মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চার টয়লেট ট্রেনিং কখন শুরু করবেন: প্রস্তুতির লক্ষণ আর সহজ পরিকল্পনা

ছোট করে উত্তর

বাচ্চার টয়লেট ট্রেনিং কখন শুরু করবেন, তা বয়স দেখে নয়, প্রস্তুতির লক্ষণ দেখে ঠিক করুন; বেশির ভাগ বাচ্চার মধ্যে এই লক্ষণ দেখা যায় মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে। যেমন: এক-দুই ঘণ্টা ডায়াপার শুকনো থাকা, ভেজা ডায়াপার টের পাওয়া। নিয়মিত পটিতে বসান, শান্তভাবে প্রশংসা করুন, আর মাঝে মাঝে প্যান্ট ভিজবে ধরে নিন। রাতে শুকনো থাকা সাধারণত আসে অনেক পরে।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১২ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ৪ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা: প্রথম পটি থেকে শুকনো দিন পর্যন্ত
মূল কথা
  • বয়স বা আত্মীয়দের হিসাব দেখে নয়, বাচ্চার মধ্যে প্রস্তুতির দুই-তিনটা লক্ষণ দেখলে শুরু করুন।
  • অল্প সময়ের নিয়মিত পটিতে বসা, সবার মুখে একই শব্দ আর শান্ত প্রশংসা সাধারণত চাপ দেওয়ার চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
  • মাঝে মাঝে প্যান্ট ভেজানো শেখারই অংশ। শান্তভাবে পরিষ্কার করুন; কখনো লজ্জা বা শাস্তি দেবেন না।
  • ব্যথা, রক্ত, অনেক দিন ধরে শক্ত পায়খানা, বা শুকনো থাকা বাচ্চা অন্য লক্ষণসহ আবার ভেজাতে শুরু করলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

বাচ্চার টয়লেট ট্রেনিং কখন শুরু করবেন, এই চিন্তাটা অনেক সময় একটা পরীক্ষার মতো লাগে, যেখানে আপনাকে নম্বর দেওয়া হচ্ছে — বিশেষ করে যখন বাসার কোনো মুরুব্বি বলেন, তাঁর বাচ্চারা ২ বছরের অনেক আগেই ডায়াপার ছেড়েছিল। আসল কথাটা আরও স্বস্তির: একেক বাচ্চা একেক বয়সে প্রস্তুত হয়, আর বাচ্চা প্রস্তুত হলে শুরু করলে সাধারণত সময়ও কম লাগে, প্যান্ট ভেজানোও কম হয়।

নিচে পাবেন: কখন শুরু করবেন আর প্রস্তুতির লক্ষণ, ধাপে ধাপে পরিকল্পনা, কী বলবেন, কত দিন লাগে, প্যান্ট ভেজানো আর রাতের কথা, লো কমোড আর ব্যস্ত পরিবার, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন ডাক্তার দেখাবেন।

বাচ্চার টয়লেট ট্রেনিং কখন শুরু করবেন: প্রস্তুতির লক্ষণ

প্রস্তুতি মানে শরীর আর মন দুটোই তৈরি হওয়া, ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়। বাচ্চা হয়তো প্রস্তুত, যদি:

  • মোটামুটি দুই ঘণ্টা ডায়াপার শুকনো থাকে, বা দুপুরের ঘুম থেকে শুকনো অবস্থায় ওঠে।
  • প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে পায়খানা করে।
  • ভেজা বা নোংরা ডায়াপার টের পায়, টানাটানি করে, বা পটি করার সময় চুপচাপ কোনো কোণে চলে যায়।
  • বাসার কেউ টয়লেটে গেলে কৌতূহল দেখায়।
  • হেঁটে পটির কাছে যেতে পারে, এক-দুই মিনিট বসতে পারে, আর একটু সাহায্য নিয়ে প্যান্ট নামাতে-ওঠাতে পারে।
  • ‘জুতাটা নিয়ে এসো’-র মতো ছোট, এক ধাপের কথা বুঝে করতে পারে।
  • হিসু-পটি পেলে বোঝানোর মতো কোনো শব্দ, আওয়াজ বা ইশারা আছে।

