মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে? খেতে এক ঘণ্টা লাগলে কী করবেন

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে বা খুব ধীরে খায় সাধারণত এসব কারণে: খিদে কম, মন অন্যদিকে, খাবার চিবাতে কষ্ট, বা খাওয়া নিয়ে চাপ। ১–৬ বছরের বাচ্চাকে নির্দিষ্ট সময়ে অল্প করে খেতে দিন, স্ক্রিন বন্ধ রাখুন, নিজে খেতে দিন, আর মোটামুটি ২০–৩০ মিনিট পরে শান্তভাবে খাওয়া শেষ করুন। চিবাতে বা গিলতে কষ্ট হলে ডাক্তার দেখান।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১–৬ বছরের বাচ্চার বাবা-মা, যাদের বাচ্চার এক বেলা খেতে এক ঘণ্টা লাগে, বা মুখে খাবার রেখে গিলতে চায় না
মূল কথা
  • ১–৬ বছরে ধীরে খাওয়া খুব সাধারণ, আর এর কারণ সাধারণত কম খিদে, অন্যদিকে মন, চিবাতে কষ্ট হয় এমন খাবার, বা খাওয়া নিয়ে চাপ।
  • মোটামুটি দুই-তিন ঘণ্টা পরপর খাবার আর নাশতা, মাঝে শুধু পানি, বাচ্চাকে খিদে নিয়ে খেতে বসতে সাহায্য করে।
  • অল্প পরিমাণ, স্ক্রিন বন্ধ, বাচ্চাকে নিজে খেতে দেওয়া আর মোটামুটি ২০–৩০ মিনিট পরে শান্তভাবে শেষ করা প্রায়ই খাবারের সময় কমিয়ে আনে।
  • চিবাতে বা গিলতে কষ্ট, প্রায়ই ওয়াক তোলা বা গলায় আটকানো, বা ওজন ও বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা থাকলে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে, আর দৃশ্যটা আপনার চেনা: টেবিলে এক ঘণ্টা, গালে ভাত জমে আছে, গিলছে না, আর আপনি প্লেট হাতে বাসাময় তার পেছনে ঘুরছেন। শেষে খাবার ঠান্ডা, আর সবাই ক্লান্ত।

মোটামুটি ১ থেকে ৬ বছর বয়সে ধীরে খাওয়া খুব সাধারণ, আর এর মানে খুব কমই কোনো সমস্যা। বেশির ভাগ সময় কারণটা রোজকার: খাবারের ঠিক আগে দুধ বা বিস্কুট, চলতে থাকা কার্টুন, চিবাতে কষ্টের খাবার, বা খাওয়া নিয়ে লড়াই; আর প্রতিটাই আজ থেকেই বদলানো যায়।

নিচে পাবেন: সাধারণ কারণগুলো, মুখে খাবার রেখে দিলে কী করবেন, খেতে কতক্ষণ লাগা উচিত, পরিমাণ আর নাশতা, নিজে খাওয়া, আমাদের যে অভ্যাসগুলো খাওয়া ধীর করে দেয়, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন ডাক্তার দেখাবেন। বাচ্চা যদি প্রায় কিছুই না খায়, শুরু করুন বাচ্চা খেতে চায় না, কী করবেন লেখা দিয়ে।

বাচ্চা খেতে অনেক সময় নেয় কেন? সাধারণ কারণগুলো

যে বাচ্চার খেতে অনেক সময় লাগে, সে সাধারণত খিদে, খাবার বা খাওয়ার পরিবেশ নিয়েই কিছু বলছে। আগে কারণটা খুঁজুন, কারণ প্রতিটার সমাধান আলাদা:

