বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে: কেন হয়, কীভাবে আবার ঘুম পাড়াবেন
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে, এটা ১ থেকে ৫ বছর বয়সে খুব সাধারণ। ঘুমের এক চক্র থেকে আরেক চক্রে যাওয়ার সময় সব বাচ্চাই একটু জাগে; যে বাচ্চা দুধ খেতে খেতে, দোল খেয়ে বা কোলে ঘুমিয়েছে, সে আবার সেই সাহায্যই চায়। অসুখ, দাঁত ওঠা, ভয় বা নতুন ভাইবোন এলে রাতে জাগা আরও বাড়তে পারে। প্রতিবার একই শান্ত উপায়ে ঘুম পাড়ান; জোরে নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাস থেমে থেমে গেলে ডাক্তার দেখান।
লেখাটি শুনুন
১৭ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- মোটামুটি ১ থেকে ৫ বছরের বাচ্চার বাবা-মা, যাদের সন্তান রাতে জেগে কাঁদে, ডাকে বা বাবা-মায়ের বিছানায় চলে আসে
- মূল কথা
- ঘুমের চক্রের ফাঁকে অল্প জাগা স্বাভাবিক; প্রথমবার যেভাবে ঘুমিয়েছিল সেভাবে আবার ঘুমাতে না পারলে বাচ্চা ডাকে।
- প্রতিবার একই শান্ত, একঘেয়ে উপায়ে ঘুম পাড়ান: কম আলো, অল্প কথা, কোনো স্ক্রিন নয়, প্রতি রাতে একটু কম সাহায্য।
- রাতের দুধ, এক বিছানায় ঘুম বা একটার পর একটা সর্দি-কাশি রাতে জাগা জিইয়ে রাখতে পারে; ঘুমানোর সময় থেকে শুরু করে একবারে একটা জিনিস বদলান।
- জোরে নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাস থেমে যাওয়া, রাতে ব্যথা বা জ্বর, বা নিয়মিত রুটিনের পরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে জাগা চললে ডাক্তার দেখান।
বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে, আর তাতে পুরো বাসা ক্লান্ত হয়ে পড়ে: রাত ১টায় কান্না, আবার ৩টায়, ফজরের আজানের আগেই দরজায় ছোট ছোট পায়ের শব্দ। ছোটবেলায় ভালো ঘুমাত, এখন আবার জাগছে, অথবা কখনোই টানা সারা রাত ঘুমায়নি, যেটাই হোক, আপনি একা নন।
এই বয়সে রাতে জাগার পেছনে সাধারণ কারণই বেশি, আর রাতে প্রতিবার একই রকম শান্তভাবে সাড়া দিলে প্রায়ই তা কমে আসে। নিচে পাবেন: কেন হয়, নতুন অভ্যাস না গড়ে আবার ঘুম পাড়ানো, রাতের দুধ, এক বিছানায় ঘুম, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন ডাক্তার দেখাবেন। সমস্যা যদি হয় বিছানায় নেওয়াটাই, দেখুন বাচ্চা ঘুমাতে যেতে চায় না লেখাটি।
বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে কেন?
