মূল কনটেন্টে যান

শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানো: সালাম, ধন্যবাদ, সততা আর দয়া

ছোট করে উত্তর

শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানোর মূল উপায় হলো নিজে করে দেখানো আর ছোট ছোট মুহূর্তে অভ্যাস করানো: বড়দের সালাম দেওয়া, ধন্যবাদ আর সরি বলা, ভাগ করে নেওয়া, সত্য বলা, আর সবার প্রতি দয়া, যাঁরা আমাদের নানা কাজে সাহায্য করেন তাঁদের প্রতিও। ২–৩ বছর থেকে সহজভাবে শুরু করুন, ভালো আচরণ খেয়াল করে প্রশংসা করুন, ভুল শুধরে দিন আড়ালে, আর কখনো লজ্জা দেবেন না।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ২–১৫ বছরের শিশুর বাবা-মা, দাদা-দাদি আর নানা-নানি, যেকোনো ধর্মের পরিবারে
মূল কথা
  • বাচ্চারা যা শোনে তার চেয়ে অনেক বেশি শেখে যা দেখে; তাই বড়রা নিজেদের মধ্যে, বাচ্চার সঙ্গে আর গৃহকর্মীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, সেটাই সবচেয়ে জরুরি।
  • বয়সের সঙ্গে আদব-কায়দাও বাড়ে: ২ বছরে হাত নাড়া, ৪–৫ বছরে বড়দের সালাম, ৬–৮ বছরে খাবার টেবিলের আদব, আর ১০ বছরের দিকে কেউ না দেখলেও দয়া।
  • ভালো আচরণ খেয়াল করে মুখে বলুন, একবার নিচু গলায় মনে করিয়ে দিন, আর শোধরান মেহমানদের সামনে নয়, আড়ালে।
  • লজ্জা দেওয়া, তকমা লাগানো আর মারধর সাধারণত সম্মান নয়, ভয় শেখায়; শান্ত, নিয়মিত অভ্যাসই সময়ের সঙ্গে বেশি কাজে দেয়।

নানু বাসায় এলেন, আর আপনার ৪ বছরের বাচ্চা আপনার পেছনে লুকাল, কেকের সবচেয়ে বড় টুকরোটা নিল, ধন্যবাদ বলতেও ভুলে গেল, এক সন্ধ্যাতেই সব। বকাঝকা না করে শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানো কীভাবে যায়, এ প্রশ্ন প্রায় সব পরিবারের; আর বাচ্চারা এসব শেখে ধীরে ধীরে, বছরের পর বছর ধরে।

আদব-কায়দা হলো প্রতিদিনের আচরণে মূল্যবোধ দেখানোর উপায়: সালাম মানে সম্মান, ধন্যবাদ মানে কৃতজ্ঞতা, সরি মানে অন্যের অনুভূতির খেয়াল। বাচ্চারা এগুলো শেখে মূলত আশপাশের বড়দের দেখে, আর নরমভাবে বারবার অভ্যাস করে, লেকচার শুনে নয়।

নিচে পাবেন: বাচ্চারা কীভাবে মূল্যবোধ শেখে, বয়স অনুযায়ী আদব-কায়দা, প্রতিদিনের অভ্যাস আর কী বলবেন, বড়দের সম্মান, ধন্যবাদ আর সরি, সততা আর দয়া, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।

সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া: বাচ্চারা আসলে কীভাবে শেখে?

মূল্যবোধ হলো যে বিষয়গুলো আপনার পরিবারের কাছে জরুরি: সততা, দয়া, সম্মান, কৃতজ্ঞতা আর ন্যায্যতা। অনেক পরিবার এগুলো পায় নিজেদের ধর্ম থেকে, আর প্রতিটি পরিবার নিজের ভাষায় বলে। আপনার বিশ্বাস যা-ই হোক, শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানোর প্রতিদিনের পদ্ধতিটা প্রায় একই:

  • দেখে শেখা: আপনি কীভাবে প্রতিবেশীকে সালাম দেন, রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলেন, বা ফোন ধরেন, বাচ্চা সেটাই নকল করে।
  • অভ্যাস করা: দাঁত ব্রাশের মতোই, অনেকবার ছোট ছোট করে করতে করতে আদব-কায়দা অভ্যাসে পরিণত হয়।
  • খেয়াল করা: শান্ত গলায় “দেখলাম তুমি ভাগ করে দিলে” প্রায়ই দশবার মনে করিয়ে দেওয়ার চেয়ে বেশি শেখায়।
  • নিরাপদ বোধ করা: ভুল করলে লজ্জা নয়, শান্ত প্রতিক্রিয়া পেলে বাচ্চারা দয়া আর সততার চর্চা বেশি করে।

চিৎকার, লজ্জা দেওয়া আর মারধরে হয়তো তাড়াতাড়ি কথা শোনানো যায়, কিন্তু এগুলো সাধারণত সম্মান নয়, ভয় আর লুকানো শেখায়; আর মারধর সময়ের সঙ্গে আচরণ সাধারণত আরও খারাপ করে। শান্ত বিকল্পগুলো পাবেন বাচ্চাকে না মেরে শাসন করার উপায় লেখায়।

বয়স অনুযায়ী শিশুর আদব-কায়দা: কোন বয়সে কী আশা করবেন

এগুলো মোটামুটি বয়স, বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে খাটে। লাজুক, ক্লান্ত বা খুব ছোট বাচ্চার বেশি সাহায্য লাগে, আর সেটা স্বাভাবিক।

বয়স অনুযায়ী আদব-কায়দা ও মূল্যবোধ (মোটামুটি ধারণা)
বয়সঅনেক বাচ্চা যা শিখতে পারেকীভাবে সাহায্য করবেন
২–৩ বছরসাহায্য নিয়ে হাত নাড়া বা সহজ সালাম, মনে করিয়ে দিলে “প্লিজ” আর “ধন্যবাদ”, খেলনা নিয়ে অল্প সময় পালা করানিজে করে দেখান, ওর সঙ্গে মিলে বলুন, প্রতিটি চেষ্টার প্রশংসা করুন
৪–৫ বছরবড়দের সালাম দেওয়া, সরি বলে ভুল শুধরাতে সাহায্য করা, পালা করে ভাগ করা, একটু অপেক্ষা করাবেড়াতে যাওয়ার আগে অনুশীলন; কীভাবে অভিবাদন জানাবে, বেছে নিতে দিন
৬–৮ বছরখাবার টেবিলের আদব, কথা না কেটে “একটু শুনবে?” বলা, যাঁরা সাহায্য করেন তাঁদের ধন্যবাদ, কঠিন হলেও সত্য বলাবাসায় ছোট ছোট দায়িত্ব; সততা দেখলে মুখে বলুন
৯–১২ বছরমেহমানকে আপ্যায়ন, ফোনের আদব, কেউ না দেখলেও দয়া, কাউকে বাদ দেওয়া হলে তার পাশে দাঁড়ানোবাস্তব ঘটনা নিয়ে কথা বলুন; আরও দায়িত্ব দিন
১৩–১৫ বছরসম্মান রেখে দ্বিমত করা, বড়দের সাহায্য করা, অনলাইনের আদব, নিজের ভুল স্বীকার করাওর মতামত জানতে চান; যে সম্মান চান, নিজে তা দেখান

শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানো: প্রতিদিনের ছয়টি অভ্যাস

  1. প্রতিদিন নিজে করে দেখান। বাচ্চা, জীবনসঙ্গী আর বাসায় যাঁরা সাহায্য করেন, সবাইকে “প্লিজ” আর “ধন্যবাদ” বলুন। বাচ্চারা ছোট জিনিসগুলোই খেয়াল করে।
  2. দরকারের আগেই অনুশীলন করুন। কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে বাসায় “মেহমান এসেছে” খেলুন: দরজায় টোকা, সালাম, বসা, ধন্যবাদ।
  3. একবার, নিচু গলায় মনে করিয়ে দিন। সবার সামনে জোরে বলার চেয়ে কানে কানে “কী বলতে হয়?” বেশি কাজ করে।
  4. খেয়াল করে মুখে বলুন: “খালাকে চায়ের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছ, খুব সুন্দর।” দেখুন সন্তানের প্রশংসা করার উপায়।
  5. শোধরান আড়ালে। মেহমানদের সামনে বাচ্চা অভদ্র আচরণ করলে তখন ছোট আর শান্ত রাখুন, পরে একা বসে কথা বলুন।
  6. সত্যিকারের দায়িত্ব দিন। মেহমানকে পানি দেওয়া, টেবিল সাজানো বা দাদির ব্যাগটা বয়ে দেওয়া প্রায়ই যেকোনো নিয়মের চেয়ে ভালো করে সম্মান শেখায়।

