বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন: নরমভাবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলার উপায়
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন, তার সহজ উত্তর: কাছে যান, ও কী চাইছে তা মুখে বলুন, এক বাক্যে শান্তভাবে ‘না’ বলুন, বদলে কী পাওয়া যাবে তা বলুন, তারপর আর তর্ক নয়। ২–৮ বছরের বাচ্চারা প্রায়ই মেনে নেওয়ার ঠিক আগে সবচেয়ে বেশি জোর করে, তাই অটল থাকুন। কান্না শুরু হওয়ার পর দিয়ে দিলে বাচ্চা সাধারণত শেখে, কাঁদলেই পাওয়া যায়।
লেখাটি শুনুন
১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- যে ২–৮ বছরের বাচ্চা বায়না ধরে, ঘ্যানঘ্যান করে বা জোর করে চায়, তার বাবা-মা: বাসায়, দোকানে আর আত্মীয়ের বাসায়
- মূল কথা
- নরম ‘না’ ছোট হয়: ইচ্ছেটা মুখে বলুন, একবার ‘না’ বলুন, বদলে কী সম্ভব তা বলুন, আর ব্যাখ্যা থামান।
- উত্তর দেওয়ার আগেই ঠিক করুন: ১০ মিনিট ঘ্যানঘ্যানের পর ‘হ্যাঁ’ বললে বাচ্চা সাধারণত আরও ঘ্যানঘ্যান করতে শেখে, তাড়াতাড়ি ‘হ্যাঁ’ বা স্থির ‘না’-তে তা হয় না।
- কঠিন জায়গাগুলোর জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করুন: দোকান, দাওয়াত বা ঈদের কেনাকাটার আগে নিয়ম ঠিক করুন, আর দাদা-দাদির সঙ্গে ঠিক করুন কোথায় তাঁরা ‘হ্যাঁ’ বলবেন।
- ‘না’ বলাও ভালোবাসার অংশ: শান্ত, স্থির সীমা পেলে বাচ্চারা প্রায়ই নিজেকে বেশি নিরাপদ মনে করে; এতে ভালোবাসা কম মনে হয় না।
কাউন্টারের পাশে চকলেট, কাজিনের নতুন গাড়ি বা মোবাইল চোখে পড়তেই শুরু হয়: ‘দাও না, দাও না, প্লিজ!’ বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন, ঝগড়া আর কান্না ছাড়া কীভাবে ‘না’ বলবেন, এটা জানা বাবা-মায়ের সবচেয়ে কাজের দক্ষতাগুলোর একটা, অথচ আমাদের বেশির ভাগকেই কেউ এটা শেখায়নি। মোটামুটি ২ থেকে ৮ বছর বয়সে বায়না ধরা আর ঘ্যানঘ্যান করা খুবই সাধারণ; এর মানে এই নয় যে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা আপনি ব্যর্থ।
‘না’ একসঙ্গে নরমও হতে পারে, দৃঢ়ও। নিচে পাবেন ধাপগুলো, ঠিক কী বলবেন, শুধু ‘না’-এর চেয়ে ভালো কিছু উপায়, কোন বয়সে কী আশা করবেন, আমাদের বাসার কঠিন জায়গাগুলো, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।
‘না’ শুনলেও বাচ্চা কেন বারবার বায়না ধরে?
