মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো: বয়স অনুযায়ী কাজের তালিকা

ছোট করে উত্তর

বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো শুরু করুন বয়স বুঝে: ৪–৫ বছরে খেলনা গুছিয়ে রাখা আর নিজের প্লেট সিংকে নেওয়া; ৬–৮ বছরে বিছানা গোছানো আর টেবিল সাজানো; ৯–১২ বছরে কাপড় ভাঁজ করা আর ঝাড়ু দেওয়া; ১৩–১৫ বছরে বড় কেউ বাসায় থাকলে সহজ রান্না। প্রতিটা কাজ আগে পাশে থেকে শেখান, এক-দুটো কাজ দিয়ে শুরু করুন, আর ছোট বাচ্চাকে চুলা, ধারালো ছুরি আর পরিষ্কারের কেমিক্যাল থেকে দূরে রাখুন।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৪–১৫ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাঁরা চান বাচ্চা ঘরের কাজে হাত লাগাক, বাসায় গৃহকর্মী থাকলে বা পড়ার চাপ বেশি হলেও
মূল কথা
  • ঘরের কাজ বাচ্চাকে বোঝায় সে পারে, আর সে পরিবারের একজন; ছুটির দিনের বড় কাজের চেয়ে রোজকার ছোট কাজ প্রায়ই বেশি জরুরি।
  • কাজ শেখান কয়েকবার একসঙ্গে করে, তারপর বাচ্চা করবে আর আপনি দেখবেন; একদম নিখুঁত না হলেও মেনে নিন।
  • ছেলে-মেয়ে দুজনেই ঘরের সব কাজ শিখতে পারে; আর বাসায় গৃহকর্মী থাকলেও বাচ্চা নিজের জিনিস নিজে সামলাবে।
  • ছোট বাচ্চাকে চুলা, ধারালো ছুরি, পরিষ্কারের কেমিক্যাল আর বারান্দার রেলিং থেকে দূরে রাখুন; আর ছোট বাচ্চাকে কখনো একা, বা ছোট শিশুর সঙ্গে একা রেখে যাবেন না।

বাচ্চা খাওয়ার পর প্লেট টেবিলেই রেখে যায়, জামা মেঝেতে, স্কুলব্যাগ যেখানে-সেখানে? হয়তো ভাবছেন, এই বয়সে ওর কাছে কোন কাজ চাওয়া ঠিক, আর রোজকার ঝগড়া ছাড়া বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো যায় কীভাবে।

বেশিরভাগ বাচ্চা বড়রা যা ভাবেন তার চেয়ে বেশি পারে, আর কাজটা সত্যিকারের হলে আর কেউ খেয়াল করলে অনেকেই আনন্দ নিয়ে করে। ঘরের কাজ আসলে ঝকঝকে বাসার জন্য নয়; এতে বাচ্চা শেখে “আমি পারি” আর “আমি এই পরিবারের একজন”।

নিচে পাবেন: ঘরের কাজ কেন জরুরি, ৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বয়স অনুযায়ী কাজের তালিকা, বকাবকি ছাড়া কাজ করানোর উপায়, প্রশংসা আর হাতখরচ, ছেলে-মেয়ের সমান কাজ, গৃহকর্মী আছে এমন বাসা, নিরাপত্তা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।

বাচ্চাকে কেন ঘরের কাজ শেখাবেন?

শিশুদের দায়িত্ব দেওয়া শুরু হয় বাসা থেকেই, এমন সত্যিকারের কাজ দিয়ে যা পরিবারের কাজে লাগে। ঘরের কাজের মধ্য দিয়েই বাচ্চাকে দায়িত্বশীল করে তোলা যায়। যে বাচ্চারা নিয়মিত ঘরের কাজে হাত লাগায়, তারা প্রায়ই:

