মূল কনটেন্টে যান

১ বছরের বাচ্চার খাবারের আইডিয়া: ১–৩ বছরের জন্য ঘরের সহজ রান্না ও খাবার তালিকা

ছোট করে উত্তর

১ বছরের বাচ্চার খাবারের আইডিয়া (২–৩ বছরের জন্যও) শুরু হয় পরিবারের খাবার দিয়েই, শুধু একটু নরম করে: খিচুড়ি, ডাল আর সবজি দিয়ে মাখা ভাত, কাঁটা বাছা মাছ, ডিম, মুরগি আর নরম ফল। দিনে তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা দিন, লবণ-চিনি অল্প; ১ বছরের আগে মধু নয়, আস্ত বাদাম বা আস্ত আঙুর নয়। খাওয়ার সময় বাচ্চাকে সবসময় বসিয়ে চোখে চোখে রাখুন।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১–৩ বছরের বাচ্চার রোজকার খাবার নিয়ে ভাবছেন যে বাবা-মা
মূল কথা
  • প্রথম জন্মদিনের আশপাশ থেকে বেশিরভাগ বাচ্চা পরিবারের খাবারই খেতে পারে: একটু নরম করে, ছোট টুকরো করে, অল্প লবণে আর ঝাল ছাড়া।
  • মোটামুটি একই সময়ে তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা বেশিরভাগ বাচ্চার জন্য ভালো, সাথে খাবারের সময় পানি আর দুধ।
  • ১ বছরের আগে মধু নয়; আঙুর আর অন্য গোল খাবার ছোট করে কাটুন, আস্ত বাদাম দূরে রাখুন, আর মাছের কাঁটা দুবার করে দেখুন।
  • খাওয়ার সময় বাচ্চাকে সবসময় বসিয়ে চোখে চোখে রাখুন; গলায় খাবার আটকে শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে না পারলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

চটকানো নরম খাবারে আর চলছে না, আর ১-২ বছরের বাচ্চা আপনার প্লেটের খাবারই চায়? এটা ভালো লক্ষণ, আর ১ বছরের বাচ্চার খাবারের আইডিয়া খোঁজার ঠিক সময় এটাই। প্রথম জন্মদিনের আশপাশ থেকে বেশিরভাগ বাচ্চা পরিবারের খাবারই খেতে পারে, শুধু একটু নরম আর কম ঝাল করে।

আলাদা মেনু লাগবে না। নিচে পাবেন: পরিবারের হাঁড়ি থেকে কীভাবে বাচ্চার খাবার বানাবেন, সহজ রান্না, হাতে ধরে খাওয়ার খাবার, একদিনের নমুনা তালিকা, এক সপ্তাহের আইডিয়া, নিরাপত্তার মূল নিয়ম, আর কখন সাহায্য নেবেন।

বাচ্চাকে কী খাওয়াবেন? পরিবারের খাবার, একটু নরম আর কম ঝাল

বাচ্চাকে কী খাওয়াবেন, তার উত্তর বেশিরভাগটাই পরিবারের খাবার। সারাদিনে বাচ্চার নানা রকম খাবার লাগে: শস্য, প্রোটিন (ডাল, মাছ, ডিম, মুরগি বা মাংস), সবজি, ফল, আর দুধ বা দই। রাতের রান্না থেকেই বাচ্চার খাবার বানাতে কয়েকটা ধাপ:

  1. ঝাল দেওয়ার আগেই বাচ্চার ভাগটা তুলে রাখুন, আর তাতে লবণ দিন খুব অল্প।
  2. একটু বেশিক্ষণ রাঁধুন, বা একটু পানি দিন, যাতে নরম হয়।
  3. সব কাঁটা আর হাড় বেছে ফেলুন, তারপর চটকে দিন বা ছোট করে কাটুন; যত ছোট বাচ্চা, তত নরম।
  4. প্লেটে প্রতিটা খাবার অল্প অল্প দিন, সাথে এমন একটা যা বাচ্চা আগে থেকেই পছন্দ করে।
  5. বাচ্চাকে টেবিলে বসান, সম্ভব হলে পরিবারের সবার সাথে।
  6. আঙুল বা চামচ দিয়ে নিজেই খেতে দিন, আর সাহায্য করুন শুধু যখন বাচ্চা চায়।
  7. বাচ্চা মুখ ফিরিয়ে নিলে, প্লেট সরিয়ে দিলে বা খাবার নিয়ে খেলতে শুরু করলে বুঝবেন খাওয়া শেষ; তখন থামুন।

