বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন: কেন করে, কীভাবে সামলাবেন (১–৬ বছর)
ছোট করে উত্তর
১ থেকে ৩ বছর বয়সে বাচ্চার মারা আর কামড়ানো খুব সাধারণ; এর পেছনে থাকে হতাশা, দাঁত ওঠা, উত্তেজনা, বা মনের কথা বলার মতো শব্দ না থাকা। বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন: সঙ্গে সঙ্গে শান্তভাবে থামান, বলুন ‘মারতে দেব না’, যে ব্যথা পেয়েছে তাকে আগে দেখুন, তারপর দেখিয়ে দিন এর বদলে কী করবে। কখনো পাল্টা মারবেন বা কামড়াবেন না। ৪–৫ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন হলে পরামর্শ নিন।
লেখাটি শুনুন
১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ১–৬ বছরের যে বাচ্চা বাসায়, ডে-কেয়ারে বা পারিবারিক দাওয়াতে মারে বা কামড়ায়, তার বাবা-মা
- মূল কথা
- ছোট বাচ্চার মারা আর কামড়ানো খুব সাধারণ; এর মানে সাধারণত মুখে বলতে না পারা কোনো অনুভূতি বা চাওয়া, ‘খারাপ’ বাচ্চা নয়।
- প্রতিবার শান্তভাবে থামান, যে ব্যথা পেয়েছে তাকে আগে দেখুন, আর বাচ্চা শান্ত হলে শেখান এর বদলে কী করবে।
- কখনো পাল্টা মারবেন বা কামড়াবেন না: এতে বাচ্চা শেখে, রাগ হলে বড়রাও অন্যকে ব্যথা দেয়।
- ৪–৫ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন হলে, প্রায়ই অন্যকে জখম করলে, বা সঙ্গে আরও চিন্তার মতো বদল দেখা দিলে পরামর্শ নিন।
বাচ্চার মারা আর কামড়ানো হঠাৎই শুরু হতে পারে: ‘না’ বললে আপনার গালে চড়, পার্কে ধাক্কা, খেলনা নিয়ে চাচাতো ভাইয়ের হাতে কামড়। ব্যাপারটা কষ্টের, আর অন্য বাবা-মা দেখলে লজ্জারও। কিন্তু ১ থেকে ৩ বছর বয়সে মারা আর কামড়ানো খুব সাধারণ আচরণ, আর কথা বলা ও নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত কমে আসে।
এর মানে এই নয় যে আপনার বাচ্চা ‘মারকুটে’, বা আপনি কোনো ভুল করেছেন। বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন, তা নিয়েই এই লেখা। নিচে পাবেন: কেন করে, কী করবেন ও কী বলবেন, কামড় আর দাঁত ওঠা, বাবা-মাকে মারা, পারিবারিক দাওয়াত, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।
বাচ্চা কেন মারে আর কামড়ায়?
মারা আর কামড়ানো হলো ছোট বাচ্চার মনের কথা বলার সবচেয়ে দ্রুত উপায়, যখন কথাটা সে এখনো মুখে বলতে পারে না। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে এটা ২ বছরের বাচ্চার জেদ-এরই অংশ। সাধারণ কারণগুলো:
- হতাশা: খেলনা ঠিকমতো কাজ না করলে বা ‘না’ শুনলে মারা খুব সাধারণ।
- এখনই কিছু চাওয়া: পালা চাওয়ার চেয়ে ধাক্কা বা কামড় দেওয়া অনেক দ্রুত।
- দাঁত ওঠা আর মুখে দিয়ে চেনা: মাড়িতে ব্যথা, বা সব কিছু মুখে দেওয়ার বয়স।
- খুব উত্তেজনা: আনন্দের হুটোপুটি বা আদরের মাঝেও কামড়।
- ক্লান্তি, খিদে বা একসাথে অনেক কিছু: ভিড়, হইচই, বাইরে লম্বা সন্ধ্যা।