সব লক্ষণ লাগবে না; দুই-তিনটা লক্ষণ আর বাচ্চার আগ্রহ থাকলেই চেষ্টা শুরু করা যায়। বেশির ভাগ বাচ্চার মধ্যে এগুলো দেখা যায় মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে। এই বয়সে নিজে করার যে জেদ, তা এখানে কাজে লাগে (দেখুন ২ বছরের বাচ্চার জেদ ও আচরণ): বাচ্চাকে নিজের প্যান্ট নিজে নামাতে আর নিজে ফ্লাশ করতে দিন।

শিশুর টয়লেট প্রশিক্ষণের নিয়ম: ধাপে ধাপে

ডায়াপার বা ন্যাপি ছাড়ানোর উপায় হিসেবে নিচের ধাপগুলো বেশির ভাগ পরিবারের জন্য কাজের, পটি বা টয়লেটে বাচ্চাদের সিট যেটাই ব্যবহার করুন:

  1. আগে প্রস্তুতি। বাথরুমে একটা পটি রাখুন, বাচ্চাকে জামাকাপড় পরেই এতে বসতে দিন, আর হিসু-পটির জন্য বাসার সবাই একই শব্দ বলবেন বলে ঠিক করুন।
  2. করে দেখান। পরিবারের কাছে সহজ মনে হলে বাচ্চাকে মা-বাবা বা বড় ভাইবোনকে টয়লেট ব্যবহার করতে দেখতে দিন, আর পটি নিয়ে ছবির বই পড়ুন।
  3. শান্ত একটা সময় বেছে নিন: বাসা বদল, নতুন ভাইবোন, অসুখ বা লম্বা সফরের সময় নয়।
  4. দিনের বেলা বাসায় ডায়াপারের বদলে প্যান্ট পরান, সহজে খোলা যায় এমন কাপড়, যেমন ইলাস্টিকের প্যান্ট।
  5. নির্দিষ্ট সময়ে অল্প সময়ের জন্য বসান: ঘুম থেকে উঠে, খাওয়ার পরে, বাইরে যাওয়ার আগে, গোসলের আগে আর রাতে ঘুমানোর আগে। দুই থেকে পাঁচ মিনিটই যথেষ্ট।
  6. ফলাফল নয়, চেষ্টার প্রশংসা করুন: ‘তুমি পটিতে বসেছ!’ প্রশংসা হোক উষ্ণ কিন্তু ছোট; বড় পুরস্কার উল্টো চাপ বাড়াতে পারে।
  7. পুরো রুটিনটা শেখান: পানি দিয়ে ধোয়া বা মোছা, ফ্লাশ করা, তারপর প্রতিবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।

যা বলতে পারেন

  • হিসু হবে পটিতে। চলো, একবার চেষ্টা করি।
  • তুমি নিজে নিজে পটিতে বসেছ!
  • ওহ হো, প্যান্ট ভিজে গেছে। কোনো সমস্যা নেই। চলো, বদলে নিই।
  • তোমার শরীর বলছে হিসু পেয়েছে। চলো যাই।
  • আগে পটি, তারপর আমরা নিচে যাব।
  • এবার সাবান দিয়ে হাত ধুই। ঘষো, ঘষো, ঘষো!

ছেলে আর মেয়ে বাচ্চার পটি ট্রেনিং

পরিকল্পনার বেশির ভাগই এক। অনেক ছেলে বাচ্চা প্রথমে হিসু-পটি দুটোই বসে করতে শেখে, দাঁড়িয়ে করা আসে পরে, প্রায়ই বাবা বা বড় ভাইকে দেখে। মেয়ে বাচ্চাকে সামনে থেকে পেছনের দিকে ধোয়া বা মোছা শেখান। গড়ে ছেলেরা প্রায়ই একটু দেরিতে শেখে, তবে যে কোনো দুটো বাচ্চার মধ্যে পার্থক্য সাধারণত এর চেয়ে অনেক বেশি।

টয়লেট ট্রেনিংয়ে কত দিন লাগে?

