শিশুকে রোজা রাখার অভ্যাস করানো: চাপ না দিয়ে প্রথম রোজায় পাশে থাকার উপায়
ছোট করে উত্তর
শিশুকে রোজা রাখার অভ্যাস করানো সাধারণত সবচেয়ে সহজ হয় অর্ধেক বেলার রোজা দিয়ে শুরু করলে; প্রস্তুতি অনুযায়ী সময়টা ধীরে ধীরে বাড়ে, আর অনেক পরিবার মোটামুটি ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শুরু করে। পেট ভরা সেহরি, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত যথেষ্ট পানি আর পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব, বমি বা প্রস্রাব খুব কমে গেলে রোজা ভাঙতে দিন, আর চাপ নয়, চেষ্টার প্রশংসা করুন।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- রমজানে রোজা রাখতে চায় এমন মোটামুটি ৭–১৪ বছরের শিশুর বাবা-মা, আর যে ছোটরা বড়দের সঙ্গে শামিল হতে চায়, তাদেরও
- মূল কথা
- সন্তান কখন রোজা রাখবে, সেটা ধর্মীয় প্রশ্ন, যা পরিবার নিজেদের আলেমদের পরামর্শে ঠিক করে; এই লেখা শুধু স্বাস্থ্য, রুটিন আর মনের দিক নিয়ে।
- ধীরে ধীরে বাড়ানো অর্ধেক বেলার রোজা প্রথমবারের জন্য বেশিরভাগ শিশুর উপযোগী; স্কুল বা পরীক্ষার দিনে নয়, ছুটির দিনে শুরু করুন।
- পেট ভরা সেহরি, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি, আর পর্যাপ্ত ঘুম, রোজার ঘণ্টার চেয়ে এগুলো বেশি জরুরি।
- মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব, বমি বা প্রস্রাব খুব কমে গেলে রোজা ভাঙতে দিন, আর যে শিশু থেমে যায় তাকে কখনো জোর বা লজ্জা দেবেন না।
আপনার ৮ বছরের মেয়ে বছরের পর বছর সবাইকে রোজা রাখতে দেখেছে, আর এবারের রমজানে সে নিজেও রাখতে চায়। শিশুকে রোজা রাখার অভ্যাস করানো নিয়ে অনেক বাবা-মায়ের মনে একসাথে আনন্দ আর দুশ্চিন্তা কাজ করে: ও কি পারবে, স্কুলে খিদে পেলে কী হবে, শরীর খারাপ হবে না তো?
একটু পরিকল্পনা থাকলে বেশিরভাগ সুস্থ শিশু এমনভাবে রোজার অনুশীলন করতে পারে, যা পরীক্ষার মতো নয়, উৎসবের মতো লাগে। সন্তান কখন রোজা রাখবে, সেটা ধর্মীয় প্রশ্ন; এ ব্যাপারে প্রতিটি পরিবার নিজেদের আলেমদের পরামর্শ মানে। এই লেখা স্বাস্থ্য, রুটিন আর মনের দিক নিয়ে।
নিচে পাবেন: শিশু প্রস্তুত কি না, ধাপে ধাপে অর্ধেক বেলার রোজা, সেহরি ও ইফতারে কী খাবে, ঘুম আর স্কুলের দিন, কখন রোজা ভাঙতে দেবেন, কী বলবেন, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন ডাক্তার দেখাবেন।
শিশুকে রোজা রাখার অভ্যাস করানোর আগে: শিশু কি প্রস্তুত?
