মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা মাকে ছাড়তে চায় না? কান্না, আঁকড়ে থাকা আর বিদায়ের সহজ রুটিন

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা মাকে ছাড়তে চায় না, বাবা-মা চলে গেলেই কাঁদে — এই ছেড়ে থাকার ভয় (সেপারেশন অ্যাংজাইটি) ছোট বাচ্চাদের বড় হওয়ার স্বাভাবিক একটা ধাপ। সাধারণত প্রথম বছরেই শুরু হয়, মোটামুটি ১০ থেকে ১৮ মাস বয়সে সবচেয়ে বেশি থাকে, আর মোটামুটি ৩ বছরের মধ্যে কমে আসে; প্লে স্কুলের মতো নতুন কিছু শুরু হলে কিছুদিনের জন্য ফিরে আসতে পারে। ছোট্ট, আদরমাখা বিদায়ের রুটিন প্রায়ই কাজে দেয়। রোজকার জীবন আটকে গেলে, বা ৩ বছর বয়সের পরও একই নিয়মে বিদায় সত্ত্বেও ভয়টা তীব্র থাকলে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১–৬ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের বাচ্চা বাসায়, প্লে স্কুলে বা ডে কেয়ারে বাবা-মা চলে গেলেই কাঁদে, আঁকড়ে ধরে বা অস্থির হয়ে পড়ে
মূল কথা
  • আপনি বের হলে বাচ্চার কান্না গভীর টানের লক্ষণ আর বড় হওয়ার স্বাভাবিক ধাপ; এর মানে এই নয় যে আপনি কিছু ভুল করছেন।
  • রোজ একই রকম ছোট্ট বিদায় সাধারণত লম্বা বিদায় বা লুকিয়ে চলে যাওয়ার চেয়ে ভালো কাজ করে।
  • বেশিরভাগ বাচ্চা বাবা-মা চলে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে শান্ত হয়, আর প্লে স্কুল বা নতুন কারও কাছে থাকা শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মানিয়ে নেয়।
  • কষ্টটা রোজকার জীবন আটকে দিলে, ৩ বছর বয়সের পর এক মাস একই নিয়মে বিদায় নিয়েও না কমলে, বা ৬ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চার মধ্যে তীব্র আর দীর্ঘস্থায়ী হলে সাহায্য নিন।

ব্যাগ হাতে নিলেই বাচ্চা চিৎকার করে কাঁদে, প্লে স্কুলের গেটে আঁচল ধরে ঝুলে থাকে, কিংবা এ ঘর থেকে ও ঘরে আপনার পেছন পেছন ঘোরে? বাচ্চা মাকে ছাড়তে চায় না — ছোট বাচ্চাদের এই ছেড়ে থাকার ভয় খুব সাধারণ। অফিসে যাওয়ার সময় দরজায় এই কান্না সারা দিন মনে লেগে থাকতে পারে।

এটা ছোটবেলার সবচেয়ে স্বাভাবিক ধাপগুলোর একটা। এর মানে আপনার প্রতি বাচ্চার গভীর টান আছে, আর সে এখনো শেখেনি যে আপনি সবসময় ফিরে আসেন। সময়ের সাথে আর রোজ একই রকম বিদায়ের অভ্যাসে এটা সাধারণত কমে আসে।

নিচে পাবেন: বয়স অনুযায়ী কোনটা স্বাভাবিক, কেন হয়, বিদায়ের রুটিন, প্লে স্কুল আর ডে কেয়ার, কর্মজীবী বাবা-মা আর যারা দেখাশোনা করেন তাদের কথা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।

বাচ্চা মাকে ছাড়তে চায় না: বয়স অনুযায়ী কোনটা স্বাভাবিক?

বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে এটা মোটামুটি একটা ধারা মেনে চলে, তবে প্রতিটি বাচ্চা আলাদা, তাই এই বয়সগুলোকে পরীক্ষা নয়, একটা ধারণা হিসেবে নিন।

