মূল কনটেন্টে যান

কিশোর সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না: দূরত্ব কমানোর উপায়

ছোট করে উত্তর

কিশোর সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না, এমন হলে সাধারণত সেটা স্বাভাবিক: নিজের জীবন গড়তে সে একটু সরে যাচ্ছে, আপনাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে না। পাশাপাশি বসে কথা বলুন, গাড়িতে, রিকশায় বা রান্না করতে করতে; উপদেশের চেয়ে বেশি শুনুন; তার গোপনীয়তাকে সম্মান করুন; আর ঝগড়ার পর মিটিয়ে নিন। দুই সপ্তাহ ধরে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে থাকলে, খাওয়া বা ঘুম বন্ধ হয়ে গেলে, বা নিজের ক্ষতির কথা বললে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১৩–১৮ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তান এক কথায় উত্তর দেয়, দরজা বন্ধ করে থাকে বা মনের কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে
মূল কথা
  • বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটু সরে যাওয়া বড় হওয়ার স্বাভাবিক অংশ; বেশিরভাগ কিশোর তবু বাবা-মাকে কাছেই চায়, নিজের মতো করে।
  • মুখোমুখি প্রশ্নের চেয়ে পাশাপাশি মুহূর্ত, যেমন রিকশায় যাওয়া, একসাথে রান্না বা রাতের চা, প্রায়ই বেশি কথা খুলে দেয়।
  • উপদেশ ছাড়া শুনলে আর গোপনীয়তা রক্ষা করলে, জরুরি সময়ে আপনার কাছে আসাটা কিশোরের কাছে নিরাপদ মনে হয়।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে থাকা, খাওয়া বা ঘুমে বড় বদল, বা নিজের ক্ষতির যেকোনো কথা শুনলে বাড়তি সাহায্য নিন।

কিশোর সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না, এই কষ্টটা অনেক বাবা-মাকে খুব একা করে দেয়। যে সন্তান একসময় সব কথা বলত, সে এখন এক কথায় উত্তর দেয়, দরজা বন্ধ করে নিজের ঘরে থাকে, আর শুধু বন্ধুদের সাথে ফোনে কথা বলার সময়ই যেন প্রাণ ফিরে পায়।

বেশিরভাগ পরিবারে এটা একটা স্বাভাবিক পর্যায়, সম্পর্ক হারিয়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়। নিজে কে, তা বুঝতে কিশোররা একটু সরে যায়, আর অনেকেই তবু বাবা-মাকে কাছেই চায়, নিজের মতো করে। নিচে পাবেন: কিশোররা কেন চুপ হয়ে যায়, কীভাবে কথা বললে মন খোলে, কীসে কথা বন্ধ হয়ে যায়, গোপনীয়তা, ঝগড়ার পর কী বলবেন, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন চিন্তা করবেন। ছোট বাচ্চা সব প্রশ্নে শুধু “ভালো” বললে পড়ুন উত্তর যখন শুধু “ভালো”; পুরো কৈশোর নিয়ে পড়ুন টিনএজ সন্তানের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবেন।

কিশোর সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না: এটা কি স্বাভাবিক?

সাধারণত, হ্যাঁ। মোটামুটি ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সে বন্ধুরা বেশি জরুরি হয়ে ওঠে, নিজের জগৎ খুব দামি হয়, আর বাবা-মায়ের সাথে মনের কথা বলা কখনো ছেলেমানুষি, কখনো ঝুঁকির মনে হয়। কিশোর ছেলেমেয়েরা সাধারণত এসব কারণে মনের কথা বলে না:

