বাচ্চা গালি দেয় কী করবেন: খারাপ কথা শিখে এলে শান্তভাবে যা বলবেন
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা গালি দেয় কী করবেন, তার সহজ উত্তর: শান্ত থাকুন, একবার বলুন ‘এই কথাটা আমরা বলি না’, আর রাগ হলে বলার মতো ভালো একটা শব্দ শিখিয়ে দিন। এটা খুব সাধারণ, আর সাধারণত শুরু হয় নকল থেকে: ৩–৫ বছরের বাচ্চারা যা শোনে তা-ই বলে, প্রায়ই মানে না জেনেই। বড় বাচ্চাকে ছোট করে বোঝান, কথা কেন মানুষকে কষ্ট দেয়। কাউকে অপমান করে গালি, বা প্রায় প্রতিদিন রাগে গালাগালি হলে বাড়তি সাহায্য নিন।
লেখাটি শুনুন
১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৩–১৪ বছরের যে বাচ্চা বাসায়, স্কুলে বা গেম খেলতে খেলতে খারাপ কথা বলা শুরু করেছে, তার বাবা-মা
- মূল কথা
- বেশির ভাগ ছোট বাচ্চা গালি দেয় নকল করতে বা দেখতে কী হয়, কাউকে কষ্ট দিতে নয়: শান্ত মুখ আর ছোট একটা বাক্যে এর অনেকটা মজা চলে যায়।
- খারাপ কথা আসে সব জায়গা থেকে: স্কুল, কাজিন, রাস্তা, ভিডিও, গেম, আর বাসার বড়দের মুখ থেকে, আমাদের নিজেদের থেকেও।
- রাগ বা কষ্টের জন্য পরিবারের নিজস্ব কিছু শব্দ শিখিয়ে দিন, যাতে রাগ প্রকাশের জন্য গালি ছাড়াও একটা পথ থাকে।
- কারও ধর্ম, গায়ের রং, শরীর, প্রতিবন্ধিতা বা পরিবার নিয়ে অপমানজনক কথা মুখ ফসকে বেরোনো একটা শব্দের চেয়ে অনেক গুরুতর: এতে সত্যিকারের মানুষ কষ্ট পায়, আর তা বুলিংও হতে পারে।
স্কুল থেকে ফিরে ৪ বছরের বাচ্চা এমন একটা শব্দ বলল যে আপনি থমকে গেলেন, বা পাশের ঘরে গেম খেলতে খেলতে ১০ বছরের ছেলে গালি দিয়ে উঠল। বাচ্চা গালি দেয় কী করবেন, এই দুশ্চিন্তা অনেক বাবা-মায়ের। ভরসার কথা হলো, শিশুর মুখে খারাপ ভাষা খুব সাধারণ ব্যাপার, আর এর মানে প্রায় কখনোই এই নয় যে বাচ্চা খারাপ হয়ে যাচ্ছে বা আপনি ব্যর্থ। বেশির ভাগ বাচ্চা কোনো এক সময় একটা খারাপ কথা বলে দেখে, সাধারণত কাউকে নকল করতে বা দেখতে কী হয়।
শব্দটার চেয়েও প্রায়ই বেশি জরুরি প্রথম কয়েক সেকেন্ডে আপনি কী করছেন। নিচে পাবেন বাচ্চারা খারাপ কথা কোথা থেকে শেখে, কোন বয়সে কী স্বাভাবিক, শান্ত থাকার ধাপ আর কী বলবেন, রাগের জন্য পরিবারের নিজস্ব শব্দ, বড় বাচ্চা আর অপমানজনক কথা, আমাদের বাসার বাস্তবতা, আর ৭ দিনের পরিকল্পনা।
বাচ্চা কেন গালি দেয়, আর খারাপ কথা শেখে কোথা থেকে?
