মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা সবজি খেতে চায় না? কী করলে কাজ হয়, কী করলে উল্টো হয়

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা সবজি খেতে চায় না? চাপ না দিয়ে অল্প অল্প করে দিতে থাকুন: অনেক বাচ্চার একটা সবজি মেনে নিতে ১০ বা তার বেশি বার স্বাদ নিতে হয়। পাশে চেনা একটা খাবার দিন, নিজে সবজি খান, একসাথে রান্না করুন, আর বাজারে বাচ্চাকে বেছে নিতে দিন। মিষ্টির লোভ দেখানো, জোর করা আর না জানিয়ে লুকিয়ে খাওয়ানো বাদ দিন। ওজন কমলে বা খুব অল্প কয়েকটা খাবার খেলে ডাক্তার দেখান।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ২ থেকে ১০ বছরের বাচ্চার বাবা-মা, যাদের সন্তান সবজি সরিয়ে রাখে, বেছে ফেলে দেয়, বা শুধু ভাত, ডিম আর আলু খায়
মূল কথা
  • ২ থেকে ১০ বছরে সবজি না খাওয়া খুব সাধারণ: অনেক সবজি বাচ্চার কাছে তেতো লাগে, আর নতুন খাবার ঝুঁকির মনে হয়, তাই মেনে নিতে প্রায়ই ১০ বা তার বেশি বার শান্তভাবে স্বাদ নিতে হয়।
  • চাপ, পুরস্কার হিসেবে মিষ্টি আর ‘আর এক কামড়’-এর লড়াই সাধারণত বাচ্চার ‘না’ আরও বাড়িয়ে দেয়; অল্প পরিমাণ, প্লেটে একটা চেনা খাবার আর আপনার নিজের উদাহরণ বেশি কাজে দেয়।
  • বাংলাদেশি রান্নাঘরে বাচ্চাদের উপযোগী সবজির অভাব নেই: নরম লাউ আর মিষ্টি কুমড়া, ডালে গাজর, সবজি খিচুড়ি, ভাজি, ভর্তা, আর মাঝে মাঝে বাসায় বানানো পাকোড়া।
  • বাচ্চার ওজন কমলে, খুব অল্প কয়েকটা খাবার খেলে আর সেই তালিকা আরও ছোট হতে থাকলে, বা খাওয়ার সময় প্রায়ই ওয়াক তুললে বা বমি করলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

বাচ্চা সবজি খেতে চায় না? আপনি একা নন: প্লেটের এক কোণে সরিয়ে রাখা শাক, ডাল থেকে বেছে তুলে ফেলা গাজর, মুখে দেওয়ার আগেই ‘না’ বলে দেওয়া লাউয়ের তরকারি। অনেক বাচ্চা বছরের পর বছর এমন করে, আর বেশির ভাগই বড় হতে হতে ধীরে ধীরে বেশি সবজি খেতে শেখে, বিশেষ করে খাওয়ার সময়টা শান্ত থাকলে।

এই লেখা শুধু সবজি নিয়ে: বাচ্চারা কেন সবজি খেতে চায় না, খাওয়ার সময় কী করবেন, বাচ্চারা পছন্দ করে এমন দেশি পদ, একসাথে রান্না আর বাজারে যাওয়া, কোন কৌশলে উল্টো ফল হয়, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন চিন্তার কারণ। বাচ্চা যদি শুধু সবজি নয়, প্রায় কোনো খাবারই খেতে না চায়, শুরু করুন বাচ্চা খেতে চায় না লেখাটি দিয়ে।

বাচ্চা সবজি খেতে চায় না কেন?

