মূল কনটেন্টে যান

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায়, মেজাজ খিটখিটে? কোনটা স্বাভাবিক, কী করবেন

ছোট করে উত্তর

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায়, মেজাজ ঘনঘন বদলায়? ১২ থেকে ১৮ বছরে এটা খুব সাধারণ: হরমোন, অনুভূতি সামলাতে শিখতে থাকা মস্তিষ্ক, কম ঘুম আর চাপ, সবই ভূমিকা রাখে। শান্ত থাকুন, অনুভূতির নাম বলুন, একটু একা থাকতে দিন, পরে কথা বলুন। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকলে ডাক্তার দেখান; নিজের ক্ষতির কথা, মাদক বা মারামারি হলে সেদিনই সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ১২ থেকে ১৮ বছরের সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তানের মেজাজ হুটহাট বদলায় বা রাগ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে
মূল কথা
  • হুটহাট মেজাজ বদলানো, খিটখিটে ভাব আর অল্পতে রেগে যাওয়া কিশোর বয়সে সাধারণ, আর সাধারণত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনে কেটে যায়, স্কুল, বন্ধু বা শখ বন্ধ না করেই।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ বা খিটখিটে থাকা, সবার কাছ থেকে গুটিয়ে যাওয়া, বা কোনো কিছুতেই আর আনন্দ না পাওয়া আলাদা ব্যাপার: ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • রাগের মুহূর্তে আপনার শান্ত থাকাটাই সবচেয়ে কাজের: গলা নামান, অনুভূতির নাম বলুন, একটু একা থাকতে দিন, আর সবাই ঠান্ডা হলে কথা বলুন।
  • রাগ যদি মারধর, হুমকি বা জিনিস ভাঙায় গড়ায়, আগে সবার নিরাপত্তা; কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায়, আর তাতে বাসার পরিবেশ বোঝা দায় হয়ে পড়ে: সকালে নাশতার টেবিলে হাসি, দুপুরে দড়াম করে দরজা বন্ধ, রাতে ওয়াইফাই নিয়ে চিৎকার। যে সন্তান আগে এত সহজ ছিল, সে এখন প্রতিটা প্রশ্নে ঝাঁঝিয়ে উঠলে মনে হতেই পারে, এটা কি স্বাভাবিক, নাকি কিছু একটা গোলমাল?

বেশির ভাগ কিশোর-কিশোরীর ক্ষেত্রে মেজাজের এই ওঠানামা বড় হওয়ারই অংশ, আর সময়ের সঙ্গে কমে আসে। নিচে পাবেন: কেন এমন হয়, স্বাভাবিক মেজাজ আর লম্বা সময়ের মন খারাপের পার্থক্য, রাগের মুহূর্তে কী করবেন, ঘুম, খাবার আর একা থাকার সুযোগ, কী বলবেন, রাগ মারামারিতে গড়ালে কী করবেন, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন। নিয়ম ভাঙা আর অবাধ্যতা নিয়ে দেখুন টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন লেখাটি।

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায় কেন? মেজাজ বদলানোর কারণ

বয়ঃসন্ধিতে মনের পরিবর্তনের পেছনে সাধারণত একসাথে কয়েকটা কারণ কাজ করে, আর বেশির ভাগই বড় হওয়ার স্বাভাবিক অংশ:

  • বয়ঃসন্ধি: শরীর দ্রুত বদলাচ্ছে, আর অনুভূতি আগের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর তীব্রভাবে জেগে ওঠে।
  • এখনো গড়ে উঠতে থাকা মস্তিষ্ক: থামা, ভেবে দেখা আর বড় অনুভূতি সামলানোর অংশগুলো বিশের কোঠা পর্যন্ত গড়ে উঠতে থাকে, অথচ আবেগ থাকে তুঙ্গে।
  • কম ঘুম: কিশোর বয়সে শরীরের ঘড়ি দেরিতে ঘুমাতে চায়, অথচ স্কুল শুরু হয় সকালে; আর ক্লান্ত কিশোর প্রায়ই খিটখিটে থাকে।
  • খিদে: সকালের নাশতা বাদ, বা এক প্যাকেট চিপস খেয়ে কোচিংয়ের লম্বা দিন, যে কাউকেই খিটখিটে করে দিতে পারে।
  • চাপ: পরীক্ষা, কোচিং, বন্ধুত্ব, চেহারা, সোশ্যাল মিডিয়া আর পরিবারের প্রত্যাশা জমতে থাকে, আর সব উপচে পড়ে বাসায় এসে।
  • স্বাধীনতার ইচ্ছা: স্কুল, কোচিং আর বাসায় সারা দিন নির্দেশ শোনার পর আরেকটা হুকুম লড়াইয়ের মতো লাগে।