বাচ্চারা ভাষা শেখে নকল করে, আর গালি নকল করা সহজ: শব্দগুলো ছোট, জোর দিয়ে বলা হয়, আর শুনলেই বড়রা চমকে ওঠে। বাচ্চারা এগুলো যেখান থেকে শেখে:
- স্কুলে, কোচিংয়ে বা বাসার সামনের গলিতে খেলার সময় বড় বাচ্চাদের কাছ থেকে।
- পারিবারিক অনুষ্ঠানে কাজিন বা আত্মীয়দের কাছ থেকে, কখনো কখনো মজা করে শেখানো।
- রাস্তা থেকে: বাস, বাজার, যানজট আর ক্রিকেট খেলার মাঠ।
- ভিডিও, বাজে ঠাট্টায় ভরা কার্টুন, আর অনলাইন গেমের ভয়েস চ্যাট।
- রাগের মুহূর্তে বাসার বড়দের কাছ থেকে, আমাদের নিজেদের কাছ থেকেও।
কেন বলে, তা বয়সের সঙ্গে বদলায়। ছোট বাচ্চা শব্দ নকল করে, স্কুলে পড়া বাচ্চা দেখে নেয় শব্দটার কত ‘জোর’, বা বন্ধুদের দলে মিশতে চায়, আর একটু বড় বাচ্চা প্রায়ই গালি দেয় রাগে বা হতাশায়। কেউ কেউ গালি দেয় মনোযোগ পেতে, কারণ ভালো ব্যবহারের চেয়ে একটা খারাপ কথায় বড়রা অনেক বেশি সাড়া দেন।
| বয়স | সাধারণত কী বোঝায় | যা সাধারণত কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ৩–৫ বছর | শব্দ নকল করা, প্রায়ই মানে না জেনে; দেখে নেওয়া আপনি কী করেন | শান্ত মুখ, কম মনোযোগ, একবার ছোট করে ‘এটা আমরা বলি না’, আর বদলে বলার মতো একটা মজার শব্দ |
| ৬–৯ বছর | শব্দের ‘জোর’ পরীক্ষা করা, বন্ধুদের সঙ্গে তাল মেলানো, হতাশা বের করে দেওয়া | কথা কেন কষ্ট দেয় তা ছোট করে বোঝানো, পরিবারের স্পষ্ট নিয়ম, অন্য শব্দ বেছে নিলে প্রশংসা |
| ১০–১৪ বছর | দলে মিশে যাওয়া, নিজেকে বড় দেখানো, রাগ, গেম আর ভিডিও থেকে আসা অভ্যাস | শান্ত সময়ে সম্মান রেখে কথা বলা, গেমের চ্যাটের নিয়ম, আপনার নিজের উদাহরণ, মানুষকে গালি দিলে একটা পরিণতি |
বাচ্চা গালি দেয় কী করবেন: শান্ত থাকার ৬টি ধাপ
বাচ্চা গালি দেয় কী করবেন, তার শুরু এই ধাপগুলো দিয়ে। ছোট বাচ্চার মুখে প্রথম খারাপ কথা থেকে রাগের মাথায় ১২ বছরের বাচ্চার গালি পর্যন্ত, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো কাজে দেয়:
- মুখ শান্ত রাখুন। আঁতকে উঠবেন না, চিৎকার করবেন না, হাসবেনও না, মজার লাগলেও; বড় প্রতিক্রিয়াই প্রায়ই শব্দটাকে বারবার বলার মতো করে তোলে।
- ছোট বাচ্চা হলে ছোট একটা বাক্য বলে অন্য কিছুতে চলে যান: ‘এই কথাটা আমরা বলি না।’ প্রথমবার মুখ ফসকে বেরোলে চাইলে না শোনার ভানও করতে পারেন।
- একটু বড় বাচ্চা হলে নিয়ম আর কারণ একবার বলুন: ‘এই কথায় মানুষ কষ্ট পায়। আমাদের পরিবারে আমরা এটা বলি না।’
- পরে, শান্ত সময়ে, কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করুন: ‘কোথায় শুনেছ? তোমার কী মনে হয়, এর মানে কী?’ বাচ্চারা প্রায়ই জানে না, আর বয়স বুঝে সহজ একটা ব্যাখ্যা (‘এই কথা দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়’) শুনলে অনেকে নিজেই আর বলতে চায় না।
- বদলে ভালো কিছু দিন: রাগ বা কষ্টের জন্য পরিবারের নিজস্ব একটা শব্দ, বা সোজা মনের কথা (‘আমার খুব রাগ লাগছে!’)।
- জেনেশুনে বারবার বললে ছোট, শান্ত, যুক্তিসঙ্গত একটা পরিণতি রাখুন, যেমন ভয়েস চ্যাটে গালি দিলে আজকের মতো গেম বন্ধ; আর যখন অন্য শব্দ বেছে নেয়, তা খেয়াল করে বলুন।
কখনো মারবেন না, বা বাচ্চার মুখে সাবান বা মরিচ দেবেন না। এতে বাচ্চা ব্যথা পেতে পারে, ভয় পায়, আর ভালো কথার বদলে শেখে ভয়; মারধরে সময়ের সঙ্গে আচরণ সাধারণত আরও খারাপ হয়।
যা বলতে পারেন
- উঁহু, এই কথাটা আমরা বলি না।
- এই কথায় কেউ খুব কষ্ট পেতে পারে। চলো, অন্য একটা শব্দ খুঁজি।
- তুমি রেগে আছো, সেটা ঠিক আছে। বদলে বলো, ‘আমার খুব রাগ লাগছে!’
