নতুন ভাইবোন এলে বড় সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন
ছোট করে উত্তর
নতুন ভাইবোন এলে বড় সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন: জন্মের কয়েক মাস আগে থেকে সহজ, সত্যি কথায় বলুন; প্রথম দেখার সময় আগে বড়জনকে কাছে টানুন; রোজ তার জন্য আলাদা একটু সময় রাখুন; আর কিছুদিন সে ছোটদের মতো আচরণ করলে মেনে নিন। এ সময় হিংসা খুব স্বাভাবিক, বিশেষ করে ২–৫ বছর বয়সে। ছোট বাচ্চাকে কখনো নবজাতকের কাছে একা রাখবেন না, আর বারবার ছোটটাকে আঘাত করার চেষ্টা করলে সাহায্য নিন।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- যাদের ঘরে নতুন বাবু আসছে বা সবে এসেছে, আর বড় সন্তানের বয়স ২–৮ বছর
- মূল কথা
- হিংসা, আঁকড়ে থাকা আর আবার ছোটদের মতো আচরণ স্বাভাবিক; সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসে কমে আসে।
- নতুন বিছানা বা পটি ট্রেনিংয়ের মতো বড় পরিবর্তন জন্মের অনেক আগে করুন, নইলে সব একটু থিতু হওয়ার পরে।
- রোজ ১০–১৫ মিনিট শুধু বড়জনের জন্য রাখা সময় প্রায়ই যে কোনো উপহারের চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
- এক মুহূর্তের জন্যও ছোট বাচ্চাকে নবজাতকের কাছে একা রাখবেন না; বড়জন সাহায্যকারী, কখনো দেখাশোনার দায়িত্বে নয়।
ছোট্ট বাচ্চাটা হঠাৎ আবার ফিডার চাইছে, ৫ বছরের বাচ্চা বলছে “বাবুকে ফেরত দিয়ে আসো”, কিংবা শান্ত বাচ্চাটা কেউ না দেখলে ছোটটাকে খোঁচা দিচ্ছে? নতুন ভাইবোন এলে বড় সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন, আর জন্মের পর কীভাবে সামলাবেন, এ নিয়ে অনেক বাবা-মা দুশ্চিন্তায় থাকেন। আপনার বড় সন্তান জন্মের পর বদলে গেলে, বা সে কীভাবে মানিয়ে নেবে ভেবে চিন্তা হলে, আপনি একা নন।
ছোট্ট একটা বাচ্চার জীবনে নতুন ভাইবোন আসা সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটা; সময়, ধৈর্য আর একটু পরিকল্পনায় বেশিরভাগ বাচ্চা মানিয়ে নেয়। নিচে পাবেন: কেন এমন হয়, কোন বয়সে কেমন প্রতিক্রিয়া, জন্মের আগের প্রস্তুতি, প্রথম দেখা, আবার ছোট হয়ে যাওয়া, মারামারি, আলাদা সময়, আত্মীয় আর মেহমান, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।
ছোট ভাইবোন হলে বড় সন্তানের হিংসা কেন হয়?
দ্বিতীয় সন্তান এলে প্রথম সন্তানের হিংসা সাধারণত ছোটটাকে অপছন্দ করা থেকে আসে না; আসে কিছু হারানোর ভয় থেকে: আপনার সময়, আপনার কোল, আর একমাত্র সন্তান হওয়ার জায়গাটা। এ সময় বড় বাচ্চার মনে প্রায়ই থাকে:
- আপনাকে কম পাওয়া: খাওয়ানো, ডায়াপার আর রাত জাগা সেই সময়টুকু নিয়ে নেয়, যা আগে ছিল তার।
- সবার মনোযোগ ছোটটার দিকে চলে যাওয়া: মেহমান, উপহার আর ছবি তোলা।
- একসাথে অনেক বদল: ক্লান্ত বাবা-মা, নতুন রুটিন, কখনো নতুন বিছানা বা নানাবাড়িতে থাকা।
- বড় বড় অনুভূতি, কিন্তু বলার ভাষা নেই; তাই সেগুলো বেরিয়ে আসে আঁকড়ে থাকা, জেদ বা জোরে হাত চালানোর মধ্য দিয়ে।
| বড় বাচ্চার বয়স | যা দেখতে পারেন | সবচেয়ে বেশি যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ২–৩ বছর | আঁকড়ে থাকা, বেশি জেদ, ফিডার চাওয়া বা কোলে উঠতে চাওয়া, জোরে বা এলোমেলোভাবে ছোঁয়া | একই রুটিন, অনেক আদর, খুব সহজ কথা, আর ছোটটার কাছে গেলেই পাশে একজন বড় মানুষ |
