মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা কথা শোনে না? চিৎকার না করে কথা শোনানোর উপায় (২–১০ বছর)

ছোট করে উত্তর

বাচ্চাকে কথা শোনানোর উপায় সংক্ষেপে: কাছে যান, চোখে চোখ রাখুন, একটা ছোট নির্দেশ দিন, একটু থামুন, তারপর শান্তভাবে কথা রাখুন। বাচ্চা কথা শোনে না মানেই সাধারণত অবাধ্যতা নয়; বাচ্চারা প্রায়ই খেলা বা স্ক্রিনে ডুবে থাকে, বা একসাথে অনেক নির্দেশ পায়। নিরিবিলি ঘরেও প্রায়ই সাড়া না দিলে কানের পরীক্ষা করান।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১২ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
২–১০ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা, যাদের বাচ্চা প্রায়ই নির্দেশে সাড়া দেয় না
মূল কথা
  • ‘কথা না শোনা’র বেশির ভাগই মনোযোগের ব্যাপার, অবাধ্যতা নয়: খেলা বা স্ক্রিনে ডুবে থাকা বাচ্চা অন্য ঘর থেকে বলা কথা প্রায়ই মাথায় নেয় না।
  • চোখের সমান উচ্চতায় একবার বলা একটা ছোট নির্দেশ, তারপর একটু অপেক্ষা আর শান্তভাবে কথা রাখা — বারবার বলা আর গলা চড়ানোর চেয়ে সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
  • ভরা সংসার বা যৌথ পরিবারে সবাই এক কথা বলুন: প্রত্যেক বড় মানুষের মুখে একই নিয়ম, একই শব্দ।
  • নিরিবিলি ঘরেও প্রায়ই সাড়া না দিলে, প্রায়ই ‘কী?’ বললে, বা কথা অস্পষ্ট হলে কানের পরীক্ষা করান।

বাচ্চা কথা শোনে না — সংসারের সবচেয়ে সাধারণ বিরক্তিগুলোর একটা: একবার, দুবার, পাঁচবার বলছেন, সাড়া মিলছে শুধু চিৎকারে। এর মানে এই নয় যে বাচ্চা বেয়াদব, বা আপনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। সাধারণত এর মানে হলো, বাসায় নির্দেশগুলো যেভাবে দেওয়া হয়, তাতে একটু বদল দরকার।

নিচে পাবেন: বাচ্চা কেন কথা কানে নেয় না, প্রথমবারেই কথা শোনানোর ধাপ, কী বলবেন, ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে কী আলাদা, ভয় না দেখিয়ে কীভাবে কথা রাখবেন, ভরা সংসার বা যৌথ পরিবারে কীভাবে মানবেন, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কোন লক্ষণে বুঝবেন কানের সমস্যা হতে পারে।

বাচ্চা কেন কথা শোনে না?

কথা না শুনলে আমরা তাকে অবাধ্য বাচ্চা বলে ফেলি, কিন্তু সে সাধারণত ইচ্ছে করে আপনাকে উপেক্ষা করছে না। কয়েকটা সাধারণ ব্যাপার পথে বাধা হয়, অনেক সময় একসাথে।