১–৬ বছরের বাচ্চা কেন ধীরে খায়, আর কী প্রায়ই কাজে দেয়
কারণযা চোখে পড়তে পারেযা প্রায়ই কাজে দেয়
এখনো খিদে পায়নিখাবার নাড়াচাড়া করে, মুখে রেখে দেয়, কয়েক লোকমা খেয়েই বলে “পেট ভরে গেছে”; একটু আগেই দুধ, বিস্কুট বা জুস খেয়েছেদুই-তিন ঘণ্টা পরপর খাবার আর নাশতা; মাঝে শুধু পানি; দুধ খাবার বা নাশতার সময়েই
প্লেটে বেশি খাবারভাতের বড় একটা স্তূপ; অর্ধেক পথেই হাল ছেড়ে দেয়অল্প করে দিন, চাইলে আরও দিন
মন অন্যদিকেটিভি, ফোন, খেলনা বা মানুষের আসা-যাওয়া; শুধু দেখতে দেখতে খায়স্ক্রিন বন্ধ, খেলনা সরিয়ে রাখা, একসাথে বসে খাওয়া
চিবাতে কষ্টমাংস, শুকনো ভাত বা আঁশওয়ালা সবজি গালে রেখে দেয়; দলা ফেলে দেয়নরম, ভেজা খাবার: ডাল বা ঝোলে মাখা ভাত, কাঁটা বেছে নেওয়া মাছ, নরম করে রান্না সবজি, ছোট টুকরো
চিবানো এখনো শিখছেছোট বাচ্চা; জিভ দিয়ে খাবার ঠেলে বের করে দেয়; দলা থাকলে অনেক সময় নেয়নরম, হাতে ধরে খাওয়া যায় এমন খাবার দিয়ে প্রচুর চর্চা, আর ধৈর্য
ক্লান্তদুপুরের ঘুম না হওয়ার পর দেরিতে দুপুরের খাবার; ঘুমের ঠিক আগে রাতের খাবারখাবারের সময় এগিয়ে আনুন; ঘুমিয়ে পড়ছে এমন বাচ্চাকে কখনো খাওয়াবেন না
খাওয়া নিয়ে লড়াইঅনুরোধ, লোভ দেখানো, “আরেকটু খাও”, প্লেট হাতে পেছনে ছোটা; বাচ্চা মুখে খাবার রেখে দেয় বা খেতে চায় নাচাপ বাদ দিন: কী আর কখন খাবে আপনি ঠিক করবেন, কতটা খাবে ঠিক করবে বাচ্চা
শরীর ভালো নেইসর্দি, গলাব্যথা, মুখে ঘা বা নতুন দাঁত ওঠা; কোষ্ঠকাঠিন্যনরম খাবার আর ধৈর্য; অনেক দিন চললে, বা ব্যথা বা জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান

কিছু বাচ্চা স্বভাবগতভাবেই ধীরে, সাবধানে খায়। ঠিকমতো বেড়ে উঠলে আর খেলার শক্তি থাকলে এতে সমস্যা নেই; লক্ষ্য হলো শান্ত খাবারের সময়, দৌড় প্রতিযোগিতা নয়।

বাচ্চা মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে? তখনই কী করবেন

গালের এক পাশে খাবার জমিয়ে রাখা ছোট বাচ্চাদের মধ্যে খুব সাধারণ। হয়তো পেট ভরে গেছে, খাবারটা চিবাতে কষ্ট হচ্ছে, মন অন্যদিকে, বা পরের লোকমা ঠেকিয়ে রাখার এটাই তার উপায়। এই ধাপগুলো পরপর চেষ্টা করুন:

