মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চাকে শাসন করার উপায়: মারধর আর বকাঝকা ছাড়াই যেভাবে শেখাবেন

ছোট করে উত্তর

মারধর না করে শাসন মানে বাচ্চাকে শেখানো, কী করা উচিত — পরিষ্কার সীমা, শান্তভাবে কথা রাখা আর ন্যায্য পরিণতির মাধ্যমে। মারলে হয়তো তখনকার মতো আচরণ থামে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সাধারণত আরও খারাপ হয়, আর বাচ্চার আস্থা নষ্ট হতে পারে। বাচ্চাকে শাসন করার উপায় হিসেবে চেষ্টা করুন: আগে নিজে শান্ত হোন, একটা পরিষ্কার নির্দেশ দিন, ছোট একটা যুক্তিসঙ্গত পরিণতি রাখুন, আর পরে একসাথে মিটিয়ে নিন।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
২–১২ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা, আর পরিবারের যাঁরা বাচ্চাকে শাসন করেন
মূল কথা
  • মারলে হয়তো তখনই কথা শোনে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সাধারণত অবাধ্যতা বাড়ে, বাচ্চা লুকাতে শেখে, আর আস্থা কমে — আচরণ ভালো হয় না।
  • শান্তভাবে শাসন মানেও শক্ত সীমা: একটা পরিষ্কার নির্দেশ, ‘আগে এটা, তারপর ওটা’, ছোট একটা যুক্তিসঙ্গত পরিণতি, আর প্রতিবার কথা রাখা।
  • আগে নিজের রাগ সামলান: কিছু করার আগে থামুন, শ্বাস নিন, একটু সরে যান, আর মুখে বলুন যে আপনি একটু সময় নিচ্ছেন।
  • মেজাজ হারিয়ে ফেললে মিটিয়ে নিন: কী করেছেন তা বলুন, ‘কিন্তু’ ছাড়া দুঃখিত বলুন, আর একসাথে আবার চেষ্টা করুন।

বাচ্চাকে শাসন করার উপায় খুঁজছেন মানে হয়তো এই মুহূর্তটা আপনার চেনা: যা করতে একশোবার মানা করেছেন, বাচ্চা ঠিক সেটাই করল, আর ভাবার আগেই আপনার হাত উঠে গেল। আমাদের অনেকেই বড় হয়েছি চড়, বেত বা স্যান্ডেলের শাসনে, আর আমরা আমাদের বাবা-মাকে ভালোবাসি। নিজে অন্যভাবে করতে চাওয়া মানে তাঁদের অসম্মান করা নয়।

শাসন মানে শেখানো, কষ্ট দেওয়া নয়। নিচে আছে: মারলে কেন প্রায়ই উল্টো ফল হয়, কী বলবেন তা-সহ পুরো উপায়, নিজের রাগ সামলানোর পরিকল্পনা, খারাপ মুহূর্তের পরে কীভাবে মিটিয়ে নেবেন, দাদা-দাদি বা শিক্ষক মারলে কী করবেন, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।

সন্তানকে মারা কি ঠিক? মারলে বাচ্চা আসলে কী শেখে

মারলে অনেক সময় তখনকার মতো কাজ হয়, তাই মনে হয় এটা কার্যকর: ভয় পেলে বাচ্চা থেমে যায়। কিন্তু শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি একমত যে মাস আর বছরের হিসাবে শারীরিক শাস্তিতে আচরণ ভালো হওয়ার বদলে সাধারণত খারাপ হয়।

  • বাচ্চা শেখে, রাগ হলে বড়রা মারে; তাই অনেক বাচ্চা ভাইবোন বা সহপাঠীদের বেশি মারে।
  • বাচ্চা শেখে কীভাবে ধরা না পড়তে হয়, কেন কাজটা ভুল তা নয়; তাই মিথ্যা বলা প্রায়ই বাড়ে।
  • আস্থা নষ্ট হয়: যে বাচ্চা বাবা-মাকে ভয় পায়, সে স্কুলের, অনলাইনের বা কোনো বড় মানুষের দেওয়া কষ্টের কথা তাঁদের বলতে চায় না।
  • আঘাত লাগতে পারে, বিশেষ করে রেগে থাকা অবস্থায় — আর বেশির ভাগ মারধর তখনই হয়।