- বড় প্রতিক্রিয়া: মারলেই যদি সবাই হাসে বা চেঁচায়, ব্যাপারটা ওর কাছে মজার হয়ে ওঠে।
| বয়স | যা সাধারণ | যা বেশি কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ১–২ বছর | দাঁত ওঠার সময় বা উত্তেজনায় কামড়; ব্যথা দেওয়ার ইচ্ছা ছাড়াই মারা | শান্তভাবে সরিয়ে নেওয়া, ‘আস্তে’ বলা, চিবানোর মতো নিরাপদ কিছু |
| ২–৩ বছর | অনেক সময় সবচেয়ে বেশি: খেলনা, পালা আর ‘না’ নিয়ে মারা-কামড়ানো | আটকানো, কম কথা, ‘আমার পালা’ আর ‘থামো’ বলা শেখানো |
| ৩–৪ বছর | কম হয়; বেশির ভাগ সময় খুব রাগ, ক্লান্তি বা হুটোপুটির খেলায় | অনুভূতির নাম শেখানো, এর বদলে কী করবে তা চর্চা করা |
| ৪–৬ বছর | সাধারণত কম; ভাইবোন বা বন্ধুদের সঙ্গে মাঝে মাঝে মারামারি | একসঙ্গে সমাধান খোঁজা, পরে মিটমাট করা |
বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন: মুহূর্তে যা করবেন
লক্ষ্য হলো সবাইকে নিরাপদ রাখা, আর মারলে যেন কোনো মজা না হয়; জেতা-হারা নয়। জেদ আর কান্নাকাটির মাঝে মারলে দেখুন জেদের মুহূর্তে কী করবেন; নইলে প্রতিবার একই শান্ত ধাপ:
- সঙ্গে সঙ্গে থামান। হাতটা ধরে ফেলুন, বা শান্তভাবে বাচ্চাকে একটু সরিয়ে নিন। আপনাকে কামড়ালে ঝটকা দিয়ে টানবেন না, আস্তে করে ছাড়িয়ে নিন।
- নিচু কিন্তু দৃঢ় গলায় অল্প কথা বলুন: ‘মারতে দেব না। মারলে ব্যথা লাগে।’ লম্বা উপদেশ নয়।
- আগে যে ব্যথা পেয়েছে তার দিকে যান, তাকে আদর করুন, যাতে মনোযোগটা যায় ব্যথা পাওয়া বাচ্চার দিকে, যে মেরেছে তার দিকে নয়।
- শান্ত হওয়া পর্যন্ত বাচ্চাকে নিয়ে একটু নিরিবিলি জায়গায় যান। পাশে থাকুন; এটা একটু বিরতি, শাস্তি নয়।
- শান্ত হলে দেখিয়ে দিন এর বদলে কী করবে: ‘থামো!’ বলা, মেঝেতে পা ঠোকা, কুশন চেপে ধরা, বা আপনাকে ডেকে আনা।
- প্রস্তুত থাকলে মিটমাট করতে সাহায্য করুন: আলতো করে ছুঁয়ে দেওয়া, একটা টিস্যু এগিয়ে দেওয়া, খেলনাটা ফিরিয়ে দেওয়া। ২ বছরের বাচ্চাকে দিয়ে জোর করে ‘সরি’ বলালে সে তেমন কিছু শেখে না।
যা বলতে পারেন
- মারতে দেব না। মারলে ব্যথা লাগে।
- তুমি গাড়িটা চাইছিলে। বলো, ‘আমার পালা!’
- দাঁত দিয়ে খাবার খাই, মানুষকে কামড়াই না।
- চলো দেখি, ভাইয়া ব্যথা পেল কি না।
- তোমার খুব রাগ হচ্ছে। চলো, দুজনে মিলে জোরে পা ঠুকি।
- আস্তে হাত। দেখাও তো, আলতো করে কীভাবে ছোঁও?
কেন কখনো পাল্টা মারবেন বা কামড়াবেন না
এখনো অনেকে পরামর্শ দেন, ‘একবার পাল্টা কামড় দাও, তাহলে বুঝবে কেমন লাগে।’ ছোট বাচ্চা এভাবে ভাবতে পারে না: সে শেখে, রাগ হলে বড়রাও কামড়ায়, আর অনেকে এতে আরও বেশি কামড়ায়। মারার জন্য বাচ্চাকে মারলেও একই উল্টো বার্তা যায়, আর সময়ের সঙ্গে মারধর সাধারণত আচরণ আরও খারাপ করে। শান্ত থেকে নিয়ম ধরে রাখার উপায় পাবেন মারধর না করে শাসন লেখায়।
শিশু অন্য বাচ্চাকে কামড়ায়: দাঁত ওঠা, হতাশা নাকি উত্তেজনা?
