বাচ্চা দুধ খেতে চায় না? কী করবেন, আর দুধ ছাড়া ক্যালসিয়াম কোথায় পাবে
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা দুধ খেতে চায় না? জোর করবেন না: খাবারে ক্যালসিয়ামের অন্য উৎস থাকলে দুধ খেতেই হবে এমন নয়, যেমন দই, চিজ বা ছানা, নরম কাঁটাসহ খাওয়া ছোট মাছ, শাক আর ডাল। রান্নায় দুধ ব্যবহার করুন, খাবারের সময় দুধ দিন, আর দুধ খেলে পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানা হলে, বা বৃদ্ধি ধীর মনে হলে ডাক্তার দেখান।
লেখাটি শুনুন
১২ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ২–১০ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা, যাদের বাচ্চা দুধ খেতে চায় না, বা এত দুধ খায় যে খাবার খেতে চায় না
- মূল কথা
- দুধ ক্যালসিয়ামের একটা ভালো উৎস, একমাত্র নয়: দই, চিজ, নরম কাঁটাসহ ছোট মাছ, শাক আর ডাল দিয়েও চাহিদা মেটানো যায়।
- জোর করে, লোভ দেখিয়ে বা ভয় দেখিয়ে দুধ খাওয়াতে গেলে প্রায়ই না-খাওয়ার জেদ আরও বাড়ে; শান্তভাবে দিন, খাবে কি না বাচ্চাই ঠিক করুক।
- খাবারের ফাঁকে ফাঁকে বেশি দুধ খেলে খাবারের খিদে নষ্ট হতে পারে; খাবার বা নাশতার সঙ্গে দুধই বেশিরভাগ বাচ্চার জন্য ভালো।
- দুধ খাওয়ার পর পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানা, র্যাশ বা ফোলা, কিংবা বৃদ্ধি ধীর হলে ডাক্তার দেখান; শ্বাসকষ্ট হলে ৯৯৯।
বাচ্চা দুধ খেতে চায় না, আর সঙ্গে সঙ্গে মাথায় আসে হাড়, উচ্চতা আর বুদ্ধির চিন্তা; বিশেষ করে যখন আত্মীয়রা বলেন, রোজ এক গ্লাস দুধ না খেলেই নয়। মোটামুটি ২ থেকে ১০ বছর বয়সে দুধে অরুচি খুব সাধারণ, আর খাবারে ক্যালসিয়ামের অন্য উৎস থাকলে কম দুধ খাওয়া অনেক বাচ্চাও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
নিচে পাবেন: বাচ্চা কেন দুধ খেতে চায় না, জোর না করে কী করবেন, কোন ক্যালসিয়ামের খাবার দুধের জায়গা নিতে পারে, রান্নায় দুধ ব্যবহারের সহজ উপায়, কতটা দুধ বেশি হয়ে যায়, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কোন লক্ষণে ডাক্তার দেখাবেন। ১ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য দেখুন ৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট।
বাচ্চা দুধ খেতে চায় না কেন?