যে বাবা-মা মারেন, তাঁরা খারাপ বাবা-মা নন। সাধারণত তাঁরা ক্লান্ত, সন্তান কেমন মানুষ হবে তা নিয়ে চিন্তিত, আর নিজেরা যেভাবে বড় হয়েছেন সেভাবেই করছেন। শান্তভাবে শাসন করা একটা দক্ষতা, আর যেকোনো বয়সে তা শেখা যায়।

মারার বদলে ঠিক সেই মুহূর্তে কী করবেন

  1. নিরাপদে আচরণটা থামান: দুই বাচ্চার মাঝে দাঁড়ান, ছুড়ে মারা জিনিসটা নিয়ে নিন, মারতে ওঠা হাতটা ধরে ফেলুন।
  2. নিজে থামুন। মারতে বা চিৎকার করতে ইচ্ছে হলে বলুন ‘আমার একটু সময় দরকার’, ধীরে শ্বাস ছাড়ুন, আর বাচ্চা নিরাপদ থাকলে একটু সরে যান।
  3. নিচু গলায় এক বাক্যে সীমাটা বলুন: ‘আমরা মারি না।’
  4. বদলে কী করবে তা বলুন: ‘মুখে বলো, “ফেরত দাও।”’
  5. শান্তভাবে কথা রাখুন: কাজটা করতে সাহায্য করুন, অথবা ঘটনার সঙ্গে মিল আছে এমন ছোট একটা পরিণতি রাখুন — লম্বা উপদেশ ছাড়া।
  6. পরে, সবাই শান্ত হলে কথা বলুন: কী হয়েছিল, আর পরের বার কীভাবে ঠিক করা যায়।

যা বলতে পারেন

  • আমার এখন খুব রাগ হচ্ছে। একটু সময় নিচ্ছি, তারপর আমরা এটা মিটিয়ে নেব।
  • বোনকে মারতে দেব না। হাত নামাও।
  • রাগ হতেই পারে। কিন্তু জিনিস ছোড়া যাবে না।
  • যে খেলনাটা ছোড়া হয়েছে, ওটা রাতের খাবারের পর পর্যন্ত তাকের ওপর থাকবে।
  • আগে হোমওয়ার্ক শেষ, তারপর কার্টুন।
  • ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাপারটা ঠিক করতে তুমি কী করতে পারো?

মারধর না করে শাসন: যে উপায়গুলো কাজে লাগাবেন

পজিটিভ প্যারেন্টিং বা নরম শাসন মানে ছাড় দেওয়া নয়। এতে সীমা শক্তই থাকে, শুধু ভয়টা বাদ যায়।

অল্প কয়েকটা পরিষ্কার নিয়ম, প্রতিবার একইভাবে বলা

সবচেয়ে জরুরি ৩–৫টা নিয়ম ঠিক করুন, যেমন ‘আমরা মারি না’, ‘খাওয়ার সময় মোবাইল-টিভি নয়’। প্রতিবার একইভাবে বলুন, আর বাসার সব বড়রা যেন নিয়মগুলো জানেন।

ভয় দেখানোর বদলে ‘আগে এটা, তারপর ওটা’

‘আগে জুতা পরো, তারপর পার্কে যাব’ — কথাটা হুমকির মতোই পরিষ্কার, কিন্তু এতে ভয় নেই; বরং বাচ্চা নিজেই কাজটা সেরে ফেলতে চায়, আর গলা না চড়িয়েও নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই থাকে।

যুক্তিসঙ্গত পরিণতি, যা শেখায়

যুক্তিসঙ্গত পরিণতি হলো আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত, সম্মানজনক, ছোট আর অল্প সময়ের। এতে অপমান ছাড়াই বাচ্চা কারণ আর ফল বুঝতে শেখে।

