বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না: কারণ, করণীয় আর ধীরে ধীরে স্কুলে ফেরার পরিকল্পনা
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না — এর পেছনে প্রায়ই থাকে স্কুল নিয়ে তীব্র দুশ্চিন্তা (স্কুল ভীতি)। স্কুলের দিন সকালে পেট ব্যথা, কান্না বা যেতে না চাওয়া দিয়ে এটা বোঝা যায়, আর ছুটির দিনে কমে যায়। শান্ত থাকুন, কোনটা সবচেয়ে কঠিন লাগছে জেনে নিন, শিক্ষকের সাথে মিলে কাজ করুন, আর ছোট ছোট ধাপে হলেও বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে থাকুন। এক-দুই সপ্তাহের বেশি স্কুল কামাই হলে সাহায্য নিন; বুলিং হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন।
লেখাটি শুনুন
১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৫–১৬ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের বাচ্চা স্কুলে যাওয়ার আগে কাঁদে, পেট ব্যথার কথা বলে বা স্কুলে যেতে চায় না
- মূল কথা
- স্কুলে যেতে না চাওয়ার পেছনে সাধারণত খুঁজে পাওয়ার মতো একটা কারণ থাকে: আপনাকে ছেড়ে থাকা, বন্ধু বা বুলিং, শিক্ষক, পড়ার চাপ, পরীক্ষা বা বাসার কোনো ঘটনা।
- কারণ দুশ্চিন্তা হলেও সকালের পেট ব্যথাটা সত্যি; বারবার হলে আগে ডাক্তার দেখিয়ে নিন।
- বাসায় থেকে গেলে আজ স্বস্তি মেলে, কিন্তু পরের সকাল সাধারণত আরও কঠিন হয়; তাই লম্বা বিরতির চেয়ে ধীরে ধীরে ফেরা ভালো।
- এক-দুই সপ্তাহের বেশি স্কুল কামাই হলে, বাচ্চা আতঙ্কে ভুগলে, বা বুলিং বা কোনো ক্ষতির শিকার হলে সাহায্য নিন।
প্রতিদিন স্কুলের সকালে পেট ব্যথা, গেটে গিয়ে কান্না, ইউনিফর্ম পরতে এক ঘণ্টা, বা সোজা বলে দেওয়া “আমি যাব না” — বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না, অথচ শুক্রবার এলেই সব ঠিক, আর শনিবার রাতে আবার শুরু।
এটা সাধারণত অলসতা নয়। স্কুলে যেতে না চাওয়া বেশিরভাগ বাচ্চা নির্দিষ্ট কিছু একটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে; সেটা কী তা জানতে পারলে আপনি আর স্কুল মিলে অনেক কিছু করতে পারেন।
নিচে পাবেন: লক্ষণ, সাধারণ কারণ, সকালে কী করবেন, শিক্ষকের সাথে কীভাবে কাজ করবেন, ধীরে ধীরে ফেরার পরিকল্পনা, আর কখন দেরি করবেন না।
স্কুল ভীতি কী, আর কীভাবে বুঝবেন বাচ্চা স্কুল এড়াতে চাইছে?
স্কুল ভীতি হলো স্কুল নিয়ে এমন দুশ্চিন্তা বা ভয়, যা সকালগুলো কঠিন করে তোলে। বাচ্চা যখন নিয়মিত স্কুলে যেতে চায় না বা বাসায় ফিরে আসার জন্য কান্নাকাটি করে, তখন একে স্কুলে যেতে অনীহাও বলা হয়। সাধারণ লক্ষণ:
- শরীরে: পেট ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি ভাব বা ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়া, বেশিরভাগ স্কুলের দিন সকালে।
- সকালে: কান্না, জেদ, খুব ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া, গেটে গিয়ে আঁকড়ে ধরা।
- স্কুলে: বাসায় পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য বায়না, বাথরুমে লুকিয়ে থাকা, ক্লাসে কথা না বলা।
- ধরন: স্কুল সপ্তাহের আগের রাতে আর ছুটির পরে বেশি, ছুটির দিনে অনেক ভালো।
স্কুলে যেতে ভয় পাওয়া আর লুকিয়ে স্কুল ফাঁকি দেওয়া এক জিনিস নয়: উদ্বিগ্ন বাচ্চা সাধারণত বাসায় আপনার কাছে থাকতে চায়, আর আপনি জানেন সে কোথায় আছে।
শিশু কেন স্কুলে যেতে চায় না?
