মূল কনটেন্টে যান

৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট: ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত কী, কখন, কতবার

ছোট করে উত্তর

৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট শুরু হয় ঠিক এই বয়সে, মোটামুটি ৬ মাসে; তার আগে শিশুর জন্য বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধই যথেষ্ট। শুরুতে দিনে এক-দুবার ঘন, চটকানো খাবার; ৭–৮ মাসে ছোট ছোট নরম দানাসহ খাবার, ৯–১১ মাসে কুচি করা আর হাতে ধরে খাওয়ার খাবার, আর ১২ মাসের মধ্যে পরিবারের খাবার। ১ বছরের আগে মধু, লবণ বা চিনি নয়।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুর বাবা-মা, যাঁরা সলিড বা বাড়তি খাবার শুরু করছেন বা বাড়াচ্ছেন
মূল কথা
  • মোটামুটি ৬ মাস পর্যন্ত শিশুর জন্য বুকের দুধ বা ফর্মুলাই যথেষ্ট; সাপোর্ট দিয়ে বসতে আর মাথা সোজা রাখতে পারলে সলিড খাবার শুরু করুন।
  • খাবারের ধরন ধাপে ধাপে বদলায়: ৬ মাসে ঘন ও চটকানো, তারপর নরম দানাসহ, তারপর কুচি করা আর হাতে ধরে খাওয়ার খাবার, আর মোটামুটি ১২ মাসে ছোট করে কাটা পরিবারের খাবার।
  • প্রথম জন্মদিনের আগে মধু, লবণ বা চিনি নয়; আর ১২ মাস পর্যন্ত গরুর দুধ শুধু রান্নায়, মূল পানীয় হিসেবে নয়।
  • খাওয়ানোর সময় শিশুকে সবসময় সোজা করে বসান আর পাশে থাকুন; গলায় খাবার আটকালে ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর জানা থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন।

শিশুর বয়স ৬ মাসের কাছাকাছি হলেই আত্মীয়রা জিজ্ঞেস করতে শুরু করেন, “মুখে ভাত দিয়েছ?” আর বাবা-মা খোঁজেন ৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট। সলিড খাবার শুরু করা বড় একটা ধাপ, কিন্তু এর জন্য আলাদা দামি কিছু লাগে না: পরিবারের নিজের খিচুড়ি, ডাল, ভাত, ডিম, মাছ আর সবজি, নরম আর লবণ-ঝাল ছাড়া করে দিলেই ভালো শুরু হয়।

নিচে পাবেন: কখন শুরু করবেন আর তৈরি হওয়ার লক্ষণ, ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত খাবারের চার্ট, কীভাবে শুরু করবেন, ঘরের চেনা প্রথম খাবার, ১ বছরের আগে কী দেবেন না, অ্যালার্জির খাবার, গলায় আটকানো এড়ানোর নিয়ম, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন।

শিশুর বাড়তি খাবার শুরু কখন?

বেশিরভাগ শিশু মোটামুটি ৬ মাস বয়সে সলিড খাবারের জন্য তৈরি হয়। তার আগ পর্যন্ত বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধেই শিশুর সব খাবার আর পানীয়ের চাহিদা মেটে; ডাক্তার আপনার শিশুর জন্য আলাদা করে না বললে অনেক আগে শুরু করবেন না। তিনটি লক্ষণ একসঙ্গে দেখুন:

  • সামান্য সাপোর্ট দিলে শিশু বসতে পারে আর মাথা সোজা রাখতে পারে।
  • খাবারের দিকে তাকায়, হাতে তুলে মুখে নিতে পারে।
  • জিভ দিয়ে বেশিরভাগ খাবার ঠেলে বের করে না দিয়ে গিলে ফেলে।

হাত চোষা বা কামড়ানো, রাতে বেশি জাগা, বা বেশি বেশি দুধ চাওয়াকে অনেকে তৈরি হওয়ার লক্ষণ ভাবেন। এগুলো শিশুর স্বাভাবিক আচরণ; শুধু এসব দেখে বোঝা যায় না যে সলিড খাবার দরকার।

৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট: বয়স অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত

এই ৬ মাসের বাচ্চার খাবার চার্ট ২ বছর পর্যন্ত মোটামুটি একটা ধারণা দেয়: প্রতিটি শিশু নিজের গতিতে এগোয়, আর প্রথম বছর জুড়ে বুকের দুধ বা ফর্মুলাই থাকে মূল পানীয়। শুরুতে প্রতিবারের খাবার অল্প, আর কতটা খাবে তা ঠিক করে শিশুর খিদে।

বাচ্চার খাবারের তালিকা: কেমন খাবার, কতবার, কী কী দেবেন
বয়সখাবারের ধরনকতবারকী দিতে পারেন
মোটামুটি ৬ মাসঘন আর মসৃণ, বা ভালো করে চটকানো: এত ঘন যে চামচ থেকে গড়িয়ে পড়ে নাশুরুতে দিনে একবার, তারপর দুইবার; দুধ আগের মতোইডাল দিয়ে চটকানো নরম ভাত, ঘন খিচুড়ি, চটকানো আলু বা মিষ্টিকুমড়া, চটকানো পাকা কলা বা পেঁপে, ভালো করে সেদ্ধ করা চটকানো ডিম
৭–৮ মাসনরম দানাসহ চটকানো; হাতে ধরে খাওয়ার প্রথম নরম খাবারদিনে ২–৩ বারসবজি আর ডিম বা মুরগি দিয়ে খিচুড়ি, চটকানো ডাল-ভাত, কাঁটা বাছা মাছ, নরম সেদ্ধ সবজির টুকরো, নরম ফল
৯–১১ মাসকুচি বা কিমা করা; নিজে তুলে খাওয়ার মতো খাবার৩ বেলা খাবার আর ১–২ বার নাশতাডাল, মাছ আর সবজি দিয়ে নরম ভাত, ডালে ভেজানো নরম রুটির টুকরো, ডিম, নরম ফল, চিনি ছাড়া দই
১২–২৪ মাসপরিবারের খাবার, নরম আর ছোট করে কাটা৩ বেলা খাবার আর মোটামুটি ২ বার নাশতাঝাল ছাড়া আর খুব অল্প লবণে পরিবারের খাবার: ভাত, ডাল, মাছ, ডিম, মুরগি, সবজি, ফল, দই

খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ প্রথম বছর জুড়ে, এমনকি তার পরেও চলতে পারে, যতদিন আপনি আর শিশু চান। শিশু ফর্মুলা খেলে খাবার বাড়ার সঙ্গে কতটা দুধ দেবেন, তা ডাক্তার বলে দিতে পারেন। ১২ মাস থেকে খাবার বা নাশতার সঙ্গে সাধারণ গরুর দুধ দেওয়া যায়; পরিবারের খাবারের একদিনের নমুনা তালিকা পাবেন ১ বছরের বাচ্চার খাবারের আইডিয়া লেখায়।

শিশুর প্রথম সলিড খাবার: প্রথম কয়েক সপ্তাহ, ধাপে ধাপে

  1. দিনের এমন একটা শান্ত সময় বেছে নিন, যখন শিশু জেগে আছে, হাসিখুশি, খুব ক্লান্ত বা খুব ক্ষুধার্ত নয়।
  2. শিশুকে সোজা করে বসান, হাই চেয়ারে বা আপনার কোলে ভালো করে ধরে, আপনার মুখোমুখি। শুইয়ে রেখে কখনো খাওয়াবেন না।
  3. নিজের আর শিশুর হাত ধুয়ে নিন, বাটি-চামচ পরিষ্কার রাখুন।
  4. একটা ঘন, চটকানো খাবারের কয়েকটা ছোট চামচ দিন, বা নরম খাবার শিশুকে নিজে ধরতে আর তুলতে দিন।
  5. শিশুকে অনুসরণ করুন: মুখ ফিরিয়ে নিলে, মুখ বন্ধ করলে বা চামচ ঠেলে দিলে থামুন। কখনো জোর করে মুখে খাবার দেবেন না বা গেলাবেন না।
  6. নতুন খাবার একবারে একটা করে, কয়েক দিন পরপর যোগ করুন, যাতে কোনো সমস্যা হলে বোঝা যায় কোন খাবারে হলো।
  7. খাবারের সময় খোলা কাপে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি এক-দুই চুমুক দিন।