  • স্বাধীন হয়ে ওঠা: কিছু কথা নিজের কাছে রাখা বড় হওয়ারই অংশ।
  • উপদেশের ভয়: আগের আলাপগুলো যদি উপদেশ, বকা বা দুশ্চিন্তায় গিয়ে ঠেকে থাকে, চুপ থাকাই নিরাপদ মনে হয়।
  • পরিণতির ভয়: “বললেই ফোন কেড়ে নেবে, বা বাইরে যেতে দেবে না।”
  • ক্লান্তি আর চাপ: স্কুল, কোচিং আর পরীক্ষার পর কথা বলার শক্তিই থাকে না।
  • এমন অনুভূতি, যার নাম এখনো দিতে পারে না: লজ্জা, কাউকে ভালো লাগা, বন্ধুর সাথে মনোমালিন্য, বা শরীর নিয়ে দুশ্চিন্তা।
  • কোনো সমস্যা চলছে: বুলিং, অনলাইনে ঝামেলা, মন খারাপ, বা কারও চাপ। এ কারণেই নিচের সতর্ক সংকেতগুলো জরুরি।
কৈশোরের স্বাভাবিক চুপচাপ ভাব, নাকি চিন্তার মতো গুটিয়ে যাওয়া?
বিষয়সাধারণত স্বাভাবিকব্যবস্থা নেওয়া দরকার
কথা বলাবাবা-মায়ের সাথে ছোট উত্তর, বন্ধুদের সাথে লম্বা আড্ডাবন্ধুসহ সবার সাথে কথা বলা বন্ধ
একা থাকাঘণ্টার পর ঘণ্টা দরজা বন্ধ, তবু মাঝে মাঝে খাবার টেবিলে আসেকয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় সারাক্ষণ ঘরে নিজেকে আটকে রাখা
মন-মেজাজমাঝে মাঝে মেজাজ খারাপ, আবার ঠিক হয়ে যাওয়াদুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন মন খারাপ, হতাশ বা খিটখিটে
রোজকার জীবনস্কুলে যায়, খাওয়া আর ঘুম মোটামুটি আগের মতোইঠিকমতো খাওয়া বা ঘুম বন্ধ, বা স্কুলে যেতে চায় না
আগ্রহনতুন আগ্রহ, পুরোনো কয়েকটা বাদআগে যা ভালো লাগত, প্রায় সবকিছুতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলা

টিনএজ সন্তানকে কথা বলতে উৎসাহ দেওয়ার উপায়

কিশোররা সাধারণত কথা বলে তখন, যখন চাপ কম আর যে শুনছে সে শান্ত। মুখোমুখি বসে “তোমার সাথে জরুরি কথা আছে” বলার চেয়ে পাশাপাশি বসে, চোখ অন্য কিছুতে রেখে কথা বলা প্রায়ই বেশি কাজে দেয়:

  1. পাশাপাশি থাকুন: গাড়িতে, রিকশায়, দোকানে হেঁটে যেতে যেতে, একসাথে রান্না বা কাপড় ভাঁজ করতে করতে কথা বলুন। চোখে চোখ রাখতে হয় না, আর পথটা নিজে থেকেই একসময় শেষ হয়।
  2. ওর কথা বলার সময়ে কাছে থাকুন: অনেক কিশোর মন খোলে গভীর রাতে, বা স্কুল থেকে ফেরার ঠিক পরে। রাত ১০টার এক কাপ চা অনেক সময় এমন কাজ করে, যা পরিকল্পনা করে বসা আলাপ পারে না।
  3. ওর জগৎ দিয়ে শুরু করুন: একটা গান, একটা গেম, বন্ধুর কোনো ঘটনা বা ক্রিকেট ম্যাচ; নম্বরের কথা পরে।
  4. কম প্রশ্ন করুন, তবে ভালো প্রশ্ন: “স্কুল কেমন গেল?”-এর বদলে “আজকের সবচেয়ে বাজে অংশ কোনটা ছিল?”
  5. সমাধান না দিয়ে শুনুন: মাথা নাড়ুন, বলুন “শুনে কঠিন মনে হচ্ছে,” আর চুপ থাকার ফাঁকগুলো ভরাতে যাবেন না। পরামর্শ দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন: “তুমি কি কোনো বুদ্ধি চাও, নাকি শুধু শুনলেই হবে?”
  6. কঠিন কিছু শুনলেও শান্ত থাকুন। সেই মুহূর্তে আপনার মুখের ভাবই ঠিক করে দেয়, পরের কথাটা সে আপনাকে বলবে কি না।
  7. নিজের দিনের কথাও একটু বলুন, ভুলগুলোসহ। কথা সাধারণত দুই দিক থেকেই চলে।