  1. শান্ত থাকুন, আর মুখ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন খাবার দেবেন না।
  2. একবার, হালকাভাবে মনে করিয়ে দিন: “চিবাও, চিবাও, গিলে ফেলো,” আর নিজে চিবিয়ে দেখান।
  3. এক চুমুক পানি দিন।
  4. এক-দুই মিনিট পরেও মুখে থাকলে কোনো হইচই ছাড়া একটা বাটি বা টিস্যুতে ফেলে দিতে দিন। অনেকক্ষণ মুখে রাখা খাবার ফেলে দেওয়াই ভালো। কখনো জোর করে গেলাবেন না: নাক চেপে ধরা, মাথা পেছনে হেলিয়ে দেওয়া, মুখে পানি ঢেলে দেওয়া বা আরও খাবার ঠেলে দেওয়ায় গলায় খাবার আটকে যেতে পারে।
  5. পরের লোকমা ছোট আর নরম করুন, বা প্লেটের অন্য কোনো খাবার দিন।
  6. খাওয়ার সময় বাচ্চাকে সোজা হয়ে বসিয়ে রাখুন। মুখে খাবার নিয়ে দৌড়ানো, শুয়ে পড়া, হাসতে হাসতে গড়াগড়ি বা ঘুমিয়ে পড়া কখনো নয়, কারণ তখনই খাবার শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে।
  7. বারবার মুখে খাবার রেখে দিলে শান্তভাবে খাওয়া শেষ করুন, আর পরের খাবার দিন পরের নির্দিষ্ট সময়ে।

খাওয়ার সময় যা বলতে পারেন

  • চিবাও, চিবাও, চিবাও… এবার গিলে ফেলো। এই যে, এভাবে।
  • লোকমাটা বেশি বড় হয়ে গেছে? এখানে ফেলে দাও।
  • একটু পানি খাও।
  • কতটা খাবে, সেটা তোমার পেট ঠিক করবে। পেট ভরে গেছে?
  • দুপুরের খাওয়া এখন শেষ। আবার খাব নাশতার সময়।

এক বেলা খেতে কতক্ষণ লাগা উচিত? শান্ত একটা সময়সীমা

বেশির ভাগ ছোট বাচ্চার এক বেলা খাওয়ার জন্য মোটামুটি ২০–৩০ মিনিটই যথেষ্ট। বাচ্চা খুব ধীরে খেলে পরের আধা ঘণ্টার সাধাসাধিতে খুব কমই বেশি খাওয়া হয়, বরং প্রায়ই দুই পক্ষেরই চোখে পানি আসে।

  • খিদে আর শান্ত মন নিয়ে খেতে বসান, দুধ খাওয়া বা ঘুম ভাঙার ঠিক পরেই নয়।
  • পরিবারের খাওয়াই সময় ঠিক করুক: সবার খাওয়া শেষ হলে খাবারের সময়ও শেষ।
  • একবার শান্তভাবে জানিয়ে দিন: “আর ৫ মিনিট, তারপর দুপুরের খাওয়া শেষ।”
  • সময় শেষ হলে কোনো মন্তব্য, প্রশংসা বা শাস্তি ছাড়াই প্লেট সরিয়ে নিন।
  • পরের খাবার বা নাশতার আগে আর কিছু নয়; পানি চলবে।

পরিমাণ, নাশতা আর পানীয়: খিদে নিয়ে খেতে বসার উপায়

ধীরে খাওয়া বাচ্চার প্রায়ই আসলে খিদেই পায়নি। দিনের কয়েকটা ছোট বদল অনেক পার্থক্য আনতে পারে:

  • অল্প পরিমাণ: প্রতিটা খাবারের কয়েক চামচই প্রায়ই ছোট বাচ্চার এক বেলার খাবার। কম দিন, চাইলে আরও দিন; ভরা প্লেট ২ বছরের বাচ্চার কাছে পাহাড়ের মতো লাগতে পারে।
  • মোটামুটি একই সময়ে তিন বেলা খাবার আর দুই-তিনবার নাশতা, দুই-তিন ঘণ্টা পরপর।
  • খাবারের মাঝে শুধু পানি; দুধ খাবার বা নাশতার সময়, সারা দিন বোতল বা কাপে নয়।
  • চিপস, মিষ্টি বিস্কুট আর জুস মাঝে মাঝের মজা, রোজকার নাশতা নয়।
  • খাওয়ার আগে বাইরে বা বাসাতেই অনেকটা দৌড়ঝাঁপের খেলা।

১–৩ বছরের বাচ্চার জন্য সহজ, নরম পারিবারিক খাবার আর এক দিনের নমুনা পাবেন ছোট বাচ্চার খাবারের আইডিয়া লেখায়।