যুক্তিসঙ্গত পরিণতির কয়েকটা উদাহরণ
কী হয়েছেযুক্তিসঙ্গত পরিণতিএর বদলে
খেলনা ছুড়েছেখেলনাটা কাল পর্যন্ত তাকের ওপর থাকবেচড়
দেয়ালে আঁকিবুঁকি করেছেমুছে ফেলতে সাহায্য করবেচিৎকার আর গালমন্দ
বলার পরও কার্টুন বন্ধ করছে নাকাল কার্টুনের সময় কমএক মাস টিভি বন্ধ
ভাই বা বোনকে মেরেছেকিছুক্ষণ আলাদা খেলবে, তারপর মিটমাট করবেকেমন লাগে বোঝাতে পাল্টা মারা
ফোন নিয়ে নিয়ম ভেঙেছেআজ রাতে ফোন বসার ঘরে থাকবেমারধর, বা ঘরে আটকে রাখা

টাইম-আউট নাকি টাইম-ইন?

টাইম-ইন মানে বাচ্চা শান্ত হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকা, তারপর কথা বলা। ছোট বাচ্চা, আর একা পাঠালে যে বাচ্চা ভয় পেয়ে যায়, তাদের জন্য এটা বেশি মানানসই। টাইম-আউট হলো নিরিবিলি কোনো জায়গায় অল্প সময়ের শান্ত বিরতি — কখনো অন্ধকার বা তালা দেওয়া ঘরে নয়। শান্ত আর ছোট হলে দুটোই কাজে দিতে পারে।

বয়স অনুযায়ী বাচ্চাকে কীভাবে শাসন করবেন: ২ থেকে ১২ বছর

বয়স অনুযায়ী শান্ত শাসন
বয়সযা প্রায়ই কাজে দেয়মনে রাখবেন
২–৩ বছরমনোযোগ অন্যদিকে নেওয়া, জিনিসটা সরিয়ে নেওয়া, টাইম-ইন, খুব কম কথানিজেকে থামানোর ক্ষমতা এখনো কম; থামানোর কাজটা আপনার
৪–৬ বছর‘আগে এটা, তারপর ওটা’ ধরনের কথা, পছন্দ দেওয়া, ছোট টাইম-আউট বা টাইম-ইনকড়া হওয়ার চেয়ে নিয়মিত থাকা বেশি জরুরি
৭–৯ বছরযুক্তিসঙ্গত পরিণতি, সহজ ঘরের নিয়মন্যায্যতা জরুরি; কারণটা একবার, ছোট করে বলুন
১০–১২ বছরএকসাথে নিয়ম ঠিক করা, দায়িত্বের সঙ্গে সুবিধা জুড়ে দেওয়ালজ্জা দেওয়া বা মারা আস্থার গভীর ক্ষতি করতে পারে; ভুল ধরুন আড়ালে

একদম ছোটদের জেদের মুহূর্ত সামলাতে দেখুন শিশুর জেদ কমানোর উপায়, আর যেকোনো বয়সে বড় রাগ সামলাতে রাগী বাচ্চাকে সামলানো।

বকাঝকা না করে শাসন: আগে নিজের রাগ সামলান

বেশির ভাগ মারধর আর চিৎকার হয়, যখন বাবা-মা আগে থেকেই ক্লান্ত, খিদে পেয়েছে, দেরি হয়ে যাচ্ছে, বা টাকা কিংবা পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। নিজের রাগের শুরুর লক্ষণগুলো চিনে রাখুন — মুখ গরম হয়ে যাওয়া, চোয়াল শক্ত হওয়া, গলা চড়ে যাওয়া — আর দরকারের আগেই একটা পরিকল্পনা ঠিক করে রাখুন।

