বাচ্চা খেতে চায় না? কী করবেন, কী করবেন না
ছোট করে উত্তর
১–৮ বছরের বাচ্চা খেতে চায় না — এটা সাধারণত বেড়ে ওঠারই একটা স্বাভাবিক পর্যায়: প্রথম জন্মদিনের পর খিদে কমে যায়, আর অনেক ছোট বাচ্চা নতুন খাবারে ভরসা পায় না। কী খাবার আর কখন, তা ঠিক করবেন আপনি; কতটা খাবে, ঠিক করবে বাচ্চা। খাবার আর নাশতা নির্দিষ্ট সময়ে দিন, চাপ ছাড়া বারবার নতুন খাবার দিন, আর ওজন কমলে বা বাড়া থেমে গেলে সাহায্য নিন।
লেখাটি শুনুন
১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ১–৮ বছর বয়সী যে বাচ্চারা খেতে চায় না বা হাতে গোনা কয়েকটা খাবার খায়, তাদের বাবা-মা
- মূল কথা
- প্রথম জন্মদিন থেকে স্কুলে যাওয়ার শুরুর বয়স পর্যন্ত খাবার নিয়ে বাছবিচার খুব সাধারণ, আর বেশিরভাগ খুঁতখুঁতে বাচ্চা ঠিকঠাকই বেড়ে ওঠে।
- কী আর কখন খাবে, ঠিক করবেন আপনি; কতটা খাবে, ঠিক করবে বাচ্চা। চাপ, লোভ দেখানো আর জোর করে খাওয়ানো সাধারণত খেতে না চাওয়া আরও বাড়ায়।
- দুই বেলার মাঝে চিপস, জুস, বিস্কুট আর দুধই প্রায়ই আসল কারণ, কেন খাওয়ার সময় বাচ্চা ভাত-মাছ খেতে চায় না।
- ওজন কমলে বা ঠিকমতো না বাড়লে, খুব অল্প কয়েকটা খাবার খেলে, প্রায়ই ওয়াক করলে বা গলায় আটকালে, শক্তি কম থাকলে, বা পেটের সমস্যা দীর্ঘদিন চললে সাহায্য নিন।
বাচ্চা খেতে চায় না, প্লেট সরিয়ে দেয়, ভাত-মাছ মুখেই তোলে না, বদলে বিস্কুট বা নুডলস চায়: এমন হলে প্রতিটা বেলা যুদ্ধের মতো লাগে। আপনার বাচ্চা যদি পরিবারের খাবার খেতে না চায়, আপনি মোটেও একা নন। বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে খাবার নিয়ে এই বাছবিচার একটা পর্যায়, যা সময়ের সাথে কমে আসে।
কোনো কৌশলের চেয়ে খাবার টেবিলে কী ঘটে, সেটাই বেশি জরুরি। নিচে পাবেন: বাচ্চা কেন খেতে চায় না, জোর না করে বাচ্চাকে খাওয়ানোর উপায়, প্লেট হাতে পেছনে ঘোরা কীভাবে বন্ধ করবেন, কোন নাশতা চুপচাপ খিদে নষ্ট করে, ঘরের খাবারে কী বদলাবেন, আর কখন সাহায্য নেওয়ার সময়।
বাচ্চা খেতে চায় না কেন? সাধারণ কারণগুলো
বাচ্চার খাবারে অরুচির পেছনে সাধারণত খুব চেনা কিছু কারণ থাকে, আর বেশিরভাগই বয়স আর রুটিনের সাথে জড়িত, আপনার রান্নার সাথে নয়।
- প্রথম বছরের পর বাড়ার গতি কমে, তাই খিদেও কমে। যে ছোট বাচ্চাকে দেখে মনে হয় কিছুই খায় না, তার দরকারও প্রায়ই বাবা-মায়ের ধারণার চেয়ে কম।
- নতুন খাবারে সন্দেহ একটা স্বাভাবিক পর্যায়, যা সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশি থাকে।
- ছোট বাচ্চারা নিজের মতো চলতে চায়, আর খাবারে “না” বলা তাদের হাতে থাকা অল্প কয়েকটা সিদ্ধান্তের একটি।
- ছোট পেট তাড়াতাড়ি ভরে যায়। দুই বেলার মাঝে দুধ, জুস, বিস্কুট বা চিপস খেলে ভাত-ডালের জায়গা থাকে না।
- চাপ উল্টো ফল দেয়। যত সাধাসাধি বা জোর করা হয়, খাওয়ার সময়টা ততই জেতার লড়াই হয়ে ওঠে।
- ক্লান্তি, দাঁত ওঠা, সর্দি-কাশি বা টেবিলে স্ক্রিন, এসবেও কিছুদিন বাচ্চা কম খেতে পারে।
