মূল কনটেন্টে যান

ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায়: বিচার নয়, পথ দেখানো

ছোট করে উত্তর

ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায় হলো বিচারক না হয়ে পথ দেখানো: মারামারি, নিষ্ঠুর কথা, বা একজন সবসময় হেরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে থামান; বাকি সময় কে আগে শুরু করেছে তার বিচার না করে ওদের নিজেদের মিটিয়ে নিতে সাহায্য করুন। ভাইবোনের ঝগড়া আর হিংসা বড় হওয়ারই স্বাভাবিক অংশ, বিশেষ করে বয়সের ব্যবধান কম হলে। প্রতিটি বাচ্চার সঙ্গে আলাদা একান্ত সময়, আর সবাইকে একই জিনিস না দিয়ে যার যা দরকার তা দেওয়া প্রায়ই ঝগড়া কমায়।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
দুই বা ততোধিক সন্তানের বাবা-মা (বাচ্চার বয়স মোটামুটি ২–১৫ বছর), আর যেসব পরিবারে কাজিনরা একসঙ্গে বড় হয়
মূল কথা
  • মারামারি, নিষ্ঠুর কথা বা কোনো বাচ্চা ভয় পেলে সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করুন; সাধারণ খুনসুটিতে বিচার না করে পথ দেখান।
  • “কে আগে শুরু করেছে?” জিজ্ঞেস করে সাধারণত লাভ হয় না; প্রত্যেকে কী চায় তা বলে দিয়ে তাদের কাছেই সমাধান চাওয়া বেশি কাজে দেয়।
  • ন্যায্য মানে প্রত্যেকে যার যা দরকার তা পাবে — একই সময়ে হুবহু একই জিনিস নয়।
  • বেশিরভাগ দিন প্রতিটি বাচ্চার সঙ্গে কয়েক মিনিটের একান্ত সময় প্রায়ই আপনার মনোযোগ নিয়ে প্রতিযোগিতা কমায়।

ভাইবোনের ঝগড়ায় ছোট্ট বাসাটাও যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে যেতে পারে: “ও আমার দিকে তাকাচ্ছে!”, “ও আমার পেনসিল নিয়ে নিয়েছে!”, “মা, ওকে কিছু বলো!” বাচ্চারা সারাক্ষণ ঝগড়া করলে মনে হতে পারে, এরা কি কখনো বন্ধু হবে — আর আপনি কি কোথাও ভুল করছেন।

স্বস্তির কথা হলো, ভাইবোনের ঝগড়া একসঙ্গে বড় হওয়ারই স্বাভাবিক অংশ; অনেক বাচ্চা এখানেই প্রথম ভাগ করতে, নিজের কথা বলতে আর মিটমাট করতে শেখে। আপনার কাজ প্রতিটা ঝগড়া থামানো নয়; সবাইকে নিরাপদ রাখা আর ধীরে ধীরে দক্ষতাগুলো তাদের হাতে তুলে দেওয়া। নিচে পাবেন ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায়: কখন হস্তক্ষেপ করবেন, কী বলবেন, ন্যায্যতা, আমাদের পরিবারের বাস্তবতা, আর ৭ দিনের পরিকল্পনা।

ভাইবোনেরা এত ঝগড়া করে কেন?

ভাইবোনেরা ঝগড়া করে কারণ তাদের সবচেয়ে দামি জিনিসগুলো ভাগ করে নিতে হয়: বাবা-মায়ের মনোযোগ, জায়গা, খেলনা আর সময়। বেশিরভাগ ঝগড়ার নিচে একটা সাধারণ কারণ থাকে, আর নতুন ভাইবোনের আগমন সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটা; পড়ুন নতুন ভাইবোন এলে বড় সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন।

