মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা অন্ধকারে ভয় পায়? ভূতের ভয়, দুঃস্বপ্ন আর সাহস জোগানোর উপায়

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা অন্ধকারে ভয় পায়, এমনটা খুবই সাধারণ: এটা ছোটবেলার সবচেয়ে চেনা ভয়গুলোর একটা, সাধারণত মোটামুটি ২ থেকে ৮ বছর বয়সে, যখন কল্পনা সত্যি-মিথ্যা বোঝার ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। ভয়টাকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু বাড়াবেন না: হালকা ডিম লাইট, একবার শান্তভাবে ঘর দেখে নেওয়া, একই রুটিন, আর ছোট ছোট সাহসী ধাপ। কয়েক সপ্তাহ ধরে ভয়ের কারণে ঘুম বা দৈনন্দিন জীবন আটকে গেলে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যে ২–১০ বছরের বাচ্চা অন্ধকার, দৈত্য, ভূত বা দুঃস্বপ্নের ভয় পায়, তার বাবা-মা
মূল কথা
  • ছোটবেলার বেশির ভাগ ভয় বয়সের সঙ্গে আসে আর যায়; অন্ধকার, দৈত্য আর ভূতের ভয় সবচেয়ে বেশি থাকে স্কুলে যাওয়ার আগের বছরগুলোতে।
  • ভয়টাকে গুরুত্ব দিন, কখনো ঠাট্টা করবেন না, কিন্তু বাড়িয়েও তুলবেন না: একবার শান্তভাবে ঘর দেখে নেওয়া, প্রতি রাতে ভূত খোঁজা নয়।
  • দিনের বেলা আর ঘুমের সময় ছোট ছোট সাহসী ধাপে অভ্যাস করলে, অন্ধকার পুরো এড়িয়ে চলার চেয়ে ভয় প্রায়ই তাড়াতাড়ি কমে।
  • বাচ্চাকে ভয় দেখানো কথা আর গল্প থেকে দূরে রাখুন, ‘না ঘুমালে ভূত আসবে’ ধরনের কথাও।

দিনের বেলা সব ঠিক, কিন্তু বাতি নেভাতেই বাচ্চা আপনাকে আঁকড়ে ধরে: খাটের নিচে কিছু আছে, আলমারির পাশে একটা ছায়া, বারান্দায় একটা শব্দ। বাচ্চা অন্ধকারে ভয় পায়, এই দুশ্চিন্তা বাবা-মায়েদের মুখে খুব বেশি শোনা যায়, আর বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে এটা বড় হওয়ার একটা স্বাভাবিক পর্যায়, যা সময় আর শান্ত সহায়তায় কেটে যায়।

ভয় হলো বেড়ে ওঠা মনের নিরাপদ থাকার অনুশীলন। নিচে পাবেন: রাতে বাচ্চারা কেন ভয় পায়, কোন বয়সে কোন ভয় স্বাভাবিক, ঘুমের সময় কী করবেন, ছোট ছোট সাহসী ধাপ, দুঃস্বপ্ন, আমাদের বাসার ভূত আর জিনের গল্প, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন বাড়তি সাহায্য দরকার।

বাচ্চা রাতে কেন ভয় পায়?

বাচ্চা অন্ধকারে ভয় পায় মূলত কারণ অন্ধকারে চেনা জিনিসগুলো ঢাকা পড়ে, আর ফাঁকা জায়গাটা ভরে দেয় কল্পনা। মোটামুটি ২ বছর থেকে বাচ্চা এমন জিনিস কল্পনা করতে পারে যা নেই, কিন্তু তখনো নিশ্চিত হতে পারে না যে সেগুলো সত্যি নয়। এর সঙ্গে প্রায়ই যোগ হয়:

  • আপনার কাছ থেকে আলাদা হওয়া: ঘুমের সময় মানেই একটু দূরে যাওয়া, আর অন্ধকারে সেটা আরও বড় মনে হয়।
  • ভয়ের কিছু দেখা বা শোনা: একটা ভিডিও, কার্টুনের ভিলেন, খবর, বড় কাজিনের গল্প।
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি, যাতে সব দুশ্চিন্তাই সাধারণত বড় হয়ে যায়।
  • বদল আর চাপ: নতুন ভাই-বোন, নতুন স্কুল, বাসা বদল, অসুখ, বা বাসায় টানাপোড়েন।
  • হঠাৎ অন্ধকার: ঘুমের সময় লোডশেডিং এক সেকেন্ডেই চেনা ঘরটাকে অচেনা করে দিতে পারে।
  • স্বভাব: কিছু বাচ্চা স্বভাবেই একটু বেশি সাবধানী, সবকিছু বেশি গভীরভাবে অনুভব করে।

