বাচ্চা খেলনা ভাগ করতে চায় না? বয়স অনুযায়ী কী স্বাভাবিক, আর কীভাবে শেখাবেন
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা খেলনা ভাগ করতে চায় না? বেশির ভাগ সময় এটা ওর বয়সের জন্য স্বাভাবিক। মোটামুটি ৩ বছরের কম বয়সী বাচ্চা এখনো অন্যের চাওয়াকে আগে রাখতে পারে না, আর ভাগ করার অভ্যাস ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মোটামুটি ৩ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। জোর করে খেলনা দিতে বাধ্য না করে পালা করে খেলা শেখান, মেহমান আসার আগে প্রিয় খেলনা সরিয়ে রাখুন, আর প্রতিটা পালার প্রশংসা করুন। মোটামুটি ৫ বছরের পরও খেলনা নিয়ে প্রায়ই অন্যকে আঘাত করলে পরামর্শ নিন।
লেখাটি শুনুন
১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ২–৬ বছরের বাচ্চার বাবা-মা, যাঁদের বাচ্চা খেলনা কেড়ে নেয়, আঁকড়ে ধরে রাখে বা ‘আমার!’ বলে চিৎকার করে: বাসায়, ভাইবোন আর কাজিনদের সঙ্গে, বা মেহমান এলে
- মূল কথা
- ছোট বাচ্চার ভাগ করতে না চাওয়া স্বাভাবিক: ‘তোমার’ বোঝার অনেক আগে আসে ‘আমার’, আর সত্যিকারের ভাগাভাগি সাধারণত ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মোটামুটি ৩ থেকে ৬ বছরের মধ্যে।
- ভাগ করার চেয়ে পালা করে খেলা শেখা সহজ: টাইমার বা একটা ছড়া দিয়ে ‘তোমার পালা, তারপর আমার পালা’ বললে শেষটাও পরিষ্কার, শুরুটাও ন্যায্য।
- জোর করে অন্যকে খেলনা দিতে বাধ্য করলে পরের বার বাচ্চা প্রায়ই আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে; ওকে নিজের পালা শেষ করতে দিন, আর নিজে থেকে দিলে প্রশংসা করুন।
- মেহমান বা কাজিনরা আসার আগে বাচ্চার সঙ্গে মিলে দু-তিনটা খুব প্রিয় খেলনা সরিয়ে রাখুন, আর ঠিক করুন কোন খেলনাগুলো সবার জন্য।
বাচ্চা খেলনা ভাগ করতে চায় না, আর তাতেই একটা সাধারণ বিকেল কান্নাকাটিতে গড়ায়: আপনার মেয়ে পুতুলটা বুকে চেপে ধরে আছে, কাজিন চিৎকার করে কাঁদছে, আর ঘরের সব বড়রা তাকিয়ে আছেন আপনার দিকে। বাচ্চা ‘আমার!’ বলে চিৎকার করে খেলনা আঁকড়ে ধরলে এর মানে এই নয় যে সে স্বার্থপর বা বিগড়ে গেছে। ৪ বছরের কম বয়সী বেশির ভাগ বাচ্চার কাছে এটাই স্বাভাবিক।
ভাগ করা একটা দক্ষতা, আর এটা ধীরে ধীরে তৈরি হয়। ছোট বাচ্চাকে বুঝতে হয় যে অন্য কেউও খেলনাটা চায়, সেটা ফেরত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, আর বিশ্বাস করতে হয় যে সত্যিই ফেরত আসবে। নিচে পাবেন বয়স অনুযায়ী কী স্বাভাবিক, ঠিক সেই মুহূর্তে কী করবেন, কীভাবে পালা করে খেলা শেখাবেন, ভাইবোন, কাজিন আর মেহমানদের বেলায় কী করবেন, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।
বাচ্চা খেলনা ভাগ করতে চায় না কেন? কোন বয়সে কী স্বাভাবিক
বাচ্চা কারও সঙ্গে খেলনা ভাগ করতে চায় না, ‘আমার জিনিস’ বলে চিৎকার করে: এ নিয়ে বাবা-মায়েরা খুব বেশি দুশ্চিন্তা করেন, অথচ ছোট বাচ্চার আচরণের মধ্যে এটা সবচেয়ে স্বাভাবিকগুলোর একটা। ‘আমার’ বোধটা আসে বেশ আগে, যখন বাচ্চা বুঝতে শুরু করে যে সে আলাদা একজন মানুষ। কিন্তু অন্য বাচ্চাও যে ঠিক ততটাই চায়, আর একটা খেলনা দিলে যে সেটা আবার ফিরে আসে, এটা বুঝতে কয়েক বছর লাগে।
