মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে? নাইট টেরর কী, কী করবেন

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে, হাত-পা ছোড়ে বা উঠে বসে, অথচ জাগে না, পরদিন কিছু মনেও থাকে না: এটাই নাইট টেরর, সাধারণত রাতের প্রথম দিকে হয়। মোটামুটি ২ থেকে ৬ বছর বয়সে এটা বেশ সাধারণ, আর সাধারণত ক্ষতিকর নয়। পাশে থাকুন, বাচ্চাকে নিরাপদ রাখুন, জাগানোর চেষ্টা করবেন না; ঘনঘন হলে, বা তালে তালে ঝাঁকুনি, আঘাত বা জোরে নাক ডাকা থাকলে ডাক্তার দেখান।

ParentMind টিমের লেখা৯ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১২ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে বা হাত-পা ছোড়ে, এমন ১–৬ বছরের বাচ্চার বাবা-মা
মূল কথা
  • নাইট টেরর হলো গভীর ঘুম থেকে আধো জেগে ওঠা: বাচ্চাকে ভীষণ ভীত দেখায়, কিন্তু সে ঘুমিয়েই থাকে, কষ্ট পায় না, আর পরে মনেও রাখে না।
  • তখন পাশে থাকুন আর বাচ্চাকে নিরাপদ রাখুন। জাগাবেন না, ঝাঁকাবেন না, চেপে ধরবেন না; নিজে থেকে থামতে দিন।
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি আর অনিয়মিত ঘুমের সময় খুব চেনা কারণ, তাই পর্যাপ্ত ঘুম আর নিয়মিত রুটিনে প্রায়ই এটা কমে আসে।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘনঘন হলে, আঘাত পেলে, জোরে নাক ডাকলে বা শ্বাস থেমে থেমে গেলে, অথবা শরীর শক্ত হয়ে তালে তালে ঝাঁকুনি হলে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চা ঘুমিয়েছে এক-দুই ঘণ্টা হলো। হঠাৎ চিৎকার: উঠে বসেছে, চোখ বড় বড় করে খোলা, হাত-পা ছুড়ছে, ঘামছে, অথচ আপনাকে চিনতেই পারছে না। বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে, এমন হলে সেটা সম্ভবত নাইট টেরর, আর ছোট বাচ্চাদের মধ্যে এটা অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়।

দেখতে ভয়ের হলেও বেশিরভাগ বাচ্চা তখন কষ্ট পায় না, আবার ঘুমিয়ে পড়ে, আর পরে কিছুই মনে রাখে না। নিচে পাবেন: নাইট টেরর আসলে কী, দুঃস্বপ্ন থেকে কীভাবে আলাদা করবেন, সেই মুহূর্তে কী করবেন, কীভাবে কমানো যায়, ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা, আর কোন লক্ষণে ডাক্তার দেখাবেন।

বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে কেন? নাইট টেরর আসলে কী?

নাইট টেরর (স্লিপ টেরর নামেও পরিচিত) হলো গভীর ঘুম থেকে আধো জেগে ওঠা। মস্তিষ্কের একটা অংশ এতটুকু জাগে যে বাচ্চা চিৎকার করতে, উঠে বসতে বা লাথি ছুড়তে পারে, কিন্তু বাকিটা গভীর ঘুমেই থাকে। বাচ্চা তখন জেগে নেই, আপনাকে টের পাচ্ছে না, আর সাধারণ অর্থে দুঃস্বপ্নও দেখছে না।

  • হঠাৎ চিৎকার, কান্না বা চেঁচামেচি, প্রায়ই ঘুমিয়ে পড়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।
  • চোখ খোলা, কিন্তু ঘোলা দৃষ্টি, যেন আপনাকে ভেদ করে তাকিয়ে আছে।
  • ঘাম, দ্রুত শ্বাস, আর বুক ধড়ফড়।
  • হাত-পা ছোড়া, উঠে বসা, বা বিছানা থেকে নেমে দৌড়ানো।
  • আদরে সাড়া না দেওয়া, বা আপনাকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়া।
  • তারপর আবার গভীর ঘুম, আর সকালে কিছুই মনে না থাকা।

কোন বয়সে নাইট টেরর হয়, আর কতক্ষণ থাকে?