শিশুরা কোন বয়সে কী ভয় পায়: ২ থেকে ১০ বছর

বয়স অনুযায়ী ছোটবেলার স্বাভাবিক ভয়, আর কী কাজে দেয়
বয়সসাধারণ ভয়যা সাধারণত কাজে দেয়
২–৩ বছরজোরে শব্দ (মেঘ ডাকা, প্রেশার কুকারের সিটি, ব্লেন্ডার), বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হওয়া, অচেনা মানুষ, অন্ধকারের প্রথম ভয়কাছে থাকা, শান্ত গলা, শব্দ হওয়ার আগে জানিয়ে দেওয়া, প্রিয় একটা খেলনা
৩–৬ বছরঅন্ধকার, দৈত্য, ভূত, মুখোশ আর সাজপোশাক, কুকুরের মতো প্রাণী, ঘরে একা থাকাহালকা ডিম লাইট, একবার ঘর দেখে নেওয়া, সহজ কথায় সত্যিটা বলা, এমন খেলা যেখানে নিয়ন্ত্রণ ওর হাতে
৭–১০ বছরবন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে শোনা ভূত আর জিনের গল্প, চোর-ডাকাত, ব্যথা পাওয়া বা অসুখ, বাবা-মা মারা যাওয়া, ঝড়, স্ক্রিনে দেখা কিছু, স্কুলমন দিয়ে শোনা, সৎ উত্তর, একটা পরিকল্পনা (‘এমন হলে আমরা কী করব’), ভয়ের ভিডিও আর গল্প কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম

৪ বছরে দৈত্যের ভয় আর ৯ বছরে চোর-ডাকাতের ভয়, দুটোই বয়সের সঙ্গে মানানসই: বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভয়গুলোর বেশির ভাগ কমে যায়। ভয় যখন খুব তীব্র, মাসের পর মাস থাকে, বা বাচ্চার স্বাভাবিক কাজকর্ম আটকে দেয়, তখন বাড়তি মনোযোগ দরকার; অন্ধকারের বাইরেও দুশ্চিন্তা থাকলে দেখুন শিশুর দুশ্চিন্তা।

বাচ্চা অন্ধকারে ভয় পায়? ঘুমের সময় যা করবেন

অন্ধকারে ঘুমাতে ভয় পায় এমন বেশির ভাগ বাচ্চাকে নিরাপদ বোধ করিয়ে ঘুম পাড়াতে এই ধাপগুলো কাজে দেয়:

  1. শান্ত থাকুন, কাছে থাকুন। কোনো যুক্তির চেয়ে আপনার শান্ত গলাই বাচ্চাকে বেশি পরিষ্কার করে বোঝায় যে ঘরটা নিরাপদ।
  2. ভয়টাকে গুরুত্ব দিন: ‘তোমার অন্ধকারে ভয় লাগছে। খুব খারাপ লাগছে, না?’ কখনো হাসবেন না, ‘ভীতু’ও বলবেন না।
  3. একবার, একসঙ্গে, বাতি জ্বালিয়ে ঘরটা দেখে নিন, তারপর বলুন সব ঠিক আছে। প্রতি রাতে ভূত খোঁজা এড়িয়ে চলুন; এতে ভূতটাকে সত্যি মনে হতে পারে।
  4. একটা হালকা, হলদেটে ডিম লাইট জ্বালিয়ে রাখুন, বা দরজা একটু খোলা রেখে পাশের ঘরের বাতি জ্বালিয়ে রাখুন। চড়া সাদা বা নীল আলো এড়িয়ে চলুন।
  5. হাতে ধরার মতো কিছু দিন: প্রিয় একটা খেলনা, বা ছোট, নিরাপদ একটা টর্চ, যা ও নিজেই জ্বালাতে পারে।
  6. প্রতি রাতে একই ছোট কথায় বিদায় নিন, তারপর ফিরে এসে দেখুন: ‘৫ মিনিট পর এসে একবার উঁকি দিয়ে যাব।’ কথা রাখুন, আর ধীরে ধীরে সময়টা বাড়ান।
  7. রাতে আপনার বিছানায় চলে এলে কম কথায়, শান্তভাবে ওর বিছানায় ফিরিয়ে দিন, যতবার লাগে। এক ঘরে ঘুমালে কাছে থাকুন, আর রুটিন একই রাখুন।

