কিছু উপায়
বয়সবাসায়বাজারে বা বাইরে
৬–৮ বছরখাবার টেবিল সাজাতে সাজাতে প্লেট গোনা, বিস্কুট সমান ভাগ করা, লুডুতে ছক্কা গুনে ঘর এগোনো, স্কুল ভ্যানের জন্য ঘড়ি দেখাছোট কেনাকাটায় কয়েন গোনা, হালিতে ডিম গোনা: দুই হালিতে কয়টা?
৯–১১ বছররান্নার উপকরণ দ্বিগুণ বা অর্ধেক করা, চাল আর পানি মাপা, ক্রিকেট খেলায় ওভারপ্রতি কত রান লাগবে হিসাব করাটাকা দেওয়ার আগে বাজারের ফর্দ যোগ করা, ভাংতি মিলিয়ে দেখা, আধা কেজি আর এক কেজির দাম তুলনা করা
১২–১৫ বছরপারিবারিক পিকনিক বা ঈদের কেনাকাটার বাজেট বানানো, একসাথে বিদ্যুৎ বিল পড়া, অতিথিদের জন্য রান্নার পরিমাণ বাড়ানোছাড়ের দাম আর আসল দাম তুলনা করা, কোন প্যাকেটে লাভ বেশি তা বের করা, দোকানির আগেই মনে মনে বিল হিসাব করা

বাচ্চা অঙ্ক পারে না? ছোট ছোট ধাপে সাহায্য করবেন যেভাবে

  • ফাঁকটা খুঁজে বের করুন। শেষ কয়েকটা পরীক্ষার খাতা দেখুন, বা শিক্ষককে জিজ্ঞেস করুন কোন অধ্যায়ে দুর্বলতা; ফাঁকটা প্রায়ই এক-দুই ক্লাস পেছনের, যেমন স্থানীয় মান বা নামতা।
  • অল্প অল্প, কিন্তু নিয়মিত। বেশিরভাগ দিন মোটামুটি ১০–১৫ মিনিট সাধারণত পরীক্ষার আগের এক লম্বা বসার চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
  • নামতা শিখুক খেলা আর ছন্দে, একবারে কয়েকটা করে; কখনো শাস্তি হিসেবে নয়।
  • স্কুলের পদ্ধতিই মেনে চলুন। হাতে রাখা, ধার নেওয়া বা ভাগ স্কুলে কীভাবে শেখানো হয় জেনে নিন, যাতে পরিবারের পুরনো পদ্ধতিতে বাচ্চা গুলিয়ে না ফেলে।
  • চেষ্টা আর কৌশলের প্রশংসা করুন: 'তুমি অন্যভাবে চেষ্টা করেছ' কথাটা 'তুমি খুব বুদ্ধিমান'-এর চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
  • মজার জন্য অঙ্কের খেলা: লুডু, সাপ-লুডু, তাসের খেলা, সংখ্যার ধাঁধা, আর বড়দের জন্য যুক্তির ধাঁধা আর কৌশলের খেলা।

বাচ্চা যদি শুধু অঙ্কে নয়, সব পড়াতেই অন্যমনস্ক হয়ে যায়, মনোযোগ, পড়ার জায়গা আর বয়স অনুযায়ী মনোযোগের সময় নিয়ে পাবেন শিশুর পড়ায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায় লেখায়।

শিক্ষক, টিউটর আর কোচিংয়ের সাথে কাজ করবেন যেভাবে

  1. ছোট একটা সাক্ষাতের সময় চান, আর বাসায় যা দেখছেন তা জানান, যেমন অঙ্ক পরীক্ষার আগে কান্না বা পেট ব্যথা। অভিযোগ নিয়ে নয়, সহযোগী হয়ে যান।
  2. জিজ্ঞেস করুন, কোন অধ্যায়ে ফাঁক, আর বাসায় বাচ্চা কী চর্চা করতে পারে।
  3. ক্লাসে পদ্ধতিটা কীভাবে শেখানো হয় জেনে নিন, যাতে বাসা আর স্কুল এক রকম হয়।
  4. চাপের জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলুন: বোর্ডে ডাকা, সময় বাঁধা পরীক্ষা, সবার সামনে নম্বর পড়ে শোনানো। আটকে গেলে চুপিচুপি জানানোর একটা ইশারা ঠিক করে নিলে কাজে দিতে পারে।
  5. মাসের জন্য ছোট একটা লক্ষ্য ঠিক করুন, যেমন ৬ আর ৭-এর নামতা, তারপর আবার খোঁজ নিন।