- কথাটা কোথায় শুনলে? তোমার কী মনে হয়, এর মানে কী?
- আমাদের পরিবারে আমরা কাউকে বাজে নামে ডাকি না, মন খারাপ হলেও না।
- কাল রাগের মাথায় আমিও একটা খারাপ কথা বলে ফেলেছিলাম। আমিও চেষ্টা করছি, যেন আর না বলি।
গালির বদলে বাচ্চা কী বলবে? রাগের জন্য পরিবারের নিজস্ব শব্দ
বাচ্চারা প্রায়ই গালি দেয়, কারণ বড় অনুভূতির জন্য তাদের একটা জোরালো শব্দ দরকার হয়। বের করে দেওয়ার অন্য উপায় শিখিয়ে দিন, আর অনুশীলন করুন যখন সবাই শান্ত, রাগের মাঝখানে নয়।
- অনুভূতির শব্দ: ‘আমার ভীষণ রাগ লাগছে!’, ‘এটা একদম অন্যায়!’, ‘আমি আর পারছি না!’
- নিরাপদ কিছু কথা: ‘উফ!’, ‘ধুর!’, ‘ইশ, আবার!’
- বাচ্চার নিজের বানানো মজার শব্দ, যেমন ‘আলুভর্তা!’ বা ‘ঢ্যাঁড়স!’: হাসির কথায় রাগ প্রায়ই অনেকটা কমে যায়।
- শব্দ নয়, শরীর দিয়ে: পা ঠুকে দেওয়া, কুশন চেপে ধরা, বা চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো আস্তে আস্তে ফুঁ দেওয়া।
বড় প্রতিক্রিয়া না পেলে খারাপ কথা তার ‘জোর’ হারায়।
বাচ্চা বাবা-মাকে গালি দিলে বা স্কুলে খারাপ কথা বললে কী করবেন?
বাচ্চা বাবা-মাকে গালি দিলে
বাচ্চা যখন বাবা-মাকে গালি দেয়, তা সাধারণত এমন রাগ, যার বের হওয়ার পথ নেই; ইচ্ছা করে কষ্ট দেওয়ার পরিকল্পনা নয়। শান্ত থাকুন, পাল্টা গালি দেবেন না, আর নিচু গলায় সীমা টানুন: ‘আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে দেব না। শান্ত হলে আমি শুনব।’ দরকার হলে একটু সরে যান। পরে সবাই ঠান্ডা হলে কথা বলুন, কী নিয়ে এত রাগ হয়েছিল, আর একসঙ্গে মিটিয়ে নিন। মুখে মুখে তর্ক যদি রোজকার যুদ্ধ হয়, দেখুন সন্তান মুখে মুখে তর্ক করলে কী করবেন।
স্কুলে বাচ্চা খারাপ কথা বললে
স্কুল থেকে যদি জানায় বাচ্চা ক্লাসে খারাপ কথা বলে, শিক্ষককে ধন্যবাদ দিন, কী হয়েছিল আর কখন তা জিজ্ঞেস করুন, আর একটা কথায় একমত হোন, যাতে বাসা আর স্কুল একই কথা বলে। বাচ্চার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন, সহপাঠী বা আত্মীয়দের সামনে কখনো নয়, আর জানতে চান কী চলছে: নতুন বন্ধুদের দল, কেউ খেপাচ্ছে কি না, বা পড়া নিয়ে হতাশা।
মানুষকে অপমান করা কথা কেন সাধারণ গালির চেয়ে গুরুতর?
