মূল কনটেন্টে যান

জেদি সন্তান সামলানোর উপায়: ৫–১২ বছরের বাচ্চা কথায় কথায় ‘না’ বললে

ছোট করে উত্তর

৫–১২ বছরের জেদি সন্তান সাধারণত ‘খারাপ’ বাচ্চা নয়; সে দৃঢ় মনের, নিজের ওপর একটু নিয়ন্ত্রণ চায়। সত্যিকারের বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে, নিয়ম বানাতে ওকে সঙ্গে নিলে, শান্ত থাকলে আর অল্প কয়েকটা ঠিক করা সীমায় কথা রাখলে টানাটানি সাধারণত কমে আসে। কয়েক মাস ধরে বাসায় আর স্কুলে সবসময় অবাধ্যতা থাকলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১২ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৫–১২ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা, যাদের বাচ্চা প্রায় প্রতিদিন তর্ক করে, ‘না’ বলে বা গোঁ ধরে থাকে
মূল কথা
  • দৃঢ় মন অনেক সময় ভবিষ্যতের শক্তি: লেগে থাকা, ন্যায্যতার বোধ, আর সহজে অন্যের কথায় না চলা — পরে এগুলো বাচ্চার কাজে লাগতে পারে।
  • টানাটানিতে জেতা যায় না, কিন্তু বেরিয়ে আসা যায়: সীমাটা একবার বলুন, দুটো সত্যিকারের পছন্দ দিন, আর শান্তভাবে কথা রাখুন।
  • যে নিয়ম বানাতে বাচ্চা নিজে সাহায্য করেছে, তা চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের চেয়ে মানা সহজ — তাই বড় নিয়মগুলো একসাথে ঠিক করুন: হোমওয়ার্ক, মোবাইল-টিভি, ঘুম।
  • কয়েক মাস ধরে বাসায় আর স্কুলে সবসময় অবাধ্যতা থাকলে, বা এর সঙ্গে মারমুখী আচরণ, ভয় বা মন খারাপ থাকলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

আপনার সন্তান যদি জেদি হয়, তাহলে হয়তো হোমওয়ার্ক থেকে গোসল পর্যন্ত সবকিছুতে ‘না’, ‘পরে’ আর ‘কেন করব?’ শুনতে শুনতে আপনি ক্লান্ত। আপনি একা নন, আর জেদি সন্তান মানেই সে খারাপ হয়ে গেছে, তা নয়। স্কুলে পড়া অনেক বাচ্চাই শক্ত করে গোঁ ধরে, বিশেষ করে যাদের ব্যক্তিত্ব সবচেয়ে দৃঢ়।

৮ বছর বয়সে যে গুণগুলোর জন্য দৃঢ় মনের বাচ্চাকে সামলানো কঠিন — লেগে থাকা, ন্যায্যতার তীক্ষ্ণ বোধ, ভিড়ের সঙ্গে না চলা — ১৮ বছরে সেগুলোই কাজে লাগতে পারে। লক্ষ্য ওর মনের জোর ভেঙে দেওয়া নয়, সঠিক দিকে চালানো। নিচে পাবেন: বাচ্চা কেন গোঁ ধরে, মুহূর্তে কী বলবেন, হোমওয়ার্ক আর মোবাইল নিয়ে লড়াই, আর কখন সাহায্য নেবেন।

বাচ্চা খুব জেদ করে কেন?

কিছু বাচ্চা জন্ম থেকেই বেশি দৃঢ়: স্বভাবই ঠিক করে দেয় বাচ্চা কতটা তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে আর কত সহজে পরিকল্পনা বদলাতে পারবে। ৫ থেকে ১২ বছরে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা দ্রুত বাড়ে, কিন্তু নিজের দিনটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ প্রায়ই বাড়ে না।