দুধ না খাওয়ার পেছনে বেশিরভাগ সময় রোজকার কোনো কারণ থাকে, আর অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে একাধিক:
| কারণ | যা খেয়াল করতে পারেন | কী করলে উপকার হয় |
|---|---|---|
| স্বাদ, গন্ধ বা দুধের সর | গন্ধে মুখ কোঁচকায়, সর তুলে ফেলে দেয় | সর ছেঁকে ফেলুন, ঠান্ডা করে দিন, বা বদলে দই দিন |
| পেট ভরা | নাশতা, জুস বা বিস্কুট খাওয়ার একটু পরেই দুধে না | দুধ আর নাশতার মাঝে ফাঁক রাখুন, মাঝে পানি |
| চাপ | দুধ দেখলেই না, কান্নাকাটি বা টানাটানি | একবার শান্তভাবে দিন, তারপর ছেড়ে দিন |
| নিজের মত দিতে চাওয়া | দুধে না, কিন্তু দই বা চিজ খুশি মনে খায় | কাপ বাছতে দিন, নিজে ঢালতে দিন, বা দুধ না দই বাছতে দিন |
| ফিডার ছাড়ার সময় | বছরের পর বছর ফিডারে খেয়েছে, এখন কাপে খেতে চায় না | ফিডার ধীরে ধীরে কমিয়ে খাবারের সঙ্গে কাপে দুধ |
| পেটের সমস্যা | দুধের পর পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস বা পাতলা পায়খানা | সব দুধজাত খাবার বাদ দেওয়ার আগে ডাক্তার দেখান |
| অসুস্থতা | সর্দি-কাশিতে কয়েক দিন দুধ আর খাবারে অরুচি | বারবার পানীয় দিন; সেরে উঠলে সাধারণত আবার দুধ খায় |
শিশুকে দুধ খাওয়ানোর উপায়: জোর না করে যা করবেন
- রোজকার টানাটানি বন্ধ করুন: জোর নয়, লোভ দেখানো নয়, “দুধ না খেলে লম্বা হবে না” ধরনের ভয় দেখানোও নয়। চাপ দিলে না-খাওয়ার জেদ সাধারণত বাড়ে।
- খাবার বা নাশতার সঙ্গে ছোট কাপে একবার শান্তভাবে দুধ দিন। না বললে কিছু না বলে সরিয়ে রাখুন।
- দেওয়ার ধরন বদলান: গরমের দিনে ঠান্ডা দুধ, সর ছেঁকে ফেলা, নতুন একটা কাপ, বা চিনি ছাড়া পাকা কলা বা আম দিয়ে ব্লেন্ড করা দুধ।
- রোজ প্লেটে একটা ক্যালসিয়ামের খাবার রাখুন: দই, চিজ, ছোট মাছ বা শাক।
- বাচ্চাকে কাজে লাগান: নিজের দুধ নিজে ঢালুক, কাপ বাছুক, বা আপনার সঙ্গে কলা-দুধ বানাক।
- খাবার টেবিলে নিজেও দই খান বা দুধ খান, তবে এটাকে উপদেশের বিষয় বানাবেন না।
“দুধটা খেয়ে নাও!” না বলে যা বলতে পারেন
- এই নাও দুধ। খেতে চাইলে খাও, না চাইলে রেখে দাও, সমস্যা নেই।
- আজ দুপুরে দুধ খাবে, নাকি দই?
- নিজে ঢেলে নেবে? দুই হাতে জগটা ধরো।
- চলো একসাথে কলা-দুধ বানাই। তুমি কলার খোসা ছাড়াও।
- আম্মা, ও দই আর মাছ থেকেই ক্যালসিয়াম পাচ্ছে। দুধের জন্য আমরা জোর করছি না।
দুধের বিকল্প: দুধ ছাড়া ক্যালসিয়াম আসবে কোন খাবার থেকে
দুধ থেকে ক্যালসিয়াম আর প্রোটিন আসে, কিন্তু এগুলো পাওয়ার একমাত্র পথ দুধ নয়। সপ্তাহ জুড়ে এই খাবারগুলো মিলিয়ে খেলে দুধ না খেয়েও বাচ্চা ভালো থাকতে পারে:
| খাবার | কী দেয় | বাচ্চারা যেভাবে পছন্দ করে |
|---|---|---|
| দই (টক দই) | ক্যালসিয়াম আর প্রোটিন | ভাতের সঙ্গে, চটকানো আম বা কলা মিশিয়ে, বা অল্প চিনির লাচ্ছি |
| চিজ, ছানা বা পনির | ক্যালসিয়াম আর প্রোটিন | ডিম বা রুটিতে কুচিয়ে, সবজির তরকারিতে টুকরো করে, নাশতায় এক টুকরো |