যা বলতে পারেন

  • কিছু বলতে হবে না। নানুবাড়ি যাওয়ার পথে শুধু তোমার সঙ্গটা চাইছিলাম।
  • শুনে খুব কঠিন মনে হচ্ছে। আরেকটু বলবে?
  • তুমি কি আমার পরামর্শ চাও, নাকি শুধু শুনলেই হবে?
  • আমাকে বলার জন্য ধন্যবাদ। আমি রাগ করিনি। তুমি আমার কাছে এসেছ, এতেই আমি খুশি।
  • সব কথা বলতে হবে না। শুধু জেনে রাখো, যেকোনো কথা আমাকে বলতে পারো।

সন্তান দূরে সরে যাচ্ছে? যে অভ্যাসগুলো কথার দরজা বন্ধ করে দেয়

বেশিরভাগ বাবা-মা না বুঝেই, ভালোবাসা আর দুশ্চিন্তা থেকে কথার দরজা বন্ধ করে ফেলেন। ছোট কিছু বদল প্রায়ই আবার দরজাটা খুলে দেয়:

যা কথার দরজা বন্ধ করে, আর বদলে যা করে দেখতে পারেন
এর বদলেকরে দেখুন
প্রতিটা আলাপকে উপদেশ বা বকাঝকায় নিয়ে যাওয়াশেষ পর্যন্ত শোনা, তারপর জিজ্ঞেস করা কোনো বুদ্ধি চায় কি না
জেরা করা: কে, কোথায়, কেন, কয়টায়পাশাপাশি বসে একটা সহজ প্রশ্ন
চমকে যাওয়া, রেগে যাওয়া বা কেঁদে ফেলাশান্ত গলায় “বলার জন্য ধন্যবাদ”, তারপর একটু ভাবার সময়
পুরোনো ভুলের কথা টেনে আনাশুধু এখনকার কথা বলা
ওর বলা কথা আত্মীয়দের জানিয়ে দেওয়ানিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলে ওর কথা নিজের কাছেই রাখা
ওর গান, বন্ধু বা চেহারা নিয়ে ঠাট্টাকৌতূহল: “এটার কোন দিকটা তোমার ভালো লাগে?”
সত্যি বলার জন্য ফোন কেড়ে নেওয়াএকসাথে সমস্যার সমাধান খোঁজা

রাগ করে দড়াম করে দরজা বন্ধ করল? মুহূর্তটা পার হতে দিন। বলুন “একটু পরে এসে দেখে যাব,” আর পরে উপদেশ নয়, হাতে একটু নাশতা নিয়ে যান।

সন্তান কিছু লুকাচ্ছে? গোপনীয়তা, গোপন কথা আর বিশ্বাস

বড় হতে কিশোরদের কিছুটা গোপনীয়তা দরকার, আর তারা যা নিজের কাছে রাখে তার বেশিরভাগই সাধারণ: কাউকে ভালো লাগা, বন্ধুদের ঝামেলা, লজ্জার কোনো ঘটনা। এটাকে সম্মান করলে সাধারণত তারা কম নয়, বেশি কথা বলে। সীমারেখা শুধু নিরাপত্তা।

  • ঢোকার আগে দরজায় টোকা দিন, আর লুকিয়ে ডায়েরি বা মেসেজ পড়বেন না; লুকিয়ে দেখা একবার ধরা পড়লে বিশ্বাস অনেক দিনের জন্য ভেঙে যেতে পারে।
  • অনলাইনে নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা থাকলে খোলাখুলি ঠিক করুন কী দেখবেন আর কখন; এই আলাপে কাজে দেবে সন্তানের গ্রুপ চ্যাট ও অনলাইন বন্ধু।
  • সব খুঁটিনাটি নয়, নিরাপত্তার কথা জিজ্ঞেস করুন: কোথায় আছে, কার সাথে, আর কীভাবে বাসায় ফিরবে।
  • একটা কথা দিন: কখনো কোনো ঝামেলা বা বিপদে পড়লে সে আপনাকে ফোন করতে পারবে, আপনি চলে আসবেন, আর সেই রাতে কোনো বকাঝকা হবে না।
  • গুরুতর কিছু সন্দেহ হলে, যেমন মাদক, নিজের ক্ষতি, নির্যাতন, বা অনলাইনে কেউ চাপ দিচ্ছে, সরাসরি আর শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন। সে যা বলে বিশ্বাস করুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন।

