মূল কনটেন্টে যান

টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন: কোনটা স্বাভাবিক, কোনটা নয়

ছোট করে উত্তর

টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন: আগে মনে রাখুন, মোটামুটি ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সে নিয়ম আর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে একটু-আধটু বিদ্রোহ সাধারণত স্বাধীন হয়ে ওঠারই স্বাভাবিক অংশ। সম্পর্কটা ধরে রাখুন, একসাথে বসে অল্প কয়েকটা স্পষ্ট নিয়ম ঠিক করুন, আর চিৎকার বা মারধরের বদলে শান্ত পরিণতি রাখুন। মাদক বা মদ, নিজের ক্ষতি, মারামারি, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া, বা কয়েক সপ্তাহ ধরে খুব মন খারাপ থাকলে সেদিনই সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১০ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১২–১৮ বছরের সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তান তর্ক করে, নিয়ম ভাঙে বা যা বলেন তার উল্টোটা করে
মূল কথা
  • তর্ক করা, নিজের মতো সময় চাওয়া আর নিয়ম ভেঙে দেখা সাধারণত স্বাধীন হয়ে ওঠার স্বাভাবিক ধাপ; এর মানে এই নয় যে আপনি ব্যর্থ।
  • অনেক নিয়ম, চিৎকার বা মারধরের চেয়ে একসাথে ঠিক করা অল্প কয়েকটা স্পষ্ট নিয়ম আর শান্ত পরিণতি সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
  • সবচেয়ে জরুরি সম্পর্কটা ধরে রাখা: একসাথে কাটানো ছোট, সহজ সময় জরুরি আলাপের দরজা খোলা রাখে।
  • মাদক বা মদ, নিজের ক্ষতি, মারামারি, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া বা কয়েক সপ্তাহ ধরে খুব মন খারাপ থাকলে সেদিনই সাহায্য নিন; কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন, এই প্রশ্ন অনেক বাবা-মাকে রাতে ঘুমাতে দেয় না: দড়াম করে দরজা বন্ধ, চোখ উল্টানো, “তোমরা কিছুই বোঝো না”, আবারও দেরি করে বাসায় ফেরা। আপনার আদরের ১১ বছরের সন্তান যদি এখন প্রতিটা কথায় তর্ক করা এক কিশোর হয়ে থাকে, মনে হতেই পারে কোথাও ভুল হয়ে গেছে।

এর বেশিরভাগই ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটু সরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই কিশোররা বড় হওয়ার অনুশীলন করে, আর এই সময় পার করে বেশিরভাগই পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ থাকে। নিচে পাবেন: কেন হয়, কোনটা স্বাভাবিক আর কোনটা চিন্তার, সেই মুহূর্তে কী করবেন, কাজের নিয়ম, সম্পর্ক ধরে রাখা, ফোন আর বন্ধু, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন। ৯–১২ বছরের বাচ্চার জন্য পড়ুন প্রি-টিন বয়স।

কিশোর বয়সে বিদ্রোহী মনোভাব কেন আসে?

কিশোর বয়সের এই বিদ্রোহের একটা কাজ আছে: এর মধ্য দিয়ে সন্তান বুঝতে শেখে, বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হয়ে সে নিজে কে। একসাথে কয়েকটা জিনিস কাজ করে:

  • স্বাধীনতা: নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া, জামা বা গানের মতো ছোট বিষয়েও, তখন খুব জরুরি মনে হয়।
  • মস্তিষ্ক এখনো তৈরি হচ্ছে: সামনে ভেবে দেখা আর ঝুঁকি মাপার অংশগুলো বিশের কোঠা পর্যন্ত বাড়তে থাকে, অথচ আবেগ তখন তুঙ্গে।
  • বন্ধুরা বেশি জরুরি: কিছুদিনের জন্য বন্ধুরা কী ভাবে, তা বাবা-মা কী ভাবেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে।
  • শরীরের ঘড়ি আর চাপ: কিশোরদের ঘুম সাধারণত দেরিতে আসে, আর স্কুল, কোচিং আর পরীক্ষা চাপ বাড়ায়।
  • বেশি হুকুম: সবকিছুই যখন নির্দেশ, তখন উল্টোটা করাই নিজেকে নিজের মালিক মনে করার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কোনটা স্বাভাবিক, কোনটা বিপদের লক্ষণ?