শাকসবজি দেখলেই বাচ্চা মুখ ফিরিয়ে নেয়? এমন বাচ্চারা সাধারণত জেদ করছে না। সবজি এমন একটা খাবার, যা ভালো লাগতে ছোটদের সবচেয়ে বেশি সময় লাগে; এর কারণ বেশির ভাগই স্বাদ আর বয়স:

  • তেতো স্বাদ: অনেক সবজি, বিশেষ করে শাকের মতো পাতাওয়ালা সবজি, বড়দের চেয়ে বাচ্চাদের কাছে বেশি তেতো লাগে। বয়স বাড়লে এটা প্রায়ই কমে আসে।
  • মুখে কেমন লাগে: আঁশওয়ালা, পিচ্ছিল বা মেশানো খাবার, যেমন নরম তরকারির ভেতরে শক্ত টুকরো, মসৃণ বা মচমচে খাবারের চেয়ে মেনে নেওয়া কঠিন।
  • নতুন খাবারে সন্দেহ: এটা একটা স্বাভাবিক ধাপ, সাধারণত মোটামুটি ২ থেকে ৬ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশি।
  • কম চেনাজানা: বাচ্চারা সাধারণত সেটাই পছন্দ করে যা অনেকবার দেখেছে, গন্ধ নিয়েছে, চেখেছে। মাসে একবার আসা সবজি অচেনাই থেকে যায়।
  • চাপ: শাকসবজি খাওয়ার জন্য যত বেশি চাপ, সবজি তত বেশি শত্রু হয়ে ওঠে।
  • আগেই পেট ভরা: দুই বেলার মাঝে দুধ, বিস্কুট, চিপস বা জুস খেলে সবজির জন্য আর খিদে থাকে না।
বয়স অনুযায়ী সবজি: কোনটা সাধারণ, আর কী সাহায্য করে
বয়সযা সাধারণযা সাহায্য করে
২–৩ বছরসবজি বা সবুজ কিছু দেখলেই না; এক দিন খায়, পরের দিন একই সবজি ফিরিয়ে দেয়ভাত বা রুটির পাশে নরম ছোট টুকরো; না খেয়ে শুধু ছুঁয়ে, টিপে দেখতে দেওয়া
৪–৬ বছরতরকারি থেকে সবজি বেছে ফেলে; ‘ছি, পচা’ বলে; ভাইবোন আর বন্ধুদের দেখে শেখেদুটো সবজির মধ্যে বেছে নিতে দেওয়া; রান্নাঘরের ছোট কাজ; সপ্তাহে একটা নতুন সবজি
৭–১০ বছরনিজের মত দেওয়ার সুযোগ পেলে চেখে দেখতে বেশি রাজি; কড়া স্বাদ তখনো অপছন্দ হতে পারে; বন্ধুদের টিফিন খেয়াল করেবাজারে বেছে নেওয়া, সহজ একটা পদ রান্না, নিজের বাছা সবজি টিফিনে নেওয়া

বাচ্চাকে সবজি খাওয়ানোর উপায়: অল্প করে, বারবার

বাচ্চারা সাধারণত সবজি পছন্দ করতে শেখে ধীরে ধীরে, চাপ ছাড়া বারবার দেখা হতে হতে। একটা সবজি ‘নিরাপদ’ মনে হতে অনেক বাচ্চার কয়েক সপ্তাহে ১০ বা তার বেশি বার স্বাদ নিতে হয়, আর প্রতিবারের শান্ত পরিচয়ই কাজে লাগে, টুকরোটা প্লেটে পড়ে থাকলেও।

  1. প্লেটে অল্প একটু দিন, এক চামচ বা দুই টুকরো, এমন খাবারের পাশে যা বাচ্চা এমনিতেই খায়, যেমন ভাত, রুটি বা ডিম।
  2. এ নিয়ে কিছু বলবেন না, বা শুধু একটা সাধারণ কথা: ‘এটা লাউ। নরম।’
  3. নিজেও একই সবজি মজা করে খান, বাচ্চাকে আপনার দেখাদেখি খেতে না বলে।
  4. বাচ্চাকে ছুঁয়ে দেখতে, গন্ধ নিতে, চেটে দেখতে, এমনকি মুখ থেকে টিস্যুতে ফেলে দিতেও দিন; প্রতিটাই এক একটা ধাপ।
  5. কয়েক দিন পর আবার দিন, একই ভাবে বা নতুন ভাবে: সেদ্ধ, ভর্তা, ডালে, বা ভাজিতে।
  6. সবজি খাক বা না খাক, পেট ভরলে খাওয়া শেষ করুন; ঠিক পরপর অন্য কোনো নাশতা দেবেন না।
  7. কতটা খেল তা নয়, সাহসটা খেয়াল করুন: ‘আজ তুমি নতুন একটা জিনিস চেখে দেখেছ।’