| বয়স | যা সাধারণ | যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ১–২ বছর | খিদে কমে যায়; নিজে খেতে চায়; খাবার নিয়ে খেলে বা ছুড়ে ফেলে | নরম, হাতে ধরে খাওয়ার মতো খাবার, নিজের একটা চামচ, আর একটু নোংরা হওয়া মেনে নেওয়া |
| ২–৫ বছর | নতুন খাবারে অবিশ্বাস; প্রতিদিন একই খাবার চায়; জোরালো “না” | অল্প করে পরিবারের খাবার, প্লেটে একটা চেনা খাবার, কোনো চাপ নয় |
| ৫–৮ বছর | চেখে দেখতে বেশি রাজি; বন্ধুদের দেখে শেখে; সবজিতে তবু আপত্তি থাকতে পারে | একসাথে রান্না, দুটো সবজির মধ্যে বেছে নেওয়া, টিফিনে তার মতামত |
স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর সকালেই প্রায়ই খাওয়া বাদ পড়ে; সহজ কিছু উপায় আছে ব্যস্ত স্কুল-সকালের নাশতা লেখায়।
খাবার টেবিলে বাচ্চা খেতে না চাইলে কী করবেন
- অল্প করে দিন, সাথে অন্তত একটা খাবার যা বাচ্চা সাধারণত খায়, যেমন সাদা ভাত, রুটি বা ডিম।
- নতুন বা কম পছন্দের খাবারটা অল্প একটু দিন, কোনো মন্তব্য ছাড়া।
- যতটা পারে নিজে খেতে দিন, চামচে বা নিজের হাতে।
- একসাথে খান, আর প্রতি লোকমা নিয়ে নয়, অন্য কথা বলুন।
- চাপ বাদ দিন: “আর এক লোকমা” নয়, লোভ দেখানো নয়, হুমকি নয়, প্লেট খালি করার জন্য প্রশংসাও নয়।
- বাচ্চা খাওয়া থামালে বা খেলতে শুরু করলে, অথবা প্রায় ২০–৩০ মিনিট পর, শান্তভাবে খাওয়া শেষ করুন।
- এর পরপরই বদলে অন্য নাশতা দেবেন না; পরের খাবার আসবে পরের নির্দিষ্ট সময়ে।
যা বলতে পারেন
- খেতে হবে না, প্লেটে থাকুক।
- এটা মাছ। নরম, একটু নোনতা। একটু গন্ধ নিয়ে দেখবে?
- পেট ভরে গেছে? ঠিক আছে, উঠে যেতে পারো।
- আমার ডাল-ভাত খুব ভালো লাগে। তুমি যখন চাইবে, খেয়ে দেখো।
- এখন খাওয়া শেষ। আবার খাব বিকেলে নাশতার সময়।
কী আর কখন, ঠিক করবেন আপনি; কতটা খাবে, ঠিক করবে বাচ্চা
খাওয়ার সময়ের কাজগুলো ভাগ করে নিলে চাপ অনেক কমে যায়, আর শিশুর খাওয়া নিয়ে কাজ করা অনেক বিশেষজ্ঞ এটাই করতে বলেন। কী খাবার দেবেন, কখন আর কোথায়, তা ঠিক করবেন আপনি। খাবে কি না আর কতটা খাবে, তা ঠিক করবে বাচ্চা।
- আপনার কাজ: প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা।
- আপনার কাজ: পরিবারের খাবার, সাথে অন্তত একটা খাবার যা বাচ্চা সাধারণত খায়, স্ক্রিন ছাড়া শান্ত টেবিলে।
- বাচ্চার কাজ: যা দেওয়া হয়েছে তা থেকে কতটা খাবে, ঠিক করা; একেবারে না খেতে চাইলে সেটাও।
- বাচ্চার কাজ: নিজের গতিতে নতুন খাবার চিনে নেওয়া।
জোর করে খাওয়ানো আর প্লেট হাতে পেছনে দৌড়ানো কেন উল্টো ফল দেয়
জোর করে খাওয়ানো আসে ভালোবাসা আর দুশ্চিন্তা থেকে। বাচ্চাকে চেপে ধরে, কাঁদতে থাকা মুখে খাবার ঠেলে দিয়ে, বা প্লেট হাতে সারা বাসা পেছনে পেছনে ঘুরে আজ হয়তো কয়েক চামচ বেশি খাওয়ানো যায়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহে এতে বাচ্চা সাধারণত খাওয়ার সময়টাকেই ভয় পেতে শুরু করে, আরও কম খেতে চায়, আর কাঁদতে থাকা মুখে খাবার ঠেলে দিলে গলায় আটকে যেতে পারে।