  • গভীর মনোযোগ: খেলা বা কার্টুনে ডুবে থাকা বাচ্চা আপনার গলা শুনতে পায়, কিন্তু কথাগুলো মাথায় নেয় না।
  • দূর থেকে নির্দেশ, যাকে টিভি, প্রেশার কুকারের সিটি আর রাস্তার আওয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়।
  • অনেক কথা: ‘দাঁত মাজো, ইউনিফর্ম বের করো, আর ডায়েরিটা আনো’ — একসাথে তিনটা কাজ।
  • বারবার বলা: পঞ্চমবারের কথাটাই যদি আসল হয়, বাচ্চা পঞ্চমবারের জন্য অপেক্ষা করতে শেখে।
  • কথা না রাখা: যে কথা বলে আপনি কখনো করেন না, তা থেকে বাচ্চা শেখে কথা না মানলেও চলে।
  • ক্লান্তি, খিদে বা স্কুলে কঠিন একটা দিন।
  • নিজের ওপর একটু নিয়ন্ত্রণ চাওয়া, যখন সারাদিনই অন্যের নির্দেশে কাটে।
বয়স অনুযায়ী বাচ্চা সাধারণত কতটুকু পারে
বয়সসাধারণত যে নির্দেশ মানতে পারেযা সাহায্য করে
২–৩ বছরএকটা ছোট ধাপ, প্রায়ই আপনার সাহায্যেবলার সঙ্গে দেখিয়ে দেওয়া; একসাথে করা
৪–৬ বছরআগে মনোযোগ পেলে দুই-তিন ধাপের নির্দেশআগে চোখে চোখ; নির্দেশটা ওকে দিয়ে আবার বলানো
৭–১০ বছররুটিন আর একটু লম্বা কাজ, তবে স্ক্রিনে ডুবে থাকার সময় নয়ছবি বা লেখা তালিকা; আগে থেকে পরিকল্পনা ঠিক করা

প্রথমবারেই বাচ্চাকে কথা শোনানোর উপায়: ধাপে ধাপে

জুতা পরা থেকে গোসল পর্যন্ত, প্রতিদিনের বেশির ভাগ মুহূর্তে এই ধাপগুলো মানতে পারেন।

  1. বাচ্চার কাছে যান। রান্নাঘর বা পাশের ঘর থেকে ডাকা বন্ধ করুন; ব্যস্ত থাকলেও হেঁটে কাছে যান।
  2. আগে মনোযোগ নিন: চোখের সমান উচ্চতায় নামুন, নাম ধরে ডাকুন, কাঁধে হাত রাখুন, আর আপনার দিকে না তাকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। কার্টুন চললে পজ করুন।
  3. একটা নির্দেশ দিন, ছোট আর ইতিবাচক: ‘জুতা পরো’, ‘এখনো রেডি হওনি কেন?’ নয়। কী থামাতে হবে শুধু তা নয়, কী করতে হবে তা বলুন।
  4. প্রশ্ন নয়, নির্দেশ হিসেবে বলুন। ‘গোসল করবে?’ জিজ্ঞেস করলে উত্তর ‘না’ আসতেই পারে।
  5. অপেক্ষা করুন। মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনুন, কিছু বলবেন না; অনেক বাচ্চার এক কাজ থেকে অন্য কাজে যেতে এই কয়েক সেকেন্ড লাগে।
  6. কথা রাখুন। কিছু না হলে শুরু করতে সাহায্য করুন — সঙ্গে হেঁটে যান বা প্রথম জুতাটা হাতে দিন — অথবা বলুন, ‘আগে এটা, তারপর ওটা’।
  7. কথা শুনলে খেয়াল করুন আর বলুন: ‘একবার বলতেই চলে এলে। ধন্যবাদ।’

যা বলতে পারেন

  • সোনা, কার্টুনটা একটু থামাও। আমার দিকে একটু তাকাও তো।
  • এখন জুতা পরো। তারপর আমরা নিচে নেমে রিকশা নেব।
  • বলো তো, এখন তোমার কী করতে হবে?
  • আমি একবারই বলব, তারপর তোমাকে করতে সাহায্য করব।
  • আগে ব্যাগ গোছানো, তারপর খেলা।
  • তুমি একবার বলতেই শুনেছ। সকালটা কত সহজ হয়ে গেল।

২–৩ বছরের বাচ্চা কথা না শুনলে: ছোটদের বেলায় যা আলাদা

২–৩ বছরের বাচ্চা কথা না শুনলে সেটা খুবই স্বাভাবিক: এই বয়সে একবারে একটা ছোট ধাপই মনে রাখতে পারে, আর ‘না’ ওদের প্রিয় শব্দ। কম কথা বলুন, দেখিয়ে দিন কী চান, আর প্রথম অংশটা একসাথে করুন: জুতা হাতে নিয়ে বলুন, ‘জুতা পরো।’ খেলার ছলেও বলতে পারেন: ‘ব্যাঙের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে গোসলে যেতে পারবে?’