খাবার টেবিলে যা বলতে পারেন

  • খেতে হবে না। প্লেটে থাকুক।
  • এটা মিষ্টি কুমড়া। নরম, একটু মিষ্টি মিষ্টি।
  • আগে একটু গন্ধ নিয়ে দেখবে, নাকি শুধু ছুঁয়ে দেখবে?
  • ছোট্ট এক কামড়, নয়তো একটাও না। তুমিই ঠিক করো।
  • কাল আমরা দুজন মিলে এটা রান্না করব?

বাচ্চারা পছন্দ করে এমন দেশি সবজির পদ

যে বাচ্চা সবজি খেতে চায় না, সে প্রায়ই আগে মেনে নেয় হালকা, নরম বা একটু মিষ্টি স্বাদের সবজি, আর কড়া স্বাদের শাক সবার শেষে। মরিচ দেওয়ার আগেই বাচ্চার ভাগটা তুলে রাখুন, আর লবণ কম দিন।

রোজকার দেশি সবজি বাচ্চার উপযোগী করে দেওয়ার উপায়
সবজিঅনেক বাচ্চা যেভাবে পছন্দ করে
লাউনরম আর হালকা স্বাদ: ডালে, ছোট মাছ বা মুরগির সঙ্গে পাতলা তরকারিতে, ডিম দিয়ে লাউ ভাজি
মিষ্টি কুমড়ানিজেই মিষ্টি: ভাতের সঙ্গে মেখে, কুমড়া ভাজি, মরিচ ছাড়া ভর্তা, খিচুড়িতে
গাজরডাল বা খিচুড়িতে কুচি করে, নরম করে সেদ্ধ লম্বা টুকরো, সবজি দিয়ে ডিম ভাজিতে বা বাসায় বানানো নুডলসে
পেঁপেরান্নার পর নরম আর হালকা: মুরগি বা মাছের তরকারিতে, পেঁপে ভাজি, ভর্তায় মেখে
শাক (লাল শাক, পালং, পুঁই)প্রায়ই সবচেয়ে কঠিন: ভাত-ডালের সঙ্গে অল্প মিশিয়ে; লাল শাকে ভাত গোলাপি হয়ে যায়, যা অনেক বাচ্চার কাছে মজার; ডিম ভাজি বা পরোটায় পালং শাক
আলু আর তার সঙ্গীরা (আলু, মটরশুঁটি, ফুলকপি, শিম)ভালো একটা সেতু: আলু-ফুলকপি, মটরশুঁটি দিয়ে আলু, আলু-শিম ভাজি; ধীরে ধীরে আলু কমিয়ে
শসা আর টমেটোবড় বাচ্চাদের জন্য কাঁচা অবস্থায় হালকা, মচমচে; ডালে বা ডিম ভাজিতে টমেটো
  • সবজি খিচুড়ি: চাল, ডাল আর নরম সবজি এক হাঁড়িতে। খিচুড়িতে সবজি মিশিয়ে খাওয়ানো এভাবে চোখের সামনেই হয়, লুকিয়ে নয়।
  • ভর্তা: আলু, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন বা শিম সামান্য সরিষার তেল আর লবণ দিয়ে মাখা, মরিচ ছাড়া। দলা পছন্দ করে না এমন অনেক বাচ্চার জন্য সবজি ভর্তা করে খাওয়ানো ভালো উপায়।
  • রোল আর পরোটা: ডিম আর সবজি ভাজি দিয়ে মোড়ানো রুটি, বা ময়দার মধ্যে কুচানো সবজি দিয়ে পরোটা।
  • বাসায় বানানো সবজির পাকোড়া, বেগুনি বা সবজির কাটলেট: ভাজা খাবার, তাই ছুটির দিন বা ইফতারের জন্য রাখুন; তবে সবজির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের জন্য এগুলো ভালো একটা শুরু হতে পারে।