কিশোর বয়সের স্বাভাবিক আচরণ আসে-যায়, আর তার পাশাপাশি কিছুটা আন্তরিকতা, পড়াশোনা আর বন্ধুবান্ধবও থাকে। বিপদের লক্ষণ সাধারণত আরও বড়, বেশি দিন থাকে, বা কাউকে ঝুঁকিতে ফেলে।

কিশোর বয়সের স্বাভাবিক স্বাধীনতা আর যে লক্ষণে ব্যবস্থা নিতে হবে
বিষয়সাধারণত স্বাভাবিকব্যবস্থা নেওয়া দরকার
তর্কনিয়ম নিয়ে তর্ক, চোখ উল্টানো, জোরালো মতামতহুমকি, মারধর, জিনিস ভাঙা, বা প্রায় রোজ প্রচণ্ড রাগ
নিজের জগৎদরজা বন্ধ রাখা, একা সময় কাটানো, নিজের চ্যাটকোথায় আছে বা কার সাথে আছে, তা নিয়ে প্রায়ই মিথ্যা বলা
বন্ধুকিছুদিন পরিবারের চেয়ে বন্ধুরা বেশি জরুরিহঠাৎ নতুন দল, সাথে লুকোছাপা, ব্যাখ্যা ছাড়া টাকা বা জিনিস
চেহারা-সাজনতুন চুলের ছাঁট, জামা বা গান; নিজেকে নতুনভাবে খোঁজাখাওয়া বা ওজনে বড় পরিবর্তন, বা ব্যাখ্যা ছাড়া কাটা দাগ বা আঘাতের চিহ্ন, যা লুকিয়ে রাখতে চায়
মেজাজমাঝে মাঝে মেজাজ খারাপ, চট করে রেগে আবার ঠিক হয়ে যাওয়াদুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন খুব মন খারাপ বা হতাশ
পড়াশোনাকোচিং নিয়ে অভিযোগ, কিছু বিষয়ে আগ্রহ কমে যাওয়াপ্রায়ই স্কুল বা কোচিং ফাঁকি, বা রেজাল্ট হঠাৎ অনেক খারাপ
ঝুঁকিআরও স্বাধীনতা আর দেরিতে ফেরার অনুমতি চাওয়ামাদক, মদ, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া, বা অনলাইনে পরিচয় হওয়া কারও সাথে দেখা করা

টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন: সেই মুহূর্তে

কিশোর সন্তানের জেদ যখন মুখের ওপর “না” হয়ে আসে, তর্কের মাঝখানে জেতার চেষ্টা খুব কমই কাজে দেয়। লক্ষ্য রাখুন এখন পরিস্থিতি শান্ত রাখা, আর সমস্যার সমাধান পরে:

  1. উত্তর দেওয়ার আগে একটু থামুন, গলা নামান। খুব রাগ হলে বলুন, পরে কথা বলবেন।
  2. আগে শুনুন। তাকে কথা শেষ করতে দিন, আর নিয়মটা আবার বোঝানোর আগে জিজ্ঞেস করুন কী হয়েছে।
  3. অপমান না করে যা দেখছেন তা বলুন: “দেরিতে ফেরার নিয়ম নিয়ে তুমি রেগে আছো।”
  4. আজ রাতের জন্য যে একটা বিষয় সবচেয়ে জরুরি, যেমন নিরাপত্তা, সেটাতে অটল থাকুন; বাকিগুলো আপাতত ছেড়ে দিন।
  5. সীমার ভেতরে একটা পছন্দ দিন: “৯টার মধ্যে বাসায় ফিরবে, নাকি সাড়ে ৯টায় আমি নিয়ে আসব?”
  6. দুজনেই শান্ত হলে আবার কথা বলুন, আর চিৎকার করে থাকলে নিজের ভুল স্বীকার করে মিটিয়ে নিন।

যা বলতে পারেন

  • বুঝতে পারছি তুমি খুব রেগে আছো। আমি শুনছি।
  • আমি চিৎকার করব না। আধা ঘণ্টা পরে কথা বলি?
  • আজ রাতে নিয়মটা থাকছে। ছুটির দিনে বসে দেখব বদলানো যায় কি না।
  • কখনো কোথাও অনিরাপদ লাগলে আমাকে ফোন দিয়ো। আমি চলে আসব, আর সেই রাতে কোনো বকাঝকা হবে না।
  • চিৎকার করাটা আমার ভুল হয়েছে। সরি।

টিনএজ ছেলেমেয়ে নিয়ম মানে না? অল্প নিয়ম, একসাথে ঠিক করা

ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের চেয়ে যে নিয়ম ঠিক করায় তারও হাত ছিল, সেটা কিশোররা সাধারণত অনেক বেশি মানে। তালিকা ছোট রাখুন, শুধু সবচেয়ে জরুরি বিষয় নিয়ে:

  • নিরাপত্তা: সে কোথায়, কার সাথে, আর কীভাবে বাসায় ফিরবে, আপনি জানবেন।
  • সম্মান: কোনো অপমান বা মারধর নয়, কারও দিক থেকেই।
  • পড়া আর ঘুম: দিনের একটা মোটামুটি ছক, যাতে বিশ্রাম আর বেশিরভাগ কিশোরের দরকারি ৮–১০ ঘণ্টা ঘুমের জায়গা থাকে।
  • ফোন: রাতে কোথায় চার্জ হবে, আর কোনটা তার একান্ত নিজের।

পরিণতি আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন, ছোট রাখুন আর নিয়মের সাথে মিল রাখুন (দেরিতে ফিরেছে, তাই পরের ছুটির দিনে আগে ফিরতে হবে), আর দিন শান্তভাবে, একান্তে। বিশ্বাস যত বাড়বে, স্বাধীনতাও তত বাড়ান। অপমান এড়িয়ে চলুন: আত্মীয় বা বন্ধুদের সামনে বকা, গালি বা মারধর সন্তানকে সাধারণত আরও বেপরোয়া করে তোলে, শান্ত নয়; বদলে কী কাজ করে, পড়ুন মারধর না করে শাসন লেখায়।

সন্তান আমার উল্টো কাজ করে: সম্পর্ক ধরে রাখবেন যেভাবে

সন্তান যখন যা বলেন তার উল্টোটা করে, তখন আরও হুকুম খুব কমই কাজে দেয়। কম নির্দেশ, বেশি প্রশ্ন আর সত্যিকারের পছন্দের সুযোগ প্রায়ই কাজে দেয়: “যাও, পড়তে বসো”-র চেয়ে “পরীক্ষার জন্য তোমার প্ল্যান কী?” অনেক ভালো শোনায়। সম্পর্ক ভালো থাকলেই নিয়মগুলো মানার মতো মনে হয়।

  • রোজ ১০–১৫ মিনিট সহজ সময় বের করুন: একসাথে রিকশায় ঘোরা, রাতের চা, একসাথে রান্না, তার পছন্দের গান বা গেম।
  • উপদেশের চেয়ে বেশি শুনুন, আর পরামর্শ দেওয়ার আগে তার জগতের খোঁজ নিন।
  • ওর নিজের জগৎকে সম্মান করুন: ঢোকার আগে দরজায় টোকা দিন, আর লুকিয়ে ডায়েরি বা মেসেজ পড়বেন না।
  • অবাধ্য কিশোরী মেয়ে আর অবাধ্য কিশোর ছেলের ওপর পরিবার আর বাইরের চাপ প্রায়ই আলাদা হয়, কিন্তু দুজনেরই দরকার একই রকম আন্তরিকতা আর একই অল্প কয়েকটা নিয়ম।

ফোন, বন্ধু আর স্বাধীনতা

এখন কিশোরদের সাথে বেশিরভাগ লড়াই হয় ফোন আর বন্ধু নিয়ে। ফোনের নিয়ম একসাথে ঠিক করুন, রাতে ফোন কোথায় চার্জ হবে সেটাসহ; বিস্তারিত পাবেন ঘুমের সময় ফোন লেখায়। লুকিয়ে ফোন দেখলে সাধারণত বিশ্বাস ভাঙে, তাই খোলাখুলি ঠিক করুন কী দেখতে পারবেন আর কেন; পড়ুন গ্রুপ চ্যাট আর অনলাইন বন্ধু। তার বন্ধুদের চিনে নিন: বাসায় দাওয়াত দিন, তাদের বাবা-মায়ের নম্বর রাখুন। সত্যিকারের বিপদ না থাকলে কোনো বন্ধুকে সরাসরি নিষেধ করলে প্রায়ই বন্ধুত্বটা চোখের আড়ালে চলে যায়।