‘না’ শোনার পরও বাচ্চার বায়না চলতে থাকে মূলত ছোট মস্তিষ্কের কাজের ধরনের কারণে, স্বভাব খারাপ বলে নয়। ৩ বছর বয়সে ‘এখনই চাই’ মনে হওয়া খুব সহজ; অপেক্ষা করা আর ‘না’ মেনে নেওয়া এমন দক্ষতা, যা স্কুলের প্রথম বছরগুলো জুড়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। যে বাচ্চা কখনোই ‘না’ মানতে চায় না, সময় আর প্রতিবার একই শান্ত উত্তর পেলে সে-ও মানতে শেখে।
- নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা এখনো তৈরি হচ্ছে। চাওয়াটা আসে এক সেকেন্ডে; নিজেকে থামাতে লাগে মস্তিষ্কের এমন একটা অংশ, যা পরিণত হতে বছরের পর বছর লাগে।
- মাঝে মাঝে ‘হ্যাঁ’ হলে বাচ্চা লেগে থাকতে শেখে। পাঁচবারে একবারও যদি ঘ্যানঘ্যান করে পাওয়া যায়, বাচ্চা প্রায়ই শেখে আরও বেশিক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করতে, আর একটা ‘না’ গড়ায় এক ঘণ্টার বায়নায়।
- ক্লান্ত থাকলে, খিদে পেলে বা একঘেয়ে লাগলে বাচ্চা বেশি বায়না করে। সবচেয়ে কঠিন সময় প্রায়ই বিকেলবেলা, বা স্কুল থেকে ফেরার ঠিক পর।
- কখনো কখনো চাওয়াটা আসলে আপনাকে। ‘কিছু কিনে দাও’ মানে হতে পারে ‘আমাকে একটু সময় দাও’, বিশেষ করে সারাদিন আলাদা থাকার পর।
- দোকানগুলোও সেভাবেই সাজানো: চকলেট আর খেলনা থাকে বাচ্চার চোখের সমান উচ্চতায়, কাউন্টারের পাশে।
- অন্যদের আছে। মোটামুটি ৫ বছর থেকে ‘সবার আছে’ কথাটা বাচ্চার কাছে সত্যিকারের বাদ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়ে ওঠে।
বায়না ধরলে বাচ্চাকে কীভাবে না বলবেন: ৭টি ধাপ
প্রথম বায়না থেকে শেষ কান্না পর্যন্ত, শান্তভাবে সীমায় অটল থাকার উপায়:
- উত্তর দেওয়ার আগে ঠিক করুন। ‘হ্যাঁ’ বলা গেলে এখনই বলুন, ১০ মিনিট ঘ্যানঘ্যানের পরে নয়। ‘না’ হলে নিশ্চিত হোন যে কথাটা রাখতে পারবেন। ‘একটু ভেবে বলি’, প্রথম উত্তর হিসেবে এটাও ঠিক আছে।
- কাছে যান। হাঁটু গেড়ে চোখের সমান উচ্চতায় বসুন, বা কাঁধে হাত রাখুন; ঘরের ওপাশ থেকে বলা ‘না’ সহজেই কানের পাশ দিয়ে চলে যায়।
- আগে ওর ইচ্ছেটা মুখে বলুন: ‘বেলুনটা তোমার খুব চাই, তাই না?’ কেউ বুঝেছে, এটা টের পেলে ‘না’ শুনতে প্রায়ই একটু সহজ লাগে।
- ছোট, নরম এক বাক্যে ‘না’ বলুন: ‘আজ আমরা এটা কিনব না।’ বাচ্চা বোঝার মতো বড় হলে একটা কারণ বলুন, তারপর থামুন; লম্বা ব্যাখ্যা মানেই তর্কের দাওয়াত।
- বদলে কী সম্ভব, তা বলুন: দুটো থেকে একটা বেছে নেওয়া, ‘আগে এটা, তারপর ওটা’, বা ‘পরে’। ‘কালকের টিফিনের বিস্কুটটা তুমি বেছে নিতে পারো।’
- আবার চাইলে একই ছোট কথাটা আবার বলুন। তর্ক, নতুন ব্যাখ্যা বা দর-কষাকষি নয়; প্রতিটা নতুন কারণ বাচ্চাকে জোর করার নতুন একটা জায়গা দেয়।
- কান্নার মধ্যেও নরম থাকুন, কিন্তু উত্তর বদলাবেন না। মন খারাপ করতে দিন, পাশে থাকুন, আর পরে চেষ্টাটা খেয়াল করে বলুন: ‘কঠিন ছিল, তবু তুমি সামলে নিয়েছ।’
যা বলতে পারেন
- গাড়িটা তোমার খুব পছন্দ হয়েছে, না? সত্যিই সুন্দর। কিন্তু আজ আমরা খেলনা কিনব না।
- দুপুরের খাবারের আগে চকলেট না। কলা খাবে, না বিস্কুট? তুমি বেছে নাও।
- আগে জুতা পরো, তারপর নিচে খেলতে যাব।
- আমি শুনেছি। উত্তরটা এখনো ‘না’।
- এটা কি তোমার ঈদের ইচ্ছের তালিকায় লিখে রাখব?
