মূল কনটেন্টে যান

ভালো কাজের জন্য বাচ্চাকে পুরস্কার দেওয়া: স্টিকার চার্ট কি কাজ করে?

ছোট করে উত্তর

ভালো কাজের জন্য বাচ্চাকে পুরস্কার দেওয়া, যেমন স্টিকার চার্ট, মোটামুটি ৩–১০ বছরের বাচ্চাকে একটা নতুন অভ্যাস গড়তে সাহায্য করতে পারে, যেমন নিজে জামা পরা। এক বা দুটো স্পষ্ট কাজ বেছে নিন, কাজটা হলেই স্টিকার দিন, পুরস্কার ছোট রাখুন আর তাড়াতাড়ি দিন, আর প্রতিটা স্টিকারের সঙ্গে প্রশংসা করুন। লক্ষ্য অস্পষ্ট হলে বা স্টিকার কেড়ে নিলে চার্ট উল্টো ফল দিতে পারে। কয়েক সপ্তাহ পরে ধীরে ধীরে বন্ধ করুন।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৩–১০ বছরের বাচ্চার বাবা-মা, যাঁরা নতুন একটা অভ্যাস গড়তে চান, বা ভাবছেন পুরস্কার আসলে ঘুষ কি না
মূল কথা
  • স্টিকার চার্ট সবচেয়ে ভালো কাজ করে এক-দুটো নির্দিষ্ট নতুন অভ্যাসের জন্য: কাজটা হলেই স্টিকার, আর কয়েক দিনের মধ্যেই নাগালে আসে এমন ছোট পুরস্কার।
  • পুরস্কার ঠিক হয় আগে থেকে; ঘুষ দেওয়া হয় জেদের মাঝখানে, থামানোর জন্য। ঘুষ সাধারণত শেখায়, জেদ করলেই লাভ।
  • সবচেয়ে ভালো পুরস্কার হলো সময় আর ছোট ছোট সুযোগ, মিষ্টি, টাকা বা মোবাইল নয়: বাবার সঙ্গে একটা খেলা, বা শুক্রবার কোথায় বেড়াতে যাওয়া হবে তা ঠিক করা।

ভালো কাজের জন্য বাচ্চাকে পুরস্কার দেওয়া নিয়ে অনেক বাবা-মায়ের মনে দ্বিধা থাকে: এটা কি উৎসাহ, নাকি লোভ দেখানো? ফ্রিজের দরজায় লাগানো স্টিকার চার্ট এর সবচেয়ে চেনা রূপ: এক সারি ঘর, এক প্যাকেট স্টিকার, আর শেষে একটা পুরস্কার। কেউ দেখেন কিছুদিন কাজ দেয়; আবার কেউ দেখেন, এক সপ্তাহেই বাচ্চার আগ্রহ শেষ, বা ছোট সব কাজেই প্রশ্ন, ‘আমি কী পাব?’

‘স্টিকার চার্ট কি সত্যিই কাজ করে?’ সত্যি উত্তর হলো: কখনো কখনো, কিছু কাজের জন্য, কিছুদিনের জন্য। ঠিকভাবে ব্যবহার করলে মোটামুটি ৩ থেকে ১০ বছরের বাচ্চার নতুন অভ্যাস শুরু করতে চার্ট সাহায্য করতে পারে। নিচে পাবেন কখন চার্ট কাজে দেয় বা উল্টো ফল দেয়, পুরস্কার আর ঘুষের তফাত, কীভাবে চার্ট বানাবেন, একটা নমুনা চার্ট, ভালো পুরস্কারের আইডিয়া, কীভাবে বন্ধ করবেন, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।

স্টিকার চার্ট কি কাজ করে? কখন কাজে দেয়, কখন উল্টো ফল দেয়

স্টিকার চার্ট সবচেয়ে ভালো কাজ করে একটা নির্দিষ্ট নতুন অভ্যাসের জন্য অল্প কিছুদিনের ধাক্কা হিসেবে, পুরো সংসার চালানোর উপায় হিসেবে নয়। সাধারণত কাজে দেয় যখন:

  • লক্ষ্যটা একটা স্পষ্ট কাজ, যা বাচ্চা করতে পারে আর আপনি দেখতে পান: ‘নিজে জুতা পরা’, ‘ভালো হয়ে থাকা’ নয়।
  • অভ্যাসটা নতুন বা কঠিন: স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া, দাঁত ব্রাশ করা, হোমওয়ার্কে বসা, নিজের বিছানায় থাকা।
  • বাচ্চার বয়স মোটামুটি ৩ থেকে ১০, যাতে স্টিকারের সঙ্গে নিজের কাজটা মেলাতে পারে।
  • কাজটা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টিকার আসে, সঙ্গে আন্তরিক কথা, আর পুরস্কার কয়েক দিনের দূরত্বে, কয়েক সপ্তাহের নয়।

আর সাধারণত উল্টো ফল দেয় যখন:

  • লক্ষ্য অস্পষ্ট, বা একসঙ্গে অনেকগুলো লক্ষ্য।
  • শাস্তি হিসেবে স্টিকার তুলে নেওয়া হয়। অর্জন করা জিনিস হারালে চার্টের প্রতি বাচ্চার আগ্রহ প্রায়ই সেখানেই শেষ।
  • পুরস্কার বাড়তেই থাকে: এই সপ্তাহে চকলেট, পরের সপ্তাহে খেলনা, পরীক্ষার পরে মোবাইল।
  • বাচ্চা যা এমনিতেই ভালোবেসে করে, যেমন আঁকা বা মজা করে বই পড়া, তার জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে আনন্দের কাজটা দায়িত্বের মতো মনে হতে পারে।
  • এমন কিছুর জন্য চার্ট, যা বাচ্চার নিয়ন্ত্রণে নেই: রাতে বিছানা শুকনো রাখা, ভয় পাওয়া, বা শরীর খারাপ লাগা।

চার্ট ছোট একটা উপায় মাত্র, আর মারধর বা চিৎকার ছাড়া শান্ত শাসনের পাশাপাশিই এটা সবচেয়ে ভালো কাজ করে; দেখুন মারধর না করে শাসন।

বাচ্চাকে ঘুষ না পুরস্কার: তফাতটা কোথায়?

পুরস্কার আর ঘুষের তফাতটা সময়ে। পুরস্কার ঠিক হয় শান্ত সময়ে, কাজটার আগে, আর দেওয়া হয় কাজটার পরে। ঘুষ দেওয়া হয় জেদ বা কান্নার মাঝখানে, থামানোর জন্য: ‘কান্না থামাও, চিপস কিনে দেব।’ ঘুষে প্রায়ই এক মিনিটের জন্য কাজ হয়, কিন্তু বাচ্চা সাধারণত শেখে, চিপস পাওয়ার রাস্তা হলো জেদ।

ঘুষ না পুরস্কার? একই পরিস্থিতি, দুই রকম শিক্ষা
পরিস্থিতিঘুষ (সেই মুহূর্তে)পুরস্কার (আগে থেকে ঠিক করা)
বাজারে‘চিৎকার থামাও, খেলনা কিনে দেব।’বের হওয়ার আগেই: ‘বাজারে আমার হাত ধরে থাকলে ফেরার পথে পার্কে একটু খেলব।’
হোমওয়ার্ক‘আচ্ছা, মোবাইল নাও, শুধু একটু বসো।’‘হোমওয়ার্ক শেষ হলে আমরা এক দান লুডু খেলব।’
ঘুমের সময়‘শুয়ে পড়ো, চকলেট দেব।’যে রাতে নিজের বিছানায় থাকবে, সেই রাতে একটা স্টিকার; তিনটা হলে শুক্রবারের গল্পটা ও-ই বাছবে।
বাচ্চা সাধারণত যা শেখেজেদ করলেই লাভচেষ্টা করলে লাভ, আর কথা রাখা হয়

