মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া ও টাকার ব্যবহার শেখানো: বয়স অনুযায়ী গাইড আর ঈদের সালামি

ছোট করে উত্তর

বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া ও টাকার ব্যবহার শেখানো শুরু হয় অল্প দিয়ে, আর দায়িত্বের সঙ্গে বাড়ে: ৫–৭ বছরে সপ্তাহে ছোট একটা শখ মেটানোর মতো টাকা আর একটা জমানোর বাক্স; ৮–১০ বছরে সাপ্তাহিক টাকা, খরচ, জমা আর দানে ভাগ করে; ১১–১৩ বছরে নাশতা আর খাতা-কলমের সাপ্তাহিক বাজেট; ১৪–১৭ বছরে ঠিক করা খরচের জন্য মাসিক টাকা। অঙ্ক ঠিক করুন নিজের সংসারের বাজেট দেখে, বন্ধুদের দেখে নয়।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৫–১৭ বছরের সন্তানের বাবা-মা, যাঁরা হাতখরচ, ঈদের সালামি আর টাকার প্রথম পাঠ নিয়ে ভাবছেন, খুচরা পয়সা থেকে মোবাইল ওয়ালেট পর্যন্ত
মূল কথা
  • অনেক পরিবার ৫–৭ বছরের দিকে শুরু করে, নিয়মিত অল্প টাকা দিয়ে, আর টাকাটা কিসের জন্য তা পরিষ্কার করে।
  • টাকা ভাগ করুন খরচ, জমা আর দানে: ছোটদের জন্য তিনটা বাক্স বা বয়াম, বড়দের জন্য খাতা বা অ্যাকাউন্ট।
  • ঈদের আগেই সালামির পরিকল্পনা ঠিক করুন, আর কত টাকা আর কেন রাখছেন তা না বলে কখনো পুরোটা নিয়ে নেবেন না।
  • মোবাইল ওয়ালেটের পিন নিজের কাছে রাখুন, কেনাকাটায় পাসওয়ার্ড চালু রাখুন, আর গেমে খরচ আগেই ঠিক করুন।

বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া ও টাকার ব্যবহার শেখানো নিয়ে প্রায় সব পরিবারেই প্রশ্ন ওঠে: কখন শুরু করবেন, কত দেবেন, আর মঙ্গলবারের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেলে কী করবেন। তারপর আসে ঈদ, সালামি জমতে থাকে, আর যে বাচ্চার হাতে কিছুই ছিল না, হঠাৎ তার হাতে জীবনের সবচেয়ে বেশি টাকা।

বেশিরভাগ বাচ্চা টাকার ব্যাপার শেখে অন্য সবকিছুর মতোই: অল্প টাকা হাতে নিয়ে, ছোট ছোট ভুল করে, আবার চেষ্টা করে। টাকার মূল্য নিয়ে লম্বা উপদেশের চেয়ে কয়েকটা শান্ত নিয়ম আর নিজে বেছে নেওয়ার সুযোগ প্রায়ই বেশি শেখায়।

এখানে ইচ্ছা করেই টাকার অঙ্ক দেওয়া হয়নি: কতটা ঠিক, তা নির্ভর করে আপনার সংসারের বাজেট আর টাকাটা দিয়ে কী কী চালাতে হবে তার ওপর। তার বদলে পাবেন বয়স অনুযায়ী তালিকা, কী বলবেন, ঈদের পরিকল্পনা আর ৭ দিনের পরিকল্পনা।

বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া ও টাকার ব্যবহার শেখানো: কখন শুরু করবেন, কতটা দেবেন

অনেক পরিবার মোটামুটি ৫–৭ বছর বয়সে হাতখরচ দেওয়া শুরু করে, যখন বাচ্চা পয়সা গুনতে পারে আর বোঝে যে খরচ হয়ে গেলে টাকা আর থাকে না। একটাই সঠিক অঙ্ক বলে কিছু নেই। বেশি জরুরি হলো টাকাটা নিয়মিত হোক, সামলানোর মতো অল্প হোক, আর এতে কী কী খরচ ধরা, তা পরিষ্কার থাকুক। পাঁচটা প্রশ্ন অঙ্ক ঠিক করতে সাহায্য করে:

  1. এতে কী কী চলবে? শুধু শখের জিনিস, নাকি টিফিনের বাড়তি, খাতা-কলম, রিকশাভাড়া বা মোবাইল ডেটাও? যত বেশি খরচ এতে ধরবেন, টাকাও তত বেশি লাগবে।
  2. আপনার বাজেটে কতটা মানায়? ঠিক করুন নিজের সংসারের হিসাব দেখে, ক্লাসের বন্ধু কত পায় তা দেখে নয়।
  3. সাপ্তাহিক না মাসিক? ছোটদের জন্য সাপ্তাহিক ভালো; মাসিক টাকা কিশোরদের পরিকল্পনা করতে শেখায়।
  4. কবে বাড়বে? অনেক পরিবার জন্মদিনে বা নতুন ক্লাসে উঠলে বাড়ায়, প্রায়ই নতুন একটা দায়িত্বের সঙ্গে; কেউ কেউ বয়সের প্রতি বছরের জন্য নির্দিষ্ট অল্প টাকা যোগ করে।
  5. শেষ হয়ে গেলে কী হবে? সাধারণত পরের নির্দিষ্ট দিনের আগে বাড়তি কিছু নয়, যাতে ঝুঁকি ছোট থাকতেই বাচ্চা নিজের সিদ্ধান্তের ফল বোঝে।

অনেক পরিবারে হাতখরচ আর ঘরের কাজ আলাদা রাখা হয়: রোজকার কাজের জন্য টাকা নয়, কারণ বাসায় সবাই কাজে হাত লাগায়। বাড়তি কাজের জন্য টাকা দেবেন কি না, তা পাবেন বয়স অনুযায়ী বাচ্চার ঘরের কাজ লেখায়।

বয়স অনুযায়ী হাতখরচ: ৫ থেকে ১৭ বছর

বয়স অনুযায়ী এই তালিকাকে মোটামুটি ধারণা হিসেবে নিন; প্রত্যেক বাচ্চা আলাদা, আর অনেকেই পরের সারির কিছুটা পারে।

বয়স অনুযায়ী হাতখরচ: কতদিন পরপর, কী খরচ চলবে, আর বাচ্চা কী শেখে
বয়সকতদিন পরপরকী খরচ চলতে পারেবাচ্চা যা শেখে
৫–৭ বছরসাপ্তাহিক, খুচরা পয়সায়ছোট একটা শখের জিনিস; বাকিটা জমানোর বাক্সেগোনা, কয়েক দিন অপেক্ষা করা, দুটোর মধ্যে একটা বেছে নেওয়া
৮–১০ বছরসাপ্তাহিকশখের জিনিস, ছোট খেলনা, কয়েক সপ্তাহ জমিয়ে কোনো লক্ষ্যখরচ, জমা আর দানের বাক্স; দোকানে দাম মিলিয়ে দেখা
১১–১৩ বছরসাপ্তাহিক বা দুই সপ্তাহ পরপরনাশতা, খাতা-কলম, ছোট উপহার, বন্ধুদের সঙ্গে কিছু খাওয়াএক সপ্তাহের পরিকল্পনা, খরচ লিখে রাখা, নিজেকে ‘না’ বলা
১৪–১৭ বছরমাসিকঠিক করা খরচ, যেমন যাতায়াত, মোবাইল ডেটা, বেড়ানো আর কিছু জামাকাপড়মাসিক বাজেট, বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সঞ্চয়ী হিসাব বা ওয়ালেট, বন্ধুদের চাপে খরচ না করা

তালিকায় ইচ্ছা করেই কোনো অঙ্ক নেই। ঢাকার কোনো প্রাইভেট স্কুলে যেটা ন্যায্য, জেলা শহরে সেটা আলাদা হতে পারে, আর দুটো দিয়েই একই দক্ষতা শেখা যায়।

সন্তানকে সঞ্চয় শেখানো: খরচ, জমা আর দান

টাকার ব্যাপার শেখানো সবচেয়ে সহজ হয় এমন কিছু দিয়ে, যা বাচ্চা চোখে দেখে আর হাতে ধরে; জমানোর অভ্যাস সাধারণত শুরু হয় একটা বাক্স দিয়েই। ছোটদের জন্য তিনটা বয়াম বা বাক্স, কিংবা বাচ্চার নিজের একটা মাটির ব্যাংক প্রতিটা সিদ্ধান্ত চোখের সামনে রাখে:

  1. তিনটা পাত্র রাখুন: খরচ, জমা আর দান। জমানোর জন্য মাটির ব্যাংক খুব ভালো, কারণ হুট করে খোলা যায় না।
  2. সহজ একটা ভাগ ঠিক করুন, যেমন বেশিরভাগ খরচের, আর জমা ও দানে অল্প অল্প; টাকাটা বাচ্চা নিজের হাতে ফেলুক।
  3. একসঙ্গে জমানোর একটা লক্ষ্য ঠিক করুন, যেমন একটা ফুটবল, একটা বই বা রঙের সেট, আর বয়ামের গায়ে তার একটা ছবি এঁকে লাগিয়ে দিন।
  4. খরচের টাকা ওর নিজের মতো খরচ করতে দিন, আপনার পছন্দ না হলেও, তবে জাঙ্ক ফুড নিয়ে পরিবারের নিয়ম মেনে। মন খারাপ করা একটা খেলনা লম্বা উপদেশের চেয়ে বেশি শেখায়।
  5. দান কোথায় করবে, সেটা ওকেই বেছে নিতে দিন: দাদা-দাদির জন্য ছোট উপহার, প্রতিবেশীর জন্য খাবার, স্কুলের কোনো সংগ্রহ, বা যে কাজটা ওর মন ছোঁয়।
  6. প্রতি সপ্তাহে একসঙ্গে গুনুন, আর লক্ষ্য পূরণ হলে একটু উদযাপন করুন।
  7. মোটামুটি ১০ বছর থেকে বয়ামের বদলে ছোট একটা খাতায় হিসাব, আর পরে বাবা বা মায়ের সঙ্গে খোলা শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ী হিসাব।

যা বলতে পারেন

  • এটা তোমার এই সপ্তাহের টাকা। কী করবে তুমিই ঠিক করবে; শেষ হয়ে গেলে আবার পরের শুক্রবার।
  • এখনই কিনবে, নাকি আরও দুই সপ্তাহ জমিয়ে বড়টা কিনবে?
  • বুঝতে পারছি, খুব চাইছ। চলো, তোমার জমানোর তালিকায় লিখে রাখি।
  • পুরো এক মাস জমিয়েছ। এর জন্য অনেক ধৈর্য লাগে।
  • এ মাসে ওটা কেনা হবে না। আমাদের বাজেটে নেই, আর এতে লজ্জার কিছু নেই।

ঈদের সালামির টাকা বাচ্চা কীভাবে খরচ করবে?

ঈদের সালামি, অর্থাৎ ঈদে বড়রা ছোটদের যে টাকা দেন, প্রায়ই বাচ্চার সারা বছরের সবচেয়ে বেশি টাকা, আর ওপরের সবকিছু চর্চার দারুণ সুযোগ। সঙ্গে প্রশ্নও আসে: টাকাটা কার কাছে থাকবে, কতটা খরচ করা যাবে, আর আপনারা অন্য বাচ্চাদের যে সালামি দেন, তার কী হবে?

  • পরিকল্পনা ঠিক করুন ঈদের আগেই, চাঁদরাতে নয়: কিছুটা খরচ, কিছুটা জমা আর কিছুটা দান। বড় বাচ্চার জন্য লিখে রাখুন।
  • কিছুটা সত্যিই ওর থাকুক: আপনি কাছে থাকবেন, আর ঈদের মেলায় বা দোকানে নিজের সালামির অল্প কিছু খরচ করবে; এটাও ঈদের আনন্দের অংশ।
  • রেখে দিলে খোলাখুলি বলুন: কত, কোথায়, আর কিসের জন্য। “তোমার টাকা আমার কাছে রেখে দিলাম” বলে পুরোটা নিয়ে আর কখনো না বললে বাচ্চার কাছে সেটা হারিয়ে ফেলার মতো লাগে।
  • কিছুটা যদি সংসারের খরচে যায়, যেমন স্কুলের জিনিস বা আপনারা অন্য বাচ্চাদের যে সালামি দেন, তা বুঝিয়ে বলুন, আর তবুও বাচ্চার জন্য একটা অংশ রাখুন।
  • দান আর ধন্যবাদ: কার সঙ্গে ভাগ করবে, তা বাচ্চাকেই বেছে নিতে দিন, আর আত্মীয়দের ফোন করে বা ছোট চিরকুট লিখে ধন্যবাদ জানাক; দেখুন শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানো।
  • ডিজিটাল সালামি: আত্মীয়রা বাবা-মায়ের মোবাইল ওয়ালেটে সালামি পাঠালে নগদ টাকার মতোই বাচ্চার সঙ্গে হিসাব করুন, আর ওর ভাগটা বাক্সে বা সঞ্চয়ে রাখুন।
  • কাজিনরা: যৌথ পরিবারে একই বয়সের বাচ্চাদের মোটামুটি একই সালামি দেওয়ার ব্যাপারে বড়রা একমত হোন, আর কে সবচেয়ে বেশি পেল, সেই তুলনা এড়িয়ে চলুন।

