রমজানে বাচ্চার রুটিন: ঘুম, স্কুল, মোবাইল আর পরিবারের সময়
ছোট করে উত্তর
রমজানে বাচ্চার রুটিন ঠিক রাখার মূল কথা হলো ২৪ ঘণ্টায় মোট ঘুম ঠিক রাখা: ৩–৫ বছরে ১০–১৩ ঘণ্টা, ৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা; রাতে দেরি হলে দুপুরে একটু ঘুম যোগ করুন। ঘুম থেকে ওঠা আর স্কুলের সময় একই রাখুন, যারা রোজা রাখছে না তাদের সেহরিতে না জাগিয়ে ঘুমাতে দিন, ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ করুন, আর ঈদের পর ধীরে ধীরে আগের নিয়মে ফিরুন।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- রমজানে মোটামুটি ২–১৬ বছরের সন্তানের বাবা-মা, সন্তান রোজা রাখুক বা না রাখুক
- মূল কথা
- ঘুম হিসাব করুন ২৪ ঘণ্টা ধরে, দুপুরের ঘুমসহ, আর বয়স অনুযায়ী যতটা দরকার ততটাই রাখার চেষ্টা করুন।
- যে বাচ্চারা রোজা রাখছে না, তারা সাধারণত সেহরির সময় ঘুমিয়েই থাকতে পারে, আর টিফিনসহ স্বাভাবিক খাবার খাবে।
- ঘুম থেকে ওঠার সময় একই রাখুন, ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ করুন, আর তারাবির রাতে সন্ধ্যাগুলো শান্ত রাখুন।
- ঈদের পর একবারে নয়, প্রতি রাতে একটু একটু করে ঘুমের সময় আগের জায়গায় ফেরান।
সন্ধ্যা ৬টায় ইফতার, রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তারাবি, ভোর ৪টায় সেহরি, আর সকাল সাড়ে ৭টায় স্কুল: পুরো বাসা যখন নতুন সময়ে চলে, তখন রমজানে বাচ্চার রুটিন ঠিক রাখা প্রায় অসম্ভব মনে হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক বাবা-মা টের পান: সকালে খিটখিটে মেজাজ, দুপুরে ঘুম ঘুম ভাব, আর রাতে দেরি করে অতিরিক্ত চঞ্চলতা।
পুরো মাসটা অন্য মাসের মতো হতে হবে না। কয়েকটা জিনিস ঠিক রাখলেই চলে, মূলত ঘুম, খাবার আর ঘুম থেকে ওঠার একই সময়; তাতে পরিবার একসাথে রমজান উপভোগ করার মধ্যেও বাচ্চারা সাধারণত ভালো আর হাসিখুশি থাকে।
নিচে পাবেন: রমজানে ঘুম, দুটো নমুনা দিন, যারা রোজা রাখছে না তাদের খাবার, মোবাইল আর তারাবির রাত, স্কুল আর পরীক্ষা, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ঈদের সপ্তাহ, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।
রমজানে বাচ্চার ঘুম: কতটা দরকার?