  • নির্দেশে ভরা দিন: স্কুল, কোচিং, হোমওয়ার্ক, প্রাইভেট আর বাসার নিয়ম — নিজের বলে কিছুই প্রায় থাকে না।
  • ন্যায্যতার তীব্র বোধ: ‘কাজিন কেন দেরি করে ঘুমাতে পারে?’ — ওর কাছে এটা সত্যিকারের প্রশ্ন।
  • কাজ খুব কঠিন মনে হওয়া: হোমওয়ার্কে ‘না’ বলার পেছনে অনেক সময় থাকে কীভাবে শুরু করবে তা না বোঝা।
  • দুশ্চিন্তা, যা দেখতে জেদের মতো: কোচিং বা দাওয়াতে যেতে না চাওয়া অনেক সময় ভয়, অবাধ্যতা নয়।
  • ক্লান্তি, খিদে আর স্ক্রিন: ক্লান্ত বাচ্চাকে খেলা থেকে টেনে তুললে সে আরও শক্ত করে গোঁ ধরে।
  • শেখা অভ্যাস: অনেকক্ষণ তর্ক করলে মাঝে মাঝে জেতা গেলে বাচ্চা তর্ক চালিয়েই যায়।

জেদি সন্তান গোঁ ধরলে ঠিক সেই মুহূর্তে কী করবেন

  1. টানাটানিটা খেয়াল করুন, আর নিজে টানা বন্ধ করুন। এই মুহূর্তে জেতার দরকার নেই; দরকার কাজটা হওয়া আর সম্পর্কটা ঠিক থাকা।
  2. গলা নামান, ধীরে কথা বলুন; দৃঢ় মনের বাচ্চা প্রায়ই আপনার তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দেয়।
  3. জানতে চান: ‘কোন জায়গাটা কঠিন লাগছে?’ প্রায়ই এমন একটা কারণ থাকে যা আপনি এখনো শোনেননি।
  4. উত্তর না বদলালেও ওর যুক্তিটা স্বীকার করুন।
  5. সীমাটা একবার বলুন, আর এমন দুটো পছন্দ দিন যার দুটোই আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য।
  6. সময় দিন: ‘পাঁচ মিনিট পর আবার আসছি’ বললে আত্মসম্মানী বাচ্চা মান বাঁচিয়েই রাজি হতে পারে।
  7. লম্বা উপদেশ বা ‘বলেছিলাম না?’ ছাড়াই, শান্তভাবে ঠিক করা পরিণতিতে কথা রাখুন।

যা বলতে পারেন

  • এটা নিয়ে আমি তর্ক করব না। আবার আমি কোথাও চলেও যাচ্ছি না।
  • তুমি এখন অঙ্ক শুরু করতে চাইছ না। কোন জায়গাটা কঠিন লাগছে?
  • কথাটা ঠিকই বলেছ। উত্তর তবু ‘না’, কিন্তু আমি তোমার কথা শুনেছি।
  • মোবাইলের আগে হোমওয়ার্ক। আগে বাংলা, না আগে অঙ্ক? তুমি ঠিক করো।
  • কয়েক মিনিট সময় নাও। আমি এসে দুজনে মিলে ঠিক করব।
  • নিয়মটা থাকছে। কিন্তু আমি তোমার পক্ষেই আছি।

প্রতিদিন জেদি সন্তান সামলানোর উপায়

সন্তানের জেদ কমানোর উপায় খুঁজলে মনে রাখুন, বেশির ভাগ বদল আসে লড়াইয়ের বাইরের সময়ে। এই অভ্যাসগুলো দৃঢ় মনের বাচ্চাকে নিরাপদ জায়গাগুলোতে একটু নিয়ন্ত্রণ দেয়।

  • দিনে অনেকবার সত্যিকারের পছন্দ দিন: কোন জামা, কোন বিষয় আগে, গোসল রাতের খাবারের আগে না পরে।
  • ওকে বিশেষজ্ঞ হতে দিন: একটা খেলা আপনাকে শেখাতে বলুন, শুক্রবারের দুপুরের খাবারের মেনু ঠিক করতে দিন, বা দোকানে যাওয়ার রাস্তা ও-ই বেছে নিক।
  • একসাথে কয়েকটা পারিবারিক চুক্তি করুন, লিখে ফ্রিজের গায়ে লাগিয়ে দিন। কীভাবে করবেন, দেখুন পরিবারের স্ক্রিন চুক্তি লেখায়।
  • ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ ধরনের রুটিন রাখুন, যাতে দিনের ক্রমই কাজটা করায়: ‘আগে হোমওয়ার্ক, তারপর ক্রিকেট।’
  • এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার আগে জানিয়ে দিন: ‘আর ১০ মিনিট, তারপর খেলা শেষ।’
  • নমনীয়তা দেখলেই প্রশংসা করুন: ‘ঝামেলা না করেই পরিকল্পনা বদলালে। একদম বড়দের মতো।’