যা বলতে পারেন

  • ভয় নেই, তুমি নিরাপদ। আমি পাশেই আছি, একটু পরেই এসে দেখে যাব।
  • অনেক বাচ্চাই অন্ধকারে ভয় পায়। এটা একটা অনুভূতি, আর অনুভূতি কেটে যায়।
  • চলো, বাতি জ্বালিয়ে একসঙ্গে দেখি। দেখো, ওটা তোমার স্কুলব্যাগ আর তোমার চেয়ার।
  • গল্পের ভূত বানানো হয় গল্পটা জমিয়ে তুলতে। আমাদের বাসায় তুমি নিরাপদ।
  • তোমার টর্চ এখানেই আছে। যখন খুশি জ্বালাতে পারো।
  • আজ রাতে তুমি অনেক সাহস দেখিয়েছ। ডিম লাইট জ্বালিয়ে নিজের বিছানাতেই ছিলে।

লড়াইটা যদি ভয়ের চেয়ে ঘুমাতে না চাওয়া নিয়ে বেশি হয়, দেখুন বাচ্চা রাতে ঘুমাতে চায় না।

ভীতু শিশুকে সাহসী করার উপায়: ছোট ছোট সাহসী ধাপ

অন্ধকার এড়িয়ে গেলে আজ রাতে স্বস্তি মেলে, কিন্তু ভয়টা সাধারণত থেকে যায় বা বাড়ে, কারণ বাচ্চা কখনো জানতে পারে না যে সে সামলাতে পারে। ছোট ছোট পরিকল্পিত ধাপে মুখোমুখি হলে (একে ‘সাহসের সিঁড়ি’ বলা যায়) ভয় সাধারণত কমে আসে। পরের ধাপটা বাচ্চাকেই বেছে নিতে দিন, আর শুধু ফল নয়, চেষ্টার প্রশংসা করুন। অনুভূতির নাম দিতে শেখাও কাজে দেয়; দেখুন শিশুর আবেগ সামলাতে সাহায্য করার উপায়।

  1. দিনের বেলা অন্ধকার নিয়ে খেলুন: টর্চ নিয়ে লুকোচুরি, দেয়ালে হাতের ছায়ায় পশুপাখি, আবছা ঘরে খেলনা খুঁজে বের করার খেলা।
  2. ঘুমের সময় বাতি কমিয়ে বিছানার পাশে বসে থাকুন, ঘুমিয়ে পড়া পর্যন্ত।
  3. কয়েক রাত ধরে চেয়ারটা ধীরে ধীরে ঘরের মাঝখানে, তারপর দরজার কাছে সরিয়ে নিন।
  4. ঘর থেকে বেরিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর এসে দেখে যান: প্রথমে ২ মিনিট পরপর, তারপর ৫ মিনিট পরপর।
  5. ডিম লাইট জ্বালিয়ে রেখে বড় বাতিটা বাচ্চাকেই নিভাতে দিন।
  6. প্রতিটা ধাপের পর সকালে উদ্‌যাপন করুন: একটা স্টিকার, জড়িয়ে ধরা, বা দাদুকে পুরো গল্পটা বলা।

বাচ্চা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে: ভয় পেয়ে জেগে উঠলে কী করবেন

দুঃস্বপ্ন হলো এমন খারাপ স্বপ্ন, যা দেখে বাচ্চা ভয় পেয়ে জেগে ওঠে, সাধারণত রাতের শেষ দিকে। এটা প্রায়ই শুরু হয় মোটামুটি ৩ থেকে ৬ বছর বয়সে, আর স্কুলের বছরগুলোতেও বেশির ভাগ বাচ্চা মাঝেমধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে। নাইট টেররের সঙ্গে পার্থক্য হলো, দুঃস্বপ্নের পর বাচ্চা জেগে থাকে, আপনাকে চায়, আর প্রায়ই কী দেখেছে বলতে পারে; বাচ্চা চিৎকার করছে অথচ জেগে আছে বলে মনে হচ্ছে না, এমন হলে দেখুন বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে।

