সন্তান খারাপ সঙ্গে মিশলে কী করবেন: বন্ধুদের চাপ, খারাপ সঙ্গ আর কিশোর গ্যাং
ছোট করে উত্তর
সন্তান খারাপ সঙ্গে মিশলে কী করবেন, তা বোঝার আগে জেনে নিন: বন্ধুদের চাপ (পিয়ার প্রেশার) মানে ১১–১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীর বন্ধুদের সঙ্গে মিলে চলার টান, আর এর বেশিরভাগই স্বাভাবিক। চিন্তার কারণ মাদক, গ্যাং, ব্যাখ্যা ছাড়া টাকা বা রাতে বাসার বাইরে থাকা। বন্ধুদের চিনুন, নিষেধ না করে কথা বলুন, আর “না” বলার অনুশীলন করান। মাদক, অস্ত্র বা মারামারির লক্ষণে সেদিনই সাহায্য নিন; সন্তান এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
লেখাটি শুনুন
১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ১১–১৮ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাঁরা সন্তানের বন্ধু, রাতে বাইরে থাকা, মাদক বা কিশোর গ্যাং নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন
- মূল কথা
- কিশোর বয়সে বন্ধুদের গুরুত্ব বেড়ে যায়, আর বন্ধুদের বেশিরভাগ প্রভাবই সাধারণ: পোশাক, গান, কথার ধরন আর দলে মানিয়ে চলার ইচ্ছা।
- কোনো বন্ধুকে নিষেধ করলে প্রায়ই বন্ধুত্বটা চোখের আড়ালে চলে যায়; বন্ধুদের চেনা আর শান্তভাবে কথা বলা সাধারণত আপনাকে কাছে রাখে।
- “না” বলার উপায় আগে থেকে অনুশীলন করা থাকলে, আর জানা থাকলে যে একটা মেসেজ দিলেই বাবা-মা প্রশ্ন না করে নিতে আসবেন, কিশোররা প্রায়ই চাপ ভালো সামলাতে পারে।
- মাদক, অস্ত্র, মারামারি, হুমকি বা টাকা নিয়ে হঠাৎ লুকোছাপা দেখলে সেদিনই সাহায্য নিন; সন্তান বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
সন্তানের নতুন বন্ধু, যাদের আপনি কখনো দেখেননি? দিন দিন আরও দেরি করে বাসায় ফেরে, বা হঠাৎ ফোনটা আগলে রাখে? সন্তান খারাপ সঙ্গে মিশলে কী করবেন — এই দুশ্চিন্তায় হয়তো রাতে ঘুম আসে না।
কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকা ভালো, তবে নতুন বন্ধু হওয়া বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী আসলে স্বাভাবিক একটা কাজই করছে: বড় হচ্ছে, আর নিজের জায়গা খুঁজছে। বন্ধুরা ভালো দিকেও টানতে পারে, ঝুঁকির দিকেও; আর বাবা-মায়ের প্রভাব প্রায়ই যতটা মনে হয় তার চেয়ে বেশি, বিশেষ করে যখন তাঁরা শান্ত থাকেন আর পাশে থাকেন।
নিচে পাবেন: এই বয়সে বন্ধুরা কেন এত জরুরি, স্বাভাবিক প্রভাব আর খারাপ সঙ্গের পার্থক্য, কীভাবে কথা বলবেন, বন্ধুদের চেনার উপায়, “না” বলার কৌশল, আমাদের দেশের বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন ব্যবস্থা নেবেন।
বন্ধুদের চাপ কী, আর কিশোররা কেন বন্ধুদের কথায় চলে?
