বাচ্চা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না? কান্নাকাটি ছাড়া অভ্যাস গড়ার উপায়
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না? দিনে দুবার ব্রাশ চালিয়ে যান, তবে ছোট, শান্ত আর মজার করে: বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন, পালা করে ব্রাশ করুন, গান গেয়ে একসঙ্গে ব্রাশ করুন। ৩ বছরের নিচে চালের দানার মতো একটু ফ্লোরাইড টুথপেস্ট, ৩ বছরের আশপাশ থেকে মটরদানার সমান। সাধারণত ৭–৮ বছর পর্যন্ত বড়দের সাহায্য লাগে। ব্যথা, ফোলা বা কালো দাগ দেখলে দাঁতের ডাক্তার দেখান।
লেখাটি শুনুন
১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ২–৮ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা, যাদের বাচ্চা ব্রাশের সময় কাঁদে, মুখ চেপে বন্ধ রাখে বা দৌড়ে পালায়
- মূল কথা
- দিনে দুবার ব্রাশ, সকালে আর রাতে একদম শেষে, মোটামুটি দুই মিনিট করে; ৭–৮ বছর পর্যন্ত শেষটা করে দেবেন বড়রা।
- ৩ বছরের নিচে চালের দানার সমান একটু ফ্লোরাইড টুথপেস্ট, আর ৩ বছরের আশপাশ থেকে মটরদানার সমান।
- জোরাজুরির চেয়ে সাধারণত বেশি কাজে দেয় বেছে নেওয়ার সুযোগ, পালা করে ব্রাশ, গান আর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ব্রাশ।
- মিষ্টি মূলত খাবারের সময়ে রাখা আর বিছানায় ফিডার না দেওয়া, ব্রাশের পাশাপাশি এগুলোও দাঁত রক্ষা করে।
বাচ্চা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না, ব্রাশ দেখলেই যুদ্ধ শুরু: ঠোঁট চেপে বন্ধ, মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া, বেসিনের সামনে কান্না, বা ব্রাশ হাতে নিতেই হঠাৎ বাথরুমে যাওয়ার তাড়া। ২ থেকে ৮ বছর বয়সে দাঁত ব্রাশ নিয়ে টানাটানি প্রতিদিনের সবচেয়ে চেনা ঝামেলাগুলোর একটা, আর এর মানে এই নয় যে আপনি ভুল কিছু করছেন।
যেসব বাচ্চা ব্রাশ করতে চায় না, তাদের বেশির ভাগই দুষ্টুমি করছে না। তারা একটু নিজের নিয়ন্ত্রণ চায়, স্বাদ বা অনুভূতিটা পছন্দ করে না, বা রাতে শুধু খুব ক্লান্ত থাকে। শান্ত একটা রুটিন, একটু খেলা আর ঠিক মাপের টুথপেস্ট দিয়ে অনেক পরিবার দাঁত ব্রাশকে দিনের একটা ছোট, স্বাভাবিক কাজে পরিণত করতে পারে।
নিচে পাবেন: বাচ্চা কেন ব্রাশ করতে চায় না, ঠিক তখন কী করবেন, যে খেলাগুলো কাজে দেয়, বয়স অনুযায়ী টুথপেস্টের মাপ আর কে ব্রাশ করে দেবেন, মিষ্টি আর রাতের দুধ, আমাদের বাসার বাস্তবতা, প্রথমবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন দাঁতের ডাক্তার দেখাবেন।
বাচ্চা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না কেন?
