বাচ্চা চুরি করলে কী করবেন: না বলে জিনিস নিলে কী বলবেন, কী বলবেন না
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা চুরি করলে কী করবেন? আগে জেনে রাখুন, এটা খুব সাধারণ, আর বেশিরভাগ সময় বড় হওয়ার একটা ধাপ, খারাপ স্বভাবের লক্ষণ নয়। মোটামুটি ৫ বছরের আগে বাচ্চারা মালিকানার মানে শিখছে; বড়রা প্রায়ই নেয় ঝোঁকের বশে, দলে মিশতে, বা খুব চাওয়া কিছুর জন্য। শান্ত থাকুন, বাচ্চাকে নয়, কাজটাকে ভুল বলুন, আর জিনিস ফেরত দিয়ে ভুল শোধরাতে সাহায্য করুন। চুরির সঙ্গে মিথ্যা, নিষ্ঠুরতা বা কারও চাপ থাকলে সাহায্য নিন।
লেখাটি শুনুন
১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৩–১৪ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাঁদের বাচ্চা বাসায়, স্কুলে বা দোকানে না বলে খেলনা, টাকা বা অন্যের জিনিস নেয়
- মূল কথা
- ছোট বাচ্চারা এখনো “আমার” আর “তোমার”-এর মানে শিখছে, তাই না বলে জিনিস নেওয়া সাধারণত শেখানোর একটা ধাপ, শাস্তি দেওয়ার মতো অপরাধ নয়।
- বাচ্চাকে “চোর” বলা বা সবার সামনে লজ্জা দেওয়ার চেয়ে শান্তভাবে কাজটার কথা বলা, যেমন “না বলে নেওয়া ঠিক না”, অনেক বেশি কাজে দেয়।
- আপনি পাশে থেকে জিনিসটা ফেরত দেওয়ানো আর ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ানো লম্বা বকুনি বা কঠোর শাস্তির চেয়ে বেশি শেখায়।
- কয়েক মাস ধরে চুরি চললে, বা এর সঙ্গে মিথ্যা, নিষ্ঠুরতা বা অন্য বড় পরিবর্তন থাকলে সাহায্য নিন; কেউ বাচ্চাকে চাপ দিচ্ছে মনে হলে সেদিনই ব্যবস্থা নিন।
বাচ্চা চুরি করলে কী করবেন, এই প্রশ্নটা সাধারণত হঠাৎ একদিন সামনে আসে: বেড়িয়ে ফেরার পর ৪ বছরের বাচ্চার পকেটে কাজিনের খেলনা গাড়ি, স্কুলব্যাগে অন্য কারও ইরেজার, বা আপনার মানিব্যাগ থেকে টাকা উধাও। বুকটা ধক করে ওঠে, আর মাথায় হয়তো “চোর” শব্দটাই আগে আসে।
না বলে জিনিস নেওয়া ছোটবেলায় খুবই সাধারণ। এর মানে এই নয় যে বাচ্চা খারাপ, বা আপনি ব্যর্থ। বড়রা শান্ত থাকলে, ভুল শোধরাতে সাহায্য করলে আর এর বদলে কী করতে হয় তা শেখালে বেশিরভাগ বাচ্চা বড় হতে হতে এটা ছেড়ে দেয়।
নিচে পাবেন: কারণগুলো, বয়স অনুযায়ী না বলে জিনিস নেওয়া, কী বলবেন, ক্ষতি পোষানো, টাকা নেওয়া, বড় বাচ্চা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।
শিশু কেন চুরি করে? না বলে জিনিস নেওয়ার আসল কারণ
বাচ্চারা যে কারণে না বলে জিনিস নেয়, তা বয়সের সঙ্গে বদলায়, আর কারণ বুঝেই ঠিক প্রতিক্রিয়া বেছে নিতে হয়:
- ঝোঁকের বশে: পছন্দের কিছু চোখে পড়েছে, কিন্তু নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি, বিশেষ করে চকলেট আর খেলনার বেলায়।
- অন্যের যা আছে তা চাওয়া: সহপাঠীর জেল পেন, কাজিনের খেলনা, স্কুলে অন্য বাচ্চারা যে নাশতা কিনে খায়।
- দলে মিশতে বা বাজি ধরে: বড় বাচ্চারা বন্ধুদের চোখে বড় হতে, বা দলের চাপে পড়ে জিনিস নিতে পারে।
- মনের কষ্ট: কেউ কেউ নেয় যখন নিজেকে একা লাগে, নতুন ভাইবোনকে নিয়ে হিংসা হয়, মন খারাপ থাকে, বা মনোযোগ কম পায়।
- টাকার দরকার মনে হওয়া: নাশতা, গেমের টপ-আপ, বন্ধুদের সঙ্গে তাল মেলানো, বা কেউ জোর করে টাকা চাইছে বলে।
- দেখে শেখা: বড়দের ছোট অভ্যাস, যেমন ভুল করে বেশি ফেরত পাওয়া টাকা রেখে দেওয়া, মুখের কথার চেয়ে বেশি শেখায়।
বেশিরভাগ সময় এর পেছনে থাকে খুব চাওয়া আর কম আত্মনিয়ন্ত্রণ, কোনো পরিকল্পনা নয়। কঠোর শাস্তিতে বাচ্চা সাধারণত থামে না, বরং আরও ভালো করে লুকাতে শেখে; পড়ুন না মেরে শাসন করার উপায়।
বয়স অনুযায়ী না বলে জিনিস নেওয়া: ৩ থেকে ১৪ বছরে কী স্বাভাবিক?