- মন খারাপ হতেই পারে। আমি পাশেই আছি। তবু উত্তর ‘না’।
অনুভূতিটাকে ‘হ্যাঁ’ বলুন, জিনিসটাকে ‘না’।
শুধু ‘না’-এর চেয়ে ভালো: বেছে নেওয়া, ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ আর ‘পরে’
বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন, তার উত্তর শুধু ‘না’ নয়। আরও কিছু কথা হাতে থাকলে ছোট বাচ্চার জন্য সীমা ঠিক করা সহজ হয়। এই উপায়গুলোতে সীমাটা ঠিকই থাকে, আবার বাচ্চাও আঁকড়ে ধরার মতো কিছু পায়।
- আপনার কাছে দুটোই ঠিক, এমন দুটো বিকল্প: ‘লাল কাপ, না নীল কাপ?’ ‘হেঁটে যাবে, না আমার পিঠে চড়ে?’ ২–৫ বছরে এটা বিশেষ করে ভালো কাজ করে।
- ‘আগে এটা, তারপর ওটা’: ‘আগে খেলনাগুলো বাক্সে তোলো, তারপর কার্টুন।’ এটা হুমকির মতোই দৃঢ়, কিন্তু ভয় ছাড়া।
- ‘হ্যাঁ, তবে পরে’, কিন্তু শুধু তখনই, যখন কথাটা রাখবেন: ‘হ্যাঁ, শুক্রবার নানুর বাসায় আইসক্রিম।’ কথা দিয়ে না রাখলে বাচ্চা আপনার কথায় বিশ্বাস না করতে শিখতে পারে।
- ইচ্ছের তালিকা: লিখে রাখুন, বা বাচ্চাকে এঁকে রাখতে দিন, আর জন্মদিনে বা ঈদে সেখান থেকে বেছে নিন। এতে বাচ্চা বোঝে আপনি শুনেছেন, আর অপেক্ষা করা শেখার একটা নরম উপায়ও হয়।
- প্রতিবার নতুন সিদ্ধান্তের বদলে পরিবারের একটা নিয়ম: ‘মিষ্টি শুধু শুক্রবার।’ নিয়মই যখন ‘না’ বলে, তখন প্রতিবার আপনি শত্রু হয়ে যান না।
বাচ্চা যখন শুধু তর্ক না করে নিয়মটাই ভেঙে ফেলে, তখন বকাঝকার চেয়ে ছোট, শান্ত একটা পরিণতি প্রায়ই বেশি শেখায়; পুরো উপায়গুলো আছে বাচ্চাকে শাসন করার উপায় লেখায়।
‘না’ বলার পরও বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন?