বেশির ভাগ বাচ্চার দিনের বেলা মোটামুটি শুকনো থাকতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে। পায়খানার অভ্যাস প্রায়ই প্রস্রাবের চেয়ে বেশি সময় নেয়, আর বাইরে গেলে শুকনো থাকা আসে আরও পরে। বাচ্চা প্রস্তুত হওয়ার আগে শুরু করলে পুরো ব্যাপারটা সাধারণত ছোট হয় না, বরং লম্বা হয়।

রাতে শুকনো থাকা আসে পরে

রাতে শুকনো থাকা শেখার চেয়েও বেশি নির্ভর করে শরীর পরিণত হওয়ার ওপর, তাই এটা প্রায়ই দিনের বেলার কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পরে আসে; অনেক বাচ্চা মোটামুটি ৫ বছর বা তারও পরে পর্যন্ত মাঝে মাঝে বিছানা ভেজায়। টানা দুই সপ্তাহ সকালে শুকনো না পাওয়া পর্যন্ত রাতে ডায়াপার রাখুন, ঘুমের আগের শান্ত রুটিনে একবার হিসু করানো যোগ করুন, আর রাতে জাগিয়ে বা বকে ‘শেখানোর’ চেষ্টা করবেন না।

দিনে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে, বা শেখার পর আবার ভেজায়: কী করবেন

মাঝে মাঝে প্যান্ট ভেজানো শেখারই অংশ, অবাধ্যতা নয়। হইচই না করে একসঙ্গে পরিষ্কার করুন (‘হিসু হবে পটিতে। চলো, বদলে নিই।’), আর কখনো লজ্জা দেবেন না, বকবেন না, শাস্তি দেবেন না, বাচ্চার সামনে অন্যদের কাছে বলবেনও না। লজ্জা পেলে বাচ্চারা প্রায়ই ভেজা প্যান্ট লুকায় বা চেপে রাখে, আর তাতে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

ভালোই শিখছিল এমন বাচ্চা আবার প্যান্ট ভেজাতে শুরু করলে, তাকে বলে পিছিয়ে যাওয়া। নতুন ভাইবোন আসা, ডে-কেয়ারে যাওয়া শুরু, বাসা বদল, অসুখ বা বেড়াতে যাওয়ার পর এটা খুব সাধারণ। এক ধাপ পিছিয়ে যান: আরও বেশি মনে করিয়ে দেওয়া, আরও বেশি প্রশংসা, কোনো লজ্জা নয়। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে আসে; সঙ্গে ব্যথা বা অন্য লক্ষণ থাকলে শেষের তালিকাটা দেখুন।

বাচ্চা পায়খানা চেপে রাখলে

কখনো পায়খানা করতে ব্যথা পেলে বাচ্চা পরের বার চেপে রাখতে পারে, আর তাতে পায়খানা আরও শক্ত আর বেশি ব্যথার হয়। প্রচুর পানি, ফল, সবজি আর দৌড়ঝাঁপের খেলা সাধারণত পায়খানা নরম রাখতে সাহায্য করে; সহজ কিছু আইডিয়া পাবেন ছোট বাচ্চার খাবারের আইডিয়া লেখায়। শক্ত পায়খানা বা চেপে রাখা এক-দুই সপ্তাহের বেশি চললে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

বাংলাদেশি পরিবারে: লো কমোড, পানি আর দাদা-দাদি

পটি, লো কমোড না হাই কমোড

অনেক বাসায় লো কমোড (প্যান), হাই কমোড, বা দুটোই থাকে। ছোট পটি যে কোনো জায়গায় চলে, আর শুরুতে সাধারণত এটাই সবচেয়ে সহজ; পরে টয়লেটে ঢেলে দিলেই হয়। হাই কমোডে বাচ্চাদের সিট আর একটা মজবুত টুল দিলে ছোট বাচ্চা নিরাপদ বোধ করে। লো কমোডে বাচ্চা নিজে ঠিকমতো বসতে না পারা পর্যন্ত তার হাত দুটো ধরে রাখুন, আর কখনো একা রেখে যাবেন না।

পানি দিয়ে ধোয়া আর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া

বেশির ভাগ বাংলাদেশি পরিবারে বদনা বা হ্যান্ড শাওয়ার দিয়ে পানি নিয়ে পরিষ্কার হওয়ার চল। প্রথম দিন থেকেই এটা রুটিনের অংশ করে নিন: সামনে থেকে পেছনে ধোয়া, তারপর মুছে শুকানো। পটির পাশে একটা ছোট মগ রাখুন, আর প্রতিবার শেষ করুন সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, একটা ছোট ছড়া গাইতে যতক্ষণ লাগে ততক্ষণ।