  • তাড়াতাড়ি কাছে যান, আদর করে ভরসা দিন: ‘এটা স্বপ্ন ছিল। এখন তুমি জেগে আছো, তুমি নিরাপদ।’
  • রাতে কথা ছোট রাখুন: এক চুমুক পানি, একটু জড়িয়ে ধরা, ডিম লাইট জ্বালানো।
  • বাচ্চা চাইলে দিনের বেলা এ নিয়ে কথা বলুন। কিছু বাচ্চা স্বপ্নটা এঁকে তার একটা নতুন, মজার শেষ বানাতে পছন্দ করে।
  • আগের দিনগুলোর দিকে তাকান: ভয়ের ভিডিও, রাত জাগা, চাপ, বা বাসায় কোনো বদল প্রায়ই পরপর দুঃস্বপ্নের পেছনে থাকে।
  • ঘুম ঠিক রাখুন: অতিরিক্ত ক্লান্ত বাচ্চা সাধারণত বেশি খারাপ স্বপ্ন দেখে, আর একটা শান্ত ঘুমের রুটিন অনেক বাচ্চাকে গভীরভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে।

আমাদের বাসায়: ভূত আর জিনের গল্প, ভয় দেখিয়ে কথা শোনানো আর লোডশেডিং

আমাদের বাসায় বাচ্চা অন্ধকারে ভয় পায় প্রায়ই নিজস্ব কিছু গল্পের কারণে। অনেক বাংলাদেশি বাচ্চা বড় হয় কাজিন আর দাদা-দাদির কাছে ভূতের গল্প শুনে, আর অনেক পরিবারের কাছে জিনে বিশ্বাস তাঁদের ধর্মবিশ্বাসেরই অংশ। ভয় পাওয়া বাচ্চাকে সাহায্য করতে বিশ্বাস নিয়ে তর্কের দরকার নেই। পরিবারের বিশ্বাস যা-ই হোক, ভয় পাওয়া বাচ্চার দরকার একই জিনিস: একজন শান্ত বড় মানুষ, একটা নিরাপদ ঘর, আর ভয় দেখানো কথা থেকে মুক্তি।

  • ভয় দেখিয়ে কথা শোনানো: ‘ভূতে ধরবে’, ‘জিনে নিয়ে যাবে’, ‘ছেলেধরা আসবে’ বা ‘পুলিশে ধরবে’ বললে আজ রাতে হয়তো বাচ্চা কথা শোনে বা ঘুমায়, কিন্তু রেখে যায় এমন ভয়, যা বছরের পর বছর থাকতে পারে। ভয় ছাড়াই শান্ত, স্পষ্ট নিয়মে সেই কাজ হয়।
  • আত্মীয়দের গল্প: দাদা-দাদি বা কাজিনরা সাধারণত ভালোবেসেই এসব গল্প বলেন, যেভাবে তাঁরা নিজেরা ছোটবেলায় শুনেছিলেন। নরমভাবে অনুরোধ করুন, ভয়ের গল্প যেন দিনের বেলা আর বড় বাচ্চাদের জন্য থাকে, আর কখনো ভয় দেখানোর জন্য না হয়।
  • ঘুমের আগে বিশ্বাস: আপনার পরিবারে ঘুমের আগে দোয়া পড়ার অভ্যাস থাকলে, অনেক বাচ্চার কাছে তা শান্ত, ভরসার একটা মুহূর্ত। বিশ্বাসের প্রশ্নে প্রতিটি পরিবার নিজেদের আলেমদের পরামর্শ মেনে চলে; এই লেখা অনুভূতি আর ঘুম নিয়ে।
  • লোডশেডিং: ঘুমের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে হঠাৎ ঘুটঘুটে অন্ধকার নামতে পারে। বিছানার পাশে মোমবাতি নয়, চার্জ দেওয়া একটা লাইট বা টর্চ রাখুন, বাচ্চাকে দেখিয়ে দিন কোথায় আছে, আর দিনের বেলা ‘কারেন্ট চলে গেছে’ খেলাটা খেলে অভ্যাস করুন।
  • এক বিছানায়, এক ঘরে: অনেক বাচ্চা বাবা-মা, দাদা-দাদি বা ভাই-বোনের পাশে ঘুমায়, এতে সমস্যা নেই। একই ধাপগুলো তখনো কাজে দেয়: হালকা আলো, একই রুটিন, শান্ত কথা। বাচ্চাকে আলাদা বিছানায় নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ধীরে ধীরে করুন, আর ভয়ের পর্যায় চলার সময় নয়।
  • ঠাট্টা আর তুলনা: ‘এত বড় ছেলে, ভয় পাও?’ বা ‘তোমার কাজিন তো ভয় পায় না’: এতে বাচ্চা সাধারণত ভয়টা লুকাতে শেখে, কাটাতে নয়।

