কোচিং ও প্রাইভেট টিউটর: সন্তানের ওপর চাপ কতটা, সামলাবেন কীভাবে
ছোট করে উত্তর
কোচিং ও প্রাইভেট টিউটর: সন্তানের ওপর চাপ কতটা, তা বুঝতে পুরো সপ্তাহটা গুনুন — স্কুল, কোচিং, টিউটর আর হোমওয়ার্ক। বাড়তি ক্লাস সাধারণত সবচেয়ে কাজে আসে কোনো একটা নির্দিষ্ট ঘাটতি পূরণে, যদি ঘুম আর খেলার সময় থাকে। ৬–১২ বছরের বাচ্চার দরকার ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম আর দিনে অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপের খেলা; এগুলো কমে গেলে একটা ক্লাস বাদ দিন।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৬–১৭ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তান স্কুলের পাশাপাশি কোচিংয়ে যায়, বাসায় টিউটরের কাছে পড়ে, বা দুটোই করে
- মূল কথা
- বাড়তি ক্লাস সাধারণত সবচেয়ে কাজে আসে নির্দিষ্ট কোনো ঘাটতিতে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা বড় পরীক্ষার আগে; প্রতি সন্ধ্যার স্থায়ী অংশ হিসেবে নয়।
- সপ্তাহ সাজান আগে নির্দিষ্ট দরকারগুলো ধরে: ৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা আর ১৩–১৭ বছরে ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম, দিনে অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপের খেলা, আর কিছুটা নিজের সময়।
- এমন শিক্ষক বাছুন, যিনি উত্তর বলে না দিয়ে বুঝিয়ে দেন; আর বাসায় পড়া হোক খোলা ঘরে, বাসায় আরেকজন বড় মানুষ থাকা অবস্থায়।
- ক্লান্তি, ক্লাসের আগে কান্না, বা বেশি টিউশনের পরও নম্বর কমে যাওয়া মানে চাপ কমাতে হবে, বাড়াতে নয়।
কোচিং ও প্রাইভেট টিউটর: সন্তানের ওপর চাপ — আজ প্রায় প্রতিটি বাসায় এই দুটো কথা একসঙ্গে আসে। স্কুলের পরে ব্যাচে পড়া, সপ্তাহে দুই সন্ধ্যা বাসায় স্যার, পরীক্ষার আগে মডেল টেস্টের কোর্স। অনেক বাবা-মা ভালোবাসা আর দুশ্চিন্তা থেকেই এগুলো যোগ করেন, তারপর একদিন খেয়াল করেন বাচ্চা সারাক্ষণ ক্লান্ত।
বাড়তি ক্লাস নিজে ভালোও না, খারাপও না। পিছিয়ে পড়া বিষয়ে এগিয়ে নিতে বা বড় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসতে পারে; আবার প্রতি সন্ধ্যায় জমতে জমতে কেড়ে নিতে পারে সেই ঘুম, খেলা আর নিরিবিলি সময়, যার ওপর শেখা নির্ভর করে। তাই আসল প্রশ্ন “কোচিং দেব, নাকি দেব না” নয়; প্রশ্ন হলো, “আমার বাচ্চার পুরো সপ্তাহটা দেখতে কেমন?”