মোটামুটি ৮–৯ বছর থেকে অনেক বাচ্চা শব্দের মানে ঠিকই জানে, আর কিছু কথা সাধারণ গালির চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করে। কারও ধর্ম, গায়ের রং, শরীর, প্রতিবন্ধিতা বা দেশের বাড়ি নিয়ে অপমান, আর কারও মা-বোন তুলে গালি সত্যিকারের মানুষকে কষ্ট দেয়, আর তা বুলিংও হতে পারে।
- শান্তভাবে, কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে বলুন: ‘এই শব্দ দিয়ে মানুষকে তার পরিচয়ের জন্য কষ্ট দেওয়া হয়। এটা কখনোই ঠিক না।’
- অন্যের জায়গায় নিজেকে ভাবতে সাহায্য করুন: ‘কেউ তোমাকে বা আম্মুকে নিয়ে এমন বললে তোমার কেমন লাগত?’
- লম্বা শাস্তির বদলে ভুলটা শুধরে নিতে বলুন, যেমন যাকে বলেছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।
- বাচ্চা যদি এমন দলে থাকে, যারা বারবার একজনকে নিশানা করে, সেই সপ্তাহেই স্কুলের সঙ্গে কথা বলুন।
- অনলাইনে অপমানজনক কথা খুব দ্রুত ছড়ায় আর থেকে যায়। শেখান, কাউকে কষ্ট দেয় এমন কথা বা ছবি কখনো পোস্ট বা ফরোয়ার্ড করবে না।
দয়া আর সম্মান বাচ্চারা বেশির ভাগ শেখে দেখে দেখে; প্রতিদিনের উপায়গুলো আছে শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানো লেখায়।
বাচ্চা রাস্তার ভাষা শিখছে? আমাদের বাসা, কাজিন, গেম আর মুরুব্বি
আমাদের অনেক বাচ্চা স্কুলে যাওয়ার অনেক আগেই কড়া ভাষা শুনে ফেলে: যানজটে, বাজারে, গলির ক্রিকেট খেলায়, বা এমন কোনো আত্মীয়ের কাছ থেকে, যাঁর কাছে ছোট বাচ্চার মুখে খারাপ কথা মজার লাগে। কয়েকটা পরিস্থিতি প্রায়ই আসে:
- যে আত্মীয় মজা করে শব্দ শিখিয়ে দেন: আলাদা করে বলুন, ‘প্লিজ হাসবেন না বা কোনো শব্দ শেখাবেন না; ও যা শোনে তা-ই বলে।’
- কাজিনদের সঙ্গে দেখা বা ঈদের দাওয়াত: যাওয়ার আগে বাচ্চাকে পরিবারের নিয়ম আর নিজেদের শব্দগুলোর কথা মনে করিয়ে দিন।
- অনলাইন গেম: ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো গেমের ভয়েস চ্যাটে বাচ্চা এমন অচেনা বড়দের সঙ্গে খেলে, যারা প্রচুর গালি দেয়। গেম খেলতে খেলতে গালি কমাতে চ্যাট বন্ধ রাখা, বা শুধু চেনা বন্ধুদের সঙ্গে চালু রাখা প্রায়ই কাজে দেয়; গেমের নিয়ম নিয়ে আছে সন্তান অনলাইন গেমে আসক্ত হলে কী করবেন লেখায়।
- ভিডিও: অনেক ‘মজার’ ক্লিপ, রোস্ট ভিডিও আর কিছু কার্টুন অপমানজনক কথায় ভরা। মাঝে মাঝে একসঙ্গে দেখুন, আর ভালো কনটেন্ট বাছতে দেখুন বাচ্চাদের কার্টুন আর ইউটিউব লেখাটি।
- যাঁরা বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন, দাদা-দাদি থেকে গৃহকর্মী, সবাই একই শান্ত কথা বলতে পারেন: ‘এই কথাটা আমরা বলি না।’
- বিশ্বাস আর মূল্যবোধ: অনেক পরিবার বাচ্চাকে বোঝান, কষ্ট দেওয়া কথা তাঁদের মূল্যবোধ আর বিশ্বাসের সঙ্গে যায় না। বাচ্চারা সাধারণত এটা সবচেয়ে ভালো বোঝে শান্ত সময়ে নরম আলাপে, রাগের মুহূর্তে লম্বা বকুনি বা ভয় দেখানো কথায় নয়।
বড়দের নিজেদের ভাষাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। বাসার বড়রা ঝগড়ার সময় বা টিভিতে খেলা দেখতে দেখতে গালি দিলে বাচ্চারা তা-ই শেখে; ‘আমিও চেষ্টা করছি, যেন আর না বলি’, এই কথাটা যেকোনো নিয়মের চেয়ে বেশি শেখায়।
ঘরের ভাষা বদলানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
- দিন ১: খেয়াল করুন। প্রতিটা খারাপ কথা লিখে রাখুন: কোন শব্দ, কোথায়, পাশে কে ছিল, ঠিক আগে কী হয়েছিল। বড়দের কথাও লিখুন। এখনই কিছু বদলাবেন না।
- দিন ২: সবাই মিলে পরিবারের একটা নিয়ম আর রাগ-কষ্টের জন্য তিনটা নিজস্ব শব্দ ঠিক করুন।