কী থেকে ঝগড়া বাধে, আর পেছনে কী থাকতে পারে
যা দেখছেনপেছনে যা থাকতে পারে
খেলনা, রিমোট বা বসার জায়গা নিয়ে ঝগড়াভাগ করা আর পালা করে খেলা এখনো শিখছে, বিশেষ করে মোটামুটি ৫ বছরের আগে
আপনি ফোন ধরলেন বা রান্না শুরু করলেন, অমনি ঝগড়াআপনার মনোযোগ পাওয়ার প্রতিযোগিতা
“এটা ঠিক না!”মনে হচ্ছে অন্যজন বেশি সময়, বেশি প্রশংসা বা বেশি স্বাধীনতা পায়
রাতের খাবারের আগে বা স্কুল থেকে ফিরে ঝগড়াখিদে আর ক্লান্তি
বড়টা ছোটটাকে খেপাচ্ছেএকঘেয়েমি, বা স্কুলের খারাপ দিনের ঝাল বাড়িতে
পরীক্ষা, বাসা বদল বা নতুন বাচ্চা আসার পর ঝগড়া বাড়াপরিবারে পরিবর্তন আর চাপ

ভাইবোনের ঝগড়ায় কখন হস্তক্ষেপ করবেন?

প্রতিটা ঝগড়ায় আপনাকে লাগে না। অনেক পরিবারের কাজে লাগে এমন একটা সহজ নিয়ম: নিরাপত্তা আর নিষ্ঠুরতার প্রশ্নে সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ, সাধারণ খুনসুটিতে কাছে থেকে পথ দেখানো, আর ছোটখাটো ঝগড়া নিজেরা মেটাতে থাকলে ছেড়ে দেওয়া।

থামাবেন, পথ দেখাবেন, নাকি ছেড়ে দেবেন
কী ঘটছেকী করবেন
মারা, লাথি, কামড়, ধাক্কা বা জিনিস ছোড়াসঙ্গে সঙ্গে থামান: দুজনকে আলাদা করুন, আগে আঘাত পাওয়া বাচ্চাকে দেখুন
নিষ্ঠুর কথা: গালি, হুমকি, চেহারা বা গায়ের রং নিয়ে খোঁটাথামান আর নিয়মটা বলুন: “আমাদের বাসায় কেউ কাউকে এভাবে বলে না।”
একজন অনেক বড়, বা সবসময় একজনই হারেহস্তক্ষেপ করুন, আর পুরো সপ্তাহ ধরে ব্যাপারটা খেয়াল রাখুন
খেলনা বা পালা নিয়ে চেঁচামেচি, তবে কেউ আঘাত পায়নিকাছে থাকুন, সমাধানের দিকে পথ দেখান
গজগজ করছে, তবে নিজেরাই মিটিয়ে নিচ্ছেছেড়ে দিন, পরে প্রশংসা করুন

ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায়: ঠিক সেই মুহূর্তে ৬টি ধাপ

  1. আগে সবার নিরাপত্তা: দুজনকে সরিয়ে দিন, তোলা হাতটা ধরে ফেলুন, ছুড়ে মারা খেলনাটা নিয়ে নিন। যে মেরেছে তার সঙ্গে কথা বলার আগে যে আঘাত পেয়েছে তাকে দেখুন।
  2. সমাধানের আগে শান্ত হওয়া: “সবাই একটা বড় শ্বাস নাও। তুমি এখানে বসো, তুমি ওখানে।” বড় অনুভূতি থিতু হতে কয়েক মিনিট লাগে।
  3. “কে আগে শুরু করেছে?” বাদ দিন। শুরুটা আপনি প্রায় কখনো দেখেননি, আর দুজনেই আলাদা গল্প বলবে। বরং এখন কী হবে, সেটা নিয়ে কথা বলুন।
  4. সমস্যাটা আর প্রত্যেকে কী চায় তা বলে দিন: “তোমরা দুজনেই জানালার পাশের সিটটা চাও।”
  5. তাদের কাছেই সমাধান চান, আর নিরাপদ ও দুজনের জন্য ন্যায্য যেকোনো উপায় মেনে নিন: টাইমার দিয়ে পালা, অর্ধেক সময় পর বদল, বা একসঙ্গে খেলা।
  6. যা ঠিক হলো তা মেনে চলুন, আর কাজ হলে খেয়াল করুন: “তোমরা সিটটা ভাগ করার একটা উপায় বের করেছ। দারুণ বুদ্ধি।”