একেক বয়সে না বলে জিনিস নেওয়া একেক রকম। নিচের বয়সগুলো মোটামুটি, বেশিরভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে খাটে; বদলায় বাচ্চা কতটা বোঝে, আর কিসের জন্য নেয়।
| বয়স | সাধারণত যেমন দেখা যায় | যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| মোটামুটি ৪ বছরের নিচে | অন্যের খেলনা বা খাবার নিয়ে নেয়, এটা যে ভুল সেই ধারণাই নেই | একসঙ্গে ফেরত দিন, সহজ কথায় নিয়মটা বলুন: “এটা রাফির। আমরা ফেরত দিই।” |
| ৪–৭ বছর | চকলেট, ইরেজার বা কাজিনের খেলনার মতো ছোট জিনিস পকেটে ভরে; নিয়মটা একটু জানে, কিন্তু সবসময় নিজেকে সামলাতে পারে না | একসঙ্গে ফেরত দিন, ছোট করে সরি বলুক, আর আগে চেয়ে নেওয়ার অভ্যাস করান |
| ৮–১১ বছর | জানে যে এটা ভুল; টাকা, নাশতা বা বন্ধুদের মতো জিনিস নেয়, লুকিয়ে রাখে বা মিথ্যা বলতে পারে | কেন নিল তা নিয়ে শান্ত আলাপ, ফেরত দেওয়া আর ক্ষতি পোষানো, আর পেছনের চাওয়াটার জন্য একটা পরিকল্পনা |
| ১২–১৪ বছর | গেম, নাশতা বা ঘোরাঘুরির জন্য টাকা নেয়, বা বাজি ধরে দোকান থেকে জিনিস তুলে নেয়; কেউ চাপও দিতে পারে | শান্ত কিন্তু স্পষ্ট ব্যবস্থা, টাকা শোধ করা, আর কেউ চাপ দিচ্ছে কি না খোঁজ নেওয়া |
বন্ধুর খেলনা নিয়ে বাসায় আসা ৪ বছরের বাচ্চা চোর নয়; সে এখনো একটা নিয়ম শিখছে। মোটামুটি ৮ বছর থেকে আসল প্রশ্ন হলো: সে কিসের জন্য নিচ্ছে?