বন্ধুদের চাপ বা পিয়ার প্রেশার মানে বন্ধুরা যা করে, বা যা করলে তারা খুশি হবে বলে মনে হয়, সেটা করার টান। এটা সরাসরি হতে পারে, যেমন চ্যালেঞ্জ দেওয়া বা “সবাই তো করছে”; আবার চুপচাপও হতে পারে, যেমন একই ফোন, একই কথার ধরন বা চুলের স্টাইল চাওয়া। এটা ভালোও হতে পারে: যে বন্ধুরা মন দিয়ে পড়ে, খেলাধুলা করে বা স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে, তারা প্রায়ই একে অন্যকে ভালো দিকে টানে।
“সন্তান বন্ধুদের কথায় চলে” — অনেক বাবা-মায়ের এই অভিযোগের পেছনে কয়েকটা কারণ থাকে:
- দলে জায়গা পাওয়া: কিশোর বয়সে বন্ধুদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াটা খুব বড় ব্যাপার মনে হয়।
- মস্তিষ্কের “ব্রেক” এখনো তৈরি হচ্ছে: ঝুঁকি বিচার করার অংশটা বিশের কোঠার শুরু পর্যন্ত গড়ে উঠতে থাকে, অথচ উত্তেজনা আর বন্ধুদের বাহবার টান তখন খুব জোরালো, বিশেষ করে বন্ধুরা সামনে থাকলে।
- স্বাধীনতা: বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটু সরে যাওয়া বড় হওয়ার স্বাভাবিক অংশ, আর সেই জায়গাটা বন্ধুরা ভরে দেয়।
- অপূর্ণ চাওয়া: যে কিশোর একা, বুলিংয়ের শিকার, একঘেয়েমিতে ভোগে বা মনে করে বাসায় কেউ তার কথা শোনে না, সে প্রায়ই এমন যেকোনো দলের দিকে বেশি ঝোঁকে, যারা তাকে আপন করে নেয়।
স্বাভাবিক প্রভাব নাকি খারাপ সঙ্গ? যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন
সন্তান খারাপ সঙ্গে মিশলে কী করবেন, তা ঠিক করার আগে বুঝে নিন সত্যিই খারাপ সঙ্গ কি না। বন্ধুদের খারাপ প্রভাব সাধারণত একদিনে বোঝা যায় না; বোঝা যায় কয়েকটা পরিবর্তন একসঙ্গে দেখে। নিচের তালিকা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করতে পারে কোনটা সাধারণ, কোনটা আরও খেয়াল করার মতো, আর কোনটায় আজই ব্যবস্থা নিতে হবে।
| যা চোখে পড়ে | সাধারণত স্বাভাবিক | খেয়াল করার মতো | সেদিনই ব্যবস্থা নিন |
|---|---|---|---|
| বন্ধু | নতুন বন্ধু; ওদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চায় | পুরোনো সব বন্ধু ছেড়ে এমন দলের সঙ্গে মেশে, যাদের আপনি কখনো দেখেননি | অনেক বড় বয়সী বন্ধু, নাম আছে এমন দল বা গ্যাং, কেউ টাকা বা সুবিধা দিচ্ছে |
| চালচলন | নতুন পোশাক, গান, কথার ধরন বা চুলের স্টাইল | কোথায় আছে বা কার সঙ্গে আছে, তা নিয়ে মিথ্যা বলে | ছুরি বা অন্য অস্ত্র সঙ্গে রাখে, বা অন্য দলের সঙ্গে মারামারির কথা বলে |