বাচ্চা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না, এর পেছনে সাধারণত এমন কোনো কারণ থাকে, যা নিয়ে কাজ করা যায়:
- নিজের নিয়ন্ত্রণ: ২ থেকে ৪ বছরে “না” খুব প্রিয় শব্দ, আর নিজের মুখটাই এমন জায়গা, যেখানে সত্যিই “না” বলা যায়।
- স্বাদ আর অনুভূতি: কড়া পুদিনা, ফেনা, শক্ত ব্রাশ, বা মুখের পেছনে ব্রাশ লাগা অস্বস্তিকর লাগতে পারে; কোনো কোনো বাচ্চার সহজেই বমি বমি ভাব হয়।
- ক্লান্তি: ব্রাশের সময়টা আসে দিনের শেষে, যখন বাচ্চা আর বড় দুজনেরই ধৈর্য সবচেয়ে কম।
- অন্য মজা: ব্রাশ মানেই খেলা, কার্টুন বা গল্পে বাধা।
- মুখে ব্যথা: নতুন দাঁত ওঠা, মাড়িতে ব্যথা বা দাঁতে গর্ত থাকলে ব্রাশে ব্যথা লাগতে পারে।
- আগের টানাটানি: ব্রাশ মানে যদি চেপে ধরে রাখা হয়ে থাকে, বাচ্চা এটাকে ভয় পেতে শুরু করতে পারে।
ব্রাশে ব্যথা লাগছে বলে মনে হলে ভালো আলোয় বাচ্চার মুখের ভেতরটা দেখুন, আর লেখার শেষের লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিন।
বাচ্চা ব্রাশ করতে কান্না করে? আজ রাতে ঠিক যা করবেন
- গলা শান্ত রাখুন আর ক্রম একই রাখুন: শেষবারের দুধ বা নাশতা, তারপর দাঁত ব্রাশ, তারপর গল্প।
- ছোট দুটো বিকল্প দিন: লাল ব্রাশ না নীল, আগে ওপরের দাঁত না নিচের, বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে না আপনার কোলে।
- আগে বাচ্চাকে ব্রাশ করতে দিন, তারপর আপনার পালা: “তুমি আগে করো, তারপর আমি দেখব কোথাও জীবাণু লুকিয়ে আছে কি না।”
- ছোট আর আগে থেকে জানা রাখুন: মোটামুটি দুই মিনিটের একটা ছোট গান, বা মুখের প্রতিটা অংশের জন্য ধীরে ধীরে গোনা।
- অবস্থান বদলে দেখুন: বাচ্চা আপনার কোলে মাথা রেখে চিত হয়ে শুয়ে ওপরের দিকে তাকালে প্রায়ই দেখতে সুবিধা হয়, আর ব্রাশও হয় আলতো।
- সব ভেস্তে গেলে ঝটপট আলতো করে একটু ব্রাশ করে থেমে যান। বাচ্চাকে চেপে ধরে রাখা বা জোর করে মুখ খোলানো ওকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে, আর পরের রাতটা আরও কঠিন করে তোলে।
- ঠিক যে কাজটা করেছে, সেটার প্রশংসা করুন: “কী বড় করে হাঁ করলে!”
যা বলতে পারেন
- দাঁত ব্রাশের সময়! লাল ব্রাশ নেবে, না নীল?
- সামনেরগুলো তুমি করো, পেছনেরগুলো আমি। তারপর অদলবদল।
- সিংহের মতো বড় করে হাঁ করো তো! হালুম!
- ওই দাঁতের পেছনে দুষ্টু জীবাণু লুকিয়ে আছে। চলো, তাড়িয়ে দিই!
- জানি তুমি ক্লান্ত। ঝটপট ব্রাশ, তারপর তোমার গল্প।
ব্রাশ করার মজার উপায়: খেলা, পালা আর একটা চার্ট
শিশুকে দাঁত ব্রাশ করা শেখানো সবচেয়ে সহজ হয়, যখন এটা প্রতিদিন একই সময়ে একসঙ্গে খেলার মতো লাগে।
- একসঙ্গে ব্রাশ: বাচ্চারা আপনাকে দেখেই শেখে, তাই একই সময়ে বেসিনের সামনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নিজের দাঁতও ব্রাশ করুন।
- ব্রাশের একটা গান বা ছড়া, মোটামুটি দুই মিনিটের, যেটা শুধু ব্রাশের সময়ই গাওয়া হয়।
- জীবাণু শিকার: ব্রাশ করতে করতে কয়টা “জীবাণু” তাড়ালেন গুনুন, বা প্রতিটা দাঁতের একটা করে নাম দিন।
- খেলনার পালা: আগে বাচ্চা পুতুল বা টেডির দাঁত ব্রাশ করে দিক, তারপর নিজের।
- ছোট্ট একটা ব্রাশের চার্ট: সকাল আর রাতে প্রতিবার ব্রাশের পর একটা টিক বা স্টিকার, বড় পুরস্কারের বদলে আন্তরিক প্রশংসা।
- নিজের ব্রাশ: নরম, ছোট মাথার একটা ব্রাশ বাচ্চাকেই বেছে নিতে দিন; কয়েক মাস পরপর বদলে দিন, আর শলাগুলো ছড়িয়ে গেলে তার আগেই।
কোন বয়সে কতটুকু টুথপেস্ট, আর কে ব্রাশ করে দেবেন?