  1. লক্ষণটা খেয়াল করুন আর মুখে বলুন: ‘আমার রাগ হচ্ছে।’
  2. তিনবার ধীরে শ্বাস ছাড়ুন, নেওয়ার চেয়ে লম্বা করে।
  3. বাচ্চা নিরাপদ থাকলে কয়েক মিনিটের জন্য সরে যান, একটু পানি খান, তারপর একটা উপায় নিয়ে ফিরে আসুন: ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ ধরনের একটা কথা, অথবা একটা যুক্তিসঙ্গত পরিণতি।
  4. বাসায় আরেকজন বড় মানুষ থাকলে দায়িত্বটা দিন: ‘পাঁচ মিনিট একটু দেখবে?’

মেরে বা চিৎকার করে ফেললে কী করবেন: কীভাবে মিটিয়ে নেবেন

সব বাবা-মা-ই কখনো কখনো মেজাজ হারান; সবচেয়ে জরুরি হলো তার পরে কী করছেন। শান্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করলে আপনার কর্তৃত্ব কমে না। বরং বাচ্চা দেখে, বড়রা কীভাবে নিজের ভুলের দায় নেয়, আর আস্থা আবার ফিরে আসে।

  1. আগে নিজে শান্ত হোন, যাতে দুঃখ প্রকাশটা আরেকটা উপদেশ হয়ে না যায়।
  2. বাচ্চার কাছে যান, ওর সমান উচ্চতায় বসুন, আর আপনি কী করেছেন তা বলুন।
  3. ‘কিন্তু’ ছাড়া দুঃখিত বলুন। ওর আচরণ নিয়ে কথা পরে হবে।
  4. পরের বার কী করবেন তা বলুন, আর তারপর সেটাই করুন।

মিটিয়ে নেওয়ার কথা

  • আমি তোমাকে মেরেছি, এটা ভুল ছিল। কারও তোমাকে মারা উচিত না, আমারও না।
  • রাগ হয়েছিল বলে চিৎকার করেছি। সরি, আমার ভুল হয়েছে। আমার চিৎকারের জন্য তুমি দায়ী না।
  • পরের বার এত রাগ হলে আমি আগে একটু সরে যাব।
  • আমরা কি আবার শুরু করতে পারি? হোমওয়ার্কটা কিন্তু শেষ করতেই হবে।

বাংলাদেশি পরিবারে: মুরব্বি, শিক্ষক আর ‘না মারলে মানুষ হবে না’

অনেক বাংলাদেশি পরিবারে চড়-থাপ্পড় বা বেতকে ভালো মানুষ করার অংশ মনে করা হয়, আর প্রায়ই শোনা যায়: ‘না মারলে মানুষ হবে না।’ যাঁরা এ কথা বলেন, তাঁরা সাধারণত বাচ্চাকে ভালোবাসেন। অতীত নিয়ে তর্ক না করে তাঁদের আসল দুশ্চিন্তার জবাব দিলে কাজ হয় বেশি।

দাদা-দাদি, নানা-নানি আর আত্মীয়দের সঙ্গে

  • বাচ্চার সামনে নয়, আলাদা করে কথা বলুন: ‘আমি জানি আপনি চান ও ভালো মানুষ হোক। আমরাও তাই চাই। আমরা মারধর ছাড়া শেখানোর চেষ্টা করছি, এতে আপনার সাহায্য লাগবে।’
  • শুধু নিয়ম নয়, একটা ভূমিকা দিন: ঘুমের আগে গল্প বলা, বাচ্চার মন খারাপ হলে শান্তভাবে একটু হাঁটতে নিয়ে যাওয়া।
  • একটা নিয়মে সবাই একমত হোন: এই বাসায় কেউ মারবে না — বড় কাজিন বা গৃহকর্মীও না।
  • কোনো আত্মীয় বাচ্চাকে মারলে শান্তভাবে মাঝে আসুন, বাচ্চাকে সান্ত্বনা দিন, আর পরে আড়ালে বড় মানুষটির সঙ্গে কথা বলুন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই মতের অমিল থাকলে আগে দেখুন দুজন বাবা-মা, এক পরিকল্পনা।