| টাকা | হাতখরচ বেশি চায় | বাসা থেকে টাকা বা জিনিস হারায় | ব্যাখ্যা ছাড়া নতুন ফোন, মোটরসাইকেল বা টাকা, বা কেউ তার কাছে টাকা দাবি করছে |
| বাইরে থাকা | একটু বেশি দেরিতে ফিরতে চায় | প্রায়ই ঠিক করা সময় পার করে; ফোন বন্ধ রাখে | যোগাযোগ ছাড়া সারারাত বাইরে, বা খোঁজ নেই |
| মন ও শরীর | মেজাজ ওঠানামা; নিজের মতো থাকতে চায় | খুব লুকোছাপা, রাগ, পড়ায় খারাপ করা | মাদকের লক্ষণ, মারামারির আঘাত, বা নিজের ক্ষতি করার কথা |
মাঝের কলামের একটা লক্ষণ মানে কথা বলার সময়, আতঙ্কিত হওয়ার নয়। কয়েকটা একসঙ্গে, বা শেষ কলামের যেকোনোটা দেখলে সেদিনই ব্যবস্থা নিন; শেষ অংশটা দেখুন। সাধারণ কিশোর অবাধ্যতার জন্য পড়ুন টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন।
ঝগড়া ছাড়া কিশোর সন্তানের সঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে কথা বলবেন যেভাবে
লম্বা উপদেশে সাধারণত কথা ওখানেই শেষ হয়ে যায়। শান্ত, কৌতূহলী আলাপে কথা চলতে থাকে, যাতে কিছু ভুল হলে সন্তান আপনার কাছেই আসে।
- পাশাপাশি থাকার শান্ত একটা মুহূর্ত বেছে নিন: রিকশায় যেতে যেতে, রাতের নাশতায়, হাঁটতে হাঁটতে। দেরি করে ঢোকার মুহূর্তে নয়, অন্যদের সামনেও নয়।
- অভিযোগ দিয়ে নয়, কৌতূহল দিয়ে শুরু করুন: “তোমার নতুন বন্ধুদের কথা বলো তো। ওদের কোন দিকটা তোমার ভালো লাগে?”
- বলার চেয়ে বেশি শুনুন, আর বিচার করার ইচ্ছাটা চেপে রাখুন।
- যে আচরণে দুশ্চিন্তা হচ্ছে, সেটার কথা বলুন, মানুষটার নয়: “ওই ছেলেটা খারাপ” না বলে বলুন, “সিগারেটের ব্যাপারটা নিয়ে আমার চিন্তা হচ্ছে।”
- কয়েকটা “যদি এমন হয়” পরিস্থিতি নিয়ে একসঙ্গে ভাবুন, যাতে সেই মুহূর্ত আসার আগেই সন্তানের মনে একটা পরিকল্পনা থাকে।
- কয়েকটা পরিষ্কার নিয়ম একসঙ্গে ঠিক করুন, যেমন কোথায় যাবে, কীভাবে ফিরবে আর কখন জানাবে; আর বুঝিয়ে বলুন এগুলো নিয়ন্ত্রণ নয়, নিরাপত্তার জন্য।
যা বলতে পারেন
- আমি তোমার বন্ধু বেছে দিতে চাইছি না। শুধু জানতে চাই, তুমি কাদের সঙ্গে আছ।
- কেউ যদি তোমাকে সিগারেট বা নেশার কিছু দেয়, তুমি কী করবে?
- আমার ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারো: “আমার আম্মু সব খোঁজ রাখে, আমি পারব না।”
- কখনো যদি অনিরাপদ লাগে, আমাকে ফোন দিয়ো। আমি চলে আসব; কথা হবে কাল, আজ রাতে না।
- তোমাকে আমি বিশ্বাস করি। আমার চিন্তা পরিস্থিতিটা নিয়ে।
সন্তানের বন্ধু পছন্দ না হলে: নিষেধ না করে চিনে নিন