বয়স অনুযায়ী ছেড়ে থাকার ভয়: মোটামুটি বয়স, বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে
বয়সযা দেখতে পারেন
মোটামুটি ৬ মাসের কমশান্ত, চেনা যে কারও কাছে সাধারণত ভালো থাকে
মোটামুটি ৬–১০ মাসআপনি ঘর থেকে বের হলেই কাঁদতে শুরু করতে পারে; অচেনা মানুষ দেখে ভয় পায়
মোটামুটি ১০–১৮ মাসপ্রায়ই সবচেয়ে বেশি: আঁকড়ে ধরে, প্রতিটি বিদায়ে কাঁদে, রাতে জেগে আপনাকে খুঁজতে পারে
মোটামুটি দেড় থেকে ৩ বছরবেশিরভাগের কমে আসে, তবে প্লে স্কুল, নতুন ভাইবোন, অসুখ বা বাসা বদলে আবার বাড়ে
৪–৬ বছরনতুন স্কুলে বা ছুটির পরে অল্প কিছুদিনের দুশ্চিন্তা; বেশিরভাগ কয়েক সপ্তাহে মানিয়ে নেয়
৬ বছরের বেশিআলাদা থাকার তীব্র, দীর্ঘ ভয় কম দেখা যায়: নিচের লক্ষণগুলো দেখুন

আমি বের হলেই বাচ্চা কাঁদে কেন?

মা বা বাবা বের হলে যে বাচ্চা কাঁদে, সে দুষ্টুমি করছে না, আহ্লাদে নষ্টও হয়ে যায়নি। সাধারণত কয়েকটা কারণ একসাথে কাজ করে:

  • গভীর টান: আপনিই তার ভরসার মানুষ, তাই আপনি চোখের আড়াল হওয়া মানে তার কাছে ভরসা হারানো।
  • ফিরে আসার ভরসা এখনো তৈরি হয়নি: যে চলে যায় সে আবার ফিরে আসে — ছোট বাচ্চারা এটা এখনো শিখছে।
  • পরিবর্তন: নতুন প্লে স্কুল, দেখাশোনার নতুন মানুষ, নতুন ভাইবোন, বাসা বদল, বা মা-বাবার নতুন চাকরি।
  • ক্লান্তি, খিদে বা অসুখ, যা প্রতিটি বিদায়কে আরও কঠিন করে তোলে।
  • আপনার নিজের দুশ্চিন্তা: বাচ্চা আপনার মুখ দেখে বোঝে, তাই টানটান, লম্বা বিদায় তাকে বলে দেয় যে কিছু একটা ঠিক নেই।

বিদায়ের সময় কান্না সামলাবেন যেভাবে: ছোট্ট একটা রুটিন

বিদায়ের রুটিন কাজে দেয়, কারণ এটা ছোট আর প্রতিবার একই রকম; ফলে বাচ্চা শিখে নেয় এরপর কী হবে: আপনি যাবেন, আবার ফিরে আসবেন।

  1. আগে অল্প সময়ের জন্য আলাদা থাকার অনুশীলন করুন: কয়েক মিনিটের জন্য পাশের ঘরে যান, বা ভরসার কেউ বাচ্চার কাছে থাকলে একটু দোকান থেকে ঘুরে আসুন, আর যখন বলেছেন ঠিক তখনই ফিরে আসুন।
  2. যাওয়ার আগে সহজ কথায় বলুন কে তার দেখাশোনা করবে আর আপনি কখন ফিরবেন, তার দিনের সাথে মিলিয়ে: “তুমি ঘুম থেকে উঠলে”, “সন্ধ্যায় নাশতার সময়”।
  3. প্রতিবার একই ছোট্ট নিয়ম রাখুন: একবার জড়িয়ে ধরা, একটা চুমু, বিদায়ের একটা কথা, আর জানালা বা গেট থেকে হাত নাড়া।
  4. বাচ্চাকে খালি ঘরে নয়, একজন মানুষের হাতে দিয়ে যান: দাদি-নানি, শিক্ষক বা যিনি দেখাশোনা করেন, সম্ভব হলে হাতে একটা খেলনা বা ছোট কাজ দিয়ে।
  5. তারপর শান্তভাবে চলে যান, “আরেকবার জড়িয়ে ধরি” বলে ফিরে আসবেন না। দেরি করলে সাধারণত কান্না আরও লম্বা হয়।
  6. যখন বলেছেন তখনই ফিরে আসুন, আর হাসিমুখে কাছে টেনে নিন। এই কথা রাখাটাই ভরসা তৈরি করে।

যা বলতে পারেন

  • আম্মু এখন অফিসে যাচ্ছি, সোনা। তুমি নানুর কাছে থাকবে, সন্ধ্যায় নাশতার সময় চলে আসব।
  • আমি যাচ্ছি বলে তোমার মন খারাপ, বুঝতে পারছি। কান্না পেলে কাঁদো, অসুবিধা নেই। আমি তো সবসময় ফিরে আসি।
  • একটা আদর, একটা চুমু, তারপর জানালা দিয়ে টা-টা! সন্ধ্যায় দেখা হবে।
  • দেখলে? বলেছিলাম না ফিরে আসব? এই যে চলে এসেছি।