খাওয়ার সময় যা বলতে পারেন

  • আমরা বসে খাই। তারপর খেলব।
  • গরম! চলো দুজনে ফুঁ দিই?
  • ছোট ছোট কামড় দাও। চিবিয়ে চিবিয়ে খাও, তারপর গিলে ফেলো।
  • আরও খিদে আছে? আরেকটু ভাত নিতে পারো।
  • পেট ভরেছে? আচ্ছা, খাওয়া শেষ।
বয়স অনুযায়ী খাবার কতটা নরম হবে: মোটামুটি ধারণা
বয়সখাবারের ধরনযেমন
১২–১৮ মাসচটকানো, বা চাপ দিলেই গলে যায় এমন নরম টুকরোনরম খিচুড়ি, মাখা ডাল-ভাত, ডিম, কলা
১৮ মাস–২ বছরপরিবারের খাবারের ছোট, নরম টুকরোমাছ-সবজি দিয়ে ভাত, রুটির টুকরো, কুচানো মুরগি
২–৩ বছরপ্রায় সব পারিবারিক খাবার, ছোট করে কাটা, ঝাল ছাড়াভাত-তরকারি, রুটি-ভাজি, ফলের ফালি

১ বছরের বাচ্চার খাবারের আইডিয়া: ঘরের রান্নাঘর থেকে সহজ খাবার

বাচ্চার সহজ রান্না মানে আলাদা কিছু নয়: আমাদের ঘরের রোজকার খাবারই, ঝাল ছাড়া আর অল্প লবণে।

সকালের নাশতা

  • দুধে রান্না করা নরম সুজি, চটকানো কলা মিশিয়ে, চিনি ছাড়া
  • নরম রুটির টুকরো আর ডিম ঝুরি
  • ভিজিয়ে নরম করা চিড়া, কলা আর টক দই দিয়ে মাখা
  • দুধে রান্না করা ওটস, সাথে কুচানো আপেল
  • ডিমে ডুবিয়ে নরম করে ভাজা পাউরুটি, লম্বা ফালি করে কাটা

বাচ্চার দুপুরের খাবার কী দেবেন

  • ডিম বা মুরগি দিয়ে নরম সবজি খিচুড়ি
  • ডাল আর নরম মিষ্টিকুমড়া বা লাউ দিয়ে মাখা ভাত
  • তেলাপিয়া বা পাঙাশের মতো নরম, কাঁটা বাছা মাছ, আলু আর ভাত
  • ঝাল ছাড়া মুরগির তরকারি ঝুরি করে, সাথে ভাত আর গাজর
  • নরম মসুর ডাল, সাথে ডালে ভেজানো রুটির টুকরো

বাচ্চার রাতের খাবার

  • পরিবারের রাতের খাবারের ছোট ভাগ: ভাত, চটকানো সবজি আর মাছ
  • ঘরে রান্না সবজি নুডলস, ডিম দিয়ে, ছোট করে কেটে
  • আলু দিয়ে ডিমের ঝোল আর ভাত, ডিম ছোট করে কাটা
  • নরম সবজি আর অল্প ভাত দিয়ে মুরগির স্যুপ
  • ঝাল ছাড়া আলু-মিষ্টিকুমড়ার ভর্তা, সাথে ডাল-ভাত

ভাত ছাড়া বাচ্চার খাবারও অনেক আছে: রুটি, সুজি, চিড়া, ওটস, আলু, নুডলস আর পাউরুটি সবই চলে; যেদিন বাচ্চা ভাত সরিয়ে দেয়, সেদিন কাজে লাগে।

হাতে ধরে খাওয়ার খাবার: নরম টুকরো, যা বাচ্চা নিজে ধরতে পারে

হাতে ধরে খাওয়ার খাবারে বাচ্চা নিজে খেতে পারে, যা অনেক বাচ্চার খুব পছন্দ, আর এতে চিবানোর অভ্যাসও হয়। ভালো খাবার মানে নরম আর ধরতে সহজ:

  • ভাপে বা সেদ্ধ করা গাজর, মিষ্টিকুমড়া বা আলুর লম্বা টুকরো
  • পাকা কলা, পেঁপে বা আমের টুকরো
  • অমলেটের ফালি, বা চার ভাগ করা সেদ্ধ ডিম
  • নরম রুটির ছোট টুকরো
  • ডাল বা মাছ দিয়ে মাখা ভাতের ছোট ছোট গোল্লা
  • ঝুরি করা মুরগি, বা কাঁটা বাছা নরম মাছ
  • কাঁচা আপেলের বড় টুকরোর বদলে কুচানো বা পাতলা ফালি