নিচে পাবেন: কখন বাড়তি সাহায্য দরকার, কতটা হলে বেশি, একটা দিনের নমুনা, শিক্ষক বাছাই, বাসার শিক্ষকের সঙ্গে নিরাপত্তা, সন্তানকে কী বলবেন, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।
গৃহশিক্ষক দেওয়া উচিত কি? কখন কোচিং বা টিউটর কাজে আসে
বাড়তি সাহায্য সাধারণত সবচেয়ে ভালো কাজ করে, যখন তার একটা পরিষ্কার উদ্দেশ্য আর একটা শেষ তারিখ থাকে। নতুন ক্লাস যোগ করার আগে ঠিক করুন, এটা কোন সমস্যার সমাধান করবে।
| পরিস্থিতি | বাড়তি সাহায্য যুক্তিসংগত হতে পারে | আগে, বা এর বদলে যা করবেন |
|---|---|---|
| এক বিষয়ে ঘাটতি, যেমন অঙ্ক বা ইংরেজি | ওই বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট কয়েক মাসের টিউটর | শিক্ষকের কাছে জানুন বাচ্চা ঠিক কোথায় আটকে আছে |
| সামনে বড় পরীক্ষা, যেমন এসএসসি, এইচএসসি বা ভর্তি পরীক্ষা | পরীক্ষার আগের কয়েক মাসের জন্য নির্দিষ্ট কোর্স | বাসায় পড়ার পরিকল্পনা আর আগের বছরের প্রশ্ন |
| বাসায় ওই বিষয়ে আপনি সাহায্য করতে পারছেন না | এমন টিউটর, যিনি বুঝিয়ে দেন আর কাজটা বাচ্চাকেই করতে দেন | বড় কোনো কাজিন বা সহপাঠীর সঙ্গে একসঙ্গে পড়া |
| “ক্লাসের সবাই যায়” | শুধু এই কারণে খুব কমই দরকার | আগে বাচ্চার নম্বর, শক্তি আর ঘুম দেখুন |
| বাচ্চা এমনিতেই ক্লান্ত, ঘুম কম | বাড়তি ক্লাসে সাধারণত অবস্থা আরও খারাপ হয় | আগে কমান, ঘুমকে আগে রাখুন |
| চেষ্টা করেও বেশিরভাগ বিষয়ে পিছিয়ে | প্রথম পদক্ষেপ নয় | মূল্যায়নের ব্যাপারে স্কুল আর ডাক্তারের পরামর্শ নিন |
আসল সমস্যা যদি পড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলা হয়, শুধু টিউটর দিয়ে তা খুব কমই মেটে; পড়ুন বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না।
কোচিং ও প্রাইভেট টিউটর: সন্তানের ওপর চাপ কখন বেশি হয়ে যায়?
কত ঘণ্টা টিউশন ঠিক, তার কোনো একক সংখ্যা নেই; একই দুই ঘণ্টা এক বাচ্চার জন্য ঠিক, আরেকজনের জন্য বেশি। তবে প্রতিটি বাচ্চার প্রতিদিন যা দরকার, তা গোনা যায়: ঘুম (৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা, ১৩–১৭ বছরে ৮–১০ ঘণ্টা), অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপের খেলা, খাওয়া, হোমওয়ার্ক আর কিছুটা নিজের সময়। কোচিং বসবে বাকি সময়টুকুতে।
| সময় | ঠাসা দিন | হালকা দিন |
|---|---|---|
| সকাল ৬টা | স্কুলের জন্য ঘুম থেকে ওঠা | স্কুলের জন্য ঘুম থেকে ওঠা |
| সকাল ৭টা–দুপুর সাড়ে ১২টা | স্কুল | স্কুল |
| বিকেল ৩টা–৫টা | কোচিংয়ের ব্যাচ, অঙ্ক আর ইংরেজি | বাইরে খেলা, অন্তত ৬০ মিনিট |
| বিকেল ৫টা–সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা | জ্যাম ঠেলে বাসায় ফেরা, পথেই নাশতা | নাশতা, তারপর স্কুলের হোমওয়ার্ক |
| সন্ধ্যা ৭টা–রাত ৮টা | বাসায় শিক্ষক | সপ্তাহে দুই সন্ধ্যা বাসায় শিক্ষক, শুধু অঙ্ক; বাকি দিনগুলো নিজের সময় |
| রাত ৮টা–৯টা | স্কুল আর কোচিংয়ের হোমওয়ার্ক, শেষ হতে দেরি | একসঙ্গে রাতের খাবার, একটা গল্প, বাতি নেভানো |