  • নিজেকে সক্ষম মনে করে, কারণ নিজের কাজের ফল চোখে দেখে: গোছানো বিছানা, সাজানো টেবিল;
  • নিজেকে পরিবারের দলের একজন মনে করে, নিজের বাসায় মেহমানের মতো নয়;
  • সারা জীবনের দক্ষতা শেখে, কাপড় ভাঁজ করা থেকে ভাত রান্না পর্যন্ত;
  • কাজ গুছিয়ে করা আর শেষ করার অভ্যাস গড়ে, যা হোমওয়ার্কেও লাগে;
  • অন্যের পরিশ্রম খেয়াল করতে আর তার জন্য ধন্যবাদ দিতে শেখে।

৪ বছরের কম বয়সী বাচ্চার কাছে ঘরের কাজ মূলত খেলা: খেলনা ঝুড়িতে রাখা বা আপনার হাতে কাপড়ের ক্লিপ এগিয়ে দেওয়া। ওই বয়সের জন্য দেখুন বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানো।

বয়স অনুযায়ী ঘরের কাজ: ৪ থেকে ১৫ বছর

প্রত্যেক বাচ্চা আলাদা, তাই এই বয়সগুলোকে মোটামুটি ধারণা হিসেবে নিন। একটু শিখিয়ে দিলে বেশিরভাগ বাচ্চা নিজের বয়সের সারির কাজগুলো পারে, অনেকে পরের সারির কিছু কাজও পারে। প্রতিটা বয়সে আগের বয়সের কাজগুলোও থাকে।

বয়স অনুযায়ী ঘরের কাজ: বেশিরভাগ বাচ্চা যা পারে, নিরাপত্তার কথাসহ
বয়সনিজের কাজ নিজেপরিবারের কাজে সাহায্যরান্নাঘরে
৪–৫ বছরখেলনা ঝুড়িতে, ময়লা কাপড় কাপড়ের ঝুড়িতে আর জুতা দরজার পাশে রাখা; নিজের প্লেট সিংকে নিয়ে যাওয়াছোট মগে গাছে পানি দেওয়া, মোজা জোড়া মেলানো, নিজের ফেলা পানি মোছা, কাপড় মেলার সময় বড়দের হাতে ক্লিপ এগিয়ে দেওয়াবাটিতে ফল ধোয়া, ধনেপাতা ছেঁড়া, টেবিলে চামচ রাখা; চুলা, ধারালো ছুরি বা পরিষ্কারের কেমিক্যাল নয়
৬–৮ বছরমোটামুটি বিছানা গোছানো, নিজে জামা পরা, তালিকা দেখে স্কুলব্যাগ গোছানো, পরিষ্কার কাপড় তুলে রাখাখাওয়ার আগে টেবিল সাজানো আর পরে গোছানো, তোয়ালে ভাঁজ করা, হালকা বাজার তুলে রাখা, পোষা প্রাণীকে খাবার দেওয়াটেবিল-নাইফ দিয়ে পাউরুটিতে মাখন বা জ্যাম লাগানো, চুলা থেকে দূরে বসে উপকরণ মেপে দেওয়া আর মেশানো; তখনো চুলা বা ধারালো ছুরি নয়
৯–১২ বছরনিজের ঘর আর পড়ার টেবিল গোছানো, আগের রাতে ব্যাগ আর ইউনিফর্ম তৈরি রাখা, নিজের কাপড় ভাঁজ করে তুলে রাখাএকটা ঘর ঝাড়ু দেওয়া বা মোছা, নিজের প্লেট-গ্লাস ধোয়া, ময়লার ব্যাগ বেঁধে রাখা, বড় কেউ বাসায় থাকলে ছোট ভাইবোনকে সাহায্য করাবড় কেউ দেখলে ছোট ছুরিতে নরম খাবার কাটা আর খোসা ছাড়ানো, সহজ নাশতা বানানো; চুলা শুধু বড় কেউ ঠিক পাশে থাকলে
১৩–১৫ বছরনিজের কিছু কাপড় ধোয়া, স্কুল ইউনিফর্ম ইস্ত্রি করা, নিজের অ্যালার্ম আর রুটিন নিজে সামলানোবাথরুমের বেসিন পরিষ্কার করা, কাছের দোকান থেকে টুকটাক জিনিস কেনা, পরিবারের রান্নায় হাত লাগানো, বড় কেউ বাসায় থাকলে ছোট ভাইবোনের পড়ায় সাহায্য করাবড় কেউ বাসায় থাকলে ভাত, ডিম বা ডালের মতো সহজ রান্না; সাবধানে ধারালো ছুরি ব্যবহার; পরিষ্কারের কেমিক্যাল হাতমোজা পরে, কখনো একটার সঙ্গে আরেকটা মিশিয়ে নয়

বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো: বকাবকি ছাড়া যেভাবে

ঘরের কাজ নিয়ে বেশিরভাগ ঝগড়ার কারণ হলো, কাজটা কখনো ঠিকমতো শেখানো হয়নি, বা বাবা-মা মনে করিয়ে না দিলে হয় না। সন্তানকে ঘরের কাজে উৎসাহী করার কয়েকটা কৌশল প্রায়ই কাজে দেয়:

  1. দশটা নয়, এক-দুটো কাজ দিয়ে শুরু করুন। প্রথম কাজগুলো অল্প মনে করালেই হয়ে যেতে শুরু করলে, তবেই নতুন কাজ যোগ করুন।
  2. চার ধাপে শেখান: আপনি করবেন, বাচ্চা দেখবে; দুজনে মিলে করবেন; বাচ্চা করবে, আপনি দেখবেন; তারপর বাচ্চা একা করবে।
  3. প্রতিটা কাজ এমন কিছুর সঙ্গে জুড়ে দিন যা এমনিতেই রোজ হয়: খাওয়া শেষে উঠেই প্লেট সিংকে, দাঁত ব্রাশের আগে ব্যাগ গোছানো।
  4. সহজ একটা কাজের চার্ট বানিয়ে চোখের সামনে রাখুন: যারা এখনো পড়তে পারে না তাদের জন্য ছবি, বড়দের জন্য ফ্রিজে ছোট একটা তালিকা।
  5. “মোটামুটি ঠিক” মেনে নিন। বাচ্চার হাতে গোছানো একটু এলোমেলো বিছানা, পেছনে গিয়ে আপনার নতুন করে গোছানো টানটান বিছানার চেয়ে বেশি দামি।
  6. বারবার বলার বদলে “আগে এটা, তারপর ওটা” বলুন: “প্লেটটা সিংকে রাখলেই কার্টুন শুরু করব।”

যা বলতে পারেন

  • তুমি এখন বড় হয়েছ, নিজের ব্যাগ নিজেই গোছাতে পারবে। এই সপ্তাহটা দুজনে মিলে করি।
  • আমাদের পরিবারে সবাই কাজে হাত লাগায়। আজ রাতে তোমার কাজ চামচ আর গ্লাস দেওয়া।
  • জামাগুলো ঝুড়িতে রাখলেই গল্পের সময়।
  • তুমি নিজে নিজে সব তোয়ালে ভাঁজ করেছ। আমার অনেক সাহায্য হলো।
  • একদম নিখুঁত হতে হবে না। তুমি করেছ, সেটাই আসল।

কাজের জন্য কি টাকা দেবেন? প্রশংসা আর হাতখরচ

এ নিয়ে একেক পরিবারের ভাবনা একেক রকম, আর একটাই সঠিক উত্তর নেই। অনেক পরিবার দেখেছে, রোজকার পারিবারিক কাজের জন্য টাকা না দিয়ে টাকার ব্যাপারটা আলাদা রাখাই সবচেয়ে ভালো কাজ করে, কারণ বাসায় সবাই তো কাজে হাত লাগায়।