‘আগে এটা, তারপর ওটা’ (‘জুতা পরা হলে নিচে খেলতে যাব’) ধরনের কথাও ঘুষ নয়; এটা শুধু দিনের কাজের ক্রম। ঘুষ যদি সাধারণত ঘ্যানঘ্যানের মাঝখানে আসে, ‘না’ ধরে রাখা সহজ করার কথাগুলো পাবেন বাচ্চা বায়না করলে কী করবেন লেখায়।

ভালো কাজের জন্য বাচ্চাকে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম: ধাপে ধাপে স্টিকার চার্ট

  1. গড়তে চান এমন একটা আচরণ বেছে নিন, আর সেটা কাজের ভাষায় বলুন: ‘রাতের খাবারের পর দাঁত ব্রাশ।’ সঙ্গে এক-দুটো এমন কাজ রাখুন, যা বাচ্চা প্রায় রোজই করে, যাতে চার্টের শুরুটা সাফল্য দিয়ে হয়।
  2. একসঙ্গে বানান। ছবিগুলো বাচ্চাকেই আঁকতে দিন, স্টিকার বাছতে দিন, আর চার্টটা কোথায় ঝুলবে ঠিক করতে দিন।
  3. শুরুর আগেই পুরস্কারটা ঠিক করুন, আর সেটা ছোট রাখুন, কাছাকাছি রাখুন: ৩–৫ বছরের বাচ্চার জন্য কয়েকটা স্টিকারের পরেই; একটু বড়দের জন্য সপ্তাহের শেষে।
  4. কাজটা হলেই স্টিকার দিন, নির্দিষ্ট কথাসহ: ‘মনে করিয়ে দেওয়ার আগেই দাঁত ব্রাশ করেছ। এই নাও স্টিকার!’ এমন আরও কথা পাবেন সন্তানের প্রশংসা করার উপায় লেখায়।
  5. স্টিকার কখনো তুলে নেবেন না। যে দিন হলো না, সেদিনের ঘরটা শুধু ফাঁকা থাকবে: ‘আজ হলো না। কাল নতুন ঘর।’
  6. নিজের কথা রাখুন, সময়মতো। ভুলে যাওয়া বা পিছিয়ে দেওয়া পুরস্কার শেখায় যে চার্টের কোনো দাম নেই।
  7. এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন। খুব সহজ বা খুব কঠিন হলে লক্ষ্যটা বদলান; দোষ বাচ্চার নয়।

যা বলতে পারেন

  • চলো, সকালে তৈরি হওয়ার জন্য একটা চার্ট বানাই। কোন স্টিকারগুলো লাগাব?
  • নিজে নিজে জুতা পরেছ। এই নাও তোমার স্টিকার!
  • আজ হলো না, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কাল নতুন ঘর।
  • তিনটা স্টিকার! শুক্রবার কোথায় যাব, তুমিই ঠিক করবে।
  • এখন তো আর মনেই করিয়ে দিতে হয় না। নতুন কিছু অনুশীলন শুরু করবে?

একটা নমুনা স্টিকার চার্ট

৫ বছরের বাচ্চার জন্য সহজ একটা স্টিকার চার্ট, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, আমাদের স্কুলের সপ্তাহ ধরে; নতুন অভ্যাসটার পাশে দুটো সহজ লক্ষ্য। শনিবারেই ঠিক করা চুক্তি: বৃহস্পতিবারের মধ্যে ‘জুতা’র তিনটা স্টিকার হলে শুক্রবার কোথায় বেড়াতে যাওয়া হবে, সে-ই ঠিক করবে।

৫ বছরের বাচ্চার নমুনা স্টিকার চার্ট (নতুন অভ্যাস: নিজে জুতা পরা)
দিননিজে জুতা পরা (নতুন)প্লেট রান্নাঘরে নেওয়ারাতে দাঁত ব্রাশ
রবিবারএখনো নাস্টিকারস্টিকার
সোমবারস্টিকারস্টিকারস্টিকার
মঙ্গলবারএখনো নাস্টিকারস্টিকার
বুধবারস্টিকারস্টিকারএখনো না
বৃহস্পতিবারস্টিকার: এই সপ্তাহে তিনটা, তাই শুক্রবারের বেড়ানো ও-ই বাছবেস্টিকারস্টিকার