কিশোর সন্তানের হাতখরচ: মোবাইল ওয়ালেট, ডেটা আর গেমে খরচ

বড় বাচ্চা আর কিশোররা এখন অনেক টাকাই ফোনে সামলায়: কোচিংয়ের বেতন, ডেটা রিচার্জ, অনলাইন কেনাকাটা আর গেমের ভেতরের কেনাকাটা। ডিজিটাল টাকা খরচ করা সহজ, কারণ সেটা আসল টাকার মতো লাগে না; তাই কয়েকটা নিয়ম কাজে দেয়:

  • পিন নিজের কাছে রাখুন: বাচ্চাকে কখনো বলবেন না, আর দেখে ফেলেছে মনে হলে বদলে ফেলুন।
  • কিশোরের নিজের অ্যাকাউন্ট: মোটামুটি ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোররা প্রায়ই বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত, সীমা দেওয়া নিজের মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। নিয়ম বদলায়, তাই বর্তমান নিয়ম সেবাদাতার কাছ থেকে জেনে নিন, আর একসঙ্গে বসে চালু করুন।
  • অ্যাপ স্টোর আর গেমে প্রতিটা কেনাকাটায় পাসওয়ার্ড চালু রাখুন, আর বাচ্চার ফোনে কখনো কার্ড বা ওয়ালেট সেভ করে রাখবেন না।
  • গেমে খরচ আগেই ঠিক করুন: হাতখরচ বা সালামি থেকে নির্দিষ্ট একটা অঙ্ক, চাওয়ার মুহূর্তে নয়। আরও পড়ুন সন্তান অনলাইন গেমে আসক্ত হলে কী করবেন।
  • প্রতারণা নিয়ে সাবধান করুন: “ফ্রি ডায়মন্ড”, পুরস্কার জেতার মেসেজ, “টাকা দ্বিগুণ” করার প্রস্তাব, আর পিন বা এসএমএস কোড চাওয়া যে কেউ, সাধারণত প্রতারণা।
  • মাসে একবার একসঙ্গে লেনদেনের হিসাব দেখুন, খরচের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাপ হিসেবে, তল্লাশি হিসেবে নয়।

আমাদের বাসায় টাকা আর বাচ্চা

অনেক বাংলাদেশি বাসায় টাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিজস্ব রীতি: আত্মীয়রা বাচ্চার হাতে টাকা গুঁজে দেন, যৌথ সংসার, আর স্কুলের গেটের সামনে ভিড়। কয়েকটা পরিস্থিতি বারবার আসে; বড় ছবিটা পাবেন বাংলাদেশে সন্তান লালন-পালন লেখায়।

  • স্কুলে যাওয়ার সময় কত টাকা দেবেন: টিফিন সঙ্গে থাকলে ছোট বাচ্চার স্কুলে টাকার দরকারই না-ও হতে পারে। বড়রা ঠিক করা নাশতার জন্য অল্প টাকা নিতে পারে, সঙ্গে জরুরি দরকারের জন্য আলাদা করে রাখা অল্প কিছু, যেমন রিকশায় বাসায় ফেরা বা একটা ফোন করা।
  • নিরাপত্তা: টাকা চোখের আড়ালে রাখতে শেখান, আর বলে দিন, কেউ টাকার জন্য ভয় দেখালে দিয়ে দেবে, তারপর আপনাকে জানাবে। টাকার চেয়ে ও অনেক বেশি দামি।
  • আত্মীয়দের দেওয়া টাকা: আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ দিন, তারপর টাকাটা যাবে সেই একই খরচ, জমা আর দানের পরিকল্পনায়।
  • ছেলে আর মেয়ে: দুজনকেই একই হাতখরচ আর টাকার একই শিক্ষা দিন। বাজেট করা, জমানো আর অ্যাকাউন্ট চালানো মেয়েদেরও ছেলেদের মতোই শিখতে হয়।
  • গৃহকর্মী: টাকা লাগলে বাচ্চা চাইবে বাবা-মায়ের কাছে, গৃহকর্মীর কাছে নয়; আর তাঁকে দিয়ে লুকিয়ে কিছু আনানো চলবে না।
  • টাকা নিয়ে কথা বলা: টানাটানি চললে বাচ্চারা টের পায়। “ঈদের জন্য জমাচ্ছি, তাই এ মাসে নতুন খেলনা নয়”, এমন শান্ত, সহজ কথা চুপ থাকা বা দুশ্চিন্তার চেয়ে বেশি শেখায়।