নিজের হাতে খেতে দিন: নিজে খেলে কেন খাওয়া তাড়াতাড়ি হতে পারে

শুনতে উল্টো লাগে, কারণ ছোট বাচ্চা নিজে খেলে শুরুতে চারপাশ মাখামাখি হয়, সময়ও লাগে। কিন্তু নিজের হাতে দায়িত্ব থাকলে বাচ্চারা প্রায়ই আগ্রহ নিয়ে খায়, আর চামচ নিয়ে টানাটানি বন্ধ হলে খাওয়ার সময়ও সাধারণত কমে আসে।

  • হাতে তুলে খাওয়া যায় এমন খাবার দিন: নরম রুটির টুকরো, ডাল-ভাতের ছোট ছোট গোল্লা, ডিম, কলা, নরম করে সেদ্ধ গাজর বা আলু।
  • ওর নিজের ছোট চামচ দিন, বা পরিবারের সবার মতো হাতেই খেতে দিন।
  • মাখামাখি হবেই: চেয়ারের নিচে একটা মাদুর আর পাশে একটা কাপড় রাখলে শান্ত থাকা সহজ হয়।
  • শেষে কয়েক চামচ খাইয়ে দিতে পারেন, তবে বেশিটা বাচ্চা নিজেই খাক।

নিজের হাতে খাওয়া বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানোর প্রথম ধাপগুলোর একটা।

আমাদের বাসায়: প্লেট হাতে পেছনে ছোটা, খাইয়ে দেওয়া আর মোবাইল

লম্বা সময় ধরে খাওয়ানো আমাদের বাসায় খুব চেনা দুশ্চিন্তা, আর এর পেছনের বেশির ভাগ অভ্যাস আসে ভালোবাসা থেকে, আর বাচ্চা যথেষ্ট খাচ্ছে না, এই চিন্তা থেকে।

  • প্লেট হাতে পেছনে ছোটা: বাসাময় বাচ্চার পেছনে ঘুরে, প্রতিবার কাছে এলে এক লোকমা মুখে পুরে দিলে খাবার পেটে যায় ঠিকই, কিন্তু বাচ্চা শেখে খাবার নিজেই তার কাছে আসে, তাই সে আর বসে না। মুখে খাবার নিয়ে দৌড়ালে গলায় আটকানোর ঝুঁকিও থাকে। খাওয়া হবে বসে, টেবিলে বা মাদুরে।
  • হাতে খাইয়ে দেওয়া: অনেক বাবা-মা আর দাদা-দাদি স্কুলে যাওয়ার বয়সেও বাচ্চাকে খাইয়ে দেন। মাঝামাঝি একটা উপায় কাজে দেয়: আগে বাচ্চা নিজে খাবে, তারপর চাইলে কয়েক লোকমা খাইয়ে দিন।
  • মোবাইল বা টিভি: কার্টুন চললে বাচ্চা বসে থাকে ঠিকই, কিন্তু প্রায়ই খায় ধীরে, আর শুধু দেখতে দেখতে। নরম দুই সপ্তাহের পরিকল্পনা পাবেন মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানো কীভাবে বন্ধ করবেন লেখায়।
  • ভাত, মাছ আর মাংস: ভাত ডাল বা ঝোলে মেখে নরম আর ভেজা রাখুন, মাছের সব কাঁটা বেছে নিন, আর মাংস ছোট, নরম টুকরো করে দিন। শুকনো ভাত আর শক্ত মাংসই প্রায়ই গালে জমে থাকে।
  • দেরির রাতের খাবার: রাত ১০টায় খেতে বসা ৩ বছরের বাচ্চা প্রায়ই এত ঘুমকাতুরে থাকে যে ঠিকমতো চিবাতে পারে না। বাচ্চাকে আগে খাইয়ে দিন, পরিবারের সঙ্গে বা তার আগেই।
  • দাদা-দাদি আর গৃহকর্মী: যারা বাচ্চাকে খাওয়ান, সবার সঙ্গে একটাই নিয়ম ঠিক করুন: বসে খাওয়া, অল্প পরিমাণ, মোটামুটি ২০–৩০ মিনিট, মোবাইল নয়, পেছনে ছোটা নয়, জোরও নয়।
  • ওজনের চিন্তা আর তুলনা: আত্মীয়রা বলতে পারেন বাচ্চা খুব শুকনা, বা কোনো কাজিনের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। যেকোনো তুলনার চেয়ে চেকআপে বাচ্চার বৃদ্ধিই ভালো দিকনির্দেশনা।