“স্কুল ভালো লাগে না” বলা বাচ্চা সাধারণত বোঝাতে চায় স্কুলের কোনো একটা অংশ তার কাছে অসহ্য লাগছে। সকালের তাড়াহুড়োয় নয়, শান্ত কোনো সময়ে আলতো করে জিজ্ঞেস করুন, আর এই সাধারণ কারণগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।
| কারণ | যা শুনতে পারেন | প্রথম পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| আপনাকে ছেড়ে থাকা (প্রায়ই ৫–৭ বছর) | “আমি তোমার কাছে থাকব।” | রোজ একই রকম ছোট্ট বিদায় |
| বন্ধু, খেপানো বা বুলিং | “কেউ আমার সাথে খেলে না।” | বিস্তারিত জানুন; সেই সপ্তাহেই ক্লাস টিচারকে জানান |
| কড়া শিক্ষক, বা বকা খাওয়ার ভয় | “মিস বকবেন।” | ক্লাসে কী হয় জেনে নিন; শান্তভাবে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন |
| পড়া খুব কঠিন লাগা | “আমি অঙ্কে একদম গাধা।” | কোথায় আটকায় শিক্ষকের কাছে জানুন; পড়া আর লেখা ঠিকমতো পারছে কি না দেখুন |
| পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট আর নম্বর | “যদি ফেল করি?” | বাসায় চাপ কমান; নম্বরের নয়, চেষ্টার প্রশংসা করুন |
| নতুন স্কুল, সেকশন বা শিফট | “আমি তো কাউকে চিনি না।” | আগে থেকে ঘুরে আসুন, আর অন্তত একজনের সাথে ভাব করিয়ে দিন |
| ক্লান্তি, বা বাসার কোনো দুশ্চিন্তা | চুপ হয়ে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, রাতে কান্না | ঘুম ঠিক আছে কি না দেখুন; বাসার পরিবর্তন সহজ করে বুঝিয়ে বলুন |
ছোট বাচ্চা যদি স্কুলের গেটে বাবা-মায়ের জন্য কাঁদে, পড়ুন বাচ্চা মাকে ছাড়তে চায় না; আর নানা বিষয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে পড়ুন শিশুর দুশ্চিন্তা।
শিশুসন্তান স্কুলে যেতে না চাইলে করণীয়: সকালের সেই মুহূর্তে
- শান্ত থাকুন, গলা নিচু রাখুন। সকালে চেঁচামেচি হলে পরের দিনটা সাধারণত আরও কঠিন হয়।
- অনুভূতির নাম দিন: “আজ স্কুল নিয়ে তোমার খুব চিন্তা হচ্ছে।” ভয়টা যুক্তিসংগত কি না, তা নিয়ে তর্কে যাবেন না।
- সত্যিকারের অসুখ কি না দ্রুত দেখে নিন: জ্বর, বমি, পাতলা পায়খানা বা তীব্র ব্যথা হলে বাসায় রাখুন, দরকার হলে ডাক্তার দেখান। আর কোনো লক্ষণ ছাড়া শুধু দুশ্চিন্তার পেট ব্যথা হলে সাধারণত স্কুলেই পাঠান।
- ছোট ছোট পরিষ্কার ধাপে রুটিন চালু রাখুন: হাত-মুখ ধোয়া, ইউনিফর্ম, নাশতা, জুতা। ছোট পছন্দের সুযোগ দিন, যেমন কোন টিফিন বক্সটা নেবে।
- পারলে নিজে সাথে যান, বিদায় ছোট রাখুন, আর বাচ্চার ভরসার কোনো শিক্ষকের হাতে দিয়ে আসুন।
- স্কুল থেকে ফিরলে আগে ভালো দিকগুলো নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, আর বড় আলাপটা রাখুন শান্ত কোনো সন্ধ্যার জন্য।
যা বলতে পারেন
- আজ স্কুল নিয়ে তোমার চিন্তা হচ্ছে, বুঝতে পারছি। তবুও আমরা যাব, আমি তোমার সাথে আছি।
- চিন্তা হলে অনেক সময় পেট ব্যথা করে। চলো, একসাথে আস্তে আস্তে শ্বাস নিই।
- দিনের কোন সময়টা সবচেয়ে কঠিন লাগে? চলো, ঠিক করি ওই সময়টায় কী করবে।
- কঠিন লাগছিল, তবু তুমি গেছ। এটা অনেক সাহসের কাজ।
- স্কুলে কেউ যদি তোমাকে কষ্ট দেয় বা ভয় দেখায়, আমাকে বলবে। তুমি বকা খাবে না, আমি তোমার পাশে আছি।
ক্লাস টিচারের সাথে মিলে কাজ করবেন যেভাবে
বাসা আর স্কুল মিলে একটা পরিকল্পনা করলে স্কুল নিয়ে দুশ্চিন্তা সাধারণত তাড়াতাড়ি কমে। ক্লাস টিচারের সাথে একটু সময় নিয়ে দেখা করুন, আর কয়েকটা বিষয়ে একমত হোন:
- শিক্ষক কী দেখছেন: বাচ্চা কি চুপচাপ থাকে, টিফিনের সময় একা থাকে, কোনো নির্দিষ্ট ক্লাসের পরে মন খারাপ করে?