আমাদের বাসায় কিশোর সন্তান: বাসায় ফেরার সময়, কোচিং, প্রেম আর সম্মানের চিন্তা

  • বাসায় ফেরার সময়: পরিবার আর এলাকার নিরাপত্তা মিলিয়ে একটা সময় ঠিক করুন, আর ছেলে-মেয়ের নিয়ম যতটা সম্ভব সমান রাখুন; দুই রকম নিয়ম কিশোররা খুব তাড়াতাড়ি ধরে ফেলে।
  • পড়া আর কোচিং: কোচিং ফাঁকি দেওয়া বা এ নিয়ে মিথ্যা বলা প্রায়ই অতিরিক্ত চাপ, শিক্ষক বা বন্ধুদের নিয়ে কোনো সমস্যার লক্ষণ। নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর আগে জিজ্ঞেস করুন কী হচ্ছে।
  • প্রেম আর পরিবারের সম্মান: সন্তানের কোনো সম্পর্কের কথা জানতে পারলে শান্ত থাকুন, আর একান্তে সম্মান, নিরাপত্তা আর পড়াশোনা নিয়ে কথা বলুন। লজ্জা দেওয়া, মারধর বা ঘরে আটকে রাখলে বিষয়টা সাধারণত আরও গোপনে চলে যায়। তাড়াহুড়া করে বিয়ে দেওয়া কখনোই সমাধান নয়: বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ আইনত অপরাধ, আর এতে সন্তানের স্বাস্থ্য আর ভবিষ্যতের ক্ষতি হয়।
  • আত্মীয় আর তুলনা: “তোমার কাজিন জিপিএ ৫ পেয়েছে” কথাটা খুব কমই উৎসাহ দেয়। আত্মীয়দের সামনে সন্তানের সম্মান রক্ষা করুন, আর সমস্যার কথা একান্তে বলুন।
  • বাসায় এক নিয়ম: “আব্বু আসুক, তারপর দেখবে” ধরনের হুমকি একজনকে শাস্তিদাতা বানিয়ে দেয়। নিয়মগুলো বাবা-মা আর বড়রা মিলে ঠিক করুন; পড়ুন সন্তান পালনে বাবা-মায়ের মতের অমিল।

কিশোর সন্তানের সাথে সম্পর্ক নতুন করে গোছানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা

টিনএজ সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন, তার উত্তর অনেক সময় লুকিয়ে থাকে একটা ছকে, যা কাগজে লিখলেই চোখে পড়ে। এক সপ্তাহ প্রতিটা ঝগড়া লিখে রাখুন: কখন, কী নিয়ে, আর কীভাবে শেষ হলো।

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। প্রতিটা ঝগড়া লিখে রাখুন, এখনো কিছু বদলাবেন না।
  2. দিন ২: সবচেয়ে জরুরি দুটো নিয়ম বেছে নিন; বাকিগুলো আপাতত থামিয়ে রাখুন।
  3. দিন ৩: চা নিয়ে একসাথে বসুন; ওই দুটো নিয়ম, আর ভাঙলে কী হবে, দুজনে মিলে ঠিক করুন।
  4. দিন ৪: রোজ ১০–১৫ মিনিট সহজ সময় শুরু করুন: কোনো উপদেশ নয়, ফোন দেখাও নয়।
  5. দিন ৫: থামার অনুশীলন করুন: ঝগড়া শুরু হলে গলা নামান, আর পরে কথা বলার প্রস্তাব দিন।
  6. দিন ৬: সন্তানের একটা নির্দিষ্ট ভালো দিকের কথা তাকে মুখে বলুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। ঝগড়া কি কম বা ছোট হয়েছে? যা কাজে দিল তা চালিয়ে যান, আর এক মাস পরে একসাথে নিয়মগুলো আবার দেখার পরিকল্পনা করুন।

সন্তান বেপরোয়া হয়ে গেছে? কখন সেদিনই সাহায্য নেবেন

কিছু আচরণ সাধারণ অবাধ্যতার বাইরে। এগুলো দেখলে সন্তানের সাথে শান্তভাবে কথা বলুন, আর সেদিনই ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন:

কখন সাহায্য নেবেন

  • মাদক বা মদের যে কোনো লক্ষণ, যেমন গন্ধ, ট্যাবলেট বা পাউডার, বা টাকা ও জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়া।
  • সন্তান নিজেকে আঘাত করেছে, বা বেঁচে থাকতে চায় না এমন কথা বলছে: শান্ত থাকুন, তার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • মারামারি: পরিবারের কাউকে মারা, অস্ত্র নিয়ে ঘোরা, বা মারামারিতে কারও আঘাত পাওয়া। কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া, বা কোনো যোগাযোগ ছাড়া রাতে বাইরে থাকা। সন্তানের খোঁজ না পেলে আর তার নিরাপত্তা নিয়ে ভয় হলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন খুব মন খারাপ, হতাশা, বা সবার কাছ থেকে গুটিয়ে থাকা।
  • হঠাৎ বন্ধু বদল, সাথে লুকোছাপা, ব্যাখ্যা ছাড়া টাকা বা উপহার, বা কেউ হুমকি দিচ্ছে বা ব্ল্যাকমেইল করছে, অনলাইনেও: সন্তান যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাচ্ছে, নাকি খারাপের দিকে — এটা বোঝা গেলে কিশোর সন্তানকে সামলানো সহজ হয়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়সে কিশোরদের অবাধ্যতা শুরু হয়?