| ৪–৫ বছর | মুখে হিংসা (“ফেরত দিয়ে আসো”), আধো আধো কথা, নিয়ম ভেঙে দেখা, অনেক প্রশ্ন | অনুভূতির নাম বলে দেওয়া, ছোট ছোট সাহায্যের কাজ, রোজ আলাদা সময়, সহজ সত্যি উত্তর |
| ৬–৮ বছর | চাপা হিংসা: অন্যায়ের অভিযোগ, গুটিয়ে যাওয়া, পেটব্যথা, স্কুলে একটু এলোমেলো | তার কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করা, তার নিজের খেলা-পড়া চালু রাখা, সাহায্যের কাজে তার ওপর বেশি ভর না দেওয়া |
নতুন ভাইবোন এলে বড় সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন: জন্মের আগে
নতুন শিশুর আগমনে বড় বাচ্চাকে বোঝানো সাধারণত সবচেয়ে ভালো কাজ করে জন্মের আগের শেষ কয়েক মাসে, ছোট ছোট সত্যি কথায়। ৩ বছরের কম বয়সী বাচ্চা সময় খুব একটা বোঝে না, তাই তাকে জন্মের কাছাকাছি সময়ে বলুন; বড়রা আগে জানতে পারে।
- সহজ আর সত্যি করে বলুন: নবজাতক বেশিরভাগ সময় ঘুমায়, কাঁদে আর দুধ খায়; খেলতে পারবে অনেক পরে।
- তার নিজের ছোটবেলার ছবি দেখান, আর তার জন্মের দিনের গল্প বলুন।
- বড় পরিবর্তন আগে সেরে ফেলুন: নতুন বিছানা, নতুন ঘর, প্লে স্কুল শুরু বা পটি ট্রেনিং, জন্মের অন্তত মাস দুয়েক আগে; নইলে সব থিতু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
- পুতুল দিয়ে অনুশীলন করান: আলতো করে ধরা, বসে কোলে নেওয়া, মাথার নিচে হাত রাখা।
- জন্মের সময় কে তার দেখাশোনা করবে, আগে থেকে ঠিক করে তাকেও জানিয়ে রাখুন, যাতে হঠাৎ বিদায়ে সে ঘাবড়ে না যায়।
- কাজে হাত লাগাতে দিন: বাবুর জামা বাছাই, ছোট একটা ব্যাগ গোছানো, বা বাবুকে দেওয়ার জন্য একটা খেলনা বেছে নেওয়া।
জন্মের আগে আর পরে যা বলতে পারেন
- আমাদের ঘরে একটা বাবু আসছে। বাবুরা অনেক ঘুমায়, কাঁদে আর দুধ খায়। ওরা এখনই খেলতে পারে না।
- তুমি সবসময় আমার প্রথম সোনা। তোমাদের দুজনের জন্যই অনেক অনেক আদর আছে।
- বাবুকে নিয়ে মাঝে মাঝে রাগ লাগতেই পারে। তুমি সবসময় আমাকে বলতে পারো।
- বাবু এক মিনিট অপেক্ষা করুক। এখন তোমার পালা।
প্রথম দেখা: বড়জনের সাথে নতুন বাবুর পরিচয়
- আগে বড়জনকে কাছে টেনে নিন, খালি হাতে: সে ঘরে ঢোকার সময় বাবুকে অন্য কেউ কোলে রাখুক।
- কতটা কাছে যাবে, সেটা তাকেই ঠিক করতে দিন। শুধু দেখা, পায়ে হাত দেওয়া, বা সরে যাওয়া, সবই ঠিক আছে।
- কোলে নিতে চাইলে তাকে বসিয়ে দিন, আর বাবুর নিচে আপনার হাতও রাখুন।
- কোনো কোনো পরিবার “বাবুর পক্ষ থেকে” ছোট একটা উপহার রাখে; তবে প্রশংসাই বেশি জরুরি: “বাবুর কপাল ভালো, তোমার মতো একটা বড় আপু পেয়েছে।”
- বাসায় ফেরার পর প্রথম দিনগুলো যতটা পারেন তার স্বাভাবিক রুটিনের কাছাকাছি রাখুন।
নতুন বাচ্চা এলে বড়টা আবার কোলে উঠতে চায়: পিছিয়ে যাওয়া কেন স্বাভাবিক
নতুন ভাইবোন আসার পর পিছিয়ে যাওয়া খুব সাধারণ: যে বাচ্চা প্যান্ট ভেজাত না সে আবার ভেজায়, যে স্পষ্ট কথা বলত সে আধো আধো বলে, একা ঘুমানো বাচ্চা আবার আপনার বিছানায় আসতে চায়, বা ৪ বছরের বাচ্চা খাইয়ে দিতে আর কোলে নিতে বলে। এটা আসলে বাচ্চার একটা প্রশ্ন: “আমিও কি এখনো তোমার সোনা?” সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস দুয়েকের মধ্যে কেটে যায়।
- কিছুদিন ছোট হতে দিন: পারলে কোলে নিন, কয়েক মিনিট একসাথে “বাবু-বাবু” খেলুন, তারপর বড় হওয়ার মজাটাও একসাথে উপভোগ করুন।
- লজ্জা বা খোঁচা নয়: “দেখো, এত বড় মেয়ে বাবুর মতো কাঁদে!” ধরনের কথা এড়িয়ে চলুন।
- বড় হওয়ার মুহূর্তগুলো মুখে বলুন: “তুমি নিজে নিজে জুতা পরে ফেলেছ!”