হাতখরচ শুরু করার ৭ দিনের পরিকল্পনা

বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া ও টাকার ব্যবহার শেখানো সবচেয়ে ভালো হয়, যখন সহজভাবে শুরু করে খেয়াল রাখেন কী হচ্ছে। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: বাচ্চা কী খরচ করল বা জমাল, আর ওর কেমন লাগল।

  1. দিন ১: ঠিক করুন হাতখরচে কী কী চলবে, কতদিন পরপর দেবেন, আর কোন দিন।
  2. দিন ২: আদর করে বাচ্চাকে পরিকল্পনাটা বলুন, আর খরচ, জমা আর দানের বাক্স বা একটা খাতা তৈরি করুন।
  3. দিন ৩: প্রথম হাতখরচ দিন, আর ভাগটা বাচ্চাকে নিজে করতে দিন।
  4. দিন ৪: একসঙ্গে দোকানে যান; বাচ্চা নিজে বাছবে, টাকা দেবে আর ফেরত টাকা গুনবে।
  5. দিন ৫: জমানোর একটা লক্ষ্য ঠিক করুন, আর জমানোর বাক্সের গায়ে তার ছবি আঁকুন।
  6. দিন ৬: টাকা এর মধ্যেই শেষ হয়ে গেলে নরম থাকুন, তবে নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত নিয়মটা ধরে রাখুন।
  7. দিন ৭: একসঙ্গে গুনুন, কী ভালো হলো খেয়াল করুন, আর পরের সপ্তাহের জন্য একটা জিনিস বদলান।

কখন বুঝবেন ব্যাপারটা শুধু টাকার নয়?

টাকা নিয়ে বেশিরভাগ ভুলই শেখার অংশ। তবে নিচের কোনোটা দেখলে আরও ভালো করে খেয়াল করুন, আর নিরাপত্তার লক্ষণে সেদিনই ব্যবস্থা নিন:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • বাসা থেকে বারবার টাকা হারাচ্ছে, বা বাচ্চার কাছে এমন জিনিস, যা আপনি কিনে দেননি আর সে ব্যাখ্যা দিতে পারে না: শান্ত থাকুন, একান্তে কথা বলুন, আর দেখুন বাচ্চা না বলে জিনিস নিলে কী করবেন।
  • স্কুলে বা পথে কেউ জোর করে বা ভয় দেখিয়ে বাচ্চার টাকা নিয়ে নেয়: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন। স্কুলকে জানান, স্থানীয় থানায় জানান, আর বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • গেম, বাজি বা “টাকা কামানোর” অ্যাপে বড় অঙ্কের বা লুকিয়ে খরচ, বা বন্ধুদের কাছ থেকে ধার: সেই সপ্তাহেই শান্তভাবে কথা বলুন, আর টাকা দেওয়ার পথগুলো বন্ধ করুন। সীমা দেওয়ার পরও এক মাস ধরে চলতে থাকলে বাচ্চার ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।
  • অনলাইনে কেউ বাচ্চাকে টাকা, রিচার্জ বা উপহারের লোভ দেখিয়ে ছবি, গোপনীয়তা বা দেখা করতে চায়: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন। টাকা বা কিছুই পাঠাবেন না, মেসেজগুলো রেখে দিন, তবে কোনো ব্যক্তিগত ছবি কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না, আর অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন। সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান; বাচ্চা দেখা করতে চলে গেলে, খুঁজে না পেলে বা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • টাকার দুশ্চিন্তা বাচ্চাকে চেপে ধরেছে: ঘুমাতে পারে না, সংসারের টাকা নিয়ে কাঁদে, বা একদমই কিছু খরচ করতে চায় না, আর এমন চলছে দুই সপ্তাহ বা তার বেশি। শান্তভাবে ওর সঙ্গে কথা বলুন, আর চলতে থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে।

বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া ও টাকার ব্যবহার শেখানো ধীরে ধীরে কাজ করে, একটা একটা ছোট সিদ্ধান্তে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়স থেকে বাচ্চাকে হাতখরচ দেওয়া উচিত?

