সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা: কেন ক্ষতি, আর বদলে কী বলবেন
ছোট করে উত্তর
সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা, সেটা কাজিন, সহপাঠী বা ভাইবোন যার সঙ্গেই হোক, বাচ্চাকে উৎসাহ দেওয়ার চেয়ে প্রায়ই মনে করায় ‘আমি যথেষ্ট ভালো নই’। এতে আত্মবিশ্বাস কমতে পারে, ভাইবোনের সম্পর্কে টান পড়তে পারে, আর বাচ্চা নম্বর লুকাতে বা চেষ্টা ছেড়ে দিতে পারে। বদলে সন্তানকে মিলিয়ে দেখুন তার নিজের আগের চেষ্টার সঙ্গে, নির্দিষ্ট অগ্রগতির প্রশংসা করুন, আর আত্মীয়দের উত্তর দিন ছোট করে, নরমভাবে।
লেখাটি শুনুন
১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৫–১৭ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, বিশেষ করে পরীক্ষা আর রেজাল্টের মৌসুমে, আর পরিবারের যাঁরা তুলনা করেন
- মূল কথা
- তুলনা সাধারণত করা হয় উৎসাহ দিতে, কিন্তু বাচ্চারা প্রায়ই শোনে ‘তুমি যথেষ্ট ভালো নও’।
- সন্তানকে মিলিয়ে দেখুন তার নিজের অতীতের সঙ্গে: গত টার্মের নম্বর, গত মাসের পড়া, এই সপ্তাহের চেষ্টা।
- ভাইবোনের মধ্যে তুলনা, প্রশংসার ছলে হলেও, ভাই-বোনকে প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে দিতে পারে।
- আত্মীয়দের জন্য ছোট, নরম একটা উত্তর তৈরি রাখুন, আর পরে সন্তানকে বলুন আপনি তার পাশে আছেন।
‘তোমার কাজিন জিপিএ-৫ পেয়েছে।’ ‘পাশের বাসার ছেলেটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে।’ ‘রোল কত হলো?’ সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা আমাদের বাসায় এত সাধারণ যে আমরা অনেকেই টেরও পাই না কখন করছি; আর বেশির ভাগ বাবা-মা এটা করেন ভালোবাসা আর দুশ্চিন্তা থেকে, এই আশায় যে বাচ্চা এতে আরও চেষ্টা করবে।
কিন্তু আমরা যেমন আশা করি, তেমন খুব কমই হয়। নিচে পাবেন: তুলনায় কেন সাধারণত উল্টো ফল হয়, তুলনা করলে বাচ্চা কী শোনে আর বদলে কী বলবেন, অভ্যাসটা কীভাবে ছাড়বেন, ভাইবোন, আত্মীয় আর রেজাল্টের দিন, বাচ্চা নিজেই নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে কী করবেন, আর ৭ দিনের পরিকল্পনা।
সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা কেন উল্টো ফল দেয়
সহপাঠী, কাজিন বা ভাই-বোনের সঙ্গে তুলনা সাধারণত করা হয় উৎসাহ দিতে: কাজিন কী পারে দেখলে ও আরও চেষ্টা করবে। কিছু বাচ্চা কিছুদিন সত্যিই বেশি চেষ্টা করে। কিন্তু ভালো উদ্দেশ্যে হলেও সময়ের সঙ্গে তুলনা সাধারণত যা দেয়, তার চেয়ে বেশি কেড়ে নেয়:
- তুলনা করলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে: যে বাচ্চা বারবার শোনে সে পিছিয়ে আছে, সে প্রায়ই ধরে নেয় সে-ই ‘দুর্বল’, আর চেষ্টা ছেড়ে দেয়, কারণ চেষ্টা করে পিছিয়ে পড়ার চেয়ে চেষ্টা না করাই নিরাপদ মনে হয়।
- আগ্রহ শেখা থেকে সরে যেতে পারে র্যাংকিংয়ে। বাচ্চা বোঝার চেয়ে কাউকে হারানো নিয়ে বেশি ভাবে, আর অন্য কেউ বেশি পেলে ভালো রেজাল্টও ফাঁকা লাগে।