হোমওয়ার্ক, কোচিং আর মোবাইল: তিনটা বড় লড়াই

হোমওয়ার্ক আর কোচিং

হোমওয়ার্কের লড়াই অনেক সময় কাজটা নিয়ে নয়, শুরু করা নিয়ে। প্রথম কয়েক মিনিট পাশে বসুন, সবচেয়ে সহজ প্রশ্নটা দিয়ে শুরু করুন, আর লম্বা কাজ ছোট ছোট ভাগে করুন। দিনে যদি আগে থেকেই স্কুল, কোচিং আর প্রাইভেট থাকে, তাহলে ‘না’ মানে হয়তো বাচ্চা স্রেফ ক্লান্ত। পড়ার শান্ত একটা রুটিন পাবেন বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না লেখায়।

মোবাইল আর স্ক্রিন

মোবাইলের লড়াই জেতার চেয়ে আগে থেকে ঠেকানো সহজ। ডিভাইস হাতে দেওয়ার আগেই নিয়ম ঠিক করুন: কখন, কতক্ষণ, আর রাতে কোথায় থাকবে। স্কুলে পড়া বাচ্চার জন্য নির্দেশনায় জোর দেওয়া হয় এমন নিয়মিত সীমায়, যা ঘুম রক্ষা করে, দিনে অন্তত ৬০ মিনিট সক্রিয় খেলা, হোমওয়ার্ক আর পরিবারের সময় রাখে, আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিন থাকে না।

কাজিন আর সহপাঠীদের সঙ্গে তুলনা

‘দেখো তোমার কাজিন, ও তো কখনো তর্ক করে না’ — এমন কথায় কাজ খুব কমই হয়: দৃঢ় মনের বাচ্চা ভাবে সে একটা প্রতিযোগিতায় হারছে, তাই আরও গোঁ ধরে। বাচ্চাকে শুধু ওর নিজের সঙ্গে তুলনা করুন: ‘গত সপ্তাহে অঙ্ক নিয়ে এক ঘণ্টা তর্ক হয়েছিল; আজ মাত্র ১০ মিনিট।’

দৃঢ় মনের বা অবাধ্য সন্তানের সঙ্গে যে ভুলগুলো হয়

  • পাল্টাপাল্টি তর্ক: প্রতিবার পাল্টা জবাব দিলে বাচ্চা বোঝে, সীমাটা এখনো নড়চড় করা যায়।
  • রাগের মাথায় বিশাল শাস্তি, যেমন এক মাস ফোন বন্ধ — যা আপনি ধরে রাখতে পারবেন না।
  • অনেকক্ষণ লড়াইয়ের পর হার মেনে নেওয়া; এতে বাচ্চা শেখে, লেগে থাকলেই জেতা যায়।
  • ‘তুমি একটা জেদি’ বা ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ — এমন তকমা, যা বাচ্চারা প্রায়ই নিজের পরিচয় বানিয়ে ফেলে; আর আত্মীয় বা সহপাঠীদের সামনে লজ্জা দেওয়া।
  • মারা। হয়তো সেই মুহূর্তে জেতা যায়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে অবাধ্যতা সাধারণত বাড়ে। পুরো উপায় পাবেন মারধর না করে শাসন লেখায়।

বাংলাদেশি পরিবারে: আদব, আত্মীয়স্বজন আর তুলনা

অনেক বাংলাদেশি পরিবারে মুরব্বিদের মুখে মুখে কথা বলাকে বেয়াদবি ধরা হয়, আর পরিবারের সামনে বাচ্চা ‘না’ বললে বাবা-মায়ের মনে হয় সবাই তাঁদের বিচার করছে। এই চাপে অনেক সময় বাবা-মা আড়ালে যেমন করতেন, তার চেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেন।

  • আড়ালে শুধরে দিন: আত্মীয়দের সামনে না বকে বাচ্চাকে একটু আলাদা করে নিন। অপমানিত না হলে আদব শেখানো সহজ হয়।
  • দ্বিমত আর বেয়াদবির পার্থক্য শেখান: ‘তুমি শান্ত গলায় বলতে পারো, “আমি একমত না।” কিন্তু নানুর সঙ্গে চিৎকার করা যাবে না।’
  • আত্মীয়দের নরমভাবে তুলনা না করতে অনুরোধ করুন: ‘আমরা বাচ্চাদের মধ্যে তুলনা না করার চেষ্টা করছি। এতে ও আরও জেদ করে।’
  • প্রতিদিনের সিদ্ধান্তে বাবা-মায়ের একজন যদি একটু দূরে থাকেন, তাঁকে সঙ্গে নিন; দুজনের কাছ থেকে একই সীমা শুনলে বাচ্চার ঠেলাঠেলির কারণ কমে। পরিবারের সময় — যেমন শুক্রবারের দুপুরের খাবার — রাখুন কাছাকাছি থাকার জন্য, ভুল ধরার জন্য নয়।