ছোট বাচ্চার কামড়ের কারণ অনেক সময় মারার কারণ থেকে আলাদা, আর কারণ বুঝলে কী করবেন সেটাও বদলায়:
- দাঁত ওঠা: আঙুল, কাঁধ আর খেলনায় কামড়, সঙ্গে মাড়ি ফোলা বা মুখ দিয়ে লালা পড়া। চিবানোর মতো নিরাপদ কিছু দিন, যেমন পরিষ্কার টিথার বা ঠান্ডা, পরিষ্কার একটা ভেজা কাপড়।
- হতাশা: খেলনা, পালা বা ভিড়ের চাপাচাপি নিয়ে কামড়। আটকান, মুখে বলার কথা শিখিয়ে দিন (‘আমার পালা!’), আর একটু জায়গা দিন।
- উত্তেজনা: আদরের মাঝে বা হুটোপুটির খেলায় কামড়। খেলাটা একটু শান্ত করুন: ‘চুমু দাও, কামড় নয়।’
- প্রতিক্রিয়া দেখতে: কামড়ালেই যদি হুলুস্থুল পড়ে যায়, আপনার প্রতিক্রিয়া ছোট আর শান্ত রাখুন, আর মনোযোগ দিন যাকে কামড়েছে তার দিকে।
কামড়ে চামড়া কেটে গেলে সাবান-পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ডাক্তারকে দেখান।
ডে-কেয়ার বা প্লে-গ্রুপে কামড়ালে কী করবেন
যেখানে অনেক ছোট বাচ্চা অল্প কয়েকটা খেলনা নিয়ে খেলে, সেখানে কামড়ানো খুব সাধারণ। শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করুন, কখন আর কোথায় হয়, আর বাসায় ও সেখানে একই কথা বলার ব্যাপারে একমত হোন। কয়েক ঘণ্টা পরে বাসায় এসে শাস্তি দেবেন না; ছোট বাচ্চা দুটো ঘটনা মেলাতে পারে না।
বাচ্চা বাবা-মাকে মারে: কেন, আর কী করবেন
নিজের বাচ্চা মারলে অনেক বাবা-মা খুব ধাক্কা খান, বিশেষ করে মা, কারণ সবচেয়ে বেশি মার প্রায়ই মায়ের ভাগেই পড়ে। বাচ্চারা সাধারণত সবচেয়ে বড় অনুভূতিগুলো উগরে দেয় সেই মানুষের কাছে, যার কাছে সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করে; তাই এর মানে এই নয় যে সে আপনাকে ভালোবাসে না। ৩ বছরের বাচ্চা ‘না’ শুনে মারুক বা সারাদিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে, ধাপ একই: হাত আটকান, দরকার হলে একটু সরে দাঁড়ান, আর শান্ত থাকুন।
হাসবেন না, পাল্টা মারবেন না। যে নিয়ম বলেছেন সেটা ধরে রাখুন, কারণ চড় খাওয়ার পর দিয়ে দিলে বাচ্চা শেখে, চড়েই কাজ হয়।
মারা আর কামড়ানো আগে থেকে কমানোর উপায়
- বলার মতো শব্দ শিখিয়ে দিন: ‘আমার পালা’, ‘থামো’, ‘সাহায্য করো’, ‘আমার রাগ হচ্ছে’।
- ছোট বাচ্চারা একসঙ্গে খেললে কাছাকাছি থাকুন, বিশেষ করে প্রথম আধা ঘণ্টা আর দিনের শেষ দিকে।
- ঘুম ঠিক রাখুন: ১–২ বছরে ২৪ ঘণ্টায় মোটামুটি ১১–১৪ ঘণ্টা, আর ৩–৫ বছরে ১০–১৩ ঘণ্টা, দুপুরের ঘুমসহ।
- হুটোপুটির খেলা খেলুন, তবে একটা পরিষ্কার ‘থামো’ শব্দ রাখুন, যাতে উত্তেজনার মধ্যেও থামার চর্চা হয়।
- ৪ বছর বা তার বেশি বয়সী বাচ্চার মারার সঙ্গে খুব রাগ থাকলে দেখুন শিশুর রাগ কমানোর উপায়।
বাংলাদেশি পরিবারে: ভাইবোন, মুরুব্বি আর গৃহকর্মী
দাওয়াত আর পারিবারিক অনুষ্ঠানে