২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা: একদিনের নমুনা (১–৩ বছর)

বেশিরভাগ বাচ্চার জন্য ভালো হলো প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা, ২–৩ ঘণ্টা পরপর। নিচে একদিনের একটা নমুনা দিলাম; সময়গুলো শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য।

বাচ্চার একদিনের নমুনা খাবার
কখনবেলাযেমন
সকালনাশতাচটকানো কলা দিয়ে নরম সুজি; পানি বা দুধ
বেলা বাড়লেনাশতাপেঁপের টুকরো আর একটু টক দই
দুপুরদুপুরের খাবারডাল, নরম মিষ্টিকুমড়া আর কাঁটা বাছা মাছ দিয়ে মাখা ভাত; পানি
বিকেলনাশতাডিম দিয়ে নরম রুটির টুকরো, বা একটা কলা
সন্ধ্যার পররাতের খাবারভাত, ঝাল ছাড়া মুরগি আর নরম সবজি; পানি বা দুধ

পরিমাণ অল্প: প্রতিটা খাবারের কয়েক চামচই অনেক সময় বাচ্চার পুরো এক বেলার খাবার। কী আর কখন, ঠিক করবেন আপনি; কতটা খাবে, ঠিক করবে বাচ্চা। খাওয়ার সময়টা যদি যুদ্ধ হয়ে ওঠে, দেখুন বাচ্চা খেতে চায় না, কী করবেন। বাচ্চার কতটা দুধ দরকার তা নিয়ে চিন্তা থাকলে ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারবেন।

এক সপ্তাহের খাবারের আইডিয়া: দুপুর আর রাতের খাবার

বাচ্চার স্বাস্থ্যকর খাবারে রোজ নতুন কিছু লাগে না। নাশতা বারবার একই হতে পারে (সুজি, চিড়া, ডিম, রুটি, ফল, দই), আর দুপুর ও রাতের খাবার সপ্তাহজুড়ে বদলান:

সাত দিনের দুপুর আর রাতের খাবার
দিনদুপুররাত
শনিবারডিম আর গাজর দিয়ে খিচুড়িভাত, ডাল আর নরম মাছ
রবিবারমুরগি আর মিষ্টিকুমড়া দিয়ে ভাতআলু দিয়ে ডিমের ঝোল আর ভাত
সোমবারলাউ দিয়ে ডাল-ভাতডিম দিয়ে সবজি নুডলস
মঙ্গলবারনরম মাছ আর পালংশাক দিয়ে ভাতভাত দিয়ে মুরগির স্যুপ
বুধবারমুরগি আর চটকানো মটরশুঁটি দিয়ে খিচুড়িডাল আর ডিম দিয়ে রুটির টুকরো
বৃহস্পতিবারডিম ঝুরি আর সবজি দিয়ে ভাতআলু-মিষ্টিকুমড়ার ভর্তা, ডাল আর ভাত
শুক্রবারপরিবারের দুপুরের খাবার, ঝাল ছাড়া: ভাত, মুরগি, নরম সবজিনরম রুটি আর পাঁচমিশালি সবজি

বাচ্চার খাবারে নিরাপত্তা: গলায় আটকানো, মধু, লবণ আর চিনি

যে রান্নাই করুন, কয়েকটা নিরাপত্তার নিয়ম যেকোনো রেসিপির চেয়ে বেশি জরুরি:

  • প্রথম জন্মদিনের আগে মধু একটুও নয়, খাবারে মিশিয়েও নয়: মধুতে এমন জীবাণু থাকতে পারে, যা ছোট শিশুকে খুব অসুস্থ করে দিতে পারে।
  • গোল খাবার ছোট করে কাটুন: আঙুর আর ছোট টমেটো লম্বালম্বি চার ভাগ করুন, লিচুর খোসা আর বিচি ফেলে টুকরো করুন।
  • আস্ত বাদাম আর চিনাবাদাম ছোট বাচ্চাকে দেবেন না, সাধারণত প্রায় ৫ বছর বয়স পর্যন্ত; পপকর্ন, চানাচুর আর শক্ত লজেন্সও নয়।
  • মাছের কাঁটা দুবার করে দেখুন, আর মুরগি-মাংস হাড় থেকে ছাড়িয়ে দিন।
  • কাঁচা গাজর আর আপেল কুচিয়ে দিন, বা নরম করে রাঁধুন; কাঁচা শক্ত টুকরো গলায় আটকাতে পারে।
  • লবণ আর চিনি কম রাখুন: চিপস বা ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মসলার প্যাকেট নয়, মিষ্টি পানীয়ও নয়। রোজকার পানীয় পানি।
  • সবসময় বসিয়ে, সবসময় চোখে চোখে: হাঁটতে হাঁটতে, খেলতে খেলতে, শুয়ে শুয়ে বা চলন্ত রিকশা-গাড়িতে খাওয়া নয়।