টানাটানি কমানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: প্রতিটা টানাটানি লিখে রাখুন: কখন, কোন কাজ নিয়ে, কী বলা হয়েছিল, আর কীভাবে শেষ হলো।
  2. দিন ২: বারবার কী হচ্ছে খুঁজুন — স্কুলের পরে, কোচিংয়ের আগে, নাকি মোবাইল বন্ধের সময় — আর আপনার তিনটা অবশ্যই-রাখার সীমা ঠিক করুন।
  3. দিন ৩: দিনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে দুটো সত্যিকারের পছন্দ দিন।
  4. দিন ৪: একসাথে বসে একটা পারিবারিক নিয়ম লিখে ঠিক করুন, যেমন হোমওয়ার্ক বা মোবাইল নিয়ে।
  5. দিন ৫: একটা বিষয়ে বাচ্চাকে বিশেষজ্ঞ হতে দিন: ও পরিকল্পনা করবে, শেখাবে বা বেছে নেবে।
  6. দিন ৬: নমনীয়তা বা সহযোগিতার তিনটা মুহূর্ত খেয়াল করুন আর মুখে বলুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার টানাটানি হলো, কতক্ষণ চলল, কীভাবে শেষ হলো। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর একটা জিনিস বদলান।

কখন অবাধ্যতার জন্য বাড়তি সাহায্য দরকার

দৃঢ় মন কোনো রোগ নয়, অবাধ্য সন্তান মানেই ‘খারাপ’ সন্তান নয়, আর বেশির ভাগ জেদ বড় হওয়ারই স্বাভাবিক অংশ। বিশেষজ্ঞের কাজ বাচ্চাকে বোঝা, তকমা লাগানো নয়। নিচের কোনোটা হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন:

এমন হলে সাহায্য নিন

  • প্রায় প্রতিদিন, বেশির ভাগ বড় মানুষের সঙ্গে, বাসায় আর স্কুলে — সব জায়গায় অবাধ্যতা, আর শান্ত ও নিয়মিত চেষ্টার পরও কয়েক মাস ধরে চলছে।
  • তর্ক প্রায়ই মারামারি, জিনিস ভাঙা বা অন্যকে আঘাত করায় গড়ায়।
  • বাচ্চা দিনের বেশির ভাগ সময় রাগী বা খিটখিটে থাকে, অথবা মন খারাপ, চুপচাপ বা খুব দুশ্চিন্তায় থাকে বলে মনে হয়।
  • ‘না’ বলাটা মূলত স্কুল বা কোচিং নিয়ে, আর স্কুলের সকালে এর সঙ্গে ভয়, পেটব্যথা বা মাথাব্যথা থাকে; দেখুন শিশুর দুশ্চিন্তা।
  • কাজ ছোট ছোট ভাগ করার পরও পড়া নিয়ে লড়াই চলছেই, আর আপনার মনে হচ্ছে পড়াশোনাটাই হয়তো বাচ্চার জন্য কঠিন।
  • বাচ্চা নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার কথা বলে: শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

টানাটানি সাধারণত ধীরে ধীরে কমে, একেকটা শান্ত সন্ধ্যা করে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হচ্ছে তা নোট করতে আর বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে সাহায্য করে — যেমন কোন সময়ে আর কোন কাজ নিয়ে বেশির ভাগ তর্ক শুরু হয় — যাতে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে পারেন; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

৮ বছরের বাচ্চার অবাধ্য হওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, ৮ বছর বয়সে কিছুটা অবাধ্যতা স্বাভাবিক। এই বয়সে বাচ্চা নিজের স্বাধীনতা আর ন্যায্যতার বোধ গড়ে তুলছে, তাই যে নিয়ম অন্যায় মনে হয় তা নিয়ে তর্ক করে, বিশেষ করে ক্লান্ত থাকলে। তবে প্রায় প্রতিদিন, বেশির ভাগ বড় মানুষের সঙ্গে, বাসায় আর স্কুলে কয়েক মাস ধরে চললে, বা সঙ্গে মারমুখী আচরণ বা মন খারাপ থাকলে চিন্তার বিষয়।

জেদি সন্তান আর দৃঢ় মনের সন্তানের মধ্যে পার্থক্য কী?