ঘরের রান্নাঘর থেকে শিশুর প্রথম খাবার

শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো প্রথম খাবার সাধারণত পরিবারের নিজের খাবারই, নরম আর লবণ-ঝাল ছাড়া করে। লবণ আর ঝাল দেওয়ার আগেই শিশুর ভাগটা তুলে রাখুন।

  • খিচুড়ি: চাল আর ডালের সঙ্গে মিষ্টিকুমড়া, গাজর বা লাউ দিয়ে নরম করে রেঁধে চটকে নিন; পরে ডিম, মাছ বা মুরগি যোগ করুন।
  • ডাল-ভাত: ডাল দিয়ে নরম ভাত চটকে; শুরুতে মসৃণ, পরে ছোট ছোট নরম দানা রেখে।
  • ডিম: সাদা অংশ আর কুসুম দুটোই শক্ত হওয়া পর্যন্ত সেদ্ধ করে, তারপর চটকে বা ছোট করে কেটে।
  • মাছ: রান্না করে ঝুরি করে নিন, আর প্রতিটা কাঁটা দুবার করে দেখে বেছে নিন; পাঙাশ বা তেলাপিয়ার মতো কম কাঁটার মাছ সহজ।
  • মুরগি বা মাংস: নরম করে রেঁধে মিহি কুচি বা ঝুরি করে।
  • সবজি আর শাক: আলু, মিষ্টিকুমড়া, গাজর, লাউ, কাঁচা পেঁপে আর শাক, নরম করে রেঁধে চটকে বা কুচি করে।
  • ফল: পাকা কলা, পেঁপে বা মৌসুমে আম, চটকে; আপেল নরম করে সেদ্ধ বা মিহি করে কুচিয়ে।
  • সুজি বা ওটস: পানিতে, বা একটু গরুর দুধ মিশিয়ে ঘন করে রান্না, চিনি ছাড়া।
  • দই: চিনি ছাড়া টক দই।

১ বছরের আগে কী দেবেন না, আর গলায় খাবার আটকানো এড়াবেন কীভাবে

  • মধু: প্রথম জন্মদিনের আগে একটুও নয়, খাবারে মিশিয়েও নয়: মধুতে এমন জীবাণু থাকতে পারে, যা ছোট শিশুকে খুব অসুস্থ করে দিতে পারে।
  • লবণ: আলাদা করে লবণ নয়; মসলার কিউব বা চিপস-চানাচুরের মতো নোনতা খাবারও নয়।
  • চিনি: খাবারে চিনি বা মিষ্টি নয়; জুস, কোমল পানীয় বা মিষ্টি দেওয়া কোনো পানীয়ও নয়।
  • গরুর দুধ: মোটামুটি ৬ মাস থেকে রান্নায় মিশিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু ১২ মাসের আগে মূল পানীয় হিসেবে নয়।
  • চা-কফি: শিশুর জন্য নয়।
  • বাদাম: কখনো আস্ত নয়; মসৃণ বাদাম-বাটা বা মিহি গুঁড়া করে খাবারে মিশিয়ে দেওয়া যায়।
  • কাঁচা দুধ আর আধা সেদ্ধ ডিম: গোয়ালার দুধ ভালো করে ফুটিয়ে নিন, আর ডিম শক্ত হওয়া পর্যন্ত সেদ্ধ করুন।

খেতে শেখার সময় শিশুর ওয়াক আসা খুব সাধারণ: কাশে, ওয়াক ওয়াক করে, আর সাধারণত নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। গলায় খাবার আটকানো আলাদা, আর প্রায়ই নিঃশব্দ: শিশু শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে পারে না। তখন সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর জানা থাকলে গলায় খাবার আটকানোর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন।

ঝুঁকি কমাতে: খাওয়ার সময় শিশুকে সবসময় সোজা করে বসান আর পাশে থাকুন; আঙুর আর ছোট টমেটো লম্বালম্বি চার ভাগ করুন; লিচু আর বরইয়ের বিচি ফেলে শাঁস ছোট করে কেটে দিন; ছোলা আর আস্ত মটর চটকে দিন; শক্ত ফল আর সবজি কুচিয়ে বা নরম করে রেঁধে দিন; মাছের প্রতিটা কাঁটা বেছে নিন; আর পপকর্ন, আস্ত বাদাম বা শক্ত লজেন্স কখনো দেবেন না।