যে টিউটর বুঝিয়ে দেন, ভুল করতে দেন আর আত্মবিশ্বাস বাড়ান, তিনি অনেক সাহায্য করতে পারেন; যিনি শুধু একের পর এক অঙ্ক কষান, বকেন বা তুলনা করেন, তাতে সাধারণত ভয় আরও গভীর হয়। কীভাবে বাছবেন, আর বাড়তি ক্লাস কাজে দিচ্ছে কি না কীভাবে বুঝবেন, তা পাবেন কোচিং ও প্রাইভেট টিউটর লেখায়।

আমাদের বাসায় অঙ্কের ভয়: নম্বর, কোচিং আর তুলনা

আমাদের অনেক পরিবারে অঙ্কের নম্বরকেই ভালো ছাত্রের প্রমাণ ধরা হয়; তাই যে বাচ্চা অঙ্কে ভয় পায়, তার মনে হতে পারে সে পুরো পরিবারকেই হতাশ করছে। বাসায় কয়েকটা ছোট পরিবর্তনে এই বোঝা অনেকটা হালকা হতে পারে।

  • পারিবারিক দাওয়াত: আত্মীয়দের নরমভাবে অনুরোধ করুন, বাচ্চাকে নম্বর নিয়ে প্রশ্ন বা কাজিনদের সাথে তুলনা না করতে। 'আমরা ধাপে ধাপে অঙ্ক নিয়ে কাজ করছি', এটুকু বললেই যথেষ্ট।
  • বেশি কোচিংই সবসময় সমাধান নয়। ফাঁক আর ভয়, এই দুটো না সারালে আরেক ঘণ্টা একটানা অঙ্ক কষানো ভয় আরও বাড়াতে পারে; ভয়টা যদি সব পড়াতেই ছড়িয়ে পড়ে, দেখুন বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না।
  • দুই ভাষা: ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চা হয়তো 'addition' জানে কিন্তু 'যোগ' জানে না, আর বাংলা মিডিয়ামের বাচ্চার কাছে ইংরেজিতে কথায় লেখা অঙ্ক কঠিন লাগতে পারে। স্কুল যে ভাষায় পড়ায়, সেই ভাষাতেই সাহায্য করুন।
  • দাদা-দাদি, নানা-নানির পদ্ধতি: মুরুব্বিরা হয়তো অন্যভাবে অঙ্ক শিখেছেন। সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ দিন, আর সবাই মিলে স্কুলের পদ্ধতি মেনে চলার কথা ঠিক করুন।
  • মেয়ে আর ছেলে সমান: কিছু মেয়ে এখনো শোনে, অঙ্ক নাকি তাদের জন্য নয়। মেয়ে হোক বা ছেলে, চর্চা আর উৎসাহ পেলে প্রতিটা বাচ্চাই অঙ্কে এগোতে পারে।
  • পরীক্ষার আগের রাতে গাদাগাদি পড়া: আগের রাতে পুরো অধ্যায় শেষ করতে গেলে ভয় আরও বাড়ে। সারা বছরজুড়ে বেশিরভাগ দিন কয়েক মিনিট করে চর্চা সাধারণত বেশি কাজে দেয়।