দিনে দুবার ব্রাশ করুন: সকালে, আর রাতে শেষবার খাওয়া বা দুধের পর একদম শেষে। শিশু-স্বাস্থ্য আর দাঁতের যত্নের বেশির ভাগ নির্দেশনা বলে, প্রথম দাঁত ওঠা থেকেই অল্প পরিমাণে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট, আর বেশ কয়েক বছর ব্রাশটা বড়রা করে দেবেন বা শেষ করে দেবেন। অনেকে শোনেন, ৩ বছরের নিচে ফ্লোরাইড ছাড়া টুথপেস্ট দিতে হয়; এখনকার বেশির ভাগ নির্দেশনা বরং খুব অল্প একটু ফ্লোরাইড টুথপেস্টের কথা বলে, কারণ ছোট বাচ্চাকে সুরক্ষিত রাখে মাপটা অল্প রাখা।
| বয়স | টুথপেস্ট | কে ব্রাশ করবে |
|---|---|---|
| প্রথম দাঁত থেকে মোটামুটি ৩ বছর | পাতলা একটু প্রলেপ, মোটামুটি একটা চালের দানার সমান | আপনি ব্রাশ করে দেবেন; বাচ্চা একটা ব্রাশ হাতে নিয়ে “সাহায্য” করতে পারে |
| মোটামুটি ৩ থেকে ৬ বছর | মটরদানার সমান | আগে বাচ্চা চেষ্টা করবে, তারপর আপনি ভালো করে আবার ব্রাশ করে দেবেন; বাড়তি পেস্ট থুতু দিয়ে ফেলতে শেখান |
| মোটামুটি ৬ থেকে ৮ বছর | মটরদানার সমান | বাচ্চা নিজে ব্রাশ করবে; মোটামুটি ৭–৮ বছর পর্যন্ত আপনি দেখে দেবেন আর শেষটা করে দেবেন, বিশেষ করে পেছনের দাঁত |
- নরম, ছোট মাথার ব্রাশ ব্যবহার করুন, মাড়ির দিকে একটু কাত করে; প্রতিটা দাঁতের প্রতিটা পাশে ছোট ছোট গোল করে।
- বাড়তি টুথপেস্ট গিলে না ফেলে থুতু দিয়ে ফেলতে শেখান।
- টুথপেস্ট বাচ্চার নাগালের বাইরে রাখুন; ছোটরা টিউব থেকে খেয়ে ফেলতে পারে।
- প্রথম স্থায়ী মাড়ির দাঁত প্রায়ই ৬ বছরের আশপাশে দুধদাঁতের পেছনে ওঠে; এগুলো সহজে বাদ পড়ে যায়, তাই সেখানেও ব্রাশ করুন।
বাচ্চার জন্য কোন টুথপেস্ট ঠিক, তা নিয়ে নিশ্চিত না হলে দাঁতের ডাক্তার বা পরের চেকআপে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। বাচ্চা যত বড় হয়, দাঁত ব্রাশও তত নিজের কাজ নিজে করা শেখার অংশ হয়ে ওঠে, তবে আপনার দেখে দেওয়াটা চলতেই থাকে।
রাতে দাঁত ব্রাশের অভ্যাস: মিষ্টি, রাতের দুধ আর ফিডার
রাতের ব্রাশটাই সবচেয়ে জরুরি, কারণ ঘুমের সময় মুখে লালা কম থাকে, আর দাঁতে যা লেগে থাকে তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকে যায়। দুই ব্রাশের মাঝখানে বাচ্চা কী খায় আর পান করে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
- মিষ্টি, চকলেট আর মিষ্টি পানীয় সারাদিন টুকটাক না দিয়ে মূলত খাবারের সময়ে রাখুন; শান্ত একটা পরিকল্পনা আছে বাচ্চা শুধু চিপস-চকলেট খেতে চায় লেখায়।
- খাবারের ফাঁকে আর রাতের ব্রাশের পরে পানীয় হোক শুধু পানি।
- শেষবারের দুধটা দিন ব্রাশের আগে, পরে নয়, যাতে দাঁতে দুধ নিয়ে বাচ্চা ঘুমিয়ে না পড়ে।
- বিছানায় ফিডার নয়, আর দুধে চিনি বা মধু নয়। মুখে দুধ নিয়ে ঘুমালে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে; রাতের দুধ ধীরে ধীরে কমানোর উপায় আছে বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে লেখায়।