বাচ্চা চুরি করলে কী করবেন: প্রথমবারের কথাবার্তা
প্রথমবার জানার পর আপনার প্রতিক্রিয়াটাই সবচেয়ে জরুরি, কারণ এ থেকেই বাচ্চা শেখে সত্যি বলা নিরাপদ কি না। এই ধাপগুলো ক্রমানুসারে চেষ্টা করুন:
- কথা বলার আগে থামুন। একটা লম্বা শ্বাস নিন; আশপাশে অন্যরা থাকলে আলাদা করে কথা বলার সুযোগের জন্য অপেক্ষা করুন।
- ফাঁদ না পেতে যা জানেন তা বলুন। “এটা কি তুমি নিয়েছ?” জিজ্ঞেস না করে বলুন, “তোমার ব্যাগে তানিয়ার পেনসিল বক্সটা পেলাম।”
- বাচ্চাকে নয়, কাজটাকে ভুল বলুন: “না বলে জিনিস নেওয়া ঠিক না”, “তুমি একটা চোর” নয়।
- নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন কী হয়েছিল, আর মন দিয়ে শুনুন: “কেন এটা নিতে ইচ্ছা হলো?” উত্তরটাই বলে দেবে কোথায় কাজ করতে হবে।
- একসঙ্গে ভুলটা শোধরান: ফেরত দেওয়া, সরি বলা, আর ব্যবহার করে ফেললে বা ভেঙে গেলে বদলে দেওয়া বা দাম শোধ করা (নিচে দেখুন)। কোনো ব্যবস্থা নিলে তা ছোট রাখুন, ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে।
- পরের বারের পরিকল্পনা করুন: কিছু খুব চাইলে সে কী করতে পারে? চাইতে পারে, টাকা জমাতে পারে, জন্মদিন বা ঈদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে, বা আপনাকে বলতে পারে।
যা বলতে পারেন
- এটা আমাদের না, তাই আমরা এটা ফেরত দেব।
- আমি বকব না। শুধু বুঝতে চাই কী হয়েছিল।
- খুব ইচ্ছা করলেও না বলে কারও জিনিস নেওয়া ঠিক না।
- তুমি একটা ভুল করেছ। এর মানে এই না যে তুমি খারাপ। চলো, দুজনে মিলে ঠিক করি।
- সত্যি বলার জন্য ধন্যবাদ। বলতে সাহস লাগে।
- পরের বার কিছু খুব চাইলে আমাকে এসে বলবে, আমরা মিলে একটা উপায় বের করব।
জিনিস ফেরত দেওয়া আর ক্ষতি পোষানো: কীভাবে সাহায্য করবেন
যা নিয়েছে তা ফেরত দেওয়া আর ক্ষতিটা পুষিয়ে দেওয়া যেকোনো লম্বা উপদেশের চেয়ে বেশি শেখায়; ভুল শোধরানোটা সম্ভব করে দিন, অপমানের নয়।
- বাসায়: জিনিসটা মালিকের কাছে ফেরত যাবে, ভাইবোন, কাজিন বা আপনি যে-ই হোক, সঙ্গে ছোট্ট একটা সরি।
- স্কুলে: বাচ্চা নিজে ফেরত নিয়ে যাবে, আর ক্লাস টিচারকে ছোট একটা মেসেজ দিলে জিনিসটা চুপচাপ মালিকের কাছে পৌঁছে যায়।
- দোকান থেকে: একসঙ্গে ফিরে যান। বাচ্চা নিজের হাতে ফেরত দেবে আর সরি বলবে; পরিবেশ শান্ত রাখতে আপনি আগে দোকানদারের সঙ্গে একটু কথা বলে নিতে পারেন।
- খেয়ে ফেললে, ব্যবহার করলে বা ভেঙে গেলে: বাচ্চা হাতখরচ থেকে দাম শোধ করবে, বা বাসার বাড়তি কাজ করে পুষিয়ে দেবে, বয়স অনুযায়ী অল্প অল্প করে।
- তারপর বিষয়টা শেষ। বারবার মনে করিয়ে দেবেন না, বিশেষ করে অন্যদের সামনে, যাতে বাচ্চা নিজেকে এমন একজন ভাবতে পারে, যে ভুল ঠিক করতে জানে।
বাচ্চা মায়ের টাকা নেয়, মানিব্যাগ থেকে টাকা সরায়: কী করবেন?
বাবা-মায়ের মানিব্যাগ, ব্যাগ বা ড্রয়ার থেকে টাকা নেওয়া স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের খুব সাধারণ একটা ঘটনা। মনে হতে পারে বাচ্চা আপনার বিশ্বাস ভেঙেছে, কিন্তু সাধারণত এর পেছনে থাকে কোনো চাওয়া, আপনার প্রতি রাগ নয়।
- আপাতত টাকা চোখের আড়ালে আর নাগালের বাইরে রাখুন। এটা শাস্তি নয়; বাচ্চা শেখার সময়টায় রোজকার লোভটা সরিয়ে রাখা।
- যা জানেন তা বলে শান্তভাবে কথা শুরু করুন: “এই সপ্তাহে দুইবার আমার মানিব্যাগ থেকে টাকা কম পড়েছে। চলো, দুজনে মিলে বিষয়টা মিটিয়ে ফেলি।”
- জেনে নিন টাকাটা কিসের জন্য: স্কুলে নাশতা, গেমের টপ-আপ, কারও জন্য উপহার, বন্ধুর ধার শোধ, নাকি কেউ টাকা চাইছে।
- একসঙ্গে ঠিক করুন টাকাটা কীভাবে শোধ হবে, অল্প অল্প করে, হাতখরচ থেকে বা বাড়তি কাজ করে।
- আসল দরকারটা অন্যভাবে মেটান। নিয়মিত অল্প হাতখরচ, যা বাচ্চা নিজে সামলাবে, প্রায়ই কাজে দেয়; পড়ুন হাতখরচ আর ঈদের সালামি।
- টাকা গেমে গেলে একসঙ্গে সীমা ঠিক করুন, আর ফোনে অ্যাপের ভেতরে কেনাকাটা বন্ধ করুন; পড়ুন অনলাইন গেমে আসক্তি।
বেশি টাকা বারবার উধাও হলে, বা বাচ্চাকে ভীত মনে হলে, নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন কেউ তার কাছে জোর করে টাকা চাইছে কি না। বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। ভয় দেখিয়ে বা জোর করে টাকা নেওয়া হলে স্থানীয় থানাতেও জানাতে পারেন।
বড় বাচ্চা দোকান থেকে জিনিস নিলে: ১০ থেকে ১৪ বছরে কী আলাদা?