  • আগে প্রশংসা: নির্দিষ্ট কাজটার জন্য ধন্যবাদ দিন, যেমন “তুমি পুরো টেবিলটা গুছিয়ে ফেলেছ”; শুধু “ভালো ছেলে” বা “ভালো মেয়ে” নয়। আরও আইডিয়া পাবেন সন্তানের প্রশংসা করার উপায় লেখায়।
  • শেখার উপায় হিসেবে হাতখরচ: দিতে চাইলে অনেক পরিবার বাচ্চা টাকা গুনতে শিখলে নিয়মিত অল্প হাতখরচ দেওয়া শুরু করে, কাজের সঙ্গে না জুড়ে, যাতে সে জমাতে আর বুঝে খরচ করতে শেখে।
  • বাড়তি কাজে বাড়তি টাকা: চাইলে গাড়ি ধোয়া, বইয়ের তাক গোছানো বা ঈদের মেহমান আসার আগে বাড়তি সাহায্যের জন্য কিছু দিতে পারেন, কারণ এগুলো রোজকার কাজের বাইরে।
  • প্রতিটা কাজের জন্য লোভ দেখানো বা জরিমানা নয়। প্রতিবার প্লেট তোলার জন্য টাকা দিলে, বা প্রতিটা ভুলে টাকা কাটলে, সাহায্য করাটা লেনদেন হয়ে যায়।
  • ঘরের কাজকে কখনো শাস্তি বানাবেন না। দুষ্টুমির শাস্তি হিসেবে বাড়তি কাজ দিলে সাহায্য করাটাই শাস্তির মতো লাগতে পারে।

ছেলে ও মেয়ে সবাই ঘরের কাজ শিখবে

হ্যাঁ। অনেক বাসায় মেয়েকে রান্নাঘরে ডাকা হয়, আর ছেলেকে বলা হয় পড়তে বসতে বা খেলতে যেতে। অথচ দুজনেরই একই দক্ষতা লাগবে, কারণ বড় হয়ে প্রত্যেককেই সহজ রান্না, নিজের কাপড় ধোয়া আর ঘর পরিষ্কার রাখা জানতে হয়। ছেলে হোক বা মেয়ে, বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো একই নিয়মে।

  • একই বয়সে ছেলে আর মেয়েকে একই কাজ দিন, আর পালা করে বদলান, যাতে কেউ একটা কাজেই আটকে না থাকে।
  • কথায় খেয়াল রাখুন: “মাকে একটু সাহায্য করো” বললে মনে হয় ঘরের কাজ শুধু মায়ের। বলুন, “চলো, সবাই মিলে খাবার রেডি করি।”
  • বাচ্চারা যা দেখে তা-ই শেখে। বাবা যখন রান্না করেন, থালাবাসন ধোন, কাপড় ভাঁজ করেন, ছেলে-মেয়ে দুজনেই শেখে বাসাটা সবার। দেখুন সন্তান লালন-পালনে বাবার ভূমিকা।
  • নিরাপত্তার নিয়ম দুজনের জন্য একই রাখুন: ৮ বছরের ছেলের মতো ৮ বছরের মেয়েও চুলার জন্য এখনো তৈরি নয়।

আমাদের বাসায় ঘরের কাজ: গৃহকর্মী, দাদা-দাদি আর পড়ার চাপ

অনেক পরিবারে বাসায় গৃহকর্মী আছেন, দাদা-দাদি বা নানা-নানি কাছে থাকেন, আর পড়ার চাপও অনেক; তিনটার কারণেই বাচ্চার হাতে ঘরের কোনো কাজ থাকে না। তবু গৃহকর্মী থাকলেও বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো জরুরি, ছোট ছোট উপায়ে, আপনার বাসার সঙ্গে মিলিয়ে।