দাওয়াতে বা ঈদে এক ঘর ভর্তি চাচাতো-খালাতো ভাইবোন, একটা প্রিয় খেলনা আর দেরিতে রাতের খাবার — এমন দিনেই বাচ্চা খেলার সময় মারামারি করে, কামড়ও দেয়। যাওয়ার আগে খাইয়ে নিন, প্রথম আধা ঘণ্টা বাচ্চাদের কাছাকাছি থাকুন, আর বাচ্চা বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠলে অন্য ঘরে নিয়ে একটু শান্ত সময় কাটান। কাউকে ব্যথা দিলে আগে সেই বাচ্চাকে দেখুন, তারপর তার মা-বাবাকে শান্তভাবে জানান।
দাদা-দাদি বা নানা-নানি হাসলে, বা পাল্টা মারতে বললে
ছোট বাচ্চা নানুকে চড় দিলে প্রায়ই সবাই হেসে ফেলেন, আর হাসি দেখে সে আবার মারে। আলাদা করে নরমভাবে দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে অনুরোধ করুন, না হেসে ছোট হাতটা ধরে ‘আস্তে’ বলতে। আবার কোনো কোনো মুরুব্বি শেখান, ‘কেউ মারলে তুমিও মারবে।’ এর চেয়ে নিরাপদ শিক্ষা হলো: ‘থামো’ বলো, সরে যাও, আর বড় কাউকে জানাও।
গৃহকর্মী আর বড় ভাইবোন
কিছু ছোট বাচ্চা সবাইকে মারে, গৃহকর্মীকেও, কারণ বোঝে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। নিয়মটা সবার জন্য এক রাখুন: কাউকেই মারা যাবে না। তাঁকে বলুন হাতটা আটকে আপনাকে ডাকতে, আর খেয়াল রাখুন, বড় কেউ বা বড় ভাইবোন যেন কখনো বাচ্চাকে পাল্টা না মারে।
মারা আর কামড়ানো কমানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। প্রতিবার মারা বা কামড়ানো লিখে রাখুন: কখন, কাকে, আর ঠিক আগে কী হয়েছিল।
- দিন ২: বারবার কী হচ্ছে খুঁজুন: খিদে, ক্লান্তি, ভিড়ের ঘর, একটা খেলনা, নাকি একজন মানুষ?
- দিন ৩: সবচেয়ে বড় কারণটার জন্য একটা পরিবর্তন বেছে নিন, যেমন একটু আগে নাশতা, বা খেলার সময় কাছে থাকা।
- দিন ৪: বাসার সবাই মিলে একই কথা বলার ব্যাপারে একমত হোন: ‘মারতে দেব না।’
- দিন ৫: খেলার মধ্যে ‘এর বদলে কী করব’ চর্চা করুন: ‘থামো’ বলা, পা ঠোকা, পালা চাওয়া।
- দিন ৬: যত আলতো, নরম মুহূর্ত দেখবেন, সবগুলো মুখে বলুন।
- দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার মারল, কখন, আর কত তাড়াতাড়ি শান্ত হলো। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের পরিবর্তনটা বেছে নিন।
কখন সাহায্য নেবেন
ছোট বাচ্চার আক্রমণাত্মক আচরণের পেছনে সাধারণত থাকে হতাশা; এর মানে এই নয় যে বড় হয়ে সে অন্যদের ওপর জোর খাটাবে। তবে নিচের কোনোটা হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন:
এমন হলে সাহায্য নিন
- ৪–৫ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন মারে বা কামড়ায়, কয়েক সপ্তাহ শান্তভাবে একই নিয়ম মেনে চলার পরও।
- বাচ্চা প্রায়ই অন্য বাচ্চাদের জখম করে, যেমন কামড়ে চামড়া কেটে যায় বা কালশিটে পড়ে।
- বাচ্চা ইচ্ছে করে পশুপাখিকে কষ্ট দেয়, বা অন্যকে ব্যথা দিয়ে মজা পায় বলে মনে হয়।
- হঠাৎ মারামারি শুরু হয়েছে, সঙ্গে আরও বদল: ঘুম খারাপ, আগে পারত এমন কিছু ভুলে যাওয়া, চুপচাপ গুটিয়ে থাকা, বা ভয়ের কোনো ঘটনার পর।
- বাচ্চা নিজেকে আঘাত করে, বা বয়সের তুলনায় খুব কম শব্দ বলে; দেখুন বাচ্চা দেরিতে কথা বলে কী করবেন।