পার্থক্যটা মূলত আমরা কীভাবে দেখি তাতে। ‘জেদি’ বা ‘একগুঁয়ে বাচ্চা’ বলি সেই আচরণকে, যা বাবা-মাকে ক্লান্ত করে: ‘না’ বলা, তর্ক করা, গোঁ ধরা। ‘দৃঢ় মনের’ বলি ভেতরের স্বভাবকে: লেগে থাকে, হাল ছাড়ে না, কী চায় তা জানে। শক্তিটা দেখতে পেলে লড়াই না করে সেটাকে সঠিক দিকে চালাতে পারবেন; ৮ বছরে যে বাচ্চা পিছু হটে না, ১৫ বছরে সে হয়তো নিজের পক্ষে দাঁড়াতে পারবে।

দৃঢ় মনের জেদি বাচ্চাকে কীভাবে শাসন করবেন?

অনেক নিয়ম আর বড় শাস্তির বদলে আগে থেকে ঠিক করা অল্প কয়েকটা শক্ত সীমা, শান্তভাবে ধরে রাখা। সেই সীমার মধ্যে পছন্দ দিন, ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ ধরনের রুটিন রাখুন, আর ছোট যুক্তিসঙ্গত পরিণতিকে কাজ করতে দিন — যেমন হোমওয়ার্ক শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল অপেক্ষা করবে। অন্যায় মনে হওয়া শাস্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় মনের বাচ্চা সাধারণত আরও লড়ে, আর মারলে সময়ের সঙ্গে অবাধ্যতা সাধারণত বাড়ে।

বাচ্চা যা বলি সবকিছুতেই ‘না’ বলে। কোথা থেকে শুরু করব?

কম নির্দেশ আর বেশি কাছাকাছি থাকা দিয়ে শুরু করুন। সবচেয়ে জরুরি তিনটা সীমা বেছে নিন, ছোটখাটো বিষয় আপাতত ছেড়ে দিন। সেই সীমার মধ্যে পছন্দ দিন, একবারে একটা পরিষ্কার নির্দেশ দিন, আর দিনে ১০ মিনিট এমন সময় কাটান যেখানে কোনো নির্দেশই নেই। বাচ্চা কম চাপ অনুভব করলে মুখে মুখে ‘না’ বলাটা প্রায়ই নরম হয়ে আসে।

ছোট বয়সেই খুব জেদি বাচ্চাকে কীভাবে সামলাব?

সহজ রাখুন, কথার চেয়ে কাজ বেশি: কম কথা, দুটো পছন্দ (‘লাল কাপ, না নীল কাপ?’), প্রতিটা বদলের আগে একটু জানিয়ে রাখা, আর শান্তভাবে কথা রাখা। ২–৩ বছরে ‘না’ বলা স্বাধীন হতে শেখারই স্বাভাবিক অংশ, অবাধ্যতা নয়। এই বয়সে জেদ খুব সাধারণ; জেদের মুহূর্তে কী করবেন, ধাপে ধাপে আছে শিশুর জেদ কমানোর উপায় লেখায়।

বড় হলে কি জেদি স্বভাব কমে যাবে?

সাধারণত বয়সের সঙ্গে তীব্রতাটা কমে আসে, কিন্তু দৃঢ় মনটা প্রায়ই থেকে যায় — আর সেটা ভালোও হতে পারে। শান্ত সীমা আর নিজের জীবনে সত্যিকারের মতামতের সুযোগ পেলে অনেক দৃঢ় মনের বাচ্চা এই জোরটা পড়াশোনা, খেলাধুলা আর বন্ধুদের চাপের মুখে নিজের পক্ষে দাঁড়াতে কাজে লাগাতে শেখে। বাসায় প্রতিদিন টানাটানি চললে অবাধ্যতা সাধারণত টিকে থাকে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

স্কুলপড়ুয়া (৬–৯ বছর): আরও গাইড

স্কুলপড়ুয়া: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।