জোর করবে, এটা ধরে নিন। ‘না’ শোনার পর বাচ্চা যখন ঘ্যানঘ্যান করে, সে আসলে দেখে নেয় ‘না’-টা সত্যি কি না, আর থেমে যাওয়ার ঠিক আগেই এই পরীক্ষা প্রায়ই সবচেয়ে জোরালো হয়। ওই কয়েক মিনিটে আপনি কী করছেন, তা থেকেই বাচ্চা অনেকটা শেখে।
- ঘ্যানঘ্যানের উত্তর একবারই দিন: ‘স্বাভাবিক গলায় বললে আমি শুনব।’ তারপর প্রতিবার একই কয়েকটা শান্ত কথা: ‘আমার উত্তর “না”।’
- কান্নার মাঝখানে কোনো চুক্তি নয়। ‘কান্না থামাও, কিনে দিচ্ছি’, এতে বাচ্চা প্রায়ই শেখে, কাঁদলেই দর-কষাকষি শুরু হয়।
- মন খারাপের সময় পাশে থাকুন। জড়িয়ে ধরতে পারেন, বা কাছে বসে থাকতে পারেন; অনুভূতিটা ঠিক করে দিতে হবে না, উত্তরও বদলাতে হবে না।
- একসঙ্গে অন্য কিছুতে চলে যান: নতুন জায়গা, ছোট একটা কাজ, একটা খেলা। খেলনার তাকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে ইচ্ছেটা জ্বলতেই থাকে।
- ছোট বাচ্চাকে কখনো ফেলে চলে যাওয়ার ভয় দেখাবেন না, ‘পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে’ বলেও না। এ ধরনের হুমকিতে এক মিনিটের জন্য কাজ হতে পারে, কিন্তু থেকে যায় এমন ভয়, যা অনেকদিন যায় না।
কান্না যদি পুরোদস্তুর জেদে গড়ায়, তখন কী করবেন তা আছে শিশুর জেদ কমানোর উপায় লেখায়। প্রতিটা ‘না’ নিয়ে তর্ক করে এমন একটু বড় বাচ্চার জন্য দেখুন জেদি সন্তান।
বয়স অনুযায়ী ‘না’ বলা: ২ থেকে ৮ বছরে কী আশা করবেন
| বয়স | ‘না’ শুনলে প্রায়ই যা হয় | যা সাধারণত কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ২–৩ বছর | কান্না, মাটিতে গড়াগড়ি, টেনে নেওয়া; অপেক্ষা করা খুব কঠিন | খুব কম কথা, জিনিসটা বা বাচ্চাকে সরিয়ে নেওয়া, মনোযোগ অন্যদিকে নেওয়া, দুটো সহজ বিকল্প |
| ৪–৫ বছর | দর-কষাকষি, ‘কেন?’, ‘তুমি পচা!’, ঘ্যানঘ্যান | ছোট একটা কারণ, ‘আগে এটা, তারপর ওটা’, ইচ্ছের তালিকা, প্রতিবার একই কথা |
| ৬–৮ বছর | ন্যায্যতা নিয়ে তর্ক: ‘সবার আছে, শুধু আমার নেই!’ | পরিবারের নিয়মটা একবার বুঝিয়ে বলা, একসঙ্গে পরিকল্পনা (ছোট একটা বাজেট, টাকা জমানোর কৌটা), আর কথা রাখা |
৬–৮ বছর বয়সে অনেক বাচ্চা আগে থেকে ঠিক করা কোনো মজার জিনিসের জন্য কয়েকদিনও অপেক্ষা করতে পারে, যদি বিশ্বাস থাকে যে সেটা আসবে। সেই বিশ্বাস তৈরি হয় ছোট ছোট কথা রাখার মধ্য দিয়ে।
আমাদের বাসায় বায়না: দোকান, দাওয়াত, ঈদ আর সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলা দাদা-দাদি