সন্তান খারাপ সঙ্গে মিশলে কী করবেন — অনেকের প্রথম উত্তর, “ওর সঙ্গে আর মিশবে না।” কিন্তু কোনো বন্ধুকে সরাসরি নিষেধ করলে প্রায়ই বন্ধুত্বটা চোখের আড়ালে চলে যায়, আর ওই বন্ধুর আকর্ষণ আরও বাড়ে। সত্যিকারের বিপদ না থাকলে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেয়ে কাছে টেনে নেওয়াই সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
- আপনার বাসাকে সহজ জায়গা বানান: বন্ধুদের দাওয়াত দিন, ভালো করে খাওয়ান, আর পাশের ঘরে থাকুন, মাঝখানে নয়।
- বন্ধুদের নাম জানুন, আর কাছের প্রত্যেক বন্ধুর বাবা বা মায়ের নম্বর রাখুন। বাবা-মায়েদের মধ্যে ভদ্র একটা মেসেজ স্বাভাবিক ব্যাপার, গোয়েন্দাগিরি নয়।
- আনা-নেওয়ার প্রস্তাব দিন। বন্ধুদের সঙ্গে গাড়িতে বা রিকশায় কয়েক মিনিটেই অনেক কিছু বোঝা যায়।
- যে বন্ধুকে নিয়ে চিন্তা, তার কোন দিকটা সন্তানের ভালো লাগে জিজ্ঞেস করুন। উত্তরে প্রায়ই বোঝা যায় সে কী খুঁজছে: আনন্দ, দলে জায়গা নাকি সম্মান।
- ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এমন কাজে যুক্ত করে বন্ধুর গণ্ডি বড় করুন: খেলাধুলা, বিতর্ক, আঁকা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা কোনো ক্লাব।
- ফোনে কী দেখতে পারবেন আর কেন, তা খোলাখুলি ঠিক করুন; লুকিয়ে দেখলে সাধারণত বিশ্বাস ভাঙে। পড়ুন গ্রুপ চ্যাট আর অনলাইন বন্ধু।
- সত্যিকারের বিপদ থাকলে, যেমন মাদক, অস্ত্র বা গ্যাং, দৃঢ়ভাবে যোগাযোগ সীমিত করাই ঠিক; কারণটা বুঝিয়ে বলুন, আর সাহায্য নিন।
কিশোররা “না” বলবে কীভাবে? সহজ কথা আর বেরিয়ে আসার মেসেজ
বন্ধুদের সামনে “না” বলা যেকোনো বয়সেই কঠিন। আগে থেকে কথাগুলো অনুশীলন করা থাকলে, আর বেরিয়ে আসার একটা উপায় জানা থাকলে কিশোরদের জন্য কাজটা সহজ হয়।
- সহজ “না”, দরকার হলে বারবার: “না রে, লাগবে না।” লম্বা কারণ দেখানোর দরকার নেই।
- বাবা-মায়ের ঘাড়ে দোষ: “আব্বু খোঁজ নেবে, আমি পারব না।” অনেক কিশোরের কাছে এটাই সবচেয়ে সহজ উপায়।
- অন্য কিছুর প্রস্তাব: “চল, তার চেয়ে চটপটি খাই।”
- একজন বন্ধুকে সঙ্গে রাখা: ভালো একজন বন্ধুর সঙ্গে আগেই ঠিক করে রাখা যে দুজনেই “না” বলবে আর একসঙ্গে চলে আসবে।
- চলে আসা: সরে আসা যায়, আর সত্যিকারের বন্ধু কালও বন্ধুই থাকবে।
বেরিয়ে আসার মেসেজ যেভাবে কাজ করে
- সন্তানের সঙ্গে একটা সংকেত ঠিক করুন: শুধু একটা অক্ষর, যেমন X, বা সাধারণ একটা লাইন, যেমন “নানুর শরীর কেমন?”
