বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই: বন্ধু বানাতে আর ধরে রাখতে সাহায্য করবেন যেভাবে
ছোট করে উত্তর
“বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই” — এই দুশ্চিন্তা অনেক বাবা-মায়ের, আর ছোট ছোট পদক্ষেপ প্রায়ই অনেক কাজে দেয়। ৪–১২ বছরের যে বাচ্চারা বন্ধু বানাতে পারে না, তারা প্রায়ই লাজুক, নতুন, বা এখনো খেলায় যোগ দেওয়া আর পালা করে খেলা শিখছে। বাসায় অনুশীলন করুন, একজন কাজিন বা প্রতিবেশী বাচ্চাকে খেলতে ডাকুন, আর একটা ক্লাবে দিয়ে দেখুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাচ্চা একা আর মন খারাপ করে থাকলে, বা কেউ তাকে বুলিং করলে, সাহায্য নিন।
লেখাটি শুনুন
১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৪–১২ বছরের যে বাচ্চা একা একা খেলে, স্কুলে সহপাঠীরা যাকে খেলার দলে নেয় না, বা যে বলে “আমার সঙ্গে কেউ খেলে না”, তার বাবা-মা
- মূল কথা
- অনেক বাচ্চার জীবনে এমন সময় আসে, যখন বন্ধু খুব কম বা একজনও নেই; প্রায়ই বাসা বদল, নতুন স্কুল বা কোনো বন্ধু চলে যাওয়ার পরে। একজন ভালো বন্ধুই অনেক সময় যথেষ্ট।
- বন্ধু বানাতে কয়েকটা দক্ষতা লাগে, যেমন খেলায় যোগ দেওয়া, পালা করে খেলা আর হেরে গেলে শান্ত থাকা; বাসাতেই এগুলো অনুশীলন করা যায়।
- বড় দাওয়াতের চেয়ে একজন কাজিন বা প্রতিবেশীর সঙ্গে অল্প সময়ের খেলা, আর পছন্দের বিষয়ের একটা ক্লাব সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
- ইচ্ছা করে বারবার দল থেকে বাদ দেওয়া শুধু বন্ধুত্বের সমস্যা নয়, এটা বুলিং: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন।
বাচ্চা টিফিনের সময় একা একা খেলে, কোনো জন্মদিনে দাওয়াত পায় না, বা বাসায় ফিরে বলে “আমার সঙ্গে কেউ খেলে না”? রাতে শুয়ে হয়তো ভাবছেন, আমার বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই, কীভাবে সাহায্য করব বুঝতে পারছি না।
এই দুশ্চিন্তা খুবই সাধারণ, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি এতে সাহায্য করতে পারেন। বন্ধু বানাতে কয়েকটা দক্ষতা লাগে, যেমন খেলায় যোগ দেওয়া, ভাগ করে নেওয়া আর হেরে গেলে মেনে নেওয়া; অনেক বাচ্চার শুধু আরেকটু অনুশীলন আর খেলার আরও সুযোগ দরকার। কেউ লাজুক, কেউ নতুন; আবার কাউকে কাউকে ইচ্ছা করে বাদ দেওয়া হয়, তখন অন্যভাবে ব্যবস্থা নিতে হয়।
নিচে পাবেন: কেন এমন হয়, দক্ষতার ঘাটতি আর বুলিংয়ের পার্থক্য, কী বলবেন, কোন দক্ষতা অনুশীলন করাবেন, ফ্ল্যাটে থেকেও খেলার সুযোগ, ৭ দিনের একটি পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।
বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই কেন?