- অন্যের দিক থেকে এখনো দেখতে পারে না। মোটামুটি ৩ বছরের আগে বেশির ভাগ বাচ্চা বোঝে না যে অন্য বাচ্চাটাও খেলনাটা ঠিক ততটাই চায়।
- ‘পরে’ কথাটার মানে এখনো ঠিক বোঝে না। ২ বছরের বাচ্চার কাছে হাতছাড়া খেলনা মানে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাওয়া।
- কিছু জিনিস খুব আপন: নানুর দেওয়া পুতুল, যে গাড়িটা ও সব জায়গায় সঙ্গে নিয়ে যায়, বিদেশ থেকে পাঠানো উপহার।
- ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত বা ভিড়ের মধ্যে থাকা বাচ্চা কম ভাগ করে। দশজন কাজিনের সঙ্গে ঈদের একটা ব্যস্ত বিকেল সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
| বয়স | সাধারণত যা হয় | যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ২ বছরের কম | যা আকর্ষণীয় লাগে তা-ই ধরে ফেলে; ‘আমার’ বলার সময় অন্যের কথা এখনো মাথায় আসে না। এই বয়সে ভাগ করা আশা করা হয় না। | অদলবদল করুন, মন অন্যদিকে ঘোরান বা আরেকটা খেলনা দিন; আপনার সঙ্গে দেওয়া-নেওয়ার খেলা খেলুন। |
| ২–৩ বছর | ‘আমার!’ সবচেয়ে জোরালো; কেড়ে নেওয়া আর আঁকড়ে ধরা খুব সাধারণ; অন্য বাচ্চার সঙ্গে নয়, পাশাপাশি খেলে বেশি। | পাশে বড় কেউ থেকে খুব ছোট ছোট পালা, টাইমার বা ছড়া, আর ‘আমার পালা’, ‘তোমার পালা’ কথাগুলো। |
| ৩–৪ বছর | সাহায্য পেলে পালা করে খেলতে আর একটু অপেক্ষা করতে শুরু করে; প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করা শুরু হয়। | প্রতিটা পালার প্রশংসা, খেলার মধ্যে অনুশীলন, আর পালা শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে দেওয়া। |
| ৪–৬ বছর | আগের চেয়ে বেশি ভাগ করে, কোনটা ন্যায্য তা নিয়ে খুব সচেতন, সহজ নিয়ম মেনে নিতে পারে; তবে খুব প্রিয় জিনিস আর ক্লান্ত দিনে এখনো কঠিন। | নিয়মটা ওকেই প্রস্তাব করতে দিন, প্রিয় খেলনা আলাদা রাখুন, আর অন্য বাচ্চাটার কেমন লাগল তা নিয়ে কথা বলুন। |
বাচ্চা খেলনা ভাগ করতে না চাইলে কী করবেন: ধাপে ধাপে
সেই মুহূর্তে লক্ষ্য নিখুঁতভাবে খেলনা দিয়ে দেওয়া নয়; লক্ষ্য হলো ন্যায্য, নিরাপদ একটা পালা, আর বাচ্চা যেন শেখে যে আপনার কাছে তার জিনিস নিরাপদ।
- শুরুতেই শান্তভাবে কাছে যান। টানাটানি মারামারিতে গড়ানোর আগেই বাচ্চাদের পাশে বসে পড়ুন।
- দুজন কী চাইছে, তা বলে দিন: ‘তুমি গাড়িটা দিয়ে খেলছ। রাফিও একটু খেলতে চায়।’
- খেলনাটা টেনে নিয়ে অন্য বাচ্চাকে দিয়ে দেবেন না। ওর হাত থেকে কেড়ে নিলে বাচ্চা শেখে, কেড়ে নেওয়াই নিয়ম।
- পালাটা পরিষ্কার করে দিন: বালুঘড়ি, কয়েক মিনিট, বা ‘গানটা শেষ হওয়া পর্যন্ত’। যার হাতে খেলনা, সে আগে নিজের পালা শেষ করবে।
- যে অপেক্ষা করছে, তাকে অপেক্ষা করতে সাহায্য করুন: আরেকটা খেলনা দিন, হাত ধরুন, একসঙ্গে গুনুন।
- পালা শেষ হওয়ার একটু আগে জানিয়ে দিন, তারপর খেলনাটা হাতবদল করতে সাহায্য করুন। বাচ্চা ছাড়তে না পারলে আলতো করে সাহায্য করুন, আর কান্নার সময় পাশে থাকুন।
- দেওয়াটা খেয়াল করুন: ‘তুমি রাফিকে খেলতে দিলে। দেখো, ও কত খুশি!’ তারপর কথামতো খেলনাটা যেন সত্যিই ওর কাছে ফিরে আসে, সেটা নিশ্চিত করুন।
যা বলতে পারেন
- তুমি এখনো খেলছ। বালুঘড়ির বালু শেষ হলে রাফির পালা।
- তুমি গাড়িটা খুব চাইছ। এখন মিমের পালা। এরপরই তোমার।
- কেড়ে নিতে দেব না। তুমি বলতে পারো, ‘আমি একটু খেলি?’