| ঘুম | রাত সাড়ে ১০টা: সকাল ৬টায় ওঠার আগে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা | রাত ৯টার মধ্যে: প্রায় ৯ ঘণ্টা |
ঠাসা দিনে খেলার কোনো সময় নেই, আর ঘুম মাত্র সাড়ে ৭ ঘণ্টার মতো, অথচ ১১ বছরের বাচ্চার দরকার ৯–১২ ঘণ্টা। হালকা দিনেও স্কুল, হোমওয়ার্ক আর টিউটর আছে, তবে সপ্তাহে পাঁচ সন্ধ্যার বদলে দুই সন্ধ্যা। বাচ্চার বয়স আর ঘুম থেকে ওঠার সময় দিলে বিনা খরচের স্কুলের দিনের পরিকল্পনা ঘুমানোর সময় হিসাব করে দেয়।
কোচিং-এ বাচ্চা ক্লান্ত: যে লক্ষণগুলো দেখবেন
- হোমওয়ার্ক করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে, বা বেশিরভাগ সকালে স্কুলের জন্য উঠতেই পারে না।
- ক্লাসের আগে কান্না, পেট ব্যথা বা মাথাব্যথা।
- খিটখিটে মেজাজ, অল্পতে রেগে যাওয়া, বিশেষ করে কোচিংয়ের দিনগুলোতে।
- বেশি টিউশনের পরও নম্বর একই রকম, বা কমছে।
- বন্ধু, খেলা বা নিজের ভালো লাগার কোনো কিছুর জন্য সময়ই নেই।
- শুধু একটু বিশ্রামের জন্য উত্তর দেখে লেখা বা ক্লাস ফাঁকি দেওয়া।
গৃহশিক্ষক বা কোচিং সেন্টার বাছবেন যেভাবে
- উদ্দেশ্য পরিষ্কার করুন: কোন বিষয়, কোন ঘাটতি, আর কত দিনের জন্য।
- স্কুল বা ভরসার অভিভাবকদের কাছে পরামর্শ নিন, আর রাজি হওয়ার আগে শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করুন।
- একটা ট্রায়াল ক্লাস দেখুন। ভালো শিক্ষক বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলতে বলেন আর নিজে চেষ্টা করতে দেন; দুর্বল শিক্ষক শুধু উত্তর বা নোট বলে দেন মুখস্থ করার জন্য।
- জানতে চান অগ্রগতির খবর কীভাবে দেবেন, আর কতটা হোমওয়ার্ক দেবেন। স্কুলের হোমওয়ার্কের ওপর টিউটরের হোমওয়ার্ক রাত জাগার একটা সাধারণ কারণ।
- কোচিং সেন্টারের বেলায় দেখুন একেকটা ব্যাচে কতজন, যাতায়াতে কত সময় লাগে, আর বাচ্চা কীভাবে আসা-যাওয়া করবে।
- যে শিক্ষক বাচ্চাকে মারেন, অপমান করেন বা ভয় দেখান, কিংবা নির্দিষ্ট গ্রেডের নিশ্চয়তা দেন, তাঁর কাছ থেকে সরে আসুন। মারধর সাধারণত শেখাকে কঠিন করে, সহজ নয়।
- এমন সময় ঠিক করুন, যাতে স্বাভাবিক ঘুমের সময়ের আগেই হোমওয়ার্ক শেষ হয়; পড়ুন ঝগড়া ছাড়া হোমওয়ার্ক।
বাসার শিক্ষকের সঙ্গে বাচ্চার নিরাপত্তা
বেশিরভাগ শিক্ষকই আন্তরিক আর দায়িত্বশীল মানুষ। প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য, পুরুষ হোন বা নারী, ধর্মীয় পাঠের শিক্ষক হলেও, কয়েকটা সহজ নিয়ম বাচ্চাকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে, আর ভালো শিক্ষকেরা সহজেই তা মেনে নেন।
- পড়া হবে সবার চোখে পড়ে এমন ঘরে, যেমন খাবার ঘর বা বসার ঘর, দরজা খোলা রেখে।
- প্রতিটি পড়ার সময় বাসায় আরেকজন বড় মানুষ থাকবেন, আর মাঝে মাঝে একটু ঢুঁ মারবেন।
- বন্ধ দরজার শোবার ঘরে কোনো পড়া নয়, আর আপনার অজান্তে বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যাওয়া বা আলাদা মেসেজ নয়।