- সম্পর্কে টান পড়তে পারে। কাজিন বা সহপাঠী হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বী, আর যে ভাই বা বোনের প্রশংসা হয়, সে হয়ে উঠতে পারে রাগের নিশানা।
- লুকানোর অভ্যাস শুরু হতে পারে। নম্বর লুকানো হয়, রিপোর্ট কার্ড ‘ভুলে’ যায়, আর বাচ্চা কঠিন দিনগুলোর কথা আপনাকে বলা বন্ধ করে দেয়।
- দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। দুশ্চিন্তায় ভোগা বাচ্চার কাছে প্রতিটা পরীক্ষা হয়ে ওঠে সবার সামনে র্যাংকিং; দেখুন পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায়।
বাচ্চারা বেড়েও ওঠে খুব আলাদা গতিতে। যে বাচ্চা দেরিতে পড়তে শেখে, সে ৯ বছরে হয়তো এগিয়ে যায়; অঙ্কে যে ধীর, সে-ই হয়তো মানুষকে সবচেয়ে ভালো বোঝে। তুলনা মাপে শুধু একটা মুহূর্ত, একটাই মাপকাঠিতে।
তুলনা করলে বাচ্চা কী শোনে, আর বদলে কী বলবেন
| আমরা যা বলি | বাচ্চা প্রায়ই যা শোনে | বদলে বলুন |
|---|---|---|
| ‘তোমার কাজিন জিপিএ-৫ পেয়েছে, তুমি পারো না কেন?’ | ‘আমি সবাইকে হতাশ করেছি।’ | ‘এই টার্মে তুমি অঙ্কে অনেক খেটেছ। পরের পরীক্ষার জন্য কোনটা সবচেয়ে কাজে দেবে?’ |
| ‘তোমার বোনের তো কখনো হোমওয়ার্কে সাহায্য লাগেনি।’ | ‘ও ভালো, আমিই ঝামেলা।’ | ‘এটা একটু কঠিন। চলো, প্রথম প্রশ্নটা একসঙ্গে করি।’ |
| ‘পাশের বাসার ছেলেটা দিনে চার ঘণ্টা পড়ে।’ | ‘ওরা আমার বদলে ওকে পেলেই খুশি হতো।’ | ‘আজ তুমি এক ঘণ্টা টানা পড়েছ। এতে কিন্তু অনেক চেষ্টা লেগেছে।’ |
| ‘রোল কত হলো? ফার্স্ট কে হয়েছে?’ | ‘শুধু আমার পজিশনটাই জরুরি।’ | ‘কোন বিষয়টা নিয়ে তুমি সবচেয়ে খুশি? কোনটা সবচেয়ে কঠিন লেগেছে?’ |
| ‘আমি তোমার বয়সে…’ | ‘আমি কখনো ওদের মনের মতো হতে পারব না।’ | ‘তোমার বয়সে আমারও এটা কঠিন লাগত। আমার যা কাজে দিয়েছিল, শোনো।’ |
তুলনার বদলে যা বলতে পারেন
- গত মাসের চেয়ে তুমি এটায় অনেক ভালো করছ। পার্থক্যটা আমি দেখতে পাচ্ছি।
- তোমার নম্বর যা-ই হোক, আমার ভালোবাসা একই থাকবে।
- সবার শক্তির জায়গা আলাদা। তোমার একটা শক্তি হলো, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তুমি কত সুন্দর ব্যবহার করো।
- কোন একটা জিনিসে তুমি আরও ভালো হতে চাও? চলো, একটা পরিকল্পনা করি।
- তোমার বন্ধু বানান শেখার একটা ভালো উপায় বের করেছে। তুমি চেষ্টা করে দেখবে, তোমার জন্য কাজ করে কি না?
কারও কাছ থেকে শেখা কাজে দিতে পারে, যখন তা উপায় নিয়ে, র্যাংকিং নিয়ে নয়: ‘তোমার বন্ধু কীভাবে প্র্যাকটিস করেছে?’, ‘তুমি ওর মতো না কেন?’ নয়। সবচেয়ে সুস্থ তুলনা হলো সন্তানের নিজের আগের অবস্থার সঙ্গে।
নিজে তুলনা বন্ধ করবেন কীভাবে: ৬টি অভ্যাস
সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা অনেক বাবা-মায়ের কাছে প্রায় না ভেবেই হয়ে যায়, কারণ নিজেরাও এভাবেই বড় হয়েছেন। অভ্যাস বদলানো শুরু হয় খেয়াল করা থেকে।