নাইট টেরর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্কুলে যাওয়ার আগের বয়সে, মোটামুটি ২ থেকে ৬ বছরে, যদিও আরও ছোট বয়সে শুরু হতে পারে, বা স্কুলের বয়স পর্যন্ত চলতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক মিনিট থাকে, কখনো একটু বেশি। অনেক সময় পরিবারের অন্য কারও ছোটবেলায়ও এমন হতো, আর বড় হওয়ার সাথে সাথে বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে অনেক কমে যায়।

দুঃস্বপ্ন আর নাইট টেরর: পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে

নাইট টেরর আর দুঃস্বপ্ন প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়, কিন্তু দুটো হয় ঘুমের ভিন্ন পর্যায়ে, আর সামলাতেও হয় ভিন্নভাবে। সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা: দুঃস্বপ্নের পর বাচ্চা জেগে থাকে, আপনাকে চায়, আর কী দেখেছে বলতে পারে।

নাইট টেরর, নাকি দুঃস্বপ্ন?
কী দেখছেননাইট টেররদুঃস্বপ্ন
কখনরাতের প্রথম দিকে, ঘুমের প্রথম কয়েক ঘণ্টায়রাতের শেষ দিকে, প্রায়ই ভোরের দিকে
জেগে আছে?না, তখনো গভীর ঘুমেহ্যাঁ, পুরো জেগে, ভয় পেয়ে
আদর করলেসাড়া দেয় না, ঠেলে সরিয়ে দিতে পারেজড়িয়ে ধরতে চায়, আপনার কাছে শান্ত হয়
পরদিন সকালেকিছুই মনে নেইপ্রায়ই স্বপ্নটা মনে থাকে
কী করবেনপাশে থাকুন, নিরাপদ রাখুন, জাগাবেন নাআদর, ভরসা, একটা ডিম লাইট, দিনে কথা বলা

অনেক ছোট বাচ্চা ঘুমের এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটু কেঁদে ওঠে বা গুঙিয়ে ওঠে, আর এক মিনিটের মধ্যেই আবার শান্ত হয়ে যায়। বাচ্চা ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠে মানেই নাইট টেরর নয়; এটা সাধারণ রাতের জেগে ওঠা।

বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে কী করবেন

  1. শান্ত থাকুন। দেখতে ভয়ের, কিন্তু বাচ্চা কষ্ট পাচ্ছে না, আর পরে মনেও রাখবে না।
  2. নিরাপদ রাখুন: বাচ্চা আর বিছানার কিনারার মাঝখানে থাকুন, শক্ত বা ধারালো জিনিস সরিয়ে দিন।
  3. জাগানোর চেষ্টা করবেন না। জাগানো কঠিন, আর এতে প্রায়ই সময়টা আরও লম্বা হয়, বা বাচ্চা আরও দিশেহারা হয়ে পড়ে।
  4. ঝাঁকাবেন না, চেঁচাবেন না, চেপে ধরবেন না; এতে বাচ্চা সাধারণত আরও জোরে ছটফট করে। উঠে পড়লে আলতো করে বিছানায় ফিরিয়ে আনুন।
  5. খুব কম কথা বলুন, নিচু গলায়, বা একদম চুপ থাকুন।
  6. থেমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বেশিরভাগ সময় কয়েক মিনিটেই থেমে যায়, আর বাচ্চা আবার গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়।
  7. সকালে বাচ্চাকে জেরা করবেন না, বা এমন কিছু বলবেন না যাতে মনে হয় সে কোনো দোষ করেছে।

যা বলতে পারেন

  • শশশ... ভয় নেই, আমি এখানেই আছি।
  • চলো, আবার শুয়ে পড়ি।
  • (আত্মীয়কে) প্লিজ ওকে জাগাবেন না। সাধারণত কয়েক মিনিটেই থেমে যায়।
  • (ভাই-বোনকে) তোমার ভাই তখনো ঘুমিয়েই ছিল। ওর কিছু হয়নি, আর ওর মনেও থাকবে না।
  • (সকালে বাচ্চা জানতে চাইলে) রাতে ঘুমের মধ্যে একটু ছটফট করছিলে। আমি পুরো সময় পাশেই ছিলাম।

নাইট টেরর কেন হয়, আর কীভাবে কমানো যায়?