- বাচ্চার মারামারিতে আপনি ভয় পাচ্ছেন, বা মনে হচ্ছে বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন। একটু সরে যান, সাহায্য নিন, আর কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
ParentMind-এ প্রতিবার মারা বা কামড়ানো, ঠিক আগে কী হয়েছিল আর কী কাজে দিল, তা নোট করে রাখতে পারেন, যাতে বারবার কী হচ্ছে সেটা দেখা সহজ হয়; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
ছোট বাচ্চার মারা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে এটা একটা সাময়িক পর্যায়। মোটামুটি ১ থেকে ৩ বছর বয়সে মারা খুব সাধারণ, কারণ তখন অনুভূতি আসে মুখের কথা আর নিজেকে সামলানোর ক্ষমতার চেয়ে দ্রুত; কথা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৪ বছরের মধ্যে সাধারণত অনেক কমে যায়। প্রতিবার শান্তভাবে, একইভাবে সামলান, আর ৪–৫ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন হলে পরামর্শ নিন।
আমার ৩ বছরের বাচ্চা অন্য কাউকে না মেরে শুধু আমাকেই কেন মারে?
সাধারণত কারণ, আপনিই তার সবচেয়ে নিরাপদ মানুষ। বাচ্চারা সবচেয়ে বড় অনুভূতিগুলো উগরে দেয় যাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে তার কাছে, প্রায়ই লম্বা একটা দিনের শেষে। এটা ভালোবাসা বা সম্মানের অভাব নয়। শান্তভাবে হাতটা আটকান, যে নিয়ম বলেছেন সেটা ধরে রাখুন, আর দেখুন কঠিন মুহূর্তগুলোর পেছনে ক্লান্তি বা খিদে আছে কি না।
কেমন লাগে বোঝাতে কি বাচ্চাকে পাল্টা কামড় দেওয়া উচিত?
না। ছোট বাচ্চা আপনার কামড়ের সঙ্গে নিজের কামড় মেলাতে পারে না; সে শেখে, রাগ হলে বড়রাও কামড়ায়, আর অনেকে এতে আরও বেশি কামড়ায়। ভয়ও পেতে পারে। তার বদলে শান্তভাবে কামড় থামান, বলুন ‘দাঁত দিয়ে খাবার খাই, মানুষকে কামড়াই না’, যে ব্যথা পেয়েছে তাকে আদর করুন, আর দাঁত ওঠার কারণে হলে চিবানোর মতো নিরাপদ কিছু দিন।
ডে-কেয়ারে বাচ্চা অন্য বাচ্চাদের কামড়ালে কী করব?
বাসায় শাস্তি না দিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মিলে কাজ করুন। জিজ্ঞেস করুন কখন আর কোথায় কামড়ায়, যেমন দুপুরের খাবারের আগে বা একটা খেলনা নিয়ে, আর দুই জায়গাতেই একই শান্ত কথা বলার ব্যাপারে একমত হোন। ঘুম আর খিদে ঠিক আছে কি না দেখুন, ‘আমার পালা’ বলার মতো শব্দ শেখান, আর ঝুঁকির সময়গুলোতে শিক্ষকদের কাছাকাছি থাকতে অনুরোধ করুন।
অন্য বাচ্চা মারলে কি আমার বাচ্চাকে পাল্টা মারতে বলব?
না বলাই ভালো। ‘তুমিও মারবে’ শেখালে বাচ্চা শেখে, মারামারি দিয়েই সমস্যার সমাধান হয়, আর কখন সেটা ‘ঠিক’ তা ছোট বাচ্চা বুঝতে পারে না। তার বদলে একটা পরিষ্কার উপায় শেখান: জোরে ‘থামো!’ বলো, সরে যাও, আর বড় কাউকে জানাও। বাসায় খেলার ছলে এটা চর্চা করুন, আর কাজে লাগালে প্রশংসা করুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।