যে বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই, বা যে বাচ্চা কারও সঙ্গে মিশতে পারে না, সে সাধারণত খারাপ স্বভাবের বা অপছন্দ করার মতো বাচ্চা নয়। বেশিরভাগ সময় নিচের এক বা একাধিক কারণ পথ আটকে রাখে:
- স্বভাব: লাজুক বাচ্চা প্রায়ই যোগ দেওয়ার আগে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখে, ততক্ষণে খেলা এগিয়ে যায়। দেখুন লাজুক বাচ্চাকে সাহায্য করার উপায়।
- দক্ষতা এখনো তৈরি হচ্ছে: খেলায় যোগ দেওয়া, পালার জন্য অপেক্ষা, হেরে গেলে ভেঙে না পড়া, অন্য বাচ্চার মুখ দেখে মন বোঝা — সবই অনুশীলনের বিষয়, আর কোনো কোনো বাচ্চার এতে বেশি সময় লাগে।
- বড় কোনো পরিবর্তন: নতুন স্কুল, নতুন বাসায় ওঠা, প্রিয় বন্ধু চলে যাওয়া, কিংবা অসুখ বা লম্বা ছুটির কারণে অনেক দিন বাসায় থাকা।
- খেলার সুযোগ কম: স্কুল, কোচিং, হোমওয়ার্ক আর মোবাইল-ট্যাব মিলে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলার সময় খুব কম থাকে, বিশেষ করে মাঠ নেই এমন ফ্ল্যাটে।
- আগ্রহ আলাদা: ক্লাসের সবাই যখন ক্রিকেট নিয়ে মেতে আছে, তখন পোকামাকড় ভালোবাসে এমন বাচ্চা হয়তো এখনো নিজের মতো বন্ধু খুঁজে পায়নি।
- খেলার সময় রাগ বা জেদ: কেড়ে নেওয়া, মারা, সবাইকে হুকুম দেওয়া, বা হারলেই কান্না — এসব কারণে অন্যরা দূরে থাকতে পারে।
- ইচ্ছা করে বাদ দেওয়া: একই বাচ্চারা যখন বারবার আপনার বাচ্চাকে দল থেকে বাদ দেয়, খেপায় বা সবাই মিলে পেছনে লাগে, সেটা বুলিং; নিচে এ নিয়ে বলা আছে।
বাচ্চা একা একা খেলে, এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, মাঝে মাঝে একা খেলা স্বাভাবিক। অনেক বাচ্চা একা একা খেলে আনন্দ পায়; আর যে বাচ্চার এক-দুজন কাছের বন্ধু আছে, সে দলের মধ্যমণি না হলেও ভালোই আছে। যে বাচ্চা একা খেলে খুশি থাকে, আর যে বাচ্চা খেলায় যোগ দিতে চায় কিন্তু পারে না — দুজনের অবস্থা আলাদা।
| বয়স | বন্ধুত্ব সাধারণত যেমন হয় | সবচেয়ে বেশি যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ৪–৫ বছর | সেই মুহূর্তের খেলার সঙ্গী: আজ যে ব্লক নিয়ে বসেছে, সে-ই বন্ধু। ছোট ছোট খেলা, কাড়াকাড়ি, আর একটু পরেই মিলমিশ। | একজন বাচ্চার সঙ্গে অল্প সময়ের খেলা, পালা করে খেলতে সাহায্যের জন্য কাছে একজন বড় মানুষ |
| ৬–৮ বছর | একই খেলা পছন্দ করে এমন বন্ধু, আর প্রথম “বেস্ট ফ্রেন্ড”। নিয়ম খুব জরুরি, ন্যায্যতা নিয়ে ঝগড়াও প্রায়ই হয়। | খেলায় যোগ দেওয়া, পালা করে খেলা আর শান্তভাবে হারার অনুশীলন |
| ৯–১২ বছর | একই আগ্রহ, বন্ধুর প্রতি টান আর দল। বাদ পড়লে কষ্ট বেশি লাগে, বন্ধুত্বও দ্রুত বদলায়। | পছন্দের বিষয়ের ক্লাব, আর মনোমালিন্য হলে কথা বলে বুঝে নেওয়া |
বন্ধুত্বের সমস্যা: দক্ষতার ঘাটতি, লাজুকতা নাকি বুলিং?