চিবানো শেখার সময় বাচ্চার ওয়াক আসা খুব সাধারণ: কাশে, ওয়াক ওয়াক করে, আর সাধারণত নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। গলায় খাবার আটকানো আলাদা, আর প্রায়ই নিঃশব্দ: বাচ্চা শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে পারে না। তখন সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর জানা থাকলে গলায় খাবার আটকানোর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন।

আমাদের বাসায় বাচ্চার খাবার: দেরির রাতের খাবার, চা-বিস্কুট আর দাদি-নানির হাত

  • দেরিতে রাতের খাবার: পরিবারের খাওয়া রাত ৯টা-১০টায় হলে বাচ্চাকে আগে খাইয়ে দিন, তারপর ফল বা একটু স্বাদ নিয়ে সবার সাথে বসতে দিন।
  • চা-বিস্কুট: চা ছোট বাচ্চার পানীয় নয়, আর বিস্কুট মাঝেমধ্যের নাশতা, খাবারের বদলি নয়। চায়ের বদলে পানি বা দুধ দিন।
  • নবজাতকের মুখে মধু: অনেক পরিবারে ভালোবাসা থেকে, দোয়া হিসেবে এই রীতি আছে। কিন্তু প্রথম জন্মদিনের আগে মধু শিশুকে খুব অসুস্থ করে দিতে পারে, তাই এক ফোঁটাও নয়; দোয়া বা ভালো কথাটুকু মধু ছাড়াই থাকুক।
  • দাদি-নানির হাতে খাওয়া: এটা ভালোবাসারই প্রকাশ। শুধু কিছু বেলা বাচ্চাকে নিজের হাতে খেতে দেওয়ার অনুরোধ করুন, যাতে পেট ভরলে থামতে শেখে।
  • খাওয়ার সময় মোবাইল: কার্টুন চালালে খাবার মুখে যায়, কিন্তু বাচ্চা স্বাদ আর পেট ভরা টের পায় না; দেখুন মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানো কীভাবে ছাড়াবেন।
  • অন্য কেউ রাঁধলে বা খাওয়ালে: গৃহকর্মী বা যিনিই বাচ্চাকে খাওয়ান, তাঁকে নিরাপত্তার তালিকাটা (ঝাল, কাঁটা, গোল খাবার, বাদাম) জানিয়ে দিন।

বাচ্চা বড় হয়ে টিফিন বক্স নিয়ে স্কুলে যেতে শুরু করলে দেখুন বাচ্চার স্কুলের টিফিনে কী দেবেন, আর পরের বছরগুলোর প্লেট নিয়ে স্কুলপড়ুয়া শিশুর খাবার ও পুষ্টি।

৭ দিনের পরিকল্পনা: বাচ্চাকে পরিবারের খাবারে অভ্যস্ত করা

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। দুধ, বিস্কুট আর জুসসহ বাচ্চা কী খায়, কী পান করে আর কখন, লিখে রাখুন। এখনই কিছু বদলাবেন না।
  2. দিন ২: তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতার মোটামুটি সময় ঠিক করুন, মাঝে শুধু পানি।
  3. দিন ৩: ঝাল দেওয়ার আগেই পরিবারের হাঁড়ি থেকে বাচ্চার ভাগ তুলে রাখুন।
  4. দিন ৪: প্রতি বেলায় একটা করে হাতে ধরে খাওয়ার খাবার দিন, আর বাচ্চাকে নিজে খেতে দিন।
  5. দিন ৫: যারা বাচ্চাকে খাওয়ান, সবার সাথে নিরাপত্তার তালিকাটা মিলিয়ে নিন।
  6. দিন ৬: পছন্দের খাবারের পাশে একটা নতুন খাবার অল্প একটু দিন, কোনো মন্তব্য ছাড়া।
  7. দিন ৭: এক বেলা নয়, পুরো সপ্তাহটা দেখুন: সব দিন মিলিয়ে বাচ্চা কী কী খেয়েছে? যা কাজে লেগেছে, তা রাখুন।