- ওটা তোমার খুব প্রিয় পুতুল। কাজিনরা যতক্ষণ আছে, চলো ওটা তাকে তুলে রাখি।
- তুমি ওকে খেলতে দিলে, আর নিজের পালার জন্য অপেক্ষা করলে। সহজ ছিল না, তবু তুমি পেরেছ।
বাচ্চাকে কি জোর করে ভাগ করাবেন?
সাধারণত না। বাচ্চা খেলনা ভাগ করতে চায় না বলে অন্য বাচ্চা চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে খেলনা দিয়ে দিতে বাধ্য করলে বাচ্চা শিখতে পারে, যে সবচেয়ে জোরে কাঁদে খেলনা তারই; আর পরের বার প্রথম বাচ্চাটা প্রায়ই আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। পালা অবশ্য আলাদা ব্যাপার: সবার খেলনা পালা শেষে হাতবদল হবে, এটা দৃঢ়ভাবে চাইতে পারেন; পাশাপাশি বাচ্চার কয়েকটা জিনিস শুধু তারই থাকুক।
ভাগাভাগি শেখানোর উপায়: রোজ একটু একটু করে ভাগ করা আর পালা করে খেলা
শিশুকে শেয়ার করা শেখানো মূলত হয় শান্ত সময়ে, খেলনা নিয়ে পরের ঝগড়াটা শুরু হওয়ার অনেক আগে। আপনার সঙ্গে ছোট ছোট মজার অনুশীলন দিয়েই সাধারণত ছোট বাচ্চার পালা করে খেলা শেখা শুরু হয়।
- পালার খেলা খেলুন: বল গড়িয়ে দেওয়া-নেওয়া, একজন একজন করে টাওয়ারে একটা করে ব্লক বসানো, আর একটু বড়দের জন্য লুডু বা সাপলুডু।
- নিজে ভাগ করুন, আর মুখে বলুন: ‘আমার কমলাটা তোমার সঙ্গে ভাগ করি’, ‘বাবা, আমার পরোটার অর্ধেক খাবে?’
- সবার জন্য একই টাইমার রাখুন, যাতে পালা কখন শেষ হবে তা ঠিক করে নিয়ম, কোনো মানুষ নয়।
- বাচ্চাকে বলার মতো কথা শিখিয়ে দিন: ‘আমি একটু খেলি?’, ‘আর ৫ মিনিট, তারপর তুমি’, ‘চলো একসঙ্গে খেলি।’
- এমন গল্প পড়ুন বা অভিনয় করে দেখান, যেখানে চরিত্ররা ভাগ করে আর অপেক্ষা করে; তারপর জিজ্ঞেস করুন, ‘ওর কেমন লেগেছিল বলো তো?’