  • গৃহকর্মী থাকলে: বাচ্চা নিজের জিনিস নিজেই সামলাবে, যেমন নিজের প্লেট, বিছানা, স্কুলব্যাগ আর কাপড়, কারণ এই দক্ষতাগুলোই সে শিখছে।
  • বাসায় যাঁরা কাজ করেন তাঁদের প্রতি সম্মান: বাচ্চা ভদ্রভাবে অনুরোধ করবে, “ধন্যবাদ” বলবে, নিজের এলোমেলো জিনিস নিজে গোছাবে, আর কখনো বড়দের হুকুম দেবে না। আরও পড়ুন বাসায় গৃহকর্মী আর বাচ্চার দেখাশোনা।
  • দাদা-দাদি যখন বলেন “ও ছোট মানুষ, ওকে দিয়ে কাজ করিয়ো না”: তাঁদের ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ দিন, আর বুঝিয়ে বলুন ছোট কাজ নাতি-নাতনিকে বড় হতে সাহায্য করে। তাঁদের নিজের পছন্দের কোনো কাজ শেখাতে বলুন, যেমন শাড়ি ভাঁজ করা বা চাল বাছা।
  • যখন মনে করা হয় পড়াশোনাই ওর “একমাত্র কাজ”: প্লেট তোলার মতো ২ মিনিটের কাজে পড়ার সময় কমে না। পরীক্ষার সময় কাজ কমিয়ে একটায় আনুন, একেবারে বাদ দেবেন না।
  • পারিবারিক উপলক্ষ: রমজানে ইফতারের টেবিল সাজানো, ঈদে মেহমানদের সেমাই এগিয়ে দেওয়া বা দাওয়াতের আগে চেয়ার সাজানো — এমন কাজ বাচ্চারা প্রায়ই খুব ভালোবাসে।
  • রোজকার রুটিনে জুড়ে দিন: স্কুল থেকে ফেরার পর আর ঘুমের আগের সহজ একটা রুটিন প্রায়ই কাজগুলোকে অভ্যাসে পরিণত করে।

কোন কাজ ছোট বাচ্চার জন্য নিরাপদ নয়?

ঘরের কিছু কাজে ছোট বাচ্চার সত্যিকারের বিপদ হতে পারে। এগুলো বড়দের জন্য রাখুন, বা বড় বাচ্চা করলে ঠিক পাশে একজন বড় মানুষ থাকুন:

  • চুলা, গ্যাসের বার্নার, দেশলাই আর গরম তেল: ছোট বাচ্চার জন্য একেবারেই নয়; ৯–১২ বছরে শুধু বড় কেউ ঠিক পাশে থাকলে।
  • ধারালো ছুরি, বঁটি, গ্রেটার আর ব্লেন্ডার: ছোটদের নাগালের বাইরে রাখুন, ওদের জন্য ভোঁতা টেবিল-নাইফ; ৯–১২ বছরে বড় কেউ দেখলে ছোট ছুরি।
  • পরিষ্কারের কেমিক্যাল: ব্লিচ, টয়লেট আর মেঝের ক্লিনার, পোকামাকড়ের স্প্রে আর কেরোসিন উঁচুতে তালা দিয়ে রাখুন, নিজের বোতলেই; কখনো পানি বা কোমল পানীয়ের বোতলে নয়। মোটামুটি ১২ বছরের কম বাচ্চারা শুধু পানি, কাপড় আর অল্প সাবান ব্যবহার করবে।
  • বারান্দা আর ছাদ: ছোট বাচ্চা কাপড় মেলতে বা গাছে পানি দিতে কখনো রেলিংয়ের দিকে উঠবে না, আর ছাদে যাবে শুধু বড় কারও সঙ্গে।
  • পানি আর বিদ্যুৎ: ছোট শিশুর আশপাশে পানিভর্তি বালতি নয়, ছোট বাচ্চার জন্য ইস্ত্রি নয়, আর ভেজা হাতে প্লাগ বা সুইচ নয়।
  • ছোট ভাইবোন: সাহায্য করা খুব ভালো, কিন্তু ছোট বাচ্চাকে কখনো একা, বা ছোট শিশুর সঙ্গে একা রেখে যাবেন না।