প্লে স্কুলে বাচ্চা কাঁদে: ডে কেয়ার আর স্কুলের প্রথম কয়েক সপ্তাহ

প্লে স্কুল বা ডে কেয়ারের প্রথম কয়েক সপ্তাহে স্কুলে গিয়ে মায়ের জন্য কান্না খুব সাধারণ ব্যাপার, আর বেশিরভাগ বাচ্চা বাবা-মা চলে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই থেমে যায়। এগুলো করলে মানিয়ে নেওয়া সাধারণত সহজ হয়:

  • প্রথম দিনের আগে একসাথে ঘুরে আসুন, আর সেখানে থাকতেই শিক্ষকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।
  • স্কুল রাজি থাকলে শুরুতে অল্প সময় রাখুন, আর বিশেষ করে প্রথম দিকে ঠিক সময়ে নিতে আসুন।
  • প্রথম কয়েক সপ্তাহ একই মানুষ যেন রোজ পৌঁছে দেয়, একই বিদায়ের নিয়মে।
  • বাসার ছোট্ট একটা ভরসার জিনিস সাথে দিন: ব্যাগে পরিবারের একটা ছবি, বা আপনার গায়ের গন্ধ লাগা একটা রুমাল।
  • সারা সকাল গেটের বাইরে অপেক্ষা করলে বাচ্চা আপনাকেই খুঁজতে থাকতে পারে। কাছাকাছি থাকতে হলে চোখের আড়ালে থাকুন, আর শিক্ষকের সাথে ঠিক করে নিন কখন আপনাকে ডাকবেন।
  • স্কুল থেকে আনার পর কান্না বা জেদ করলে অবাক হবেন না। সারা সকাল নিজেকে সামলে রাখা ক্লান্তিকর, আর বাসায় এসে সেটাই বের হয়ে আসে।

মোটামুটি এক মাস পরও বাচ্চা ডে কেয়ারে যেতে চায় না, বা রোজ খুব কান্নাকাটি করে? শিক্ষকের সাথে কথা বলুন। স্কুলে পড়ার বয়সী বাচ্চার জন্য পড়ুন বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না।

বাচ্চা মায়ের আঁচল ধরে থাকে: বাসায় সারাক্ষণ আঁকড়ে থাকা

আঁকড়ে থাকা বাচ্চা রান্নাঘর থেকে বাথরুম পর্যন্ত পেছন পেছন যেতে পারে, আপনি ফোনে কথা বললেই কাঁদতে পারে। ছেড়ে থাকার ভয় যে বয়সে বেশি, এটাও সাধারণত তখনই বেশি হয়; রোজ একটু একটু অনুশীলনে কাজ হয়।

  • লুকোচুরি আর “টুকি” খেলুন: মজার ছলে এই খেলাগুলো শেখায়, চোখের আড়াল হওয়া মানে আবার ফিরে আসা।
  • কোথাও গেলে বলে যান: “আমি রান্নাঘরে যাচ্ছি, দুই মিনিটে আসছি।” তারপর সত্যিই ফিরে আসুন।
  • আপনার কাছাকাছি থেকে একা খেলার অভ্যাস করান; শুরুতে কয়েক মিনিট, আপনি চোখের সামনেই থাকুন।
  • ঘুমের সময়টা শান্ত আর রোজ একই রকম রাখুন; রাতে আঁকড়ে থাকলে পড়ুন ঘুমের আগের শান্ত রুটিন।

কর্মজীবী মা-বাবা, দাদা-দাদি আর গৃহকর্মী: আমাদের বাসায় বিদায়ের পালা

আমাদের অনেক বাসায় মা-বাবা অফিসে গেলে বাচ্চা সারা দিন দাদা-দাদি, নানা-নানি বা গৃহকর্মীর কাছে থাকে, আর প্রতিদিন সকালে দরজায় বিদায়ের পালা চলে। কয়েকটা অভ্যাস সবার জন্য বিষয়টা সহজ করে।