রমজানে বাচ্চার ঘুমের প্রয়োজন বদলায় না; বদলায় শুধু ঘড়ির সময়। দুপুরের ঘুমসহ ২৪ ঘণ্টা ধরে হিসাব করুন, আর বছরের অন্য সময়ের মতো একই মোট ঘুমের লক্ষ্য রাখুন:
| বয়স | ২৪ ঘণ্টায় ঘুম | রমজানে |
|---|---|---|
| ১–২ বছর | ১১–১৪ ঘণ্টা | স্বাভাবিক ঘুমের সময় আর দিনের ঘুম; সেহরি আর তারাবির সময় ঘুমিয়েই থাকে |
| ৩–৫ বছর | ১০–১৩ ঘণ্টা | ঘুমের সময় যতটা সম্ভব আগের মতো; রাতে দেরি হলে দুপুরের ঘুম রাখুন বা আবার চালু করুন |
| ৬–১২ বছর | ৯–১২ ঘণ্টা | স্কুলের রাতে ঘুমের সময় আগের কাছাকাছি; স্কুলের পরে একটু বিশ্রাম; অনুশীলনের রোজা না থাকলে সেহরিতে ঘুমিয়েই থাকে |
| ১৩–১৮ বছর | ৮–১০ ঘণ্টা | রোজা রাখলে: তারাবির পর তাড়াতাড়ি ঘুম, স্কুলের সময় মিললে সেহরির পর আবার ঘুম, আর স্কুলের পরে একটু ঘুম |
নবজাতকসহ পুরো চার্ট পাবেন বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুম লেখায়।
রমজানে ঘুম ঠিক রাখবেন যেভাবে
- আগে ঘুম থেকে ওঠার সময় ঠিক করুন। স্কুলের দিনে সেটা তো ঠিক করাই; ছুটির দিনেও ঘণ্টাখানেকের বেশি দেরি নয়।
- বাচ্চার যতটা ঘুম দরকার, সেই ঘণ্টাগুলো পিছিয়ে গুনে ঘুমের সময় ঠিক করুন, আর তার মোটামুটি ৩০ মিনিট আগে থেকে শান্ত হওয়ার রুটিন শুরু করুন।
- যারা রোজা রাখছে না, তাদের সেহরির সময় ঘুমাতে দিন: রান্নাঘরের আওয়াজ কম রাখুন, ওদের ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন।
- রাতে দেরি হলে স্কুল বা দুপুরের খাবারের পরে একটু বিশ্রাম যোগ করুন, তবে বিকেলের শেষ দিকের আগেই শেষ করুন, যাতে রাতের ঘুম পিছিয়ে না যায়।
- ঘুমের আগের ধাপগুলো সবসময়ের মতোই রাখুন: হাত-মুখ ধোয়া, দাঁত ব্রাশ, গল্প বা একটু কথা, বাতি নেভানো। দেখুন শিশুর ঘুমের রুটিন তৈরির নিয়ম।
- শোবার ঘর অন্ধকার, ঠান্ডা আর চুপচাপ রাখুন; লোডশেডিংয়ের জন্য চার্জার ফ্যান বা লাইট হাতের কাছে রাখুন।
রমজানে বাচ্চার রুটিন: দুটো নমুনা দিন
পরিবারে বাচ্চা থাকলে রমজানের সময়সূচি সবচেয়ে ভালো চলে, যখন প্রতিটি বাচ্চার নিজের কয়েকটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। নিচে রোজা রাখছে না এমন ৬–১২ বছরের স্কুলগামী বাচ্চা আর ২–৫ বছরের ছোট বাচ্চার নমুনা সময়, ইফতার মোটামুটি সন্ধ্যা ৬টায় ধরে; নিজেদের ইফতার, সেহরি আর স্কুলের সময় মিলিয়ে বদলে নিন।
| দিনের সময় | স্কুলগামী বাচ্চা (৬–১২) | ছোট বাচ্চা (২–৫) |
|---|---|---|
| সকাল | সকাল ৬:৩০-এ ওঠা, নাশতা, সকাল ৭:৩০ থেকে স্কুল | সকাল ৭টায় ওঠা, নাশতা, খেলা |
| দুপুর | স্কুলে টিফিন আর পানি; বাসায় দুপুরের খাবার | দুপুর ১২:৩০-এ খাবার, মোটামুটি ১:৩০ থেকে দুপুরের ঘুম |
| বিকেল | একটু বিশ্রাম, তারপর বিকেল ৩:৩০ থেকে হোমওয়ার্ক | চুপচাপ খেলা, হালকা নাশতা, ফল ধোয়ায় সাহায্য |
| ইফতার (সন্ধ্যা ৬টার দিকে) | টেবিল সাজাতে সাহায্য, পরিবারের সঙ্গে খাওয়া | পরিবারের সঙ্গে বসে অল্প খাওয়া |
| সন্ধ্যা | সন্ধ্যা ৭:৩০-এ রাতের খাবার, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে খেলা; রাত ৮টার মধ্যে স্ক্রিন বন্ধ | সন্ধ্যা ৭টায় রাতের খাবার, গোসল, গল্প |