যে অভ্যাসগুলো বাচ্চাকে কথা না শুনতে শেখায়

  • অন্য ঘর থেকে চিৎকার করে ডাকা, তারপর আরও জোরে।
  • কিছু করার আগে একই কথা পাঁচবার বলা।
  • টিভি বা মোবাইল চালু রেখে নির্দেশ দেওয়া, আর আশা করা কথাটা মাথায় ঢুকবে।
  • লম্বা উপদেশ: কথা যত লম্বা, শোনা হয় তত কম।
  • যে ভয় দেখানো কথা আপনি করবেন না, যেমন ‘সব খেলনা ফেলে দেব’ বা ‘তোমাকে রেখে চলে যাব’।
  • বাচ্চার সঙ্গে শুধু নির্দেশ দেওয়া বা ভুল ধরার জন্যই কথা বলা।

যে মানুষ বাচ্চার কথা শোনে, বাচ্চাও তার কথা বেশি শোনে। দিনে কয়েক মিনিট মোবাইল সরিয়ে রেখে পুরো মনোযোগ দিলে আপনার নির্দেশও প্রায়ই সহজে কানে পৌঁছায়।

ভয় না দেখিয়ে ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ আর কথা রাখা

‘আগে এটা, তারপর ওটা’ মানে আপনার যা দরকার আর বাচ্চা যা চায়, সেই ক্রমে জুড়ে দেওয়া: ‘হোমওয়ার্কের খাতা ব্যাগে ঢোকাও, তারপর নিচে খেলতে যেতে পারো।’ এটা ঘুষ নয়, কারণ বাড়তি কিছু দেওয়া হচ্ছে না; এটা শুধু দিনের কাজগুলোর ক্রম।

কথা রাখা মানে যা বলেছেন, তা শান্তভাবে, প্রতিবার করা। খেলনা গোছানো না হলে খেলা অপেক্ষা করবে। ঠিক করা সময়ে কার্টুন বন্ধ না হলে কাল সময় কম। একবার বলুন, রাগ ছাড়া, তারপর ফলাফলটাই বাচ্চাকে শেখাক।

ভরা সংসার বা যৌথ পরিবারে: সবার এক কথা

অনেক বাংলাদেশি বাসায় বাচ্চা নির্দেশ শোনে বাবা-মা, দাদা-দাদি, খালা-ফুপু, বড় কাজিন আর গৃহকর্মীর কাছ থেকে — কখনো এক ঘণ্টার মধ্যেই, আর সবসময় একই কথা নয়। দাদি বলছেন ভাতটা শেষ করো, বাবা বলছেন পড়তে বসো, ড্রয়িংরুমে টিভি চলছে। এতে কিছু বাচ্চা যে কারও কথাই আর শোনে না, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

  • বড় মুহূর্তগুলোর জন্য কয়েকটা নিয়মে সবাই একমত হোন: সকাল, হোমওয়ার্ক, খাওয়া, মোবাইল-টিভি আর ঘুম।
  • এসব মুহূর্তে কে নির্দেশ দেবেন তা ঠিক করুন, যাতে বাচ্চাকে তিন দিকে টানাটানি করা না হয়।
  • বাচ্চার সামনে কোনো মুরব্বি আপনার কথার উল্টো বললে সেখানে তর্ক করবেন না। পরে আড়ালে, সম্মান রেখে কথা বলুন।
  • জরুরি নির্দেশের সময় — যেমন স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া — টিভি বন্ধ করুন বা আওয়াজ কমান।
  • গৃহকর্মীকে আপনার মতো একই কথা বলতে অনুরোধ করুন, আর অন্য ঘর থেকে না ডেকে বাচ্চার কাছে গিয়ে বলতে বলুন।

নিয়ম নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতের মিল না হলে দুজন বাবা-মা, এক পরিকল্পনা লেখায় একমত হওয়ার সহজ উপায় আছে।