- হাসিমুখে স্বাগত: নাম ধরে ডেকে নেওয়া, বা খাতা বিলি করার মতো ছোট কোনো দায়িত্ব।
- একজন ভরসার মানুষ আর একটা জায়গা, যেখানে খুব কঠিন লাগলে বাচ্চা যেতে পারে।
- ভালো কোনো সহপাঠীর পাশে বসানো, আর বন্ধুত্বের সমস্যা বা বুলিং থাকলে টিফিনের সময় একটু নজর রাখা।
- পড়ার চাপই কারণ হলে কিছুদিনের জন্য একটু কম হোমওয়ার্ক, বা পরীক্ষার আগে আলাদা করে একটু ভরসা দেওয়া।
- কীভাবে যোগাযোগ রাখবেন: স্কুলের ডায়েরিতে একটা নোট, বা প্রতি সপ্তাহে ছোট একটা মেসেজ।
কয়েক দিন বাসায় থাকার পর বাচ্চাকে আবার স্কুলে ফেরাবেন যেভাবে
স্কুল এড়িয়ে চলার প্রতিটি দিন সাধারণত পরের দিনটা আরও কঠিন করে তোলে, কারণ দূরে থাকতে থাকতে ভয়টা বাড়ে। বাচ্চা নিজে থেকে “তৈরি” হওয়ার অপেক্ষা না করে স্কুলের সাথে মিলে ধাপে ধাপে ফেরানোই সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
- বাসায় থাকলেও স্কুলের দিনের রুটিন রাখুন: একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, ইউনিফর্ম পরা, স্কুলের সময়ে পড়াশোনা।
- বাসার দিনগুলো শান্ত আর একটু একঘেয়ে রাখুন: স্কুলের সময়ে মোবাইল, কার্টুন বা বাইরে ঘোরা নয়।
- শিক্ষকের সাথে মিলে ছোট ছোট ধাপ ঠিক করুন, যেমন প্রথমে শুধু প্রথম পিরিয়ড, তারপর টিফিন পর্যন্ত, তারপর পুরো দিন।
- দিনের যে অংশটা বাচ্চার কাছে সবচেয়ে সহজ, বা তার পছন্দের কোনো ক্লাস দিয়ে শুরু করুন।
- কয়েক দিন পরপর এক ধাপ এগোন, আর যেমনই যাক, স্কুলে যাওয়া প্রতিটি দিনের প্রশংসা করুন।
- ছুটি বা অসুখের পর একটু পিছিয়ে পড়া স্বাভাবিক। একটা খারাপ সকাল মানে এক ধাপ পেছানো, শূন্য থেকে আবার শুরু নয়।
আমাদের স্কুলজীবনের চাপ: শিক্ষক, কোচিং আর পরীক্ষা
স্কুল নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু কারণ আমাদের স্কুল আর বাসায় বিশেষ করে বেশি দেখা যায়; চোখে পড়লে বেশিরভাগই কমিয়ে আনা যায়।
- শিক্ষকের ভয়: অনেক বাচ্চা স্কুলে গেলে শিক্ষক বকবেন বলে ভয় পায়, বা পুরো ক্লাসের সামনে লজ্জা পাওয়ার ভয়ে থাকে, প্রায়ই হোমওয়ার্ক শেষ না হওয়ার কারণে। শিক্ষকের সাথে কথা বলুন। বাচ্চাকে মারা বা অপমান করা কখনোই মেনে নেওয়ার মতো নয়, আর বাংলাদেশের স্কুলে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ; এমন হলে বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন আর দেরি না করে প্রধান শিক্ষকের কাছে যান।
- ক্লাস টেস্ট, রেজাল্ট আর মেধাক্রম: ঘন ঘন পরীক্ষা, ক্লাসে নম্বর পড়ে শোনানো, আর কিছু স্কুলে মেধা অনুযায়ী রোল নম্বর — এসবে প্রতিটি দিনই পরীক্ষার মতো লাগতে পারে। বাসায় নম্বরের চেয়ে চেষ্টার প্রশংসা করুন; পড়ুন পরীক্ষার মৌসুমে শান্ত সন্ধ্যা।
- স্কুলের পরে কোচিং: স্কুল, কোচিং আর হোমওয়ার্কের পর বিশ্রাম বা খেলার সময়ই থাকে না, আর ক্লান্তিতে সব দুশ্চিন্তা বড় হয়ে ওঠে। পড়াশোনা নিয়েই যদি রোজ টানাপোড়েন চলে, পড়ুন বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না।