যা বলতে পারেন

  • নানুকে সালাম দেবে, নাকি হাত নাড়বে? তুমিই ঠিক করো।
  • দেখলাম তুমি ভাইকে আগে খেলতে দিলে। এটা খুব বড় মনের কাজ।
  • ইশ, ভেঙে গেল। চলো, দুজনে মিলে সরি বলি, তারপর ঠিক করি।
  • আমাদের বাসায় আমরা সবার সঙ্গে নরম করে কথা বলি, খালার সঙ্গেও।
  • কঠিন হলেও তুমি সত্যিটা বলেছ। আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।
  • ভেতরে ঢোকার আগে আমাদের তিনটা কথা মনে আছে তো? সবাইকে সালাম, কিছু ধরার আগে জিজ্ঞেস, আর ধন্যবাদ।

বড়দের সম্মান করা শেখানো, জোর না খাটিয়ে

বড়দের সম্মান অনেক বাংলাদেশি পরিবারের খুব প্রিয় একটা মূল্যবোধ: আগে সালাম দেওয়া, তাঁরা ঘরে এলে উঠে দাঁড়ানো, তাঁদের আগে বসতে বা খাওয়া শুরু করতে দেওয়া, তাঁরা কথা বললে মন দিয়ে শোনা। আপনার পরিবারে যে অভিবাদন চলে, সালাম, আদাব বা নমস্কার, সেটাই শেখান, আর নিজে করে দেখান।

  • লাজুক বাচ্চার সময় লাগতে পারে। প্রথমে হাত নেড়ে, হেসে বা ফিসফিস করে অভিবাদন জানাতে দিন, আর মানিয়ে নিতে কয়েক মিনিট সময় দিন।
  • সম্মান মানে কখনো এই নয় যে বাচ্চাকে অনিচ্ছায় কারও জড়িয়ে ধরা, চুমু বা কোলে বসা মেনে নিতে হবে। ছোঁয়া ছাড়াও ভদ্রভাবে অভিবাদন জানানো যায়; দেখুন শিশুকে গুড টাচ ব্যাড টাচ শেখানো।
  • সম্মান মানে চুপ থাকা নয়। বাচ্চারা ভদ্রভাবে বড়দের সঙ্গে দ্বিমতও করতে পারে: “নানা, আমি কী ভাবছি বলব?”
  • সম্মান দুই দিক থেকেই আসে। বড়রা যখন বাচ্চার সঙ্গেও সম্মান রেখে কথা বলেন, বাচ্চারা সাধারণত সবচেয়ে ভালো সম্মান শেখে।

ধন্যবাদ, সরি আর ভাগ করে নেওয়া শেখানো: জোর না করে

  • ধন্যবাদ আর প্লিজ: সারাদিন নিজে বলুন, দরকার হলে নিচু গলায় মনে করিয়ে দিন। ঈদের উপহার বা সালামির জন্য আত্মীয়দের ফোন করে বা ছোট চিরকুট লিখে ধন্যবাদ জানানো ছোটবেলা থেকেই কৃতজ্ঞতা শেখায়।
  • সরি: জোর করে বলানো “সরি” শুধু শব্দটা শেখায়, অনুভূতিটা নয়। অন্যজনের কেমন লাগছে তা খেয়াল করতে সাহায্য করুন, তারপর শুধরে দেওয়ার কাজ: ভাঙা টাওয়ার আবার বানানো, টিস্যু এনে দেওয়া, আর প্রস্তুত হলে সরি বলা।
  • ভাগ করে নেওয়া: ছোট বাচ্চাদের জন্য এটা কঠিন, আর সেটা স্বাভাবিক। টাইমার দিয়ে পালা করা শেখান, খুব প্রিয় কয়েকটা খেলনা আলাদা করে রাখতে দিন, আর প্রতিবার ভাগ করলে প্রশংসা করুন। ভাইবোনের বেলায় দেখুন ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায়।