| রাত | রাত ৯টার মধ্যে ঘুম | রাত ৮টার মধ্যে ঘুম |
| সেহরি | ঘুমিয়েই থাকে | ঘুমিয়েই থাকে |
স্কুলগামী বাচ্চা রাতে মোটামুটি সাড়ে ৯ ঘণ্টা ঘুমায়, সঙ্গে একটু বিশ্রাম; আর ছোট বাচ্চা মোটামুটি ১১ ঘণ্টা, সঙ্গে দুপুরের ঘুম: দুজনেই নিজের বয়সের সীমার মধ্যে। ৬ বছর থেকে ঘুম থেকে ওঠার সময় ধরে ঘুমের সময় হিসাব করে দেবে স্কুলের দিনের পরিকল্পনা, আর সারা বছরের সময়সূচি পাবেন স্কুলগামী শিশুর দৈনিক রুটিন লেখায়।
সেহরি ও ইফতারের সময় বাচ্চা: যারা রোজা রাখছে না তাদের খাবার
যে বাচ্চারা রোজা রাখছে না, তাদের সারাদিনের স্বাভাবিক খাবার আর নাশতা দরকার, স্কুলের টিফিন আর পানিসহ। ইফতার ওদের জন্যও পরিবারের আনন্দের খাবার হতে পারে, তবে সারাদিন অপেক্ষা করে থাকার খাবার নয়।
- সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার আর বিকেলের নাশতা আগের সময়েই দিন; ছোট বাচ্চাকে ইফতারের জন্য অপেক্ষা করাবেন না।
- ইফতারে পানি, ফল, ছোলা, অল্প মুড়ি আর কিছু ভাজাপোড়া দিন, আর পরে ঠিকঠাক রাতের খাবার।
- সন্ধ্যায় জিলাপি, মিষ্টি শরবত আর কোমল পানীয় কম দিন; ঘুমের আগে বেশি মিষ্টি খেলে শান্ত হয়ে ঘুমাতে কষ্ট হতে পারে।
- মোটামুটি ৫ বছরের কম বাচ্চার জন্য খেজুরের বিচি ফেলে ছোট টুকরো করুন, ছোলা চটকে বা ভেঙে দিন, আঙুর লম্বালম্বি চার টুকরো করুন, আস্ত বাদাম দেবেন না, আর খাওয়ার সময় বসিয়ে রাখুন।
- যে বড় বাচ্চা বা কিশোর রোজা রাখছে, তার পেট ভরা সেহরি আর ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি দরকার; রোজাদার শিশুর সেহরি ও ইফতারে কী দেবেন, দেখুন শিশুকে রোজা রাখার অভ্যাস করানো লেখায়।
রমজান মাসে মোবাইল ও টিভি: তারাবির রাতে কী করবে বাচ্চা
রমজানে সবচেয়ে বেশি বদলায় সন্ধ্যা: ইফতার, মেহমান, তারাবি আর দেরি করে কেনাকাটা। বড়রা ব্যস্ত থাকলে ফাঁকটা সহজেই স্ক্রিন ভরিয়ে ফেলে, আর ঘুম পিছিয়ে যায়। নিয়ম কিন্তু একই থাকে: ২–৫ বছরে দিনে বড়জোর এক ঘণ্টা ভালো মানের কিছু, পারলে একসাথে বসে; ৬ বছর থেকে এমন নিয়মিত সীমা, যা ঘুম রক্ষা করে; আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন নয়।
- প্রতিটি বাচ্চাকে ইফতারের একটা দায়িত্ব দিন: ফল ধোয়া, গ্লাস সাজানো, খেজুর বিলানো।
- একসাথে সহজ একটা রমজান ক্যালেন্ডার বানান, আর প্রতিদিন ছোট একটা ভালো কাজের ঘর রং করুন।
- তারাবির সময়ের জন্য চুপচাপ খেলার একটা ঝুড়ি রাখুন: বই, আঁকার খাতা, পাজল, খেলার মাটি।
- যে বড় বাচ্চারা তারাবিতে যেতে চায়, তারা ছুটির আগের রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে যেতে পারে; স্কুলের আগের রাতে কম সময় থাকলে প্রায়ই ঘুমের সঙ্গে ভালো মানায়।
- বড়রা তারাবি বা কেনাকাটায় বাইরে গেলে একজন বড় মানুষ ছোটদের সঙ্গে থাকবেন। ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, কোলের শিশুর সঙ্গে একা রেখেও যাবেন না।
যা বলতে পারেন
- ইফতার ৬টায়। আজ খেজুর সাজানোর দায়িত্বটা তুমি নেবে?