- দিন ৩: শান্ত প্রতিক্রিয়া অনুশীলন করুন: স্থির মুখ আর ছোট একটা বাক্য, প্রতিবার।
- দিন ৪: উৎসগুলো দেখুন: গেমের ভয়েস চ্যাট বন্ধ করুন, একসঙ্গে কয়েকটা ভিডিও দেখে নিন, আর আত্মীয়দের বলুন হাসবেন না বা শব্দ শেখাবেন না।
- দিন ৫: শিক্ষক, দাদা-দাদি আর গৃহকর্মীকে পরিকল্পনাটা জানান, যাতে সবাই একই শান্ত কথা বলেন।
- দিন ৬: একটা ভালো মুহূর্ত ধরুন: গালির বদলে বাচ্চা প্রথম যেবার পরিবারের শব্দটা বলে, তখনই প্রশংসা করুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কয়টা খারাপ কথা, কখন, আর কী কাজে দিল। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর একটা জিনিস বদলান।
বাচ্চার গালি নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন?
শান্ত, স্থির প্রতিক্রিয়া পেলে কয়েক সপ্তাহে অনেক বাচ্চার গালি কমে আসে। তবে নিচের কোনোটি দেখলে বাচ্চার ডাক্তার, শিশু-মনোবিজ্ঞানী বা স্কুলের সঙ্গে কথা বলুন:
এমন হলে সাহায্য নিন
- বাসায় শান্ত, স্থির সীমার পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন গালির সঙ্গে প্রচণ্ড রাগ, মারধর বা জিনিস ভাঙা।
- এমন শব্দ বা আওয়াজ হঠাৎ বেরিয়ে আসে, যা বাচ্চা চেষ্টা করেও থামাতে পারে না বলে মনে হয়, কখনো চোখ পিটপিট বা হঠাৎ ঝাঁকুনির মতো নড়াচড়ার সঙ্গে: এর জন্য বকবেন না বা শাস্তি দেবেন না, ডাক্তারকে জানান; তিনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
- ছোট বাচ্চা বয়সের তুলনায় অনেক বেশি যৌন বিষয় নিয়ে কথা বলে বা যৌন কিছু করে দেখায়, শুধু শুনে শেখা একটা গালি বলার চেয়ে বেশি কিছু: আলতো করে জিজ্ঞেস করুন কোথা থেকে শিখেছে, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। এরপর কী করবেন, আছে শিশুকে গুড টাচ ব্যাড টাচ শেখানো লেখায়।
- স্কুলে বা অনলাইনে অন্যরা বারবার বাচ্চাকে বাজে নামে ডাকে, গালি দেয় বা হুমকি দেয়, বা বাচ্চা সেখানে যেতে ভয় পায়: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- হঠাৎ পরিবর্তন: যে বাচ্চা আগে প্রায় গালি দিত না, সে হঠাৎ অনেক গালি দিচ্ছে, সঙ্গে দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, খিটখিটে ভাব বা কান্না, ঘুমের সমস্যা, বা স্কুলে যেতে না চাওয়া। আলতো করে জিজ্ঞেস করুন কী হচ্ছে, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- বাসার বড়রা প্রায় প্রতিদিন একে অন্যকে বা বাচ্চাদের গালি দেন, বা আপনি নিজেকে থামাতে পারছেন না: নিজের জন্য ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন, আর কেউ বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
খারাপ কথায় বড় প্রতিক্রিয়া না পেলে আর বলার মতো ভালো শব্দ হাতে থাকলে অনেক বাচ্চার গালি ধীরে ধীরে কমে আসে; তাই বাচ্চা গালি দেয় কী করবেন, তার উত্তর এক দিনের বকুনিতে নয়, প্রতিদিনের শান্ত প্রতিক্রিয়ায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কোন শব্দ, কখন, আর কী কাজে দিল, যাতে ধরনগুলো সহজে চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চা খারাপ কথা বলে, এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ। ছোট বাচ্চারা যা শোনে প্রায় সবই নকল করে, আর জোর দিয়ে বলা শব্দ বিশেষ করে মনে থেকে যায়। বেশির ভাগই শব্দের মানে জানে না। শান্ত মুখ, খুব কম মনোযোগ আর ছোট করে ‘এটা আমরা বলি না’ সাধারণত সবচেয়ে ভালো কাজ করে; বড় প্রতিক্রিয়া, এমনকি হাসিও, শব্দটাকে বারবার বলার মজা প্রায়ই বাড়িয়ে দেয়।
গালি দিলে কি বাচ্চাকে শাস্তি দেওয়া উচিত?