- বাথরুমের অভ্যাসে হইচই না করে এক ধাপ পিছিয়ে যান; পিছিয়ে পড়লে কী করবেন, পড়ুন পটি ট্রেনিং লেখায়।
ছোট ভাইকে মারে বড় বাচ্চা: কী করবেন, আর ছোটটাকে কীভাবে নিরাপদ রাখবেন
হিংসা যখন খোঁচা, চাপ দেওয়া বা মারার দিকে যায়, তখন সবার আগে নিরাপত্তা। বড় অনুভূতির সময় নিজেকে থামানোর ক্ষমতা ছোট বাচ্চার এখনো তৈরি হয়নি, তাই এক মুহূর্তের জন্যও ছোট বাচ্চাকে নবজাতকের কাছে একা রাখবেন না। সেই মুহূর্তে:
- শান্তভাবে বাবুকে নাগালের বাইরে সরিয়ে নিন, বা নিজে দুজনের মাঝে চলে যান।
- চিৎকার বা পাল্টা মার ছাড়া, অল্প কথায় সীমাটা বলুন।
- অনুভূতির নাম বলুন, আর রাগ বের করার একটা পথ দিন: পা ঠোকা, কুশন চেপে ধরা।
- আলতো ছোঁয়া দেখিয়ে দিন: একসাথে বাবুর পায়ে নরম করে হাত বুলানো।
- পরে শান্ত হলে বড়জনকে একটু আদর করুন, আর কয়েক মিনিট শুধু তার সাথে কাটান।
যা বলতে পারেন
- বাবুকে মারতে দেব না। আস্তে, নরম হাতে।
- তুমি খুব রেগে আছো। চাইলে মেঝেতে পা ঠোকো, বা এই কুশনটা চেপে ধরো।
- চলো, ওর পায়ে আলতো করে হাত বুলাই, এভাবে।
- আম্মুকে ভাগ করে নিতে কষ্ট হচ্ছে, তাই না? আসো, একটু আদর করি।
অন্য সময়ের মারামারি নিয়ে আরও পাবেন বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন লেখায়।
বড় সন্তান অবহেলিত মনে করলে: আলাদা সময় আর ছোট ছোট দায়িত্ব
ছোটটা ঘুমিয়ে থাকলে বা অন্য কারও কাছে থাকলে রোজ ১০–১৫ মিনিট শুধু বড়জনের সাথে কাটানো তাকে বুঝিয়ে দেয়, সে এখনো সমান জরুরি। খেলা সে বাছবে, ফোন দূরে থাকবে, আর সময়টার একটা নাম দিন: “আমাদের সময়”। পাশে অন্য কেউ বাবুকে দেখলে বাবু কাঁদলেও বলতে পারেন, “বাবু এক মিনিট অপেক্ষা করুক।”
ছোট ছোট কাজে অনেক বাচ্চা গর্ব বোধ করে: ডায়াপার এনে দেওয়া, বাবুর জামা বাছাই, বাবুকে গান শোনানো। কাজগুলো তার ইচ্ছার ওপর রাখুন, আর মনে রাখুন বড়জন সাহায্যকারী, কখনো বাবুর দেখাশোনার দায়িত্বে নয়। “তুমি বড়, তুমি ছাড় দাও” ধরনের কথা এড়িয়ে চলুন; বড় হতে হতে ন্যায্যতার কথা পাবেন ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায় লেখায়।
আমাদের বাসায় নতুন বাবু: আত্মীয়, মেহমান আর নানাবাড়ির দিনগুলো
- নানাবাড়ির দিনগুলো: জন্মের পর মা নানাবাড়িতে থাকলে পারলে বড়জনকেও সাথে রাখুন, নইলে নিয়মিত দেখা আর ভিডিও কলের ব্যবস্থা করুন; একসাথে মা আর নিজের বাসা, দুটো থেকে হঠাৎ আলাদা হওয়া কঠিন। পড়ুন বাচ্চা মাকে ছাড়তে চায় না।
- মেহমান আর আকিকা: মেহমানদের অনুরোধ করুন বাবুর আগে বড়জনের সাথে কথা বলতে, আর বাবুর জন্য উপহার এলে বড়জনের হাতে দেওয়ার জন্য ছোট ছোট কয়েকটা মোড়ানো উপহার আগে থেকে রেখে দিন।
- খোঁচা দেওয়া কথা: আত্মীয়রা মজা করে বলতে পারেন, “এখন তো তোর আদর শেষ!” বাচ্চার সামনে নরমভাবে উত্তর দিন: “আদর দুজনের জন্যই অনেক আছে,” আর আলাদা করে অনুরোধ করুন এমন কথা আর না বলতে।
- দাদা-দাদি, নানা-নানি আর গৃহকর্মী: তাঁরা বাবুকে দেখলে আপনি বড়জনকে সময় দিতে পারেন; বড়জনকে সারা দিন তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার চেয়ে এটা ভালো।