জন্মদিনের চেয়ে প্রস্তুতিটাই বেশি জরুরি। স্বাস্থ্যের দিক থেকে শিশু অনুশীলনের রোজা সাধারণত ভালোভাবে সামলাতে পারে, যখন:
- সে নিজে থেকে রোজা রাখতে চায়, কেউ চাপ দিচ্ছে বলে নয়।
- সে সুস্থ, ঠিকমতো খায় আর বাড়ছে, দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ নেই, বা থাকলেও ডাক্তার রাজি হয়েছেন।
- শরীর খারাপ লাগলে, মাথা ঘুরলে বা খুব পিপাসা পেলে সে পরিষ্কার করে বলতে পারে।
- সে পর্যাপ্ত ঘুমাচ্ছে, আর সামনের দিনটা শান্ত, খেলার দিন বা পরীক্ষার দিন নয়।
| বয়স | যা প্রায়ই মানানসই | খেয়াল রাখুন |
|---|---|---|
| ৭ বছরের কম | সাধারণত রোজা না রাখাই ভালো; মাঝে মাঝে সেহরি বা ইফতারে শামিল হওয়া, টেবিল সাজাতে সাহায্য, মাসটার আনন্দ ভাগ করে নেওয়া | অন্য দিনের মতোই নিয়মিত খাবার, পানি আর ঘুম |
| ৭–৯ বছর | কয়েক ঘণ্টা, যেমন সেহরি থেকে সকাল বা দুপুর পর্যন্ত, ছুটির দিনে | শক্তি, মেজাজ আর পিপাসা; গরমের দিনে আগেই থামুন |
| ১০–১২ বছর | আরও লম্বা অর্ধেক বেলার রোজা, আর সুস্থ থাকলে ও চাইলে শান্ত দিনে কয়েকটা পুরো দিন | ঘুম, স্কুলের দিন, খেলাধুলা আর পরীক্ষা |
| ১৩ বছর ও তার বেশি | অনেকে পরিবারের মতোই বেশিরভাগ দিন রোজা রাখে | ঘুম, পানি, সেহরি-ইফতারের খাবার, পরীক্ষা; ওজন নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা |
বয়সগুলো মোটামুটি ধারণা মাত্র। আগ্রহী, সুস্থ একটা ৮ বছরের শিশু হয়তো পরীক্ষার সপ্তাহে ক্লান্ত ১১ বছরের শিশুর চেয়ে বেশি পারবে। সন্তানের ডায়াবেটিস, কিডনি বা হার্টের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা মৃগী রোগ থাকলে, নিয়মিত ওষুধ খেলে, বা ওজন কম হলে যেকোনো রোজার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
শিশুর প্রথম রোজা: ধাপে ধাপে অর্ধেক বেলার রোজা
প্রথম রোজা ছোট একটা ধাপ হিসেবে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ালে সবচেয়ে ভালো হয়। অনেক পরিবারে ছোটদের এই অর্ধেক বেলার রোজাকে আদর করে “পাখি রোজা” বলা হয়। বেশিরভাগ পরিবারে এই ধাপগুলো কাজে দেয়:
- কয়েক দিন আগে থেকেই কথা বলুন: আপনার পরিবারে রোজার মানে কী, দিনটা কেমন হবে, আর থেমে যাওয়া যে সবসময় চলবে।
- প্রথম চেষ্টার জন্য শান্ত একটা দিন বাছুন: ছুটির দিন, স্কুল, খেলা বা পরীক্ষার দিন নয়।
- সেহরিতে ডেকে তুলুন, খাওয়া আর পানি খাওয়া নিশ্চিত করুন, তারপর সম্ভব হলে আবার ঘুমাতে দিন।
- ছোট দিয়ে শুরু করুন: সেহরি থেকে সকাল বা দুপুর পর্যন্ত। কয়েক দিন ভালোভাবে গেলে ঘণ্টাখানেক করে বাড়ান।
- দিনটা শান্ত রাখুন: ছায়া, বিশ্রাম, বই পড়া, ছবি আঁকা, রান্নাঘরে টুকটাক সাহায্য। দৌড়ঝাঁপের খেলা আর দুপুরের রোদ বাদ দিন।
- “শরীর ভালো লাগছে না” বোঝাতে সহজ একটা ইশারা বা কথা ঠিক করে নিন, আর এক-দুই ঘণ্টা পরপর খোঁজ নিন।
- রোজা শেষ করুন প্রথমে পানি দিয়ে, তারপর খেজুর বা ফল, তারপর ঠিকঠাক খাবার; আর কত ঘণ্টা হলো তা যা-ই হোক, চেষ্টার প্রশংসা করুন।
যা বলতে পারেন
- তুমি রোজা রাখতে চাও? শুনে খুব ভালো লাগল। চলো, প্রথমে অল্প দিয়ে শুরু করি, দুপুর পর্যন্ত।
- মাথা ঘুরলে বা খুব পিপাসা পেলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলবে। থেমে যাওয়া সবসময় ঠিক আছে।
- আজ তুমি দুপুর পর্যন্ত রোজা রেখেছ। এর জন্য সত্যিই অনেক ধৈর্য লাগে।
- শরীর বলেছে পানি লাগবে, আর তুমি সেটা শুনেছ। এটা বুদ্ধির কাজ, দুর্বলতা না।
- কাল স্কুল আছে, তাই কাল স্বাভাবিকভাবে খাবে। শুক্রবার আবার চেষ্টা করব।
রোজা রাখা শিশু সেহরি আর ইফতারে কী খাবে?