মোটামুটি ৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চার জন্য সবজি নরম করে রান্না করুন বা কুচি করে দিন: কাঁচা গাজরের মতো শক্ত টুকরো গলায় আটকে যেতে পারে, আর ছোট টমেটো লম্বালম্বি চার টুকরো করে দিন। ১–৩ বছরের জন্য আরও খাবারের আইডিয়া পাবেন ছোট বাচ্চার খাবারের আইডিয়া লেখায়; প্রতিটা বয়সে ভারসাম্যপূর্ণ প্লেট কেমন হয়, দেখুন শিশুর খাবার ও পুষ্টি।

সবজির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে: একসাথে রান্না আর বাজারে যাওয়া

নিজে বেছে নেওয়া বা রান্নায় হাত লাগানো খাবার বাচ্চারা চেখে দেখতে বেশি আগ্রহী হয়। বয়স অনুযায়ী ছোট ছোট কাজ সবজিকে অচেনা থেকে চেনা করে তোলে:

  • ২–৪ বছর: গামলায় সবজি ধোয়া, শাকের পাতা ছেঁড়া, মটরশুঁটি বাটিতে রাখা, রান্নার আগে ঠান্ডা উপকরণ বাটিতে নেড়ে মেশানো।
  • ৫–৭ বছর: মটরশুঁটি ছাড়ানো, দাদি-নানির সঙ্গে শাক বাছা, পিলার দিয়ে খোসা ছাড়ানো, ভর্তা মাখা, সবজির বাটি টেবিলে নিয়ে যাওয়া।
  • ৮–১০ বছর: সবজি দিয়ে ডিম ভাজির জন্য ডিম ভাঙা, বড় কেউ পাশে থেকে বাচ্চাদের উপযোগী ছুরি দিয়ে নরম সবজি কাটা, সপ্তাহে একটা সহজ পদ বেছে নিয়ে রান্নায় সাহায্য করা।

রান্নাঘরের যেকোনো কাজে বাচ্চার ঠিক পাশে থাকুন। ছোট বাচ্চাদের গরম চুলা, গরম তেল আর ধারালো ছুরি থেকে দূরে রাখুন; বড় বাচ্চারাও এগুলো ধরবে শুধু বড় কেউ ঠিক পাশে থাকলে।

বাজারে একসাথে

বাচ্চাকে বাজারে নিয়ে যান, বা গেটের সামনে আসা সবজিওয়ালার ভ্যানের কাছে, আর সপ্তাহের জন্য একটা সবজি বেছে নিতে দিন। রং আর আকার নিয়ে গল্প করুন, সবজিটা হাতে নিতে আর টাকাটা দিতে দিন, তারপর সেদিনই একসাথে রান্না করুন। রোদ আসা জানালার পাশে, বা বড় কারও সঙ্গে ছাদে, একটা টবে লাল শাক বা ধনেপাতা লাগালে বাচ্চা চোখের সামনে খাবার বেড়ে উঠতে দেখে।

লুকিয়ে খাওয়ানো, লোভ দেখানো আর জোর: কোনগুলোতে উল্টো ফল হয়?