ডিম, মাছ, বাদামের মতো অ্যালার্জির খাবার কীভাবে শুরু করবেন

কিছু খাবারে অন্য খাবারের চেয়ে বেশি অ্যালার্জি হয়: ডিম, গরুর দুধ, চিনাবাদাম ও অন্য বাদাম, মাছ, চিংড়ি, গম (আটা আর সুজি), তিল আর সয়া। শিশুস্বাস্থ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো আটকে না রেখে মোটামুটি ৬ মাস থেকে অন্য খাবারের পাশাপাশি দেওয়া যায়।

  1. এর একটা খাবার একবারে, অল্প পরিমাণে, দিনের আগের দিকের কোনো বেলায় দিন, যাতে পরে শিশুকে খেয়াল রাখতে পারেন।
  2. কোনো সমস্যা না হলে নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে দিতে থাকুন।
  3. কোনো খাবারের পর র‍্যাশ, ফোলা, বমি বা অন্য কোনো সমস্যা হলে সেটা বন্ধ করুন, আর আবার দেওয়ার আগে ডাক্তার দেখান।
  4. শিশুর তীব্র একজিমা থাকলে বা আগে থেকেই কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে ডিম বা চিনাবাদাম শুরুর আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
  5. খাওয়ার পর শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, মুখ, ঠোঁট বা জিভ ফুলে গেলে, বা হঠাৎ শরীর নেতিয়ে পড়লে বা খুব ফ্যাকাশে হয়ে গেলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

আমাদের বাসায় শিশুর খাবার: মধু, আত্মীয়দের পরামর্শ আর পরিবারের হাঁড়ি

  • নবজাতকের মুখে মধু: অনেক পরিবারে ভালোবাসা থেকে, দোয়া হিসেবে এই রীতি আছে। কিন্তু প্রথম জন্মদিনের আগে মধু শিশুকে খুব অসুস্থ করে দিতে পারে, তাই এক ফোঁটাও নয়; দোয়া বা ভালো কথাটুকু মধু ছাড়াই থাকুক।
  • ফিডার শুধু দুধের জন্য: ফিডারে সুজি বা ভাত দিলে শিশু দরকারের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলতে পারে, গলায় আটকানোর ঝুঁকিও থাকে। সলিড খাবার চামচে বা হাতে।
  • পরিবারের হাঁড়ি: লবণ আর ঝাল দেওয়ার আগেই শিশুর ভাগটা তুলে রাখুন; স্বাদের জন্য একটু হলুদ, জিরা বা রসুন দিলে সমস্যা নেই।
  • মোবাইল দেখিয়ে বা বাটি হাতে পেছন পেছন ঘুরে খাওয়ানো: শিশু সবচেয়ে ভালো খেতে শেখে আপনার সঙ্গে বসে, স্ক্রিন ছাড়া। পড়ুন মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানো লেখাটি।
  • অন্য কেউ খাওয়ালে: গৃহকর্মী, দাদি-নানি বা যিনিই শিশুকে খাওয়ান, তাঁকে নিরাপত্তার তালিকাটা (মধু, লবণ, চিনি, কাঁটা, গোল খাবার, বাদাম) জানিয়ে দিন।
  • গরমের দিন: ৬ মাসের কম বয়সী যে শিশু শুধু বুকের দুধ খায়, গরমেও তার আলাদা পানি লাগে না; বরং বারবার খাওয়ান। শিশু ফর্মুলা খেলে পানির ব্যাপারে ডাক্তার বা নার্সকে জিজ্ঞেস করুন। ৬ মাস থেকে খাবারের সঙ্গে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি এক-দুই চুমুক দিন।
  • টনিক আর সাপ্লিমেন্ট: নিজে থেকে ভিটামিন সিরাপ, টনিক বা খিদে বাড়ানোর সিরাপ দেবেন না; শিশুর কিছু লাগলে ডাক্তার বলে দিতে পারেন।

যা বলতে পারেন: আত্মীয়দের, আর শিশুকে

  • আম্মা, এক বছরের আগে মধু একদম না। আপনার দোয়াটাই ওর জন্য যথেষ্ট।
  • লবণ আর ঝাল দেওয়ার আগেই ওর ভাগটা আলাদা করে রাখি।
  • ওর সুজিতে চিনি দেবেন না, কলাতেই মিষ্টি হয়ে যায়।
  • ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, মানে আর খাবে না। পরের বেলায় আবার দেব।
  • দেখো, খিচুড়ি! একটু ধরে দেখবে?