| নরম কাঁটাসহ খাওয়া ছোট মাছ: মলা, ঢেলা, কাচকি | ক্যালসিয়াম আর প্রোটিন | কাঁটা নরম হওয়া পর্যন্ত রেঁধে, ছোটদের ভাতে চটকে; শক্ত কাঁটা আছে কি না দেখে নিন |
| শাক: লাল শাক, ডাঁটা শাক, কচু শাক, পুঁই শাক | কিছুটা ক্যালসিয়াম | ডালে, ভাজিতে বা খিচুড়িতে নরম করে রেঁধে |
| ডাল আর ছোলা | কিছুটা ক্যালসিয়াম, আর প্রোটিন | ভাতের সঙ্গে ঘন ডাল, নাশতায় ছোলা (ছোটদের চটকে) |
| তিল | কিছুটা ক্যালসিয়াম | বেটে ভর্তায়, বা রুটির ওপর ছিটিয়ে |
| ডিম | দুধের মতোই প্রোটিন | সেদ্ধ, ঝুরি বা তরকারিতে |
এই খাবারগুলো মিলিয়ে খেলে গুঁড়া “হেলথ ড্রিংক”, বৃদ্ধির পাউডার বা ক্যালসিয়াম সিরাপ লাগে না, আর অনেক পাউডারে চিনি থাকে প্রচুর। ডাক্তার বাচ্চাকে দেখে লিখে না দিলে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট বা সিরাপ দেবেন না। শাকসবজি নিয়ে আরও পড়ুন বাচ্চা সবজি খেতে চায় না লেখায়।
রান্নায় দুধ: সহজ কয়েকটা উপায়
- দুধে রান্না করা সুজি বা ওটস, চিনির বদলে চটকানো কলা দিয়ে মিষ্টি।
- নাশতায় কলা দিয়ে দই-চিড়া।
- ডিম ঝুরি বা অমলেটে একটু দুধ।
- বাসায় বানানো কলা বা আমের মিল্কশেক, চিনি ছাড়া।
- পায়েস, ফিরনি, সেমাই বা শীতের দুধ-পুলি, স্বাভাবিকের চেয়ে কম চিনিতে, মাঝে মাঝে।
বাচ্চাকে প্রতিদিন কতটা দুধ দেবেন, কখন বেশি হয়ে যায়?
কিছু বাচ্চার সমস্যা উল্টো: সারাদিন দুধ খায়, তারপর আর খাবার খায় না। ছোট পেট তাড়াতাড়ি ভরে যায়, আর খাবারের ফাঁকে দুধ খেলে ভাত-ডালের জায়গা থাকে না। আপনার বাচ্চার এমন হলে পড়ুন বাচ্চা খেতে চায় না।
- সারাদিন নয়, খাবার বা নাশতার সঙ্গে দুধ দিন; মাঝের সময়ে পানি।
- দিনের বেলার দুধ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ফিডার থেকে কাপে আনুন।
- ঘুমের সময় বা রাতভর ফিডারে দুধ নয়: এতে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে, আর সকালে নাশতার খিদে থাকে না। দিনের শেষ দুধের পর দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিন।
- সব বাচ্চাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ খেতেই হবে, এমন নয়; আপনার বাচ্চার জন্য কতটা দুধ ঠিক, বিশেষ করে বৃদ্ধি বা খাওয়া নিয়ে চিন্তা থাকলে, ডাক্তার বলে দিতে পারেন।
আমাদের বাসায় দুধ: আত্মীয়দের কথা, ফিডার আর গোয়ালার দুধ
- “দুধ খেলে লম্বা হবে, বুদ্ধি বাড়বে”: আত্মীয়রা প্রায়ই ভালোবেসে এ কথা বলেন। কিন্তু বেড়ে ওঠা আসে পুরো খাবার, ঘুম আর খেলাধুলা থেকে, রোজকার এক গ্লাস দুধ থেকে নয়।
- দুধের সর: অনেক বাচ্চা এটা একদম পছন্দ করে না। ছেঁকে ফেলুন, বা ফোটানোর পর দুধটা ফেটিয়ে নিন।
- গোয়ালার দুধ: ব্যবহারের আগে ভালো করে ফুটিয়ে নিন, আর বাচ্চাকে দেওয়ার আগে একটু ঠান্ডা হতে দিন।
- দুধ-চা: চায়ে বেশিরভাগই চা-পাতা আর চিনি, তাই এভাবে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো হয় না; আর ছোট বাচ্চার রোজকার পানীয় হিসেবে চা ভালো নয়।