ঝগড়ার পর কিশোর সন্তানকে কী বলবেন

কিশোর সন্তান আছে এমন প্রতিটা পরিবারেই ঝগড়া হয়। তার পরে কী হয়, সেটাই বেশি জরুরি: শান্তভাবে মিটিয়ে নিলে সন্তান বোঝে, মতের অমিল থাকলেও সম্পর্কটা নিরাপদ।

  1. একটু সময় দিন: দুজনেই শান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, প্রায়ই এক ঘণ্টা পরে বা পরদিন সকালে।
  2. নিজে ওর কাছে যান, অল্প কথায়, আর “কিন্তু” ছাড়াই নিজের ভাগটা স্বীকার করুন: “আমি চিৎকার করেছি। সেটা ঠিক হয়নি।”
  3. বুঝিয়ে দিন সম্পর্কটা ঠিক আছে: “আমি তোমাকে ভালোবাসি। মতের অমিল থাকলেও আমাদের মধ্যে সব ঠিক আছে।”
  4. আসল বিষয়টায় ফিরুন পরে, পাশাপাশি বসে, আর আগে ওর দিকটা শুনুন।
  5. সাড়া না দিলে জোর করবেন না। মিটিয়ে নেওয়া একটা প্রস্তাব; দরজাটা খোলা রাখুন, কাল আবার চেষ্টা করুন।

ঝগড়ার পর যা বলতে পারেন

  • আমি দরকারের চেয়ে বেশি জোরে কথা বলেছি। সরি।
  • আমি এখনো একমত না, কিন্তু তোমার দিকটা বুঝতে চাই।
  • আমাদের মধ্যে সব ঠিক আছে। তুমি যা-ই বলো, তোমাকে যত ভালোবাসি তা বদলাবে না।
  • এখন তোমাকে একা থাকতে দিচ্ছি। যখন ইচ্ছা হবে, আমি আছি।

মারধর, গালি বা অন্যের সামনে লজ্জা দেওয়া কিশোরকে সাধারণত আরও দূরে ঠেলে দেয়; এসব ছাড়াই কোন নিয়ম আর পরিণতি কাজ করে, তা আছে টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন লেখায়।

আমাদের বাসায় চুপচাপ কিশোর: মুরুব্বি, এক ঘরে থাকা আর পরীক্ষার চাপ

  • “বেয়াদব”, নাকি শুধু চুপচাপ? অনেক পরিবারে বড়দের কথার পাল্টা প্রশ্ন করাকে বেয়াদবি ধরা হয়, তাই কোনো কোনো কিশোর দ্বিমত না করে চুপ হয়ে যায়। বাসায় ভদ্রভাবে দ্বিমত করার সুযোগ দিলে তার কথা বলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • এক ঘরে থাকা: যে কিশোর ভাইবোন বা দাদা-দাদির সাথে এক ঘরে থাকে, তার হয়তো একান্তে কথা বলার জায়গাই নেই। বাইরে কথা প্রায়ই ভালো জমে: আপনার সাথে ছাদে, হাঁটতে হাঁটতে, কোচিংয়ে যাওয়ার পথে।
  • আত্মীয়: সন্তান যা বলে, তা যদি খালা-ফুপু বা কাজিনদের আড্ডায় উঠে আসে, সে প্রায়ই বলা বন্ধ করে দেয়। ওর কথা নিজের কাছে রাখুন।
  • পরীক্ষার বছর: এসএসসি আর এইচএসসির বছরে প্রায় প্রতিটা আলাপই পড়াশোনায় গিয়ে ঠেকতে পারে। এমন কিছু কথাও রাখুন, যার সাথে নম্বরের কোনো সম্পর্ক নেই।
  • বাবারা: অনেক বাসায় সন্তান বাবাকেই সবচেয়ে কম কথা বলে। বাবা আর সন্তানের একটা নিয়মিত অভ্যাস, যেমন একসাথে চা, হাঁটা বা খেলা দেখা, সময়ের সাথে এটা বদলে দিতে পারে।
  • একজনকে শাস্তিদাতা বানানো: “আব্বু আসুক, তারপর দেখবে” শুনে শুনে সন্তান ওই মানুষটার সামনে চুপ হয়ে যেতে শেখে। নিয়মগুলো দুজনে মিলে ঠিক করুন; পড়ুন দুজন বাবা-মা, একটাই পরিকল্পনা।