- ভাগ করলে ঠিক কী করেছে তা বলে প্রশংসা করুন: ‘তুমি বোনকে লাল রংপেনসিলটা দিলে।’ আরও উদাহরণ পাবেন সন্তানের প্রশংসা করার উপায় লেখায়।
ভাইবোনের সঙ্গে ভাগাভাগি, আর যে ছোটটা কেড়ে নেয়
বন্ধুর চেয়ে ভাইবোনের সঙ্গে ভাগ করা প্রায়ই বেশি কঠিন, কারণ খেলনা, জায়গা আর আপনার মনোযোগ, সবই রোজ ভাগ করতে হয়। বাচ্চা যদি ভাই বা বোনের সঙ্গে ভাগ করতে না চায়, বাসার কয়েকটা নিয়ম কাজে দেয়:
- প্রত্যেক বাচ্চার কয়েকটা জিনিস শুধু তার নিজের, নিজের বাক্সে বা নিজের তাকে থাকবে; জিজ্ঞেস না করে কেউ ধরবে না।
- বাকি সব খেলনা পরিবারের, চলবে পালা করে।
- বড় বলে সবসময় বড়জনকেই ছাড় দিতে বলবেন না। ‘দিয়ে দাও, ও তো ছোট’, বারবার শুনতে শুনতে বড় বাচ্চার মনে গভীর অন্যায়বোধ জমতে পারে।
- বড়জনের খেলা বাঁচিয়ে রাখুন: যে ব্লকের টাওয়ার বা আঁকা ছোটটা বারবার নষ্ট করে, সেটা ওর নাগালের বাইরে টেবিলে সরিয়ে নেওয়া যায়।
- ছোটজনকেও একটা কাজ দিন: টাইমারটা ধরে রাখা, বা পরের খেলাটা বেছে নেওয়া।
ছোট বাচ্চা অন্যের হাত থেকে খেলনা কেড়ে নিলে শুরুতেই এগিয়ে যান, খেলনাটা যার কাছে ছিল তাকে ফিরিয়ে দিন, আর যে কেড়েছে তাকে বলার মতো কথা আর আরেকটা খেলনা দিন। কেড়ে নেওয়া থেকে মারা বা কামড়ানো শুরু হলে পড়ুন বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন। খেলনার বাইরেও ঝগড়া লেগে থাকলে পুরো পরিকল্পনা আছে ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায় লেখায়।
বাংলাদেশি পরিবারে: মেহমান, কাজিন, ঈদ আর সবচেয়ে প্রিয় খেলনা
আমাদের অনেক পরিবারে বাচ্চা শুধু খেলনা নয়, আরও অনেক কিছু ভাগ করে: ঘর, বিছানা, আত্মীয়দের মনোযোগ, আর প্রায় সারা বছর মেহমানের আসা-যাওয়া। এটা সত্যিই একটা পাওয়া; আবার এর মানে, নিরিবিলি বাসার চেয়ে এখানে ভাগাভাগির পরীক্ষা অনেক বেশিবার আসে।
মেহমান আসার আগে
মেহমান আসার আগে বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়েই প্রিয় খেলনাগুলো সরিয়ে রাখুন: ‘নানুর দেওয়া পুতুল আর নতুন গাড়িটা আলমারিতে একটু বিশ্রাম নিক। সবার জন্য কোন খেলনাগুলো বের করব?’ নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস নিরাপদে আছে জানলে বাচ্চা প্রায়ই বাকিগুলো সহজে ভাগ করে। সবার জন্য রাখা খেলনা যেন যথেষ্ট থাকে; যেটা সবার পছন্দ, সম্ভব হলে সেটা দুটো রাখুন।
‘দিয়ে দাও, ও তো মেহমান’
আমরা অনেকেই ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, মেহমান বাচ্চা যা চাইবে তা-ই দিতে হয়। অতিথি আপ্যায়ন সুন্দর একটা মূল্যবোধ, আর বাচ্চার জিনিস জোর করে কেড়ে না নিয়েও এটা শেখানো যায়। মেহমান বাচ্চাকে আগে সবার খেলনাগুলো দিন, দুজনেই যেটা চায় সেটার জন্য পালা ঠিক করুন, আর প্রিয় খেলনার তাকটা বন্ধ রাখুন। কোনো মুরুব্বি জোর করলে শান্ত একটা কথাই সাধারণত যথেষ্ট: ‘ওরা পালা করে খেলছে। আগে মিম, তারপর রাফি।’
কাজিন, ঈদ আর পারিবারিক দাওয়াত
এক ঘর কাজিন, সবার হাতে ঈদের নতুন খেলনা, আর দেরিতে দুপুরের খাবার: ভাগাভাগি সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে এমন সময়েই। সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ের আগে বাচ্চাদের খাইয়ে নিন, প্রথম আধঘণ্টা খেলার কাছাকাছি থাকুন, আর একটা নিরিবিলি কোণ রাখুন, যেখানে ক্লান্ত বাচ্চা একটু জিরিয়ে নিতে পারে। অন্য বাবা-মায়েদের সঙ্গে মিলে সব বাচ্চার জন্য দুটো নিয়ম ঠিক করুন: কেড়ে নেওয়া চলবে না, আর পালা মানে পালা।