বয়স অনুযায়ী স্টিকার চার্ট

ছোট বাচ্চা থেকে ১০ বছর: বয়স অনুযায়ী স্টিকার চার্ট
বয়সযা কাজে দিতে পারেপুরস্কার কখনমানানসই পুরস্কার
৩ বছরের কমসাধারণত চার্টের জন্য খুব ছোট; কাজটার সঙ্গে সঙ্গে হাততালি আর জড়িয়ে ধরা বেশি কাজে দেয়সঙ্গে সঙ্গেআপনার হাসি, আদর, একসঙ্গে একটা ছড়া
৩–৫ বছরএকটা অভ্যাস, ঘরগুলোতে বাচ্চার নিজের আঁকা ছবিকয়েকটা স্টিকারের পরেই, এক-দুই দিনের মধ্যেগল্প বাছা, বাবা বা মায়ের সঙ্গে বাড়তি খেলা, পার্ক
৬–৮ বছরসপ্তাহের চার্টে এক থেকে তিনটা অভ্যাসসপ্তাহের শেষেশুক্রবারের বেড়ানো বাছা, বাবার সঙ্গে খেলা, একসঙ্গে রান্না
৯–১০ বছরলিখিত একটা চুক্তি, বা টোকেন পদ্ধতি: বড় একটা লক্ষ্যের দিকে পয়েন্ট জমানোএক-দুই সপ্তাহ পরপরএকটা সুযোগ: বন্ধুকে বাসায় ডাকা, পরিবারের সিনেমা বাছা, পরিকল্পনায় বেশি মতামত

বাচ্চাকে কী পুরস্কার দেবেন? খরচ ছাড়া বা অল্প খরচের আইডিয়া

ভালো কাজের জন্য বাচ্চাকে পুরস্কার দেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় সাধারণত সময়, মনোযোগ আর ছোট ছোট সুযোগ। খরচ কম, এতে আপনাদের সম্পর্ক আরও কাছের হয়, আর এগুলো বাড়াতে বাড়াতে বড় করার দরকার পড়ে না।

  • একসঙ্গে সময়: এক দান লুডু বা ক্যারম, একসঙ্গে সহজ একটা নাশতা বানানো, ঘুমের আগে বাড়তি ১০ মিনিট খেলা।
  • বেছে নেওয়ার সুযোগ: ঘুমের আগের গল্প, শুক্রবারের দুপুরের খাবার, সবাই মিলে কোন সিনেমা দেখা হবে, বা কোথায় হাঁটতে যাওয়া হবে।
  • বেড়ানো: পার্ক, বাবার সঙ্গে ছাদে ঘুড়ি ওড়ানো (কিনারা থেকে অনেক দূরে), নানুর বাসায় যাওয়া।
  • মাঝে মাঝে ছোট জিনিস: একটা পেনসিল, একটা খাতা, নতুন এক পাতা স্টিকার।
  • মিষ্টি, টাকা আর মোবাইলের সময়কে মূল পুরস্কার বানাবেন না। এতে বাচ্চা শিখতে পারে, আসল মজা হলো মিষ্টি, আর স্ক্রিন অর্জন করে নিতে হয়; এতে প্রায়ই তর্ক আরও বাড়ে।

অভ্যাস না হারিয়ে স্টিকার চার্ট ধীরে ধীরে বন্ধ করবেন যেভাবে

চার্ট হলো ভারা, দালান নয়। অনেক পরিবার দেখে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভ্যাসটা থিতু হয়; তাই এমনভাবে শেষ করুন, যেন সেটা শাস্তি নয়, পাস করার মতো মনে হয়।