- বাচ্চা জানবে, পড়ার সময়ের যে-কোনো কথা সে আপনাকে বলতে পারে, আর বললে বকা খাবে না।
- গোপন কথা, আলাদা উপহার, বা বাচ্চার সঙ্গে একা থাকতে চাওয়া — মানুষটা যে-ই হোন, এগুলো সতর্কসংকেত।
বাচ্চা দুশ্চিন্তার কিছু বললে শান্ত থাকুন, বিশ্বাস করুন, বলার জন্য ধন্যবাদ দিন, আর উত্তর মুখে তুলে দেওয়ার মতো প্রশ্ন করবেন না। ওই মানুষের কাছ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন, মেসেজ বা অন্য প্রমাণ রেখে দিন, সেদিনই এলাকার থানায় পুলিশকে জানান, আর বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। প্রতিটি ধাপ পাবেন শিশুর শরীরের নিরাপত্তা লেখায়।
কোচিং আর টিউটর নিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলবেন যেভাবে
কোন ক্লাস কাজে আসছে আর কোনটা শুধু ক্লান্ত করছে, বাচ্চারা সাধারণত নিজেরাই জানে। জিজ্ঞেস করুন, আর বড় বাচ্চা ও কিশোরদের সিদ্ধান্তে অংশ নিতে দিন; নিজের বেছে নেওয়া ক্লাসে তারা সাধারণত বেশি মন দেয়।
যা বলতে পারেন
- কোন ক্লাসটা তোমার সবচেয়ে কাজে লাগে? কোনটা বেশি মনে হয়?
- কোচিংয়ের দিনগুলোতে তোমাকে খুব ক্লান্ত লাগে। চলো, একসঙ্গে তোমার পুরো সপ্তাহটা দেখি।
- একটা ক্লাস বাদ দিলে তুমি কোনটা বাদ দিতে চাইবে?
- আরেকটা ক্লাসের চেয়ে তোমার ঘুম আমার কাছে বেশি জরুরি।
- পড়া বা স্যার-ম্যাডামকে নিয়ে যে-কোনো কথা আমাকে বলতে পারো। তুমি বকা খাবে না।
আমাদের বাসায় কোচিং: চাপ, খরচ আর লম্বা দিন
আমাদের দেশে প্রশ্নটা সাধারণত এই নয় যে কোচিং বা টিউটর দেব কি না; প্রশ্ন হলো কয়টা, কত দিন, আর বিশ্রামের কতটা বিনিময়ে।
- “সবাই তো যায়”: পিছিয়ে পড়ার ভয়টা সত্যি, কিন্তু নিয়মিত পড়ে আর ঠিকমতো ঘুমায় এমন বাচ্চাও তিন ব্যাচে পড়া বাচ্চার মতোই ভালো করতে পারে।
- ক্লাস টিচারের নিজের ব্যাচ: ভদ্রভাবে না বলতে পারেন। নিজের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার ওপর বাচ্চার নম্বর কখনোই নির্ভর করা উচিত নয়; তেমন মনে হলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন।
- জ্যাম আর যাতায়াত: আসা-যাওয়ায় জ্যামে এক ঘণ্টা করে গেলে সেটাও চাপের অংশ। হিসাবে ধরুন, আর সেই সময়টা পড়ার বদলে নাশতা আর গল্পে কাটান।
- সন্ধ্যার পর ফেরা: কে বাচ্চাকে আনবে, বের হওয়ার সময় একটা ফোন, আর দুজনেরই চেনা একটা রাস্তা — আগেই ঠিক করে রাখুন।
- খরচ আর তুলনা: টিউটরের সংখ্যা ভালোবাসার মাপকাঠি নয়। আত্মীয় যদি বলেন “তোমার কাজিনের তো তিনজন স্যার”, শুধু বলুন, “ওর জন্য যেটা ভালো, আমরা সেটাই করছি।”
- একটা ছুটির দিন: শুক্রবার আর ছুটির দিনগুলোও ব্যাচে ভরে যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একটা দিন বিশ্রাম, পরিবার আর খেলার জন্য মোটামুটি ফাঁকা রাখুন; দেখুন স্কুলগামী শিশুর দৈনিক রুটিন।
শিশুর পড়ার চাপ কমানোর উপায়: ৭ দিনের পরিকল্পনা
কোচিং বা টিউটর যোগ করার বা বাদ দেওয়ার আগে সপ্তাহটা যেমন চলছে, তেমনই দেখুন। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: কোন কোন ক্লাস, হোমওয়ার্ক কখন শেষ হলো, কখন ঘুমাল, খেলা হলো কি না, আর মন-মেজাজ কেমন।
- দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। প্রতিটি ক্লাস, যাতায়াতের সময়, হোমওয়ার্ক কখন শেষ হলো আর বাচ্চা কখন ঘুমাল, লিখে রাখুন।
- দিন ২: বাচ্চার কাছে জানতে চান কোন ক্লাস সবচেয়ে কাজে লাগে, আর কোনটা সবচেয়ে ক্লান্ত করে।
- দিন ৩: টিউটর বা কোচিংয়ের শিক্ষকের সঙ্গে অগ্রগতি আর তাঁর দেওয়া হোমওয়ার্কের পরিমাণ নিয়ে কথা বলুন।
- দিন ৪: একসঙ্গে একটা পরিবর্তন বেছে নিন: একটা ক্লাস কিছুদিন বন্ধ, টিউটরের দিন কমানো, বা টিউটরের হোমওয়ার্ক কমানো।
- দিন ৫: বেঁচে যাওয়া সময়টা বাইরে খেলা বা বিশ্রামে দিন, আরেকটা বিষয় পড়ায় নয়।
- দিন ৬: নতুন ঘুমের সময় মেনে চলুন, আর স্কুলের পরে বাচ্চার মেজাজ আর শক্তি কেমন, লিখে রাখুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: ঘুমের সময়, মেজাজ আর হোমওয়ার্ক। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের ক্লাস টেস্টের পর আবার দেখুন।
কখন সাহায্য নেবেন
সপ্তাহের চাপ কমালে বেশিরভাগ সমস্যা সাধারণত কমে আসে। তবে এই লক্ষণগুলো দেখলে সাহায্য নিন, বা দেরি না করে ব্যবস্থা নিন।
দ্রুত ব্যবস্থা নিন যদি
- চাপ কমানোর পরও দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন ক্লান্তি, কান্না বা পেট ব্যথা: অসুখ আছে কি না দেখতে ডাক্তার দেখান, আর পড়ার চাপের কথাও জানান।
- বাড়তি সাহায্যের পরও বেশিরভাগ বিষয়ে আরও পিছিয়ে পড়ছে: মূল্যায়নের ব্যাপারে স্কুল আর ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- টিউটর বা কোচিংয়ের শিক্ষক বাচ্চাকে মারেন, অপমান করেন বা হুমকি দেন: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, পড়া বন্ধ করুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। স্থানীয় থানায় জানাতে পারেন; বাচ্চা এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- হঠাৎ কোনো শিক্ষককে ভয় পাওয়া, তিনি আসুন তা না চাওয়া, বা পড়ার পরে আচরণ বদলে যাওয়া: ওই মানুষের কাছ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন, বিশ্বাস করুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। কোনো নির্যাতন হলে এলাকার থানায় পুলিশকে জানান, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- কয়েক দিন ধরে ঠিকমতো না ঘুমানো বা না খাওয়া, ক্লাসের আগে আতঙ্ক, বা দুই সপ্তাহ ধরে দিনের বেশিরভাগ সময় মন খারাপ: ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা: শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন, এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
কতটা কোচিং ঠিক, তা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাচ্চার ঘুম, মন-মেজাজ আর নম্বরেই বোঝা যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
দিনে কত ঘণ্টা প্রাইভেট পড়া বাচ্চার জন্য বেশি?