দাদা-দাদি বা নানা-নানি যখন তাড়াতাড়ি চান

অনেক দাদা-দাদি বা নানা-নানি খুব ছোট বয়সেই নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চাকে ধরে টয়লেটে বসিয়ে অভ্যাস করাতেন, তাই তাঁদের মনে হতে পারে ২ বছর তো দেরি। তাঁদের পদ্ধতি প্রায়ই সময় বুঝে কাজ করত, আর তাঁদের সাহায্য অনেক মূল্যবান। বলতে পারেন: ‘আম্মা, এক মাস ওর লক্ষণগুলো দেখে চেষ্টা করি, আর সবাই একই শব্দ বলি?’ তারপর তাঁদেরও চেষ্টার প্রশংসা করতে অনুরোধ করুন।

গৃহকর্মী, লম্বা যাত্রা আর বড় পারিবারিক অনুষ্ঠান

গৃহকর্মী বাচ্চাকে দেখলে তাঁকে পুরো পরিকল্পনাটা বুঝিয়ে দিন: কোন শব্দ, কখন বসানো, শান্তভাবে পরিষ্কার করা আর হাত ধোয়া। গ্রামের বাড়িতে বাস, লঞ্চ বা ট্রেনে লম্বা যাত্রা, কিংবা বিয়ে বা গায়েহলুদের দিন সঙ্গে রাখুন বাড়তি কাপড়, একটা পলিথিন ব্যাগ, ভেজা টিস্যু, পানি, আর ভাঁজ করা যায় এমন পটি বা সিট। যাত্রার জন্য প্যান্ট-ডায়াপার পরানোয় দোষ নেই; বাসায় ফিরে আবার প্যান্ট পরান, আর বড় অনুষ্ঠানের পর কয়েকবার প্যান্ট ভিজলে অবাক হবেন না।

টয়লেট ট্রেনিং শুরুর ৭ দিনের পরিকল্পনা

একবারে একটা পরিবর্তন করুন, প্রতিদিন কী হচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। বাচ্চা কখন হিসু আর পটি করে, আর প্রস্তুতির কোন লক্ষণগুলো দেখছেন, লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: পটিটা নিয়ে আসুন। জামাকাপড় পরেই বসান, একটা বই পড়ুন, আর গৃহকর্মীসহ সবার সঙ্গে শব্দগুলো ঠিক করে নিন।
  3. দিন ৩: সকালে বাসায় ডায়াপারের বদলে প্যান্ট, ঘুম থেকে উঠে আর নাশতার পরে পটিতে বসা।
  4. দিন ৪: দুপুরের খাবারের পরে আর গোসলের আগেও বসান, আর ধোয়া ও হাত ধোয়ার চর্চা করুন।
  5. দিন ৫: অল্প সময়ের জন্য বাইরে যান: বের হওয়ার আগে একবার হিসু, ব্যাগে বাড়তি কাপড়।
  6. দিন ৬: নোটগুলো দেখুন, আর বাচ্চা সাধারণত যে সময়ে করে, সেই অনুযায়ী বসানোর সময় বদলে নিন।
  7. দিন ৭: তৃতীয় দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: পটিতে বেশি হচ্ছে, প্যান্ট কম ভিজছে? প্রতিবারই যদি টানাটানি হয়, দুই-তিন সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার চেষ্টা করুন।

কখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন

টয়লেট ট্রেনিংয়ের বেশির ভাগ ঝামেলাই শেখার অংশ। তবে নিচের কোনোটা হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন:

এমন হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন

  • হিসু বা পায়খানা করতে ব্যথা লাগে, জ্বালা করে, বা বাচ্চা কাঁদে।
  • প্রস্রাব বা পায়খানায় রক্ত দেখেন।
  • এক-দুই সপ্তাহের বেশি ধরে পায়খানা শক্ত আর ব্যথার, বা বাচ্চা চেপে রাখে।
  • কয়েক মাস শুকনো থাকা বাচ্চা আবার ভেজাতে শুরু করেছে, সঙ্গে অস্বাভাবিক পিপাসা, অনেক বেশি বার প্রস্রাব, ক্লান্তি, ওজন কমা, জ্বর বা ব্যথা: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • সারাক্ষণ ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে বা কাপড় ভেজা থাকে, অথবা ৪ বছরের বেশ পরেও প্রায় প্রতিদিন দিনের বেলা প্যান্ট ভেজায়।
  • টয়লেট নিয়ে বাচ্চার খুব ভয়, আর তা কমছে না, অথবা এর সঙ্গে আগে পারত এমন অন্য দক্ষতাও হারিয়ে ফেলছে।