বড় বাচ্চারা সাধারণত জানে চুরি করা ভুল, তাই ১০ থেকে ১৪ বছরের সন্তান কিছু নিলে দেখুন পেছনে কী আছে: বন্ধুরা, বাজি, অন্যদের সঙ্গে তাল মেলানো, টাকার টানাটানি, বা কখনো কখনো আরও বড় কোনো সমস্যা।
- শান্ত থাকুন, কিন্তু পরিষ্কার করে বলুন: এটা আর চলবে না, আর ভুলটা সে নিজেই শোধরাবে: দোকানে ফিরে যাওয়া, টাকা শোধ করা, আর কিছুদিন একা একা কেনাকাটা কম।
- বন্ধুদের আক্রমণ না করে তাদের নিয়ে কথা বলুন: “তুমি যদি ‘না’ বলতে, কী হতো?” “না” বলার একটা কথা আগে থেকে অনুশীলন করুন, বা আপনার ঘাড়ে দোষ দিতে দিন: “আম্মু সব খেয়াল করে।”
- ধাপে ধাপে ভরসা ফেরান; বাচ্চা যত ভরসার যোগ্য হবে, স্বাধীনতাও তত বাড়বে। মিথ্যার বেলাতেও একই পথ কাজে দেয়; পড়ুন বাচ্চা কেন মিথ্যা বলে।
- বড় কোনো সমস্যার লক্ষণ খেয়াল করুন, যেমন ব্যাখ্যা নেই এমন টাকা, ফোন নিয়ে গোপনীয়তা, বা মাদক বা অ্যালকোহলের লক্ষণ; এমন হলে সেদিনই ব্যবস্থা নিন।
আমাদের বাসায়: গৃহকর্মী, কাজিন, ঈদের সালামি আর পাড়ার দোকান
কিছু ঘটনা আমাদের বাসায় বিশেষ করে বেশি দেখা যায়, আর সহানুভূতির সঙ্গে সামলালে সবাই সুরক্ষিত থাকে, আপনার বাচ্চাও।
- টাকা উধাও হলে না জেনে গৃহকর্মী বা অন্য কাউকে দোষ দেবেন না। কাজটা বাচ্চার হলে নিশ্চিত করুন অন্য কেউ যেন দোষের ভাগী না হয়।
- আত্মীয়ের বাসা: বেড়িয়ে ফেরার পর কাজিনের খেলনা ব্যাগে চলে আসা ৩ থেকে ৭ বছরে খুবই সাধারণ। ছোট্ট একটা সরিসহ ফেরত দিন; সবার সামনে হইচই করবেন না।
- ঈদের সালামি: হঠাৎ হাতে অনেক টাকা এলে বাচ্চা লুকিয়ে খরচ করতে পারে, বা ভাবতে পারে বাসায় পড়ে থাকা টাকাও নেওয়া যায়। সালামির টাকা দিয়ে কী হবে, একসঙ্গে ঠিক করুন।
- টিফিনের টাকা আর কোচিংয়ের বেতন: বড় বাচ্চা নাশতা না খেয়ে বা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে টাকাটা রেখে দিতে পারে। শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন, টাকাটা কিসের জন্য দরকার ছিল।
- পাড়ার মুদি দোকান: ছোট বাচ্চা হয়তো একটা চকলেট বা চিপসের প্যাকেট তুলে নেয়। তখনই দাম দিয়ে দিন বা ফেরত দিন, আর এক কথায় কারণটা বলুন।
- মুরুব্বিরা: কোনো আত্মীয় হয়তো চড়-থাপ্পড় বা সবার সামনে বকুনির কথা বলবেন, কারণ তাঁরা নিজেরা এভাবেই বড় হয়েছেন। তাঁর চিন্তার জন্য ধন্যবাদ দিয়েও আপনি বিষয়টা শান্তভাবে, আড়ালে সামলাতে পারেন।
বাচ্চা কিছু নেওয়ার পর ৭ দিনের পরিকল্পনা
প্রতি সন্ধ্যায় এক লাইন লিখুন: কিছু নিয়েছে বা ফেরত দিয়েছে কি না, পেছনে কী ছিল বলে মনে হয়, আপনি কী করলেন, আর বাচ্চা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাল।
- দিন ১: নিশ্চিত করুন জিনিসটা ফেরত গেছে, বা ক্ষতি পোষানোর উপায় ঠিক হয়েছে। পেছনে কী ছিল বলে মনে হয়, লিখে রাখুন।