- সন্তান সেটা পাঠালেই সঙ্গে সঙ্গে ফোন করুন, বাসায় ফেরার একটা কারণ দেখিয়ে: “নানু তোমাকে এখনই বাসায় চাইছেন।”
- আপনি বা ভরসার কোনো বড় মানুষ গিয়ে নিয়ে আসবেন, বা নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করবেন।
- সেই রাতে কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো শাস্তি নয়। পরদিন শান্তভাবে কথা বলুন, কী হয়েছিল আর কোনটা কাজে দিল।
কথা রাখলে তবেই এই পরিকল্পনা কাজ করে: মেসেজ পাঠানোর পর বকা খেলে সন্তান হয়তো আর কখনো সেটা পাঠাবে না। অনলাইনের চাপ, যেমন চ্যালেঞ্জ, ছবি চাওয়া বা অচেনা মানুষের গ্রুপ চ্যাট — এসবেও একই কৌশল লাগে; দেখুন অনলাইন নিরাপত্তা আর সাইবার বুলিং।
আমাদের বাস্তবতায়: কিশোর গ্যাং, কোচিং আর রাতে বাইরে থাকা
অনেক বাবা-মা কিশোর গ্যাং নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন: পাড়ার কিশোরদের দল, কখনো যার নাম আর অনলাইন পেজও থাকে, কখনো এলাকার “বড় ভাই”-রা যাদের পেছনে থাকে। মারামারি, হয়রানি আর মাদকের খবর এই ভয়কে বাস্তব করে তোলে। গ্যাং যেকোনো ধরনের পরিবারের কিশোরকে টানতে পারে, প্রায়ই দলে জায়গা, নিরাপত্তা, টাকা বা উত্তেজনার লোভ দেখিয়ে। কিশোর গ্যাং থেকে সন্তানকে রক্ষা করার কাজ শুরু হয় বাসা থেকেই:
- কোচিং আর প্রাইভেট পড়ার কারণে অনেক কিশোর সন্ধ্যায় বাইরে থাকে। সময়সূচি আর যাতায়াতের পথ জানুন, আর বের হওয়া ও পৌঁছানোর সময় একটা মেসেজের নিয়ম ঠিক করুন।
- চায়ের দোকান বা মোড়ের আড্ডা অনেক কিশোরের জীবনের অংশ। কোথায় আড্ডা দেয় জিজ্ঞেস করুন, আর কিছু সন্ধ্যায় “হ্যাঁ” বলুন, ফেরার পরিষ্কার সময় ঠিক করে।
- টাকার দিকে খেয়াল রাখুন। প্রশ্ন ছাড়া অনেক হাতখরচ, বা এলাকার বড় ভাইদের দেওয়া টাকা আর উপহার — গ্যাংয়ে ঢোকার পথ হতে পারে। হাতখরচ সীমার মধ্যে রাখুন, আর বাড়তি টাকা কোথা থেকে আসে জানতে চান।
- সিগারেট, ভেপ আর ইয়াবার মতো মাদক কিশোরদের হাতে আসতে পারে। কেউ দেওয়ার আগেই খোলাখুলি আর আগেভাগে এ নিয়ে কথা বলুন।
- ছেলে-মেয়ে দুজনেরই এই আলাপ দরকার। অনেক পরিবারে ছেলেরা বাইরে বেশি স্বাধীনতা পায়, মেয়েরা কম; কিন্তু অনলাইনে বা বাইরে চাপ দুজনের ওপরই আসতে পারে, আর দুজনেরই একই কৌশল আর একই বেরিয়ে আসার মেসেজ দরকার।
- কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রায়ই উল্টো ফল দেয়। মারধর, ঘরে আটকে রাখা বা চিরতরে ফোন কেড়ে নেওয়া — এসবে কিশোর সাধারণত দলের আরও কাছে আর আপনার থেকে আরও দূরে সরে যায়।
এই বয়সে নিয়ম, ফেরার সময় আর স্বাধীনতা নিয়ে আরও পড়ুন টিনএজ সন্তানের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবেন।
সন্তানের বন্ধু নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ৭ দিনের পরিকল্পনা
প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: কী খেয়াল করলেন, কী নিয়ে কথা হলো, আর সন্তান কেমন সাড়া দিল। এক সপ্তাহ পর সাধারণত বোঝা যায় পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে, নাকি আরও দুশ্চিন্তার দিকে যাচ্ছে।
- দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। কোন বিষয়গুলো দুশ্চিন্তার, লিখে রাখুন, আর ওপরের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ২: পাশাপাশি থাকার একটা মুহূর্ত খুঁজে কৌতূহল নিয়ে বন্ধুদের কথা জিজ্ঞেস করুন, একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে নয়।