দোকানে, দাওয়াতে বা অন্যদের সামনে বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন, সেটাই সবচেয়ে কঠিন। বেশির ভাগ বাংলাদেশি পরিবারের চেনা জায়গাগুলোর জন্য আগে থেকে একটু পরিকল্পনা করলে অনেক টানাটানি এড়ানো যায়।
মুদি দোকান, সুপারশপ আর স্কুলের গেটে
বাচ্চা কিছু দেখার আগেই, যাওয়ার পথে পরিকল্পনাটা বলে নিন: ‘আজ আমরা চাল আর ডিম কিনব। টিফিনের জন্য তুমি এক প্যাকেট বিস্কুট বেছে নিতে পারবে।’ ওকে একটা কাজ দিন, যেমন ডিম খুঁজে বের করা। কাউন্টারের চকলেটের বায়না বা স্কুলের গেটের সামনের খাবারের জন্য একটা দিন ঠিক করা থাকলে (ধরুন বৃহস্পতিবার) প্রতিদিন বিকেলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। মিষ্টি আর চিপস কত ঘনঘন চলতে পারে, দেখুন বাচ্চার জাঙ্ক ফুড আর মিষ্টি।
আত্মীয়ের বাসায় বা দাওয়াতে
কাজিনের নতুন খেলনা, মেহমানের আনা চকলেটের বাক্স, আর কোনো খালার আদরমাখা ‘দিয়ে দাও, ছোট মানুষ!’: একটা বায়না দশটা হয়ে যেতে সময় লাগে না। যাওয়ার পথে দুটো নিয়ম ঠিক করে নিন: কিছু নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করব, আর উপহার চাইব না। তারপর আত্মীয়দের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ দিন, কিন্তু নিজের কথায় থাকুন: ‘ধন্যবাদ, খালা। খাওয়ার পরে একটা।’
ঈদে নতুন জামার বায়না
বাজারে যাওয়ার আগেই ঠিক করুন কয়টা জামা আর মোটামুটি কত টাকার মধ্যে, আর তার ভেতরে বাচ্চাকে বাছতে দিন: ‘এই তিনটার মধ্যে একটা তুমি বেছে নাও।’ পারলে দিনের প্রথম দিকে কেনাকাটা করুন, ক্লান্ত বাচ্চাকে নিয়ে ভিড়ের সন্ধ্যায় নয়। কাজিনের বেশি জামা হলে সহজ করে বলুন: ‘প্রত্যেক পরিবার নিজের মতো ঠিক করে। আমাদেরটা এমন।’
দাদা-দাদি বা নানা-নানি যখন সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলেন
দাদা-দাদি বা নানা-নানির ‘হ্যাঁ’ সাধারণত আসে গভীর ভালোবাসা থেকে। আলাদা করে কথা বলুন, বাচ্চার সামনে কখনো নয়, আর শুধু সবচেয়ে জরুরি দু-তিনটা বিষয়ে সাহায্য চান, যেমন খাওয়ার আগে মিষ্টি আর ঘুমের সময় মোবাইল। তাঁদের নিজেদের কিছু ‘হ্যাঁ’ থাকুক, যা তাঁরা উপভোগ করবেন: শুক্রবারের মজার খাবারটা না হয় দাদুর হাত থেকেই আসুক। বাসায় গৃহকর্মী বাচ্চাকে দেখলে তাঁকেও একই নিয়ম আর একই কথাগুলো জানিয়ে দিন।
দাদা-দাদি আর আত্মীয়দের জন্য কথা
- আম্মা, জানি আপনি ওকে খুব আদর করেন। মিষ্টি আর মোবাইলের ব্যাপারে আগে আমাকে একটু জিজ্ঞেস করে নেবেন? বাকিটা আপনার ইচ্ছেমতো।
- স্কুলের দিনে চকলেট না, এটা আমরা ঠিক করেছি। ও আপনার কাছে চাইলে বলবেন, ‘চলো, আম্মুকে জিজ্ঞেস করি’?