- ভোরের শিফট আর লম্বা যাতায়াত: আগের রাতে দেরিতে ঘুমিয়ে মর্নিং শিফটে স্কুল যে-কোনো বাচ্চার জন্যই কঠিন। স্কুলের দিনের পরিকল্পনা দিয়ে ঘুম থেকে ওঠার সময় ধরে পেছন দিকে হিসাব করে মানানসই ঘুমের সময় ঠিক করুন।
- স্কুলের বাথরুম: বাথরুম নোংরা বা অনিরাপদ মনে হওয়ায় কোনো কোনো বাচ্চা সারা দিন চেপে রাখে, তারপর পেট ব্যথা হয়। বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন, আর স্কুলকে জানান।
বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না: ৭ দিনের পরিকল্পনা
প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: সকালটা কেমন গেল, পেট ব্যথা বা কান্না ছিল কি না, বাচ্চা স্কুলে কতক্ষণ থাকল, আর কী কাজে দিল।
- দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। সকালটা কেমন গেল, কী কী অভিযোগ ছিল আর কখন কমল, লিখে রাখুন।
- দিন ২: শান্ত কোনো সময়ে জিজ্ঞেস করুন স্কুলের কোন ব্যাপারটা সবচেয়ে কঠিন লাগে। সমাধান দিতে না গিয়ে শুধু শুনুন।
- দিন ৩: সকালটা ১৫ মিনিট আগে শুরু করুন, ইউনিফর্ম আর ব্যাগ আগের রাতেই গুছিয়ে রাখুন, আর ঘুমের সময়টা দেখে নিন।
- দিন ৪: ক্লাস টিচারের সাথে কথা বলে হাসিমুখে স্বাগত আর একজন ভরসার মানুষের ব্যাপারে একমত হোন।
- দিন ৫: গেটে রোজ একই রকম ছোট বিদায় দিন, আর ভয় না পাওয়ার জন্য নয়, স্কুলে যাওয়ার জন্যই প্রশংসা করুন।
- দিন ৬: ছুটির দিনে একসাথে বসে স্কুল সপ্তাহের প্রথম সকালের পরিকল্পনা করুন, যাতে সকালটা চেনা লাগে।
- দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। পেট ব্যথা কম? বিদায় সহজ? স্কুলে বেশিক্ষণ? শিক্ষকের সাথে মিলে পরের ধাপ ঠিক করুন।
কখন সাহায্য নেবেন, কখন দেরি করবেন না
কিছু লক্ষণ দেখলে অপেক্ষা করবেন না। এমন হলে স্কুল আর বাচ্চার ডাক্তার বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলুন।
দ্রুত ব্যবস্থা নিন যদি
- বাচ্চা এক-দুই সপ্তাহের বেশি স্কুলে যায়নি, বা বেশিরভাগ সপ্তাহেই মাঝে মাঝে কামাই করছে।
- আতঙ্ক: স্কুলের আগে বুক ধড়ফড়, কাঁপুনি, শ্বাস নিতে কষ্ট বা বমি।
- বুলিং, বা শিক্ষক মারছেন বা অপমান করছেন: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই স্কুলের সাথে কথা বলুন আর কী ঘটেছে লিখে রাখুন; বাচ্চা বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- বেশিরভাগ স্কুলের দিনে পেট ব্যথা বা মাথাব্যথা: ডাক্তার দেখিয়ে নিন, আর দুশ্চিন্তার কথাটাও জানান।
- চেষ্টা করেও বাচ্চা পড়া, লেখা বা অঙ্কে সহপাঠীদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়ছে: মূল্যায়নের ব্যাপারে স্কুল আর ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মন খারাপ, বা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা: শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন, এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
স্কুলের সকাল সহজ হয় ধাপে ধাপে, আর সেই ধাপগুলো সহজে চোখে পড়ে না। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
স্কুলের আগে পেট ব্যথা বললে কি বাচ্চাকে বাসায় রেখে দেব?