- দিন ৩: এক-দুজন বন্ধুকে বাসায় ডাকুন, বা আনা-নেওয়ার প্রস্তাব দিন, আর ওদের একটু চিনে নিন।
- দিন ৪: একসঙ্গে দুই-তিনটা নিয়ম ঠিক করুন: কোথায় যাবে, কীভাবে ফিরবে আর কখন জানাবে।
- দিন ৫: “যদি এমন হয়” আলাপের মধ্য দিয়ে “না” বলার উপায় অনুশীলন করুন, আর বেরিয়ে আসার মেসেজ ঠিক করুন।
- দিন ৬: সন্তানের পছন্দের কিছু পরিকল্পনা করুন, আপনার সঙ্গে বা আপনার চেনা বন্ধুদের সঙ্গে, যেমন খেলা, বাইরে খাওয়া বা কোনো খেলাধুলা।
- দিন ৭: নোটগুলো পড়ুন। নিয়মমতো জানাচ্ছে কি না, আর কথা বলা সহজ হয়েছে কি না? তালিকার শেষ কলামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সেদিনই সাহায্য নিন।
সন্তান খারাপ সঙ্গে মিশলে কী করবেন: কখন সেদিনই সাহায্য নেবেন
কিছু লক্ষণ সাধারণ বন্ধুদের চাপের বাইরে। শান্ত থাকুন, সন্তানকে কাছে রাখুন, আর নিচের কোনোটা দেখলে সেদিনই ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন:
এসব দেখলে সেদিনই ব্যবস্থা নিন
- মাদকের লক্ষণ: চোখ লাল, অদ্ভুত গন্ধ, পোড়া ফয়েল, লাইটার, ট্যাবলেট বা পাউডার, সারাদিন ঘুম বা সারারাত জেগে থাকা, কিংবা টাকা আর জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়া। সন্তানকে জাগানো কঠিন হলে, সে দিশেহারা থাকলে বা শ্বাস অস্বাভাবিক হলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- ছুরি বা অন্য কোনো অস্ত্র, মারামারির আঘাত, বা অন্য দলের সঙ্গে মারামারির কথা। কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- টাকা নিয়ে হঠাৎ লুকোছাপা: ব্যাখ্যা ছাড়া টাকা, ফোন বা উপহার, বা কেউ তার কাছে টাকা বা কোনো কাজ দাবি করছে।
- কেউ সামনাসামনি বা অনলাইনে সন্তানকে হুমকি দিচ্ছে বা ব্ল্যাকমেইল করছে: সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন। টাকা বা কিছুই পাঠাবেন না, কোনো গোপন ছবি কখনো কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না, অ্যাকাউন্টটি ব্লক ও রিপোর্ট করুন, আর স্থানীয় থানায় জানান। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- যোগাযোগ ছাড়া সারারাত বাইরে থাকা, বা খোঁজ না পাওয়া। সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলে আর তার নিরাপত্তা নিয়ে ভয় হলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- সন্তান নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার কথা বলছে: শান্ত থাকুন, পাশে থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাচ্ছে নাকি খারাপের দিকে, তা দেখতে পেলে শান্ত থাকা সহজ হয়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
সন্তান খারাপ সঙ্গে মিশছে কি না বুঝব কীভাবে?
একটা পরিবর্তন নয়, কয়েকটা মিলিয়ে দেখুন: পুরোনো বন্ধুদের ছেড়ে অচেনা দলের সঙ্গে মেশা, কোথায় আছে তা নিয়ে মিথ্যা বলা, বাসা থেকে টাকা বা জিনিস হারানো, ঠিক করা সময়ে না ফেরা আর খুব লুকোছাপা। মাদক, অস্ত্র, আঘাত বা হুমকির লক্ষণে সেদিনই সাহায্য নিন। শুধু একটা পরিবর্তন সাধারণত কথা বলার কারণ, আতঙ্কের নয়।
সন্তানের বন্ধু পছন্দ না হলে কি মিশতে নিষেধ করব?