যে বাচ্চা সবজি খেতে চায় না, কিছু চেনা কৌশলে আজ হয়তো তাকে একটু সবজি খাওয়ানো যায়, কিন্তু কালকের খাওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়:

  • পুরস্কার হিসেবে মিষ্টি: ‘শাক খেলে চকলেট পাবে’ বললে বাচ্চা শেখে, সবজি একটা ঝামেলার কাজ আর মিষ্টি হলো পুরস্কার। তখন অনেক বাচ্চা মিষ্টি আরও বেশি চায়, আর সবজি আরও কম।
  • জোর আর চাপ: চেপে ধরে খাওয়ানো, ‘আর এক কামড়’-এর লড়াই, বা প্লেট শেষ না হওয়া পর্যন্ত উঠতে না দেওয়া সাধারণত সবজিকে শত্রু বানায়; আর কাঁদতে থাকা বাচ্চার মুখে জোর করে খাবার দিলে গলায় আটকে যেতে পারে।
  • শুধুই লুকিয়ে খাওয়ানো: ডাল বা রুটির ময়দায় সবজি মিশিয়ে দেওয়া বাড়তি হিসেবে ঠিক আছে। কিন্তু সবজি যদি সবসময় লুকানোই থাকে, বাচ্চা কখনো সবজি পছন্দ করতে শেখে না, আর ধরা পড়লে সব খাবারেই সন্দেহ করতে পারে। প্লেটে চোখে পড়ার মতো এক টুকরোও রাখুন।
  • হুমকি আর তুলনা: ‘শেষ না করলে কার্টুন বন্ধ’ বা ‘দেখো, তোমার কাজিন সব খায়’ বললে খাওয়ার সময়টা লড়াই হয়ে যায়, আর খাওয়া নিয়েই বাচ্চার মন খারাপ হতে পারে।
  • প্রতিবার আলাদা রান্না: সবজি না খেলেই অন্য কিছু রেঁধে দিলে বাচ্চা শেখে, ‘না’ বললেই কাজ হয়। তার বদলে পরিবারের খাবারের সঙ্গে একটা চেনা খাবার দিন।
  • খাওয়ার সময় মোবাইল: কার্টুন দেখিয়ে খাবার মুখে ঢোকানো যায়, কিন্তু বাচ্চা স্বাদ আর পেট ভরার অনুভূতি খেয়াল করা বন্ধ করে দেয়; দেখুন মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানো কীভাবে বন্ধ করবেন।

বাংলাদেশি পরিবারে: দাদি-নানি, গৃহকর্মী আর ‘শুধু ভাত-ডিম’

  • শুধু ভাত, ডিম আর আলু: অনেক বাচ্চা কিছুদিন এগুলো খেয়েই থাকে। এগুলোকেই সেতু বানান: ডিম দিয়ে লাউ বা পেঁপে ভাজি, সবজি দিয়ে ডিম ভাজি, ফুলকপি বা মটরশুঁটি দিয়ে আলু, তারপর প্রতি সপ্তাহে একটু একটু আলু কমানো।
  • দাদি-নানি: ‘ও সবজি পছন্দ করে না, দিয়ো না’ বলা দাদি বা নানি ভালোবেসেই বলেন। অনুরোধ করুন যেন প্রতি বেলায় প্লেটে অল্প একটু সবজি থাকে, সাধাসাধি ছাড়া, আর বাচ্চাকে নিয়ে শাক বাছতে বলুন।
  • রান্না করেন গৃহকর্মী: পরিকল্পনাটা তাঁকেও জানান: মরিচের আগে বাচ্চার ভাগ তুলে রাখা, একটা সবজি নরম করে রান্না, আর জোর বা পুরস্কারের মিষ্টি নয়।
  • টনিক আর সিরাপ: আত্মীয়রা সবজির বদলে ভিটামিন সিরাপ খাওয়ানোর পরামর্শ দিতে পারেন। ডাক্তার বাচ্চাকে দেখে না লিখে দিলে কিছুই দেবেন না।
  • টিফিন: সবজি ভাজি দিয়ে রুটির রোল, বা বড় বাচ্চার জন্য শসার টুকরো; আরও আইডিয়া পাবেন বাচ্চাদের টিফিনের আইডিয়া লেখায়।
  • শীতের সবজি: শীতে প্রতিটা বাজার ফুলকপি, শিম, মটরশুঁটি, টমেটো আর গাজরে ভরে যায়; নতুন কিছু চেখে দেখার এটাই ভালো সময়।

সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়তে ৭ দিনের পরিকল্পনা

বাচ্চা সবজি খেতে চায় না? উন্নতিটা প্রায়ই শুরু হয় দেখা আর ছোঁয়া দিয়ে, খাওয়ার অনেক আগে। প্রতিদিন লিখে রাখুন, সপ্তাহের সবজিটা নিয়ে বাচ্চা কী করল: দেখল, ছুঁল, চাটল, চেখে দেখল, নাকি খেল।

  1. দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। লিখে রাখুন বাচ্চা কোন সবজি খেল, ছুঁল বা ফিরিয়ে দিল, আর দুই বেলার মাঝে কী খেল ও পান করল।
  2. দিন ২: ‘শেখার সবজি’ হিসেবে একটা বেছে নিন, যেমন মিষ্টি কুমড়া বা লাউ, আর চেনা খাবারের পাশে দুই টুকরো দিন, কোনো মন্তব্য ছাড়া।
  3. দিন ৩: বাচ্চাকে বাজারে বা সবজিওয়ালার ভ্যানে নিয়ে যান, সবজি বেছে নিতে দিন, আর ধুতে দিন।
  4. দিন ৪: বাচ্চা এমনিতেই পছন্দ করে এমন পদে একসাথে রান্না করুন: খিচুড়ি, ভাজি বা ডিম ভাজি।
  5. দিন ৫: শেখার সবজিটা নতুন রূপে দিন: ভর্তায়, ডালে, বা নরম লম্বা টুকরো করে।
  6. দিন ৬: পরিবারের প্রতি বেলার খাবারে নিজে সবজি খান, আর বাচ্চার প্লেট নয়, স্বাদ আর রং নিয়ে কথা বলুন।
  7. দিন ৭: ফিরে দেখুন: প্রথম দিনের চেয়ে বাচ্চা কি বেশি দেখেছে, ছুঁয়েছে, চেটেছে বা চেখেছে? এই ধাপগুলোই গুনুন, চালিয়ে যান, আর পরের সপ্তাহে দ্বিতীয় একটা সবজি যোগ করুন।

সবজি না খেলে কখন চিন্তার কারণ

শুধু সবজি না খাওয়া সাধারণত কোনো অসুখের লক্ষণ নয়, বিশেষ করে বাচ্চা যদি কিছু ফল খায়, ঠিকমতো বেড়ে ওঠে আর খেলার শক্তি থাকে। তবে এমন হলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন:

এমন হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন

  • বাচ্চার ওজন কমছে, চেকআপে যেমন বাড়ার কথা তেমন বাড়ছে না, বা আগের মাপের জামা ঢিলা হয়ে যাচ্ছে।
  • খুবই অল্প কয়েকটা খাবার খায়, পুরো এক ধরনের খাবারই বাদ দিয়েছে, আর খাবারের তালিকা ছোট হতেই থাকছে।
  • নির্দিষ্ট ধরনের খাবারে প্রায়ই ওয়াক তোলে, গলায় আটকায় বা বমি করে, অথবা খেতেই ভয় পায় বলে মনে হয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা বা পেটের অন্য কোনো সমস্যা দুই সপ্তাহের বেশি চলছে।
  • বাচ্চাকে ফ্যাকাশে বা অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে, খেলার শক্তি কম, বা প্রায়ই অসুস্থ থাকে।
  • বাচ্চার গলায় খাবার আটকে গেলে আর শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে না পারলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর জানা থাকলে গলায় খাবার আটকানোর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন।