  1. লক্ষণগুলো খেয়াল করুন: বেশির ভাগ দিন মনে করিয়ে দেওয়া ছাড়াই করছে, বা স্টিকার চাইতে ভুলে যাচ্ছে।
  2. স্টিকারের ফাঁক বাড়ান: একদিন পরপর, তারপর সপ্তাহের শেষে একবার।
  3. প্রশংসা আর হাসিটা রেখে দিন; ওগুলো থাকবে সবসময়।
  4. শেষটা উদ্‌যাপন করুন: ‘জুতার জন্য তোমার আর চার্ট লাগে না!’ বিশেষ একটা নাশতা, বা ভরা চার্টটার একটা ছবি, দিনটাকে মনে রাখার মতো করে।
  5. চাইলে পরের অভ্যাসটার জন্য নতুন চার্ট শুরু করুন, অথবা এখানেই থামুন। সব অভ্যাসের জন্য চার্ট লাগে না।

আমাদের বাসায়: চকলেটের লোভ, পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি আর দাদা-দাদির উপহার

আমাদের পারিবারিক জীবনে পুরস্কার সব জায়গায়, আর এর বেশির ভাগটাই আসে ভালোবাসা থেকে। তবে কয়েকটা চেনা অভ্যাস একটু ভেবে দেখার মতো।

ব্যাগের চকলেট

‘ভাতটা খেয়ে নাও, চকলেট দেব’ বা ‘দাওয়াতে চুপ করে বসে থাকলে চিপস কিনে দেব’, আমাদের বাসায় এগুলো খুব চেনা ঘুষ। চকলেটের লোভ দেখানো ঠিক কি? মাঝে মাঝে হয়ে যাওয়া মানুষেরই স্বভাব, কিন্তু অভ্যাস হয়ে গেলে বাচ্চা শিখতে পারে, খাওয়া একটা ঝামেলা আর মিষ্টিই আসল পুরস্কার। মজার খাবার রাখুন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, আর পুরস্কার হিসেবে দিন সময় আর বেছে নেওয়ার সুযোগ।

ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া আর বড় প্রতিশ্রুতি

‘ক্লাসে ফার্স্ট হলে সাইকেল কিনে দেব’, খুব চেনা একটা প্রতিশ্রুতি; পরে সেটাই হয়ে দাঁড়ায় পরীক্ষার ফলের জন্য মোবাইল। চেষ্টার বদলে শুধু ফলের জন্য বড় পুরস্কার বাচ্চার ওপর চাপ বাড়াতে পারে, আর ওর মনে হতে পারে নম্বরের জন্যই ও ভালোবাসা পায়। পুরস্কার দিন চোখে দেখা যায় এমন নিয়মিত চেষ্টার জন্য, আর ফল যা-ই হোক, পরিবার মিলে সেটা উদ্‌যাপন করুন। পড়াশোনায় পুরস্কার নিয়ে আরও পাবেন বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না লেখায়।

দাদা-দাদি, আত্মীয়স্বজন আর ঈদ

দাদা-দাদি, নানা-নানি প্রায়ই খাঁটি আদর থেকেই টাকা বা মিষ্টি দিয়ে পুরস্কৃত করেন। তাঁদের ধন্যবাদ দিন, আর শুধু একটা বিষয়ে সাহায্য চান: ‘চার্টটা আমাদের থাকুক, আর আপনার দেওয়া জিনিসগুলো থাকুক শুধু আদরের জন্য, কেমন?’ ঈদের সালামি আর জন্মদিনের উপহার যেকোনো চার্ট থেকে আলাদা রাখুন, যাতে উপহারকে কখনো অর্জন করা বা হারানোর জিনিস মনে না হয়।

ভাইবোন, এক ঘর আর গৃহকর্মী

এক বাচ্চার চার্ট থাকলে প্রত্যেক বাচ্চাকে নিজের ছোট একটা লক্ষ্য দিন, যাতে এটা প্রতিযোগিতা না হয়ে যায়। গৃহকর্মী যদি বাচ্চাকে স্কুলের জন্য তৈরি করেন, তাঁকে চার্টটা আর কী বলবেন তা দেখিয়ে দিন, যাতে যে-ই থাকুক, স্টিকার একইভাবে আসে।