- টফি, চকলেট আর মিষ্টি বিস্কুটের মতো আঠালো খাবার দাঁতে লেগে থাকে; খেলে পরে একটু পানি খাইয়ে দিন।
দাঁত ব্রাশ সবচেয়ে সহজ হয়, যখন এটা রাতের রুটিনের একটা বাঁধা ধাপ: হাত-মুখ ধোয়া, দাঁত ব্রাশ, বাথরুম, গল্প, বাতি নেভানো, প্রতি রাতে একই ক্রমে। পুরো রুটিন পাবেন শিশুর ঘুমের রুটিন লেখায়।
আমাদের বাসায় দাঁত ব্রাশ: চকলেট, মেহমান আর ব্যস্ত সকাল
- মেহমানের আনা চকলেট আর মিষ্টি: আত্মীয়রা প্রায়ই মিষ্টির প্যাকেট হাতে আসেন, আর না বললে অভদ্রতা মনে হয়। ধন্যবাদ দিয়ে তুলে রাখুন, তারপর খাবারের পরে একটু করে দিন।
- দাদা-দাদির অভ্যাস: অনেকে ছোটবেলায় কয়লা, ছাই, দাঁতের মাজন বা গাছের ডাল দিয়ে দাঁত মেজেছেন। তাঁদের যত্নের জন্য ধন্যবাদ দিন; ছোট দাঁতের জন্য নরম ব্রাশ আর অল্প একটু শিশুদের টুথপেস্টই বেশি কোমল।
- স্কুলের সকাল: ভোরে ভ্যান বা রিকশা ধরতে হলে নাশতার পরপরই ব্রাশ করিয়ে নিন; ব্রাশগুলো খাবার ঘরের বেসিনের পাশে রাখুন, যাতে এই ধাপটা বাদ না পড়ে।
- গৃহকর্মী: গৃহকর্মী বাচ্চার দাঁত ব্রাশ করে দিলে টুথপেস্টের মাপ আর কোলে শুইয়ে ব্রাশ করার ভঙ্গিটা দেখিয়ে দিন, আর আলতো করে করতে বলুন।
- ঈদ, বিয়ে আর দাওয়াত: সারাদিন সেমাই, মিষ্টি আর চকলেটের পর রাতের ব্রাশটাই সবচেয়ে জরুরি, দেরি হলেও।
- লোডশেডিং: বেসিনের পাশে একটা টর্চ রাখুন, যাতে অন্ধকারেও রাতের ব্রাশটা বাদ না যায়।
বাচ্চাকে প্রথম কবে দাঁতের ডাক্তার দেখাবেন?
অনেক দাঁতের ডাক্তার প্রথম চেকআপের কথা বলেন প্রথম জন্মদিনের আশপাশে, যখন প্রথম দাঁতগুলো উঠে গেছে। আমাদের অনেক পরিবারে প্রথমবার ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয় তখনই, যখন দাঁতে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। কিছু ব্যথা করার আগেই একটা শান্ত চেকআপ প্রায়ই পরের বারগুলো সহজ করে দেয়।
- আগে বাসায় ডাক্তার-ডাক্তার খেলুন: পরিষ্কার চামচ দিয়ে দাঁত গুনুন, আর পালা করে বড় করে হাঁ করুন।
- সহজভাবে বলুন: “ডাক্তার তোমার দাঁতগুলো গুনবেন আর দেখবেন কত শক্ত।”
- দাঁতের ডাক্তারকে কখনো ভয় দেখানোর অস্ত্র বানাবেন না, যেমন “ব্রাশ না করলে ডাক্তার ইনজেকশন দেবে”; এতে ডাক্তারের কাছে যাওয়াটাই ভয়ের হয়ে যায়।
- বাচ্চা যখন ফুরফুরে থাকে, তেমন সকালের সময় নিন, প্রিয় একটা খেলনা সঙ্গে নিন, আর যা-ই হোক, পরে ওর সাহসের প্রশংসা করুন।
দাঁত ব্রাশকে অভ্যাস বানানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
বেশির ভাগ রাতেই যদি এমন হয় যে বাচ্চা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না, তাহলে একবারে একটা জিনিস বদলান আর কী হয় লিখে রাখুন:
- দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। লিখে রাখুন কখন ব্রাশ হয়, টানাটানি কতক্ষণ চলে, আর কী থেকে শুরু হয়।
- দিন ২: সময় ঠিক করুন: নাশতার পরপরই, আর রাতে গল্পের ঠিক আগের ধাপ হিসেবে।
- দিন ৩: বেছে নেওয়া আর পালা যোগ করুন: বাচ্চা ব্রাশ বেছে নেবে আর আগে করবে, তারপর আপনি শেষ করবেন।