যা বলতে পারেন

  • মারতে দেব না। আমি তোমাদের দুজনকেই নিরাপদ রাখব।
  • দেখছি দুজনেরই মন খারাপ। আগে একটু শান্ত হই।
  • তোমরা দুজনেই রিমোটটা চাও। এটা তো কঠিন সমস্যা। কী করলে দুজনেই খুশি থাকবে?
  • কে আগে শুরু করেছে, আমি সেই বিচার করব না। আমি তোমাদের মিটিয়ে নিতে সাহায্য করব।
  • ভাইয়ের ওপর রাগ হতেই পারে। কিন্তু ওকে ব্যথা দেওয়া যাবে না।
  • তোমরা নিজেরাই মিটিয়ে নিয়েছ। বন্ধুরা এভাবেই মিটমাট করে।

প্রত্যেকে কী চায় বলুন, তারপর জিজ্ঞেস করুন দুজনের জন্য কী ভালো হতে পারে।

বয়স অনুযায়ী ভাইবোনের ঝগড়া: কোনটা স্বাভাবিক, কী বলবেন

বড় হওয়ার সঙ্গে ঝগড়ার বিষয় বদলায়, আর কী কাজে দেয় সেটাও।

বয়স অনুযায়ী ঝগড়া: কোনটা স্বাভাবিক, কী কাজে দেয়, কী বলবেন
বয়সসাধারণত যা হয়যা কাজে দেয়যা বলতে পারেন
২–৪ বছরছিনিয়ে নেওয়া, ধাক্কা, মারা; ভাগ করা খুব কমকাছে থাকুন, আলতো করে আলাদা করুন, পালার জন্য টাইমার; পড়ুন বাচ্চা মারে ও কামড়ায় কী করবেন“আস্তে হাত। টাইমার বাজলে তোমার পালা।”
৫–৮ বছরন্যায্যতা নিয়ে ঝগড়া, নালিশ, খেলার নিয়ম নিয়ে তর্কধাপগুলো ধরে পথ দেখান, তাদের সমাধানের প্রশংসা করুন, বাসার নিয়ম ঠিক করুন“এটা কি ব্যথা দেওয়ার সমস্যা, নাকি ভাগাভাগির সমস্যা?”
৯–১২ বছরখেপানো, নম্বর বা খেলায় প্রতিযোগিতা, না বলে অন্যের জিনিস ধরাআলাদা করে কথা, নিষ্ঠুরতা নিয়ে স্পষ্ট নিয়ম, নিজের জায়গা আর জিনিস“অন্যজন না হাসলে খেপানোটা আর মজা থাকে না।”
১৩–১৫ বছরজায়গা, মোবাইল-ল্যাপটপ আর বড় হিসেবে সম্মান নিয়ে ঝগড়াগোপনীয়তার সম্মান; বড়টাকে সত্যিকারের দায়িত্ব দিন, ছোটটার ওপর কর্তৃত্ব নয়“সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে হবে না, কিন্তু একে অপরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।”

ভাইবোনের মধ্যে হিংসা: ন্যায্য মানে সবাইকে একই জিনিস নয়

ভাইবোনের মধ্যে হিংসা প্রায়ই জন্মায় অন্যায্য আচরণের অনুভূতি থেকে। ন্যায্য হওয়া মানে একই সময়ে সবাইকে একই জিনিস দেওয়া নয়; মানে যার যা দরকার, সে তা পাবে। ৪ বছরের বাচ্চার জুতা পরতে সাহায্য লাগে; ১০ বছরের বাচ্চার লাগে একটু দেরিতে ঘুমানোর অনুমতি।