  • কর্মজীবী মা আর অপরাধবোধ: মা অফিসে গেলে বাচ্চা কাঁদে মানেই আপনার সিদ্ধান্ত ভুল নয়। স্নেহশীল আত্মীয় বা দেখাশোনার মানুষের কাছে থেকেও অনেক বাচ্চা ভালো থাকে; সবচেয়ে জরুরি রোজ একই রকম বিদায় আর ফিরে এসে আপনার আদর।
  • সবার জন্য এক নিয়ম: দাদা-দাদি, নানা-নানি আর গৃহকর্মীর সাথে মিলে একই বিদায় আর সান্ত্বনার একই কথা ঠিক করে নিন।
  • দাদি-নানি বাচ্চাকে ভুলিয়ে রাখার ফাঁকে লুকিয়ে বের হবেন না, আর “কাঁদলে আম্মু আর আসবে না” — এমন ভয় দেখানো কথাও নয়। দুটোই বাচ্চাকে শেখায় যে বিদায় মানেই বিপদ।
  • বাবা বা মা বিদেশে বা অন্য শহরে থাকলে: নির্দিষ্ট সময়ে ভিডিও কল করুন, আর বাচ্চার চোখে পড়ে এমন জায়গায় তাঁর একটা ছবি রাখুন।
  • বাসায় ফিরে প্রথম কয়েক মিনিট বাচ্চাকে দিন, মোবাইল আর ঘরের কাজের আগে। ফিরে এসে কয়েক মিনিটের এই পুরো মনোযোগ অনেক সময় পরের বিদায়টা সহজ করে।

সহজ বিদায়ের জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা

প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: বিদায়টা কখন হলো, আপনি চলে যাওয়ার পর কতক্ষণ কান্না চলল (যিনি দেখাশোনা করেন তাঁর কাছে জেনে নিন), আর কী কাজে দিল।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। প্রতিটি বিদায় আর কতক্ষণ কান্না চলল, লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: বিদায়ের নিয়মটা ঠিক করুন (জড়িয়ে ধরা, চুমু, একটা কথা, হাত নাড়া), আর যারা বাচ্চার দেখাশোনা করেন সবাইকে জানান।
  3. দিন ৩: বাসায় দুবার অল্প সময়ের জন্য আলাদা থাকার অনুশীলন করুন: কয়েক মিনিটের জন্য ঘর থেকে বের হয়ে কথামতো ফিরে আসুন।
  4. দিন ৪: প্রতিটি আসল বিদায়ে নিয়মটা মানুন, আর দেরি না করে বের হয়ে যান।
  5. দিন ৫: বাসায় ফিরে মোবাইলের আগে প্রথম কয়েক মিনিট বাচ্চাকে দিন।
  6. দিন ৬: সাথে একটা ভরসার জিনিস বা ছবি দিন, আর একই মানুষকে দিয়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজটা চালিয়ে যান।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। আপনি যাওয়ার পর কান্না কতক্ষণ চলল? যা কাজে দিল, সেটাই চালিয়ে যান।

কখন ছেড়ে থাকার ভয় চিন্তার কারণ?

ছেড়ে থাকার ভয় যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তীব্র হয়, বেশি দিন চলে, বা বেশি বয়সে দেখা দেয়, তাহলে ভালো করে খেয়াল করা দরকার। এই লক্ষণগুলো দেখলে বাচ্চার ডাক্তার বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলুন।

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • মোটামুটি ৩ বছর বয়সের পরও বিদায়ের কষ্ট তীব্র, আর রোজ একই রুটিন মেনে মোটামুটি এক মাসেও কমছে না।
  • রোজকার জীবন আটকে যাচ্ছে: অন্য কোনো বিশ্বস্ত বড় মানুষের কাছেই থাকতে পারছে না, বা বেশিরভাগ দিন প্লে স্কুল বা স্কুলে যাওয়া হচ্ছে না।
  • মোটামুটি ৬ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চা সারাক্ষণ ভয় পায় যে আপনার খারাপ কিছু হবে, বা স্কুলে যেতে চায় না; পড়ুন শিশুর দুশ্চিন্তা।
  • দিনের পর দিন বিদায়ের সময় আতঙ্ক: কাঁপুনি, বমি, বা আপনি দূরে থাকার প্রায় পুরো সময় জুড়ে কান্না।
  • বেশিরভাগ বিদায়ের আগে পেট ব্যথা বা মাথাব্যথা: ডাক্তার দেখিয়ে নিন, আর দুশ্চিন্তার কথাটাও জানান।
  • আগে ঠিক ছিল, হঠাৎ দেখাশোনার নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা কোনো জায়গাকে ভয় পাচ্ছে। আলতো করে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, আর সেদিনই খোঁজ নিন; ততক্ষণ বাচ্চাকে ভরসার কারও কাছে রাখুন। বাচ্চা বিপদে থাকতে পারে মনে হলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

বিদায় সহজ হয় ছোট ছোট ধাপে, যা সহজে চোখে পড়ে না। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়সে বাচ্চা মাকে ছেড়ে থাকতে ভয় পেতে শুরু করে, আর কবে কমে?

বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে এটা শুরু হয় প্রথম বছরের দ্বিতীয় ভাগে, মোটামুটি ১০ থেকে ১৮ মাস বয়সে সবচেয়ে বেশি থাকে, আর মোটামুটি ৩ বছরের মধ্যে কমে আসে। প্লে স্কুল, নতুন ভাইবোন বা বাসা বদলের মতো পরিবর্তনে আবার বাড়তে পারে, সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য।

বাচ্চা কাঁদবে বলে কি লুকিয়ে চলে যাব, নাকি বিদায় নিয়ে যাব?

বিদায় নিয়ে যান। লুকিয়ে গেলে সেই মুহূর্তের কান্না এড়ানো যায়, কিন্তু অনেক বাচ্চা এরপর আরও বেশি আঁকড়ে ধরে, কারণ বুঝতে পারে না আপনি কখন উধাও হয়ে যাবেন। জড়িয়ে ধরা, চুমু আর হাত নাড়ার মতো ছোট্ট একটা নিয়ম, তারপর দেরি না করে বের হয়ে যাওয়া — এক মিনিটের জন্য কঠিন, কিন্তু পরের সপ্তাহগুলোতে সাধারণত সহজ।

প্লে স্কুলে মানিয়ে নিতে বাচ্চার কত দিন লাগে?

সাধারণত কয়েক সপ্তাহ। অনেক বাচ্চা প্রথম এক-দুই সপ্তাহ বিদায়ের সময় কাঁদে, তারপর কমে আসে, আর বেশিরভাগ বাবা-মা চলে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই থেমে যায়। রোজ একই নিয়ম, একই মানুষের পৌঁছে দেওয়া আর ঠিক সময়ে নিতে আসা কাজে দেয়। মোটামুটি এক মাস পরও রোজ কঠিন কান্না চললে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন।

মা অফিসে গেলে বাচ্চা কাঁদে, এতে কি বাচ্চার ক্ষতি হচ্ছে?

সাধারণত না। মা-বাবা কাজে থাকার সময় স্নেহশীল, স্থির কারও কাছে থেকে অনেক বাচ্চাই ভালো থাকে। সবচেয়ে জরুরি হলো আদর দিয়ে একই নিয়মে দেখাশোনা করার মানুষ, ছোট আর আগে থেকে জানা বিদায়, আর বাসায় ফিরে আপনার পুরো মনোযোগ। দরজায় কান্না ভালোবাসার টানের লক্ষণ, ক্ষতির নয়।

বাচ্চা হঠাৎ এত আঁকড়ে থাকছে কেন?

হঠাৎ আঁকড়ে থাকা প্রায়ই কোনো পরিবর্তন বা চাপের পরে আসে: নতুন ভাইবোন, অসুখ, দাঁত ওঠা, বাসা বদল, দেখাশোনার নতুন মানুষ, মা-বাবার নতুন চাকরি বা লম্বা ছুটি। এভাবে বাচ্চা নিশ্চিত হতে চায় যে আপনি আছেন। বাড়তি আদর, রোজ একই রুটিন আর শান্ত বিদায়ে সাধারণত কয়েক সপ্তাহে কেটে যায়।

৬–৭ বছরের বাচ্চা, বাবা-মা বের হলেই কান্না শুরু করে — এটা কি স্বাভাবিক?

৬–৭ বছর বয়সে নতুন স্কুল, বাসা বদল বা পরিবারে কারও অসুখের মতো পরিবর্তনের পর কিছুটা দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক, আর তা সাধারণত কয়েক সপ্তাহে কমে আসে। প্রতিটি বিদায়ে তীব্র ভয় যদি এর বেশি দিন চলে, বা এর জন্য স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়, সেটা স্বাভাবিকের বাইরে, তাই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; পড়ুন শিশুর দুশ্চিন্তা।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ছোট্ট শিশু (১–৩ বছর): আরও গাইড

ছোট্ট শিশু: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।