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায় প্রায়ই তাদের ওপর, যাদের কাছে সে সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করে। এটা মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু প্রায়ই এর মানে, বাসাতেই সে মন খুলে ভার নামাতে পারে। ছোট বাচ্চাদের রাগ নিয়ে দেখুন শিশুর রাগ কমানোর উপায়; পুরো কিশোর বয়স নিয়ে দেখুন টিনএজ সন্তানের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবেন।

সন্তানের মেজাজ বদলে যাচ্ছে: স্বাভাবিক, নাকি আরও কিছু?

কিশোর বয়সের স্বাভাবিক মেজাজ বনাম যেসব লক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার
যা চোখে পড়েসাধারণত স্বাভাবিকব্যবস্থা নেওয়া দরকার
কতদিনকয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনে কেটে যাওয়া মেজাজদুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, নিস্তেজ বা খুব খিটখিটে
রোজকার জীবনস্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে মেশে, কিছু জিনিসে আনন্দ পায়বাইরে যাওয়া বন্ধ, শখ ছেড়ে দেওয়া, পড়াশোনা ভেঙে পড়া
রাগঝাঁঝিয়ে ওঠা, মুখ ভার, দড়াম করে দরজা বন্ধ, চিৎকার যা কিছুক্ষণে থেমে যায়মারধর, হুমকি, জিনিস ভাঙা, বা প্রায় প্রতিদিন প্রচণ্ড রাগ
ঘুম আর খাবারছুটির দিনে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে; মাঝে মাঝে বেশি বা কম খায়ঘুম, খাওয়া বা ওজনে বড় পরিবর্তন
কথাবার্তাজীবন অন্যায্য বলে গজগজ করে; একা থাকতে চায়হতাশা, নিজেকে বোঝা মনে করা, বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কথা বলে
ঝুঁকিআরও স্বাধীনতার জন্য চাপ দেয়মাদক বা মদ, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া, ব্যাখ্যা ছাড়া কাটা দাগ বা চিহ্ন

কিশোর বয়সে মন খারাপ প্রায়ই দুঃখ হিসেবে নয়, খিটখিটে মেজাজ আর রাগ হিসেবে দেখা দেয়; তাই যে সন্তান সারাক্ষণ রেগে থাকে, ভেতরে ভেতরে সে হয়তো কষ্টও পাচ্ছে। নিশ্চিত না হলে আস্তে করে জিজ্ঞেস করতে আর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে কোনো বাধা নেই।

কিশোর সন্তান চিৎকার করে? রাগের মুহূর্তে কী করবেন

কিশোর সন্তান যখন চিৎকার করে, গালি দেয় বা দরজা আছড়ে বন্ধ করে, রাগের সেই মুহূর্তটা শেখানোর সময় খুব কমই হয়। এখন লক্ষ্য শান্ত আর নিরাপদ রাখা; সমস্যার সমাধান পরে:

  1. গলা নামান, ধীরে কথা বলুন। তার সমান জোরে বললে ব্যাপারটা প্রতিযোগিতা হয়ে যায়।
  2. চিৎকারের মাঝখানে যুক্তিতর্ক বা ‘সম্মান দিয়ে কথা বলো’ নয়; তার বদলে ছোট্ট, শান্ত একটা কথা বলুন।
  3. দোষ নয়, অনুভূতির নাম বলুন: ‘মোবাইল নিয়ে তুমি খুব রেগে আছো।’
  4. একা থাকার সুযোগ দিন: তাকে নিজের ঘরে যেতে দিন, বা আপনি নিজে সরে যান, আর কখন কথা বলবেন জানিয়ে দিন।
  5. আজ রাতের জন্য একটা সীমাই ধরে রাখুন: মারধর নয়, জিনিস ভাঙা নয়, হুমকি নয়।
  6. সবাই শান্ত হলে, প্রায়ই কয়েক ঘণ্টা পরে, আবার কথা বলুন: আগে শুনুন, তারপর ঠিক করুন এরপর কী হবে।
  7. আপনিও চিৎকার করে থাকলে সম্পর্কটা মেরামত করুন: ‘আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলাম। সরি।’

যা বলতে পারেন

  • তুমি রেগে আছো, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমার সঙ্গে চিৎকার করা ঠিক না।
  • তোমাকে একটু একা থাকতে দিচ্ছি। রাতের খাবারের পরে কথা বলি?
  • এখনই কিছু বুঝিয়ে বলতে হবে না। যখন মন চাইবে, আমি আছি।
  • মনে হচ্ছে অনেক কিছু একসাথে চলছে। এখন কী হলে একটু ভালো লাগবে?
  • তখন আমি চিৎকার করেছি, সরি। আবার শুরু করি?

ঘুম, খাবার আর একা থাকার সুযোগ: রোজকার যেসব জিনিস মেজাজ শান্ত রাখে

  • ঘুম: ১৩–১৮ বছরের বেশির ভাগ কিশোর-কিশোরীর রাতে ৮–১০ ঘণ্টা, আর ১২ বছর বয়সে ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার। মোবাইল শোবার ঘরের বাইরে চার্জ দেওয়া আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিন বন্ধ রাখলে অনেকে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পারে।
  • খাবার: নিয়মিত খাবার, ঠিকঠাক সকালের নাশতা, আর কোচিংয়ে যাওয়ার আগে পেট ভরার মতো কিছু। অনেক ‘বেয়াদবি’র মুহূর্তের পেছনে আংশিক খিদেও থাকে।
  • নড়াচড়া: দিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলা মেজাজ আর ঘুম দুটোই ভালো রাখে: ফুটবল, ক্রিকেট, সাইকেল, ব্যাডমিন্টন, বা আপনার সঙ্গে হাঁটা।
  • একা থাকার সুযোগ: বন্ধ দরজা, গান, বা স্কুলের পরে একটু একা থাকা, এভাবেই অনেক কিশোর-কিশোরী শক্তি ফিরে পায়। এটা আপনাকে দূরে ঠেলে দেওয়া নয়।
  • সম্পর্ক: দিনে দশ মিনিট সহজ সময়, কোনো উপদেশ ছাড়া, যেমন রাতের চা, একসাথে রিকশায় যাওয়া, বা তার পছন্দের গান শোনা।

একা থাকতে দেওয়া মানে হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। কখন খোঁজ নেবেন বলে দিন, আর কথাটা রাখুন।

ছোট কথায় রেগে যায়? কী বলবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

যা প্রায়ই কাজে দেয়

  • ছোট, উষ্ণ শুরু: ‘তোমার সমস্যাটা কী?’ নয়, বরং ‘দিনটা কঠিন গেল?’
  • আগে শোনা: শেষ করতে দিন, তারপর জিজ্ঞেস করুন, ‘পরামর্শ চাও, নাকি আমি শুধু শুনব?’
  • দোষ না দিয়ে নাম বলা: ‘মনে হচ্ছে পরীক্ষা নিয়ে তুমি খুব চাপে আছো।’
  • কখন কথা বলবে, তা বেছে নিতে দেওয়া: ‘এখন কথা বলবে, নাকি রাতে?’