- দিন ৪: ব্রাশের একটা গান যোগ করুন, আর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের দাঁতও ব্রাশ করুন।
- দিন ৫: সকাল আর রাতের জন্য সহজ একটা টিক-চার্ট শুরু করুন, সঙ্গে প্রচুর প্রশংসা।
- দিন ৬: বাকিগুলো মিলিয়ে নিন: শেষবারের দুধ ব্রাশের আগে, মিষ্টি মূলত খাবারের সময়ে, আর টুথপেস্ট ঠিক মাপে।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: ব্রাশ কি আগের চেয়ে ছোট আর শান্ত হয়েছে? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর বাচ্চার এখনো দাঁতের চেকআপ না হয়ে থাকলে একটা সময় নিয়ে নিন।
কখন বাচ্চাকে দাঁতের ডাক্তারের কাছে নেবেন?
বাচ্চা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না মানেই অসুখ নয়; বেশির ভাগ টানাটানি সময় আর নিয়মিত রুটিনে কমে আসে। তবে এগুলোর কোনোটা দেখলে দাঁতের ডাক্তার বা ডাক্তার দেখান:
এমন হলে দাঁতের ডাক্তার দেখান
- দাঁতে ব্যথা, বা বাচ্চা এক পাশ দিয়ে চিবোতে চায় না, বা রাতে মুখের ব্যথায় জেগে ওঠে: কয়েক দিনের মধ্যে দাঁতের ডাক্তার দেখান।
- কোনো দাঁতে বাদামি, কালো বা চকের মতো সাদা দাগ, বা গর্ত: শিগগিরই দাঁতের ডাক্তারের সময় নিন, কারণ শুরুতে ধরা পড়লে ক্ষয়ের চিকিৎসা প্রায়ই সহজ হয়।
- মাড়ি বা মুখ ফুলে গেছে: সেদিনই দাঁতের ডাক্তার বা ডাক্তার দেখান, বিশেষ করে সঙ্গে জ্বর থাকলে। ফোলার কারণে গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- পড়ে গিয়ে দাঁত ভেঙে বা উঠে গেছে: সেদিনই দাঁতের ডাক্তার দেখান; স্থায়ী দাঁত হলে দুধে ডুবিয়ে রেখে তখনই যান। পড়ে যাওয়া বা মাথায় আঘাতের পর বাচ্চা ঝিমিয়ে পড়লে, বমি করলে বা স্বাভাবিক আচরণ না করলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- আলতো করে ব্রাশ করার পরও এক-দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতিবার ব্রাশে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া।
- কয়েক সপ্তাহ শান্ত রুটিন মেনে চলার পরও বেশির ভাগ রাতে ব্রাশ নিয়ে বড় যুদ্ধ, বা মুখে কিছু দিলেই বাচ্চার বমি বমি ভাব, আতঙ্ক বা খুব অস্থিরতা: দাঁতের ডাক্তার বা ডাক্তারকে জানান।
কী কাজে দিচ্ছে তা চোখে পড়লে, মাসের পর মাস টানাটানির পরেও, দাঁত ব্রাশ সহজ হয়ে আসে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো, যেমন ব্রাশ, মিষ্টি আর ঘুমের সময়, তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চা খুব কান্নাকাটি করলে কি ব্রাশ বাদ দেওয়া যায়?
মাঝেমধ্যে এক-আধবার বাদ গেলে বড় ক্ষতি নেই, তবে কান্নাই যেন ব্রাশ এড়ানোর উপায় হয়ে না দাঁড়ায়। ব্রাশ ছোট আর আলতো রাখুন; বাচ্চা যতটুকু দেয়, ততটুকুই ঝটপট করে ফেলুন, আর সকালে বেছে নেওয়ার সুযোগ আর গান দিয়ে আবার চেষ্টা করুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ রাতে যুদ্ধ চললে দাঁতের ডাক্তার বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
বাচ্চাকে কতটুকু টুথপেস্ট দেব?