সত্যিকারের বিপদ না থাকলে সাধারণত না। বন্ধুকে নিষেধ করলে বন্ধুত্বটা প্রায়ই গোপনে চলতে থাকে। বরং বন্ধুটিকে বাসায় ডাকুন, চিনে নিন, সন্তানের কাছে জানতে চান তার কোন দিকটা ভালো লাগে, আর নির্দিষ্ট যে আচরণে দুশ্চিন্তা, সেটা নিয়ে কথা বলুন। ওই বন্ধুর সঙ্গে মাদক, অস্ত্র বা গ্যাংয়ের যোগ থাকলে দৃঢ়ভাবে যোগাযোগ সীমিত করুন আর সাহায্য নিন।
সন্তান কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়েছে কি না বুঝব কীভাবে?
সতর্কতার লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে: নতুন কোনো দলের নাম, হাতের ইশারা বা অনলাইন পেজ, অনেক বড় বয়সী বন্ধু বা এলাকার বড় ভাই, ব্যাখ্যা ছাড়া টাকা, ফোন বা মোটরসাইকেল, অনেক রাত করে ফেরা, আঘাত, মারামারির কথা, ছুরি রাখা আর হঠাৎ লুকোছাপা। এর কয়েকটা দেখলে শান্তভাবে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন আর সেদিনই সাহায্য নিন; কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
বন্ধুদের চাপ কি সবসময় খারাপ?
না। ভালো দিকে চাপও আছে: যে বন্ধুরা পড়াশোনা করে, খেলাধুলা করে, স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে বা নতুন কিছু চেষ্টা করে, তারা প্রায়ই একে অন্যকে এগিয়ে নেয়। লক্ষ্য সন্তানকে বন্ধুদের থেকে দূরে রাখা নয়; বরং সন্তানের বন্ধু নির্বাচনে এমনভাবে সাহায্য করা, যাতে সে তার ভালো দিকটা বের করে আনে এমন বন্ধু বেছে নেয়, আর কোনো দল ক্ষতির দিকে ঠেললে “না” বলতে পারে।
কোন বয়সে বন্ধুদের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে?
প্রায়ই কৈশোরের শুরু আর মাঝামাঝি, মোটামুটি ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সে, যখন দলে মানিয়ে চলা সবচেয়ে জরুরি মনে হয় আর মস্তিষ্কের “ব্রেক” এখনো তৈরি হচ্ছে। কৈশোরের শেষ দিকে নিজের ওপর ভরসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা সাধারণত কমে আসে। বন্ধু, ঝুঁকি আর “না” বলা নিয়ে আলাপ এই বয়সের আগে আর এই সময়েই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।
টিনএজ ছেলে রাতে বাইরে থাকে, কী করব?
বয়স, জায়গা আর কীভাবে ফিরবে তা দেখে একসঙ্গে ফেরার একটা পরিষ্কার সময় ঠিক করুন, আর বের হয়ে ও পৌঁছে একটা মেসেজ দিতে বলুন। কাদের সঙ্গে আছে, জেনে রাখুন। কিছু সন্ধ্যায় “হ্যাঁ” বলুন, যাতে নিয়মগুলো ন্যায্য মনে হয়। প্রায়ই কথা না রাখলে বা ফোন বন্ধ রাখলে শান্তভাবে নিয়ম একটু কড়া করুন, আর কেন, তা বুঝিয়ে বলুন।
সন্তানকে বন্ধুদের “না” বলতে শেখাব কীভাবে?
মুহূর্তটা আসার আগেই অনুশীলন করুন। সন্তানকে কয়েকটা ছোট লাইন শিখিয়ে দিন, যেমন “না রে, লাগবে না” বা “আব্বু খোঁজ নেবে, আমি পারব না”; “যদি এমন হয়” পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করুন, আর বেরিয়ে আসার মেসেজ ঠিক করুন। কথা দিন, সেই রাতে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই নিয়ে আসবেন। হাতে পরিকল্পনা থাকলে কিশোররা প্রায়ই সহজে সরে আসতে পারে।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।