  • দরকারের হিসাবে বুঝিয়ে বলুন: “তোমার যখন সাহায্য লাগে, তখন তোমাকেও সাহায্য করি।”
  • “বুদ্ধিমানটা”, “দুষ্টুটা”, “সুন্দরটা” — এমন তকমা বাদ দিন; বাচ্চারা সাধারণত তকমার মতোই হয়ে উঠতে থাকে।
  • তুলনা করবেন না: “বোনের মতো হতে পারো না?” — এতে চেষ্টা বাড়ে না, দুজনের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। তুলনা ছাড়া প্রশংসা নিয়ে পড়ুন সন্তানের প্রশংসা করার উপায়।
  • পক্ষপাত খেয়াল রাখুন। একজন হয়তো সহজ স্বভাবের, বা ছেলে আর মেয়ের জন্য নিয়ম বা স্বাধীনতা আলাদা। কেউ মুখে না বললেও বাচ্চারা বোঝে।
  • মাঝে মাঝে দুজনকে একসঙ্গে প্রশংসা করুন: “আজ তোমরা দুজন মিলে পুরো পরিবারকে হাসিয়েছ।”

প্রতিটি বাচ্চার সঙ্গে একান্ত সময়

সবচেয়ে কাজের অভ্যাসগুলোর একটা হলো বেশিরভাগ দিন প্রতিটি বাচ্চার সঙ্গে একটু একান্ত সময়: মোটামুটি ১০ মিনিট, কী করবে সেটা বাচ্চাই ঠিক করবে, ফোন নয়, ভাইবোন নয়, পড়ানোও নয়। যে বাচ্চা আপনার নিজের ভাগটা পায়, তার সেটা নিয়ে লড়াই করার দরকার কম পড়ে।

শুধু আপনি আর বাচ্চা, তার পছন্দের একটা খেলায় ১০ মিনিট — পরে প্রতিযোগিতা কমাতে পারে।

‘তুমি বড়, ছাড় দাও’: আমাদের পরিবারে ভাইবোনের রেষারেষি

যখন সবসময় বড়টাকেই ছাড় দিতে হয়

আমাদের অনেক বাসায় বড় বাচ্চাটা প্রায় প্রতিদিন শোনে, “তুমি বড়, ছাড় দাও” বা “ও ছোট, ওকে দিয়ে দাও।” এর পেছনে একটা ভালো মূল্যবোধ আছে: বড়রা ছোটদের আগলে রাখে। কিন্তু প্রতিবার বড়টাই হারলে সে প্রায়ই ধরে নেয় ছোটটাকে বেশি ভালোবাসা হয়, আর রেষারেষি চুপচাপ বাড়তে থাকে; ওদিকে ছোটটা শেখে, কাঁদলেই কাজ হয়।

  • দুজনের জন্য একই নিয়ম: পালা মানে পালা, যে-ই কাঁদুক।
  • মূল্যবোধটা বলুন, কিন্তু হারিয়ে দিয়ে নয়: “বড় আপুরা সাহায্য করে, আবার বড় আপুরও পালা আসে।”
  • বড়টাকে দায়িত্বের পাশাপাশি কিছু সুবিধাও দিন, যেমন একটু দেরিতে ঘুম বা শুক্রবার কোথায় যাওয়া হবে বেছে নেওয়া — শুধু ছোটটাকে দেখে রাখা নয়।

যৌথ পরিবারে চাচাতো-মামাতো ভাইবোন

যৌথ পরিবারে বা বড় দাওয়াতে চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইবোনেরা আপন ভাইবোনের মতোই থাকে, আর কয়েক পরিবারের বড়রা নিজ নিজ নিয়মে হস্তক্ষেপ করেন। অন্য বাবা-মায়েদের সঙ্গে মিলে সব বাচ্চার জন্য দুটো সহজ নিয়ম ঠিক করুন — যেমন মারা যাবে না, পালা করে খেলতে হবে। খেয়াল রাখুন, অতিথি বলে, সবচেয়ে ছোট বলে, বা বাবা-মা কাছে নেই বলে একই বাচ্চা যেন সবসময় দোষ না খায়।