- বসে খাওয়ান: খাবার খাওয়া হবে টেবিলে বা পাটিতে, হাঁটতে হাঁটতে নয়।
- “পেট ভরে গেছে” বললে মেনে নিন, আর ঝামেলা না করে প্লেট তুলে নিন।
- সবজি খাওয়ার পুরস্কার হিসেবে মিষ্টি দেবেন না; এতে বাচ্চা শিখে যেতে পারে, সবজি খাওয়া একটা ঝামেলার কাজ, আর মিষ্টিই আসল পাওনা।
- স্ক্রিন বাদ দিন। কার্টুন চালালে খাবার মুখে যায়, কিন্তু বাচ্চা স্বাদ আর পেট ভরা টের পায় না; দেখুন মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস কীভাবে ছাড়াবেন।
চিপস, জুস, বিস্কুট আর দুধ: খাওয়ার সময় খিদে থাকে না কেন
যে বাচ্চা টেবিলে খেতে চায় না, সে প্রায়ই মাঝের সময়ে অনেক কিছু খেয়ে ফেলে: মোড়ের দোকানের চিপস, এক গ্লাস জুস, এক কাপ দুধ, চায়ের সাথে বিস্কুট। আলাদা করে প্রতিটা অল্প, কিন্তু সব মিলিয়ে ভাত-মাছের আর জায়গা থাকে না।
- নাশতার সময় ঠিক করুন, মোটামুটি ২–৩ ঘণ্টা পরপর, আর মাঝের সময়ে রান্নাঘর বন্ধ।
- দুই বেলার মাঝে পানি দিন, আর দুধ দিন শুধু খাবার বা নাশতার সময়ে।
- চিপস, চকলেট, মিষ্টি বিস্কুট, কোমল পানীয় আর প্যাকেটের জুস রাখুন মাঝে মধ্যে খাওয়ার জন্য, রোজকার নাশতা হিসেবে নয়।
- নাশতাকে ছোট খাবার বানান: কলা, পেয়ারা বা পেঁপে, মুড়ি, সেদ্ধ ডিম, সবজি দিয়ে রুটি, দই।
স্কুলপড়ুয়া বাচ্চার প্লেট আর পানীয় কেমন হতে পারে, দেখুন শিশুর খাবার ও পুষ্টি।
ভাত, ডাল, মাছ, ডিম: বাংলাদেশের ঘরের খাবারে খুঁতখুঁতে বাচ্চা
বাংলাদেশের রোজকার খাবার, মানে ভাত, ডাল, মাছ, সবজি আর ডিম, ছোট বাচ্চার জন্য ভালো ভিত্তি। আলাদা রান্না না করেও কয়েকটা ছোট বদলে পরিবারের খাবারই বাচ্চার জন্য সহজ হয়ে যায়।
- ঝাল দেওয়ার আগেই বাচ্চার ভাগটা তুলে রাখুন।
- মাখিয়ে বা মিশিয়ে দিন: ডাল-ভাত, সবজি দিয়ে নরম খিচুড়ি, কাঁটা ভালো করে বেছে ভাতে মাখানো মাছ।
- ডিম দিন নানাভাবে: সেদ্ধ, অমলেট, ডিম ভাজি, খিচুড়িতে ডিম।
- বাচ্চাকে নিজের হাতে ভাত মাখিয়ে ছোট ছোট লোকমা বানাতে দিন; অনেক বাচ্চা নিজে মাখানো খাবার বেশি খায়।
- নরম, কম কাঁটার মাছ দিয়ে শুরু করুন। একবার কাঁটা বিঁধলে অনেক বাচ্চা কয়েক সপ্তাহ মাছই খেতে চায় না।
আত্মীয়রা যখন ওজন নিয়ে তুলনা করেন
“ও এত শুকনা কেন? ওর চাচাতো ভাইকে দেখো”, পারিবারিক অনুষ্ঠানে এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়, আর তা কষ্ট দেয়। অন্য বাচ্চার সাথে তুলনা করে আসলে খুব কমই বোঝা যায়। আসল কথা হলো চেকআপে বাচ্চা নিজের বৃদ্ধির রেখা ধরে নিয়মিত বাড়ছে কি না, খেলার মতো শক্তি আছে কি না, আর বিকাশ ঠিক আছে কি না। বাবা-মায়ের উচ্চতা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চতার মোটামুটি ধারণা পেতে দেখুন আমাদের শিশুর উচ্চতা অনুমান; তবে বৃদ্ধি ঠিক আছে কি না, তা বলবেন বাচ্চার ডাক্তারই। আত্মীয়রা অনেক সময় খিদে বাড়ানোর সিরাপ বা টনিক খাওয়াতে বলেন: ডাক্তার বাচ্চাকে দেখে লিখে না দিলে খিদে বাড়ানোর কোনো ওষুধ বা সিরাপ দেবেন না, আর ওজন বা বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা হলে বরং ডাক্তারকে দিয়ে বৃদ্ধি ঠিক আছে কি না দেখিয়ে নিন।