ঘরের কাজের চার্ট সবচেয়ে ভালো কাজ করে নতুন শেখানো কোনো কাজের জন্য; পরিবারের বেশির ভাগ রোজকার কাজ প্রতিবার পুরস্কার ছাড়াই ভালো চলে। বয়স অনুযায়ী কোন কাজ, দেখুন বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো লেখায়।

স্টিকার চার্ট শুরু করার ৭ দিনের পরিকল্পনা

একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হলো লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। দিনের যে সময়টায় সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয়, সেটা বেছে নিন, আর এখনই কিছু না বদলে শুধু কী হয় লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: সেটাকে একটা স্পষ্ট কাজে রূপ দিন, আর পাশে রাখার জন্য দুটো সহজ লক্ষ্য বেছে নিন।
  3. দিন ৩: একসঙ্গে চার্টটা বানান, আর ঠিক করুন পুরস্কার কী, কখন আসবে।
  4. দিন ৪: শুরু করুন। প্রতিটা স্টিকার সঙ্গে সঙ্গে দিন, নির্দিষ্ট প্রশংসাসহ; ফাঁকা ঘর নিয়ে কিছু বলবেন না।
  5. দিন ৫: ওই সময়টায় যাঁরা সাহায্য করেন, যেমন দাদা-দাদি বা গৃহকর্মী, তাঁদের চার্টের নিয়মটা জানিয়ে দিন।
  6. দিন ৬: কথামতো ঠিক সময়ে প্রথম পুরস্কারটা দিন, আর একসঙ্গে উপভোগ করুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার মনে করাতে হলো, কতবার ঝামেলা হলো, বাচ্চার কেমন লাগল। চার্ট চালু রাখুন, লক্ষ্য বদলান, বা শেষের পরিকল্পনা করুন।

স্টিকার বলে, ‘আমি দেখেছি।’ স্টিকারের সঙ্গে বলা কথাগুলোই আসলে বেশি জরুরি।

— ParentMind-এর একটি নীতি

স্টিকার চার্টে কাজ না হলে: কখন সাহায্য নেবেন

কয়েক সপ্তাহ শান্ত, স্থির থাকার পরও আচরণ নিয়ে প্রতিদিন লড়াই চললে সমস্যাটা চার্টে নয়। নিচের কোনোটা হলে বাচ্চার ডাক্তার, শিশু-মনোবিজ্ঞানী বা স্কুলের সঙ্গে কথা বলুন:

এমন হলে সাহায্য নিন

  • কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ দিনই বাচ্চা মানুষকে আঘাত করে, জিনিস ভাঙে, বা শান্ত হতে পারে না।
  • বাসা আর স্কুল দুই জায়গাতেই ছোট, মজার কাজেও বাচ্চা স্থির হয়ে বসতে বা মন দিতে পারে না, আর এতে পড়াশোনা বা বন্ধুত্বে সমস্যা হচ্ছে।
  • ঠিকঠাক করা নিয়ে বাচ্চা খুব বেশি দুশ্চিন্তায় থাকে: প্রতিটা ফাঁকা ঘরে কান্না, ভুল লুকানো, বা ব্যর্থ হওয়ার ভয়, যা সপ্তাহের পর সপ্তাহ বাড়ছে।
  • যে বাচ্চার আর বিছানা বা কাপড় ভিজত না, সে আবার ভেজাতে শুরু করেছে, সঙ্গে খুব পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি বা ওজন কমে যাওয়া: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • হঠাৎ পরিবর্তন: স্থির বাচ্চা হঠাৎ ভীত, চুপচাপ বা রাগী হয়ে গেছে, বা কোনো নির্দিষ্ট মানুষের কাছে আর থাকতে চায় না। বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, ওই মানুষের কাছ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। কোনো নির্যাতন হলে স্থানীয় থানায় জানান, আর বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • বাচ্চা কথা না শুনলে আপনার মনে হয় ওকে আঘাত করে ফেলতে পারেন। বাচ্চা নিরাপদে আছে কি না নিশ্চিত করুন, সরে যান, আর সেদিনই সাহায্য নিন; কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ভালো কাজের জন্য বাচ্চাকে পুরস্কার দেওয়া সবচেয়ে ভালো কাজ করে অল্প দিনের আন্তরিক একটা ধাক্কা হিসেবে, তারপর রোজ ভালোটা খেয়াল করে যাওয়া। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কতবার মনে করাতে হলো, কতবার ঝামেলা হলো আর ভালো মুহূর্তগুলো, যাতে বোঝা যায় নতুন অভ্যাসটা থিতু হচ্ছে কি না; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়স থেকে স্টিকার চার্ট শুরু করা যায়?