দূরত্ব কমাতে কিশোর সন্তানের সঙ্গে ৭ দিনের পরিকল্পনা

কিশোর সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না, এই ভাবনা যদি রোজকার হয়ে যায়, ছোট করে শুরু করুন। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: সন্তান কখন কথা বলল, অল্প হলেও, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন আর কী করছিলেন।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। শুধু খেয়াল করুন সন্তান কখন সবচেয়ে বেশি কথা বলে: কোন সময়ে, কোথায়, কে কে ছিল।
  2. দিন ২: কথা বন্ধ করে দেয় এমন একটা অভ্যাস বাদ দিন, যেমন দরজায় ঢুকতেই প্রশ্ন, বা কেউ চায়নি এমন উপদেশ।
  3. দিন ৩: পাশাপাশি থাকার একটা মুহূর্ত তৈরি করুন: রিকশায় যাওয়া, রান্না, দোকান পর্যন্ত হাঁটা। কোনো উপদেশের উদ্দেশ্য ছাড়াই।
  4. দিন ৪: ওর জগৎ নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, যেমন একটা গান, একটা গেম বা একজন বন্ধু, আর শেষ পর্যন্ত শুনুন।
  5. দিন ৫: নিজের দিনের ছোট কোনো কথা বলুন, একটা ভুলসহ।
  6. দিন ৬: এ সপ্তাহে ঝগড়া হয়ে থাকলে মিটিয়ে নিন; না হলে সন্তানের একটা নির্দিষ্ট ভালো দিকের কথা তাকে মুখে বলুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। একটু বেশি, বা একটু সহজে কথা বলেছে কি? যে মুহূর্তগুলো কাজে দিয়েছে, সেগুলো রাখুন।

দূরত্ব কমে সাধারণত ধীরে: এ সপ্তাহে কয়েকটা কথা বেশি হলেও সেটা সত্যিকারের অগ্রগতি।

চুপচাপ কিশোর সন্তানের কখন বাড়তি সাহায্য দরকার?

বাবা-মায়ের সাথে চুপ থাকা প্রায়ই স্বাভাবিক; কিন্তু সবার কাছ থেকে গুটিয়ে যাওয়া, বা রোজকার জীবনে বদল, আলাদা ব্যাপার। নিচের কোনোটি দেখলে সন্তানের ডাক্তার, কাউন্সেলর বা স্কুলের সাথে কথা বলুন:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে পরিবার আর বন্ধুদের কাছ থেকে গুটিয়ে থাকা, বেশিরভাগ সময় একা।
  • ঠিকমতো খাওয়া বা ঘুম বন্ধ হয়ে গেছে, বা ওজন বা ঘুমে বড় পরিবর্তন।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন মন খারাপ, হতাশ বা খুব খিটখিটে, বা নিজেকে সবার বোঝা বলে কথা বলা।
  • চুপ থাকার পাশাপাশি স্কুলে যেতে না চাওয়া, বা নম্বর হঠাৎ অনেক কমে যাওয়া।
  • সন্তান নিজেকে আঘাত করে বা তার কথা বলে, বা বলে বাঁচতে চায় না: শান্ত থাকুন, তার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • হঠাৎ পরিবর্তন, সাথে লুকোছাপা, কোনো মানুষকে ভয়, ব্যাখ্যা ছাড়া টাকা বা উপহার, বা অনলাইনে কেউ হুমকি দিচ্ছে: সন্তান যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

কিশোর সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে না, এমন সময়ে ছোট ছোট বদল রোজকার ব্যস্ততায় সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কিশোর সন্তান কেন আমার সাথে কথা বলে না?