দাদি-নানি যখন মুখে তুলে খাওয়ান
অনেক দাদি-নানি বাচ্চাকে লোকমা লোকমা করে মুখে তুলে খাওয়ান; এটা ভালোবাসারই প্রকাশ, পরিবারের জীবনে থাকতেই পারে। শুধু কিছু বেলা বাচ্চাকে নিজের হাতে খেতে দেওয়ার অনুরোধ করুন, যাতে পেট ভরলে থামতেও শেখে।
নতুন খাবারে অভ্যস্ত করানো: অল্প করে, বারবার
বাচ্চারা নতুন খাবার ধীরে ধীরে মেনে নেয়। অনেক বাচ্চার একটা খাবার বারবার দেখা, গন্ধ নেওয়া, ছোঁয়া আর চেখে দেখা লাগে, প্রায়ই কয়েক সপ্তাহে ১০ বার বা তারও বেশি, তারপর খায়। একবার না খাওয়া মানে ব্যর্থতা নয়; একটা চেষ্টা হয়ে গেল।
- পরিবারের সাথে খাওয়ার সময় চেনা খাবারের পাশে অল্প একটু দিন।
- নিজে খান আর মজা করে খান, বাচ্চাকে নকল করতে না বলে।
- বাচ্চাকে কাজে লাগান: সবজি ধোয়া, ডিম ভাঙা, ডাল নাড়া, বাজারে দুটো সবজির মধ্যে একটা বেছে নেওয়া।
- ছোঁয়া, চাটা আর গন্ধ নেওয়াকেও অগ্রগতি ধরুন, আর রূপ বদলে দিন: গাজর কাঁচা, সেদ্ধ বা খিচুড়িতে।
খেতে না চাওয়া বাচ্চার জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা
- দিন ১: খেয়াল করুন। দুধ, জুস আর নাশতাসহ বাচ্চা যা খায় ও পান করে, আর কখন, সব লিখে রাখুন।
- দিন ২: দুই বেলার মাঝের সময়গুলো দেখুন, আর একটা পরিবর্তন বেছে নিন; সাধারণত নির্দিষ্ট নাশতার সময়, আর মাঝে শুধু পানি।
- দিন ৩: দিনের একটা ছন্দ ঠিক করুন: তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা, খাওয়ার সময় স্ক্রিন নয়।
- দিন ৪: অল্প করে পরিবারের খাবার দিন, সাথে একটা চেনা খাবার, আর সব চাপ বাদ দিন।
- দিন ৫: নতুন বা কম পছন্দের একটা খাবার অল্প একটু যোগ করুন, কোনো মন্তব্য ছাড়া।
- দিন ৬: খাবারের কোনো একটা কাজে বাচ্চাকে হাত লাগাতে দিন।
- দিন ৭: এক বেলা নয়, পুরো সপ্তাহটা দেখুন। খাওয়ার পরিবেশ কি শান্ত হয়েছে? খেতে বসার সময় খিদে কি বেশি থাকছে? যা কাজে লেগেছে তা রাখুন।
কখন চিন্তার কারণ আছে? সাহায্য নেওয়ার লক্ষণ
শিশুর খাবারে অনীহা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সময়ের সাথে কমে, আর বেশিরভাগ খুঁতখুঁতে বাচ্চা ঠিকঠাক বেড়ে ওঠে। বাচ্চার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, যদি:
কখন সাহায্য নেবেন
- বাচ্চার ওজন কমছে, চেকআপে যেমন বাড়ার কথা তেমন বাড়ছে না, বা আগের জামা ঢিলা হয়ে যাচ্ছে।
- খুব অল্প কয়েকটা খাবার ছাড়া কিছু খায় না, পুরো এক ধরনের খাবার বাদ দিয়েছে, আর তালিকাটা আরও ছোট হচ্ছে।
- খাওয়ার সময় প্রায়ই ওয়াক করে, গলায় আটকায় বা বমি করে, অথবা খেতে ভয় পায় বলে মনে হয়।
- খেলার শক্তি কম, ফ্যাকাশে বা অস্বাভাবিক ক্লান্ত দেখায়, বা প্রায়ই অসুস্থ থাকে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা বমির মতো পেটের সমস্যা দুই সপ্তাহের বেশি চলছে।