ছোট বাসায় এক ঘর ভাগাভাগি

  • প্রত্যেককে এমন একটা জায়গা দিন যা শুধু তার: একটা তাক, একটা বাক্স, একটা ড্রয়ার।
  • অন্যজনের জিনিস ধরার আগে জিজ্ঞেস করার নিয়ম ঠিক করুন।
  • ঘুমের সময় আগে-পরে করুন: ছোটটা আগে ঘুমাবে, তারপর বড়টা ছোট বাতি জ্বালিয়ে পড়বে।
  • হোমওয়ার্কের জায়গা আলাদা করুন — একজন খাবার টেবিলে, আরেকজন শোবার ঘরে — যাতে পড়ার সময় ঝগড়া না বাধে।
  • ছোট বাসাতেও রোজ কিছুটা আলাদা সময় রাখুন: একজন রান্নাঘরে আপনার সঙ্গে হাত লাগাবে, আরেকজন শোবার ঘরে খেলবে বা পড়বে।

দাদা-দাদি, আত্মীয় আর গৃহকর্মী

মুরুব্বিরা অনেক সময় একজনের পক্ষ নেন, প্রায়ই সবচেয়ে ছোটটার, আর আত্মীয়রা খোলাখুলি তুলনা করেন। ছোট একটা উত্তর কাজে দেয়: “ওরা দুজন দুই রকম জিনিসে ভালো।” গৃহকর্মীকে যদি শুধু বাচ্চাদের চুপ রাখতে বলা হয়, তিনি হয়তো যে বেশি চেঁচায় তার কথাই মেনে নেন। সবাইকে একই পরিকল্পনা দিন: কেউ ব্যথা পেলে বাচ্চাদের আলাদা করবেন, আপনাকে ডাকবেন, আর ঝগড়া থামাতে কখনো কোনো বাচ্চাকে মারবেন না।

বাচ্চারা সারাক্ষণ ঝগড়া করে? পরের ঝগড়া ঠেকানোর উপায়

  • সবাই মিলে বাসার কয়েকটা নিয়ম ঠিক করে দেয়ালে লাগিয়ে দিন: মারা যাবে না, গালি দেওয়া যাবে না, ধার নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করতে হবে।
  • শান্ত সময়ে দক্ষতাগুলো শেখান: পালা চাওয়া, বদলাবদলির প্রস্তাব, “থামো, আমার ভালো লাগছে না” বলা, রাগ কমাতে সরে যাওয়া।
  • ঝুঁকির সময়গুলোর জন্য আগে থেকে ভাবুন — রাতের খাবারের আগে, স্কুল থেকে ফেরার পর, লম্বা যাত্রায়: একটু নাশতা আর আলাদা কাজ দিলে অনেক ঝগড়া শুরুই হয় না।
  • নিজেরাই ঠিক করার সুযোগ দিন: ভেঙে ফেলা টাওয়ার আবার বানাতে সাহায্য করা বা নিজের পালাটা ছেড়ে দেওয়া প্রায়ই জোর করে বলানো “সরি”-র চেয়ে বেশি অর্থ বহন করে।
  • বড়টাকে রোজকার দেখাশোনার দায়িত্ব দেবেন না; প্রতিদিন ছোট ভাইবোনকে সামলাতে হলে মনে ক্ষোভ জমতে পারে।

ভাইবোনের ঝগড়া কমাতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

একবারে একটা জিনিস বদলান, আর প্রতি সন্ধ্যায় এক লাইন লিখুন: কতবার ঝগড়া হলো, কী নিয়ে, আর কী কাজে দিল।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। প্রতিটা ঝগড়া লিখুন: কখন, কী নিয়ে, কে কে ছিল।
  2. দিন ২: নোট দেখে ঝুঁকির সময়টা খুঁজে বের করুন, আর সে সময়ের জন্য নাশতা বা আলাদা কাজের ব্যবস্থা রাখুন।
  3. দিন ৩: সবাই মিলে বাসার তিনটা নিয়ম ঠিক করুন, আর কেউ কাউকে ব্যথা দিলে কী হবে।
  4. দিন ৪: প্রতিটি বাচ্চার সঙ্গে মোটামুটি ১০ মিনিটের একান্ত সময় শুরু করুন।
  5. দিন ৫: পরের খুনসুটিতে “কে আগে শুরু করেছে?” বাদ দিয়ে পথ দেখান: প্রত্যেকে কী চায় বলুন, তারপর সমাধান চান।
  6. দিন ৬: দুজন মিলেমিশে থাকলে অন্তত একবার মুখে সেটা বলুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। ঝগড়া কি কমেছে? ছোট হয়েছে? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর আরেকটা জিনিস বদলান।

কখন বুঝবেন এটা সাধারণ ঝগড়ার চেয়ে বেশি কিছু?