যৌথ পরিবার আর ভাগাভাগির ঘর
কাজিনরা একসঙ্গে থাকলে বা ভাইবোন একই ঘরে থাকলেও প্রত্যেক বাচ্চার নিজের একটা ছোট জায়গা দরকার, যেমন খাটের নিচে একটা বাক্স, যেটা খোলার আগে অন্যরা জিজ্ঞেস করে নেয়। দাদা-দাদি, নানা-নানি আর গৃহকর্মীকেও পালার ব্যাপারে একই কথা বলতে অনুরোধ করুন, যাতে যে-ই দেখাশোনা করুন, নিয়মটা একই থাকে।
পালা বাড়ানো আর কেড়ে নেওয়া কমানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হলো লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। খেলনা নিয়ে প্রতিটা ঝগড়া লিখে রাখুন: কোন খেলনা, কার সঙ্গে, কখন, আর ঠিক আগে কী হয়েছিল।
- দিন ২: বাচ্চার সঙ্গে মিলে দু-তিনটা খুব প্রিয় খেলনা বেছে নিন, যেগুলো শুধু ওর; সেগুলোর জন্য নিরাপদ একটা জায়গা ঠিক করুন।
- দিন ৩: একটা টাইমার বা পালার ছড়া চালু করুন, আর একসঙ্গে ১০ মিনিট পালার খেলা খেলুন।
- দিন ৪: খেলার মধ্যে বলার কথাগুলো অনুশীলন করুন: ‘আমি একটু খেলি?’ আর ‘আমার খেলা শেষ হলে দেব।’
- দিন ৫: দাদা-দাদি, নানা-নানি, গৃহকর্মী আর বড় ভাইবোনদের একই পালার নিয়ম আর একই কথাগুলো জানিয়ে দিন।
- দিন ৬: অল্প সময়ের জন্য একটা বাচ্চাকে খেলতে ডাকুন, আগে প্রিয় খেলনাগুলো সরিয়ে রাখুন, আর কাছাকাছি থাকুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার ঝগড়া হলো, কতক্ষণ চলল, আর বাচ্চা কতবার পালা দিল। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের ধাপটা বেছে নিন।
নিজের জিনিস নিরাপদ আছে জানলে বাচ্চার পক্ষে বাকিগুলো ভাগ করা সহজ হয়।
ভাগাভাগি আর কেড়ে নেওয়া নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন
ভাগ করতে কষ্ট হওয়া বড় হওয়ারই অংশ, আর শুধু এটুকু সাধারণত কোনো সমস্যা নয়। তবে নিচের কোনোটা হলে বাচ্চার ডাক্তার, শিশু-মনোবিজ্ঞানী বা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন:
এমন হলে সাহায্য নিন
- মোটামুটি ৫ বছরের পরও, কয়েক সপ্তাহ শান্তভাবে অনুশীলনের পরও, বাচ্চা একেবারেই পালা দিতে পারে না, বা অন্য বাচ্চাদের কাছে খেলতেই পারে না।
- খেলনা নিয়ে বাচ্চা প্রায় প্রতিদিন অন্য বাচ্চাদের আঘাত করে, বা আঘাত করা দিন দিন বাড়ছে।
- মানুষের প্রতি বাচ্চার আগ্রহ খুব কম, কথা বলায় একই বয়সী অন্য বাচ্চাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে, বা আগে পারত এমন শব্দ আর দক্ষতা হারিয়ে ফেলছে।
- হঠাৎ পরিবর্তন: যে বাচ্চা আগে হাসিখুশি খেলত, সে এখন জিনিস লুকিয়ে রাখে, খাবার আগলে রাখে, বা কোনো নির্দিষ্ট বাচ্চা বা বড় মানুষকে দেখে ভয় পায়। বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, ওই মানুষের কাছ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। কোনো নির্যাতন হলে স্থানীয় থানায় জানান, আর বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- ঝগড়া শুরু হলে আপনার মনে হয় বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন। বাচ্চা নিরাপদে আছে কি না নিশ্চিত করুন, কয়েক মিনিটের জন্য সরে যান, আর সেদিনই সাহায্য নিন। কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
আজ বাচ্চা খেলনা ভাগ করতে চায় না মানে সাধারণত সে এখনো শিখছে, ব্যর্থ হচ্ছে না। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কোন খেলনা, কোন সময় বা কোন মেহমান এলে ঝগড়া বাধে, যাতে ধরনগুলো সহজে চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চা কোন বয়সে ভাগ করতে শেখে?