রোজা রাখা শিশুর এমন খাবার দরকার, যা অনেকক্ষণ শক্তি দেয়, আর ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত যথেষ্ট পানি। ঘরের চেনা খাবারই ভালো কাজ করে:
| বেলা | ভালো পছন্দ | কম দিন |
|---|---|---|
| সেহরি | ভাত বা রুটির সঙ্গে ডাল, ডিম, মাছ বা মুরগি আর সবজি; চিড়া-দই; দুধ, কলা বা খেজুর; পানি | খুব লবণাক্ত, ঝাল বা ভাজা খাবার, যাতে পিপাসা বাড়ে; মিষ্টি পানীয় |
| ইফতার | প্রথমে পানি, একটা খেজুর বা ফল, তারপর ঠিকঠাক খাবার; ছোলা, অল্প মুড়ি, তরমুজ বা পেঁপের মতো ফল | শুধু ভাজাপোড়ায় ভরা প্লেট (পিঁয়াজু, বেগুনি, চপ) আর জিলাপির মতো মিষ্টি |
| ইফতার থেকে সেহরি | অল্প অল্প করে বারবার পানি, দুধ বা দই, ফল, হালকা রাতের খাবার | সেহরির ঠিক আগে একবারে অনেক পানি; কোমল পানীয় |
কোন বয়সে কতটা পানি দরকার আর বয়স অনুযায়ী সহজ খাবারের প্লেট, দেখুন শিশুর খাবার ও পুষ্টি গাইডে।
রোজার দিনে শিশুর ঘুম আর স্কুল
রোজার সময় ঘুমের দিকটা অনেক পরিবারই খেয়াল করে না। সেহরির জন্য ওঠায় রাতের ঘুম কমে যায়, আর ক্লান্ত শিশুর জন্য রোজা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ৬–১২ বছরের শিশুর ২৪ ঘণ্টায় ৯–১২ ঘণ্টা আর কিশোরদের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার, তাই রোজা রাখা শিশুর সাধারণত একটু আগে ঘুমানো আর স্কুলের পরে বিশ্রাম দরকার; দেখুন বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুম।
- অনেক পরিবার শুরুতে শুধু ছুটির দিনে অনুশীলনের রোজা রাখে, আর শিশু ভালোভাবে সামলাতে পারলে তবেই স্কুলের দিন যোগ করে।
- স্কুলের দিনে ছোট রোজাই প্রায়ই বেশি মানানসই; পিটি, খেলাধুলা বা রোদে লম্বা পথ হেঁটে বাসায় ফেরা থাকলে আগেই থামার কারণ আছে।
- ক্লাস টিচারকে জানিয়ে রাখুন যে সন্তান রোজার অনুশীলন করছে, যাতে শরীর খারাপ মনে হলে তিনি আপনাকে খবর দিতে পারেন।
- পরীক্ষার দিন আর কোচিংয়ের চাপের দিনে অনেক পরিবার অনুশীলনের রোজা পুরোপুরি বাদ দেয়।
যারা রোজা রাখছে না তাদেরসহ পুরো মাসের রুটিন পাবেন রমজানে বাচ্চার রুটিন লেখায়।
রোজা রেখে বাচ্চা দুর্বল হলে: কখন রোজা ভাঙতে দেবেন
বড়দের চেয়ে শিশুর শরীরে শক্তি আর পানি তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। এসব দেখলে রোজা ভাঙতে দিন, পানি আর খেজুর বা ফলের রসের মতো মিষ্টি কিছু দিন, আর বিশ্রাম নিতে দিন:
- মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লাগা, বা হাত-পা কাঁপা।
- মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, বা যেকোনো বমি।