এর কোনো একক সংখ্যা নেই। টিউশন তখনই বেশি, যখন তা বাচ্চার ঘুমের দরকার (৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা, ১৩–১৭ বছরে ৮–১০ ঘণ্টা) কেটে ঘুমের সময় পিছিয়ে দেয়, অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপের খেলার সময় রাখে না, বা বেশিরভাগ রাতে হোমওয়ার্ক অনেক রাত পর্যন্ত টেনে নেয়। একটা ক্লাস নয়, পুরো সপ্তাহটা দেখুন।
ভালো রেজাল্টের জন্য কি প্রাইভেট টিউটর লাগবেই?
সবসময় নয়। স্কুল, বাসায় নিয়মিত পড়ার রুটিন আর নির্দিষ্ট ঘাটতিতে একটু সাহায্য — এতেই অনেক বাচ্চা ভালো করে। টিউটর সাধারণত সবচেয়ে কাজে আসে কোনো একটা দুর্বল বিষয়ে, বা বড় পরীক্ষার আগের কয়েক মাসে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। বাচ্চা ঠিকমতো সামলাতে পারলে আর বিশ্রাম পেলে বাড়তি ক্লাস আপনার পছন্দের ব্যাপার, বাধ্যতামূলক নয়।
বাচ্চাকে কোন বয়সে কোচিংয়ে পাঠানো উচিত?
নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। স্কুলের প্রথম দিকের বছরগুলোতে একসঙ্গে বই পড়া, খেলা, ঘুম আর শান্ত হোমওয়ার্কের রুটিন সাধারণত বাড়তি ক্লাসের চেয়ে বেশি কাজে দেয়। পরে নির্দিষ্ট কোনো দরকারে, যেমন দুর্বল কোনো বিষয় বা বোর্ড পরীক্ষার জন্য, কোচিং বেশি যুক্তিসংগত, তবে কেবল তখনই, যখন বিশ্রাম আর খেলার সময় ও শক্তি বাচ্চার থাকে।
কোচিং ছাড়া কি পড়া সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব; কোচিং আর নিজে পড়ার কাজ আলাদা। কোচিং বা টিউটর বুঝিয়ে দিতে পারেন, একটা কাঠামো দিতে পারেন, অনুশীলন দিতে পারেন; আর নিজে পড়ার সময় বাচ্চা একা অনুশীলন করে, তখনই পড়াটা মনে বসে। নিয়মিত পড়লে অনেক বাচ্চা সামান্য বা কোনো কোচিং ছাড়াই ভালো করে। অনেক বেশি ক্লাস থাকলে নিজে পড়ার সময়ই থাকে না, তাই প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজে পড়ার জন্য রাখুন।
বাসার শিক্ষকের সঙ্গে বাচ্চাকে একা রাখা কি নিরাপদ?
সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস হলো একা না রাখা। পড়া হোক সবার চোখে পড়ে এমন ঘরে, দরজা খোলা রেখে, বাসায় আরেকজন বড় মানুষ থাকুক, আর মাঝে মাঝে একটু ঢুঁ মারুন; বেশিরভাগ শিক্ষক এটা ভালোভাবেই নেন। বাচ্চাকে বলুন, পড়ার সময়ের যে-কোনো কথা আপনাকে বলতে পারে। হঠাৎ কোনো শিক্ষককে ভয় পেলে বাচ্চাকে তাঁর কাছ থেকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন।
কোচিং-এ বাচ্চা ক্লান্ত, কী করব?
আগে পুরো সপ্তাহটা দেখুন: ঘুম, খেলা আর যাতায়াতের সময় গুনুন। তারপর একটা ক্লাস কিছুদিন বন্ধ রাখুন বা বাদ দিন, টিউটরের দিন কমান, বা টিউটরকে কম হোমওয়ার্ক দিতে বলুন; বেঁচে যাওয়া সময়টা বিশ্রাম আর খেলায় দিন। চাপ কমানোর পরও কয়েক সপ্তাহ ক্লান্তি থাকলে ডাক্তার দেখান।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।