যা প্রায়ই পরিস্থিতি আরও খারাপ করে

  • খোঁচা দেওয়া, অপমান, বা ‘বেয়াদব’, ‘অপদার্থ’-এর মতো তকমা।
  • তুলনা: ‘তোমার কাজিন তো কখনো এমন করে না।’
  • ঝগড়ার মাঝখানে লম্বা উপদেশ, বা পুরনো ভুলের কথা টেনে আনা।
  • আত্মীয় বা বন্ধুদের সামনে বকাঝকা।
  • হুমকি বা মারধর। গায়ে হাত তুললে সময়ের সঙ্গে রাগ আর অবাধ্যতা সাধারণত আরও বাড়ে।

আপনার সন্তান রেগে যাওয়ার বদলে একদম চুপ হয়ে গেলে দেখুন কিশোর সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না লেখাটি।

টিনএজ ছেলে রেগে জিনিস ভাঙে, গায়ে হাত তোলে? তখন কী করবেন

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায় ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ রাগ কথায় আর দরজা আছড়ানোতেই থেমে থাকে। তবে রাগ যদি মারধর, হুমকি, জিনিস ভাঙা বা অস্ত্রের মতো কিছু হাতে তুলে নেওয়ায় গড়ায়, তখন সবার আগে নিরাপত্তা, তর্কে জেতার চেয়ে অনেক আগে:

  1. পিছিয়ে আসুন, গলা নিচু রাখুন। দরজা আটকে দাঁড়াবেন না, সন্তানকে কোণঠাসা করবেন না।
  2. ছোট বাচ্চা আর বয়স্কদের বড় কারও সঙ্গে অন্য ঘরে সরিয়ে দিন, দরকার হলে প্রতিবেশীর বাসায়।
  3. তর্ক, হুমকি বা পাল্টা মারধর নয়; এতে সাধারণত পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
  4. কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে, আপনার সন্তানের নিজেরও, ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  5. পরে, সবাই শান্ত হলে, কী হয়েছিল আর এরপর কী হবে তা নিয়ে কথা বলুন, যেমন ভাঙা জিনিস সারানো বা বদলে দেওয়া।
  6. যেকোনো মারধর, হুমকি বা অস্ত্রের ঘটনার পরে সেদিনই ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন, সন্তানের জন্য আর নিজের জন্যও।

আপনার নিজেরই যদি ভয় হয় যে সন্তানের গায়ে হাত তুলে ফেলবেন, আগে সরে যান: ঘর থেকে বেরিয়ে যান, শ্বাস নিন, আর অন্য কোনো বড় মানুষকে দায়িত্ব নিতে বলুন। আপনার আর সন্তানের, দুজনের নিরাপত্তাই জরুরি।

বাংলাদেশি পরিবারে কিশোরের রাগ: পরীক্ষা, মুরুব্বি আর ভাগাভাগির ঘর

  • পরীক্ষা আর কোচিং: এসএসসি আর এইচএসসির বছর, মডেল টেস্ট আর লম্বা কোচিংয়ের দিন অনেক কিশোর-কিশোরীকে ক্লান্ত আর খিটখিটে করে তোলে। ঘুম আর সপ্তাহে একটা অবসরের সন্ধ্যা আগলে রাখুন।
  • মুরুব্বি আর ‘বেয়াদবি’: দাদা-দাদি বা নানা-নানি কিশোরের রাগকে অসম্মান ভেবে শাস্তি চাইতে পারেন। বাবা-মা আর মুরুব্বিরা মিলে একটাই শান্ত উপায় ঠিক করুন, আর সমস্যার কথা আড়ালে বলুন।
  • ভাগাভাগির ঘর: যে কিশোর অন্যদের সঙ্গে ঘর ভাগ করে, তার ঠান্ডা হওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। একটা কোণ, হেডফোন, বা স্কুলের পরে এক ঘণ্টা ঘরটা শুধু তার, এমন কিছু ঠিক করে দিন।
  • মোবাইল আর ওয়াইফাই: অনেক ঝগড়া শুরু হয় খেলার মাঝখানে মোবাইল কেড়ে নিলে বা ওয়াইফাই বন্ধ করে দিলে। তার বদলে আগে থেকে শান্তভাবে মোবাইলের নিয়ম ঠিক করুন।
  • রমজান: রোজা, দেরির ইফতার আর ভোরের সেহরি মেজাজ খিটখিটে করে দিতে পারে। পারলে এই সময়ে কম চাপ দিন, আর একটু আগে ঘুমানোর ব্যবস্থা করুন।
  • রেজাল্ট আর কাজিন: ‘দেখো, তোমার কাজিনের জিপিএ’ শুনে খুব কমই উৎসাহ আসে, বরং প্রায়ই ঝগড়া বাধে। সন্তানকে শুধু তার নিজের আগের ফলের সঙ্গে মেলান।