- এক বিছানা: বড়জনকে আপনার বিছানা ছাড়তে হলে জন্মের কয়েক সপ্তাহ আগেই সরান, বাবু বাসায় আসার দিন নয়। বাবুকে নিয়ে এক বিছানায় ঘুমালে বাবু থাকবে বাবা বা মায়ের একজনের পাশে, কখনো বড়জনের পাশে নয়।
- খাওয়ানোর সময়: যেখানে বসে বাবুকে খাওয়ান, তার পাশে বই আর হালকা নাশতার একটা ঝুড়ি রাখুন, যাতে বড়জন অপেক্ষা না করে আপনার পাশে বসতে পারে।
নতুন বাবুর সাথে প্রথম সপ্তাহের ৭ দিনের পরিকল্পনা
নতুন ভাইবোন এলে বড় সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন, তার মতোই জরুরি প্রথম সপ্তাহটা। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: বড়জন কেমন ছিল, কঠিন মুহূর্তগুলো কী থেকে শুরু হলো, আর কী কাজে দিল। এক কঠিন সন্ধ্যার চেয়ে এক সপ্তাহ ধরে দেখলে বড় বাচ্চার হিংসা বোঝা সহজ।
- দিন ১: খেয়াল করুন। কিছু বদলাবেন না; বড়জন কখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়, লিখে রাখুন।
- দিন ২: রোজকার আলাদা সময়টা ঠিক করুন, আর বাচ্চাকে জানিয়ে দিন কখন।
- দিন ৩: মেহমানদের বলুন আগে বড়জনের সাথে কথা বলতে, আর ছোট উপহার হাতের কাছে রাখুন।
- দিন ৪: ছোট একটা সাহায্যের কাজ দিন, আর করলে ধন্যবাদ দিন।
- দিন ৫: খাওয়ানোর জায়গায় ঝুড়ি আর “বড়দের” তাকটা গুছিয়ে ফেলুন।
- দিন ৬: কয়েক মিনিট ছোট হতে দিন, তারপর বড় হওয়ার একটা মুহূর্ত মুখে বলুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। কঠিন মুহূর্ত কখন এল, ছোট হলো কি? যা কাজে দিল, চালিয়ে যান।
কখন সাহায্য নেবেন: বড় বাচ্চার আর আপনার নিজের লক্ষণ
বেশিরভাগ বড় ভাইবোন কয়েক মাসের মধ্যে মানিয়ে নেয়। বাচ্চার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, যদি:
কখন সাহায্য নেবেন
- কাছে থেকে নজর রাখার পরও বাচ্চা বারবার ইচ্ছা করে বাবুকে আঘাত করতে চায়, যেমন মুখে চাপ দেওয়া, ধাক্কা দেওয়া বা জিনিস ছুড়ে মারা। বড় কেউ ঠিক পাশে না থাকলে দুজনকে আলাদা রাখুন।
- মোটামুটি তিন মাস পরও পিছিয়ে যাওয়া তীব্র, বা কথা বলার মতো শেখা জিনিস বাচ্চা ভুলে যাচ্ছে।
- যে বাচ্চা প্যান্ট ভেজাত না, সে আবার ভেজাচ্ছে, সাথে বেশি পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি বা ওজন কমা: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বাচ্চা বেশিরভাগ দিন মন খারাপ করে বা গুটিয়ে থাকে, বা খাওয়া-ঘুম ঠিকমতো হয় না।
- বাচ্চা নিজেকে আঘাত করে বা করবে বলে: শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
- জন্মের পর দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন আপনার মন খারাপ লাগে বা আর পারছেন না মনে হয়: ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। নিজের বা বাবুর ক্ষতি করার চিন্তা এলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, আর কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
দুই সন্তান নিয়ে প্রথম কয়েক মাস ক্লান্তিকর, আর ছোট ছোট উন্নতি সহজে চোখে পড়ে না। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
নতুন বাবু আসার আগে ছোট বাচ্চাকে কীভাবে প্রস্তুত করব?