সাহসী রাতের ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। লিখে রাখুন বাচ্চা কী ভয় পায়, কখন শুরু হয়, কী করলে কমে, ঘুমাতে কতক্ষণ লাগে, আর সেদিন ভয়ের কোনো ভিডিও বা গল্প ছিল কি না। এখনই কিছু বদলাবেন না।
  2. দিন ২: সন্ধ্যাটা পরিষ্কার রাখুন: ঘুমের আগের শেষ দু-এক ঘণ্টায় ভয়ের কিছু নয়, আর যিনি ভূতের গল্প বলেন তাঁর সঙ্গে নরমভাবে একটু কথা।
  3. দিন ৩: একসঙ্গে ঘর সাজান: ডিম লাইট, প্রিয় খেলনা, টর্চ, আর একবার শান্তভাবে ঘর দেখে নেওয়া।
  4. দিন ৪: দিনের বেলা অন্ধকারের একটা খেলা খেলুন, যেমন টর্চ নিয়ে লুকোচুরি বা হাতের ছায়ায় পশুপাখি।
  5. দিন ৫: একসঙ্গে সাহসের সিঁড়ির প্রথম ধাপটা বেছে নিন, আর ঘুমের সময় শুরু করুন।
  6. দিন ৬: একই রুটিন আর একই কথা রাখুন। পরদিন সকালে প্রতিটা সাহসী চেষ্টার প্রশংসা করুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: ঘুমাতে কতক্ষণ লাগল, কতবার ডাকল, বাচ্চার নিজের বেছে নেওয়া মাপে ভয়টা কতটা। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের ধাপটা বেছে নিন।

বাচ্চার ভয় নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন?

এমন হলে সাহায্য নিন

  • নিয়মিত রুটিনের পরও কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতি রাতে ভয়ের কারণে বাচ্চা ঘুমাতে পারছে না।
  • ভয় দিনেও ছড়িয়ে পড়ছে: বাচ্চা কোনো ঘরেই একা থাকতে চায় না, স্কুল বা বন্ধুদের এড়িয়ে চলে, বা বুক ধড়ফড়, কাঁপুনি বা শ্বাসকষ্টসহ আতঙ্কে ভোগে।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতি রাতে দুঃস্বপ্ন, বা সত্যিই ঘটে যাওয়া কোনো ভয়ের ঘটনা বারবার স্বপ্নে ফিরে আসছে।
  • হঠাৎ নতুন, তীব্র কোনো ভয় শুরু হয়েছে, কোনো ভয়ের ঘটনার পর, বা কোনো একজন মানুষ বা জায়গাকে ঘিরে: মুখে কথা তুলে না দিয়ে নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, ওকে সেই মানুষটার কাছ থেকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন; এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। কেউ ওকে আঘাত করেছে বা ওর সঙ্গে খারাপ কিছু করেছে বলে বাচ্চা জানালে স্থানীয় থানায় জানান।
  • বাচ্চা জেগে আছে, কিন্তু বিভ্রান্ত মনে হয়, বা এমন কিছু দেখছে বা শুনছে যা আসলে নেই: এর সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি থাকলে, বা পড়ে গিয়ে বা মাথায় আঘাত পাওয়ার পর এমন হলে এখনই ৯৯৯-এ ফোন করুন। এগুলো না থাকলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • ভয়ের কারণে পরিবারের স্বাভাবিক জীবন আটকে যাচ্ছে, বা কয়েক সপ্তাহের ভাঙা ঘুমে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন; ডাক্তার বা কাউন্সেলর দুজনকেই সাহায্য করতে পারেন।

সময়, নিয়মিত রুটিন আর ধৈর্য ধরে নেওয়া ছোট ধাপে, যে বাচ্চা অন্ধকারে ভয় পায় সে সাধারণত ধীরে ধীরে সাহসী হয়ে ওঠে। ParentMind আপনাকে প্রতি রাতে কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কঠিন রাতের আগে কী ঘটেছিল আর কী কাজে দিল, যাতে ধরনগুলো সহজে চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়সে বাচ্চারা অন্ধকারে ভয় পায়?