বাচ্চা সবজি খেতে চায় না, এমন সময়ে ছোট ছোট উন্নতি এক বেলা থেকে আরেক বেলায় সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। ParentMind-এ প্রতিদিন কী হলো লিখে রাখতে পারেন, ধরন দেখতে পারেন আর পরামর্শ পেতে পারেন। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বাচ্চা সবজি খেতে চায় না, এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, খুবই সাধারণ, বিশেষ করে ২ থেকে ৬ বছরে। অনেক সবজি বাচ্চার কাছে তেতো লাগে, আর নতুন খাবার ঝুঁকির মনে হয়। বেশির ভাগ বাচ্চা বড় হতে হতে ধীরে ধীরে বেশি খায়, বিশেষ করে চাপ ছাড়া সবজি বারবার প্লেটে এলে। তবে ওজন কমলে, সব মিলিয়ে খুব অল্প খাবার খেলে, বা খাওয়ার সময় প্রায়ই ওয়াক তুললে বা বমি করলে ডাক্তার দেখান।

একটা সবজি কতবার দেওয়ার পর হাল ছাড়ব?

নতুন একটা সবজি মেনে নিতে অনেক বাচ্চার কয়েক সপ্তাহ ধরে ১০ বা তার বেশি বার স্বাদ নিতে হয়, কারও কারও আরও অনেক বেশি। চাপ ছাড়া, নানাভাবে রান্না করে, কয়েক দিন পরপর অল্প করে দিতে থাকুন। বাচ্চা যদি তাকিয়ে দেখে, ছোঁয় বা চাটে, এখনো না খেলেও সেটা উন্নতি।

বাচ্চার খাবারে সবজি লুকিয়ে দেওয়া কি ঠিক?

বাড়তি হিসেবে, হ্যাঁ: ডাল বা খিচুড়িতে গাজর কুচি, বা রুটির ময়দায় মিষ্টি কুমড়া দিলে লড়াই ছাড়াই কিছু সবজি পেটে যায়। কিন্তু লুকানোকেই একমাত্র উপায় বানাবেন না। বাচ্চারা সবজি দেখে আর চেখেই পছন্দ করতে শেখে, তাই প্লেটে চোখে পড়ার মতো এক টুকরোও দিন, আর বাচ্চা জানতে চাইলে খাবারে কী আছে সত্যি বলুন।

সবজি খেলে কি বাচ্চাকে মিষ্টি বা চকলেট দেব?

না দেওয়াই ভালো। পুরস্কার হিসেবে মিষ্টি দিলে বাচ্চা শিখতে পারে যে সবজি একটা ঝামেলার কাজ আর মিষ্টি তার পুরস্কার, ফলে অনেকে মিষ্টি আরও বেশি চায়, সবজি আরও কম। তার বদলে সাহসটা খেয়াল করুন, একসাথে রান্না করুন, আর মিষ্টি রাখুন মাঝেমধ্যের মজার খাবার হিসেবে, কী খেল তার সঙ্গে না মিলিয়ে।

বাচ্চা কেবল ভাত আর ডিম খায়, সঙ্গে একটু আলু। কী করব?

এই খাবারগুলোকেই সেতু বানান। ডিমের সঙ্গে একটু লাউ বা পেঁপে রান্না করুন, আলু ভাজিতে মটরশুঁটি বা ফুলকপি দিন, বা সবজি দিয়ে ডিম ভাজি করুন, তারপর কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে সবজির ভাগ বাড়ান। প্রতি প্লেটে একটা চেনা খাবার রাখুন, আর বাচ্চার খাবারের তালিকা ছোট হতে থাকলে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চারা কোন সবজি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে?

অনেক বাচ্চা শুরু করে হালকা, নরম বা একটু মিষ্টি স্বাদের সবজি দিয়ে, যেমন মিষ্টি কুমড়া, গাজর, লাউ, আলু, মটরশুঁটি আর শসা; কড়া স্বাদের শাক মেনে নেয় সবার শেষে। বাচ্চা যা এখন মোটামুটি খায় সেটা দিয়েই শুরু করুন, নরম আর সহজভাবে রান্না করুন, আর চেনা খাবারের পাশে একবারে একটা করে নতুন সবজি যোগ করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।