- তুলনার শব্দগুলো ধরে ফেলুন: ‘তোমার কাজিনের মতো’, ‘অন্য বাচ্চারা’, ‘আমি তোমার বয়সে’, ‘তোমার বোনও তো’। কখন বলছেন আর সন্তান কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, খেয়াল করুন।
- সন্তানকে মিলিয়ে দেখুন তার নিজের অতীতের সঙ্গে: গত টার্ম, গত মাস, গত সপ্তাহ।
- র্যাংক নয়, নির্দিষ্ট চেষ্টা আর অগ্রগতির প্রশংসা করুন: ‘তুমি প্রতিটা উত্তর মিলিয়ে দেখেছ’, ‘তুমি কাজিনকে হারিয়েছ’ নয়।
- অন্য কারও বিপক্ষে নয়, সন্তানের সঙ্গে মিলে লক্ষ্য ঠিক করুন: ‘ইংরেজিতে আরও ৫ নম্বর’ একটা পরিকল্পনা; ‘কাজিনকে হারাও’ একটা প্রতিযোগিতা।
- অন্য বাচ্চার গুণের কথা বলুন ‘কিন্তু তুমি’ ছাড়া: ‘তোমার কাজিন ফুটবলে দারুণ’, এটুকুই যথেষ্ট।
- নিজের দুশ্চিন্তার যত্ন নিন। তুলনা প্রায়ই আসে ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা-মায়ের ভয় থেকে; নিজের কাছে সেটার নাম দিন, আর জীবনসঙ্গী বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন।
ভাইবোনের মধ্যে তুলনা: কেন দুজনেরই ক্ষতি
ভাইবোনের মধ্যে তুলনা করা খুব সহজ, কারণ আপনি ওদের পাশাপাশি বড় হতে দেখছেন, আর খুব ক্ষতিকরও, কারণ ওরা একসঙ্গে থাকে। যাকে উদাহরণ বানানো হয়, তার ওপর সবসময় নিখুঁত থাকার চাপ আসে, আর অন্যজনের মনে জমতে পারে ক্ষোভ।
- ‘ভালো ছাত্র’, ‘দুষ্টু’, ‘অলস’ ধরনের তকমা এড়িয়ে চলুন। বাচ্চারা সাধারণত যে ভূমিকা পায়, সেটাতেই বড় হয়ে ওঠে।
- প্রত্যেককে আলাদা করে প্রশংসা করুন আর ভুল ধরুন, অন্যজনের কথা না তুলে।
- প্রত্যেক সন্তানকে আপনার সঙ্গে আলাদা কিছু সময় দিন, আর এমন একটা আগ্রহ, যা শুধু তার নিজের।
- বয়সের পার্থক্য মাথায় রাখুন: বড় বোন এখন যা পারে, ছোটজন তা এখনো পারে না বলে সে ‘পিছিয়ে’ নেই।
প্রতিযোগিতা যদি এর মধ্যেই রোজকার ঝগড়ায় গড়িয়ে থাকে, দেখুন ভাইবোনের ঝগড়া।
আমাদের বাসায়: আত্মীয়স্বজন, রোল নম্বর আর রেজাল্টের দিন
সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা বাংলাদেশে অনেক সময় স্কুলজীবনেরই অংশ: ক্লাসে পজিশন আর রোল নম্বর, জিপিএ-৫ আর এ প্লাস, কোচিং সেন্টারের র্যাংকিং, রেজাল্টের দিন ফেসবুকে পোস্ট, আর চিরকালের পাশের বাড়ির ছেলের সঙ্গে তুলনা, যা শুনে আমাদের অনেকেই বড় হয়েছি। যে আত্মীয়রা তুলনা করেন, তাঁরা সাধারণত ভালো চেয়েই করেন; অনেকেই একই ব্যবস্থায় বড় হয়েছেন, আর আপনার সন্তানের ভালোই চান।
আত্মীয়রা যখন তুলনা করেন
- ছোট করে, আন্তরিকভাবে উত্তর দিন, সন্তান শুনে থাকলে তার সামনেই: ‘প্রত্যেক বাচ্চার নিজের গতি আছে। ও যে কত পরিশ্রম করছে, তাতে আমরা গর্বিত।’
- প্রসঙ্গ বদলান: আত্মীয়ের নিজের খবর জিজ্ঞেস করুন, বা সন্তানের পছন্দের অন্য কিছুর কথা তুলুন।
- যে মুরব্বিরা প্রায়ই তুলনা করেন, তাঁদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন: ‘জানি আপনি ওর ভালো চান। কাজিনদের সঙ্গে তুলনা করলে ও খুব দমে যায়। বদলে ওর ক্রিকেট নিয়ে একটু জিজ্ঞেস করবেন?’