শিশুদের বন্ধুত্বের সমস্যা সাধারণত তিন ধরনের হয়, আর প্রতিটির জন্য আলাদা ধরনের সাহায্য দরকার। সবচেয়ে বড় পার্থক্য বুলিংয়ে: এটা ইচ্ছা করে কষ্ট দেওয়া, মেলামেশার দক্ষতার অভাব নয়।
| যা খেয়াল করবেন | মেলামেশার দক্ষতা শিখছে | লাজুক বা মিশতে সময় লাগে | ইচ্ছা করে বাদ দেওয়া (বুলিং) |
|---|---|---|---|
| খেলার সময় | যোগ দিতে চায়, কিন্তু কেড়ে নেয়, হুকুম দেয় বা হারলে খেলা ছেড়ে দেয় | অনেকক্ষণ দেখে, তারপর সহজ হলে যোগ দেয় | যোগ দিতে চায়, কিন্তু একই বাচ্চারা বারবার সরিয়ে দেয় |
| বাচ্চার মনের অবস্থা | খেলা কেন ভেস্তে যায় বোঝে না, রেগে যায় | শুরুতে অস্বস্তি, পরে ঠিক হয়ে যায় | ভয় বা লজ্জা; স্কুলে বা নির্দিষ্ট কিছু বাচ্চার কাছে যেতে ভয় পায় |
| যা কাজে দেয় | বাসায় অনুশীলন আর বড়দের সাহায্যে অল্প সময়ের খেলা | মিশে যাওয়ার সময় আর একবারে একজন বন্ধু | বাচ্চার কথা বিশ্বাস করা আর সেদিনই স্কুলের সঙ্গে কথা বলা |
একই বাচ্চারা যদি বারবার খেপায়, ভয় দেখায়, মারে বা দল থেকে বের করে দেয়, তাহলে পড়ুন স্কুলে বুলিং। বাচ্চা যদি বলে “আমি কিছুই পারি না” বা সহজেই হাল ছেড়ে দেয়, দেখুন বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়।
বাচ্চা বলে “আমার সঙ্গে কেউ খেলে না”: তখন কী বলবেন
বাচ্চা মন খারাপ করে বাসায় ফিরলে আগে শুনুন, সমাধান পরে। শান্ত আলাপে বাচ্চা বোঝে সমস্যাটা নিয়ে কাজ করা যায়, আর আপনিও জানতে পারেন স্কুলে আসলে কী ঘটছে।
- থামুন, শুনুন। মোবাইল সরিয়ে রাখুন, বাচ্চার সমান উচ্চতায় বসুন, পুরো কথা শেষ করতে দিন।
- আগে অনুভূতিটার নাম দিন: “শুনে মনে হচ্ছে তোমার খুব একা লেগেছে।” “যাও, কারও সঙ্গে খেলো গিয়ে” বলবেন না।
- আলতো করে খুঁটিনাটি জানতে চান: কোথায় হলো, কে কে ছিল, বাচ্চা কী করেছিল আর অন্যরা কী করল।
- আরও জানার আগে কাউকে দোষ দেবেন না, না আপনার বাচ্চাকে, না অন্য বাচ্চাদের।
- একসঙ্গে ছোট একটা পরের ধাপ ঠিক করুন, যেমন কাল টিফিনের সময় একজনকে খেলতে ডাকা, বা খাওয়ার সময় কোনো সহপাঠীর পাশে বসা।
- পরদিন জিজ্ঞেস করুন কেমন গেল; বারবার এমন হলে ক্লাস টিচারকে জানান।
যা বলতে পারেন
- শুনে মনে হচ্ছে খুব একা লেগেছে। তুমি যে আমাকে বলেছ, তাতে আমি খুশি।
- বন্ধু বানানো কঠিন হতে পারে। এটা শেখার জিনিস, আমরা একসঙ্গে অনুশীলন করব।
- কাল শুধু একজনকে জিজ্ঞেস করে দেখবে, “আমিও তোমাদের সঙ্গে খেলি?”