ParentMind-এ প্রতিদিনের পটির সময়, সফল চেষ্টা আর প্যান্ট ভেজানো নোট করে রাখতে পারেন, যাতে বারবার কী হচ্ছে দেখে বসানোর সময়গুলো বদলে নিতে পারেন; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

টয়লেট ট্রেনিং শুরুর সবচেয়ে ভালো বয়স কোনটা?

নির্দিষ্ট কোনো ‘সবচেয়ে ভালো’ বয়স নেই: ভালো সময় হলো যখন বাচ্চার মধ্যে প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা যায়, বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে যা মোটামুটি ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে। আগে শুরু করা যায়, তবে সাধারণত সময় বেশি লাগে আর বড়দের অনেক বেশি খাটতে হয়। ৩ বছরের পরও কোনো আগ্রহ না দেখালে পরের চেকআপে ডাক্তারকে জানান।

বাচ্চা পটিতে বসতে চায় না, কী করব?

চাপ সরিয়ে নিন। এক-দুই সপ্তাহ বলা বন্ধ রাখুন, জামাকাপড় পরেই বই বা খেলনা নিয়ে বসতে দিন, আর বাসার অন্যদের টয়লেট ব্যবহার করতে দেখতে দিন। কোনো কোনো বাচ্চা বড় টয়লেটে বাচ্চাদের সিট পছন্দ করে, বা দাঁড়িয়ে হিসু করতে চায়। আবার শুরু করলে বসার সময় ছোট রাখুন, আর যে কোনো চেষ্টার প্রশংসা করুন।

টয়লেট ট্রেনিং হয়ে যাওয়ার পরও বাচ্চা প্যান্ট ভেজালে কি সেটা স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, কিছুদিন। অনেক বাচ্চা মাসের পর মাস মাঝে মাঝে প্যান্ট ভেজায়, বিশেষ করে খেলায় মগ্ন থাকলে, ক্লান্ত বা অসুস্থ হলে, বা নতুন জায়গায় গেলে। বাইরে যাওয়ার আগে আর খাওয়ার পরে মনে করিয়ে দিন, আর শান্ত থাকুন। সঙ্গে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা অস্বাভাবিক পিপাসা থাকলে, বা কয়েক মাস শুকনো থাকার পর অন্য বদলের সঙ্গে আবার শুরু হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

টয়লেট ট্রেনিংয়ের সময় ডায়াপার পরাব, না সাধারণ প্যান্ট?

দিনের বেলা বাসায় সাধারণ প্যান্টই সাধারণত বেশি কাজে দেয়, কারণ বাচ্চা ভেজা ভাবটা টের পায় আর পটির সঙ্গে মেলাতে শেখে। দুপুরের ঘুম, রাত, লম্বা যাত্রা আর বড় পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্যান্ট-ডায়াপার কাজের। বাইরে গেলে বদলে নেওয়ায় দোষ নেই, যতক্ষণ বাসার দিনগুলো প্যান্টেই কাটে।

বাচ্চা রাতে কবে থেকে শুকনো থাকবে?

সাধারণত দিনের চেয়ে পরে, কখনো অনেক পরে। রাতে শুকনো থাকা নির্ভর করে শরীর পরিণত হওয়ার ওপর, তাই অনেক বাচ্চা মোটামুটি ৫ বছর বা তারও পরে পর্যন্ত মাঝে মাঝে বিছানা ভেজায়। টানা দুই সপ্তাহ সকালে শুকনো না পাওয়া পর্যন্ত রাতে ডায়াপার রাখুন, ঘুমের আগে একবার হিসু করান, আর বকাঝকা করবেন না। ৫ বছরের বেশ পরেও রাতে ভেজালে, বা কয়েক মাস শুকনো থাকার পর আবার শুরু হলে চেকআপে ডাক্তারকে জানান।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ছোট্ট শিশু (১–৩ বছর): আরও গাইড

ছোট্ট শিশু: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।