শিক্ষক বা কোচিংয়ের স্যার যখন মারেন

বাংলাদেশের স্কুলে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ, তবু কিছু বাচ্চা এখনো স্কুলে বা কোচিংয়ে বেত, কান মলা বা অপমানের মুখে পড়ে। শান্তভাবে, মাঝে মাঝেই বাচ্চার কাছে জানতে চান ক্লাস কেমন যাচ্ছে। কিছু ঘটে থাকলে বলার জন্য ধন্যবাদ দিন, কী, কবে আর কে — লিখে রাখুন, আর প্রধান শিক্ষক বা কোচিংয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলুন।

অনেক পরিবারের কাছে নিজেদের মূল্যবোধ — ধৈর্য, দয়া আর সম্মান — শান্ত শাসনের সবচেয়ে বড় কারণ। যে বাচ্চা সম্মান পায়, সে সাধারণত সম্মান দিতেও শেখে।

শান্ত শাসনের ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: যতবার মারতে বা চিৎকার করতে ইচ্ছে হয়েছে, লিখে রাখুন: কখন, ঠিক আগে কী হয়েছিল, আর আপনি কতটা ক্লান্ত ছিলেন বা খিদে পেয়েছিল কি না।
  2. দিন ২: ঘরের নিয়মগুলো আর নিজের থামার পরিকল্পনা ঠিক করুন, আর শান্ত কোনো সময়ে বাচ্চাকে দুটোই জানান।
  3. দিন ৩: অন্তত একবার ভয় দেখানোর বদলে ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ বলে দেখুন।
  4. দিন ৪: যে আচরণটা সবচেয়ে বেশি হয়, তার জন্য একটা যুক্তিসঙ্গত পরিণতি আগেই ঠিক করুন, যাতে রাগের মাথায় বানাতে না হয়।
  5. দিন ৫: বাসার অন্য বড়দের সঙ্গে ‘কেউ মারবে না’ নিয়মটা নিয়ে আড়ালে, নরমভাবে কথা বলুন।
  6. দিন ৬: বাচ্চার তিনটা ভালো কাজ খেয়াল করুন আর মুখে বলুন: ‘তুমি টেনে না নিয়ে চেয়ে নিলে।’ আরও দেখুন ভালো দিকগুলো খেয়াল করা।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার মারতে ইচ্ছে হয়েছিল, কতবার থামতে পেরেছেন, বাচ্চা কীভাবে সাড়া দিয়েছে। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর একটা জিনিস বদলান।

শাসন আর রাগ নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন

এমন হলে সাহায্য নিন

  • থামানোর চেষ্টা করার পরও প্রায় প্রতি সপ্তাহে বাচ্চাকে মারছেন, বা মারতে গিয়ে থেমেছেন। নিজের জন্য ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।
  • একবার চিৎকার বা মারধর শুরু করলে থামতে পারেন না, অথবা আপনার রাগ নিজের মন খারাপ, পুরোনো কষ্ট, মদ বা মাদকের সঙ্গে জড়িত মনে হয়।
  • বাসায়, স্কুলে বা কোচিংয়ে কারও মারে বাচ্চার গায়ে দাগ, কালশিটে বা আঘাত দেখা যায়। ডাক্তার দেখান।
  • বাচ্চা কোনো বড় মানুষকে ভয় পায় বলে মনে হয়, কেউ হাত তুললে কুঁকড়ে যায়, বা হঠাৎ কোনো ক্লাসে বা আত্মীয়ের বাসায় যেতে চায় না।
  • শান্ত আর নিয়মিত শাসনের পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে বাচ্চার নিজের মারামারি, মিথ্যা বলা বা মারমুখী আচরণ বাড়ছেই।
  • আপনার ভয় হচ্ছে বাচ্চাকে গুরুতর আঘাত করে ফেলতে পারেন: বাচ্চা নিরাপদে আছে কি না নিশ্চিত করুন, সম্ভব হলে অন্য একজন বড় মানুষের কাছে দিন, আর এখনই সরে যান। কোনো বাচ্চা এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।

এক সপ্তাহে সব বদলায় না, আর মাঝে মাঝে ভুল হওয়াও স্বাভাবিক। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হচ্ছে তা নোট করতে আর বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে সাহায্য করে — যেমন কোন সন্ধ্যাগুলো সবচেয়ে কঠিন — যাতে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে পারেন; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

মারলে কি সত্যিই কাজ হয়?