শিশু-স্বাস্থ্য আর দাঁতের যত্নের বেশির ভাগ নির্দেশনা বলে: প্রথম দাঁত থেকে মোটামুটি ৩ বছর পর্যন্ত চালের দানার সমান পাতলা একটু ফ্লোরাইড টুথপেস্ট, আর ৩ বছরের আশপাশ থেকে মটরদানার সমান। পাশে থাকুন, যাতে বাচ্চা বাড়তি পেস্ট গিলে না ফেলে থুতু দিয়ে ফেলে, আর টিউবটা নাগালের বাইরে রাখুন।
কত বছর বয়সে বাচ্চা নিজে নিজে দাঁত ব্রাশ করতে পারে?
বেশির ভাগ বাচ্চা মোটামুটি ৩ বছর থেকে নিজে ব্রাশ করা শুরু করতে পারে, তবে সাধারণত ৭–৮ বছর পর্যন্ত বড়দের আবার ব্রাশ করে দিতে হয়, বা অন্তত দেখে শেষটা করে দিতে হয়। পেছনের দাঁত আর মাড়ির কিনারা বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি বাদ দেয়, তাই ওর পরে সেখানে আপনি একবার করে দিন।
রাতে দাঁত ব্রাশ করা কি সত্যিই এত জরুরি?
হ্যাঁ, রাতের ব্রাশটাই সাধারণত সবচেয়ে জরুরি। ঘুমের সময় মুখ শুকনো থাকে, তাই দাঁতে লেগে থাকা খাবার আর দুধ ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকে যায়। শেষবারের দুধ বা নাশতার পরে একদম শেষে ব্রাশ করান, আর তারপর শুধু পানি। বাচ্চা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লে রুটিনে ব্রাশটা একটু এগিয়ে আনুন।
বাচ্চা টুথপেস্টের স্বাদ একদম পছন্দ করে না, কী করব?
হালকা স্বাদের ফ্লোরাইডযুক্ত শিশুদের টুথপেস্ট, একটু কম পেস্ট, বা প্রায় শুকনো ব্রাশ চেষ্টা করে দেখুন, কারণ ফেনা আর কড়া পুদিনা অনেক বাচ্চার ভালো লাগে না। দুটো স্বাদের মধ্যে বাচ্চাকে বেছে নিতে দিন। একেবারে বাদ না দিয়ে অল্প হলেও টুথপেস্ট ব্যবহার করুন, আর প্রতিবারই বমি বমি ভাব বা আতঙ্ক হলে দাঁতের ডাক্তারকে জানান।
বাচ্চাকে প্রথম কবে দাঁতের ডাক্তারের কাছে নেব?
অনেক দাঁতের ডাক্তার প্রথম চেকআপের কথা বলেন প্রথম জন্মদিনের আশপাশে, যখন প্রথম দাঁতগুলো উঠে গেছে। বাচ্চা বড় হয়ে গেছে অথচ এখনো যাওয়া হয়নি? কিছু ব্যথা করার আগেই এখন একটা সময় নিন, যাতে প্রথম অভিজ্ঞতাটা শান্ত হয়। ব্যথা, ফোলা, গর্ত বা দাঁতে কালো দাগ থাকলে আরও আগে যান।
বাচ্চার দাঁতে পোকা ধরেছে মনে হলে কী করব?
শিগগিরই দাঁতের ডাক্তারের সময় নিন। দাঁতে বাদামি, কালো বা চকের মতো সাদা দাগ আর গর্ত প্রায়ই দাঁতের ক্ষয়ের লক্ষণ, যাকে আমরা অনেকে ‘দাঁতে পোকা ধরা’ বলি, যদিও আসলে কোনো পোকা নেই। শুরুতে ধরা পড়লে ক্ষয়ের চিকিৎসা প্রায়ই সহজ হয়। এর মধ্যে দিনে দুবার ব্রাশ চালিয়ে যান, মিষ্টি মূলত খাবারের সময়ে রাখুন, আর মুখ ফুলে গেলে সেদিনই দাঁতের ডাক্তার দেখান।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।