ঘরের কাজ শুরু করার ৭ দিনের পরিকল্পনা

বাচ্চাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখানো এক সপ্তাহে শেষ হয় না, তবে শুরু করা যায়। প্রতি সন্ধ্যায় এক লাইন লিখুন: কোন কাজ, হলো কি না, কতবার মনে করাতে হলো, আর বাচ্চাকে কেমন লাগল।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। খেয়াল করুন বাচ্চা এখন বাসায় কী কী করে, আর আপনি ওর হয়ে এমন কী করেন যা সে নিজেই পারত।
  2. দিন ২: টেবিলে বাচ্চার বয়সের সারি থেকে এক-দুটো কাজ বেছে নিন, আর আদর করে বলুন: “আজ থেকে এটা তোমার কাজ।”
  3. দিন ৩: দুজনে মিলে কাজটা করুন, প্রতিটা ধাপ ধীরে ধীরে দেখিয়ে।
  4. দিন ৪: বাচ্চা করবে, আপনি দেখবেন; নিরাপত্তার ব্যাপার না হলে ভুল ধরবেন না।
  5. দিন ৫: কাজটাকে রোজকার কোনো মুহূর্তের সঙ্গে জুড়ে দিন, যেমন রাতের খাবারের পর, আর চোখে পড়ে এমন জায়গায় একটা ছবি বা তালিকা লাগান।
  6. দিন ৬: একটু পিছিয়ে আসুন। বড়জোর একবার শান্তভাবে মনে করিয়ে দিন, তারপর নির্দিষ্ট কাজটার জন্য ধন্যবাদ দিন।
  7. দিন ৭: নোটগুলো পড়ুন। মনে করানো কি কমেছে? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর আগের কাজগুলো নিয়মিত হলে তবেই নতুন কাজ যোগ করুন।

কখন বুঝবেন ব্যাপারটা শুধু ঘরের কাজের নয়?

ঘরের কাজ নিয়ে বেশিরভাগ টানাপোড়েন স্বাভাবিক, আর রুটিন হলে কমে আসে। তবে নিচের কোনোটা খেয়াল করলে বাচ্চার ডাক্তার বা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন, আর নিরাপত্তার লক্ষণে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • নিজের যত্নের কাজে, যেমন জামা পরা, হাত ধোয়া বা টয়লেট ব্যবহারে, বাচ্চা সমবয়সী বেশিরভাগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে, বা আগে পারত এমন কাজ এখন আর পারছে না। দেখুন বয়স অনুযায়ী শিশুর বিকাশ।
  • মাসের পর মাস, বাসায় আর স্কুলে, বেশিরভাগ দিন এক বা দুই ধাপের সহজ নির্দেশও মানতে বাচ্চার খুব কষ্ট হয়।
  • কাজের কথা বললেই প্রায় প্রতিদিন বাচ্চা প্রচণ্ড রেগে যায়, মারে, ছুড়ে ফেলে বা জিনিস ভাঙে।
  • বাচ্চার কাঁধে বড়দের মতো কাজ, যেমন একা রান্না, অসুস্থ আত্মীয় বা ছোট ভাইবোনের দেখাশোনা, আর এ কারণে স্কুল বা খেলা বাদ পড়ছে। কাজ ভাগ করে নিন, আর স্কুলের সাহায্য চান।
  • বাচ্চা পরিষ্কারের কেমিক্যাল, ওষুধ বা অন্য কোনো রাসায়নিক গিলে ফেললে: বমি করানোর চেষ্টা করবেন না। বোতলটা সঙ্গে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান, আর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা ঝিমিয়ে পড়লে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • পুড়ে যাওয়া বা কেটে যাওয়া: পোড়া জায়গা মোটামুটি ২০ মিনিট কলের ঠান্ডা পানির নিচে রাখুন; টুথপেস্ট, তেল বা বরফ লাগাবেন না। পোড়া জায়গা বাচ্চার হাতের তালুর চেয়ে বড় হলে, ফোসকা পড়লে, মুখে বা হাতে হলে, অথবা কাটা গভীর হলে বা চেপে ধরার পরও রক্ত না থামলে সেদিনই চিকিৎসা নিন। বাচ্চা গুরুতর আঘাত পেলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ঘরের কাজ সাধারণত ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়, প্রতিদিন একটু কম মনে করিয়ে দিতে দিতে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়স থেকে বাচ্চাকে ঘরের কাজ শেখানো শুরু করবেন?