জন্মের কয়েক মাস আগে সহজ আর সত্যি করে বলুন; ৩ বছরের কম বয়সী হলে জন্মের কাছাকাছি সময়ে: বাবুরা ঘুমায়, কাঁদে আর দুধ খায়, এখনই খেলতে পারে না। তার নিজের ছোটবেলার ছবি দেখান, পুতুল দিয়ে আলতো করে ধরা অনুশীলন করান, নতুন বিছানার মতো বড় পরিবর্তন অনেক আগে সেরে ফেলুন, আর জন্মের সময় কে তার দেখাশোনা করবে তা জানিয়ে রাখুন।
নবজাতককে নিয়ে বড় সন্তানের হিংসা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, খুবই স্বাভাবিক। বেশিরভাগ বড় বাচ্চা কিছুটা হিংসা বোধ করে, কারণ হঠাৎ আপনার সময় আর মনোযোগ ভাগ করতে হয়। এটা দেখা দিতে পারে আঁকড়ে থাকা, জেদ, আধো আধো কথা বা জোরে ছোঁয়ার মধ্য দিয়ে; ৬ বছরের বেশি বয়সে চুপচাপ গুটিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। রোজ আলাদা সময়, অনুভূতির নাম বলে দেওয়া আর একই রুটিন রাখলে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসে কমে আসে।
নতুন বাবু আসার পর বড় বাচ্চা কেন আবার ছোটদের মতো করছে?
আধো আধো কথা, ফিডার চাওয়া, প্যান্ট ভেজানো বা কোলে উঠতে চাওয়ার মতো আবার ছোট হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ প্রতিক্রিয়া; একে বলে পিছিয়ে যাওয়া। বাচ্চা আসলে নিশ্চিত হতে চায় যে সে এখনো আদর আর যত্ন পাচ্ছে। লজ্জা না দিয়ে কিছুদিন ছোট হতে দিন, বড় হওয়ার মুহূর্তগুলোর প্রশংসা করুন; সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস দুয়েকে কেটে যায়।
ছোট বাচ্চা নতুন বাবুকে মারলে কী করব?
শান্তভাবে বাবুকে নাগালের বাইরে সরিয়ে নিন, বলুন “বাবুকে মারতে দেব না,” আর রাগ বের করার পথ দিন, যেমন পা ঠোকা বা কুশন চেপে ধরা। আলতো ছোঁয়া দেখিয়ে দিন, পরে বড়জনকে একটু আদর করুন। ছোট বাচ্চাকে কখনো নবজাতকের কাছে একা রাখবেন না, আর নজর রাখার পরও ইচ্ছা করে আঘাত চলতে থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
নতুন বাবুর সাথে মানিয়ে নিতে বড় বাচ্চার কত দিন লাগে?
সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। বাসায় ফেরার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ প্রায়ই সবচেয়ে কঠিন, বিশেষ করে ২–৫ বছরের বাচ্চার জন্য; রুটিন থিতু হলে সাধারণত সহজ হয়ে আসে। বাবু হামাগুড়ি দিতে আর খেলনা ধরতে শুরু করলে অনুভূতিগুলো আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। মোটামুটি তিন মাস পরও চিন্তা থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
বাবুকে খাওয়ানোর সময় বড়জন হিংসা করলে কী করব?
খাওয়ানোর সময়টাকে বড়জনের সময়ও বানিয়ে ফেলুন। যেখানে বসে খাওয়ান, তার পাশে বই, পাজল আর হালকা নাশতার একটা ঝুড়ি রাখুন, আর বাবু খাওয়ার সময় বড়জনকে বই পড়ে শোনান বা গল্প করুন। তাকে গা ঘেঁষে বসতে দিন। অপেক্ষার সময় না হয়ে একসাথে আরামের রুটিন হলে অনেক বাচ্চার কাছে এই সময়টা অনেক সহজ হয়ে যায়।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।