- চেহারা নিয়ে কথা, যেমন গায়ের রং, ওজন বা উচ্চতা (‘তোমার বোন তো কত ফর্সা’), এগুলোও তুলনা, আর সমান কষ্ট দিতে পারে। একইভাবে উত্তর দিন।
- পরে সন্তানকে বলুন: ‘খালা যা বললেন, আমি শুনেছি। আমি তোমার পাশে আছি, আর আমি তোমাকে কারও সঙ্গে তুলনা করি না।’
রেজাল্টের দিন আর পরীক্ষার মৌসুম
রেজাল্টের দিন অন্য কারও রেজাল্টের আগে সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করুন, আর প্রথম আলাপে কাজিন বা সহপাঠীদের নম্বর টানবেন না। অনলাইনে নম্বর পোস্ট করার আগে দুবার ভাবুন, আর আগে সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন। রেজাল্ট মনমতো না হলে প্রথম সন্ধ্যায় কী করবেন, দেখুন পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে সন্তানকে কীভাবে সামলাবেন।
সন্তান যখন নিজেকে অন্যদের চেয়ে ছোট ভাবে
মোটামুটি ৮ বছর থেকে, বিশেষ করে টিনএজে, বাচ্চারা নিজেরাই নিজেদের তুলনা করে: বন্ধুর নম্বর, সহপাঠীর ফোন, অনলাইনে কাজিনের ছবি। খেয়াল করা থামাতে পারবেন না, কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক মাপে দেখতে সাহায্য করতে পারেন।
- ভরসা দেওয়ার আগে শুনুন: ‘শুনে মনে হচ্ছে, তুমি নিজেকে সবার চেয়ে পিছিয়ে ভাবছ। আরেকটু বলো তো।’
- মনে করিয়ে দিন, অন্যের সেরা মুহূর্তগুলোই পুরো গল্প নয়, বিশেষ করে অনলাইনে।
- নিজের শক্তির জায়গাগুলো, আর যে একটা জিনিসে উন্নতি চায়, তা খুঁজে বের করতে সাহায্য করুন।
- নিজের গল্প বলুন: ‘আমারও আমার কাজিনকে নিয়ে এমন লাগত। সহজ হয়েছিল যখন আমি…’
সন্তান প্রায়ই নিজেকে ‘বোকা’ বা ‘অকর্মা’ বললে আরও ধাপ পাবেন বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় লেখায়, আর তুলনার কারণে পড়ায় আগ্রহ কমে গেলে কাজে দেবে বাচ্চা পড়তে বসতে চায় না।
তুলনা থেকে সরে আসার ৭ দিনের পরিকল্পনা
- দিন ১: খেয়াল করুন। বাসায় যত তুলনা শুনলেন বা নিজে করলেন, লিখে রাখুন: কে বলল, আর সন্তান কী প্রতিক্রিয়া দেখাল। এখনই কিছু বদলাবেন না।
- দিন ২: সবচেয়ে বেশি যে তুলনার কথাটা বলেন, সেটা বেছে নিন, আর ওপরের তালিকা থেকে বদলে বলার একটা কথা লিখে রাখুন।
- দিন ৩: আজ সন্তান ভালো করেছে এমন একটা নির্দিষ্ট জিনিস মুখে বলুন, কোনো তুলনা ছাড়া।
- দিন ৪: একসঙ্গে স্কুলের একটা কাজ দেখুন, আর শুধু তার নিজের আগের কাজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ৫: আত্মীয়দের জন্য এক লাইনের উত্তরটা ঠিক করুন, আর জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- দিন ৬: নম্বরের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, সন্তানের প্রিয় এমন কিছুতে একসঙ্গে সময় দিন।
- দিন ৭: সপ্তাহটা দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার তুলনা হলো, সন্তানকে কেমন দেখাল, কী বদলাল। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর আরেকটা ধাপ বেছে নিন।
তুলনা যখন সন্তানকে কষ্ট দিচ্ছে: কখন সাহায্য নেবেন
এমন হলে সাহায্য নিন
- কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্তান প্রায়ই নিজেকে বোকা বা অকর্মা বলছে, বা বলছে সে সবাইকে শুধু হতাশ করে।
- নম্বর লুকায়, পরীক্ষার আগে কাঁদে বা অসুস্থ বোধ করে, বা স্কুল বা কোচিংয়ে যেতে চায় না।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে ঘুম, খাওয়া বা মেজাজে পরিবর্তন, বা বন্ধু আর পছন্দের কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে।
- স্কুলে, কোচিংয়ে বা পরিবারে কেউ নম্বর বা চেহারা নিয়ে সন্তানকে ঠাট্টা করে বা লজ্জা দেয়: সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- সন্তান নিজের ক্ষতি করার কথা বলে, বা বলে বেঁচে থেকে লাভ নেই: শান্ত থাকুন আর পাশে থাকুন, এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- নিজে তুলনা থামাতে পারছেন না, বা রেজাল্ট নিয়ে দুশ্চিন্তায় আপনার নিজের ঘুম আর মন খারাপ থাকছে; একজন কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বললে সাহায্য হতে পারে।
সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা একটা অভ্যাস, আর অভ্যাস বদলায় ধীরে ধীরে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কোন কথায় সন্তান কষ্ট পেল আর কী কাজে দিল, যাতে ধরনগুলো সহজে চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
সন্তানকে অন্য বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করা কি খারাপ?