যখন স্ক্রিন চালু

স্ক্রিনে কিছু দেখার সময় বাচ্চা অনেক সময় সত্যিই নির্দেশ শুনতে পায় না। স্ক্রিনের সঙ্গে পাল্লা না দিয়ে সেটা পজ করুন, চোখে চোখ রাখুন, তারপর নির্দেশ দিন। স্ক্রিন টাইম শুরুর আগেই ঠিক করুন কীভাবে শেষ হবে: ‘দুই পর্ব, তারপর ট্যাব তাকের ওপর।’ বয়স অনুযায়ী সীমা জানতে দেখুন বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম।

প্রথমবারেই কথা শোনানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। যে তিনটা নির্দেশ সাধারণত কানে যায় না, সেগুলো লিখুন: বলার সময় আপনি কোথায় ছিলেন, আর কতবার বলতে হয়েছে।
  2. দিন ২: এর মধ্যে একটা বেছে নিন, যেমন স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া, আর সেটা শুধু চোখের সমান উচ্চতায়, একবার বলুন।
  3. দিন ৩: যোগ করুন ১০ সেকেন্ডের অপেক্ষা আর শান্তভাবে একবার কথা রাখা।
  4. দিন ৪: দিনের সবচেয়ে কঠিন সময়টায় একবার ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ বলে দেখুন।
  5. দিন ৫: বাসার অন্য বড়দের সঙ্গে একই কথা বলার ব্যাপারে একমত হোন।
  6. দিন ৬: মোবাইল সরিয়ে রেখে ১০ মিনিট বাচ্চা যা চায় তা নিয়ে ওর সঙ্গে সময় কাটান।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার একই কথা বলতে হয়েছে, কতবার গলা চড়াতে হয়েছে। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের নির্দেশটা যোগ করুন।

কখন কথা না শোনা কানের সমস্যা বা অন্য কিছুর লক্ষণ হতে পারে

কখনো কখনো কথা না শোনার আসল কারণ হলো, বাচ্চা ঠিকমতো শুনতে পায় না, বা কোথাও মন বসাতে পারে না। বাচ্চাদের কানের পরীক্ষা সাধারণত তাড়াতাড়ি হয়, ব্যথাও লাগে না। নিচের কোনোটা হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন আর কানের পরীক্ষা করাতে চান:

এমন হলে পরীক্ষা করান

  • নিরিবিলি ঘরে পেছন থেকে নাম ধরে ডাকলে বাচ্চা প্রায়ই ফিরে তাকায় না।
  • প্রায়ই ‘কী?’ বলে, টিভির আওয়াজ অনেক বাড়িয়ে দেয়, বা আপনি কথা বলার সময় আপনার মুখের দিকে খুব খেয়াল করে তাকিয়ে থাকে।
  • বয়সের তুলনায় কথা অস্পষ্ট, বা একই বয়সী অন্য বাচ্চাদের চেয়ে পিছিয়ে।
  • ঘন ঘন কানে ইনফেকশন হয়, বা সর্দি-কাশির পর কয়েক সপ্তাহ ধরে কম শোনে বলে মনে হয়। হঠাৎ শোনার ক্ষমতা বদলে গেছে মনে হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।
  • শিক্ষক বলছেন প্রায়ই নির্দেশ ধরতে পারে না, বা কয়েক মাস ধরে বাসায়, স্কুলে আর খেলায় — সব জায়গায় মন বসাতে কষ্ট হচ্ছে।
  • আপনার বিরক্তি প্রায় প্রতিদিন মারধর বা চিৎকারে গড়াচ্ছে। নিজের জন্য সাহায্য নিন; কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।

নির্দেশ দেওয়ার ধরনে ছোট বদলও এক-দুই সপ্তাহে বেশ পার্থক্য আনতে পারে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হচ্ছে তা নোট করতে আর বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে সাহায্য করে — যেমন কোন নির্দেশ কখন কানে যায় না — যাতে বুঝতে পারেন এরপর কী বদলাবেন; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বাচ্চা শুধু চিৎকার করলেই কথা শোনে কেন?