সত্যবাদী সন্তান গড়া: সততা, দয়া আর কৃতজ্ঞতা শেখানো

  • সততা: সত্য বলাকে নিরাপদ করুন। খারাপ খবর শুনেও শান্ত থাকুন, ভুল স্বীকার করলে ধন্যবাদ দিন, আর নিজেও সত্য বলুন। কোন বয়সে মিথ্যার মানে কী, পাবেন বাচ্চা মিথ্যা বলে কী করবেন লেখায়।
  • দয়া: প্রতিদিনের ছোট মুহূর্তে অন্যের অনুভূতির দিকে নজর দিতে শেখান: “তোমার বন্ধুর মন খারাপ মনে হচ্ছে। কী করলে ভালো লাগবে?” ছোট কাজিন, প্রতিবেশী বা দাদা-দাদিকে সাহায্য করতে দিন।
  • কৃতজ্ঞতা: রাতের খাবারের সময় সবাইকে জিজ্ঞেস করুন, আজকের একটা ভালো জিনিস কী, আর কাকে ধন্যবাদ দিতে চায়।
  • দান: অনেক পরিবার রমজানে, ঈদে বা পূজায় অভাবী মানুষকে দান করে। বাচ্চাকে নিজে একটা খেলনা বা জামা বেছে দিতে দিন, আর কেন দিচ্ছেন তা নিয়ে কথা বলুন।

আমাদের বাসায় আদব-কায়দা: মেহমান, খাবার টেবিল আর গৃহকর্মী

বাংলাদেশের পারিবারিক জীবনে প্রতি সপ্তাহেই বাচ্চাদের আদব-কায়দা চর্চার সুযোগ আসে। কয়েকটা চেনা পরিস্থিতি:

  • আত্মীয়ের বাসায়: যাওয়ার আগে তিনটা জিনিস ঠিক করে নিন: সবাইকে সালাম দেওয়া, কিছু ধরার আগে জিজ্ঞেস করা, আর ফেরার সময় ধন্যবাদ বলা। খাবার দিলে একটু চেখে দেখা, বা “না, ধন্যবাদ” বলাও ঠিক আছে।
  • খাবার টেবিলে: আপনার পরিবারে চল থাকলে বড়রা শুরু না করা পর্যন্ত, বা সবাইকে দেওয়া না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা; প্রথমে অল্প নিয়ে পরে আরও চাওয়া; মোবাইল নয়; যিনি রান্না করেছেন তাঁকে ধন্যবাদ।
  • বাসায় মেহমান: বাচ্চাকে আপ্যায়নে হাত লাগাতে দিন, পানি বা নাশতার প্লেট এগিয়ে দিতে দিন, তারপর আবার খেলতে যাক। মেহমানদারি এমন এক মূল্যবোধ, যা বাচ্চারা ছোটবেলা থেকেই চর্চা করতে পারে।
  • গৃহকর্মী আর যাঁরা আমাদের নানা কাজে সাহায্য করেন: বড়রা গৃহকর্মী, ড্রাইভার, দারোয়ান বা রিকশাচালকের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, বাচ্চারা সেটাই নকল করে। আপনার পরিবারের রীতি অনুযায়ী নাম ধরে খালা, আপা বা ভাই বলে ডাকুন, “প্লিজ” আর “ধন্যবাদ” বলুন, আর বাচ্চাকে কখনো তাঁদের হুকুম করতে, অপমান করতে বা গায়ে হাত তুলতে দেবেন না।
  • নিজের কাজ নিজে: বাসায় কাজে সাহায্য করার মানুষ থাকলেও বাচ্চা নিজের প্লেট সরাবে, নিজের খেলনা গোছাবে। এতে অন্যের পরিশ্রমের প্রতি সম্মান শেখে।
  • যৌথ পরিবার: দাদা-দাদি, চাচা-ফুপুরা হয়তো একেকজন একেক রকম আশা করেন। সবার কাছে সবচেয়ে জরুরি দুই-তিনটা আদব-কায়দা একসাথে ঠিক করুন, আর ছোটখাটো পার্থক্য ছেড়ে দিন।
  • তকমা: “বেয়াদব” বা “অভদ্র” বলে ডাকলে সেই তকমা বাচ্চার গায়ে লেগে যায়। বরং আচরণটার কথা বলুন: “কথাটা অভদ্র শোনাল। আরেকবার বলো তো, নরম করে।”