অনেক বাবা-মা যা ভাবেন, তার চেয়ে আগে। ২–৩ বছরের বাচ্চা খেলনা ঝুড়িতে রাখতে বা আপনার হাতে ক্লিপ এগিয়ে দিতে পারে, আর ৪–৫ বছরে বেশিরভাগ বাচ্চা রোজ এক-দুটো ছোট কাজ সামলাতে পারে, যেমন নিজের প্লেট সিংকে নিয়ে যাওয়া। এক মিনিটের কাজ দিয়ে শুরু করুন, আর বয়সের সঙ্গে কাজ বাড়ান।

১০ বছরের বাচ্চা ঘরের কী কী কাজ করতে পারে?

বেশ অনেক কিছু। বেশিরভাগ ১০ বছরের বাচ্চা নিজের বিছানা গোছাতে, ঘর গুছিয়ে রাখতে, নিজের ব্যাগ আর ইউনিফর্ম তৈরি রাখতে, কাপড় ভাঁজ করে তুলে রাখতে, একটা ঘর ঝাড়ু দিতে বা মুছতে, নিজের প্লেট ধুতে আর সহজ নাশতা বানাতে পারে। বড় কেউ ঠিক পাশে থাকলে নিরাপদে চুলা ব্যবহার শেখাও শুরু করতে পারে।

ঘরের কাজের জন্য কি বাচ্চাকে টাকা দেওয়া উচিত?

এটা আপনার সিদ্ধান্ত, আর একেক পরিবার একেকভাবে করে। অনেক পরিবার রোজকার কাজের জন্য টাকা দেয় না, কারণ বাসায় সবাই কাজে হাত লাগায়; আর জমানো ও খরচ শেখার জন্য আলাদা করে হাতখরচ দেয়। কেউ কেউ বাড়তি কাজের জন্য, যেমন গাড়ি ধোয়ার জন্য, কিছু দেয়। প্রতিটা ছোট কাজের জন্য টাকা দিলে সাহায্য করাটা লেনদেন হয়ে যেতে পারে।

বাচ্চা বাসায় কোনো কাজে হাত লাগায় না, কী করব?

ছোট করে শুরু করুন, আর হুকুম না দিয়ে শেখান। রোজকার একটা কাজ বেছে নিন, কয়েকবার করে দেখান, তারপর বাচ্চা একা পারা পর্যন্ত দুজনে মিলে করুন। কাজটাকে রোজকার কোনো মুহূর্তের সঙ্গে জুড়ে দিন, বকাবকির বদলে “আগে এটা, তারপর ওটা” বলুন, আর নির্দিষ্ট কাজটার জন্য ধন্যবাদ দিন। একটা কাজ অভ্যাস হতে বেশিরভাগ বাচ্চার কয়েক সপ্তাহ লাগে।

বাসায় গৃহকর্মী থাকলেও কি বাচ্চাকে ঘরের কাজ করাব?

হ্যাঁ, একটু ছোট পরিসরে। ভারী কাজগুলো গৃহকর্মী করতে পারেন, কিন্তু বাচ্চাকে নিজের জিনিস নিজে সামলানো শিখতেই হবে: নিজের প্লেট, বিছানা, ব্যাগ আর কাপড়। এগুলো জীবনের দক্ষতা, শুধু বাসার কাজ নয়; আর এতে বাসায় যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের প্রতি সম্মানও শেখে।

কাজের চার্ট কি সত্যিই কাজে দেয়?

প্রায়ই হ্যাঁ, বিশেষ করে ৪–১০ বছরের বাচ্চার ক্ষেত্রে। ৩ থেকে ৫টা কাজ, ছোটদের জন্য ছবি, আর প্রতিটা কাজ শেষে একটা টিক — এমন সহজ চার্ট দেখে বাচ্চা বোঝে কী করতে হবে, আপনাকে বারবার বলতে হয় না। প্রতি সপ্তাহে একসঙ্গে দেখে নিন। চার্ট নিয়েই ঝগড়া শুরু হলে রুটিনটা রাখুন, চার্টটা বাদ দিন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।