অনেক কিশোরের ক্ষেত্রে মোটামুটি ১২–১৪ বছর বয়সে অবাধ্যতা শুরু হয়, মাঝের কিশোর বয়সে প্রায়ই সবচেয়ে বেশি থাকে, আর শেষ কিশোর বয়সে বা বিশের শুরুতে কমে আসে। কারও বয়ঃসন্ধির সময়েই আগে শুরু হয়, কেউ প্রায় বিদ্রোহই করে না। বয়সের চেয়ে বেশি জরুরি হলো আচরণটা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকছে কি না, আর সম্পর্কটা টিকে আছে কি না।

কিশোর বয়সে বিদ্রোহী মনোভাব কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, বেশিরভাগ কিশোরের ক্ষেত্রে কিছুটা বিদ্রোহ স্বাভাবিক। তর্ক করা, নিজের জগৎ চাওয়া, নিজের মতো সাজ বেছে নেওয়া আর নিয়ম ভেঙে দেখা, এভাবেই তারা স্বাধীন হওয়ার অনুশীলন করে। চিন্তার কারণ হয় যখন এতে বিপদ থাকে, যেমন মাদক, মারামারি বা বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া, বা সাথে থাকে খুব মন খারাপ, কিংবা হঠাৎ বন্ধু বদল আর লুকোছাপা।

সন্তান কেন আমি যা বলি তার উল্টোটা করে?

সাধারণত কারণ উল্টোটা করেই সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করে। স্কুল, কোচিং আর বাসা মিলিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় যখন নির্দেশ শুনেই কাটে, তখন উল্টো পথে হেঁটেই কিশোর প্রমাণ করতে চায় যে সে নিজের মতো একজন আলাদা মানুষ। কম হুকুম, বেশি প্রশ্ন, সত্যিকারের পছন্দের সুযোগ আর নিজের কারণগুলো বুঝিয়ে বলা প্রায়ই এটা কমায়।

কথা শোনে না এমন কিশোর সন্তানকে কীভাবে শাসন করব?

একসাথে বসে অল্প কয়েকটা স্পষ্ট নিয়ম ঠিক করুন, আর পরিণতিও আগে থেকে ঠিক করে রাখুন: ছোট, নিয়মের সাথে মিল রেখে, শান্তভাবে আর একান্তে, যেমন দেরিতে ফিরলে পরের বার আগে ফেরার নিয়ম। মারধর, গালি আর অন্যের সামনে লজ্জা দেওয়া এড়িয়ে চলুন; এগুলো অবাধ্যতা সাধারণত বাড়ায়। সন্তান যত দায়িত্ব দেখাবে, স্বাধীনতাও তত বাড়ান।

শাস্তি হিসেবে কি কিশোর সন্তানের ফোন কেড়ে নেব?

প্রথমেই নয়। প্রতিটা ভুলে ফোন কেড়ে নিলে প্রায়ই লুকানো ফোন আর কম সততা দেখা দেয়। ফোনের নিয়মের সাথে মিল রেখে আগে থেকে ঠিক করা ছোট একটা সীমা, যেমন ঘুমের সময় পার করে ফোন চালালে পরদিন সন্ধ্যায় ফোন নয়, সাধারণত বেশি কাজে দেয়। আর চিন্তার কিছু আপনাকে জানানোর জন্য কখনো ফোন কেড়ে নেবেন না, নইলে সে আর জানাবে না।

কিশোর সন্তানের কোন আচরণ বিপদের লক্ষণ?

যখন এতে বিপদ থাকে বা অনেক দিন ধরে চলে। মাদক বা মদ, নিজের ক্ষতি বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার কথা, মারামারি, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া, দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন খুব মন খারাপ, বা হঠাৎ বন্ধু বদল আর লুকোছাপা দেখলে সেদিনই সাহায্য নিন। কারও এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কিশোর-কিশোরী (১৩–১৮ বছর): আরও গাইড

কিশোর-কিশোরী: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।