এক বেলা খাওয়াতে এক ঘণ্টা? ছোট আর শান্ত খাবারের ৭ দিনের পরিকল্পনা

এক সপ্তাহ প্রতিটা প্রধান খাবারে তিনটা জিনিস লিখে রাখুন: কতক্ষণ লাগল, মোটামুটি কতটা খেল, আর আগের দুই ঘণ্টায় কী খেয়েছিল বা পান করেছিল।

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। কিছু বদলাবেন না; প্রতিটা খাবারের সময় মেপে রাখুন, আর আশপাশের নাশতা, দুধ আর স্ক্রিনের কথা লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: খাবার আর নাশতার সময় ঠিক করুন, মোটামুটি দুই-তিন ঘণ্টা পরপর, মাঝে শুধু পানি।
  3. দিন ৩: অল্প করে দিন, প্লেটে বাচ্চার পছন্দের অন্তত একটা খাবার রাখুন।
  4. দিন ৪: স্ক্রিন বন্ধ, খেলনা সরিয়ে রাখুন; একসাথে বসে খান, আর বাচ্চাকে নিজে খেতে দিন।
  5. দিন ৫: শান্ত সময়সীমা যোগ করুন: ৫ মিনিট আগে জানিয়ে দিন, তারপর মোটামুটি ২০–৩০ মিনিটে খাওয়া শেষ করুন।
  6. দিন ৬: যারা বাচ্চাকে খাওয়ান, সবার সঙ্গে পরিকল্পনাটা মিলিয়ে নিন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: খেতে কতক্ষণ লাগল, কতটা খেল, আর খাওয়ার সময়ের মেজাজ। যা কাজে দিল তা রাখুন, আর আরেক সপ্তাহ সময় দিন।

ধীরে খাওয়া নিয়ে কখন ডাক্তার দেখাবেন

খিদে নিয়ে খেতে বসা, নরম খাবার আর কম চাপে বেশির ভাগ বাচ্চার ধীরে খাওয়া কমে আসে। বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, যদি:

কখন সাহায্য নেবেন

  • বাচ্চার চিবাতে বা গিলতে কষ্ট হচ্ছে মনে হয়: প্রায়ই মুখ থেকে খাবার পড়ে যায়, সমবয়সী বেশির ভাগ বাচ্চা যে খাবার খায় তা সামলাতে পারে না, বা গিলতে ব্যথা পায়।
  • খাওয়া বা পান করার সময় প্রায়ই ওয়াক তোলে, কাশে বা গলায় আটকায়, বা খেতে ভয় পায়।
  • বাচ্চার ওজন কমছে, চেকআপে ঠিকমতো বাড়ছে না, বা আগের জামা ঢিলা হয়ে যাচ্ছে।
  • মোটামুটি ১২ মাস বয়সেও বাচ্চা শুধু একদম মসৃণ, ব্লেন্ড করা খাবার খেতে পারে, দানাদার কিছুই নয়।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে লম্বা, কষ্টের খাবারের সময়ের সঙ্গে ক্লান্তি, ঘন ঘন অসুখ, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা, মুখে ঘা বা দাঁতে ব্যথা।
  • বাচ্চার গলায় খাবার আটকে যদি শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে না পারে, সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর জানা থাকলে গলায় খাবার আটকানোর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন।

ধীরে খাওয়া বদলানো সহজ হয়, যখন পুরো ছবিটা দেখা যায়: নাশতা, সময়, স্ক্রিন। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বাচ্চা মুখে খাবার রেখে দেয়, গিলতে চায় না কেন?