- প্রস্রাব খুব কম বা গাঢ় হলুদ, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা ঠোঁট ফাটা।
- অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব, এলোমেলো কথা, ফ্যাকাশে আর ঘামে ভেজা শরীর, বা হঠাৎ এমন খিটখিটে মেজাজ যা ওর স্বভাবের সঙ্গে মেলে না।
- যেকোনো অসুখ: জ্বর, পাতলা পায়খানা, শরীর দুর্বল করা সর্দি, বা শিশুকে দেখে শুধু অসুস্থ মনে হওয়া।
রোজা ভেঙে ফেললে বাচ্চাকে কী বলবেন
শিশুরা কখনো আগেই থেমে যায়, ভুল করে কিছু খেয়ে ফেলে, বা স্রেফ মত বদলায়; আর ওরা মনে রাখে বড়রা তখন কী বলেছিলেন। রোজা হলো কি না, সেটা পরিবারের আলেমদের কাছে জানার প্রশ্ন; শিশুর বেলায় প্রশংসা প্রাপ্য তার চেষ্টার।
- শিশু থামতে চাইলে বা শরীর খারাপ লাগলে কখনো জোর করে রোজা চালিয়ে যেতে বলবেন না।
- লজ্জা বা ভয় দেখাবেন না: “সবাই হাসবে”, “তুমি দুর্বল”, এমন কথা নয়, কাজিনদের খোঁচাও নয়।
- সন্তান চাইলে কয়টা রোজা রাখল সেই হিসাব নিজেদের মধ্যেই রাখুন; এটা ওর অনুশীলন, প্রতিযোগিতা নয়।
- নির্দিষ্ট চেষ্টার প্রশংসা করুন: ধৈর্য, সেহরিতে ওঠা, ইফতারে সাহায্য। দেখুন সন্তানের প্রশংসা করার উপায়।
- কিছু উপহার দিলে ছোট রাখুন, আর দিন চেষ্টার জন্য, ঘণ্টা বা রোজার সংখ্যার জন্য নয়।
আমাদের বাসায় প্রথম রোজা: আত্মীয়, ইফতারের টেবিল আর গরম
- রোজার হিসাব: আত্মীয়রা প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন “কয়টা রোজা রাখলে?”, কাজিনদের সঙ্গে তুলনাও করেন। সন্তানের হয়ে আপনিই উত্তর দিন: “ও নিজের মতো করে অনুশীলন করছে, আমরা ওকে নিয়ে গর্বিত।”
- ইফতারের টেবিল: পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি এই আনন্দেরই অংশ। আগে পানি আর ঠিকঠাক শুরু, তারপর ও এগুলোও একটু খাক।
- যৌথ পরিবার আর মেহমান: বাসায় অনেক বড় মানুষ থাকলে ঠিক করুন দিনের বেলা কে রোজা রাখা শিশুর খোঁজ নেবে, আর কেউ যেন ওকে চালিয়ে যেতে চাপ না দেয়।
- গরম আর লোডশেডিং: গরমের দিনে, বা কারেন্ট চলে গিয়ে ফ্যান বন্ধ হলে, রোজা ছোট রাখুন, আর শিশুকে ঘরের ভেতরে ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
- ভাইবোন: যে ছোট শিশু রোজা রাখছে না, তার নিয়মিত খাবার দরকারই; রোজা রাখা বড় ভাই বা বোনের সুবিধা হলে দুপুরে ছোটটিকে অন্য ঘরে খেতে দিন।
অনেক পরিবার এই মাসে ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা আর অন্যের প্রতি মমতা শেখায়; প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলো নিয়ে আছে শিশুকে আদব-কায়দা ও ভালো অভ্যাস শেখানো লেখায়।
সন্তানকে রোজা রাখার জন্য উৎসাহ দেওয়া: ৭ দিনের পরিকল্পনা