‘না’ বলা সহজ করার ৭ দিনের পরিকল্পনা
- দিন ১: খেয়াল করুন। যতবার ‘না’ বলেছেন, লিখে রাখুন: কী চেয়েছিল, কোথায়, কখন, বায়না কতক্ষণ চলেছিল, আর শেষে দিয়ে দিয়েছিলেন কি না। এখনই কিছু বদলাবেন না।
- দিন ২: আপনার ‘না’-এর তালিকা ঠিক করুন (তিনটা জিনিস, যা সবসময় ‘না’, যেমন খাবারের আগে মিষ্টি), আর কোন ছোট জিনিসে সহজে ‘হ্যাঁ’ বলবেন, তা-ও।
- দিন ৩: ছোট ‘না’ আর তার পরের একটা কথা প্র্যাকটিস করুন, প্রতিবার একই রকম। অন্তত একবার ‘আগে এটা, তারপর ওটা’ বলুন।
- দিন ৪: একটা কঠিন জায়গার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করুন, দোকান বা কারও বাসা: যাওয়ার পথে নিয়মটা বলে নিন আর বাচ্চাকে একটা কাজ দিন।
- দিন ৫: একসঙ্গে একটা ইচ্ছের তালিকা শুরু করুন, আর বাচ্চাকে দেখিয়ে দিন সেটা কোথায় থাকবে।
- দিন ৬: দাদা-দাদি বা বাসার অন্য বড়দের সঙ্গে আড়ালে কথা বলুন; এক-দুটো নিয়ম আর সবাই যে কথাগুলো বলবেন, তা ঠিক করে নিন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার বায়না, কতক্ষণ চলল, কতবার দিয়ে দিলেন। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর একটা জিনিস বদলান।
বায়না আর জেদ নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন
এমন হলে সাহায্য নিন
- ৫ বছরের পরেও প্রায় প্রতিদিন ‘না’ শুনলেই অনেকক্ষণ ধরে জেদ আর কান্না চলে, বা কয়েক সপ্তাহ ধরে তা আরও লম্বা বা ঘনঘন হচ্ছে।
- ‘না’ শুনলে বাচ্চা নিজেকে, অন্যকে বা আপনাকে আঘাত করে, যেমন মাথা ঠোকে, কামড়ায় বা জোরে মারে, অথবা প্রায়ই জিনিস ভাঙে।
- ছোটখাটো হতাশাতেই প্রায় প্রতিদিন বাচ্চা অনেকক্ষণ ভেঙে পড়ে, আর কয়েক সপ্তাহ ধরে এর প্রভাব পড়ছে স্কুলে, বন্ধুত্বে বা পরিবারের জীবনে।
- একটু বড় বাচ্চা হঠাৎ আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা বা জিনিস চাইছে, বা বাসা থেকে জিনিস হারাচ্ছে। এর মানে হতে পারে কেউ ওকে চাপ দিচ্ছে: শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- চিৎকার না করে ‘না’ বলতেই পারছেন না, বা প্রায় প্রতি সপ্তাহে মনে হয় এই বুঝি মেরে বসবেন। নিজের জন্য ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন; কাজে লাগতে পারে সন্তানের উপর চিৎকার করা বন্ধ করার উপায়।
- মনে হচ্ছে বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন: বাচ্চা নিরাপদে আছে কি না নিশ্চিত করুন, সরে যান, আর সেদিনই সাহায্য নিন। কেউ বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন, তার উত্তর এক দিনে মেলে না; তবে ‘না’ যখন প্রতিবার একই রকম শোনায়, অনেক বাচ্চা তা আরও তাড়াতাড়ি মেনে নেয়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কখন বায়না সবচেয়ে বেশি হয় আর কী কাজে দিল, যাতে ধরনগুলো সহজে চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চাকে ‘না’ বলা কি ঠিক?
হ্যাঁ। ‘না’ বলা বাচ্চার যত্নেরই অংশ: এতে বাচ্চা নিরাপদ থাকে, ঘুম আর স্বাস্থ্য ঠিক থাকে, আর সে শেখে যে অন্যদেরও প্রয়োজন আছে। শান্ত, স্থির সীমার মধ্যে বড় হওয়া বাচ্চারা প্রায়ই নিজেকে বেশি নিরাপদ মনে করে; এতে ভালোবাসা কম মনে হয় না। সবচেয়ে জরুরি হলো কীভাবে বলছেন: কাছে গিয়ে, নরমভাবে, ছোট করে, প্রতিবার একইভাবে, আর অনুভূতিটাকে মেনে নিয়ে।
বাচ্চা কেন বারবার একই জিনিসের বায়না ধরে?