সাধারণত কারণ একটু সরে যাওয়া বড় হওয়ারই অংশ: বন্ধু আর নিজের জগৎ তখন বেশি জরুরি, আর বাবা-মায়ের সাথে মনের কথা বলা ঝুঁকির মনে হতে পারে। আগের আলাপগুলো উপদেশে গিয়ে ঠেকলে, বা ফোন বা স্বাধীনতা হারানোর ভয় থাকলেও অনেক কিশোর চুপ হয়ে যায়। কখনো কখনো চুপ থাকার আড়ালে বুলিং বা মন খারাপের মতো সমস্যা থাকে, তাই সতর্ক সংকেতগুলো খেয়াল রাখুন।

যে কিশোর সন্তান কথা বলতে চায় না, তার সাথে কীভাবে কথা বলব?

চাপ কমান। পাশাপাশি বসে কথা বলুন, গাড়িতে, রিকশায় বা রান্না করতে করতে, ঠিক সেই সময়ে, যখন সে সাধারণত মন খোলে, প্রায়ই গভীর রাতে। ওর আগ্রহের বিষয় দিয়ে শুরু করুন, একটা সহজ প্রশ্ন করুন, আর সমাধান না দিয়ে শুনুন। উত্তর ছোট হলেও কাছে থাকা চালিয়ে যান; অনেক কিশোর যখন ভরসা পায় যে আপনি শান্ত থাকবেন, তখন বেশি কথা বলে।

সন্তান শুধু হ্যাঁ বা না বলে উত্তর দেয়, কী করব?

রিপোর্ট নয়, মতামত বা গল্প চায় এমন প্রশ্ন করুন: “আজ সবচেয়ে মজার কী হয়েছে?” বা “এটা নিয়ে তোমার কী মনে হয়?” আগে নিজের দিনের একটু কথা বলুন, আর ছোট উত্তরে দীর্ঘশ্বাস না ফেলে মেনে নিন। বাসায় ঢোকার সাথে সাথে নয়, আরামের কোনো মুহূর্ত বেছে নিন। প্রশ্নগুলো পরীক্ষার মতো না লাগলে এক কথার উত্তর প্রায়ই লম্বা হতে থাকে।

কিশোর সন্তানকে একা থাকতে দেব, নাকি কথা বলার চেষ্টা চালিয়ে যাব?

দুটোই। সেই মুহূর্তে, বিশেষ করে ঝগড়া বা লম্বা দিনের পরে, একা থাকতে দিন; কিন্তু সন্তান নিজে থেকে আসবে, সেই অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। ছোট, সহজ আমন্ত্রণ দিতে থাকুন: একসাথে কোথাও যাওয়া, একটু নাশতা, দুজনের পছন্দের কোনো অনুষ্ঠান। কিশোররা প্রায়ই সরে গিয়ে দেখে নেয় আপনি এখনো আছেন কি না। কোনো বড় আলাপের চেয়ে চাপ ছাড়া নিয়মিত পাশে থাকা সাধারণত বেশি জরুরি।

টিনএজ সন্তান ঘরে দরজা বন্ধ করে থাকে, এটা কি স্বাভাবিক?

প্রায়ই, হ্যাঁ, যদি সে স্কুলে যায়, খায়, ঘুমায়, বন্ধুদের সাথে দেখা করে আর মাঝে মাঝে পরিবারের সাথে বসে। কিশোরদের একা সময় দরকার, বিশেষ করে ভিড়ের বাসায়। চিন্তা করবেন যদি দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় প্রায় সারাক্ষণ ঘরে নিজেকে আটকে রাখে, ঠিকমতো খাওয়া বা ঘুম বন্ধ হয়ে যায়, সবকিছুতে আগ্রহ হারায়, বা হতাশ মনে হয়। তখন ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

সন্তান কিছু লুকাচ্ছে মনে হলে কী করব?

শান্ত থাকুন, আর নিরিবিলি কোনো মুহূর্তে সরাসরি কিন্তু নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন: “তোমাকে কিছুদিন ধরে চিন্তিত দেখছি। কিছু হয়েছে?” বেশিরভাগ গোপন কথাই সাধারণ, কিন্তু মাদক, নিজের ক্ষতি, নির্যাতন বা অনলাইনে হুমকির মতো বিপদ সন্দেহ হলে ছেড়ে দেবেন না: সন্তান যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কিশোর-কিশোরী (১৩–১৮ বছর): আরও গাইড

কিশোর-কিশোরী: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।