- অনেক বন্ধু লাগবে না। একজন ভালো বন্ধু দিয়েই খুব সুন্দর শুরু হয়।
- কেউ ইচ্ছা করে তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে আমাকে বলবে। ওটা কখনোই তোমার দোষ না।
বন্ধু বানাতে সাহায্য: বাসায় যে সামাজিক দক্ষতাগুলো অনুশীলন করাবেন
বাচ্চার সামাজিক দক্ষতা বাড়ানো অনেকটা পড়া শেখার মতো: ছোট ছোট ধাপে, অনুশীলন আর ধৈর্যশীল একজন বড় মানুষের সাহায্যে। “বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই” বলে যাঁরা দুশ্চিন্তা করেন, তাঁদের অনেকে দেখেন ঘাটতিটা আসলে একটা-দুটো নির্দিষ্ট দক্ষতায়। মহড়ার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বাসা, কারণ এখানে ভুল করলে কিছু হারানোর নেই।
- খেলায় যোগ দেওয়া: একটু দাঁড়িয়ে দেখা, কাছে যাওয়া, তারপর জিজ্ঞেস করা “আমিও খেলি?”, বা কাজের কিছু বলা: “আমি গোলকিপার হতে পারি।”
- কথা শুরু করা: সালাম বা হ্যালো, অন্য বাচ্চার নাম ধরে ডাকা, আর একটা প্রশ্ন, যেমন “তুমি কী আঁকছো?”
- পালা করে খেলা আর ভাগ করে নেওয়া: লুডু, ক্যারম বা যেকোনো বোর্ড গেমই এর সবচেয়ে সহজ অনুশীলন।
- শান্তভাবে হারা: এমন খেলা খেলুন যেখানে বাচ্চা হারতে পারে, আর একটা লাইন অনুশীলন করুন, যেমন “ভালো খেলেছো, চলো আবার খেলি।”
- মুখ দেখে মন বোঝা: কার্টুন বা ছবির বই থামিয়ে জিজ্ঞেস করুন, “ও কেমন বোধ করছে? কীভাবে বুঝলে?”
- বন্ধুত্ব ধরে রাখা: দুঃখিত বলা, পালা ছেড়ে দেওয়া, বন্ধুর পছন্দের জিনিস মনে রাখা, আর আবার খেলতে ডাকা।
খেলার সুযোগ তৈরি করবেন কীভাবে? কাজিন, প্রতিবেশী আর স্কুলের ক্লাব
দক্ষতা বাড়ে শুধু ব্যবহারের সুযোগ পেলে। বাচ্চারা সাধারণত বারবার অল্প সময় দেখা হতে হতে বন্ধু হয়, তাই একই বাচ্চার সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে অল্প সময়ের খেলা অনেক সময় একটা বড় দাওয়াতের চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
- একজন বাচ্চা, এক ঘণ্টা: একজন সহপাঠী, কাজিন বা প্রতিবেশী বাচ্চাকে মোটামুটি এক ঘণ্টার জন্য ডাকুন, একটা খেলা ঠিক করে রেখে, যেমন ব্লক, আঁকাআঁকি, পাজল বা একসঙ্গে সহজ নাশতা বানানো। আরও আইডিয়া পাবেন বাসায় খেলার আইডিয়া লেখায়।
- কাজিন: অনেক বাচ্চার প্রথম বন্ধু কাজিনরাই। আত্মীয়বাড়ি বেড়ানো আর শুক্রবারের দুপুরের খাওয়াকে চাপহীন, সহজ অনুশীলনের সুযোগ বানান।
- একই বিল্ডিংয়ের প্রতিবেশী: একটা পরিবারের সঙ্গে ফোন নম্বর আদান-প্রদান করুন, আর একে অন্যের বাসায় বা ছাদে নিয়মিত খেলা শুরু করুন; সবসময় একজন বড় মানুষ সঙ্গে রেখে, আর কখনোই গ্যারেজে নয়।
- স্কুলের ক্লাব আর ক্লাস: আঁকা, বিজ্ঞান, বিতর্ক, খেলাধুলা, সাঁতার বা নাচ। বাচ্চার পছন্দের বিষয় ঘিরে কোনো ক্লাব হলে নিজের কথা ছাড়াও গল্প করার একটা বিষয় পাওয়া যায়।
অন্য বাবা-মায়ের সঙ্গে খেলার আয়োজন করতে
- ক্লাসে আমাদের বাচ্চা দুটোর বেশ ভাব মনে হয়। শুক্রবার বিকেলে আপনার ছেলে কি এক ঘণ্টার জন্য আমাদের বাসায় আসতে পারবে?