- বাচ্চার গলায় খাবার আটকে যদি শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে না পারে, সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর জানা থাকলে গলায় খাবার আটকানোর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন। খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট হলে, বা মুখ বা ঠোঁট ফুলে গেলে, তখনও ৯৯৯-এ ফোন করুন।
ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো, যেমন বাচ্চা কী খেল আর খাওয়ার সময়টা কেমন গেল, তা নোট করতে, এক সপ্তাহে বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে; এক বেলা দেখে বিচার করার চেয়ে সেটা প্রায়ই অনেক স্বস্তির। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চা খুব কম খায়, এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে। প্রথম জন্মদিনের পর বাড়ার গতি কমে, তাই খিদেও কমে, আর অনেক বাচ্চা একদিন ভালো খায়, পরদিন খুব কম। এক বেলা নয়, পুরো সপ্তাহ দেখুন। বাচ্চার যদি খেলার শক্তি থাকে, চেকআপে নিয়মিত বাড়ে, আর অসুস্থ না থাকে, তাহলে কোনো কোনো বেলা কম খাওয়া সাধারণত স্বাভাবিক।
জোর করে খাওয়ানো কি ঠিক?
না। জোর করে খাওয়ালে সময়ের সাথে বাচ্চা সাধারণত আরও কম খায়, কারণ খাওয়ার সময়টা তার কাছে লড়াই হয়ে যায়; আর কাঁদতে থাকা মুখে খাবার ঠেলে দিলে গলায় আটকে যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিন, একসাথে বসুন, আর যা দিয়েছেন তা থেকে কতটা খাবে, বাচ্চাকেই ঠিক করতে দিন। চাপের চেয়ে শান্ত, নিয়মিত খাবার খিদের জন্য বেশি কাজে দেয়।
বড় হলে কি খাওয়া নিয়ে বাছবিচার কমে যায়?
বেশিরভাগ বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে কম বাছবিচার করে, প্রায়ই স্কুলে যাওয়ার শুরুর দিকেই, বিশেষ করে যখন খাওয়ার সময় শান্ত থাকে আর চাপ ছাড়া নতুন খাবার আসতে থাকে। কোনো কোনো বাচ্চা আরও কিছুদিন সাবধানী থাকে। সবচেয়ে বেশি কাজে দেয় নিয়মিত পারিবারিক খাবার, নতুন খাবার অল্প অল্প বারবার চেখে দেখা, আর দুই বেলার মাঝে কম নাশতা।
বাচ্চা দুধ আর বিস্কুট ছাড়া কিছু খেতে চায় না, কী করব?
নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের খাবার দিতে থাকুন, প্লেটে রাখুন বাচ্চা খায় এমন একটা খাবার। সারা দিন না দিয়ে দুধ দিন শুধু খাবার আর নাশতার সময়ে, মাঝে পানি দিন, আর বিস্কুট ও ইনস্ট্যান্ট নুডলস রোজকার খাবার হিসেবে কেনা বন্ধ করুন। কয়েক দিন আপত্তি আসতে পারে; খাওয়ার সময় খিদে থাকলেই ভাত-ডাল ভালো লাগে।
শিশুর খাবারের রুটিন কেমন হওয়া উচিত?
বেশিরভাগ ছোট বাচ্চার জন্য ভালো হলো প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা, ২–৩ ঘণ্টা পরপর। নির্দিষ্ট ছন্দ থাকলে খাওয়ার আগে খিদে তৈরি হয়। মাঝে শুধু পানি, আর সারাক্ষণ দুধ, জুস বা চিপস নয়; তাহলে বাচ্চা খিদে নিয়ে টেবিলে আসার সম্ভাবনা বাড়ে।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।