মারলে তখনকার মতো আচরণ থামতে পারে, তাই মনে হয় কাজ হচ্ছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সাধারণত আচরণ আরও খারাপ হয়: মারামারি আর মিথ্যা বলা বাড়ে, আস্থা কমে, আর রেগে থাকলে সেটা আঘাতে গড়াতে পারে। শিশু-স্বাস্থ্য বিষয়ক বেশির ভাগ নির্দেশনা যেকোনো মারের বিপক্ষে, হালকা চড়েরও। না মেরেও আপনি সমান দৃঢ় থাকতে পারেন।

বকাঝকা না করে কীভাবে শাসন করব?

কথা বলার আগে কাছে যান, তাহলে গলা চড়াতে হবে না। চোখের সমান উচ্চতায় একটা ছোট নির্দেশ দিন, তারপর বলুন ‘আগে এটা, তারপর ওটা’: ‘আগে খেলনা গোছাও, তারপর গল্প পড়ব।’ কাজটা না হলে শান্তভাবে ছোট একটা পরিণতি রাখুন। গলা চড়ে যাচ্ছে টের পেলে বলুন ‘আমার একটু সময় দরকার’, আর একটু সরে যান।

আমাকেও তো মেরে বড় করেছে, আমি তো ভালোই আছি। তাহলে আমি কেন অন্যভাবে করব?

যাঁরা মার খেয়ে বড় হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ভালো ও সফল মানুষ হয়েছেন — প্রায়ই বাবা-মায়ের ভালোবাসা আর চেষ্টার কারণে, মারের কারণে নয়। শান্ত শাসনে যা কাজ করেছিল তা থাকে — উঁচু প্রত্যাশা আর যত্ন — শুধু ঝুঁকির অংশটা বাদ যায়। অনেক বাবা-মা এটাও বোঝেন, ছোটবেলার যে ভয়টা তাঁদের এখনো মনে আছে, সেটা তাঁরা সন্তানকে দিতে চান না।

শিক্ষক বা দাদা-দাদি বাচ্চাকে মারলে কী করব?

আগে বাচ্চাকে সান্ত্বনা দিন আর বলুন, এতে ওর কোনো দোষ নেই। তারপর বড় মানুষটির সঙ্গে আড়ালে কথা বলুন: আপনার পরিবারে ‘কেউ মারবে না’ নিয়মটা বুঝিয়ে বলুন, আর বদলে কী চান তা-ও বলুন। স্কুলের ক্ষেত্রে কী হয়েছিল লিখে রাখুন আর প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন। বাচ্চা আঘাত পেলে ডাক্তার দেখান; কোনো বাচ্চা এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।

নরম শাসন মানে কি বাচ্চাকে যা খুশি করতে দেওয়া?

না। নরম বা পজিটিভ শাসনে পরিষ্কার নিয়ম আর সত্যিকারের পরিণতি থাকে; বাদ যায় শুধু মারধর, চিৎকার আর লজ্জা দেওয়া। আপনি তখনো ‘না’ বলবেন, কথা রাখবেন, হোমওয়ার্কও শেষ করাবেন। পার্থক্য হলো, বাচ্চা শেখে নিয়মটা কেন জরুরি — শুধু ধরা পড়ার ভয় নয়। প্রতিদিনের কথা শোনানো নিয়ে দেখুন বাচ্চা কথা শোনে না।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।