বাচ্চার খাওয়া নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন

বেশিরভাগ বাচ্চা একদিন ভালো খায়, পরদিন কম; এটা স্বাভাবিক। বাচ্চার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, যদি:

কখন সাহায্য নেবেন

  • বাচ্চার ওজন কমছে, চেকআপে যেমন বাড়ার কথা তেমন বাড়ছে না, বা খেলার শক্তি কম।
  • প্রায় ১২ মাস বয়সেও বাচ্চা শুধু একদম মসৃণ, ব্লেন্ড করা খাবারই খেতে পারে, দানাদার কিছু নয়; অথবা যেকোনো বয়সে খাওয়ার সময় প্রায়ই ওয়াক করে, গলায় আটকায় বা বমি করে।
  • নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলেই বারবার র‍্যাশ, ফোলা, বমি বা ডায়রিয়া হয়।
  • বাচ্চা খুব অল্প কয়েকটা খাবার খায়, আর তালিকাটা ছোট হয়েই চলেছে।
  • গলায় খাবার আটকে বাচ্চা শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে না পারলে (জানা থাকলে গলায় খাবার আটকানোর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন), অথবা খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট হলে বা মুখ-ঠোঁট ফুলে গেলে সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

এক বেলা দেখে নয়, এক সপ্তাহ ধরে দেখলে বাচ্চার খাওয়া অনেক ভালো বোঝা যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

১ বছরের বাচ্চাকে রাতে কী খাওয়াবেন?

বেশিরভাগ ১ বছরের বাচ্চা পরিবারের রাতের খাবারের নরম রূপটা খেতে পারে: ডাল আর সবজি দিয়ে মাখা ভাত, কাঁটা বাছা মাছ, ডিম বা ঝুরি করা মুরগি, ঝাল ছাড়া আর অল্প লবণে। সব ছোট আর নরম করে দিন, সাথে পানি বা দুধ, আর পরিবার দেরিতে খেলে বাচ্চাকে আগে খাইয়ে দিন।

২ বছরের বাচ্চা দিনে কতটা খাবে?

সাধারণত বাবা-মা যতটা ভাবেন তার চেয়ে কম। বাচ্চার এক বেলার খাবার প্রায়ই প্রতিটা খাবারের কয়েক চামচ, আর খিদে দিনে দিনে বদলায়। তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা দিন, আর কতটা খাবে তা বাচ্চাকেই ঠিক করতে দিন। বাচ্চা চঞ্চল থাকলে আর চেকআপে ঠিকমতো বাড়লে সাধারণত সে যথেষ্টই খাচ্ছে।

ছোট বাচ্চাকে কোন খাবার দেওয়া যাবে না?

প্রথম জন্মদিনের আগে মধু, আস্ত বাদাম আর চিনাবাদাম, ছোট করে না কাটা আঙুর ও অন্য গোল খাবার, পপকর্ন, শক্ত লজেন্স, আর কাঁটা না বাছা মাছ এড়িয়ে চলুন। বাচ্চার ভাগে ঝাল দেবেন না, আর নোনতা প্যাকেটের খাবার, মিষ্টি পানীয়, চা-কফি রোজকার খাবারে রাখবেন না।

বাচ্চার জন্য খিচুড়ি কি ভালো?

হ্যাঁ, নরম খিচুড়ি বাচ্চার সবচেয়ে সহজ খাবারগুলোর একটা: ভাত আর ডাল একসাথে, সাথে সবজি আর ডিম বা মুরগি। বাচ্চার ভাগটা নরম রাখুন, ঝাল ছাড়া আর অল্প লবণে, আর খুব ছোট বাচ্চার জন্য চটকে দিন। টাটকা খাওয়ান, আর বেঁচে যাওয়া খিচুড়ি বাইরে না রেখে তাড়াতাড়ি ফ্রিজে তুলুন।

বাচ্চাকে কি প্রতিদিন ভাত খাওয়ানো ঠিক? ভাত ছাড়া কী দেবেন?

হ্যাঁ। ভাত বাচ্চার খাবারের ভালো ভিত্তি, যদি সাথে অন্য খাবারও থাকে: ডাল, মাছ, ডিম বা মুরগি, আর সবজি। কোনো একটা খাবারের চেয়ে সপ্তাহজুড়ে নানা রকম খাবার বেশি জরুরি। যেদিন বাচ্চা ভাত খেতে চায় না, সেদিন রুটি, সুজি, চিড়া, আলু বা নুডলসও একই রকম কাজে দেয়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ছোট্ট শিশু (১–৩ বছর): আরও গাইড

ছোট্ট শিশু: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।