অনেক পরিবার মোটামুটি ৫–৭ বছরে শুরু করে, যখন বাচ্চা পয়সা গুনতে পারে আর বোঝে যে খরচ হয়ে গেলে টাকা আর থাকে না। তার আগে আপনার সঙ্গে দোকানে গিয়ে নিজে বেছে টাকা দেওয়াই যথেষ্ট। নির্দিষ্ট কিছুর জন্য নিয়মিত অল্প টাকা দিয়ে শুরু করুন, আর বয়স ও দায়িত্বের সঙ্গে বাড়ান।

বাচ্চাকে কত টাকা হাতখরচ দেওয়া উচিত?

একটাই সঠিক অঙ্ক নেই। আগে ঠিক করুন এতে কী কী চলবে, তারপর ক্লাসের বন্ধুরা কত পায় তা নয়, নিজের সংসারের বাজেট দেখে অঙ্ক ঠিক করুন। ছোটদের লাগে সপ্তাহে একটা ছোট শখ মেটানোর মতো; যে কিশোর যাতায়াত, ডেটা বা বেড়ানোর খরচ চালায়, তার লাগে বেশি। অনেক পরিবার প্রতি জন্মদিনে বা নতুন ক্লাসে উঠলে বাড়ায়।

হাতখরচ সাপ্তাহিক দেব, না মাসিক?

মোটামুটি ১২ বছর পর্যন্ত বেশিরভাগ বাচ্চার জন্য সাপ্তাহিক ভালো, কারণ এক সপ্তাহ পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট লম্বা, আবার ভুল থেকে সামলে ওঠার জন্য যথেষ্ট ছোট। অনেক কিশোর মাসিক টাকা সামলাতে পারে, যা লম্বা সময়ের বাজেট শেখায়। যেটাই বেছে নিন, প্রতিবার একই দিনে দিন।

বাচ্চার ঈদের সালামি কি আমার কাছে রেখে দেব?

কিছুটা রেখে দিতে পারেন, তবে বাচ্চাকে বলুন কত, কোথায় আর কেন। অনেক পরিবার ঈদের আগেই ভাগ ঠিক করে: কিছুটা খরচ, কিছুটা জমা, কিছুটা দান। নিজের সালামির অল্প কিছু খরচ করতে দিলে আর বাকিটা জমতে দেখলে বাচ্চা পুরোটা নিয়ে নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি শেখে।

বাচ্চা প্রথম দিনেই সব টাকা খরচ করে ফেললে কী করব?

নরম থাকুন, কিন্তু নিয়মটা ধরে রাখুন: স্কুলের জিনিসের মতো সত্যিকারের দরকার না হলে পরের নির্দিষ্ট দিনের আগে বাড়তি টাকা নয়। পরে শান্তভাবে কথা বলুন: “পরের বার কী অন্যভাবে করবে?” কয়েকটা কঠিন সপ্তাহের পর বেশিরভাগ বাচ্চা টাকা ভাগ করে খরচ করতে শেখে।

কিশোর সন্তান কি নিজের মোবাইল ওয়ালেট চালাতে পারে?

প্রায়ই হ্যাঁ, মোটামুটি ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোরের বেলায়, বাবা-মায়ের যুক্ততায়: কিশোরের অ্যাকাউন্ট সাধারণত বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আর খরচের সীমা থাকে। নিয়ম বদলায়, তাই বর্তমান নিয়ম সেবাদাতার কাছ থেকে জেনে নিন। একসঙ্গে বসে চালু করুন, নিজের পিন নিজের কাছে রাখুন, কী কাজে লাগবে তা ঠিক করুন, আর প্রতি মাসে একসঙ্গে হিসাব দেখুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।