সবাই ঘুমায় কয়েকটা চক্রে, আর রাতে কয়েকবার প্রায় জেগে ওঠে; বড়রা পাশ ফিরে আবার ঘুমায়, টেরও পায় না। কিন্তু যে বাচ্চা দুধ খেতে খেতে, দোল খেয়ে, কোলে বা বাবা-মা পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় ঘুমিয়েছে, সে ওই মুহূর্তগুলোতে পুরো জেগে যায় আর আবার সেই সাহায্যই চায়। বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে মূলত এই কারণেই, তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়:
| কারণ | যা চোখে পড়তে পারে | যা প্রায়ই কাজে দেয় |
|---|---|---|
| কীভাবে ঘুমায় | প্রায় একই সময়ে জাগে; শুধু দুধ, দোলা বা আপনি পাশে শুলেই ঘুমায় | ঘুমানোর সময় বিছানায় নিজে নিজে ঘুমাতে দিন; ধীরে ধীরে সাহায্য কমান |
| খিদে বা রাতের দুধ | দুধের জন্য জাগে, খেতে খেতেই ঘুমায়; রাতের খাবার কম বা খুব আগে | পেট ভরা রাতের খাবার; রুটিনে দুধ একটু আগে; ধীরে ধীরে রাতের দুধ কমানো |
| অসুখ, দাঁত বা অস্বস্তি | নাক বন্ধ, কাশি, জ্বর, দাঁতে ব্যথা, চুলকানি; গরম; মশা; ভেজা ডায়াপার | আগে আদর-সান্ত্বনা; ফ্যান, সুতির জামা, মশারি; ব্যথা বা জ্বরে ডাক্তার |
| ভয় আর স্বপ্ন | ভয় পেয়ে জেগে আপনাকে আঁকড়ে ধরে; মোটামুটি ২ বছরের পর স্বপ্নের কথা বলতে পারে | আদর আর ভরসা, হালকা একটা ডিম লাইট, আর ভয়ের কথা দিনের বেলায় |
| বড় কোনো পরিবর্তন | নতুন ভাই বা বোন, নতুন স্কুল, বাসা বদল, বাবা বা মা দূরে, গ্রামের বাড়ি বেড়ানো | দিনের বেলায় বাড়তি আদর; রাতে সাড়া দেওয়ার একই ধরন |
| দিনের ঘুম | লম্বা বা দেরিতে দুপুরের ঘুম, মাগরিবের সময় ঘুম, বা ঘুম বাদ পড়ায় বেশি ক্লান্ত | বিকেল গড়ানোর আগেই দুপুরের ঘুম শেষ; রোজ একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা |
১–২ বছরের বাচ্চার ২৪ ঘণ্টায় ১১–১৪ ঘণ্টা, আর ৩–৫ বছরের বাচ্চার ১০–১৩ ঘণ্টা ঘুম দরকার, দুপুরের ঘুমসহ। দুপুরে লম্বা সময় আর দেরিতে ঘুমালে রাত ৩টার মধ্যেই হয়তো ঘুম পুরো হয়ে যায়; পুরো চার্ট পাবেন বাচ্চার কতটা ঘুম দরকার লেখায়।
ঘুমের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় বাচ্চা চিৎকার করে, হাত-পা ছোড়ে, অথচ জেগে আছে বলে মনে হয় না বা আপনাকে চেনে না? সেটা আলাদা ব্যাপার; দেখুন বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে লেখাটি। দুঃস্বপ্ন আর অন্ধকারের ভয় নিয়ে দেখুন বাচ্চার ভয় আর অন্ধকার।
শিশু রাতে কেঁদে ওঠে? সেই মুহূর্তে কী করবেন
শিশু রাতে কেঁদে উঠলে সবকিছু চুপচাপ আর একঘেয়ে রাখুন, যাতে রাত রাতের মতোই থাকে:
- যাওয়ার আগে এক মুহূর্ত অপেক্ষা করুন। অনেক বাচ্চা একটু খুঁতখুঁত করে, একবার ডাকে, তারপর নিজেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে।
- কান্না বাড়লে শান্তভাবে যান আর মূল জিনিসগুলো দেখুন: ভেজা ডায়াপার বা বাথরুম, গরম, মশা, নাক বন্ধ, জ্বর।
- ঘর আবছা রাখুন, গলা নিচু আর একঘেয়ে: উজ্জ্বল আলো নয়, মোবাইলের স্ক্রিন নয়, খেলা নয়।
- বাচ্চা যেখানে ঘুমায় সেখানেই ঘুম পাড়ান, যতটুকু সাহায্যে কাজ হয় ততটুকু দিয়ে: পিঠে হাত, আস্তে ‘শশশ’, একই ছোট্ট বাক্য।
- শান্ত হয়ে ঘুম ঘুম ভাব এলে চুপ করে বসে থাকুন বা একটু সরে যান; সম্ভব হলে পুরো ঘুমানোর আগেই।
- প্রতিবার একই কাজ করুন, আর রাতে যিনিই বাচ্চাকে ঘুম পাড়ান, সবার সঙ্গে এটা ঠিক করে নিন।
- বাচ্চা ভয় পেলে আগে আদর করে সান্ত্বনা দিন। ঘুম পাড়ানো পরে।
রাতে যা বলতে পারেন
- এখনো রাত। এখন ঘুমের সময়।
- ভয় নেই। আমি এখানেই আছি।
- শশশ। শুয়ে পড়ো, চোখ বন্ধ করো।
- দুধ সকালে খাব। এখন একটু পানি খেতে পারো।
- সূর্য উঠলে সকাল হবে। তখন আমরা খেলব।
রাতে ঘুম ভেঙে গেলে বাচ্চা আর ঘুমায় না? ধীরে ধীরে সাহায্য কমান
আপনার বাচ্চা যদি দুধ খাওয়া, দোল খাওয়া বা আপনি পাশে শোয়া ছাড়া ঘুমাতে না পারে, তাহলে সবচেয়ে কোমল উপায় ধীরে বদলানো, আর শুরুটা ঘুমানোর সময় থেকে: রাত ৯টায় বাচ্চা যেভাবে ঘুমায়, রাত ২টায় জেগে উঠলেও প্রায়ই সেভাবেই ঘুমাতে চায়। আপনার পরিবারে যা ভালো চলছে, তা বদলানোর দরকার নেই; এই ধাপগুলো তখনকার জন্য, যখন রাতে জাগা অনেক বেশি।
- ঘুমানোর সময় দুধ খাওয়ানো বা কোলে নেওয়া শেষ করুন বাচ্চা যখন ঘুম ঘুম কিন্তু একটু জেগে আছে, যাতে বিছানায় শুয়েই ঘুমায়।
- প্রথম কয়েক রাত কাছেই থাকুন: পিঠে হাত, তারপর শুধু বিছানার পাশে বসে থাকা।
- প্রতি দুই-তিন রাত পরপর একটু দূরে সরুন: বিছানার কিনারা, একটা টুল, তারপর দরজার কাছে।
- রাতে জাগলেও ঘুমানোর সময়ের মতো সেই ছোট সাহায্যটুকুই দিন: কোলে না তুলে পিঠে আলতো চাপড় আর একটা বাক্য।
- বিছানা থেকে বেরিয়ে এলে একই কথা বলে শান্তভাবে ফিরিয়ে নিন, যতবার লাগে।
- মোটামুটি এক বছর বয়স থেকে একটা ছোট নরম পুতুল বা প্রিয় কোনো সুতির কাপড় কাছে থাকলে বাচ্চা ভরসা পেতে পারে, যেন আপনি পাশেই আছেন।
শুরুতে কয়েকটা রাত কঠিন যেতে পারে; অনেক বাচ্চা মেনে নেওয়ার আগে কিছুদিন আপত্তি জানায়। বিচার করার আগে এক থেকে দুই সপ্তাহ চালিয়ে যান, আর একবারে একটাই জিনিস বদলান।
রাতের দুধ: বড় হয়ে ওঠা বাচ্চার কি রাতে দুধ লাগে?