- ট্যাবটা রাত ৮টায় ঘুমিয়ে যাবে, সবসময়ের মতো। চলো, একটা বই বেছে নিই।
- সেহরি যারা রোজা রাখছে তাদের জন্য। তুমি ঘুমাও, সকালে নাশতার সময় দেখা হবে।
- বৃহস্পতিবার রাতে তারাবিতে যেতে পারো, পরদিন তো স্কুল নেই।
- আজ রাতে সবাই ব্যস্ত, কিন্তু তোমার আর আমার জন্য ১০ মিনিট রেখেছি।
রমজানে স্কুল ও পড়ার রুটিন: পরীক্ষা, হোমওয়ার্ক আর কোচিং
রমজানে স্কুলের সময় প্রায়ই বদলায়, আর কিছু স্কুল মাসের একটা অংশ বন্ধ থাকে, তাই প্রতি বছর স্কুলের সময়সূচি দেখে নিন। স্কুল খোলা থাকলে সকালটা আগলে রাখুন: ঘুম থেকে ওঠার একই সময়, যারা রোজা রাখছে না তাদের জন্য নাশতা আর টিফিন, আর মাথা যখন ঝরঝরে থাকে, সেই ইফতারের আগেই হোমওয়ার্ক।
- পরীক্ষার সপ্তাহে ঘুমও পড়ারই অংশ। তারাবির পরে রাত জেগে পড়া বাদ দিন; ক্লান্ত রাতের এক ঘণ্টার চেয়ে ঝরঝরে সকালের এক ঘণ্টা সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
- কোচিং প্রায়ই ইফতারের পরে চলে যায়। দেরিতে শেষ হলে বাকি সন্ধ্যাটা ছোট রাখুন: রাতের খাবার, হাত-মুখ ধোয়া, ঘুম।
- পরীক্ষার মৌসুমে রোজা রাখা কিশোরের ঘুম, পানি আর পেট ভরা সেহরি আরও বেশি জরুরি; যে সময়ে সে সবচেয়ে সতেজ থাকে, পড়া রাখুন তখন। ধর্মীয় প্রশ্নে পরিবার নিজেদের আলেমের পরামর্শ মানে।
আমাদের বাসায় রমজান: ইফতার পার্টি, মেহমান আর ঈদের কেনাকাটা
- ইফতার পার্টি আর দাওয়াত: প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় বাইরে ইফতারে গেলে রাতের খাবার আর ঘুম দেরি হয়ে যায়। কয়েকটা বেছে নিন, আর স্কুলের আগের রাতে ছোটদের নিয়ে আগেই ফিরুন।
- সেহরিতে ভরা বাসা: যৌথ পরিবারে ভোররাত ৩–৪টায় রান্নাঘরের আওয়াজ আর কথাবার্তায় যে বাচ্চাদের ওঠার দরকার নেই, তাদেরও ঘুম ভাঙতে পারে। দরজা বন্ধ রাখা, একটানা আওয়াজের জন্য ফ্যান চালু রাখা আর নিচু গলায় কথা বলা কাজে দেয়।
- ঈদের কেনাকাটা: শেষ দশ দিনে সন্ধ্যার পর ভিড়ের বাজারে যাওয়া ক্লান্তিকর। মাসের শুরুর দিকে বা দিনের বেলায় কেনাকাটা সেরে নিন, আর সম্ভব হলে ছোটদের একজন বড় মানুষের কাছে বাসায় রেখে যান।
- গরম আর লোডশেডিং: গরমের রাতে ঘুমের আগে ঠান্ডা পানিতে হাত-মুখ-পা ধোয়া আর চার্জার ফ্যান বাচ্চাকে শান্ত হয়ে ঘুমাতে সাহায্য করে।
- মাসের আবহ: অনেক পরিবার ইফতারে একসাথে দোয়া করে, প্রতিবেশীকে ইফতার পাঠায়, বা অভাবী মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। বাচ্চারা বয়স অনুযায়ী শামিল হতে পারে, যেমন পাশের বাসায় একটা প্লেট পৌঁছে দেওয়া।
ঈদের সপ্তাহ, আর আবার আগের রুটিনে ফেরা
ঈদ মানেই রাত জাগা, গ্রামের বাড়ি যাওয়া, বেড়ানো আর অনেক মিষ্টি খাবার, আর এটাই আনন্দের অংশ। কয়েক রাতেই রমজানে বাচ্চার রুটিন এলোমেলো হয়ে যেতে পারে, তাই সপ্তাহটা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে আগের রুটিনে ফেরার পরিকল্পনা করুন:
- স্কুল খোলার দুই-তিন দিন আগে থেকেই প্রথমে ঘুম থেকে ওঠার সময় ঠিক করুন, আর প্রতিদিন একই রাখুন।
- প্রতি রাতে মোটামুটি ১৫ মিনিট করে ঘুমের সময় এগিয়ে আনুন, যতক্ষণ না আগের জায়গায় ফেরে।
- সকালের আলো লাগান: একটু হাঁটা, রোদ আসা জানালার পাশে বসে নাশতা, বা হেঁটে স্কুলে যাওয়া।
- ঘুমের সময়ের সঙ্গে খাবারের সময় আর স্ক্রিনের সীমাও আগের মতো ফিরিয়ে আনুন।
রমজানের প্রথম সপ্তাহের জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা
পারলে রমজানের কয়েক দিন আগেই শুরু করুন। প্রতিদিন এক লাইনে লিখুন: কখন ঘুমাল, কখন উঠল, দুপুরে ঘুমাল কি না, আর মেজাজ কেমন ছিল।
- দিন ১: পরিবারের নতুন সময়গুলো লিখে ফেলুন: সেহরি, ইফতার, তারাবি আর স্কুল।
- দিন ২: ওপরের ঘুমের তালিকা দেখে প্রতিটি বাচ্চার ঘুম থেকে ওঠা আর ঘুমানোর সময় ঠিক করুন।
- দিন ৩: কে কে সেহরিতে ঘুমিয়ে থাকবে ঠিক করুন, আর ওদের জন্য বাসাটা একটু চুপচাপ রাখুন।
- দিন ৪: ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধের সময় ঠিক করুন, আর তারাবির সময়ের জন্য চুপচাপ খেলার ঝুড়ি সাজান।
- দিন ৫: প্রতিটি বাচ্চাকে ইফতারের একটা দায়িত্ব দিন, আর খেয়াল করুন সন্ধ্যাগুলো কেমন যাচ্ছে।
- দিন ৬: সকাল কঠিন গেলে স্কুলের পরে একটু বিশ্রাম যোগ করুন, বা ঘুমের সময় ১৫ মিনিট এগিয়ে আনুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: সকালগুলো কি সহজ হয়েছে, মেজাজ কি শান্ত? যা কাজে দিল, বাকি মাস সেটাই চালিয়ে যান।
রমজানে ঘুম বা শরীর নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন
বেশিরভাগ বাচ্চা মোটামুটি এক সপ্তাহের মধ্যে রমজানের রুটিনে মানিয়ে নেয়। বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, যদি:
এসব হলে সাহায্য নিন
- আগে ঘুমানো আর বিশ্রামের পরও এক-দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দিনে খুব ঘুম ঘুম ভাব থাকে, বা ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়ে।
- নিয়মিত রুটিন মেনে চলার পরও ঈদের এক মাস পর পর্যন্ত ঘুমিয়ে পড়তে কষ্ট হয়, বা ঘুমের সময় লড়াই চলতেই থাকে।
- রোজা রাখা বাচ্চার মাথা ঘোরা, বমি বা প্রস্রাব খুব কমে গেলে রোজা ভাঙতে দিন; পানি, খাবার আর বিশ্রামের পর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ভালো না হলে, বা অজ্ঞান হয়ে গেলে, সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- বাচ্চার ডায়াবেটিস বা দীর্ঘমেয়াদি অন্য কোনো অসুখ আছে, আর সে রোজা রাখতে চায়: আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- বাচ্চাকে ঠিকমতো জাগানো যায় না, খিঁচুনি হয়, বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়: ৯৯৯-এ ফোন করুন।
এক রাতের দেরি দেখে নয়, এক সপ্তাহ ধরে দেখলে রমজানে বাচ্চার রুটিন কতটা কাজ করছে বোঝা সহজ। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
ছোট বাচ্চাদের কি সেহরিতে ডেকে তোলা উচিত?