- সকালে দুধ-বিস্কুট: স্কুলের আগে দুধ-বিস্কুট খেয়ে বাচ্চা যদি আর কিছু না খায়, দুধটা রুটি-ডিমের মতো ঠিকঠাক নাশতার সঙ্গে দিয়ে দেখুন।
- গরমের দিন: গরম দুধের চেয়ে ঠান্ডা দুধ, দই বা লাচ্ছি প্রায়ই সহজে খায়।
- বাসায় সবার এক কথা: দাদা-দাদি, নানা-নানি, গৃহকর্মীসহ সবাই মিলে ঠিক করুন যে কেউ জোর করে বা লোভ দেখিয়ে দুধ খাওয়াবেন না।
দুধ নিয়ে টানাটানি থামানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
বেশিরভাগ দিন বাচ্চা দুধ খেতে চায় না? একবারে একটা জিনিস বদলান, আর প্রতিদিন এক লাইন লিখে রাখুন: কী খেল, কী পান করল, আর খাওয়ার সময়টা কেমন গেল।
- দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। বাচ্চা কখন কী খায় আর পান করে, দুধ, জুস, বিস্কুট আর নাশতাসহ, সব লিখে রাখুন।
- দিন ২: বারবার বলা আর মনে করিয়ে দেওয়া বন্ধ করুন। একবেলা খাবার বা নাশতার সঙ্গে একবার দুধ দিন, না খেলে কিছু বলবেন না।
- দিন ৩: দুপুর বা রাতের খাবারে একটা ক্যালসিয়ামের খাবার যোগ করুন: দই, ছোট মাছ বা শাক।
- দিন ৪: একবার রান্নায় দুধ ব্যবহার করুন: সুজি, ওটস বা কম চিনির পায়েস।
- দিন ৫: বাচ্চাকে বাছতে দিন: দুধ না দই, কোন কাপ, নাকি একসাথে কলা-দুধ বানানো।
- দিন ৬: খাবারের মাঝের সময়টা দেখুন: মাঝে শুধু পানি, আর খাবারের আগের এক ঘণ্টায় দুধ বা নাশতা নয়।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: এই সপ্তাহে বাচ্চা কতগুলো ক্যালসিয়ামের খাবার খেল, আর খাওয়ার সময়গুলো কেমন গেল। যা কাজে দিয়েছে, রাখুন।
স্কুলপড়ুয়া বাচ্চার পুরো প্লেট, পানীয় আর চিনি নিয়ে দেখুন শিশুর খাবার ও পুষ্টি।
দুধ না খাওয়া নিয়ে কখন ডাক্তার দেখাবেন
এসব হলে ডাক্তার দেখান, বা ৯৯৯-এ ফোন করুন
- দুধ বা দুধজাত খাবারের পর বেশিরভাগ সময় পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস বা পাতলা পায়খানা: অনেক দিনের জন্য সব দুধজাত খাবার বাদ দেওয়ার আগে ডাক্তার দেখান।
- দুধের পর র্যাশ, চাকা চাকা ফুলে ওঠা, বমি বা কোথাও ফোলা: দুধ বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
- বাচ্চার ওজন কমছে, চেকআপে বৃদ্ধি যেমন হওয়ার কথা তেমন হচ্ছে না, বা খুব ফ্যাকাশে আর ক্লান্ত দেখায়।
- দুধের সঙ্গে পুরো এক ধরনের খাবারই খায় না, হাতে গোনা কয়েকটা খাবার ছাড়া কিছু খায় না, বা বেশিরভাগ খাবারে ওয়াক তোলে।
- দুই-এক সপ্তাহ দুধ কমানোর পরও বাচ্চা সারাদিন দুধ খায় আর খাবার খায় খুব কম।
- দুধ বা যেকোনো খাবারের পর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, বা মুখ, ঠোঁট বা জিভ ফুলে গেলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
একটা সকালের নাশতা দেখে নয়, এক সপ্তাহ ধরে দেখলেই দুধ নিয়ে টানাটানি কেমন চলছে বোঝা যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চা দুধ না খেলে কি কোনো সমস্যা হয়?
অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় না, যদি খাবারে ক্যালসিয়াম আর প্রোটিনের অন্য উৎস থাকে, যেমন দই, চিজ, নরম কাঁটাসহ খাওয়া ছোট মাছ, শাক, ডাল আর ডিম। দুধ একটা সহজ উৎস, বাধ্যতামূলক নয়। বাচ্চা যদি অন্য খাবারও খুব কম খায়, বা বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা হয়, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
বাচ্চাকে প্রতিদিন কতটা দুধ দেওয়া উচিত?
সব বাচ্চাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ খেতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। আসল কথা হলো সারাদিনে ক্যালসিয়াম আর প্রোটিন, দুধ থেকে হোক বা দই, চিজ, ছোট মাছ আর ডালের মতো খাবার থেকে। খাবার বা নাশতার সঙ্গে দুধ বেশিরভাগ বাচ্চার জন্য ভালো; সারাদিন দুধ খেলে খিদে নষ্ট হতে পারে। আপনার বাচ্চার জন্য কতটা ঠিক, ডাক্তার বলে দিতে পারেন।
দুধের বদলে বাচ্চাকে কী দেওয়া যায়?
দই, চিজ, ছানা বা পনির, নরম কাঁটাসহ খাওয়া মলা বা কাচকির মতো ছোট মাছ, লাল শাক বা ডাঁটা শাকের মতো শাক, ডাল আর তিল থেকে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়, আর ডিম থেকে প্রোটিন। যে বাচ্চা গ্লাসের দুধ খেতে চায় না, সে-ও প্রায়ই খুশি মনে দই দিয়ে ভাত বা দুধে রান্না করা সুজি খায়।
বাচ্চাকে চকলেট বা ফ্লেভারড দুধ দেওয়া কি ঠিক?
মাঝে মাঝে দেওয়া যায়, কিন্তু চকলেট দুধ আর মিষ্টি দুধের পাউডারে অনেক চিনি থাকে। রোজকার জন্য চিনি ছাড়া বাসায় বানানো কলা বা আমের মিল্কশেক, বা গরমের দিনে ঠান্ডা সাধারণ দুধ ভালো। দাঁতের কথা ভেবে মিষ্টি দুধ ফিডারে দেবেন না, ঘুমের আগেও নয়।
বাচ্চা শুধু দুধ খায়, ভাত বা অন্য খাবার খেতে চায় না, কী করব?
সারাদিনের বদলে দুধ শুধু খাবার আর নাশতার সময়ে দিন, মাঝে পানি, আর নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের খাবার দিতে থাকুন, সঙ্গে এমন একটা খাবার যা বাচ্চা আগে থেকেই পছন্দ করে। কয়েক দিন একটু আপত্তি হবেই। পুরো পরিকল্পনা পাবেন বাচ্চা খেতে চায় না লেখায়; ওজন কমতে থাকলে ডাক্তার দেখান।
বাচ্চার কি দুধে অ্যালার্জি হতে পারে?
হ্যাঁ। কিছু বাচ্চার গরুর দুধে প্রতিক্রিয়া হয়; দুধজাত খাবারের পর র্যাশ, চাকা চাকা ফুলে ওঠা, বমি, পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানা এর লক্ষণ হতে পারে। আবার কারও দুধ হজম করতে কষ্ট হয়, পেটের গোলমাল হয়। কোনটা, তা ডাক্তারই বলতে পারেন, তাই সব দুধজাত খাবার বাদ দেওয়ার আগে ডাক্তার দেখান। শ্বাসকষ্ট হলে বা মুখ, ঠোঁট বা জিভ ফুলে গেলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