অনেক বাচ্চা এখনো দুধের জন্য রাতে জাগে, বুকের দুধ হোক বা ফিডার, আর অনেক পরিবারের কাছে এটা আবার ঘুমিয়ে পড়ার সহজ, আদরের উপায়। দিনে ভালো খায় এমন অনেক বাচ্চার রাতে খিদের জন্য আর দুধ লাগে না; দুধটা ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসের অংশ হয়ে গেছে। বুকের দুধ খাওয়ালে আর রাতের দুধে আপনার আপত্তি না থাকলে বন্ধ করার তাড়া নেই। বাচ্চার কতটা দুধ দরকার, তা নিয়ে নিশ্চিত না হলে ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারবেন। রাতের দুধ কমাতে চাইলে:
- রাতে পেট ভরে খেতে দিন, আর দরকার হলে রুটিনের ভেতরে ছোট একটা নাশতা, যেমন একটা কলা বা এক টুকরো রুটি।
- শেষবারের দুধটা রুটিনে একটু আগে দিন, দাঁত ব্রাশের আগে, যাতে বাচ্চা খেতে খেতে ঘুমিয়ে না পড়ে।
- এক-দুই সপ্তাহ ধরে একবারে একটা করে রাতের দুধ কমান, আর অন্যভাবে আদর দিন: জড়িয়ে ধরা, পিঠে আলতো চাপড়, এক চুমুক পানি।
- বাচ্চা মূলত বুকের দুধের জন্য জাগলে কয়েক রাত বাবা বা দাদি-নানি ঘুম পাড়াতে পারেন।
- ফিডার মুখে নিয়ে বিছানায় ঘুমাতে দেবেন না: মুখে দুধ নিয়ে ঘুমালে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। শেষবার দুধের পরে দাঁত ব্রাশ করান, আর দুধে চিনি দেবেন না।
এক বিছানা, এক ঘর: পরিবার একসাথে ঘুমালে রাতে জাগা
অনেক বাংলাদেশি বাসায় বাচ্চা বাবা-মা, দাদি-নানি বা ভাইবোনের সঙ্গে এক বিছানায় বা এক ঘরে ঘুমায়। এটা ভালোবাসার, খুব স্বাভাবিক একটা ব্যবস্থা; এক বিছানায় ঘুমালেও যদি বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে, একই শান্ত উপায়ে সেটা কমে আসতে পারে।
- বাচ্চা আপনার বিছানায়: একই ধাপ মেনে চলুন। আপনি চোখ বন্ধ করে চুপচাপ শুয়ে থাকলে বাচ্চা বোঝে, এখনো রাত।
- এক ঘরে কয়েক ভাইবোন: যে জেগেছে তাকে চুপচাপ আর তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়ান; ফ্যানের একটানা শব্দ ছোটখাটো আওয়াজ ঢেকে দেয়।
- দাদি-নানি বাচ্চার সঙ্গে ঘুমালে: সাড়া দেওয়ার একই ধরন ঠিক করে নিন, রাতে ভয়ের গল্প বা মোবাইলের ভিডিও নয়।
বিছানায় যদি কোলের শিশুও থাকে
নতুন ভাই বা বোন এলে বড় বাচ্চা প্রায়ই রাতে বেশি জাগে, আর এক বছরের কম বয়সী শিশু একই বিছানায় থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার। শিশু সবচেয়ে নিরাপদে ঘুমায় চিত হয়ে, নিজের আলাদা শক্ত ও সমান জায়গায়, যেমন আপনার খাটের পাশে একটা ছোট খাটে। সেখানে নরম বা ঢিলেঢালা কিছুই রাখবেন না: বালিশ, কোলবালিশ, লেপ-কাঁথা বা নরম খেলনা, কিছুই না। শিশু আপনার বিছানায় ঘুমালে এই ধাপগুলো ঝুঁকি কমায়:
- শিশুকে চিত করে শক্ত তোশকের ওপর শোয়ান; বালিশ, লেপ-কাঁথা, কোলবালিশ আর এমন যেকোনো ফাঁক থেকে দূরে, যেখানে পিছলে পড়ে যেতে বা আটকে যেতে পারে।
- শিশুকে একজন বাবা বা মায়ের পাশে রাখুন; দুজন বড় মানুষের মাঝখানে বা বড় ভাইবোনের পাশে নয়, আপনার ছোট বাচ্চাটির পাশেও নয়।
- সোফা বা চেয়ারে শিশুকে নিয়ে কখনো ঘুমিয়ে পড়বেন না।