- আমি পুরো সময় বাসায় থাকব, আর ৬টার মধ্যে ওকে পৌঁছে দেব।
- আজ বিকেলে আপনার মেয়ে কি আমার মেয়ের সঙ্গে ছাদে খেলবে? আমি ওদের সঙ্গেই থাকব।
আমাদের বাস্তবতায় বন্ধুত্ব: ফ্ল্যাট, কোচিং আর কাজিন
ঢাকাসহ বড় শহরের অনেক বাচ্চা বড় হয় খেলার মাঠ ছাড়া ফ্ল্যাটে, স্কুল আর কোচিংয়ে লম্বা দিন কাটিয়ে, প্রতি সন্ধ্যায় হোমওয়ার্ক নিয়ে। বন্ধুত্বের জন্য সময় লাগে, আর সেই সময় প্রায়ই পরিকল্পনা করে বের করতে হয়।
- পরীক্ষার মৌসুমেও সপ্তাহে অন্তত একটা বিকেল খেলার জন্য রাখুন। যে বাচ্চার একটুও ফাঁকা সময় নেই, তার বন্ধু বানানোরও সময় নেই।
- কিছুটা স্ক্রিন টাইমের বদলে মানুষের সঙ্গে সময় দিন। মোবাইল বা ট্যাব অনেক সময় বন্ধুর জায়গাটা দখল করে ফেলে, আর অনলাইন গেম সামনাসামনি খেলার মতো নয়।
- তুলনা করবেন না। “দেখো, তোমার কাজিনের কত বন্ধু” — এমন কথায় লজ্জা বাড়ে, আর লজ্জা পেলে বাচ্চা আরও গুটিয়ে যায়।
- পারিবারিক অনুষ্ঠানকে অনুশীলনের সুযোগ বানান। ঈদের বেড়ানো, বিয়ে আর জন্মদিনে অনেক বাচ্চা থাকে; যাওয়ার আগে ছোট একটা লক্ষ্য ঠিক করুন, যেমন একজন কাজিনকে খেলতে ডাকা।
- জন্মদিনের দাওয়াত: কোনো ক্লাসে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়, কোথাও হয় না। বাচ্চা দাওয়াত না পেলে সেদিন ছোট্ট মজার কিছু পরিকল্পনা করুন, আর শিগগিরই একজন বাচ্চাকে আপনার বাসায় ডাকুন।
- দাদা-দাদি, নানা-নানি বা গৃহকর্মী, যাঁরা বাচ্চার দেখাশোনা করেন, তাঁরাও সাহায্য করতে পারেন, যেমন প্রতিবেশীর বাসায় খেলতে নিয়ে গিয়ে।
বন্ধু বানাতে সাহায্যের ৭ দিনের পরিকল্পনা
প্রতি সন্ধ্যায় এক লাইন লিখুন: বাচ্চা কার সঙ্গে খেলল বা কথা বলল, কী ভালো গেল আর কী কঠিন লাগল। এক সপ্তাহ পর প্রায়ই এমন কিছু ধরন চোখে পড়ে, যা রোজ রোজ খেয়াল করা যায় না।
- দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। দিনটা কেমন গেল জিজ্ঞেস করুন, আর লিখে রাখুন বাচ্চা কার কথা বলল, টিফিনের সময় কোথায় ছিল আর কেমন বোধ করল।
- দিন ২: ওপরের তালিকা থেকে একটা দক্ষতা বেছে নিন, যেমন খেলায় যোগ দেওয়া, আর ৫ মিনিট পুতুল দিয়ে খেলার ছলে অনুশীলন করুন।
- দিন ৩: বাসায় পালা করে খেলার কোনো খেলা খেলুন, যেমন লুডু বা ক্যারম, আর শান্তভাবে হারার অনুশীলন করুন।
- দিন ৪: একজন বাবা বা মা, কোনো কাজিনের পরিবার বা প্রতিবেশীকে মেসেজ দিয়ে অল্প সময়ের একটা খেলার আয়োজন করুন।