- দিন ২: টাকা আর লোভ লাগার মতো জিনিস নাগালের বাইরে সরিয়ে রাখুন, ঘটা করে ঘোষণা না দিয়ে।
- দিন ৩: শান্ত কোনো সময়ে পেছনের চাওয়াটা নিয়ে কথা বলুন, আর পরের বার বাচ্চা কী করতে পারে, একসঙ্গে ঠিক করুন।
- দিন ৪: বাচ্চার বয়সের সঙ্গে মানালে নিয়মিত অল্প হাতখরচ, বা টাকা জমানোর একটা মাটির ব্যাংক শুরু করুন।
- দিন ৫: বাসায় আগে চেয়ে নেওয়ার অভ্যাস করুন: কলম, খেলনা বা চার্জার ধার নিয়ে আবার ফেরত দেওয়া।
- দিন ৬: যত ছোটই হোক, সততার একটা মুহূর্তের মুখে প্রশংসা করুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। নতুন করে কিছু নিয়েছে? কথা বলা কি সহজ হয়েছে? যা কাজে দিল, তা চালিয়ে যান; তখনো চলতে থাকলে সাহায্য নিন।
সন্তান চুরির অভ্যাস করলে কখন চিন্তা করবেন?
বড়রা শান্তভাবে সামলালে আর ভুল শোধরাতে সাহায্য করলে বেশিরভাগ বাচ্চা বড় হতে হতে এটা ছেড়ে দেয়। তবে এই লক্ষণগুলো দেখলে বাচ্চার ডাক্তার, স্কুল বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন।
এসব দেখলে সাহায্য নিন
- শান্ত আর ধারাবাহিকভাবে সামলানোর পরও কয়েক মাস ধরে বাসায় বা স্কুলে বারবার চুরি চলছে।
- চুরির সঙ্গে ঘন ঘন মিথ্যা, মানুষ বা পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা, ইচ্ছা করে জিনিস ভাঙা, বা মেজাজ, বন্ধু, ঘুম কিংবা স্কুলে অন্য বড় পরিবর্তন।
- শান্তভাবে অন্যজনের কষ্টের কথা বললেও বাচ্চার একটুও খারাপ লাগে না বলে মনে হয়।
- কেউ হয়তো বাচ্চাকে চাপ দিচ্ছে: বয়সে বড় কোনো ছেলেমেয়ে, কোনো দল বা কোনো বড় মানুষ টাকা বা জিনিস চাইছে, হুমকি দিচ্ছে, বা ব্যাখ্যা নেই এমন উপহার আসছে। বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। কোনো বড় মানুষ জড়িত থাকলে বা হুমকি থাকলে স্থানীয় থানায় জানান; বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- মাদক বা অ্যালকোহলের লক্ষণের সঙ্গে বারবার টাকা বা জিনিস উধাও হচ্ছে: সেদিনই সাহায্য নিন।
- চুরির আড়ালে মন খারাপ, দুশ্চিন্তা, বা বাসার কোনো বড় পরিবর্তন আছে বলে মনে হয়, যেমন নতুন ভাইবোন, বা বাবা-মায়ের কেউ দূরে কাজ করছেন।
সততা গড়ে ওঠে ছোট ছোট, বারবার ঘটা মুহূর্তে, যা সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
৪ বছরের বাচ্চা না বলে অন্যের জিনিস নেয়, এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, খুবই সাধারণ। ৩–৪ বছরের বাচ্চারা এখনো মালিকানার মানে শিখছে, আর নিজেকে সামলানোর ক্ষমতাও কম, তাই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই বন্ধুর খেলনা বা দোকানের চকলেট পকেটে চলে আসতে পারে। শান্তভাবে একসঙ্গে ফেরত দিন, সহজ কথায় নিয়মটা বলুন, আর আগে চেয়ে নেওয়ার অভ্যাস করান। বড়দের অর্থে এটা চুরি নয়।
শিশু কেন চুরি করে, যখন তার সব কিছুই আছে?