মেজাজি কিশোর সন্তানের সঙ্গে শান্ত দিনের জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা

এক সপ্তাহ ধরে প্রতিটা রাগারাগি লিখে রাখুন: কখন, কী নিয়ে, সবাই কতটা ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত ছিল, আর কীভাবে শেষ হলো। টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায় কখন, কী নিয়ে, তার প্রায়ই একটা ধরন থাকে, যা কাগজে লিখলেই চোখে পড়ে।

  1. দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। প্রতিটা ঝগড়া লিখে রাখুন, এখনো কিছু বদলাবেন না।
  2. দিন ২: ঘুম দেখুন: সন্তান আসলে কখন ঘুমায়? রাতে মোবাইল কোথায় চার্জ হবে, একসাথে ঠিক করুন।
  3. দিন ৩: খাবার দেখুন: ঠিকঠাক সকালের নাশতা, আর কোচিংয়ের আগে বা স্কুলের পরে পেট ভরার মতো কিছু।
  4. দিন ৪: থামার অভ্যাস করুন: পরের ঝগড়ায় গলা নামান, আর পরে কথা বলার প্রস্তাব দিন।
  5. দিন ৫: দিনে দশ মিনিট সহজ সময় শুরু করুন, কোনো উপদেশ নয়, মোবাইল দেখা নয়।
  6. দিন ৬: রাগ নিয়ে বাসার দুই-তিনটা নিয়ম একসাথে ঠিক করুন: মারধর নয়, জিনিস ভাঙা নয়, আর একটু সরে গিয়ে শান্ত হওয়া ঠিক আছে।
  7. দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: ঝগড়া কি কম, ছোট বা হালকা হয়েছে? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর বেশির ভাগ দিন মন খারাপ দেখা গেলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

কিশোর সন্তানের মেজাজ আর রাগ নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায়, মেজাজ ওঠানামা করে? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে তা কমে আসে, বিশেষ করে যথেষ্ট ঘুম আর পাশে একজন শান্ত বড় মানুষ থাকলে। তবে এমন কিছু দেখলে সন্তানের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলুন, আর ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন:

এমন হলে সাহায্য নিন

  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, হতাশা বা খুব খিটখিটে মেজাজ, অথবা আগে যা ভালো লাগত তাতে আর আনন্দ না পাওয়া।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে পরিবার আর বন্ধুদের কাছ থেকে গুটিয়ে থাকা, বেশির ভাগ সময় একা থাকা, অথবা খাওয়া, ওজন বা ঘুমে বড় পরিবর্তন।
  • মাদক বা মদের যেকোনো লক্ষণ, যেমন ট্যাবলেট, পাউডার বা ব্যাখ্যা করা যায় না এমন গন্ধ, বা টাকা আর জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়া: সেদিনই সাহায্য নিন।
  • সন্তান নিজেকে আঘাত করে বা সে কথা বলে, বা বলে বেঁচে থাকতে চায় না: শান্ত থাকুন, তার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • মারধর: পরিবারের কাউকে মারা, অস্ত্র নিয়ে ঘোরা, বা কাউকে আঘাত করার হুমকি। কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর সেদিনই সাহায্য নিন।
  • মনে হয় আর সামলাতে পারছেন না, বা সন্তানকে ভয় লাগে, কিংবা রাগের মাথায় নিজে কী করে ফেলবেন তা নিয়ে ভয় হয়: সরে যান, সবাইকে নিরাপদ রাখুন, আর নিজের জন্যও সাহায্য নিন। কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায় কেন, তা বোঝা সহজ হয় যখন দেখা যায় রাগের আগে কী ঘটে। ParentMind-এ প্রতিদিন কী হলো লিখে রাখতে পারেন, ধরন দেখতে পারেন আর পরামর্শ পেতে পারেন। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কিশোর বয়সে মেজাজ খিটখিটে হওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, বেশির ভাগের ক্ষেত্রে। হুটহাট মেজাজ বদলানো, খিটখিটে ভাব আর অল্পতে রেগে যাওয়া কিশোর বয়সে সাধারণ, কারণ হরমোন, গড়ে উঠতে থাকা মস্তিষ্ক, কম ঘুম আর চাপ একসাথে জমে। স্বাভাবিক মেজাজ কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনে কেটে যায়, আর স্কুল, বন্ধু বা শখ বন্ধ করে না। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ বা খিটখিটে থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