নাইট টেররের পেছনে সাধারণত খুব চেনা কিছু কারণ থাকে, আর বেশিরভাগই ঘুমের সাথে জড়িত। একে পুরোপুরি বন্ধ করার উপায় নেই, কিন্তু এগুলোর দিকে নজর দিলে অনেক পরিবারে এটা কমে আসে:

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি, সবচেয়ে চেনা কারণগুলোর একটা। ১–২ বছরের বাচ্চার ২৪ ঘণ্টায় ১১–১৪ ঘণ্টা আর ৩–৫ বছরের বাচ্চার ১০–১৩ ঘণ্টা ঘুম দরকার, দিনের ঘুমসহ; দেখুন বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুম।
  • অনিয়মিত ঘুমের সময় আর রাত জাগা। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো আর ওঠা গভীর ঘুম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • দিনের ঘুম বাদ পড়া। দুপুরের ঘুম ছাড়ার সময়টায় কিছুদিন রাতে একটু আগে ঘুম পাড়ালে প্রায়ই উপকার হয়।
  • অসুখ, জ্বর, নতুন জায়গা, বা ব্যস্ত বা চাপের সময়, যেমন নতুন ভাই-বোন আসা বা স্কুল শুরু।
  • প্রস্রাব চেপে রাখা: ঘুমানোর ঠিক আগে একবার বাথরুম।
  • জোরে নাক ডাকা, যা গভীর ঘুম ভেঙে দিতে পারে; ডাক্তারকে জানানো ভালো।

আমাদের বাসায় নাইট টেরর: এক বিছানায় ঘুম, রাত জাগা আর বড়দের দুশ্চিন্তা

বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে, চোখ খোলা অথচ কিছু দেখছে না: এমন হলে পুরো বাসা আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে। বাসার সবাই ব্যাপারটা বুঝলে সামলানো সহজ হয়, কারণ ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়া নিয়ে অনেক পরিবারে কেউ না কেউ একটা ব্যাখ্যা দিয়েই ফেলেন।

  • “কিছু একটা ভয় দেখিয়েছে”: বড়রা অনেক সময় ভাবেন বাচ্চা অদৃশ্য কিছুতে ভয় পেয়েছে, বা ‘বাতাস লেগেছে’। এই দুশ্চিন্তা বোঝা যায়, কারণ নাইট টেরর দেখতে সত্যিই ভয়ের। কিন্তু এটা ছোট বাচ্চাদের ঘুমেরই একটা পরিচিত ধরন, খুব সাধারণ আর সাধারণত ক্ষতিকর নয়। আপনার পরিবারে ঘুমের আগে দোয়া পড়ার অভ্যাস থাকলে তা চলুক, শান্ত আর ভরসার একটা মুহূর্ত হিসেবে।
  • ঝাঁকিয়ে জাগানো: আত্মীয়রা অনেক সময় বাচ্চাকে ঝাঁকান, মুখে পানি ছিটান, বা কোলে নিয়ে ঘুরে জাগানোর চেষ্টা করেন। আলতো করে বুঝিয়ে বলুন, জাগালে সাধারণত সময়টা আরও লম্বা হয়, আর বাসার সবাই একইভাবে শান্ত থাকার ব্যাপারে একমত হোন।
  • এক বিছানায়, এক ঘরে: বিছানার কিনারা ফাঁকা রাখুন, পাশের ভাই-বোনকে দুই-এক কথায় শান্ত করুন, আর নাইট টেররের সময় বাচ্চা উঠে হাঁটলে রাতে মূল দরজা আর বারান্দার দরজা তালা দিয়ে রাখুন।
  • বিয়ে, মেহমান আর ঈদের রাত: মাঝেমধ্যে একটু রাত জাগলে সমস্যা নেই, কিন্তু পরপর কয়েক রাত জাগলে বাচ্চা অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দেরির রাতের পরের রাতে আগে ঘুম পাড়ান।
  • গ্রামের বাড়ি বা নানা-দাদার বাসায় বেড়ানো: নতুন বিছানা, নতুন ঘরে নাইট টেরর বাড়তে পারে, তাই ঘুমের আগের ধাপগুলো একই রাখুন।