- আপনি বা আপনার সঙ্গী ধূমপান করলে, অ্যালকোহল বা ঝিমুনি আনে এমন কোনো ওষুধ খেয়ে থাকলে, এত ক্লান্ত থাকলে যে খুব গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে পারেন, অথবা শিশু সময়ের আগে বা খুব ছোট হয়ে জন্মালে তাকে নিয়ে এক বিছানায় ঘুমাবেন না।
কোলের শিশুকে কখনো ছোট বাচ্চার সঙ্গে একা রেখে যাবেন না, দুজনেই একই বিছানায় ঘুমিয়ে থাকলেও না। দিনের বেলায় বাড়তি আদর বড় বাচ্চাকে প্রায়ই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে; দেখুন নতুন শিশু আর বড় সন্তান লেখাটি।
বাংলাদেশি বাসায় রাতে জাগা: গরম, লোডশেডিং আর দেরির সন্ধ্যা
- গরম আর মশা: ফ্যান, ঢিলেঢালা সুতির জামা, ভালো করে গুঁজে দেওয়া মশারি আর ঘুমের আগে ঠান্ডা পানিতে হাত-মুখ মোছা, সবই কাজে দেয়। লোডশেডিংয়ের জন্য চার্জার ফ্যান বা লাইট হাতের কাছে রাখুন; বিছানা বা মশারির কাছে কখনো মোমবাতি নয়।
- দেরির সন্ধ্যা: টিভি, মেহমান আর রাত ১০টার খাবার ঘুম দেরিতে আর হালকা করে দিতে পারে। বাচ্চাকে আগে খাইয়ে দিন, আর তার ঘুমের সময়ে আলো কমিয়ে দিন।
- ঘুমের সিরাপ: আত্মীয়রা কখনো কখনো এর কথা বলেন। ডাক্তার বাচ্চাকে দেখে না লিখে দিলে ঘুম পাড়ানোর জন্য কোনো ওষুধ বা সিরাপ কখনো দেবেন না।
- ভয় দেখানো কথা: ‘ভূত আসবে’ বা ‘ছেলেধরা নিয়ে যাবে’ বললে বাচ্চা হয়তো এক মিনিট চুপ করে, কিন্তু পরে রাতে জাগা আরও বাড়তে পারে।
- দোয়া বা চেনা গান: ঘুমের আগে দোয়া পড়া যদি আপনার পরিবারের সন্ধ্যার অংশ হয়, রাতে জাগলেও আস্তে সেই দোয়া বা একই ঘুমপাড়ানি গান শান্ত একটা ধাপ হতে পারে।
- রমজান: সেহরির আলো আর কথাবার্তায় বাচ্চার ঘুম ভাঙতে পারে। সেহরির সময় তার ঘর অন্ধকার আর চুপচাপ রাখুন, আর জাগলে চেনা উপায়ে আবার ঘুম পাড়ান।
- সব রাত একজনের ঘাড়ে: অনেক বাসায় প্রতিবার মা-ই ওঠেন। পালা করে উঠলে, এমনকি সপ্তাহে এক রাতও, অনেক সাহায্য হয়; বাবা বা দাদি-নানিও ঠিক ততটাই ভালোভাবে ঘুম পাড়াতে পারেন।
রাতে কম জাগার জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা
বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে কি না, কখন ওঠে, তার প্রায়ই একটা ধরন থাকে, যা কাগজে লিখলেই চোখে পড়ে। প্রতিদিন সকালে লিখে রাখুন বাচ্চা কীভাবে ঘুমিয়েছিল, কখন কখন জেগেছে আর কীসে আবার ঘুমিয়েছে, আর সকালে কখন উঠেছে।
- দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। এখনো কিছু বদলাবেন না; শুধু লিখে রাখুন।
- দিন ২: বয়স অনুযায়ী মোট ঘুম, দুপুরের ঘুম আর রাতের খাবারের সময় মিলিয়ে দেখুন। একটা জিনিস ঠিক করুন, যেমন দুপুরের ঘুম আগে শেষ করা।
- দিন ৩: রাতে কীভাবে সাড়া দেবেন ঠিক করুন: একই কথা, কম আলো, কোনো স্ক্রিন নয়। যিনিই ঘুম পাড়ান, সবার সঙ্গে ঠিক করে নিন।
- দিন ৪: ঘুমানোর সময় বাচ্চা পুরো ঘুমানোর আগেই দুধ খাওয়ানো বা কোলে নেওয়া শেষ করুন।
- দিন ৫: রাতে জাগলে একটু কম সাহায্য দিন: কোলে না তুলে পিঠে আলতো চাপড়, পাশে না শুয়ে পাশে বসে থাকা।
- দিন ৬: ঘরটা ঘুমের উপযোগী করুন: অন্ধকার, ঠান্ডা, মশারি টানানো, আর ঘুমের ঠিক আগে বাথরুম বা নতুন ডায়াপার।
- দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার জেগেছে, আবার ঘুমাতে কতক্ষণ লেগেছে? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আরও এক সপ্তাহ চালিয়ে যান।
ভাঙা ভাঙা রাত বাবা-মায়ের জন্যও কঠিন। পরিবারের কাউকে কয়েক রাত দায়িত্ব নিতে বলুন, পারলে বাচ্চা দুপুরে ঘুমালে আপনিও একটু বিশ্রাম নিন, আর বেশির ভাগ দিন মন খারাপ বা ভীষণ ক্লান্ত লাগলে ডাক্তারকে জানান। কখনো যদি মনে হয় বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন, তাকে তার বিছানায় বা অন্য কোনো বড় মানুষের কাছে নিরাপদে রেখে কয়েক মিনিটের জন্য অন্য ঘরে যান, আর সেদিনই কারও সাহায্য নিন; এই মুহূর্তে কারও বিপদ হলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
বাচ্চার রাতের ঘুম ভাঙা নিয়ে কখন ডাক্তার দেখাবেন
মাঝে মাঝে রাতে জাগা স্বাভাবিক, আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময় আর নিয়মিত রুটিনে তা কমে আসে। তবে এমন হলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন:
এমন হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন
- বেশির ভাগ রাতে জোরে নাক ডাকে, বিশেষ করে সঙ্গে শ্বাস থেমে থেমে যাওয়া, হাঁসফাঁস করা বা দম আটকে যাওয়ার মতো শব্দ, অথবা দিনের বেলায় খুব ঘুম ঘুম ভাব।
- নিয়মিত রুটিনের পরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ রাতে জাগা চলছে, বিশেষ করে সঙ্গে দিনের বেলায় সমস্যা থাকলে: খুব ঘুম ঘুম ভাব, খিটখিটে মেজাজ, বা স্কুলে মানিয়ে নিতে কষ্ট।
- এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ রাতে ব্যথা, চুলকানি, কাশি বা নাক বন্ধ হয়ে ঘুম ভাঙে। কান টানে আর সঙ্গে জ্বর থাকলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- খুব পিপাসা নিয়ে জাগে আর আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্রাব করে, অথবা কয়েক মাস শুকনো থাকার পর আবার বিছানা ভেজাতে শুরু করেছে, সঙ্গে পিপাসা, ক্লান্তি বা ওজন কমা: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- হঠাৎ ঘুমাতে ভয় পেতে শুরু করে, কোনো ভয়ের ঘটনার পরে, বা নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা জায়গা ঘিরে: আস্তে করে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, শরীর নীল হয়ে গেলে বা কিছুতেই জাগানো না গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে কেন, তা রাত ৩টায় নয়, এক সপ্তাহের লেখা দেখলেই ভালো বোঝা যায়। ParentMind-এ প্রতিদিন কী হলো লিখে রাখতে পারেন, ধরন দেখতে পারেন আর পরামর্শ পেতে পারেন। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
দুই বছরের বাচ্চা রাতে উঠে যায়, এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ। দুই বছরের অনেক বাচ্চা এখনো রাতে এক-দুবার জাগে, আর বড় কোনো পরিবর্তন বা কথা বলার মতো নতুন কিছু শেখার সময় কিছুদিন বেশি জাগাও খুব সাধারণ। নিয়মিত রুটিনের পরও এক মাস বা তার বেশি জাগা চললে, অথবা সঙ্গে জোরে নাক ডাকা, ব্যথা বা দিনের বেলায় খুব ঘুম ঘুম ভাব থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
আমার বাচ্চা রাতে কেঁদে ওঠে কেন?