অঙ্কের ভয় কমাতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: অঙ্কে কতক্ষণ লাগল, শুরুতে আর শেষে বাচ্চার মন কেমন ছিল, আর কোন একটা জিনিস সে ঠিকঠাক পারল।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। অঙ্কের হোমওয়ার্ক খেয়াল করুন, আর লিখে রাখুন ভয় কখন শুরু হয়: প্রথম অঙ্কেই, কথায় লেখা অঙ্কে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো অধ্যায়ে।
  2. দিন ২: শুরু করুন এমন দুটো অঙ্ক দিয়ে, যা বাচ্চা নিশ্চিতভাবে পারে; আর বসার সময়টা মোটামুটি ১৫ মিনিটে রাখুন।
  3. দিন ৩: একসাথে রোজকার কোনো অঙ্ক করুন, যেমন দোকানে ভাংতি মিলিয়ে দেখা।
  4. দিন ৪: একটা কথা বদলান। 'এটা তো সহজ' বা 'আমিও অঙ্কে কাঁচা ছিলাম' বাদ দিয়ে ওপরের তালিকার একটা কথা বলুন।
  5. দিন ৫: কোন অধ্যায় চর্চা করা দরকার, জানতে চেয়ে শিক্ষককে ছোট একটা নোট বা মেসেজ পাঠান।
  6. দিন ৬: মজার জন্য অঙ্কের একটা খেলা খেলুন, যেমন লুডু, তাস বা সংখ্যার ধাঁধা; সাথে কোনো হোমওয়ার্ক নয়।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। কান্না কম সময় থাকল, শুরুটা সহজ হলো, নতুন একটা জিনিস পারল? যা কাজে দিয়েছে, আরও এক সপ্তাহ চালিয়ে যান।

কখন বুঝবেন অঙ্কের সমস্যায় সাহায্য দরকার?

বাচ্চা অঙ্কে ভয় পায়, এমন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শান্ত পরিবেশ, ছোট ছোট ধাপ আর পাশে শিক্ষক থাকলে ভয়টা কমে আসে। তবে কিছু লক্ষণ বোঝায়, অন্য কিছু বাধা দিচ্ছে, যেমন সংখ্যা শেখার কোনো সমস্যা, চোখ বা কানের সমস্যা, বা বড় কোনো দুশ্চিন্তা।

এসব দেখলে স্কুল বা ডাক্তারের সাথে কথা বলুন

  • বাসা আর স্কুলে কয়েক মাস নিয়মিত সাহায্যের পরও অন্য বিষয়ের চেয়ে অঙ্ক অনেক বেশি কঠিন থাকে, যেমন সংখ্যার সহজ হিসাবগুলো কিছুতেই মনে থাকে না: কোনো মূল্যায়ন দরকার কি না, স্কুল আর ডাক্তারের কাছে জানতে চান।
  • বাচ্চা বোর্ডের দিকে চোখ কুঁচকে তাকায়, বই খুব কাছে ধরে, কাছের কাজের পর মাথাব্যথা হয়, বা প্রায়ই নির্দেশ ভুল শোনে: চোখ আর কানের পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে, বেশিরভাগ সপ্তাহে অঙ্কের দিনে পেট ব্যথা, ভয়ে অস্থির হয়ে পড়া বা স্কুলে যেতে না চাওয়া।
  • কোনো শিক্ষক বা টিউটর বাচ্চাকে মারেন, হুমকি দেন বা অপমান করেন: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন। যে বড় মানুষ বাচ্চাকে মারে, তার কথা স্থানীয় থানায় জানান; বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • বাচ্চা বেশিরভাগ দিন নিজেকে বোকা বা অপদার্থ বলে, বা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মন খারাপ থাকে। নিজের ক্ষতি বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার কথা বললে শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

অঙ্কে ছোট ছোট উন্নতি এক সপ্তাহ থেকে আরেক সপ্তাহে সহজে চোখে পড়ে না। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

অঙ্কের ভয় বা গণিতভীতি কি সত্যিই হয়?