সাধারণত কারণ, বারবার চাইলে কখনো কখনো পাওয়া গেছে। যথেষ্ট ঘ্যানঘ্যানের পর ‘না’ যদি মাঝে মাঝেও ‘হ্যাঁ’ হয়ে যায়, বাচ্চা শেখে চালিয়ে যেতে। ছোট বাচ্চাদের জন্য অপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন, আর ক্লান্ত বা একঘেয়ে লাগলে বায়না বাড়ে। হয় তাড়াতাড়ি ‘হ্যাঁ’, নয়তো একই কথায় বারবার শান্ত ‘না’: কয়েক সপ্তাহে প্রায়ই বায়না কমে আসে।
দোকানে গিয়ে খেলনার বায়না ধরে কাঁদলে কি কিনে দেওয়া উচিত?
কান্না শুরু হওয়ার পর কিনে না দেওয়ার চেষ্টা করুন। খেলনা কিনে দিলে আজকের কান্না সাধারণত থামে, কিন্তু বাচ্চা প্রায়ই শেখে কাঁদলে কাজ হয়, তাই পরের বার প্রায়ই আরও কঠিন হয়। শান্ত থাকুন, উত্তর বদলাবেন না, আর তাড়াতাড়ি কেনাকাটা শেষ করুন, বা বাচ্চা শান্ত না হওয়া পর্যন্ত একসঙ্গে বাইরে দাঁড়ান। পরের বার দোকানে ঢোকার আগেই পরিকল্পনাটা বলে নিন, আর ওকে একটা কাজ দিন।
অপরাধবোধ ছাড়া বাচ্চাকে কীভাবে ‘না’ বলব?
মনে করুন ‘না’ আসলে কী রক্ষা করছে: ঘুম, স্বাস্থ্য, টাকা, বা বাচ্চার অপেক্ষা করতে শেখা। যাঁরা দীর্ঘ সময় কাজ করেন বা বাচ্চার কাছ থেকে দূরে থাকেন, তাঁদের অপরাধবোধ প্রায়ই সবচেয়ে বেশি; কিন্তু সময়ের অভাব জিনিস দিয়ে খুব কমই পূরণ হয়: ‘এটা কিনতে পারব না, কিন্তু রাতের খাবারের পর আমরা লুডু খেলতে পারি।’ আপনি পাশে থেকে যে মন খারাপ সামলাতে সাহায্য করেন, তার মধ্য দিয়েই বাচ্চা মানিয়ে নিতে শেখে।
আমি ‘না’ বলার পর দাদা-দাদি ‘হ্যাঁ’ বললে কী করব?
আলাদা করে, আন্তরিকভাবে কথা বলুন, বাচ্চার সামনে কখনো নয়। তাঁদের ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ দিন, তারপর শুধু সবচেয়ে জরুরি দু-তিনটা নিয়মে সাহায্য চান, যেমন খাবারের আগে মিষ্টি বা ঘুমের সময় মোবাইল। বাকি অনেক কিছুতে তাঁদের নিজেদের ‘হ্যাঁ’ থাকুক, আর সবার জন্য একটা কথা ঠিক করে নিন: ‘আগে আম্মু-আব্বুকে জিজ্ঞেস করি।’
ছোট বাচ্চাকে কি ‘না’ শব্দটাই বলা উচিত নয়?
শব্দটা বাদ দেওয়ার দরকার নেই। বিপদের জন্য, যেমন গরম ইস্ত্রি বা রাস্তা, জোরালো ‘না!’ বা ‘থামো!’ রেখে দিন, যাতে তা আলাদা করে কানে লাগে। প্রতিদিনের বায়নায় ছোট বাচ্চা প্রায়ই ভালো সামলায়, যখন শোনে সে কী করতে পারে: ‘আস্তে ধরো’, ‘হ্যাঁ, ঘুমের পরে’, বা দুটো থেকে একটা বেছে নেওয়া। কম বললে প্রতিটা ‘না’-এর ওজন সাধারণত বেশি থাকে।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।