জ্বর, বমি বা পাতলা পায়খানা থাকলে বাসায় রাখুন। ব্যথা যদি মূলত স্কুলের দিন সকালে হয় আর দুপুরের মধ্যে বা ছুটির দিনে সেরে যায়, তাহলে দুশ্চিন্তাই সম্ভবত কারণ: বাচ্চাকে আশ্বাস দিন, তবু স্কুলে পাঠান, আর শিক্ষককে জানান। ব্যথা বারবার ফিরে এলে আগে ডাক্তার দেখান।
বাচ্চা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় কান্নাকাটি করে কেন?
সাধারণত কারণ, স্কুলের কোনো একটা ব্যাপার কঠিন লাগছে: আপনাকে ছেড়ে থাকা, বন্ধুত্ব, শিক্ষক, পড়া বা পরীক্ষা। সকালটা শান্ত আর রোজ একরকম রাখুন, বিদায় ছোট রাখুন, আর শান্ত কোনো সময়ে আলতো করে জিজ্ঞেস করুন কোনটা সবচেয়ে কঠিন লাগে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ সকালে কান্না হলে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন।
স্কুলে যেতে ভয় পাওয়া আর স্কুল ফাঁকি দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?
স্কুলে যেতে ভয় পাওয়া বাচ্চা উদ্বিগ্ন থাকে, সাধারণত বাসায় বাবা-মায়ের কাছে থাকতে চায়, আর কিছু লুকায় না। স্কুল ফাঁকি দেওয়া বাচ্চা সাধারণত ব্যাপারটা লুকায় আর সময়টা অন্য কোথাও কাটায়, প্রায়ই বন্ধুদের সাথে। প্রথম জনের দরকার আশ্বাস আর ধীরে ধীরে ফেরা; দ্বিতীয় জনের দরকার আরও খেয়াল রাখা আর কেন এমন করছে তা নিয়ে খোলামেলা কথা।
বাচ্চা বলে স্কুলে গেলে শিক্ষক বকবেন, কী করব?
গুরুত্ব দিয়ে বিস্তারিত জানুন: কখন হয়, কী বলা হয়, আর ব্যাপারটা হোমওয়ার্ক, নম্বর নাকি আচরণ নিয়ে। তারপর শান্তভাবে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন আর জানতে চান কীভাবে একসাথে কাজ করা যায়। বাচ্চাকে মারা, অপমান করা বা ভয় দেখানো হলে দেরি না করে প্রধান শিক্ষকের কাছে যান।
বাচ্চার স্কুল ভালো না লাগা কি স্বাভাবিক?
অনেক বাচ্চাই মাঝে মাঝে বলে স্কুল ভালো লাগে না, বিশেষ করে ছুটির পরে বা পরীক্ষার সময়, আর তা কেটে যায়। তবে অপছন্দটা যদি সবসময় থাকে, পেট ব্যথা বা কান্নার সাথে আসে, বা নতুন শিক্ষক, নতুন ক্লাস বা বন্ধুত্বের ঝামেলার পরে শুরু হয়, তাহলে ভালো করে খোঁজ নিন। জিজ্ঞেস করুন, কোন একটা জিনিস বদলালে স্কুলটা ওর একটু ভালো লাগবে।
বাচ্চার স্কুল ভীতি কত দিন থাকে?
বাসা আর স্কুলের নিয়মিত সহায়তা পেলে হালকা স্কুল ভীতি প্রায়ই কয়েক সপ্তাহে কমে আসে, যদিও ছুটির পরে আবার বাড়তে পারে। বাচ্চা যত বেশি দিন দূরে থাকে, ফেরা সাধারণত তত কঠিন হয়। কয়েক সপ্তাহেও উন্নতি না হলে, বা স্কুল কামাই হতে থাকলে, সাহায্য নিন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