সাধারণত কারণ খুব একটা খিদে নেই, খাবারটা শুকনো বা চিবাতে কষ্ট, মন অন্যদিকে, বা মুখে খাবার রাখলে পরের লোকমা দেরিতে আসে। ছোট, নরম, ভেজা লোকমা দিন, এক চুমুক পানি দিন, আর অনেকক্ষণ মুখে রাখা খাবার ফেলে দিতে দিন। প্রায়ই খাবার সামলাতে না পারলে, ওয়াক তুললে বা গলায় আটকালে ডাক্তার দেখান।

ছোট বাচ্চার এক বেলা খেতে কতক্ষণ লাগা উচিত?

সাধারণত মোটামুটি ২০–৩০ মিনিটই যথেষ্ট। খিদে নিয়ে শান্ত পরিবেশে বসলে বেশির ভাগ ছোট বাচ্চা এই সময়ের মধ্যেই যা দরকার খেয়ে নেয়। এর বেশি সময় ধরে খাওয়ালে খুব কমই বেশি খাওয়া হয়, বরং চাপ বাড়ে। সময় শেষ হলে শান্তভাবে খাওয়া শেষ করুন, আর পরের খাবার দিন পরের নির্দিষ্ট খাবার বা নাশতার সময়ে; মাঝে শুধু পানি।

তাড়াতাড়ি শেষ করতে কি নিজের হাতে খাইয়ে দেব?

মাঝে মাঝে ঠিক আছে, তবে বাচ্চাকে নিজে খেতে দেওয়াই সময়ের সঙ্গে বেশি কাজে দেয়। যে বাচ্চা নিজে খায়, সে খিদে আর পেট ভরার অনুভূতি বুঝতে শেখে, আর দায়িত্ব নিজের হাতে এলে খাওয়ার সময়ও প্রায়ই কমে আসে। আগে নিজে খেতে দিন, হাতে বা চামচে, তারপর চাইলে কয়েক লোকমা খাইয়ে দিন।

তাড়াতাড়ি খাওয়ানোর জন্য কার্টুন দেখানো কি ঠিক?

এতে হয়তো এক বেলা তাড়াতাড়ি হয়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রায়ই খাওয়া আরও ধীর আর কঠিন হয়ে যায়, কারণ বাচ্চা শুধু দেখতে দেখতে খায়, স্বাদ আর পেট ভরার অনুভূতি টেরই পায় না। স্ক্রিন বন্ধ করুন, একসাথে বসে খান, আর খাবার নিয়ে গল্প করুন। শুরুতে কয়েকটা বেলা কঠিন যাবে; অনেক পরিবার দেখে, মোটামুটি দুই সপ্তাহের মধ্যে সব সহজ হয়ে আসে।

সময় বেঁধে দেওয়ার পর বাচ্চা খুব কম খেলে কী করব?

প্রথম কয়েক দিন অনেক বাচ্চাই কম খায়, এতে সমস্যা নেই। খিদে জমে, আর অনেক বাচ্চা পরের খাবার বা নাশতায় বেশি খায়। ঠিক পরেই বিস্কুট বা দুধ দিয়ে পুষিয়ে দেবেন না; পরের খাবার দিন নির্দিষ্ট সময়েই, মাঝে পানি। বাচ্চার ওজন কমতে থাকলে বা অসুস্থ মনে হলে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চা খুব ধীরে খেলে কি কোনো সমস্যা আছে?

সাধারণত না। অনেক বাচ্চা স্বভাবগতভাবেই ধীরে, সাবধানে খায়, আর ঠিকমতো বেড়ে উঠলে ও খেলার শক্তি থাকলে এতে সমস্যা নেই। ডাক্তার দেখানো ভালো, যদি চিবাতে বা গিলতে কষ্ট হয়, প্রায়ই ওয়াক তোলে, কাশে বা গলায় আটকায়, সমবয়সীদের খাবার সামলাতে না পারে, বা ওজন কমতে থাকে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ছোট্ট শিশু (১–৩ বছর): আরও গাইড

ছোট্ট শিশু: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।