ধীরে ধীরে, সাধারণত মোটামুটি ৩ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। ৩ বছরের কম বয়সী বাচ্চা নিজে থেকে খুব কমই ভাগ করে, কারণ অন্য বাচ্চার দিক থেকে ভাবতে এখনো পারে না; তবে বড় কারও সাহায্যে খুব ছোট ছোট পালা দিতে পারে। ৩ থেকে ৪ বছরে অনেকে পালা করে খেলা আর একটু অপেক্ষা করা শুরু করে, আর ৫–৬ বছরে বেশির ভাগ বাচ্চা আগের চেয়ে বেশি ভাগ করে, বিশেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে। খুব প্রিয় খেলনা ভাগ করা আরও অনেকদিন কঠিন থাকে।
৩ বছরের বাচ্চা ভাগ করতে না চাইলে কি সেটা স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। ৩ বছরের বাচ্চা সবে বুঝতে শুরু করে যে অন্য বাচ্চাদেরও চাওয়া আছে, আর ‘আমার’ বোধটা তখনো খুব জোরালো, বিশেষ করে বাসায়, প্রিয় খেলনার বেলায় বা ক্লান্ত থাকলে। উদার ভাগাভাগির বদলে আপনার সাহায্যে ছোট ছোট পালা আশা করুন। খেলনা নিয়ে প্রায়ই অন্যকে আঘাত করলে, বা মোটামুটি ৫ বছরের পরও একেবারেই পালা দিতে না পারলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
মেহমান বা কাজিন এলে কি বাচ্চাকে খেলনা দিতে বাধ্য করব?
ওর জিনিস কেড়ে নিয়ে নয়। মেহমান আসার আগে প্রিয় খেলনাগুলো সরিয়ে রাখুন, আগে সবার খেলনাগুলো দিন, আর দুজনেই যেটা চায় সেটার জন্য পালা ঠিক করুন। পালার ব্যাপারে দৃঢ় থাকতে পারেন, আবার বাচ্চার কয়েকটা জিনিস শুধু তারই থাকতে পারে। নিজের জিনিস নিরাপদ মনে হলে বাচ্চা সময়ের সঙ্গে প্রায়ই আরও উদার হয়, কম নয়।
বাচ্চা স্কুলে ভাগ করে, অথচ বাসায় করে না কেন?
কারণ বাসায় থাকে ওর নিজের জিনিস, আর বাসাতেই ও প্রতিবাদ করার মতো নিরাপদ বোধ করে। স্কুলের খেলনা সবার, আর পালা ঠিক করেন শিক্ষক, তাই সেখানে ভাগ করা সহজ। বাচ্চা যে কোথাও ভাগ করতে পারে, এটা ভালো লক্ষণ। বাসায় কয়েকটা প্রিয় খেলনা আলাদা রাখুন, আর বাকিগুলোর জন্য একই পালার নিয়ম চালান। একবারে একজন বন্ধুর সঙ্গে খেলাও কাজে দেয়; দেখুন বাচ্চার বন্ধু বানাতে সাহায্য করার উপায়।
বাচ্চা অন্যের খেলনা কেড়ে নেয়, কী করব?
শুরুতেই শান্তভাবে এগিয়ে যান। খেলনাটা যার কাছে ছিল তাকে ফিরিয়ে দিন, আর বাচ্চাকে কেড়ে নেওয়ার বদলে বলার মতো কথা শিখিয়ে দিন: ‘আমি একটু খেলি?’ অপেক্ষার সময় আরেকটা খেলনা দিন, আর ওর পালা যেন সত্যিই আসে। জোর করে ফিরিয়ে নেওয়া বা জোরে বকাঝকা করলে সাধারণত কেড়ে নেওয়া আরও বাড়ে। মোটামুটি ৪–৫ বছরের পরও প্রায় প্রতিদিন মারা বা কামড়ানো চললে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
বড় বাচ্চা ছোট ভাই বা বোনের সঙ্গে খেলনা ভাগ করতে চায় না, কী করব?
প্রত্যেক বাচ্চার কয়েকটা জিনিস শুধু তার নিজের রাখুন, আর বাকি সব হোক পরিবারের খেলনা, পালা করে খেলার জন্য। বড় বলেই বড়জনকে ছাড় দিতে বলবেন না; সময়ের সঙ্গে এতে মনে ক্ষোভ জমতে পারে। কেড়ে নেওয়া ছোটটার হাত থেকে বড়জনের খেলা বাঁচিয়ে রাখুন, আর বড়জন যতবার পালা দেয়, মুখে বলে তা খেয়াল করুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।