সাধারণত না। যে বাচ্চারা রোজা রাখছে না, তাদের রাতের পুরো ঘুম দরকার, তাই বেশিরভাগই সেহরির সময় ঘুমিয়ে থাকতে পারে। যে বড় বাচ্চা রোজার অনুশীলন করছে, বা অভিজ্ঞতাটা পেতে চায়, সে ছুটির আগের রাতে যোগ দিতে পারে। বাকিরা যাতে ঘুমাতে পারে, সেজন্য বাসা চুপচাপ রাখুন।
রমজানে বাচ্চারা রাত জাগলে কি সমস্যা?
পরিবারের ইফতার বা চাঁদরাতের মতো কয়েকটা দেরির রাত এই মাসেরই অংশ, আর সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে টানা অনেক রাত দেরি হলে, বিশেষ করে স্কুলের আগের রাতে, ক্লান্তি জমে আর সকালগুলো খিটখিটে যায়। স্কুলের রাতে ঘুমের সময় আগের কাছাকাছি রাখুন, আর ছুটির দিনের দেরি পুষিয়ে নিন দুপুরের ঘুম বা বিশ্রামে।
ছোট বাচ্চা কি পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারে?
হ্যাঁ। পরিবারের সঙ্গে ইফতারে বসা ছোট বাচ্চার জন্য আনন্দের, যদি না এটা অনেক ঘণ্টা পরে ওর প্রথম খাবার হয়। নরম আর নিরাপদ টুকরো দিন: বিচি ফেলে ছোট করে কাটা খেজুর, চটকানো ছোলা, নরম ফল। বসিয়ে খাওয়ান, আস্ত বাদাম দেবেন না, আর রাতের খাবার দিন ওর স্বাভাবিক সময়েই।
রমজানে বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখব কীভাবে?
ওদের সত্যিকারের দায়িত্ব আর শান্ত কিছু কাজ দিন: ইফতারের জন্য ফল ধোয়া আর গ্লাস সাজানো, ছোট ছোট ভালো কাজের রমজান ক্যালেন্ডার, তারাবির সময় ছবি আঁকা, বই পড়া বা পাজল। সকালে বা বিকেলের শেষে ঠান্ডা সময়ে বাইরে একটু খেলাও কাজে দেয়। স্ক্রিন আগের সীমার মধ্যেই রাখুন।
রমজানে পরীক্ষা থাকলে কী করব?
আগে ঘুম রক্ষা করুন: ঘুম থেকে ওঠার একই সময়, তারাবির পরে রাত জেগে পড়া নয়, আর পড়া হোক ঝরঝরে সকালে বা ইফতারের আগে। যারা রোজা রাখছে না, তাদের স্বাভাবিক খাবার আর টিফিন চলবে। রোজা রাখা কিশোরের পড়া রাখুন সেই সময়ে, যখন সে সবচেয়ে সতেজ থাকে; ধর্মীয় প্রশ্নে পরিবার নিজেদের আলেমের পরামর্শ মানে।
ঈদের পর বাচ্চার ঘুম স্বাভাবিক হতে কতদিন লাগে?
প্রায়ই মোটামুটি এক সপ্তাহ। স্কুল খোলার দুই-তিন দিন আগে থেকে শুরু করুন: আগে ঘুম থেকে ওঠার সময় ঠিক করুন, প্রতি রাতে মোটামুটি ১৫ মিনিট করে ঘুমের সময় এগিয়ে আনুন, আর সকালের আলো লাগান। খাবারের সময় আর স্ক্রিনের সীমাও আগের মতো ফিরিয়ে আনুন। মাঝে কয়েকটা খিটখিটে সকাল স্বাভাবিক।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