ভালো মানুষ হওয়া শেখানো: একটা ভালো অভ্যাসের ৭ দিনের পরিকল্পনা

এই সপ্তাহের জন্য একটা আদব বা মূল্যবোধ বেছে নিন, যেমন ধন্যবাদ, সালাম বা ভাগ করে নেওয়া। প্রতিদিন লিখে রাখুন কোন মুহূর্তে সেটা দেখলেন, বা কোথায় বাদ পড়ল।

  1. দিন ১: অভ্যাসটা বেছে নিন, আর খেয়াল করুন আপনি নিজে কতবার সেটা করে দেখান।
  2. দিন ২: এক বাক্যে বুঝিয়ে বলুন: “আমাদের বাসায় কেউ সাহায্য করলে আমরা ধন্যবাদ বলি।”
  3. দিন ৩: খেলার মধ্যে অনুশীলন করুন: দোকান-দোকান খেলা, মেহমান-মেহমান খেলা, চা-পার্টি।
  4. দিন ৪: আজ অন্তত তিনবার খেয়াল করে মুখে প্রশংসা করুন।
  5. দিন ৫: দাদা-দাদি, নানা-নানি আর অন্য যাঁরা দেখাশোনা করেন, সবাই মিলে একইভাবে নিচু গলায় মনে করানোর কথা ঠিক করুন।
  6. দিন ৬: বাস্তবে চেষ্টা করুন: কারও বাসায় বেড়ানো, দোকান, বা বাসায় মেহমান।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। অভ্যাসটা কি সহজে আসছে? চালিয়ে যান, আর পরের সপ্তাহের অভ্যাস বেছে নিন।

অভদ্রতা বা নিষ্ঠুর আচরণে কখন সাহায্য নেবেন?

বেশিরভাগ অভদ্রতা হয় বয়সের একটা ধাপ, ক্লান্ত একটা দিন, বা এখনো না শেখা একটা দক্ষতা। এসব দেখলে বাচ্চার ডাক্তার, স্কুল বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • কয়েক সপ্তাহ ধরে বাচ্চা প্রায়ই মানুষ বা পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে, বা কাউকে কষ্ট দিয়েও তার কোনো খারাপ লাগে না বলে মনে হয়।
  • মোটামুটি ৫ বছরের পরেও শান্ত, নিয়মিত সীমা দেওয়া সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিন মারা, লাথি দেওয়া বা জিনিস ভাঙা চলতেই থাকে।
  • কয়েক মাস ধরে বাসা আর স্কুল দুই জায়গাতেই প্রায় প্রতিদিন অবাধ্যতা আর অভদ্রতা, এতটাই যে পারিবারিক জীবন সারাক্ষণের লড়াই মনে হয়।
  • হঠাৎ পরিবর্তন: ভদ্র, খোলামেলা বাচ্চা হঠাৎ রূঢ় বা চুপচাপ হয়ে যায়, বা নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা জায়গাকে ভয় পায়। আলতো করে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • আপনি প্রায়ই চিৎকার করছেন বা গায়ে হাত তুলছেন, আর মনে হচ্ছে বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন: আজই ভরসার কারও সঙ্গে বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর কেউ এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

মূল্যবোধ শেখানো চলে বছরের পর বছর, একেকটা সাধারণ দিনে একটু একটু করে; শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানো নিয়ে দ্বিধা থাকলে এই সপ্তাহে একটা অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়স থেকে বাচ্চাকে আদব-কায়দা শেখানো শুরু করবেন?