ভাইবোনের বেশিরভাগ ঝগড়া দুই দিক থেকেই হয়: কখনো একজন জেতে, কখনো আরেকজন। নিচের কোনো লক্ষণ দেখলে বাচ্চার ডাক্তার বা একজন কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।

এমন হলে সাহায্য নিন

  • সপ্তাহের পর সপ্তাহ একজনই সবসময় নিশানা: ব্যথা পাচ্ছে, ভয় পাচ্ছে, বা ভাই বা বোনের সঙ্গে একা থাকতে ভয় পায়।
  • ঝগড়ায় প্রায়ই আঘাত লাগে, যেমন কালশিটে, কামড়ে চামড়া কেটে যাওয়া, বা মাথা লক্ষ্য করে জিনিস ছোড়া।
  • বাড়িতে বুলিং: বারবার নিষ্ঠুরতা, হুমকি বা অপমান, প্রায়ই অনেক বড় বা শক্তিশালী ভাইবোনের কাছ থেকে। যে বাচ্চা বলছে তার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর কোনো বাচ্চা বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • ভাইবোনের মধ্যে গোপন অঙ্গে ছোঁয়া, যেখানে জোর, ভয় দেখানো, গোপন রাখতে বলা বা বয়সের বড় ব্যবধান আছে। কাছাকাছি বয়সের ছোট বাচ্চাদের মধ্যে অল্প সময়ের কৌতূহল এর থেকে আলাদা। শান্ত থাকুন, খুঁটিয়ে প্রশ্ন না করে মন দিয়ে শুনুন, আর যে বাচ্চা বলছে তার কথা বিশ্বাস করুন। সেদিন থেকেই খেয়াল রাখুন, ওরা যেন একসঙ্গে না ঘুমায়, একসঙ্গে গোসল না করে, বা বড়দের চোখের আড়ালে একসঙ্গে না থাকে; সেদিনই ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন; আর কোনো বাচ্চা বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। দুজনেরই সাহায্য দরকার, লজ্জা নয়। পড়ুন গুড টাচ ব্যাড টাচ: শিশুকে শরীরের নিরাপত্তা শেখানো।
  • কোনো বাচ্চা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন মনমরা বা গুটিয়ে থাকে, বা বেঁচে থাকতে চায় না বা নিজের ক্ষতি করবে — এমন কথা বলে। এমন কথা বললে শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • মনে হচ্ছে বাচ্চাদের নিরাপদ রাখতে পারছেন না, বা নিজেই বাচ্চার গায়ে হাত তুলে ফেলবেন: একটু সরে যান, আরেকজন বড় মানুষের সাহায্য নিন, আর কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

একটা হইচইয়ের সন্ধ্যা দেখে নয়, এক সপ্তাহ ধরে দেখলে ভাইবোনের ঝগড়ার ধরন বোঝা সহজ। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে আর কী থেকে ঝগড়া বাধে তা ধরতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বাচ্চারা সারাক্ষণ ঝগড়া করে — এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, খেলনা, পালা আর ন্যায্যতা নিয়ে রোজকার খুনসুটি খুবই সাধারণ, বিশেষ করে বয়সের ব্যবধান কম হলে আর এক ঘরে থাকলে। কতবার, তার চেয়ে ঝগড়ার ধরন বেশি জরুরি। দুজনেই কখনো জেতে, কখনো হারে, আর কেউ আঘাত পায় না — তাহলে সাধারণত এটা স্বাভাবিক রেষারেষি। একজন সবসময় নিশানা হলে বা আঘাত পেলে হস্তক্ষেপ করুন, সাহায্য নিন।

বড় ভাই ছোট বোনকে মারে কেন?