শিশুকে রোজা রাখার অভ্যাস করানো শুরু করুন রমজানের আগের সপ্তাহে বা প্রথম কয়েক দিনে, আর প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: কত ঘণ্টা রোজা, ঘুম, শক্তি আর মেজাজ।
- দিন ১: আপনার পরিবারে রোজার মানে কী, তা নিয়ে একসাথে কথা বলুন, আর থামার ইশারাটা ঠিক করুন।
- দিন ২: ঘুমের সময় এগিয়ে আনুন, যাতে সেহরিতে উঠতে গিয়ে ঘুম খুব বেশি না কমে।
- দিন ৩: একসাথে সেহরির পরিকল্পনা করুন, আর ওপরের তালিকা থেকে পছন্দের একটা খাবার ওকেই বাছতে দিন।
- দিন ৪: শান্ত একটা দিনে প্রথম অনুশীলনের রোজা, সেহরি থেকে সকাল বা দুপুর পর্যন্ত।
- দিন ৫: নিয়মিত খাবারের বিরতির দিন; রোজাটা কেমন লাগল তা নিয়ে গল্প করুন।
- দিন ৬: প্রথম রোজা ভালোভাবে গেলে একটু লম্বা করুন; না গেলে আগের মতোই রাখুন।
- দিন ৭: নোটগুলো ফিরে দেখুন: ঘুম, শক্তি, মেজাজ। কাজিনরা কী করছে তা দেখে নয়, নিজে যা দেখলেন তা দেখে পরের সপ্তাহ ঠিক করুন।
রোজা নিয়ে কখন ডাক্তার দেখাবেন
বেশিরভাগ সুস্থ শিশু ছোট অনুশীলনের রোজা ভালোভাবেই সামলায়, আর পানি, খাবার ও বিশ্রামের পর তাড়াতাড়ি ভালো বোধ করে। তবু এমন হলে সাহায্য নিন:
এসব হলে ডাক্তারের সাহায্য নিন
- সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ আছে, যেমন ডায়াবেটিস, কিডনি বা হার্টের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা মৃগী, বা নিয়মিত ওষুধ খায়: যেকোনো রোজার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- পানি, খাবার আর বিশ্রামের পর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেও মাথা ঘোরা বা বমি না কাটলে: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- শিশু অজ্ঞান হয়ে যায়, একবার হলেও, পানি আর মিষ্টি কিছু খাওয়ার পরও এলোমেলো ভাব না কাটে, বা ভালোমতো পানি খাওয়ার পরও প্রস্রাব খুব কম হয়: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- শিশুকে ঠিকমতো জাগানো যায় না, খিঁচুনি হয়, বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়: ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- মাস জুড়ে ওজন কমে যায়, সারাক্ষণ ক্লান্ত থাকে, বা খাবার ও ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু করে আর সেহরি বা ইফতার বাদ দেয়: শিগগিরই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
শিশুকে রোজা রাখার অভ্যাস করানো একদিনের কাজ নয়; প্রতিটি শিশু নিজের গতিতে এগোয়, আর আসল ধারাটা বোঝা যায় কয়েক দিনে, কয়েক ঘণ্টায় নয়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
শিশু কত বছর বয়সে রোজা রাখা শুরু করতে পারে?