নাইট টেরর কমাতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। ঘুমানোর সময়, ওঠার সময়, দিনের ঘুম, আর এমন কিছু হলে কখন আর কতক্ষণ, লিখে রাখুন। এখনই কিছু বদলাবেন না।
  2. দিন ২: বাচ্চার মোট ঘুম তার বয়সের ঘুমের সাথে মিলিয়ে দেখুন। কম হলে ঘুমের সময় ১৫ মিনিট এগিয়ে আনুন।
  3. দিন ৩: ছুটির দিনসহ প্রতিদিনের জন্য একটা ঘুমানোর আর একটা ওঠার সময় ঠিক করুন।
  4. দিন ৪: ঘর নিরাপদ করুন: মেঝে ফাঁকা, বিছানার কাছে ধারালো কিছু নয়, মূল দরজা আর বারান্দার দরজায় তালা, বিছানা জানালা থেকে দূরে।
  5. দিন ৫: বাসার সবার সাথে পরিকল্পনাটা ঠিক করে নিন: জাগানো নয়, ঝাঁকানো নয়, পাশে থাকা, নিরাপদ রাখা।
  6. দিন ৬: ঘুমের আগের এক ঘণ্টা শান্ত আর স্ক্রিন ছাড়া রাখুন, আর ঘুমানোর ঠিক আগে একবার বাথরুম।
  7. দিন ৭: ফিরে দেখুন: কতবার হলো, কখন হলো, আর কেমন দিনের পরে? যা কাজে লেগেছে, তা রাখুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

বেশিরভাগ নাইট টেরর সময়ের সাথে আর নিয়মিত ঘুমে কমে আসে। বাচ্চার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, যদি:

কখন সাহায্য নেবেন

  • কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সপ্তাহে কয়েকবার হয়, বা প্রায়ই এক রাতে একাধিকবার।
  • কোনোবার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে চলে, যেমন আধা ঘণ্টার বেশি, অথবা বাচ্চা আঘাত পায় বা বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে চায়।
  • বাচ্চা প্রায় প্রতি রাতে জোরে নাক ডাকে, বা শ্বাস থেমে থেমে যায়, হাঁপায়, দম আটকানোর মতো শব্দ হয়।
  • তখন শরীর শক্ত হয়ে যায়, তালে তালে ঝাঁকুনি হয়, মুখ দিয়ে লালা পড়ে বা প্রস্রাব হয়ে যায়, অথবা প্রতিবার হুবহু একই রকম দেখায়।
  • দিনের বেলায় বাচ্চা খুব ঘুমকাতুরে থাকে বা কষ্ট পায়, অথবা এর সাথে দিনের ভয় বা অনেক চাপ থাকে; দিনের দুশ্চিন্তা নিয়ে দেখুন শিশুর দুশ্চিন্তা।
  • বাচ্চার প্রথমবার খিঁচুনি হচ্ছে বলে মনে হলে, খিঁচুনি না থামলে, বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা শরীর নীল হয়ে গেলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

প্রতিবার কখন হলো আর তার আগের দিনটা কেমন ছিল, লিখে রাখলে প্রায়ই একটা ধরন চোখে পড়ে, যেমন রাত জাগা বা দুপুরের ঘুম বাদ পড়া। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

নাইট টেরর কি বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর?