সলিড খাবার শুরুর ৭ দিনের পরিকল্পনা

খাবারের চার্টটাকে পথ দেখানোর মানচিত্র ধরুন, আর প্রতিদিন ছোট একটা জিনিস বদলান। এক লাইন লিখে রাখুন: কী দিলেন, শিশু কতটা খেল, আর কী খেয়াল করলেন।

  1. দিন ১: তৈরি হওয়ার তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে নিন। দিনের একটা সময় আর একটা জায়গা ঠিক করুন: হাই চেয়ার বা আপনার কোল, সোজা করে বসিয়ে।
  2. দিন ২: একবার কয়েক চামচ ঘন, চটকানো ডাল-ভাত বা মিষ্টিকুমড়া দিন। শিশু মুখ ফিরিয়ে নিলে থামুন।
  3. দিন ৩: একই খাবার, একই সময়। শিশুকে খাবার ছুঁয়ে দেখতে আর চামচ ধরতে দিন।
  4. দিন ৪: একটা নতুন খাবার যোগ করুন, যেমন চটকানো কলা। শিশু কীভাবে নিল, লিখে রাখুন।
  5. দিন ৫: অ্যালার্জির একটা খাবার, যেমন ভালো করে সেদ্ধ করা চটকানো ডিম, দিনের আগের দিকের বেলায় অল্প করে দিন, আর পরে খেয়াল রাখুন।
  6. দিন ৬: খাবারের সঙ্গে খোলা কাপে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি এক-দুই চুমুক দিন।
  7. দিন ৭: লেখাগুলো আবার দেখুন: কী কী খাবার দিলেন, শিশু কীভাবে নিল, কোনো সমস্যা হলো কি না। পরের সপ্তাহের পরিকল্পনা করুন: দিনে দ্বিতীয় একবেলা খাবার আর এক-দুটো নতুন খাবার।

পরে খাওয়ার সময়টা যুদ্ধের মতো হয়ে উঠলে পড়ুন বাচ্চা খেতে চায় না; স্কুলপড়ুয়া বাচ্চার প্লেট নিয়ে দেখুন শিশুর খাবার ও পুষ্টি।

শিশুর খাওয়া নিয়ে কখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন

এসব হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, বা ৯৯৯-এ ফোন করুন

  • মোটামুটি ৭ মাসেও শিশু সাপোর্ট দিয়ে বসতে পারে না, বা প্রায় সব খাবারই জিভ দিয়ে ঠেলে বের করে দেয়।
  • মোটামুটি ১২ মাসেও শিশু শুধু মসৃণ খাবার খেতে পারে, দানাদার কিছুই নয়; বা যেকোনো বয়সে খাওয়ার সময় প্রায়ই ওয়াক তোলে, গলায় আটকায় বা বমি করে।
  • শিশুর ওজন, বৃদ্ধি বা কতটা দুধ খাচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে: ডাক্তার বৃদ্ধি দেখে দুধের ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারেন।
  • নতুন কোনো খাবারের পর র‍্যাশ, ফোলা, বমি বা পাতলা পায়খানা: সেই খাবার বন্ধ করুন, আর আবার দেওয়ার আগে ডাক্তার দেখান।
  • গলায় খাবার আটকে শিশু শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে না পারলে (জানা থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন), অথবা খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট হলে, মুখ, ঠোঁট বা জিভ ফুলে গেলে, বা শরীর নেতিয়ে পড়লে বা খুব ফ্যাকাশে হয়ে গেলে সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

একবেলার এলোমেলো খাওয়া দেখে নয়, এক সপ্তাহ ধরে দেখলেই সলিড খাবার কেমন চলছে বোঝা যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

৪ মাসে কি বাচ্চাকে সলিড খাবার দেওয়া যায়?