সাধারণত ঘুমের চক্রের ফাঁকে একটু জেগে উঠে প্রথমবার যেভাবে ঘুমিয়েছিল, যেমন দুধ খেয়ে বা দোল খেয়ে, সেভাবে আবার ঘুমাতে পারে না বলে। দাঁত ওঠা, সর্দি, গরম, মশা, দুঃস্বপ্ন বা নতুন ভাইবোনের মতো পরিবর্তনেও রাতে কান্না হতে পারে। আগে দেখুন কোনো অস্বস্তি আছে কি না, তারপর শান্তভাবে ঘুম পাড়ান।
রাতে জাগলে কি বাচ্চাকে দুধ দেব?
এটা আপনার পরিবার আর বাচ্চার ওপর নির্ভর করে। দিনে ভালো খায় এমন অনেক বাচ্চা খিদের জন্য নয়, অভ্যাসের কারণে দুধের জন্য জাগে। রাতের দুধ কমাতে চাইলে শেষবারের দুধ রুটিনে একটু আগে দিন, তারপর দাঁত ব্রাশ করান, আর একবারে একটা করে কমান। বাচ্চার কতটা দুধ দরকার, তা নিয়ে নিশ্চিত না হলে ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারবেন।
স্লিপ রিগ্রেশন কী? বাচ্চার রাতের ঘুম হঠাৎ ভাঙছে কেন?
ভালো ঘুমাত এমন বাচ্চার হঠাৎ কিছুদিন রাতে বারবার জাগা বা ঘুমাতে যেতে না চাওয়াকে অনেক বাবা-মা এই নামে ডাকেন, সাধারণত ১৮ মাস বা ২ বছরের আশপাশে। এটা প্রায়ই আসে নতুন দক্ষতার সঙ্গে, যেমন হাঁটা বা কথা বলা, বা আপনাকে ছেড়ে থাকা নিয়ে তীব্র অনুভূতির সঙ্গে। শান্তভাবে সাড়া দেওয়ার ধরনটা একই রাখুন; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে থিতিয়ে আসে।
বাচ্চা মাঝরাতে জেগে খেলে কেন?
প্রায়ই কারণ, ততক্ষণে তার ঘুম যথেষ্ট হয়ে গেছে: লম্বা বা দেরিতে দুপুরের ঘুম, খুব আগে শুতে যাওয়া, বা মাগরিবের সময় ঘুমিয়ে পড়লে বাচ্চা মাঝরাতে একদম চনমনে হয়ে জাগতে পারে। ঘর অন্ধকার আর একঘেয়ে রাখুন, খেলা বা স্ক্রিন একদম নয়, দুপুরের ঘুম ছোট করুন বা আগে আনুন, আর সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে তুলুন।
বাচ্চা আমার সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমালে কি সমস্যা?
আপনার পরিবারের জন্য সুবিধার হলে কোনো সমস্যা নেই; অনেক বাংলাদেশি পরিবার এক বিছানায় ঘুমায়। এক বিছানাতেও বাচ্চা সমান বারবার জাগতে পারে, তাই একই শান্ত সাড়া কাজে দেয়। এক বছরের কম বয়সী শিশুও একই বিছানায় থাকলে তাকে চিত করে একজন বাবা বা মায়ের পাশে রাখুন, বড় বাচ্চাটির পাশে নয়, শক্ত তোশকে, বালিশ আর লেপ-কাঁথা থেকে দূরে।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।