প্রথমবার মুখ ফসকে বেরোলে নয়, বিশেষ করে ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে। জেনেশুনে বারবার গালি দিলে ছোট, শান্ত, যুক্তিসঙ্গত একটা পরিণতি প্রায়ই কাজে দেয়, যেমন চ্যাটে গালি দিলে সেদিনের মতো গেম বন্ধ। কখনো মারবেন না, লজ্জা দেবেন না, বা মুখে সাবান বা মরিচ দেবেন না: এতে বাচ্চা ব্যথা পেতে পারে, ভয় পায়, আর ভালো কথার বদলে সাধারণত ভয়ই শেখে।
বাচ্চা গালাগালি শিখেছে কোথা থেকে?
সাধারণত স্কুলের বা পাড়ার বড় বাচ্চা, কাজিন, রাস্তা, ভিডিও, ভয়েস চ্যাটসহ অনলাইন গেম, আর রাগের মুহূর্তে বাসার বড়দের কাছ থেকে। দোষ না দিয়ে শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন শব্দটা কোথায় শুনেছে। এতে বোঝা যায় কোন উৎস নিয়ে কাজ করতে হবে, যেমন গেমের চ্যাট বন্ধ করা, বা কোনো আত্মীয়কে হাসতে মানা করা।
বাচ্চা বাবা-মাকে গালি দেয়, কী করব?
শান্ত থাকুন, পাল্টা গালি দেবেন না। নিচু গলায় বলুন, ‘আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে দেব না। শান্ত হলে আমি শুনব’, আর দরকার হলে একটু সরে যান। পরে কথা বলুন, কী নিয়ে এত রাগ হয়েছিল আর পরের বার কীভাবে বলা যায়। প্রায় প্রতিদিন হলে দেখুন রাগের পেছনে কী আছে।
গেম খেলার সময় বাচ্চা গালি দেয়, কী করব?
গেমের সময়ের গালি প্রায়ই আসে বড়দের সঙ্গে ভয়েস চ্যাট থেকে, আর হেরে যাওয়ার হতাশা থেকে। ভয়েস চ্যাট বন্ধ রাখুন বা শুধু চেনা বন্ধুদের সঙ্গে চালু রাখুন, গেম খেলা হোক সবার সামনের ঘরে, আর একটা নিয়ম ঠিক করুন: কাউকে গালি দিলে আজকের মতো গেম শেষ। খেলা খারাপ গেলে একটু বিরতিও কাজে দিতে পারে।
বাচ্চা গালি দিলে কি না শোনার ভান করব?
কখনো কখনো। ছোট বাচ্চার প্রথমবারের ভুলে না শোনার ভান প্রায়ই ভালো কাজ করে, কারণ মনোযোগই প্রায়ই শব্দটাকে মজার করে তোলে। তবে একটু বড় বাচ্চা মানুষকে গালি দিলে বা অপমানজনক শব্দ বললে এটা তেমন কাজে দেয় না: তখন শান্তভাবে নিয়মটা বলুন, আর পরে কথা বলুন। যেভাবেই হোক, সেই মুহূর্তে বড় প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।