চুরি খুব কমই অভাবের জন্য হয়। বাচ্চারা নেয় ঝোঁকের বশে, বন্ধুদের যা আছে তা পেতে, দলে মিশতে বা বড় দেখাতে, হিংসা বা মন খারাপ থেকে, বা মনোযোগ পেতে। শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন কেন নিতে ইচ্ছা হলো, আর শুনুন। উত্তরই বলে দেবে কোথায় কাজ করতে হবে: আত্মনিয়ন্ত্রণ, অল্প হাতখরচ, বন্ধুত্বের দুশ্চিন্তা, নাকি আপনার সঙ্গে আরও সময়।
চুরি করলে বাচ্চাকে কি শাস্তি দেওয়া উচিত?
কঠোর শাস্তি, মারধর বা লজ্জা দেওয়া সাধারণত উল্টো ফল দেয়: বাচ্চা থামে না, আরও ভালো করে লুকাতে শেখে। ঘটনার সঙ্গে মিল আছে এমন ন্যায্য ব্যবস্থাই বেশি কাজে দেয়: জিনিস ফেরত দেওয়া, সরি বলা, আর হাতখরচ বা বাড়তি কাজ দিয়ে শোধ করা। তারপর বিষয়টা শেষ করুন। শান্ত থাকুন, আড়ালে কথা বলুন, আর বাচ্চা নিজে স্বীকার করলে প্রশংসা করুন।
বাচ্চা স্কুল থেকে অন্যের জিনিস নিয়ে এসেছে, এখন কী করব?
জিনিসটা যেন চুপচাপ ফেরত যায়, সেই ব্যবস্থা করুন। শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন কীভাবে এল: ছোট বাচ্চারা প্রায়ই ভুল করে নিয়ে আসে, বা বন্ধুর সঙ্গে অদলবদল করে। পরদিন বাচ্চাই ফেরত নিয়ে যাক; মালিক কে তা পরিষ্কার না হলে ক্লাস টিচারকে ছোট একটা মেসেজ দিন। আগে চেয়ে নেওয়ার অভ্যাস করান, আর এক-দুই সপ্তাহ একসঙ্গে স্কুলব্যাগ দেখে নিন।
বাচ্চা দোকান থেকে জিনিস নিয়ে এসেছে, তাকে কী বলব?
ছোট করে, শান্তভাবে বলুন: “এটা দোকানের, আমরা দাম দিইনি, তাই চলো ফেরত দিয়ে আসি।” যত তাড়াতাড়ি পারেন একসঙ্গে যান; বাচ্চা নিজের হাতে ফেরত দেবে আর সরি বলবে, আপনি পাশে থাকবেন। বাসায় ফিরে লজ্জা না দিয়ে জিজ্ঞেস করুন কেন এমন করল। একবারের ভুলে আপনার বাচ্চা চোর হয়ে যায় না।
বারবার চুরি করা কি কোনো মানসিক রোগের লক্ষণ?
প্রায় কখনোই না। বাচ্চাদের বেশিরভাগ চুরি বড় হওয়ার একটা ধাপ, বা কোনো চাওয়া কিংবা কষ্টের লক্ষণ, কোনো রোগ নয়: তারা নিয়ম শিখছে, ঝোঁকের বশে নিচ্ছে, বা কোনো চাওয়া বা দুশ্চিন্তা মেটাতে চাইছে। খুব কম ক্ষেত্রে মাসের পর মাস শান্ত, সত্যিকারের সাহায্যের পরও বাচ্চা থামতে পারে না; ডাক্তার বা শিশু-মনোবিজ্ঞানী সেটা যাচাই করে দেখতে পারেন। কয়েক মাস ধরে চুরি চললে, বা এর সঙ্গে অন্য বড় পরিবর্তন থাকলে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