- দিন ৫: ক্লাস টিচারের কাছে সংক্ষেপে জানতে চান, বাচ্চা কার সঙ্গে মেলে বলে মনে হয় আর টিফিনের সময়টা কেমন কাটে।
- দিন ৬: খেলার আয়োজনটা করুন: মোটামুটি এক ঘণ্টা, একটা খেলা ঠিক করে রাখা, আর মজা থাকতে থাকতেই শেষ করা, যাতে দুজনেরই আবার দেখা করতে ইচ্ছা করে।
- দিন ৭: নোটগুলো পড়ে দেখুন। বাচ্চা কখন সবচেয়ে খুশি ছিল? কোন বাচ্চার নাম একাধিকবার এসেছে? সেই অনুযায়ী পরের সপ্তাহের খেলার পরিকল্পনা করুন।
বন্ধুত্বের সমস্যায় কখন সাহায্য নেবেন
অনেক সময় “বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই” এমন একটা পর্যায়, যেখানে অনুশীলন আর সময় দিয়ে বাসা থেকেই সাহায্য করা যায়। তবে নিচের কোনোটা খেয়াল করলে বাচ্চার ডাক্তার বা স্কুলের কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন:
এসব দেখলে সাহায্য নিন
- কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ দিন বাচ্চা একা, মন খারাপ বা গুটিয়ে থাকে, কিংবা আগে যা ভালোবাসত তাতেও আর আনন্দ পায় না।
- কেউ ইচ্ছা করে বাচ্চাকে খেপাচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে, মারছে বা দল থেকে বের করে দিচ্ছে, সামনাসামনি বা অনলাইনে। বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই স্কুলের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। বাচ্চা আঘাত পেলে, অস্ত্রের হুমকি পেলে বা জোর করে টাকা নেওয়া হলে স্থানীয় থানায়ও জানাতে পারেন।
- বাচ্চা সব বাচ্চাকেই এড়িয়ে চলে, স্কুলে বা যেকোনো দাওয়াতে যেতে একেবারে রাজি হয় না, বা দলের মধ্যে আতঙ্কের মতো ভয় পায়।
- বাচ্চার কথার আদান-প্রদান, চোখে চোখ রাখা বা একসঙ্গে খেলা খুব কম, কিংবা রুটিন খুব বাঁধাধরা। এগুলো লাজুকতা থেকে আলাদা, তাই ডাক্তারকে জানান; দেখুন বয়স অনুযায়ী শিশুর বিকাশ।
- খেলার সময় মারা, কামড়ানো বা কেড়ে নেওয়া প্রায় প্রতিদিন হয়, আর অন্য বাচ্চারা আপনার বাচ্চাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে।
- বাচ্চা বলে সে মরে যেতে চায় বা নিজের ক্ষতি করতে চায়: শান্ত থাকুন, পাশে থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
বন্ধুত্ব প্রায়ই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, এমন ছোট ছোট সাফল্যে, যা সহজেই ভুলে যাওয়া যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চার কোনো বন্ধু না থাকা কি স্বাভাবিক?