সাধারণত হিংসা, ক্লান্তি বা বড় অনুভূতি প্রকাশের ভাষা না থাকায়, আর প্রায়ই ছোটটা বেশি মনোযোগ পায় বা সবসময় জিতে যায় বলে। প্রতিবার শান্তভাবে মারা থামান, আগে ছোটটাকে দেখুন, পরে বড়টার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন কোনটা তার কাছে কঠিন ছিল। বেশি একান্ত সময় আর কম “তুমি বড়, ছাড় দাও” প্রায়ই কাজে দেয়।

ভাইবোনের মধ্যে হিংসা হলে কী করব?

আগে বিচার না করে অনুভূতিটার নাম দিন: “ভাই যখন আমার মনোযোগ পায়, তখন তোমার খারাপ লাগে, তাই না?” হিংসা একটা অনুভূতি, খারাপ আচরণ নয়। তারপর সেই বাচ্চাকে নিয়মিত একান্ত সময় দিন, তুলনা আর তকমা বাদ দিন, আর দরকারের হিসাবে ন্যায্যতা বোঝান। কেউ ব্যথা দিলে থামান, কিন্তু অনুভূতিটার জন্য শাস্তি দেবেন না।

বড় সন্তানকে কি সবসময় ছোটটার জন্য ছাড় দিতে বলা উচিত?

না। প্রতিবার বড়টাকে ছাড় দিতে বললে তার কাছে খুব অন্যায় মনে হতে পারে, আর ছোটটা শেখে কাঁদলেই জেতা যায়। দুজনের জন্য একই নিয়ম রাখুন — পালা করা, নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করা — তবে অনেক ছোট ভাইবোনের সঙ্গে বড়টার কাছে নরম ব্যবহারের আশা রাখুন। নিজে থেকে ভাগ করলে ধন্যবাদ দিন।

ভাইবোন কি এক ঘরে থাকতে পারে?

হ্যাঁ। অনেক বাসায় এটাই একমাত্র উপায়, আর এতে ভাইবোনের টানও বাড়তে পারে। প্রত্যেককে নিজের একটা জায়গা, অন্যের জিনিস ধরার আগে জিজ্ঞেস করার নিয়ম, আর রোজ কিছুটা আলাদা সময় দিন। বয়ঃসন্ধির কাছাকাছি এলে সম্ভব হলে অনেক পরিবার বিছানা বা ঘর আলাদা করে; কাপড় বদলানোর সময় গোপনীয়তা যেকোনো বয়সেই জরুরি।

ভাইবোনের রেষারেষি আর বাড়িতে বুলিংয়ের পার্থক্য কী?

ভাইবোনের রেষারেষি দুই দিক থেকেই হয় আর বদলায়: কখনো একজন জেতে, কখনো আরেকজন, আবার মিটমাটও হয়। বুলিং একতরফা আর বারবার: একই বাচ্চা ব্যথা পায়, হুমকি বা অপমানের শিকার হয়, প্রায়ই বড় বা শক্তিশালী ভাইবোনের কাছ থেকে, আর সে ভয়ে থাকে। বুলিং হলে প্রতিবার একজন বড় মানুষকে দৃঢ়ভাবে থামাতে হয়, আর প্রায়ই বাইরের সাহায্য লাগে।

ঝগড়া করলে কি দুজনকেই শাস্তি দেব?

সাধারণত শাস্তির চেয়ে সমস্যার সমাধান বেশি কাজে দেয়। খেলনা নিয়ে ঝগড়া হলে খেলনাটা কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে রাখুন; কেউ ব্যথা পেলে যে দিয়েছে সে ঠিক করতে সাহায্য করবে। ঝগড়া থামাতে বাচ্চাকে মারা, বকাঝকা বা লজ্জা দেওয়া ঠিক সেটাই শেখায় যা আপনি থামাতে চান। পড়ুন মারধর ছাড়া শাসন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।