বেশিরভাগ শিশু মোটামুটি ৬ মাসে তৈরি হয়, আর তার আগ পর্যন্ত বুকের দুধ বা ফর্মুলাই যথেষ্ট। ডাক্তার আপনার শিশুর জন্য আলাদা করে না বললে আগে শুরু করবেন না। তিনটি লক্ষণের অপেক্ষা করুন: সামান্য সাপোর্টে বসা আর মাথা সোজা রাখা, খাবার মুখে নেওয়া, আর জিভ দিয়ে ঠেলে বের না করে গিলে ফেলা।

৬ মাসের বাচ্চা দিনে কী খাবে?

শুরুতে দিনে একবার একটা ঘন, চটকানো খাবারের কয়েক চামচ, যেমন ডাল দিয়ে নরম ভাত, মিষ্টিকুমড়া বা কলা, সঙ্গে আগের মতো বুকের দুধ বা ফর্মুলা। পরের কয়েক সপ্তাহে দিনে দুইবার অল্প খাবারে আনুন, আর একবারে একটা করে নতুন খাবার যোগ করুন, ভালো করে সেদ্ধ ডিম আর কাঁটা বাছা মাছসহ।

বাচ্চাকে ভাত খাওয়ানো শুরু কখন?

মোটামুটি ৬ মাস থেকে। ভাত নরম করে রেঁধে ডাল দিয়ে চটকে নিন, পাতলা নয়, ঘন করে। শুরুতে মসৃণ, তারপর মোটামুটি ৭–৮ মাস থেকে ছোট ছোট নরম দানা রেখে দিন। লবণ আর ঝাল দেওয়ার আগেই পরিবারের হাঁড়ি থেকে শিশুর ভাগটা তুলে রাখুন।

শিশুকে গরুর দুধ কখন থেকে দেওয়া যায়?

মোটামুটি ৬ মাস থেকে সুজি বা ওটসের মতো খাবারে গরুর দুধ মেশানো যায়, কিন্তু ১২ মাসের আগে এটা মূল পানীয় হবে না। ১২ মাস থেকে খাবার বা নাশতার সঙ্গে সাধারণ গরুর দুধ দেওয়া যায়, আর দুধ ও বৃদ্ধি নিয়ে ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারেন। পরে বাচ্চা দুধ খেতে না চাইলে পড়ুন বাচ্চা দুধ খেতে চায় না।

১ বছরের আগে শিশুকে মধু দেওয়া যায় না কেন?

মধুতে এমন জীবাণু থাকতে পারে, যা ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে খুব অসুস্থ করে দিতে পারে; তাই প্রথম জন্মদিনের আগে একটুও নয়: চেখে দেখতেও নয়, খাবারে মিশিয়েও নয়, নবজাতকের মুখে দোয়া হিসেবেও নয়। অনেক পরিবার দোয়া বা ভালো কথাটুকু রেখে শুধু মধুটা বাদ দেন। প্রথম জন্মদিনের পর অল্প মধুতে সমস্যা নেই।

শিশুকে নিজে হাতে খেতে দেওয়া (বেবি-লেড উইনিং) কি নিরাপদ?

হতে পারে, যদি খাবার এত নরম হয় যে আঙুলে চাপ দিলেই গলে যায়, শিশুর ধরার মতো টুকরো করে কাটা হয়, আর শিশু সবসময় সোজা হয়ে বসে, আপনি পাশে থেকে দেখেন। অনেক পরিবার চামচে খাওয়ানো আর হাতে ধরে খাওয়া দুটোই মিলিয়ে করেন। শক্ত, গোল বা আস্ত খাবার, যেমন বাদাম, আস্ত আঙুর বা কাঁচা গাজর দেবেন না।

বাচ্চা যথেষ্ট খাচ্ছে কি না বুঝব কীভাবে?

নিয়মিত খাবার দিলে বেশিরভাগ শিশু দরকারমতোই খায়: কোনো দিন বেশি, কোনো দিন কম। ঘনঘন ভেজা ডায়াপার, চেকআপে নিয়মিত বৃদ্ধি, আর সজাগ, খেলুড়ে শিশু ভালো লক্ষণ। ওজন বা বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা হলে ডাক্তার দেখে দুধ আর খাবারের ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারেন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কোলের শিশু (০–১২ মাস): আরও গাইড

কোলের শিশু: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।