সাধারণত কারণ চিৎকারটাই হয়ে গেছে ‘এবার সত্যি বলছি’র সংকেত। শান্তভাবে বলা কথা যদি বারবার বলা হয় কিন্তু কথা রাখা না হয়, বাচ্চা চিৎকারের জন্য অপেক্ষা করতে শেখে। প্রথম, শান্ত নির্দেশটাকেই আসল করুন: কাছে যান, একবার বলুন, একটু অপেক্ষা করুন, তারপর শুরু করতে সাহায্য করুন, বা বলুন ‘আগে এটা, তারপর ওটা’। প্রথম কথাটার দাম বাড়লে অনেক পরিবারে চিৎকারও কমে আসে।

৫ বছরের বাচ্চা কথা শোনে না — এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, কিছুটা। ৫ বছরের বাচ্চা এখনো শিখছে পছন্দের কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে আপনার কথায় আনতে, আর একবারে দুই-তিনটা ধাপের বেশি মনে রাখতে পারে না। আগে মনোযোগ নিন, আর শুরুতে একটু সাহায্য করুন। নিরিবিলি ঘরেও আওয়াজ ধরতে না পারলে বা কথা অস্পষ্ট হলে কানের পরীক্ষা করান।

কথা না শুনলে কি বাচ্চাকে শাস্তি দেব?

কঠোর শাস্তিতে কাজ খুব কমই হয়, আর মারলে সময়ের সঙ্গে কথা শোনা সাধারণত আরও কমে। বেশি কাজে দেয় নির্দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত ছোট, শান্ত একটা পরিণতি — যেমন খেলনা গোছানো না হওয়া পর্যন্ত খেলা অপেক্ষা করবে — আর সেটা প্রতিবার মানা। আগে নিশ্চিত হোন বাচ্চা আসলে শুনেছে আর বুঝেছে; ‘কথা না শোনা’র অনেক মুহূর্তই মনোযোগের ব্যাপার, অবাধ্যতা নয়।

বারবার না বলে কীভাবে বাচ্চাকে কথা শোনাব?

কাছে গিয়ে, চোখে চোখ রেখে একবার বলুন, তারপর চুপ করে প্রায় ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। কিছু না হলে আবার বলবেন না; কাজ করুন। সঙ্গে হেঁটে যান, প্রথম জিনিসটা হাতে দিন, বা শান্তভাবে বলুন, ‘আগে এটা, তারপর ওটা’। প্রথমে একটু ধীর মনে হয়, কিন্তু বেশির ভাগ বাচ্চা তাড়াতাড়ি শিখে যায় যে প্রথম কথাটাই আসল।

কার্টুন দেখার সময় বা মোবাইলে থাকলে বাচ্চা আমার কথা কানেই নেয় না, কী করব?

স্ক্রিনের সঙ্গে পাল্লা দেবেন না; থামিয়ে দিন। কার্টুনে ডুবে থাকা বাচ্চা অনেক সময় সত্যিই আপনার কথা শুনতে পায় না। চোখে চোখ পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, নির্দেশ দিন, তারপর আবার চালু করুন বা কথামতো শেষ করুন। শুরুর আগেই ঠিক করে নিন কীভাবে শেষ হবে (‘দুই পর্ব, তারপর বন্ধ’), তাহলে প্রায়ই ঝগড়াটাই এড়ানো যায়।

বাচ্চা কথা শুনতে চায় না, নাকি শুনতে পারছে না — কীভাবে বুঝব?

কখন হচ্ছে, খেয়াল করুন। যে বাচ্চা শুনতে চায় না, সে সাধারণত পছন্দের কথা ঠিকই শোনে — অন্য ঘর থেকে ‘কে আইসক্রিম খাবে?’ বললেই দৌড়ে আসে। যে ঠিকমতো শুনতে পায় না, সে নিরিবিলিতে আর মজার কথাতেও আওয়াজ ধরতে পারে না, ভুল শোনে, বা অস্পষ্ট কথা বলে; তখন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে কানের পরীক্ষার কথা বলুন। ইচ্ছে করে গোঁ ধরে থাকলে দেখুন জেদি সন্তান সামলানোর উপায়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।