সাধারণত না। নাইট টেরর দেখতে ভয়ের, কিন্তু বেশিরভাগ বাচ্চা তখন কষ্ট পায় না, পরে মনে রাখে না, আর বড় হতে হতে কমে যায়। মূল ঝুঁকি হলো তখন আঘাত পাওয়া আর পরিবারের ঘুম নষ্ট হওয়া। ঘর নিরাপদ রাখুন, বাচ্চাকে জাগাবেন না, আর ঘনঘন হলে বা নাক ডাকা, ঝাঁকুনি বা আঘাত থাকলে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চা ঘুমের ঘোরে চিৎকার করে, অথচ জাগে না কেন?

এটাই নাইট টেররের সবচেয়ে চেনা লক্ষণ। মস্তিষ্কের একটা অংশ গভীর ঘুম থেকে জাগে, বাকিটা ঘুমেই থাকে, তাই বাচ্চা জেগে না থেকেও চিৎকার করতে, উঠে বসতে বা হাত-পা ছুড়তে পারে, আপনাকে টেরও পায় না। সাধারণত রাতের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় হয়, আর কয়েক মিনিটেই থেমে যায়।

নাইট টেররের সময় কি বাচ্চাকে জাগানো উচিত?

না। নাইট টেররের সময় বাচ্চাকে জাগানো কঠিন, আর এতে প্রায়ই সময়টা আরও লম্বা হয়, বা বাচ্চা দিশেহারা আর মন খারাপ করে জেগে ওঠে। পাশে থাকুন, নিরাপদ রাখুন, কথা বললে খুব নিচু গলায়, আর থামতে দিন। থেমে গেলে বেশিরভাগ বাচ্চা সোজা আবার গভীর ঘুমে চলে যায়, কিছুই মনে রাখে না।

কত বছর বয়সে নাইট টেরর থামে?

বড় হওয়ার সাথে সাথে বেশিরভাগ বাচ্চার নাইট টেরর কমে আসে, আর অনেকের স্কুলের বয়সেই থেমে যায়, যদিও কারও কারও আরও কিছু বছর মাঝেমধ্যে হতে পারে। সবচেয়ে বেশি হয় মোটামুটি ২ থেকে ৬ বছর বয়সে। এই সময়টায় পর্যাপ্ত ঘুম আর নিয়মিত রুটিন থাকলে প্রায়ই কম হয়।

নাইট টেরর নাকি খিঁচুনি, বুঝব কীভাবে?

দুটো দেখতে কাছাকাছি হতে পারে, তাই খুঁটিনাটি জরুরি। নাইট টেরর সাধারণত ঘুমের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় হয়, চিৎকার আর হাত-পা ছোড়া থাকে, আর প্রতি রাতে একটু আলাদা দেখায়। শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, তালে তালে ঝাঁকুনি, মুখ দিয়ে লালা পড়া, প্রস্রাব হয়ে যাওয়া, বা প্রতিবার হুবহু একই রকম হওয়া: এগুলো দেখলে ডাক্তার দেখান। এমন সময়ের ছোট একটা ভিডিও ফোনে করে রাখলে ডাক্তারের বুঝতে সুবিধা হয়।

নাইট টেরর মানে কি বাচ্চা মানসিক চাপে আছে, বা কোনো সমস্যা হয়েছে?

সাধারণত না। নাইট টেরর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাপার: অতিরিক্ত ক্লান্তি, অনিয়মিত ঘুমের সময় বা অসুখ। নতুন ভাই-বোন আসা বা স্কুল শুরুর মতো চাপের সময়ে এটা বাড়তে পারে। শুধু নাইট টেরর সাধারণত মনের কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়, তবে দিনেও বাচ্চাকে দুশ্চিন্তায় দেখালে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ছোট্ট শিশু (১–৩ বছর): আরও গাইড

ছোট্ট শিশু: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।