হ্যাঁ। অঙ্ক নিয়ে দুশ্চিন্তা বা ভয় একটা সত্যিকারের অনুভূতি, আর এটা মেধা থেকে আলাদা: ভয় পাওয়া অনেক বাচ্চাই পারে, কিন্তু দুশ্চিন্তায় জমে যায়। এটা প্রায়ই দেখা দেয় হোমওয়ার্কে কান্না, পরীক্ষার আগে পেট ব্যথা বা মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়া হিসেবে। শান্ত পরিবেশ, প্রতিদিনের ছোট ধাপ আর শিক্ষকের সাহায্যে সাধারণত গণিতভীতি দূর হয়ে আসে।

বাচ্চা বলে 'আমি অঙ্কে খারাপ'। কী বলব?

তর্কও করবেন না, মেনেও নেবেন না। বলে দেখুন: 'অঙ্ক এখন কঠিন লাগছে, আর তুমি এখনো শিখছ।' তারপর উন্নতির প্রমাণ দেখান: গত মাসে পারত না, এখন পারে, এমন কিছু। উত্তরের চেয়ে চেষ্টা আর পদ্ধতির প্রশংসা করুন। এই কথার সাথে যদি বেশিরভাগ দিন কান্নাও থাকে, শিক্ষকের সাথে মিলে ফাঁকটা খুঁজুন।

বাসায় বাচ্চার জন্য অঙ্ক কীভাবে মজার করব?

অঙ্ককে রোজকার জীবন আর খেলায় নিয়ে আসুন। প্লেট গোনা, নাশতা সমান ভাগ করা, লুডুতে ঘর গোনা, দোকানে ভাংতি মেলানো, রান্নার উপকরণ অর্ধেক করা, বা ক্রিকেটের স্কোর হিসাব করা। বোর্ড গেম, তাস আর সংখ্যার ধাঁধাও কাজে দেয়। হালকা রাখুন, নম্বর নয়, প্রতিটা ছোট ভুল ধরা নয়, যাতে বাচ্চা অঙ্ককে ভয়ের নয়, কাজের জিনিস হিসেবে দেখে।

বাচ্চার জন্য কি অঙ্কের টিউটর রাখা উচিত?

টিউটর সাহায্য করতে পারেন, যদি তিনি সদয় হন, পরিষ্কার করে বোঝান আর আসল ফাঁকটা নিয়ে কাজ করেন, সম্ভব হলে শিক্ষকের সাথে মিল রেখে। যে টিউটর বকেন, শুধু একের পর এক অঙ্ক কষান বা তুলনা করেন, তাতে ভয় আরও বাড়তে পারে। আগে কয়েক সপ্তাহ বাসায় প্রতিদিন অল্প চর্চা আর শিক্ষকের সাথে কথা বলে দেখুন; তারপরও বাড়তি সাহায্য লাগলে টিউটর রাখুন।

বাচ্চার কি অঙ্ক শেখার কোনো সমস্যা থাকতে পারে?

কখনো কখনো, তবে অঙ্কে কষ্ট পাওয়া বেশিরভাগ বাচ্চার এমন সমস্যা থাকে না। কয়েক মাস নিয়মিত সাহায্যের পরও যদি সংখ্যার সহজ হিসাবগুলো খুব কঠিন থাকে, অথচ অন্য বিষয়ে ভালো করে, তখন সংখ্যা শেখার নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার (ইংরেজিতে dyscalculia) সম্ভাবনা বাড়ে। স্কুল আর ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; চোখ আর কানের পরীক্ষা দিয়ে শুরু করা ভালো।

আমি নিজেই অঙ্কে ভালো ছিলাম না। তবুও কি বাচ্চাকে সাহায্য করতে পারব?

হ্যাঁ। আপনার অঙ্কের চেয়ে আপনার শান্ত থাকাটা বেশি জরুরি। বাচ্চার পাশে বসুন, তাকে নিজের চিন্তা বুঝিয়ে বলতে বলুন, আর নিজে না জানলে বলুন, 'চলো একসাথে বের করি।' অঙ্ক নিয়ে নিজের ভয়টা নিজের কাছেই রাখুন, আর পদ্ধতি বোঝানোর ভার শিক্ষক বা টিউটরকে দিন। বাচ্চার সাথে কোনো অধ্যায় শিখলে সে দেখে, বড়রাও শেখা থামায় না।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।