কিছু সময়ের জন্য এটা বেশ সাধারণ, বিশেষ করে বাসা বদল, নতুন স্কুল বা কোনো বন্ধু চলে যাওয়ার পর; অনেক বাচ্চার জীবনে একা খেলার একটা সময়ও আসে। ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তখন, যখন বাচ্চা বন্ধু চায় কিন্তু বানাতে পারে না, বা কয়েক সপ্তাহ ধরে একা আর মন খারাপ থাকে। বাসায় মেলামেশার দক্ষতা অনুশীলন করুন, আর একজন বাচ্চার সঙ্গে অল্প সময়ের খেলার আয়োজন করুন।
বাচ্চার কয়জন বন্ধু থাকা দরকার?
অনেক সময় একজন বা দুজন ভালো বন্ধুই যথেষ্ট। যে বাচ্চার ভরসা করার মতো একজন কাছের বন্ধু আছে, সে জনপ্রিয় না হলেও সাধারণত ভালো থাকে। সংখ্যার চেয়ে মান বেশি জরুরি: যে বন্ধু দয়ালু, ন্যায্যভাবে খেলে আর বাচ্চাকে আপন করে নেয়, সে এমন বড় দলের চেয়ে অনেক বেশি দামি, যে দল তাকে বাদ রাখে।
স্কুলে সহপাঠীরা খেলার দলে নেয় না কেন?
প্রায়ই দক্ষতার ঘাটতির কারণে, যেমন কীভাবে খেলায় যোগ দিতে হয় না জানা বা হারলে রেগে যাওয়া; কিংবা বাচ্চা নতুন, লাজুক বা তার আগ্রহ আলাদা বলে। টিফিনের সময় কী হয়, বাচ্চা আর শিক্ষক দুজনের কাছেই জানুন। একই বাচ্চারা ইচ্ছা করে বারবার বাদ দিলে সেটা বুলিং: সেদিনই ব্যবস্থা নিন।
বাচ্চার কোনো বন্ধু না থাকলে কি শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলব?
হ্যাঁ, সংক্ষেপে আর শান্তভাবে। টিফিনের সময় যা হয়, তা শিক্ষক দেখেন, আপনি দেখেন না। জানতে চান বাচ্চা কার সঙ্গে মেলে, টিফিনের সময় কী করে, আর দুজনকে পাশাপাশি বসানো বা একসঙ্গে কাজ দেওয়া যায় কি না। খেপানো বা কাউকে বাদ দেওয়া চোখে পড়লে আপনাকে জানাতে অনুরোধ করুন। এভাবে বললে অনেক শিক্ষকই খুশি মনে সাহায্য করেন।
বাচ্চার কোনো বন্ধু নেই, এটা কি আমার দোষ?
না। বন্ধুত্বের সমস্যা সাধারণত আসে কয়েকটা জিনিসের মিশেল থেকে: স্বভাব, এখনো তৈরি হতে থাকা দক্ষতা, খেলার কম সুযোগ আর আশপাশের বাচ্চারা। নিজেকে দোষ দিলে সেই শক্তিটুকু ফুরিয়ে যায়, যা আসল কাজে লাগে: মন দিয়ে শোনা, বাসায় একটা দক্ষতা অনুশীলন করানো আর সপ্তাহে অল্প সময়ের একটা খেলার আয়োজন। এই ছোট পদক্ষেপগুলো আপনার হাতের মধ্যেই আছে।
নতুন স্কুলে বাচ্চা কীভাবে বন্ধু বানাবে?
সময় দিন, আর মেশার ছোট ছোট সুযোগ তৈরি করুন। শিক্ষককে অনুরোধ করুন বাচ্চাকে কোনো সহৃদয় সহপাঠীর সঙ্গে জুটি করে দিতে, বাসায় সালাম বা হ্যালো আর একটা প্রশ্ন অনুশীলন করুন, আর প্রথম এক-দুই মাসের মধ্যে একজন সহপাঠীকে বাসায় ডাকুন। শুরুতেই একটা ক্লাবে যোগ দিন। অনেক বাচ্চার মানিয়ে নিতে মোটামুটি কয়েক মাস লাগে, তাই সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু নয়, ছোট ছোট অগ্রগতি খুঁজুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।