অন্ধকারের ভয় সাধারণত দেখা দেয় মোটামুটি ২ বা ৩ বছর বয়স থেকে, যখন কল্পনাশক্তি বাড়ে, আর সবচেয়ে বেশি থাকে স্কুলে যাওয়ার আগের বছরগুলোতে। অনেক বাচ্চা মোটামুটি ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এটা কাটিয়ে ওঠে, যদিও কিছু বড় বাচ্চা, এমনকি অনেক বড় মানুষও, একটু আলো পছন্দ করেন। খুব তীব্র না হলে বা স্বাভাবিক জীবন আটকে না দিলে এটা বেড়ে ওঠারই স্বাভাবিক অংশ।

বাচ্চার জন্য কি রাতে ডিম লাইট জ্বালিয়ে রাখা উচিত?

হ্যাঁ, যদি তাতে বাচ্চা নিরাপদ বোধ করে। নিচু জায়গায় রাখা ছোট, হালকা, উষ্ণ রঙের একটা আলোই সাধারণত যথেষ্ট, আর এতে ঘুমের খুব কমই সমস্যা হয়। চড়া সাদা বা নীল আলো এড়িয়ে চলুন, আর শোয়ার ঘরে স্ক্রিন রাখবেন না। পরে অনেক বাচ্চা নিজেই একটা রাত বেছে নেয় আলো ছাড়া ঘুমানোর চেষ্টার জন্য, আর সেটা হতে পারে গর্বের একটা সাহসী ধাপ।

বাচ্চা ভূতের ভয় পায়, ওকে কী বলব?

আগে মন দিয়ে শুনুন, তারপর সহজ আর শান্তভাবে উত্তর দিন: ‘গল্পের ভূত বানানো হয় গল্পটা জমিয়ে তুলতে। এখানে তুমি নিরাপদ, আর আমি কাছেই আছি।’ ঠাট্টা করবেন না, আর এমন খুঁটিনাটি যোগ করবেন না যাতে ভূতটা আরও জীবন্ত মনে হয়। ঘুমের আশপাশে ভয়ের গল্প আর ভিডিও রাখবেন না, আর আত্মীয়দের অনুরোধ করুন ভূতের ভয় যেন না দেখান।

ঘুম পাড়াতে বা কথা শোনাতে শিশুকে ভয় দেখানো ঠিক কি?

এড়িয়ে চলাই ভালো। ‘ভূত আসবে’ বা ‘পুলিশে ধরবে’ ধরনের হুমকিতে এক রাতের জন্য কাজ হতে পারে, কিন্তু এতে এমন ভয় ঢুকে যেতে পারে যা বছরের পর বছর থাকে, আর বাচ্চা শেখে বড়দের কথা সত্যি নয়। ভয় ছাড়াই শান্ত, স্পষ্ট নিয়মে কাজ হয়: ‘এখন বাতি বন্ধ। ৫ মিনিট পর এসে দেখে যাব।’

ভয় পেলে কি বাচ্চাকে নিজের বিছানায় নিয়ে ঘুমাব?

অনেক বাংলাদেশি পরিবারে এক বিছানায় বা এক ঘরে ঘুমানোই স্বাভাবিক, এতে সমস্যা নেই। বাচ্চা সাধারণত একা ঘুমালে কোনো কঠিন রাতে কাছে নেওয়া মমতারই কাজ; কিন্তু সেটা প্রতি রাতের অভ্যাস হয়ে গেলে ভয় বাড়তে পারে, কারণ বাচ্চা কখনো জানতে পারে না যে নিজের বিছানাও নিরাপদ। আদর করে শান্ত করুন, শান্তভাবে ওর বিছানায় ফিরিয়ে দিন, আর ছোট ছোট সাহসী ধাপে এগোন।

বাচ্চা অল্পতেই ভয় পায়, হঠাৎ সবকিছুতে এত ভয় কেন?

হঠাৎ ভয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রায়ই থাকে কোনো বদল বা চাপ: নতুন স্কুল, নতুন ভাই-বোন, অসুখ, ভয়ের কোনো ভিডিও, বাসায় টানাপোড়েন বা ভয়ের কোনো ঘটনা। নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন ওর মনে কী চলছে, আর রুটিন স্থির রাখুন। ভয়টা যদি কোনো একজন মানুষ বা জায়গাকে ঘিরে, বা কিছু একটা ঘটার পর শুরু হয়, বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।