মোটামুটি ২ বছর থেকেই সহজ জিনিস দিয়ে শুরু করা যায়: হাত নাড়া, একসাথে “প্লিজ” আর “ধন্যবাদ” বলা, খেলনা নিয়ে অল্প সময় পালা করা। শুরুতে অনেকবার মনে করাতে হবে। ৪–৫ বছরে অনেক বাচ্চা কম সাহায্যেই বড়দের সালাম দেয় আর সরি বলে, আর খাবার টেবিলের আদব সাধারণত আসে একটু পরে, ৬–৮ বছরের দিকে।

বাচ্চা আত্মীয়দের সালাম দিতে চায় না, জোর করব?

জোর করলে লাজুক বাচ্চার অস্বস্তি সাধারণত আরও বাড়ে। বাসায় সালাম দেওয়ার অনুশীলন করুন, বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন (সালাম, হাত নাড়া বা একটু হাসি), আর আগে কয়েক মিনিট মানিয়ে নিতে দিন। যত ছোটই হোক, অভিবাদনের প্রশংসা করুন। জড়িয়ে ধরা বা চুমুর জন্য কখনো জোর করবেন না; ভদ্র অভিবাদনে ছোঁয়ার দরকার নেই।

বাচ্চাকে জোর করে সরি বলানো কি ঠিক?

জোর করে বলানো “সরি” শব্দটা শেখায়, অনুভূতিটা নয়। অন্যজনের কেমন লাগছে তা খেয়াল করতে সাহায্য করুন, তারপর একসাথে শুধরে দিন, যেমন যা ভেঙেছে তা ঠিক করা, আর একসাথে সরি বলার প্রস্তাব দিন। রাগ পড়ে গেলে অনেক বাচ্চা নিজে থেকেই মন থেকে সরি বলে।

বাচ্চাকে সালাম ও ধন্যবাদ বলা শেখানো যায় কীভাবে?

নিজে বারবার বলুন, বাচ্চাকে আর যাঁরা সাহায্য করেন সবাইকে। একবার নিচু গলায় মনে করিয়ে দিন (“কী বলতে হয়?”), আর বাচ্চা নিজে মনে রাখলে খেয়াল করে প্রশংসা করুন। ছোট ছোট রীতিও কাজে দেয়: বাসায় ঢুকে সালাম দেওয়া, যিনি রান্না করেছেন তাঁকে ধন্যবাদ বলা, আর ঈদের উপহার বা সালামির জন্য আত্মীয়দের ফোন করে ধন্যবাদ জানানো।

বাচ্চা গৃহকর্মীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, কী করব?

প্রতিবার শান্তভাবে থামান, পারলে আড়ালে: “আমাদের বাসায় আমরা সবার সঙ্গে নরম করে কথা বলি।” সরি বলে বা কোনো সাহায্যের কাজ করে ভুলটা শুধরাতে বলুন। তারপর খেয়াল করুন বাসার বড়রা তাঁর সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, কারণ বাচ্চা সেটাই নকল করে; আর বাচ্চাকেও নিজের কিছু ছোট কাজ দিন।

লেকচার না দিয়ে কীভাবে মূল্যবোধ শেখাব?

দেখান, অভ্যাস করান, আর খেয়াল করুন। বাচ্চারা মূল্যবোধ শেখে আপনাকে যা করতে দেখে, ছোট ছোট বারবার করা অভ্যাস থেকে, আর ভালো মুহূর্তগুলো আপনার মুখে শুনে: “দাদির ব্যাগটা বয়ে দিলে, খুব ভালো লাগল।” লম্বা উপদেশের চেয়ে গল্প আর বাস্তব ঘটনা নিয়ে শান্ত আলাপ বেশি শেখায়।

আদব-কায়দা না মানলে কি শাস্তি দেওয়া উচিত?

ছোট আর শান্ত ব্যবস্থা কাজে দিতে পারে, যেমন কেড়ে নিলে খেলা থেকে একটু সরিয়ে নেওয়া, বা ভদ্রভাবে আবার চাইতে বলা। লজ্জা দেওয়া, কঠোর শাস্তি আর মারধর সাধারণত সম্মান নয়, ভয় শেখায়, আর মারধর সময়ের সঙ্গে আচরণ সাধারণত আরও খারাপ করে। শোধরান আড়ালে, আর খারাপের চেয়ে ভালো আচরণ অনেক বেশি খেয়াল করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।