বেশির ভাগ বাচ্চা মোটামুটি ৩ বছর বয়সে সহজ একটা স্টিকার চার্টের জন্য তৈরি হয়, যখন স্টিকারের সঙ্গে নিজের কাজটা মেলাতে পারে। তার আগে হাততালি আর আদরই বেশি কাজে দেয়। ৩ থেকে ৫ বছরে একটা অভ্যাসই রাখুন, আর কয়েকটা স্টিকারের পরেই ছোট পুরস্কার দিন। একটু বড়রা দু-তিনটা লক্ষ্যসহ পুরো সপ্তাহের চার্ট সামলাতে পারে।

মিষ্টি বা খেলনা ছাড়া বাচ্চাকে কী পুরস্কার দেবেন?

সময় আর বেছে নেওয়ার সুযোগ: বাবা বা মায়ের সঙ্গে এক দান লুডু বা ক্যারম, ঘুমের আগের গল্প বা শুক্রবারের দুপুরের খাবার বাছা, পার্কে যাওয়া, রান্নায় হাত লাগানো, বা দাদা-দাদির সঙ্গে ভিডিও কল। খরচ কম, সম্পর্ক কাছের হয়, আর এগুলো বাড়াতে বাড়াতে বড় করতে হয় না। মাঝে মাঝে পেনসিল বা নতুন স্টিকারও চলে।

দুষ্টুমি করলে কি চার্ট থেকে স্টিকার তুলে নেব?

না তোলাই ভালো। আগেই অর্জন করা স্টিকার হারালে বাচ্চা প্রায়ই হাল ছেড়ে দেয়, আর পুরস্কারের চার্টটা শাস্তির চার্ট হয়ে যায়। যে দিন হলো না, সেদিনের ঘর ফাঁকা থাকুক, কাল আবার নতুন করে শুরু। দুষ্টুমি সামলান আলাদাভাবে, শান্তভাবে, স্পষ্ট সীমা বা যুক্তিসংগত পরিণতি দিয়ে।

স্টিকার চার্ট কতদিন চালানো উচিত?

একটা অভ্যাসের জন্য সাধারণত কয়েক সপ্তাহ। বেশির ভাগ দিন মনে করিয়ে দেওয়া ছাড়াই করতে শুরু করলে স্টিকারের ফাঁক বাড়ান, প্রশংসা চালু রাখুন, আর চার্ট শেষ হওয়াটা উদ্‌যাপন করুন। মাসের পর মাস চললে চার্টের টান সাধারণত কমে যায়। পরে অভ্যাসটা আবার ঢিলে হলে অল্প কদিনের জন্য আবার শুরু করাই যায়।

স্টিকার চার্ট আর কাজ করছে না কেন?

সাধারণ কারণগুলো হলো: লক্ষ্য খুব অস্পষ্ট বা খুব কঠিন, পুরস্কার অনেক দূরে, স্টিকার কেড়ে নেওয়া, বা শুধু নতুনত্ব ফুরিয়ে যাওয়া। লক্ষ্যটাকে একটা স্পষ্ট কাজে আনুন, পুরস্কার কাছে আনুন, নতুন ধরনের স্টিকার আনুন, আর প্রতিটা স্টিকারের সঙ্গে যেন আন্তরিক কথা থাকে। দুই সপ্তাহেও কাজ না হলে হয়তো এই অভ্যাসের জন্য চার্ট ঠিক উপায় নয়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

প্রাক-স্কুল (৩–৫ বছর): আরও গাইড

প্রাক-স্কুল: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।