সাধারণত হ্যাঁ, যখন তা সন্তানকে বলা হয় বা তার সামনে বলা হয়। বাচ্চারা প্রায়ই শোনে ‘তুমি যথেষ্ট ভালো নও’, এতে আত্মবিশ্বাস আর আগ্রহ কমতে পারে, আর বন্ধুত্ব আর ভাইবোনের সম্পর্কে টান পড়তে পারে। অন্য বাচ্চারা কীভাবে বড় হচ্ছে, মনে মনে খেয়াল করা স্বাভাবিক; বদলটা হলো সন্তানকে মাপা তার নিজের অগ্রগতি দিয়ে, আর র্যাংক নয়, চেষ্টা নিয়ে কথা বলা।
রেজাল্ট নিয়ে তুলনা করলে সন্তানের কী হয়?
যে বাচ্চাকে প্রায়ই তুলনা করা হয়, তাদের অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করে তারাই ‘দুর্বল’। কেউ চেষ্টা ছেড়ে দেয়, কেউ নম্বর লুকায় বা রেজাল্ট নিয়ে মিথ্যা বলে, আর কেউ হয়ে ওঠে দুশ্চিন্তায় ভোগা খুঁতখুঁতে, যার কাছে ভালো রেজাল্টও কখনো যথেষ্ট মনে হয় না। যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, সেই কাজিন, সহপাঠী বা ভাই-বোনের ওপর ক্ষোভ জমাও খুব সাধারণ। তুলনা বন্ধ হলে এর অনেকটাই কমে আসতে পারে।
আত্মীয়রা তুলনা করলে বাচ্চা কষ্ট পায়, তাঁদের কী বলব?
ছোট, আন্তরিক আর দৃঢ় রাখুন: ‘প্রত্যেক বাচ্চার নিজের গতি আছে। ও যে কত পরিশ্রম করছে, তাতে আমরা গর্বিত।’ তারপর প্রসঙ্গ বদলান। কোনো আত্মীয় প্রায়ই এমন করলে আলাদা করে কথা বলুন, আর বলুন বদলে সন্তানকে কী নিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন। পরে সন্তানকে বলুন আপনি শুনেছেন, আর আপনি তাকে কারও সঙ্গে তুলনা করেন না।
প্রশংসা করে ভাইবোনের মধ্যে তুলনা করা কি ঠিক?
প্রশংসার তুলনাও উল্টো ফল দিতে পারে। ‘তুমি তো গোছানো, তোমার ভাইয়ের মতো না’: এতে একজনের প্রশংসা হয় আর অন্যজনের গায়ে তকমা লাগে, আর যার প্রশংসা হলো তার ওপর সবসময় এমন থাকার চাপ আসে। প্রত্যেককে আলাদা করে, তার করা নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য প্রশংসা করুন, আর বাক্যে অন্য ভাই-বোনকে টানবেন না।
চারপাশের সবাই তুলনা করে, আমি নিজে কীভাবে থামাব?
শুরু করুন বাসায় নিজের কথা দিয়ে, যেখানে নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই সবচেয়ে বেশি। তুলনার কথাগুলো খেয়াল করুন, সেগুলোর বদলে সন্তানের নিজের অগ্রগতি নিয়ে বলুন, আর জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মিলে পরিবারের একটা সহজ কথা ঠিক করুন। সব আত্মীয় বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপকে থামাতে পারবেন না, কিন্তু বাচ্চা যখন জানে বাবা-মা নিজেরা হিসাব রাখছেন না, তখন সে প্রায়ই অনেক ভালো সামলায়।
সন্তান বন্ধুদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে মন খারাপ করে, কী করব?
আগে শুনুন, তাড়াহুড়ো করে ভরসা দিতে যাবেন না। তারপর পুরো ছবিটা দেখতে সাহায্য করুন: সবার কিছু শক্তি আর কিছু কষ্টের জায়গা থাকে, আর অনলাইনের পোস্টে থাকে শুধু সেরা অংশটুকু। জিজ্ঞেস করুন কোন জিনিসে সে উন্নতি চায়, আর একসঙ্গে ছোট একটা পরিকল্পনা করুন। সে প্রায়ই নিজেকে মূল্যহীন বললে বা কয়েক সপ্তাহ ধরে মন খারাপ দেখালে, ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