শিশু কখন রোজা রাখা শুরু করবে, সেটা ধর্মীয় প্রশ্ন; এ ব্যাপারে প্রতিটি পরিবার নিজেদের আলেমদের পরামর্শ মানে। স্বাস্থ্যের দিক থেকে অনেক শিশু মোটামুটি ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে, নিজে চাইলে আর সুস্থ থাকলে, অর্ধেক বেলার রোজা দিয়ে শুরু করে। ছোটরা সেহরি বা ইফতারে শামিল হয়ে অন্যভাবে অংশ নিতে পারে।
বাচ্চাদের অর্ধেক বেলার রোজা মানে কী?
অর্ধেক বেলার রোজা মানে ছোট অনুশীলনের রোজা: শিশু সেহরি খায়, তারপর সকাল বা দুপুর পর্যন্ত রোজা রেখে আবার খায়। অনেক পরিবারে একে আদর করে পাখি রোজা বলে। শিশু ভালোভাবে সামলালে অনেকে কয়েক দিন পরপর ঘণ্টাখানেক করে বাড়ায়, আর লম্বা রোজা রাখে ছুটির দিনে।
স্কুলের দিনে কি বাচ্চা রোজা রাখতে পারবে?
কেউ কেউ পারে, বাসায় অনুশীলনের রোজা ভালোভাবে সামলাতে পারার পর। অনেক পরিবার আগে ছুটির দিনে শুরু করে, তারপর স্কুলের দিনে ছোট রোজা চেষ্টা করে। শিক্ষককে জানিয়ে রাখুন, পিটি, খেলা বা পরীক্ষার দিনে রোজা বাদ দিন, আর মাথা ঘুরলে, বমি ভাব হলে বা খুব ক্লান্ত লাগলে থামতে দিন।
সেহরিতে বাচ্চাকে কী খাওয়ালে সারাদিন ভালো থাকবে?
ধীরে হজম হয়, পেট ভরায় এমন ঘরের খাবারই ভালো: ভাত বা রুটির সঙ্গে ডাল, ডিম, মাছ বা মুরগি আর সবজি, বা চিড়া-দই, সঙ্গে দুধ, কলা বা খেজুর আর পানি। খুব লবণাক্ত, ঝাল বা ভাজা খাবার কম দিন, এতে দিনভর পিপাসা বাড়ে।
রোজা রেখে বাচ্চার মাথা ঘুরলে কী করব?
সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙতে দিন। ঠান্ডা কোনো জায়গায় বসান বা শুইয়ে দিন, পানি আর খেজুর বা ফলের রসের মতো মিষ্টি কিছু দিন, আর বিশ্রাম নিতে দিন। অজ্ঞান হয়ে গেলে, বমি করলে, এলোমেলো লাগলে বা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ভালো না লাগলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
বাচ্চা রোজা রাখতে চায় কিন্তু এখনো অনেক ছোট, কী করব?
রোজা ছাড়াই শামিল হতে দিন: ছুটির দিনে সেহরিতে ডেকে তুলুন, ইফতারের টেবিল সাজাতে বা খেজুর বিলাতে দিন, বা বিকেলের নাশতাটা রেখে দিয়ে সবার সঙ্গে ইফতারে খেতে দিন। ওর অংশ নেওয়ার ইচ্ছার প্রশংসা করুন। অনুশীলনের সময় ঠিকই আসবে।
রোজা রাখলে কি বাচ্চাকে পুরস্কার দেওয়া উচিত?
বড় পুরস্কারের চেয়ে প্রশংসাই সাধারণত বেশি কাজে দেয়। নির্দিষ্ট চেষ্টাটা খেয়াল করুন, যেমন সেহরিতে ওঠা, দুপুরের পর ধৈর্য ধরা, বা ইফতারে সাহায্য করা। কিছু দিলে ছোট রাখুন, আর দিন চেষ্টার জন্য, ঘণ্টার জন্য নয়, যাতে আগে থেমে যাওয়া শিশু কখনো নিজেকে হেরে যাওয়া মনে না করে।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।