আমার টিনএজ সন্তান সারাক্ষণ এত রেগে থাকে কেন?

প্রায়ই ক্লান্তি, খিদে, চাপ আর স্বাধীনতার টানে, আর বাসাকে যথেষ্ট নিরাপদ মনে হয় বলে সেখানেই অনুভূতি বেরিয়ে আসে। সারাক্ষণ রাগ মন খারাপ, দুশ্চিন্তা, বা স্কুল কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কোনো ঝামেলারও লক্ষণ হতে পারে। শান্ত কোনো মুহূর্তে আস্তে করে জিজ্ঞেস করুন, ঘুম আর চাপের দিকটা দেখুন, আর কয়েক সপ্তাহ ধরে চললে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

কিশোর সন্তান আমার সঙ্গে চিৎকার করে কথা বললে কী করব?

শান্ত থাকুন, নিজের গলা নিচু রাখুন; পাল্টা চিৎকার করলে সাধারণত পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ছোট্ট একটা কথা বলুন, যেমন ‘আমরা দুজনেই একটু শান্ত হলে কথা বলব’, আর দরকার হলে সরে যান। পরে ফিরে এসে আগে শুনুন, তারপর ঠিক করুন এরপর কী হবে। চিৎকার যদি হুমকি বা মারধরে গড়ায়, সবাইকে নিরাপদ রাখুন, আর কারও বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

রেগে থাকা কিশোর সন্তানকে কি একা থাকতে দেব?

সাধারণত হ্যাঁ, রাগের মুহূর্তে। অনেক কিশোর-কিশোরীর কথা বলার আগে ঠান্ডা হতে একটু একা সময় লাগে, আর রাগের মাঝখানে উত্তর চাইলে প্রায়ই পরিস্থিতি খারাপ হয়। কখন খোঁজ নেবেন বলে দিন, আর কথাটা রাখুন। তবে সন্তানকে খুব বিষণ্ন মনে হলে, নিজের ক্ষতির কথা বললে বা ঝুঁকিতে থাকলে একা রাখা সমাধান নয়: তখন শান্ত থাকুন, তার কাছাকাছি থাকুন।

কম ঘুমের কারণে কি কিশোর সন্তানের মেজাজ খারাপ থাকে?

প্রায়ই এর বড় ভূমিকা থাকে। বেশির ভাগ কিশোর-কিশোরীর রাতে ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার, কিন্তু তাদের শরীরের ঘড়ি দেরিতে ঘুমাতে চায় অথচ স্কুল শুরু হয় সকালে, তাই অনেকেরই ঘুম কম হয়। ক্লান্ত কিশোর প্রায়ই বেশি খিটখিটে থাকে, অল্পতেই রেগে যায়। মোবাইল শোবার ঘরের বাইরে চার্জ দেওয়া আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিন বন্ধ রাখলে অনেকে তাড়াতাড়ি ঘুমায়।

কিশোর সন্তানের মেজাজ নিয়ে কখন চিন্তা করব?

যখন তা লম্বা সময় ধরে চলে বা কাউকে ঝুঁকিতে ফেলে। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, হতাশ বা খুব খিটখিটে থাকলে, বা সবার কাছ থেকে গুটিয়ে গেলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের ক্ষতি বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার যেকোনো কথা, মাদকের লক্ষণ বা মারধর হলে সেদিনই সাহায্য নিন, আর কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কিশোর-কিশোরী (১৩–১৮ বছর): আরও গাইড

কিশোর-কিশোরী: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।